১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কঠোরতা বাড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, জরিমানা দ্বিগুণের ঘোষণা
১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নিয়ম ভাঙার প্রবণতা ঠেকাতে এবার আইন লঙ্ঘনকারী প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।
শনিবার (২৭ জুন) প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, নতুন আইনের আওতায় বড় ধরনের বা পদ্ধতিগত নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা বাড়িয়ে ৯ কোটি ৯০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ শত ৩৭ কোটি টাকার সমান। একই সঙ্গে অনলাইন নিরাপত্তা তদারকি সংস্থা ‘ই-সেফটি’ কমিশনারকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হবে।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইউটিউবসহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো সক্রিয়ভাবে তদন্ত করছে এই স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো আইন মানার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তার ভাষায়, “এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুলসংখ্যক শিশু সক্রিয় রয়েছে, যা এই আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।” তিনি আরও বলেন, নতুন পদক্ষেপগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে সরকার এই বিষয়ে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।
সরকারি সূত্র বলছে, নানা উপায়ে কিশোর-কিশোরীরা এই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাচ্ছে। বয়স্কদের নামে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার, ভুয়া পরিচয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা কিংবা ব্যক্তিগত ব্রাউজিংয়ের মাধ্যমে তারা প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রবেশ করছে।
অস্ট্রেলিয়ার এই উদ্যোগের দিকে নজর রাখছে বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ। যুক্তরাজ্য, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নিউজিল্যান্ড ইতোমধ্যে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বা বিবেচনা করছে।
তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চলতি মাসে ‘ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল’-এ প্রকাশিত এক সমকক্ষ-পর্যালোচিত গবেষণায় ৪০০ জনের বেশি তরুণের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, তারা বিভিন্ন উপায়ে নিয়ম ফাঁকি দিচ্ছে। বিশেষ করে ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার কমার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তবে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে কিছুটা কমেছে এবং ১৬ বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার বেড়েছে।
সরকার বলছে, এখন পর্যন্ত ৫০ লাখেরও বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ কারণে ‘ই-সেফটি’ কমিশনারকে প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। তারা এখন কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করতে পারবে—১৬ বছরের কম বয়সিদের অ্যাকাউন্ট খোলা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার প্রমাণ দিতে।
এছাড়া শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, বয়স যাচাইকারী তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠান বা অ্যাপ স্টোর সেবাদাতাদের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে এই সংস্থাকে।
দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বলেছেন, প্ল্যাটফর্মগুলো এখনো যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তার ভাষায়, “বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো পুরোনো কৌশলেই চলছে এবং দায়সারা কাজ করে পার পেতে চাইছে।” তিনি আরও জানান, এসব প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত থাকা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে অনেক অভিভাবক এই ধরনের কঠোর বিধিনিষেধকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো সতর্ক করে বলেছে, অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করলে কিশোররা আরও অনিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব পুরোপুরি প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরই দেওয়া হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ছবি দেখে বয়স অনুমান করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা সরকারি পরিচয়পত্র জমা দিয়েও নিজেদের বয়স নিশ্চিত করতে পারছেন।
সব মিলিয়ে, শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ার এই কঠোর অবস্থান এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreইরান তাদের সামরিক কমান্ড কাঠামোতে ব্যাপক রদবদল আনছে এবং দেশের ভেতরে-বাইরে শত্রুদের বিরুদ্ধে 'আক্রমণাত্মক' ব্যবস্থা নিতে কট্টরপন্থীদের শীর্ষ পদে নিয়োগ দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি নতুন 'আক্রমণাত্মক নীতি' বাস্তবায়নের জন্য ছয়জন প্রবীণ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ইরান তাদের যুদ্ধপূর্ব রক্ষণাত্মক কৌশল থেকে সরে এসে শত্রুর ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ক্লিনগেনডাল ইনস্টিটিউট থিংক ট্যাংকের হামিদরেজা আজিজি সিএনএন-কে বলেন, "আক্রমণাত্মক অভিযান, ঐক্যবদ্ধ কমান্ড এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া থেকে বোঝা যায় যে, ইরানের নেতৃত্ব তাদের ঐতিহ্যগত সতর্কতামূলক অবস্থান থেকে আক্রমণাত্মক প্রতিরোধ ব্যবস্থার দিকে এগোতে চাইছে।" এই রদবদলে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নিয়োগ পেয়েছেন আইআরজিসি-র প্রধান (কমান্ডার-ইন-চিফ) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আহমাদ ওয়াহিদি। খামেনি তাকে শত্রুর বিরুদ্ধে শক্তিশালী আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। ওয়াহিদির ওপর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং বিদেশে সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাকে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং খামেনির যুদ্ধপন্থী অবস্থানের প্রধান রূপকার হিসেবে মনে করা হয়। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় হস্তক্ষেপ এবং হরমুজ প্রণালিতে হামলার সমর্থক হিসেবে ওয়াহিদির পরিচিতি রয়েছে। তার এই নিয়োগের ফলে ইরান আরও কট্টর অবস্থানে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াহিদি তার কাজে আইআরজিসি-র সাবেক প্রধান মহসিন রেজাইয়েরও সমর্থন পাবেন, যাকে সম্প্রতি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নতুন প্রধান করা হয়েছে। রেজাই গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছিলেন, যদি ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত থাকে, তবে মার্কিন সেনারা বিপদে পড়বে। এদিকে, ওয়াহিদি ও রেজাইয়ের এই নিয়োগকে কট্টরপন্থার প্রতি তেহরানের চরম প্রতিশ্রুতির প্রমাণ বলে আখ্যা দিয়েছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক্স-এ তারা জানায়, "ইরানি শাসকগোষ্ঠী সন্ত্রাসের উপাসনা করে এবং এর কারিগরদের পুরস্কৃত করে সর্বোচ্চ ক্ষমতার আসনে বসায়।" অভ্যন্তরীণ বিষয়েও আরও কঠোর শাসনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। খামেনি আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজের নতুন প্রধান হিসেবে হোসেইন তায়েবকে নিয়োগ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই বাসিজ বাহিনীই এ বছরের শুরুতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্মম দমন-পীড়ন চালিয়েছিল, যেখানে অন্তত ৭,০০০ মানুষ নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়; যদিও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। হোসেইন তায়েব এর আগেও বাসিজের নেতৃত্বে ছিলেন এবং ২০১০ সালের বিক্ষোভে হত্যা ও গ্রেপ্তারের কারণে তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নিয়োগ এমন এক সময়ে এল, যখন গত প্রায় ছয় মাস ধরে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তার বাবার (সাবেক সর্বোচ্চ নেতা) কম্পাউন্ডে হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। ওই হামলায় তার বাবা নিহত হওয়ার পরই তিনি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিযুক্ত হন। গত রোববার ইরান একটি ভিডিও প্রকাশ করে তাকে সুস্থ দেখানোর চেষ্টা করলেও, ধারণা করা হচ্ছে ভিডিওটি সংঘাতের আগের। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিংক ট্যাংক 'ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার'-এর মতে, এই রদবদলের মূল উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচির উন্নয়ন। এর মাধ্যমে খামেনি ও তার মিত্ররা নিজেদের ক্ষমতা আরও সুসংহত করে যুদ্ধবিরতি চাইতে থাকা উদারপন্থীদের কোণঠাসা করার কৌশল নিয়েছেন।
১২ আগস্ট আকাশে মহাজাগতিক উৎসব, একসঙ্গে সূর্যগ্রহণ ও উল্কাবৃষ্টি
যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সক্ষমতা দেখাল উত্তর কোরিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে, কে এই কট্টরপন্থী রেজাই?
উড়োজাহাজে চড়ার ভয় কিংবা আকাশপথ এড়িয়ে ইউরোপ ভ্রমণের ইচ্ছা থাকলে যুক্তরাজ্য থেকে স্পেন যাওয়ার বিকল্প হতে পারে রেলপথ। লন্ডন থেকে ফ্রান্সের প্যারিস ও স্পেনের বার্সেলোনা হয়ে ট্রেনেই পৌঁছানো যায় দক্ষিণ স্পেনের জনপ্রিয় পর্যটন শহর মালাগায়। তবে এই যাত্রায় সময় লাগবে বেশি এবং পথে অন্তত এক রাত থাকার পরিকল্পনা করাই সুবিধাজনক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের এক প্রতিবেদনে ক্লেয়ার নামের এক নারীর এমন একটি ভ্রমণ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লন্ডন থেকে মালাগা পর্যন্ত উড়োজাহাজ ছাড়াই ট্রেনে যাওয়ার সম্ভাব্য রুট, সময় ও খরচের হিসাব দিয়েছেন। যাত্রার প্রথম ধাপ লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস ইন্টারন্যাশনাল স্টেশন থেকে প্যারিস। ইউরোস্টারের সরাসরি ট্রেনে লন্ডন থেকে প্যারিস পৌঁছাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা লাগে। ইউরোস্টারের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এই রুটে আগাম বুকিং করলে তুলনামূলক কম দামের টিকিট পাওয়া যায়। তবে ভ্রমণের দিন ও চাহিদার ওপর ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। প্যারিসে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের গার দু নর্দ স্টেশন থেকে গার দ্য লিওঁ স্টেশনে যেতে হবে। সেখান থেকেই বার্সেলোনাগামী দ্রুতগতির ট্রেন ছাড়ে। বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, প্যারিস থেকে দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে ছেড়ে যাওয়া ট্রেন রাত ৯টা ৩২ মিনিটে বার্সেলোনা সান্তস স্টেশনে পৌঁছায়। চাইলে একই দিনে লন্ডন থেকে যাত্রা শুরু করে প্যারিস হয়ে বার্সেলোনায় পৌঁছানো সম্ভব। তবে প্যারিসে ট্রেন পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আর যারা ধীরগতিতে ভ্রমণ করতে চান, তারা প্যারিসে এক রাত থেকে পরদিন বার্সেলোনার পথে রওনা দিতে পারেন। বার্সেলোনায় পৌঁছে সান্তস স্টেশনের আশপাশে রাত কাটানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ক্লেয়ারের দেওয়া উদাহরণে প্রায় ৬৫ পাউন্ডে থাকার ব্যবস্থা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে হোটেলের ভাড়া নির্দিষ্ট নয়। মৌসুম, বুকিংয়ের সময় এবং কক্ষের প্রাপ্যতার ওপর এটি কম বা বেশি হতে পারে। সময় হাতে থাকলে বার্সেলোনায় এক রাতের বদলে দুই রাত অবস্থান করেও যাত্রা সাজানো যায়। এতে মালাগায় যাওয়ার আগে শহরটি ঘুরে দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে। একই রেলপথের আশপাশে ফিগেরেস ও জিরোনার মতো শহরও রয়েছে, ফলে পুরো যাত্রাকে শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর মাধ্যম না রেখে ইউরোপ ঘুরে দেখার অংশ হিসেবেও সাজানো সম্ভব। বার্সেলোনা থেকে মালাগায় সরাসরি দ্রুতগতির ট্রেন রয়েছে। এই অংশের যাত্রায় কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। তবে ট্রেনের সময়সূচি দিন ও সেবাভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট রেল অপারেটরের হালনাগাদ সময়সূচি দেখে টিকিট বুক করা প্রয়োজন। ক্লেয়ারের উদাহরণভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, লন্ডন থেকে মালাগা পর্যন্ত ট্রেনের টিকিট এবং পথে এক রাতের থাকার খরচ মিলিয়ে প্রায় ২৬৫ পাউন্ড ব্যয় হতে পারে। তার হিসাবে লন্ডন থেকে প্যারিসের টিকিট প্রায় ৪৯ পাউন্ড, প্যারিস থেকে বার্সেলোনা প্রায় ৮৯ পাউন্ড এবং বার্সেলোনা থেকে মালাগার টিকিট প্রায় ৫৮ পাউন্ড ধরে হিসাব করা হয়েছে। তবে ২৬৫ পাউন্ডকে এই ভ্রমণের নির্দিষ্ট খরচ হিসেবে ধরা ঠিক হবে না। রেলের টিকিটের মূল্য অনেকটাই নির্ভর করে কত আগে বুকিং করা হচ্ছে, কোন দিনে ভ্রমণ করা হচ্ছে, আসনের চাহিদা এবং সংশ্লিষ্ট রেল কোম্পানির ভাড়ার ওপর। হোটেলের খরচও একইভাবে পরিবর্তনশীল। উড়োজাহাজের তুলনায় এই যাত্রায় সময় অনেক বেশি লাগলেও এর একটি আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে শহরে যাতায়াতের বদলে লন্ডন, প্যারিস ও বার্সেলোনার কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন ব্যবহার করে ধাপে ধাপে মালাগায় পৌঁছানো যায়। ফলে যাদের হাতে সময় আছে এবং যাত্রাপথকেও ভ্রমণের অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে দেখতে চান, তাদের জন্য লন্ডন থেকে মালাগার এই রেলপথ হতে পারে আকাশপথের একটি ব্যতিক্রমী বিকল্প।
ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের নিচে ৩২ ঘণ্টা, জীবিত উদ্ধার মা ও ১৮ দিনের শিশু
মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল লেবানন, মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম দেশ হিসেবে গড়ল ইতিহাস
সিরিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড
হামাসের কাছে কোনো ইসরায়েলি বন্দি না থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যতে বন্দি বিনিময় চুক্তিতে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ইসরায়েলের শিন বেত প্রধান। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎস মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে শীর্ষ পর্যায়ের ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক আলোচনার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। হারেৎসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের হাতে থাকা মরদেহগুলোর বেশিরভাগই ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং পরবর্তী যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। তবে এসব মরদেহের মধ্যে বেসামরিক ফিলিস্তিনিও রয়েছেন। মরদেহগুলো ভবিষ্যতে কোনো বন্দি বা মরদেহ বিনিময় চুক্তিতে ইসরায়েলের জন্য আলোচনার হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের মরদেহ আটকে রাখা ইসরায়েলের নতুন কোনো নীতি নয়। পশ্চিম তীর ও গাজায় নিহত ফিলিস্তিনিদের মরদেহ দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করে রাখার অভিযোগ রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও বহু বছর ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছে। হারেৎসের তথ্য অনুযায়ী, মরদেহ আটকে রাখার বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ে সাম্প্রতিক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে কোনো বিনিময় চুক্তির প্রয়োজন হলে এসব মরদেহকে আলোচনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করার সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। মরদেহ আটকে রাখার এই নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে মৃতদের মর্যাদা রক্ষা এবং যথাযথভাবে তাদের দাফন বা সৎকারের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি আরও গভীর মানবিক সংকট তৈরি করেছে। স্বজনের মৃত্যুর পরও মরদেহ ফিরে না পাওয়ায় অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জনকে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করতে পারছে না। একই সঙ্গে মরদেহগুলোকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বা সামরিক দর-কষাকষিতে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। হারেৎসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হাতে থাকা প্রায় ১ হাজার ৭০০ মরদেহের বিষয়টি এখন ভবিষ্যৎ বিনিময় আলোচনার সম্ভাব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে সামনে এসেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মরদেহ আটকে রাখার নীতি নতুন করে আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার মহলের নজরে এসেছে।
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত ইরানের, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মহাবিপদে যুক্তরাষ্ট্র
গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ‘খুব ভালো’: ট্রাম্প