সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

৪ বছরের ছেলেকে হত্যার পর মরদেহের অংশ রান্নার অভিযোগ, অস্ট্রেলিয়ায় গ্রেপ্তার মা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ২১:৭
অস্ট্রেলিয়ার ওয়াইয়ংয়ে শিশুহত্যা। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার ওয়াইয়ংয়ে শিশুহত্যা। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় শহর ওয়াইয়ংয়ে চার বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির মায়ের বিরুদ্ধে তাকে হত্যার পাশাপাশি মরদেহ বিকৃত করার অভিযোগ এনেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনার আগে পরিবারটি সম্পর্কে একাধিক সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছিল কি না, তা নিয়েও স্বাধীন তদন্ত শুরু হয়েছে।

 

অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ জানায়, গত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ৩২ বছর বয়সী ওই নারী নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ওয়াইয়ংয়ের বাইরন স্ট্রিটের একটি বাসভবনে অভিযান চালায়। সেখানে চার বছর বয়সী শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, শিশুটি কয়েক দিন আগেই মারা গিয়েছিল।

 

পুলিশ ঘটনাস্থলকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে বর্ণনা করেছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট চ্যাড গিলিস বলেন, শিশুহত্যার প্রতিটি ঘটনাই একটি পুরো সম্প্রদায়কে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তাই সব প্রমাণ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

রবিবার সকালে ওই নারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে তার লালা, রক্ত, নখের নমুনা এবং অন্যান্য ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ। আইনি কারণে অভিযুক্ত নারী এবং নিহত শিশুর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

 

ঘটনার পর নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবারটি এর আগে একাধিকবার ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিটিজ অ্যান্ড জাস্টিস-এর সঙ্গে যোগাযোগে ছিল। প্রতিবেশীরাও শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ অভিযোগটি প্রায় ১৮ মাস আগে দায়ের করা হয়েছিল।

এদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত নারীর অতীতে পারিবারিক সহিংসতা, মাদকাসক্তি এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যার ইতিহাস ছিল। এমনকি তার নিজের মা-ও একসময় আদালতের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সুরক্ষামূলক আদেশ নিয়েছিলেন। এসব তথ্য প্রকাশের পর প্রশ্ন উঠেছে, এত সতর্কবার্তার পরও কেন শিশুটি তার মায়ের সঙ্গেই বসবাস করছিল।

 

নিউ সাউথ ওয়েলসের পরিবার ও কমিউনিটিবিষয়ক মন্ত্রী কেট ওয়াশিংটন জানিয়েছেন, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় একটি স্বাধীন পর্যালোচনা পরিচালনা করা হবে। সেখানে খতিয়ে দেখা হবে, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো যথাসময়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, "এই পর্যালোচনার উদ্দেশ্য হলো কী ঘটেছিল, কখন কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং সেই সিদ্ধান্তগুলো যথাযথ ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা।"

 

সরকার জানিয়েছে, সাবেক শিশু আদালতের বিচারক পিটার জনস্টোন এই স্বাধীন তদন্তের নেতৃত্ব দেবেন।

ঘটনার পর ওয়াইয়ং শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটির স্মরণে এক শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সেখানে ফুল, মোমবাতি ও খেলনা রেখে তাকে শ্রদ্ধা জানান অনেকে। অনুষ্ঠানে 'ফরএভার ইয়াং' গান বাজানো হয় এবং উপস্থিত অনেকেই শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

 

আয়োজক হেইলি ডিকিনসন বলেন, শিশুটিকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারত। আরেক বাসিন্দা ব্রেন্টন হালম বলেন, এই ঘটনা পুরো এলাকাকে গভীরভাবে আঘাত করেছে।

শিশুটির পরিচিত হার্লে চিসলেট জানান, শিশুটি ছিল প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি। তিনি বলেন, ঘটনার কয়েক দিন আগে বাড়ি থেকে কিছু চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনেছিলেন, তবে সেটিকে সাধারণ পারিবারিক ঝগড়া বলেই মনে করেছিলেন।

 

পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে শিগগিরই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত নারী আদালতে হাজির হবেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
সৌদিতে নির্যাতনের অভিযোগে গোপনে ভিডিও করা রেহেনা এখন দূতাবাসের হেফাজতে
সৌদিতে নির্যাতনের অভিযোগে গোপনে ভিডিও করা রেহেনা এখন দূতাবাসের হেফাজতে

সৌদি আরবে গৃহকর্মীর ভিসায় গিয়ে নির্যাতন, বেতন না পাওয়া এবং অতিরিক্ত কাজের চাপের অভিযোগ করা হবিগঞ্জের মাধবপুরের রেহেনা খাতুনকে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং দেশে ফেরানোর প্রস্তুতিও চলছে।    রেহেনা খাতুন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটানোর আশায় তিনি গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি আরব যান। সেখানে যাওয়ার পর কাজের পরিবেশ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে পরিবারের কাছে গোপনে ভিডিও বার্তা পাঠান তিনি।   ওই ভিডিও বার্তায় রেহেনা অভিযোগ করেন, তাকে অতিরিক্ত কাজ করানো হচ্ছে, পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে না এবং তার বেতনও পরিশোধ করা হয়নি। দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানালেও তাকে সহজে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।   বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর সরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ শুরু হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ শাখার উপপরিচালক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, গত ৫ অক্টোবর রেহেনাকে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।   এর আগে ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ শাখার পরিচালক লোকমান হোসেন সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসকে চিঠি দেন। ওই চিঠিতে রেহেনাকে দ্রুত দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।   রেহেনাকে সৌদি আরবে পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি জেনিয়া ওভারসিসের কর্মকর্তা হাসান মিয়া জানিয়েছেন, তাকে দেশে ফেরানোর জন্য বিমানের টিকিট কেনা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হলে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তাকে বাংলাদেশে ফেরানো হতে পারে।   তবে দেশে ফেরার প্রস্তুতি এগোলেও রেহেনার বকেয়া বেতন-ভাতা এখনো পরিশোধ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বামী আলী আহমদ। তিনি বলেন, সরকার দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ায় পরিবার স্বস্তি পেয়েছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রীর পাওনা অর্থ আদায়ের জন্যও ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।   রেহেনার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ একটি ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, তার কাছ থেকে জোর করে একটি জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে উদ্ধারে সরকারের উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।   রেহেনার ঘটনা প্রথম আলোচনায় আসে যখন সৌদি আরব থেকে তার পাঠানো ভিডিও পরিবারের হাতে পৌঁছায়। পরিবারের দাবি, সৌদিতে যাওয়ার পর তাকে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। একপর্যায়ে সুযোগ পেয়ে তিনি নিজের পরিস্থিতির কথা জানিয়ে দেশে ফেরার আকুতি জানান।   গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, তাকে দেশে ফিরতে হলে কয়েক লাখ টাকা দিতে হবে বলে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তবে এসব অভিযোগের সবগুলো বিষয়ে সৌদি নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বাধীন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   রেহেনাকে দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়ার পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নিরাপদে দেশে ফেরানো এবং তার বেতন-ভাতাসহ আর্থিক পাওনার বিষয়টি নিষ্পত্তি করা। দেশে ফেরার পর তার কাছ থেকে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ পাওয়া গেলে সৌদিতে তিনি ঠিক কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।   সূত্র: আরটিভি

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১:৪০
কানাডায় রাস্তা পার হওয়া পথচারীর সঙ্গে তর্কে জড়ানোয় ভারতীয় নারী গ্রেফতার

কানাডায় রাস্তা পার হওয়া পথচারীর সঙ্গে তর্কে জড়ানোয় ভারতীয় নারী গ্রেফতার, ভিডিও ভাইরাল

প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ফ্লাইট চলাচল করলেও বিমান ভ্রমণ এখনো অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ জীবনে একবারও চড়েননি বিমানে

মেঝেতে শুয়েই ওয়াইটের চুল কাটছেন নাপিত ফ্রাঞ্জ

অটিজমে আক্রান্ত শিশুর চুল কাটতে মেঝেতে শুয়ে পড়েন নাপিত, ছবি ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে

গাজায় ইসরায়েলিদের চালানো নির্যাতন ও বেসামরিক প্রাণহানি নিয়ে তথ্যচিত্র 'নাজা' যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা হলে
গাজায় ইসরায়েলিদের চালানো নির্যাতন ও বেসামরিক প্রাণহানি নিয়ে তথ্যচিত্র 'নাজা' যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা হলে

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। ইসরায়েলি পরিচালক ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল সোরের ছবিটিতে কয়েকজন সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের দাবি, হামলার লক্ষ্য নির্ধারণের সময় সম্ভাব্য বেসামরিক প্রাণহানির হিসাব করা হতো। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তথ্যচিত্রটির মূল অভিযোগ অস্বীকার করেছে।    গত ৩০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের আইএফসি সেন্টারে ছবিটির প্রদর্শন শুরু হয়। আগামী ৯ অক্টোবর থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগোসহ যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি শহরে এটি মুক্তি পাওয়ার কথা। এর আগে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘নাজা’ বিশেষ জুরি পুরস্কার পায়।    তথ্যচিত্রে সাক্ষাৎকার দেওয়া ব্যক্তিদের মুখ ও কণ্ঠ গোপন রাখা হয়েছে। তাঁরা গাজায় নজরদারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং হামলার লক্ষ্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে কথা বলেছেন। নির্মাতাদের বক্তব্য, পরিচয় প্রকাশ পেলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশঙ্কা ছিল। সাক্ষাৎকারদাতাদের দাবিগুলো চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় যাচাই করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। তবে ছবিতে তুলে ধরা প্রতিটি ঘটনার বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।    ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, তাদের নির্দেশনায় যোদ্ধা ও বেসামরিক মানুষের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টভাবে করা হয় এবং বেসামরিক ক্ষতি কমানোর চেষ্টা থাকে। বাহিনীটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও বলেছে, হামলার লক্ষ্য গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নির্বাচন করেন এবং হামলার সিদ্ধান্ত নেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডাররা।    ছবিটি ঘিরে ইসরায়েলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে নিউইয়র্কে ছবিটির প্রদর্শনীর বাইরেও বিক্ষোভ হয়েছে। নির্মাতা আব্রাহাম বলেছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা অন্যায় ছিল; একই সঙ্গে সেই হামলা গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিকে ন্যায্যতা দেয় না।    ‘নাজা’ যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাওয়ায় গাজা যুদ্ধের পাশাপাশি ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা নিয়েও আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। তবে তথ্যচিত্রে সাক্ষাৎকারদাতাদের অভিযোগ, নির্মাতাদের বক্তব্য এবং ইসরায়েলি বাহিনীর জবাব আলাদা করে বিবেচনা করা জরুরি।    সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৪:৩৪
ফ্রান্স থেকে অবৈধ পথে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টায় নৌকায় দুইজনের মৃত্যু

ফ্রান্স থেকে অবৈধ পথে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টায় নৌকায় দুইজনের মৃত্যু, দগ্ধ দুই নারী

আমাজন থেকে আফ্রিকা, গল্পের খোঁজে বিশ্ব ঘুরছেন বাংলাদেশি ওয়াকিফ

আমাজন থেকে আফ্রিকা, গল্পের খোঁজে বিশ্ব ঘুরছেন বাংলাদেশি ওয়াকিফ

কাপড় শুকাতে ভবন কর্মীর ১২০ মিটার দড়ি কেটে নিলেন বাসিন্দা

কাপড় শুকাতে ভবন কর্মীর ১২০ মিটার দড়ি কেটে নিলেন বাসিন্দা, অল্পের জন্য রক্ষা

‘ইন্ডিয়ান জাস্টিন বিবার’, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোটে ‘দেশের সবচেয়ে সুদর্শন’ হিসেবে নির্বাচিত
‘ইন্ডিয়ান জাস্টিন বিবার’, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোটে ‘দেশের সবচেয়ে সুদর্শন’ হিসেবে নির্বাচিত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের ‘সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ’ হিসেবে সূরজ চাভানের নাম ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁকে কেউ কেউ ‘ইন্ডিয়ান জাস্টিন বিবার’ বলেও ডাকছেন। তবে এই উপাধি কোনো সরকারি, জাতীয় বা স্বীকৃত প্রতিযোগিতার ফল নয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল দাবি।   মহারাষ্ট্রের বারামতির কাছের মোঢভে গ্রামের বাসিন্দা সূরজ চাভানের জীবনের পথ অবশ্য সত্যিই নাটকীয়। সীমিত সুযোগ ও আর্থিক কষ্টের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা সূরজ একসময় দিনমজুর হিসেবেও কাজ করেছেন বলে বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পরে ছোট ভিডিও ও নিজস্ব কথাবার্তার ধরনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পেতে শুরু করেন তিনি।   সেই জনপ্রিয়তা তাঁকে নিয়ে যায় টেলিভিশনের বড় মঞ্চে। ২০২৪ সালে ‘বিগ বস মারাঠি’ সিজন ফাইভের প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নিয়ে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হন সূরজ। ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ফাইনালে অভিজিৎ সাওয়ান্তকে পেছনে ফেলে ট্রফি জেতেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সে সময় তাঁর জয়ের খবর প্রকাশ করে।   রিয়েলিটি শোর সাফল্যের পর অভিনয়েও সুযোগ আসে সূরজের। ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া মারাঠি রোমান্টিক চলচ্চিত্র ‘ঝাপুক ঝুপুক’-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। জিও স্টুডিওস প্রযোজিত ছবিটি ২৫ এপ্রিল মুক্তি পায়। এতে সূরজের সঙ্গে অভিনয় করেন জুই ভাগবতসহ আরও কয়েকজন অভিনয়শিল্পী।   এর মধ্যেই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন সূরজ। তাঁর একটি বিশেষ হেয়ারস্টাইল ও কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক ব্যবহারকারী তাঁকে পপতারকা জাস্টিন বিবারের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেন। সেখান থেকেই ‘ইন্ডিয়ান জাস্টিন বিবার’ নামটি আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে।   একই সময় কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও কয়েকটি বিনোদনভিত্তিক ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়, ভারতের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের মধ্যে ভোটে সূরজকে ‘সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ’ নির্বাচিত করা হয়েছে। কিন্তু এই দাবির পক্ষে কোনো স্বীকৃত জাতীয় ভোট, প্রতিযোগিতা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়নি।   ভারতের এবিপি মাঝাসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম বিষয়টি যাচাই করে জানায়, সূরজকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভারতের সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ’ ঘোষণা করা হয়নি। এমন কোনো সরকারি বা স্বীকৃত জাতীয় ভোটব্যবস্থারও প্রমাণ নেই। ফলে এই উপাধিকে আনুষ্ঠানিক অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।   তবে ভাইরাল দাবির বাইরে সূরজের বাস্তব সাফল্য নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। গ্রামের সাধারণ জীবন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা, সেখান থেকে ‘বিগ বস মারাঠি’ জয় এবং পরে সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয়, কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁর ক্যারিয়ারে এসেছে বড় পরিবর্তন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে তাঁর অনাড়ম্বর উপস্থাপন, নিজস্ব সংলাপ এবং স্থানীয় ভাষার ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ‘বিগ বস মারাঠি’ জয়ের পর তাঁর পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয় এবং বিনোদন জগতেও তাঁর উপস্থিতি শক্ত হয়।   তাই সূরজ চাভানের গল্পে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ‘ভারতের সবচেয়ে সুদর্শন’ উপাধি নয়। বরং সীমিত সুযোগ থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে একটি বাস্তব বিনোদন ক্যারিয়ার তৈরি করাই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়। ‘ইন্ডিয়ান জাস্টিন বিবার’ কিংবা ‘মোস্ট হ্যান্ডসাম ম্যান’ নামগুলো ভাইরাল হতে পারে, কিন্তু তাঁর রিয়েলিটি শো জয় ও অভিনয়জীবনের সাফল্যই যাচাইযোগ্য বাস্তবতা।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ০:৫৩
ইসরায়েলে গৃহযুদ্ধ কিংবা রাষ্ট্রীয় পতনের আশঙ্কা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে সিআইএ, ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলে গৃহযুদ্ধ কিংবা রাষ্ট্রীয় পতনের আশঙ্কা, সতর্ক করল সিআইএ

জীবনের শেষ সময়ে প্রিয় ঘোড়ার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন ডেনিস লি। ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যুর আগে ঘোড়াকে ছুঁতে চেয়েছিলেন বৃদ্ধা, শেষ ইচ্ছা পূরণে ছুটে এলো দুই ছোট ঘোড়া

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি নিজের কণ্ঠ ট্রেডমার্কের আবেদন করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

এআই দিয়ে কণ্ঠ নকল ঠেকাতে নিজের কণ্ঠের আইনি সুরক্ষা চান ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি

0 Comments