আন্তর্জাতিক

অস্ট্রেলিয়ায় বাড়িঘরের দাম কমলেও চড়া সুদের ভয়ে নতুন ক্রেতারা পিছু হটছেন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১২:৪৩
নির্ধারিত তারিখের আগেই বিক্রি হয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার আবাসন বাজারের নিলামের জন্য তালিকাভুক্ত কিছু ঘরবাড়ি | ছবি: লিসা মেরি উইলিয়ামস/গেটি ইমেজেস
নির্ধারিত তারিখের আগেই বিক্রি হয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার আবাসন বাজারের নিলামের জন্য তালিকাভুক্ত কিছু ঘরবাড়ি | ছবি: লিসা মেরি উইলিয়ামস/গেটি ইমেজেস

ধারাবাহিক সুদহার বৃদ্ধি এবং নতুন কর সংস্কারের জেরে অস্ট্রেলিয়ার আবাসন বাজারে বড় ধরনের মন্দা বা ধস নেমেছে। দেশটিতে বর্তমানে বাড়িঘরের দাম কমতির দিকে থাকা সত্ত্বেও নতুন বা প্রথমবার আবাসন কিনতে যাওয়া ক্রেতারা বাজারে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছেন। ক্রেতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি পুরোনো আবাসন খাতের দিকে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশেষ গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

 

আবাসন খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান 'কোটালিটি' (Cotality)-র সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপর্যুপরি সুদহার বৃদ্ধির কারণে নতুন গৃহঋণের গড় সুদের হার বার্ষিক ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে প্রথমবার আবাসন ক্রেতাদের ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা ও সামর্থ্য দুটিই কমে গেছে। ঋণ বিষয়ক ক্রেডিট সংস্থা 'ইকুইফ্যাক্স' জানিয়েছে, পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় মে মাসে হোম লোনের আবেদন প্রায় ১০.৯ শতাংশ কমেছে এবং নতুন ক্রেতাদের আবেদন কমেছে ১৩.৪ শতাংশ।

 

can- বলছেন, ঋণ পাওয়ার জটিলতা ছাড়াও আবাসন বাজারের ধারাবাহিক মূল্যপতন দেখে সাধারণ ক্রেতারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। সাধারণত বাজার যখন চাঙ্গা থাকে তখন ক্রেতারা বেশি দামে বাড়ি কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন, কিন্তু বাজার ঠান্ডা হতেই তারা নিজেদের গুটিয়ে নেন। এর ফলে সিডনি, মেলবোর্ন এবং ক্যানবেরার মতো বড় শহরগুলোতে সবচেয়ে দামি বা বিলাসবহুল বাড়িগুলোর দাম নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। যেমন গত তিন মাসে সিডনির শীর্ষ ২৫ শতাংশ অভিজাত আবাসন বাজারের গড় মূল্য প্রায় ৯০ হাজার ডলার হ্রাস পেয়েছে।

 

এদিকে গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বাজেটে পুরোনো বা বিদ্যমান বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের জন্য 'নেগেটিভ গিয়ারিং' (এক ধরনের কর রেয়াত সুবিধা) বাতিল করা হয়েছে। এই নতুন কর নীতিমালার কারণে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগকারীদের ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা প্রায় ২০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। ফলস্বরূপ পুরোনো বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা এক-পঞ্চমাংশ কমে গেলেও, নতুন বাড়ি নির্মাণ বা কেনার ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। কারণ নতুন আবাসন খাতের ক্ষেত্রে কর রেয়াতের সুবিধা এখনও বহাল রাখা হয়েছে।

 

এই টালমাটাল আবাসন বাজারের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নিলাম বা অকশন বিক্রিতে। মে মাসের শেষ দিক থেকে প্রতি সপ্তাহে নিলামে ওঠা বাড়িগুলোর অর্ধেকেরও কম সফলভাবে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বাজারে অবিক্রিত বাড়ির সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি ক্রেতাহীন অবস্থায় একটি বাড়ি দিনের পর দিন পড়ে থাকছে। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার আবাসন খাত এখন এক বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ক্রেতারা তাড়াহুড়ো না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
খামেনির জানাজায় ক্ষোভে ফুঁসছে লাখো ইরানি I ছবি: সংগৃহীত
‘রক্তের বদলা রক্তে’, খামেনির জানাজায় ক্ষোভে ফুঁসছে লাখো ইরানি

ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় শনিবার রাজধানী তেহরানে সমবেত হয়েছিল লাখো মানুষের ঢল। এই বিপুল জনতার কণ্ঠে শোকের মাতমের পাশাপাশি প্রতিধ্বনিত হয়েছে তীব্র ক্ষোভ এবং প্রতিশোধের আগুন। জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষ খামেনির এই মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের হামলায় নিহত সর্বোচ্চ নেতার হত্যার চূড়ান্ত প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তারা।   তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া লাখো জনতার আবেগ ও ক্ষোভের চিত্র ছিল চোখে পড়ার মতো। আরশ রাহিমি নামের ৪০ বছর বয়সি এক শোকাহত ব্যক্তি সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, তাঁরা নিশ্চিতভাবেই তাঁদের নেতার রক্তের বদলা নেবেন।   তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জানাজায় আসা প্রত্যেকেই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যে রক্তের শত্রুতা রয়েছে, তা কখনোই মিটমাট হওয়ার নয়। জাতীয় শোকের এই গভীরতা সাধারণ ইরানিদের কতটা ছুঁয়ে গেছে, তা হামাদান প্রদেশ থেকে আসা হামিদ তেইমোরির কথায় আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি জানান, নিজের বাবার মৃত্যুতেও তিনি এতটা কাঁদেননি, যতটা খামেনির শাহাদাতের খবরে মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে শাসন করা খামেনির এই বিশাল জানাজাকে কাজে লাগিয়ে ইরান সরকার পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে এক অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিতে চাইছে। জনগণের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং আবেগকে ব্যবহার করে সরকার নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছে।   মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় সর্বোচ্চ নেতার এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক বিদায়ের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এক নতুন সংকটের মুখে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই হত্যাকাণ্ডের জের ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সম্পর্ক অচিরেই আরও চরম ও ভয়াবহ সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:১১
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় I ছবি: সংগৃহীত

'আমাকে থামাতে হলে মেরে ফেলতে হবে', দলভাঙনের মাঝেও হুঙ্কার মমতার

অর্থনৈতিক সংকটে তুরস্কের দ্বারস্থ পাকিস্তান I ছবি: সংগৃহীত

অর্থনৈতিক সংকটে তুরস্কের দ্বারস্থ পাকিস্তান, মেগা বিনিয়োগ চাইলেন শাহবাজ শরিফ

নির্ধারিত তারিখের আগেই বিক্রি হয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার আবাসন বাজারের নিলামের জন্য তালিকাভুক্ত কিছু ঘরবাড়ি | ছবি: লিসা মেরি উইলিয়ামস/গেটি ইমেজেস

অস্ট্রেলিয়ায় বাড়িঘরের দাম কমলেও চড়া সুদের ভয়ে নতুন ক্রেতারা পিছু হটছেন

বেজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু সিটিক টাওয়ারের নিচে বিমানের ধ্বংসাবশেষের খবরের পর ভবনটির পাশে জড়ো হওয়া উৎসুক জনতা | ছবি: আদেক বেরি/এএফপি/গেটি ইমেজেস
বেজিংয়ের বহুতল ভবনে বিমান নিয়ে আত্মঘাতী হামলাকারী মানসিক রোগী ছিলেন, জানাল চীন

চীনের রাজধানী বেজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু আকাশচুম্বী ভবনে গত সপ্তাহে একটি ছোট বিমান নিয়ে আঘাত করা ব্যক্তি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন। গত ২৬ জুন বেজিংয়ের কেন্দ্রস্থলে ঘটে যাওয়া এই নজিরবিহীন ও ভয়াবহ ঘটনার বিষয়ে প্রথমবারের মতো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে স্থানীয় সরকার। কড়া আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ নীতি থাকা সত্ত্বেও এই বিমান হামলার ঘটনাটি পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল।   চাওইয়াং জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬৬ বছর বয়সী ওই পাইলটের নাম লিউ। তিনি বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া এক ব্যক্তি ছিলেন যিনি একা বসবাস করতেন এবং ২০২৪ সালে ব্যক্তিগত বিমান চালনার লাইসেন্স পেয়েছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে তিনি বেজিংয়ের বাইরের একটি বিমানবন্দর থেকে একক উড্ডয়ন শুরু করেন। তবে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই তিনি নির্ধারিত আকাশসীমা থেকে বিচ্যুত হন এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সাথে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর তিনি বিমানটি নিয়ে সরাসরি চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সদর দফতর সিআইটিআইসি (সিটিক) টাওয়ারে আঘাত করেন এবং ঘটনাস্থলেই নিহত হন।   তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহত লিউ দীর্ঘদিন ধরে তীব্র অনিদ্রা এবং মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। তাঁর ব্যক্তিগত ডায়েরি তল্লাশি করে সেখানে বারবার "জীবন শেষ করে দেওয়ার" মতো আত্মঘাতী লেখা পাওয়া গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনাটিকে ব্যক্তিগত মানসিক অবসাদের কারণে "জননিরাপত্তা বিপন্ন করার" একটি ঘটনা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিমান দুর্ঘটনায় ভবনে থাকা অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন, তবে তাদের কারোরই আঘাত প্রাণঘাতী নয়।   উল্লেখ্য, চীনের রাজধানী বেজিংয়ে ড্রোন বা হালকা বিমান উড্ডয়নের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং এই ভবনটি চীনের শীর্ষ নেতা শি জিনপিংয়ের বাসভবন থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিগুলো দ্রুত মুছে দেয় চীনা সেন্সরশিপ বিভাগ। চীনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যক্তিগত হতাশা থেকে সমাজের ওপর ক্ষোভ বা প্রতিশোধ নেওয়ার এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন সাধারণত এগুলোকে বিচ্ছিন্ন বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির কাজ হিসেবেই বর্ণনা করে থাকে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১২:৩৫
যুক্তরাজ্যের সাহায্য বাজেট কাটছাঁটের কারণে বাতিল হওয়া আন্তর্জাতিক নারী শিক্ষা প্রকল্প 'শেফে'-র আওতায় থাকা সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা | ছবি: এস হিউনিস/এএফপি/গেটি

বাজেট কাটছাঁটের জেরে নারীদের আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রকল্প বাতিল করল যুক্তরাজ্য

ছোট্ট জাহরার বিদায়ের কপিন ছবি আমেরিকা বাংলা সংগৃহীত

সব কফিনের মাঝেও নজর কাড়ল ছোট্ট জাহরার বিদায় ১৪ মাস বয়সী শিশুর

তেহেরানে খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানে ‘আমেরিকার ধ্বংস’ স্লোগানে মুখর তেহরান

চীনে জার্মানির প্রতিষ্ঠান ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
চীনের তীব্র প্রতিযোগিতায় জার্মান শিল্পে বড় ধাক্কা, চাকরি কমছে, বিদেশে কারখানা সরাচ্ছে শত শত

চীনের ক্রমবর্ধমান শিল্প সক্ষমতা ও কম খরচে উৎপাদনের প্রতিযোগিতায় জার্মানির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি মাঝারি আকারের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো (মিটেলস্ট্যান্ড) বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। এর ফলে বহু প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করছে, উৎপাদন ব্যয় কমাতে বিদেশে কারখানা স্থানান্তর করছে এবং নতুন বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (WSJ)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানির বহু মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখন দেশীয় উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। একসময় উচ্চমানের প্রকৌশল, যন্ত্রপাতি ও শিল্প প্রযুক্তিতে বিশ্ববাজারে আধিপত্য বজায় রাখা এসব প্রতিষ্ঠান এখন চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকে তীব্র মূল্য ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার মুখোমুখি।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শুধু চীনের কম উৎপাদন ব্যয়ই নয়, দেশটির দ্রুত প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সরকারি সহায়তাও জার্মান কোম্পানিগুলোর জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন করে তুলেছে। একই সঙ্গে জার্মানিতে জ্বালানি ব্যয়, শ্রম ব্যয় এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প হিসেবে পূর্ব ইউরোপ, এশিয়া কিংবা উত্তর আমেরিকায় উৎপাদন স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।   জার্মানির এই মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দেশটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। এসব প্রতিষ্ঠানে লাখো মানুষ কর্মরত এবং রপ্তানি আয়ের বড় অংশও আসে এ খাত থেকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগ স্থগিত করেছে, কোথাও কোথাও কর্মসংস্থান কমানোর পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।   অর্থনৈতিক সূচকগুলোও দেখাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানির উৎপাদনশিল্প দীর্ঘ সময় ধরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়া, উচ্চ সুদের হার এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা শিল্পখাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ৬:৩০
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার হুমকিতে ‘শেষ রক্তবিন্দু’ দিয়ে লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি কিউবার

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প ও চীনা যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে নজর রাখছে ভারত

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইরানের বিমানবাহিনীকে শক্তিশালী করতে ৩০টি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান দিচ্ছে রাশিয়া

0 Comments