আন্তর্জাতিক

মাত্র ৫% জমা দিয়ে বাড়ি কেনার সুযোগ: অস্ট্রেলিয়ায় ধনীদের ভিড়ে বাড়ছে প্রপার্টির দাম

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১৩:৫০
লেবার পার্টির ৫% ডাউনপেমেন্ট স্কিম সত্ত্বেও প্রথমবার বাড়ি ক্রেতার সংখ্যা মাত্র ৩% বেড়েছে বলে জানিয়েছে এবিএস | ছবি: এএপি
লেবার পার্টির ৫% ডাউনপেমেন্ট স্কিম সত্ত্বেও প্রথমবার বাড়ি ক্রেতার সংখ্যা মাত্র ৩% বেড়েছে বলে জানিয়েছে এবিএস | ছবি: এএপি

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার বাড়ি ক্রেতাদের জন্য সরকারের নেওয়া ৫ শতাংশ ডিপোজিট বা জামানত ব্যবস্থার নতুন নিয়মের কারণে বাড়ি কেনার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছেন উচ্চ আয়ের ধনী ব্যক্তিরা। দেশটির বর্তমান লেবার সরকার উচ্চ আয়ের মানুষদের জন্য থাকা আগের আয়ের সীমা বা ক্যাপ তুলে নেওয়ার পর থেকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন এমন সব মানুষও সরকারি সহায়তায় মাত্র ৫ শতাংশ জামানত দিয়ে বাড়ি কিনছেন, যাদের বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলার বা তার চেয়েও বেশি।

 

আগের ক্ষমতাসীন কোয়ালিশন সরকার স্বল্প আয়ের মানুষদের প্রথম বাড়ি কেনার সুবিধার্থে এই নিয়ম চালু করেছিল। সেই নিয়মে বাড়ি ক্রেতাদের জন্য সরকার মর্টগেজ বা গৃহঋণের বীমার খরচ নিজে বহন করত। কিন্তু গত বছর বর্তমান লেবার সরকার তাদের প্রাক-নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একক ক্রেতাদের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার এবং যৌথ ক্রেতাদের জন্য ২ লাখ ডলারের আয়ের সীমাটি সম্পূর্ণ বাতিল করে দেয়।

 

হাউজিং অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আয়ের সীমা তুলে নেওয়ার পর গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই স্কিমের অধীনে ৩৯ হাজার ৭০৪টি ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ঋণ পেয়েছেন এমন সব ব্যক্তি, যাদের আয় আগের নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি। এমনকি প্রায় ১ হাজার একক ক্রেতা রয়েছেন যাদের বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের বেশি এবং ১ হাজার ২৫১টি দম্পতি রয়েছেন যাদের যৌথ আয় ২ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের ওপরে।

 

অর্থনীতিবিদদের মতে, আয়ের সীমা তুলে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি সহায়তা এখন সাধারণ মানুষের বদলে অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি সচ্ছল ও ধনীদের পকেটে চলে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই নিয়মের কারণে বাজারে ক্রেতাদের সামর্থ্য কৃত্রিমভাবে বেড়ে গেছে, যা শেষ পর্যন্ত আবাসন বাজারে বাড়ির দাম আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। যে ব্যক্তিরা সরকারি সাহায্য ছাড়াও বাড়ি কিনতে পারতেন, তারাও এখন এই সুবিধার কারণে বিপুল ঋণ নিয়ে বাজারে নামছেন।

 

পূর্বে যেখানে ২০ শতাংশ জামানতের নিয়মে ৫০ হাজার ডলার সঞ্চয়কারী একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ২ লাখ ডলার ঋণ পেতেন, সেখানে ৫ শতাংশ জামানতের এই নতুন নিয়মে তিনি এখন অনায়াসেই ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারছেন। এই অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ার পর থেকেই বাজারে বাড়ির দাম আকাশচুম্বী হতে শুরু করেছে। লেবার সরকার বাড়ি কেনার সুবিধা বাড়ানোর দাবি করলেও তথ্য বলছে, সাধারণ মানুষের বাড়ি কেনার হার তেমন বাড়েনি, বরং ধনীরাই এই সুযোগের মূল সুবিধাভোগী হয়ে উঠেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
লেবার পার্টির ৫% ডাউনপেমেন্ট স্কিম সত্ত্বেও প্রথমবার বাড়ি ক্রেতার সংখ্যা মাত্র ৩% বেড়েছে বলে জানিয়েছে এবিএস | ছবি: এএপি
মাত্র ৫% জমা দিয়ে বাড়ি কেনার সুযোগ: অস্ট্রেলিয়ায় ধনীদের ভিড়ে বাড়ছে প্রপার্টির দাম

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার বাড়ি ক্রেতাদের জন্য সরকারের নেওয়া ৫ শতাংশ ডিপোজিট বা জামানত ব্যবস্থার নতুন নিয়মের কারণে বাড়ি কেনার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছেন উচ্চ আয়ের ধনী ব্যক্তিরা। দেশটির বর্তমান লেবার সরকার উচ্চ আয়ের মানুষদের জন্য থাকা আগের আয়ের সীমা বা ক্যাপ তুলে নেওয়ার পর থেকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন এমন সব মানুষও সরকারি সহায়তায় মাত্র ৫ শতাংশ জামানত দিয়ে বাড়ি কিনছেন, যাদের বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলার বা তার চেয়েও বেশি।   আগের ক্ষমতাসীন কোয়ালিশন সরকার স্বল্প আয়ের মানুষদের প্রথম বাড়ি কেনার সুবিধার্থে এই নিয়ম চালু করেছিল। সেই নিয়মে বাড়ি ক্রেতাদের জন্য সরকার মর্টগেজ বা গৃহঋণের বীমার খরচ নিজে বহন করত। কিন্তু গত বছর বর্তমান লেবার সরকার তাদের প্রাক-নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একক ক্রেতাদের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার এবং যৌথ ক্রেতাদের জন্য ২ লাখ ডলারের আয়ের সীমাটি সম্পূর্ণ বাতিল করে দেয়।   হাউজিং অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আয়ের সীমা তুলে নেওয়ার পর গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই স্কিমের অধীনে ৩৯ হাজার ৭০৪টি ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ঋণ পেয়েছেন এমন সব ব্যক্তি, যাদের আয় আগের নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি। এমনকি প্রায় ১ হাজার একক ক্রেতা রয়েছেন যাদের বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের বেশি এবং ১ হাজার ২৫১টি দম্পতি রয়েছেন যাদের যৌথ আয় ২ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের ওপরে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, আয়ের সীমা তুলে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি সহায়তা এখন সাধারণ মানুষের বদলে অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি সচ্ছল ও ধনীদের পকেটে চলে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই নিয়মের কারণে বাজারে ক্রেতাদের সামর্থ্য কৃত্রিমভাবে বেড়ে গেছে, যা শেষ পর্যন্ত আবাসন বাজারে বাড়ির দাম আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। যে ব্যক্তিরা সরকারি সাহায্য ছাড়াও বাড়ি কিনতে পারতেন, তারাও এখন এই সুবিধার কারণে বিপুল ঋণ নিয়ে বাজারে নামছেন।   পূর্বে যেখানে ২০ শতাংশ জামানতের নিয়মে ৫০ হাজার ডলার সঞ্চয়কারী একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ২ লাখ ডলার ঋণ পেতেন, সেখানে ৫ শতাংশ জামানতের এই নতুন নিয়মে তিনি এখন অনায়াসেই ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারছেন। এই অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ার পর থেকেই বাজারে বাড়ির দাম আকাশচুম্বী হতে শুরু করেছে। লেবার সরকার বাড়ি কেনার সুবিধা বাড়ানোর দাবি করলেও তথ্য বলছে, সাধারণ মানুষের বাড়ি কেনার হার তেমন বাড়েনি, বরং ধনীরাই এই সুযোগের মূল সুবিধাভোগী হয়ে উঠেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১৩:৫০
দক্ষিণ কোরিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক কেএসএস-৩ সাবমেরিন ‘আরওকেএস জং ইয়ং-সিল’ | ছবি: আরওকে নেভি ফটো

জার্মানি থেকে ১২টি অত্যাধুনিক সাবমেরিন কিনছে কানাডা

সামরিক বাজেট এক-তৃতীয়াংশ বাড়াল জার্মানি; সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ব্যয় হবে ১২ হাজার ৫৩০ কোটি ডলার | ছবি: সংগৃহীত

ন্যাটোর লক্ষ্য পূরণে ২০২৭ সালে সামরিক বাজেট এক-তৃতীয়াংশ বাড়াচ্ছে জার্মানি

জি-সেভেন সম্মেলনের ছবি নিয়ে ট্রাম্পের দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি | ছবি: সংগৃহীত

ন্যাটোর বৈঠকের আগে ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কী হবে; আঙ্কারা সম্মেলনে ন্যাটোর মূল এজেন্ডা | ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
ট্রাম্পের কারণে ভাঙনের মুখে ন্যাটো জোট, নিজেদের বাঁচাতে এক হচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলো

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগমুহূর্তে এক সামরিক বিশ্লেষক সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের কারণে এই সামরিক জোটের ভেতরে গভীর রাজনৈতিক ও সামরিক ফাটল তৈরি হচ্ছে। জার্মান প্রবীণ সামরিক বিশ্লেষক থমাস উইগোল্ড এক সাক্ষাৎকারে জানান, ট্রাম্প প্রশাসন প্রশাসনিকভাবে ন্যাটোকে দুর্বল করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোকে খুব দ্রুত এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার পথ খুঁজতে হবে।   তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাহ্যিকভাবে সামরিক পর্যায়ে সবকিছু ঠিকঠাক মনে হলেও রাজনৈতিকভাবে ন্যাটোর পরিস্থিতি মোটেও ভালো নয়। এমনকি সম্প্রতি গত ২ জুলাই ইউরোপে নিয়োজিত মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেলকে হঠাৎ পরিবর্তন করার ঘটনা প্রমাণ করে যে, সামরিক ক্ষেত্রেও এখন আর আগের মতো সুসম্পর্ক নেই। এবারের আঙ্কারা সম্মেলনের মূল আলোচনাই হবে—যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজেদের গুটিয়ে নেয়, তবে ইউরোপ কীভাবে নিজেদের প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করবে।   এই অনিশ্চয়তার মাঝেই জার্মানি ন্যাটোর ভেতরে আরও বড় দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। আঙ্কারা সম্মেলনে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ এবং অন্যান্য ইউরোপীয় নেতারা ন্যাটোকে 'আরও বেশি ইউরোপ-বান্ধব' করার ব্যাপারে জোর দেবেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি চলে গেলেও জোটটি টিকে থাকতে পারে।   ইতিমধ্যে গত ১২ মাসে ইউরোপীয় মিত্ররা তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ১০০ বিলিয়ন ইউরো বাড়িয়েছে। এর মধ্যে কেবল জার্মানিই তার সামরিক ব্যয় ২৫ বিলিয়ন ইউরো বৃদ্ধি করে মোট ১২৪ বিলিয়ন ইউরোতে নিয়ে গেছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। আঙ্কারার এই ৩৬তম শীর্ষ সম্মেলনটি ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং ইউরোপ-আমেরিকার মধ্যকার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১০:১২
আমেরিকার রাষ্ট্রপ্রধানের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

ধ্বংসের হুমকি দিলে যে কোনো ইরানি নেতার পরিণতিও হবে একই খামেনির বিদায়বেলায়

জার্মানি একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

জার্মানিতে বিশ্বের বৃহত্তম পাওয়ার সেমিকন্ডাক্টর কারখানার উদ্বোধন, ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ

ব্রিটেনের একটি কলেজের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

ব্রিটেনে বেকারত্বের সংকট তীব্র, ভাতানির্ভর জীবনের ঝুঁকিতে বাড়ছে তরুণদের সংখ্যা

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা ছবি সংগৃহীত
ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ১১

রাশিয়া সোমবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।     ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, হামলায় একাধিক আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। দমকল ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।   ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া এই হামলায় ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৫১টি ড্রোন ব্যবহার করে। আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী অনেক ড্রোন ভূপাতিত করলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে রাজধানীতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়।    প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelenskyy হামলার পর বলেন, বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। তিনি ন্যাটো মিত্রদের প্রতি দ্রুত অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের আহ্বান জানান।   এই হামলা এমন সময়ে হয়েছে, যখন তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা। ইউক্রেন আশা করছে, সম্মেলনে দেশটির জন্য নতুন সামরিক সহায়তা ও আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসবে।    অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্প-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা। তবে ইউক্রেন বলছে, হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবাসিক এলাকা এবং সাধারণ নাগরিকরা। এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসন নাগরিকদের বিমান হামলার সতর্কবার্তা উপেক্ষা না করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।   ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসেও সংঘাতের তীব্রতা কমেনি। বরং ন্যাটো সম্মেলনের ঠিক আগে সংঘটিত এই বড় হামলা ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেনের জন্য কী ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক সহায়তার ঘোষণা আসে, সেদিকে।

সিদ্দিকুর রহমান প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ৭:২৯
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

মেলোনি আমার প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত, আইনি নিষেধাজ্ঞা দরকার’ ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন কূটনৈতিক বিতর্ক

তেহরানের আকাশ সীমা বন্ধ করে দিল ইরান

তেহরানের আকাশসীমায় পূর্ণাঙ্গ ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা, বিমান চলাচলে বড় প্রভাব

মিখাইলো ফেদোরোভ ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের অপেক্ষা ২০২৭ নয়, এখনই সহায়তা চায় ইউক্রেন

0 Comments