এমআইটির ৯ লেকচারে জেনারেটিভ এআই শেখার সুযোগ, উন্মুক্ত হলো পূর্ণাঙ্গ ভিডিও কোর্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত পরিবর্তনশীল জগৎ সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের ধারণা দিতে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একটি পূর্ণাঙ্গ ভিডিও কোর্স অনলাইনে উন্মুক্ত রয়েছে। ‘ফাউন্ডেশন মডেলস অ্যান্ড জেনারেটিভ এআই’ শিরোনামের কোর্সটিতে মোট নয়টি লেকচারের মাধ্যমে জেনারেটিভ এআইয়ের প্রাথমিক ধারণা থেকে শুরু করে ChatGPT, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল, ছবি তৈরি, জীববিজ্ঞান, রোবোটিক্স, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এমআইটি ওপেনকোর্সওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, ৬.এস০৮৭ নম্বরের কোর্সটি ২০২৪ সালের জানুয়ারির ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাকটিভিটিজ পিরিয়ডে পড়ানো হয়। কোর্সটির প্রশিক্ষক ছিলেন এমআইটির গবেষক রিকার্ড গ্যাব্রিয়েলসন। এটি মূলত একটি নন-টেকনিক্যাল লেকচার সিরিজ। ফলে কম্পিউটার বিজ্ঞান বা প্রোগ্রামিংয়ে গভীর অভিজ্ঞতা না থাকলেও আগ্রহীরা সহজে কোর্সটি অনুসরণ করতে পারবেন। ([MIT OpenCourseWare][1]) কোর্সের আলোচনায় ChatGPT, Copilot, DALL-E, Stable Diffusion, AlphaFold এবং স্বয়ংক্রিয় গাড়ির মতো বহুল আলোচিত প্রযুক্তির পেছনে থাকা ফাউন্ডেশন মডেল ও জেনারেটিভ এআইয়ের কার্যপ্রণালি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি সুপারভাইজড লার্নিং, রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং, সেলফ-সুপারভাইজড লার্নিং, নিউরাল নেটওয়ার্ক, অটো-এনকোডার, কনট্রাস্টিভ লার্নিং এবং ডিফিউশন মডেলের মতো বিষয়ও সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। ([Future of AI][2]) প্রথম লেকচার: জেনারেটিভ এআই ও ফাউন্ডেশন মডেলের পরিচিতি প্রথম লেকচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের পাশাপাশি জেনারেটিভ এআই ও ফাউন্ডেশন মডেলের মৌলিক ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রচলিত এআই ব্যবস্থা এবং আধুনিক জেনারেটিভ মডেলের মধ্যে পার্থক্য কী, একটি মডেল কীভাবে বিপুল পরিমাণ তথ্য থেকে সাধারণ প্যাটার্ন শেখে এবং পরে বিভিন্ন কাজে ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে—এসব প্রশ্নের প্রাথমিক উত্তর পাওয়া যাবে এই পর্বে। লিংক: [https://youtu.be/y1fGlAECNFM](https://youtu.be/y1fGlAECNFM) দ্বিতীয় লেকচার: প্রযুক্তিটি যেভাবে কাজ করে দ্বিতীয় লেকচারে ফাউন্ডেশন মডেল ও জেনারেটিভ এআইয়ের ভেতরের প্রযুক্তিগত কার্যপ্রণালি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ডেটা, মেশিন লার্নিং, মডেল প্রশিক্ষণ এবং সেলফ-সুপারভাইজড লার্নিংয়ের মাধ্যমে একটি এআই ব্যবস্থা কীভাবে নতুন দক্ষতা অর্জন করে, তা তুলনামূলক সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রযুক্তিটির ভিত্তি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা তৈরিতে এই লেকচারটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। লিংক: [https://youtu.be/D-pLXkS21fM](https://youtu.be/D-pLXkS21fM) তৃতীয় লেকচার: ChatGPT ও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল এই পর্বে ChatGPT এবং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএমের কার্যপ্রণালি আলোচনা করা হয়েছে। একটি ভাষা মডেল কীভাবে মানুষের লেখা বিশ্লেষণ করে, শব্দের পরবর্তী সম্ভাব্য বিন্যাস অনুমান করে এবং প্রশ্নের উত্তর, সারসংক্ষেপ, অনুবাদ কিংবা নতুন লেখা তৈরি করে—তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ডিজিটাল যোগাযোগ, শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মক্ষেত্রে এসব মডেলের প্রভাবও আলোচনায় এসেছে। লিংক: [https://youtu.be/RVFj88i63rU](https://youtu.be/RVFj88i63rU) চতুর্থ লেকচার: এআই দিয়ে ছবি তৈরি চতুর্থ লেকচারের বিষয় ইমেজ জেনারেশন। DALL-E, Stable Diffusion ও Midjourney-এর মতো ব্যবস্থা লিখিত নির্দেশনা থেকে কীভাবে নতুন ছবি তৈরি করে, তার পেছনের ধারণা এখানে তুলে ধরা হয়েছে। ডিফিউশন মডেল, প্রশিক্ষণ ডেটা, টেক্সট ও ছবির মধ্যে সম্পর্ক এবং প্রম্পটের ভূমিকা বুঝতে আগ্রহীদের জন্য এই পর্বটি কার্যকর হতে পারে। লিংক: [https://youtu.be/oTfXBw_Wnrw](https://youtu.be/oTfXBw_Wnrw) পঞ্চম লেকচার: জেনারেটিভ এআইয়ের ইকোসিস্টেম জেনারেটিভ এআই কেবল একটি অ্যাপ বা সফটওয়্যার নয়; এর সঙ্গে ডেটা, কম্পিউটিং অবকাঠামো, চিপ নির্মাতা, ক্লাউড পরিষেবা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, মডেল নির্মাতা, সফটওয়্যার ডেভেলপার ও ব্যবহারকারীদের একটি বড় নেটওয়ার্ক যুক্ত। পঞ্চম লেকচারে এই বিস্তৃত ইকোসিস্টেমের প্রযুক্তিগত, সামাজিক ও বাণিজ্যিক দিক ব্যাখ্যা করা হয়েছে। লিংক: [https://youtu.be/IWPo4pV6Jpo](https://youtu.be/IWPo4pV6Jpo) ষষ্ঠ লেকচার: জীববিজ্ঞানে জেনারেটিভ এআই এই লেকচারে জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণায় জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার তুলে ধরা হয়েছে। প্রোটিনের গঠন ও কার্যকারিতা বিশ্লেষণ, জিনগত তথ্য বোঝা, সম্ভাব্য ওষুধের অণু শনাক্ত করা এবং ড্রাগ ডিসকভারির প্রক্রিয়া দ্রুত করার ক্ষেত্রে এআইয়ের সম্ভাবনা এখানে আলোচিত হয়েছে। অতিথি বক্তা হিসেবে লেকচারটি দিয়েছেন এমআইটির অধ্যাপক মানোলিস কেলিস। ([YouTube][3]) লিংক: [https://youtu.be/pHzdw6YWB9I](https://youtu.be/pHzdw6YWB9I) সপ্তম লেকচার: রোবোটিক্স ও স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থা সেলফ-ড্রাইভিং গাড়ি, স্বয়ংক্রিয় রোবট এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থা চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তা সপ্তম লেকচারের মূল বিষয়। বাস্তব জগতের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে একটি এআই ব্যবস্থা কীভাবে সম্ভাব্য ফলাফল বিবেচনা করে কাজ নির্বাচন করতে পারে, সেটিও এখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। লিংক: [https://youtu.be/ucfAlovLN-U](https://youtu.be/ucfAlovLN-U) অষ্টম লেকচার: নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল এআই জেনারেটিভ এআইয়ের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভুল তথ্য, পক্ষপাত, গোপনীয়তা, কপিরাইট, ডিপফেক, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। অষ্টম লেকচারে এসব নৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি দায়িত্বশীলভাবে এআই তৈরি ও ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লিংক: [https://youtu.be/VBHmEwr7kf0](https://youtu.be/VBHmEwr7kf0) নবম লেকচার: বিশেষজ্ঞদের প্যানেল আলোচনা শেষ লেকচারে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে জেনারেটিভ এআইয়ের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ প্রবণতা, সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং বিভিন্ন খাতের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, গবেষণা, ব্যবসা ও সামাজিক জীবনে এআই কী ধরনের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যাবে এই পর্বে। লিংক: [https://youtu.be/ewnBsnr7QRA](https://youtu.be/ewnBsnr7QRA) কোর্সটি ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করলে একজন নতুন শিক্ষার্থী প্রথমে জেনারেটিভ এআইয়ের ভিত্তি বুঝতে পারবেন এবং পরে এর বিশেষায়িত প্রয়োগ, সীমাবদ্ধতা ও নৈতিক দিক সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি এআইয়ের সামাজিক প্রভাব বোঝার সুযোগ থাকায় কোর্সটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক, উদ্যোক্তা, কনটেন্ট নির্মাতা ও বিভিন্ন খাতের পেশাজীবীদের জন্য একটি কার্যকর প্রাথমিক শেখার গাইড হতে পারে।
শৈশব থেকেই স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক হবেন। কঠিন পথ পার হয়ে সেই লালিত স্বপ্ন সত্যিও করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের তরুণ থমাস কেলি। ২০১৭ সালে ডাক্তারি পাস করে নাম লেখান মহৎ এই পেশায়। তবে বাস্তবে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে কঠিন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি। কাজের মাত্রাতিরিক্ত চাপ, রোগীর উপচে পড়া ভিড় আর নিত্যদিনের প্রশাসনিক কাগজের পাহাড় তাকে ঠেলে দেয় তীব্র মানসিক ক্লান্তির (বার্নআউট) দিকে। অবশেষে সেই ক্লান্তিকর জীবন থেকে বাঁচতে ডাক্তারি পেশাকেই বিদায় জানান তিনি। কিন্তু গল্পটা সেখানে শেষ হয়নি। সেই অভিজ্ঞাতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তোলেন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি, যার বাজারমূল্য এখন সাড়ে চারশো মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে অস্ট্রেলীয় এই তরুণ উদ্যোক্তার রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। ৩৩ বছর বয়সী ড. থমাস কেলি জানান, মেলবোর্নে ছোটবেলায় যে চিকিৎসকের কাছে তিনি যেতেন, তার অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। সেই অনুপ্রেরণাতেই ২০১৩ সালে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি ইউটিউবে শিক্ষামূলক ভিডিও তৈরি এবং মেডিকেলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের টিউটরিং শুরু করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের চাপ সামলাতে গিয়ে সময় বাঁচাতে তিনি প্রথম 'অস্কার' নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ইন্টারভিউ টিউটর তৈরি করেন, যা শিক্ষার্থীদের মেডিকেল ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতিতে সাহায্য করত। ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী এটি ব্যবহার শুরু করে। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে সরাসরি চিকিৎসাসেবায় যোগ দেওয়ার পর কেলি অনুধাবন করেন, বাস্তব চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। তিনি বলেন, "একজন রোগীর জন্য মাত্র ১০ মিনিট সময় পাওয়া যেত। দিনে প্রায় ১০০ জন রোগী দেখতে হতো, তার ওপর শত শত পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর কাজের সমন্বয় করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দৌড়ে কাটাতে হতো। একজন চিকিৎসকের মূল কাজ রোগীর কথা মন দিয়ে শোনা, কিন্তু সেই সুযোগটাই ছিল না।" এই অতিরিক্ত চাপ ও বার্নআউট থেকে মুক্তি পেতে এবং অন্যান্য চিকিৎসকদের কাজ সহজ করতে কেলি সিদ্ধান্ত নেন এআই প্রযুক্তিকে চিকিৎসাক্ষেত্রে কাজে লাগানোর। তিনি চিন্তা করেন, যে প্রযুক্তি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর আলাপচারিতা বুঝতে পারে, তা নিশ্চয়ই চিকিৎসক ও রোগীর সাধারণ কথোপকথন শুনে প্রেসক্রিপশন ও ক্লিনিক্যাল নোট তৈরি করতে পারবে। ২০২১ সালে এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হন কেলি। একদিকে ভাস্কুলার সার্জারির উচ্চতর প্রশিক্ষণ, অন্যদিকে নিজের উদ্ভাবিত এআই প্রযুক্তিকে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন। ঝুঁকি নিয়ে তিনি চিকিৎসকের ক্যারিয়ারে বিরতি দেন এবং পুরোদমে এআই টুল তৈরির কাজে নেমে পড়েন। গড়ে তোলেন 'হাইডি' (Heidi) নামের একটি এআই মেডিকেল স্ক্রাইব। এই প্রযুক্তি চিকিৎসক ও রোগীর কথোপকথন শুনে সরাসরি ক্লিনিক্যাল নোট তৈরি করে দেয়, যা চিকিৎসকদের প্রশাসনিক কাজের বড় বোঝা দূর করে। কেলি বলেন, "আমি ভেবেছিলাম এই সুযোগটা না নিলে সারাজীবন আফসোস থেকে যাবে। অংক, ব্যবসা আর চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভিজ্ঞতা যাদের আছে, তাদের মধ্যে আমি এই ঝুঁকিটা নিতে পেরেছি।" বর্তমানে ‘হাইডি’ চিকিৎসকদের কাছে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে। গত অক্টোবরে কোম্পানিটি ৬৫ মিলিয়ন ডলারের সিরিজ-বি অর্থায়ন নিশ্চিত করে, যার মাধ্যমে এর আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬৫ মিলিয়ন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি)। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। একটি সরকারি প্রেসক্রিপশন লেখার যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে গোটা চিকিৎসা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা থমাস কেলি প্রমাণ করেছেন উদ্ভাবনী চিন্তা ও সাহসের মাধ্যমে যেকোনো অচলাবস্থাকেই বিরাট সাফল্যে রূপান্তর করা সম্ভব।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাবে যারা চাকরি হারাচ্ছেন, তাদের জন্য আশার আলো নিয়ে এসেছে 'এআই ডিভিডেন্ড' নামের ১২ মাস মেয়াদি একটি নতুন কর্মসূচি। এই উদ্যোগের আওতায় এআইয়ের কারণে কাজ হারানো কর্মীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ডলার করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আপাতত ২৫ থেকে ৫০ জন কর্মীকে নিয়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি শুরু হলেও ভবিষ্যতে এর পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ‘এআই কমন্স প্রজেক্ট’ এবং ‘হোয়াট উই উইল’ নামের দুটি অলাভজনক সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো, এআই যুগে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি তাদের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করা। নিজেদের ধরনের প্রথম এই উদ্যোগটি যোগ্য প্রার্থীদের ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত মাসিক ১ হাজার ডলার দেওয়ার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা উন্নয়নেও কাজ করবে। চাকরি হারানো এসব কর্মীকে নতুন করে দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন রি-স্কিলিং ও আপ-স্কিলিং প্রোগ্রাম, এআই ট্রেনিং সার্টিফিকেশন, জব কোচিং এবং ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রস্তুত করার মতো সহায়তা দেওয়া হবে। এই আর্থিক সহায়তা পেতে আগ্রহীদের ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট ফর্মে নিজেদের পদবি এবং এআই কীভাবে তাদের কাজে প্রভাব ফেলেছে, তা বিস্তারিত জানাতে হবে। পাশাপাশি প্রাপ্ত অর্থ তারা কীভাবে কাজে লাগাবেন, সে বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণীও জমা দিতে হবে। এআই কমন্স প্রজেক্টের প্রতিষ্ঠাতা নিক সালাজারের মতে, সামাজিক নিরাপত্তার জালকে এআইয়ের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, যা বর্তমানে বেশ পিছিয়ে আছে। তিনি জানান, মানুষ এখনই কাজ হারাচ্ছে, তাই এই সমস্যা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে কেবল গবেষণা করার মতো সময় নেই। ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্যদের অর্থ ও সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। শ্রমবাজারের পরিবর্তনের এই সময়ে এআই নীতিমালায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে কর্মসূচিটি চাকরি হারানো কর্মীদের বাস্তব তথ্য-উপাত্তও সংগ্রহ করছে। অন্যদিকে, সান ডিয়েগোর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০ শতাংশ চাকরি স্বয়ংক্রিয় হয়ে যেতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্ল্যারিক্যাল বা করণিক এবং কাস্টমার সার্ভিসের মতো চাকরিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ডিজিটাল ব্যাংকিং ও সেলফ-চেকআউট বৃদ্ধির ফলে ব্যাংক টেলার ও ক্যাশিয়ার পদের চাহিদাও দ্রুত কমছে। গবেষণার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক দশকের মধ্যে ৫৯ শতাংশ কর্মীর নতুন করে দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই শুধু চাকরি কেড়ে নিচ্ছে না, বরং কাজের ধরন পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে; তাই ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে এই পরিবর্তনগুলো বোঝা ও নতুন দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ ডাটা সেন্টার হাব হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ভার্জিনিয়ার "ডাটা সেন্টার অ্যালির" কাছাকাছি বসবাসকারী এক বাসিন্দার মাসিক বিদ্যুৎ বিল হঠাৎ এক ধাক্কায় ১০০ ডলার থেকে বেড়ে ২৮১ ডলারে পৌঁছেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড কম্পিউটিং প্রযুক্তির কারণে এ অঞ্চলে বিদ্যুতের যে তীব্র সংকট ও চাহিদা তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা তা নতুন করে সামনে নিয়ে এল। উত্তর ভার্জিনিয়ায় বর্তমানে ৩০০টিরও বেশি ডাটা সেন্টার রয়েছে, যা সারা বিশ্বের বিপুল পরিমাণ ইন্টারনেট ট্রাফিক পরিচালনা করে। এসব এআই ও প্রযুক্তিগত স্থাপনার বিশাল বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে নতুন পাওয়ার লাইন, সাবস্টেশন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ভোক্তা অধিকার রক্ষায় সোচ্চার সংগঠনগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, ডাটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুৎ খাতের এই বিশাল অবকাঠামো নির্মাণের খরচ শেষ পর্যন্ত সাধারণ আবাসিক গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো গ্রাহকের বিলে হঠাৎ এত বড় পরিবর্তনের পেছনে কেবল ডাটা সেন্টার নয়—পরিবর্তিত আবহাওয়া, গৃহস্থালি ব্যবহার এবং নির্ধারিত বিদ্যুৎ মাশুলের পরিবর্তনসহ একাধিক কারণও ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে চাকরির বাজার আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এর দ্রুত বিস্তার, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ব্যয় সংকোচন, ধারাবাহিক কর্মী ছাঁটাই এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের ফলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স ইঞ্জিনিয়ার, ডেভঅপস, ডেটা ও অন্যান্য আইটি পেশাজীবীদের জন্য চাকরি পাওয়া এখন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় লিংকডইনে হাজার হাজার চাকরির বিজ্ঞাপন থাকলেও অনেক আবেদনকারী মাসের পর মাস কোনো সাড়া পাচ্ছেন না। কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করেন এমন পেশাজীবীদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে তথাকথিত “ঘোস্ট জব” অর্থাৎ এমন চাকরির বিজ্ঞাপন, যেগুলো সক্রিয়ভাবে নিয়োগের জন্য নয় বা পদ পূরণ হয়ে যাওয়ার পরও সরানো হয়নি প্রার্থীদের বিভ্রান্ত করে। তবে এর অর্থ এই নয় যে লিংকডইনের সব চাকরির বিজ্ঞাপন ভুয়া। অনেক ক্ষেত্রেই তীব্র প্রতিযোগিতা, স্বয়ংক্রিয় আবেদন বাছাই ব্যবস্থা ATS এবং দুর্বল আবেদনপত্রের কারণেও যোগ্য প্রার্থীরা প্রাথমিক পর্যায়েই বাদ পড়ে যান। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু বেশি আবেদন করলেই হবে না; প্রতিটি আবেদন হতে হবে পরিকল্পিত, লক্ষ্যভিত্তিক এবং মানসম্মত। ডেলয়েট সার্ভিসেস এলপির ট্রানজিশন অ্যাসিস্ট্যান্স ম্যানেজার আইলিন ব্যাক্সটার বলেন, সব চাকরির জন্য একই রেজুমে ব্যবহার করার সময় এখন আর নেই। প্রতিটি চাকরির বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিল রেখে রেজুমে কাস্টমাইজ করা উচিত। তার মতে, নিয়োগকারী বা হায়ারিং ম্যানেজাররা সাধারণত মাত্র ৬ থেকে ১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে একটি রেজুমে প্রাথমিকভাবে মূল্যায়ন করেন। তাই আবেদনকারীর গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং অর্জন এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে অল্প সময়েই সেগুলো স্পষ্টভাবে নজরে আসে। একই প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস রিক্রুটিং স্পেশালিস্ট সোফিয়া ফানুচ্চি বলেন, চাকরির জন্য আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পদের চাহিদা ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী রেজুমে প্রস্তুত করা জরুরি। পাশাপাশি সাক্ষাৎকারে রেজুমেতে উল্লেখ করা প্রতিটি অভিজ্ঞতা ও অর্জন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাখ্যা করার প্রস্তুতিও থাকতে হবে। তার মতে, ভালো প্রস্তুতি ও লক্ষ্যভিত্তিক আবেদনই একজন প্রার্থীকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রাখতে পারে। চাকরির জন্য আবেদন করার আগে প্রথমেই যাচাই করা উচিত, বিজ্ঞাপনটি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিজস্ব ক্যারিয়ার ওয়েবসাইটেও রয়েছে কি না। যদি একই পদ সেখানে সক্রিয় অবস্থায় থাকে, তাহলে সেটি সাধারণত বেশি নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি কোম্পানির ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করলে সেটি নিয়োগকারীদের কাছে বেশি গুরুত্বও পায়। একই জীবনবৃত্তান্ত বা রেজুমে দিয়ে শত শত চাকরিতে আবেদন করার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি চাকরির বিবরণ মনোযোগ দিয়ে পড়ে সেই অনুযায়ী রেজুমে হালনাগাদ করা উচিত। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা দক্ষতা, প্রযুক্তি বা সফটওয়্যারের সঙ্গে আবেদনকারীর বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকলে তা রেজুমেতে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা জরুরি। এতে ATS সফটওয়্যার এবং নিয়োগকারী উভয়ের কাছেই আবেদনটি বেশি গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। সম্ভব হলে প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে আলাদা কভার লেটার যুক্ত করা উচিত। সেখানে কেন ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে চান এবং কীভাবে নিজের অভিজ্ঞতা চাকরির চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা সংক্ষেপে তুলে ধরলে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। বর্তমান চাকরির বাজারে একটি শক্তিশালী লিংকডইন প্রোফাইলও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রোফাইলে সর্বশেষ কর্ম-অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, প্রকল্প, অর্জন এবং সার্টিফিকেশন হালনাগাদ রাখা উচিত। অনেক নিয়োগকারী আবেদনকারীর রেজুমে দেখার আগেই তার লিংকডইন প্রোফাইল পর্যালোচনা করেন। সফটওয়্যার ডেভেলপার, টেস্ট অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ার কিংবা অন্যান্য প্রযুক্তি পেশাজীবীদের জন্য গিটহাব, ব্যক্তিগত পোর্টফোলিও বা প্রযুক্তিগত প্রকল্পের লিংক যুক্ত করা বড় সুবিধা হতে পারে। বাস্তব প্রকল্পে কাজের নমুনা নিয়োগকারীর কাছে আবেদনকারীর দক্ষতার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। নিয়োগকারী বা রিক্রুটারের ইমেইলের জবাবও পেশাদারভাবে দেওয়া উচিত। ইমেইলের ভাষা সংক্ষিপ্ত, ভদ্র ও আগ্রহপূর্ণ হওয়া জরুরি। পাশাপাশি একটি মানসম্মত ইমেইল সিগনেচারে নিজের পূর্ণ নাম, ফোন নম্বর, ইমেইল ঠিকানা, লিংকডইন প্রোফাইল এবং প্রয়োজন হলে পোর্টফোলিও বা গিটহাবের লিংক যুক্ত রাখা ভালো। চাকরির বাজারে পেশাগত সার্টিফিকেশনের গুরুত্বও বেড়েছে। অনেক অভিজ্ঞ পেশাজীবী বছরের পর বছর কাজ করলেও কোনো প্রযুক্তিনির্ভর বা পেশাগত সার্টিফিকেট অর্জন করেননি। কিন্তু বর্তমানে AWS, Microsoft Azure, Google Cloud, ISTQB, Scrum, PMP, CompTIA, Cisco, Salesforce কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির স্বীকৃত সার্টিফিকেশন অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। যে পেশায় কাজ করছেন, সেই ক্ষেত্রের প্রাসঙ্গিক সার্টিফিকেট অর্জন এখন আর অতিরিক্ত যোগ্যতা নয়; বরং প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার গুরুত্বপূর্ণ উপায়। লিংকডইনে পূর্বের ম্যানেজার, টিম লিড বা সহকর্মীদের কাছ থেকে রেকমেন্ডেশন সংগ্রহ করাও আবেদনকারীর বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়। বাস্তব কর্ম-অভিজ্ঞতার প্রশংসাসূচক মন্তব্য অনেক সময় নিয়োগকারীর কাছে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করে। শুধু লিংকডইনের ওপর নির্ভর না করে Indeed, Dice, Monster এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য চাকরির প্ল্যাটফর্মেও নিয়মিত সক্রিয় থাকা উচিত। প্রোফাইল ও রেজুমে নিয়মিত হালনাগাদ করলে অনেক প্ল্যাটফর্মে আবেদনকারীর প্রোফাইল সার্চ ফলাফলে বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া পেশাগত নেটওয়ার্কিং এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাবেক সহকর্মী, ম্যানেজার, রিক্রুটার কিংবা একই পেশার অন্যান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা, প্রযুক্তিভিত্তিক অনলাইন কমিউনিটিতে অংশ নেওয়া এবং ভার্চুয়াল বা সরাসরি নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে অংশগ্রহণ করলে নতুন চাকরির সুযোগ সম্পর্কে দ্রুত জানা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান চাকরির বাজারে সফল হতে শুধু বেশি আবেদন করাই যথেষ্ট নয়। প্রতিটি আবেদনকে লক্ষ্যভিত্তিক, মানসম্মত ও তথ্যসমৃদ্ধ করতে হবে। হালনাগাদ রেজুমে, শক্তিশালী লিংকডইন প্রোফাইল, প্রাসঙ্গিক সার্টিফিকেশন, পেশাদার যোগাযোগ এবং ধারাবাহিক দক্ষতা উন্নয়নের সমন্বয়ই চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।
মাকে প্রাণঘাতী স্নায়ুরোগে হারানোর বেদনাই যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (জর্জিয়া টেক)-এর শিক্ষার্থী মেঘনা আইয়ারকে এমন এক গবেষণার পথে নিয়ে যায়, যা ভবিষ্যতে ALS, আলঝেইমারস ও ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়ার মতো জটিল স্নায়ুবিক রোগ নিয়ে গবেষণার ধরণ বদলে দিতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তিনি ও তার গবেষণা দল প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ বায়োমেডিক্যাল গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে এই তিনটি রোগের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক সম্পর্কের সন্ধান পেয়েছেন। জর্জিয়া টেক জানিয়েছে, মেঘনার মা সুনীতি আইয়ার অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস (ALS) রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি রোগটি সম্পর্কে গভীরভাবে জানার আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রথম বছরেই তিনি অধ্যাপক ক্যাসি মিচেলের নেতৃত্বাধীন ‘ল্যাবরেটরি ফর প্যাথোলজি ডায়নামিকস’-এ গবেষণায় যুক্ত হন। গবেষণায় এআই ব্যবহার করে বিশাল সংখ্যক বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, ALS, আলঝেইমারস এবং ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়ার মধ্যে এমন কিছু জৈবিক মিল রয়েছে, যা গবেষকদের রোগগুলোকে আলাদা করে নয়, বরং একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে বিশ্লেষণ করতে সহায়তা করতে পারে। গবেষকদের মতে, এই সম্পর্ক নতুন চিকিৎসা আবিষ্কার করে না, তবে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে। ২০২৫ সালের জুনে মেঘনার মা মারা যান। মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের দিনটি তিনি দেখে যেতে পারেননি। কিন্তু ব্যক্তিগত সেই শোকই মেঘনাকে আরও দৃঢ় করে তোলে। মায়ের মৃত্যুর তিন সপ্তাহ পর তিনি আবার গবেষণাগারে ফিরে আসেন এবং গবেষণার কাজ সম্পন্ন করেন। পরে গবেষণাটি আন্তর্জাতিক পিয়ার-রিভিউ সাময়িকী Biomedicines-এ প্রকাশিত হয়। একজন স্নাতক শিক্ষার্থী হিসেবে গবেষণাপত্রটির প্রথম লেখক (ফার্স্ট অথর) হওয়ার বিরল কৃতিত্বও অর্জন করেন তিনি। মেঘনার গবেষণার ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে SemNet Explorer নামে একটি নতুন এআইভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গবেষকরা কোটি কোটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র দ্রুত বিশ্লেষণ করে রোগগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক খুঁজে বের করতে পারবেন। একই সঙ্গে এআই কীভাবে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, তার ব্যাখ্যাও দেখতে পারবেন গবেষকরা, যা ভবিষ্যৎ গবেষণাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করতে সহায়তা করবে। জর্জিয়া টেকের অধ্যাপক ক্যাসি মিচেলের ভাষায়, মেঘনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও গবেষণার প্রতি অঙ্গীকার এই প্রকল্পকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। আর মেঘনার আশা, তার মাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলেও এই গবেষণা একদিন হয়তো অন্য কোনো পরিবারকে একই ধরনের বেদনা থেকে রক্ষা করার পথ তৈরি করবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পরিচালিত সাইবার হামলা এবং র্যানসমওয়্যার আক্রমণের সংখ্যা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এসব হামলায় প্রতিষ্ঠানের সংবেদনশীল তথ্য চুরি হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। সর্বশেষ কোকা-কোলার মালিকানাধীন ডেইরি কোম্পানি ফেয়ারলাইফ জানিয়েছে, তাদের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার একটি অংশে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং সিস্টেম স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠান এ ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় সাইবার হামলাগুলো আরও দ্রুত, জটিল এবং লক্ষ্যভিত্তিক হয়ে উঠছে। এর ফলে তথ্য চুরি, মুক্তিপণ দাবি এবং সেবা ব্যাহত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস একটি নতুন সমন্বয় উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে। এর আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো একসঙ্গে কাজ করবে। লক্ষ্য হচ্ছে, উন্নত এআই ব্যবস্থায় শনাক্ত হওয়া সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতাগুলো দ্রুত শনাক্ত করা, তথ্য বিনিময় করা এবং সমন্বিতভাবে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার না করলে ভবিষ্যতে সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতেই আরও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পরীক্ষায় নকলের সন্দেহে মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লিগভুক্ত ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কোর্সে গড় নম্বর ৯৬ শতাংশ থেকে নেমে ৪৮.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে ১৮ জন শিক্ষার্থী কোর্স থেকে নাম প্রত্যাহার করেন এবং প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। ঘটনাটি উচ্চশিক্ষায় এআই ব্যবহারের নৈতিকতা এবং একাডেমিক সততা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনসাইড হায়ার এড-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রবার্তো সেরানো চলতি বসন্ত সেমিস্টারে ‘ওয়েলফেয়ার ইকোনমিক্স অ্যান্ড সোশ্যাল চয়েস থিওরি’ কোর্সে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো টেক-হোম মিডটার্ম পরীক্ষা নেন। পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর তিনি লক্ষ্য করেন, শিক্ষার্থীদের অনেক উত্তরপত্রে একই ধরনের ভাষা, গাণিতিক বিশ্লেষণ এবং প্রমাণ উপস্থাপনের ধরণ দেখা যাচ্ছে। তার সন্দেহ হয়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে উত্তর তৈরি করেছে। যদিও এ অভিযোগে কোনো শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে দোষী ঘোষণা করা হয়নি। এরপর অধ্যাপক সেরানো সিদ্ধান্ত নেন, চূড়ান্ত পরীক্ষা (ফাইনাল) হবে সম্পূর্ণ ইন-পার্সন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের জানান, মিডটার্ম ও ফাইনালের ফলাফলের মধ্যে বড় ধরনের অমিল দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে। এই ঘোষণার পর ১৮ জন শিক্ষার্থী কোর্স থেকে নাম প্রত্যাহার করেন। যারা ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেন, তাদের গড় নম্বর নেমে আসে ৪৮.৬ শতাংশে, যা ওই কোর্সের ইতিহাসে সর্বনিম্ন বলে দাবি করেন অধ্যাপক সেরানো। একই সঙ্গে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করতে ব্যর্থ হন। ঘটনার পর অধ্যাপক সেরানো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, সম্ভাব্য প্রতিটি একাডেমিক অসদাচরণের অভিযোগ আলাদাভাবে জমা দিতে বলা হয়েছে, যা এত বড় সংখ্যক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে একজন শিক্ষকের জন্য অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। অন্যদিকে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, একাডেমিক অসদাচরণের প্রতিটি অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী পৃথকভাবে তদন্ত করা হয় এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনারেটিভ এআই দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ইন-পার্সন পরীক্ষা, মৌখিক মূল্যায়ন, প্রকল্পভিত্তিক পরীক্ষা এবং এআই ব্যবহারের সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনাও দেখিয়ে দিয়েছে, এআই-নির্ভর যুগে একাডেমিক সততা রক্ষায় প্রচলিত মূল্যায়ন পদ্ধতি নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনে গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে কর্মী ছাঁটাই অব্যাহত রয়েছে। ২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া পুনর্গঠন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ৫৭ হাজারের বেশি করপোরেট কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। এর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতেই প্রায় ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, শুধু চাকরি হারানো কর্মীরাই নন, প্রতিষ্ঠানে থেকে যাওয়া কর্মীরাও এখন বাড়তি কাজের চাপ, মানসিক ক্লান্তি এবং অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য নেক্সট ওয়েব (টিএনডব্লিউ)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে আগের সমপরিমাণ কাজ এখন কমসংখ্যক কর্মীকে সামলাতে হচ্ছে। অনেক কর্মী একাধিক দলের দায়িত্ব পালন করছেন, ফলে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ বেড়েছে। অনেকের মতে, চাকরি টিকে থাকলেও কাজের পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠান—মেটা, মাইক্রোসফট, সিসকো ও ওরাকল—এছাড়াও হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। ফলে প্রযুক্তি খাতে নতুন চাকরির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে এবং প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগে যেখানে একজন প্রযুক্তি পেশাজীবীর নতুন চাকরি পেতে গড়ে চার মাস সময় লাগত, এখন অনেকের ক্ষেত্রে সেই সময় বেড়ে ১৮ মাস পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতে নিয়োগের ধীরগতি এবং ব্যাপক ছাঁটাইয়ের কারণে অভিজ্ঞ পেশাজীবীরাও দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে বেতন, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও। অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি জ্যাসি এর আগে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানকে আরও দক্ষ, দ্রুতগতির এবং কম প্রশাসনিক স্তরবিশিষ্ট করতে পুনর্গঠন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগের ফলে অনেক ক্ষেত্রে কর্মীসংখ্যা পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে কিছু ধরনের করপোরেট চাকরির চাহিদা আরও কমতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যামাজনের এই পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়; বরং পুরো প্রযুক্তি শিল্পের পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। মহামারির সময় দ্রুত সম্প্রসারণের পর এখন অধিকাংশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এআই-নির্ভর কার্যক্রমে জোর দিচ্ছে। এর ফলে একদিকে কর্মী ছাঁটাই অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে যারা চাকরিতে রয়েছেন তাদের ওপরও বাড়ছে কাজের চাপ ও কর্মদক্ষতার প্রত্যাশা। শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরে প্রযুক্তি খাতের চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে। তাই বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাকরিপ্রার্থীদের নতুন প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডেটা-সংশ্লিষ্ট দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
ভারতের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে কার্যক্রম জোরদার করতে সর্বোচ্চ ৮,৯০০ জন বিশেষজ্ঞের একটি দল গঠনের পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে এআই, ডেটা সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা খাতে নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে কোম্পানিটি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টিসিএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে. কৃতিভাসন বলেন, ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীর ১ থেকে ১.৫ শতাংশকে ‘ফরওয়ার্ড-ডিপ্লয়েড ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। জুন মাসের শেষে প্রতিষ্ঠানের কর্মীসংখ্যার ভিত্তিতে এ সংখ্যা প্রায় ৫,৯০০ থেকে ৮,৯০০ জন হতে পারে। এই প্রকৌশলীরা সরাসরি গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে তাদের ব্যবসায়িক চাহিদা অনুযায়ী এআই প্রযুক্তি বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির সমন্বয় করবেন। টিসিএসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা সমীর সেকসারিয়া জানান, দীর্ঘদিন নিজস্ব সক্ষমতার ওপর নির্ভর করলেও এখন কোম্পানিটি কৌশলগতভাবে এআই, ডেটা সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা খাতে অধিগ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনা করছে। কৃতিভাসনের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আইটি আউটসোর্সিং শিল্পের জন্য হুমকি নয়; বরং এটি নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এআই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য অভিজ্ঞ প্রযুক্তি অংশীদারের প্রয়োজন হবে, আর সেখানেই টিসিএস নিজেদের শক্ত অবস্থানে দেখতে চায়। জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে ভারতের প্রায় ৩১৫ বিলিয়ন ডলারের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারীর আশঙ্কা, এআইয়ের কারণে প্রকৌশলীর চাহিদা কমে যেতে পারে। তবে টিসিএসসহ ভারতের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে, এআই বরং নতুন ধরনের দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তি সেবার চাহিদা সৃষ্টি করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণের চাহিদা। আর সেই চাহিদা পূরণে এবার দেশটির বিভিন্ন আদিবাসী ভূমিকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করছে একাধিক প্রযুক্তি কোম্পানি। এতে কিছু উপজাতি অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ দেখলেও, অন্যরা পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের ওকলাহোমা সিটি থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত ক্যাডো নেশন সম্প্রদায়ের নেতৃত্বের একটি অংশ মনে করছে, ডেটা সেন্টার প্রকল্প তাদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হতে পারে। ২০১৭ সালে উপজাতিটির ক্যাসিনো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে তাদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হারিয়ে যায়। এরপর থেকেই কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আয়ের নতুন পথ খুঁজছে সম্প্রদায়টি। ক্যাডো নেশনের চেয়ারম্যান ববি গঞ্জালেজ বলেন, তাদের সম্প্রদায় দরিদ্র নয়, তবে অর্থনৈতিকভাবে চরম সংকটে রয়েছে। তার মতে, ডেটা সেন্টার নির্মাণ নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং উপজাতির আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে একই সম্প্রদায়ের সবাই এই উদ্যোগকে সমর্থন করছেন না। ওকলাহোমার বিঙ্গার শহরে ক্যাডো সম্প্রদায়ের সাবেক কাউন্সিল সদস্য ট্রেসি নিউকুমেট বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াও জীবনযাপন করা সম্ভব, কিন্তু পানির বিকল্প নেই। তার আশঙ্কা, ডেটা সেন্টার পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহারের কারণে ভবিষ্যতে স্থানীয় জলসম্পদের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ডেটা সেন্টারগুলো সার্বক্ষণিক চালু রাখতে উচ্চক্ষমতার সার্ভার ঠান্ডা রাখার জন্য বিপুল পরিমাণ পানি ও বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ইতোমধ্যে এসব প্রকল্পকে কেন্দ্র করে পানি ব্যবহার, বিদ্যুৎ সরবরাহ, শব্দদূষণ এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও জানিয়েছেন। আদিবাসী ভূমিকে ঘিরে এই বিতর্ক আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বহুবার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি ও সম্পদ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। ফলে নতুন প্রকল্পগুলো নিয়েও অনেকের মধ্যে সতর্কতা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল কংগ্রেস অব আমেরিকান ইন্ডিয়ানস (এনসিএআই) এই খাতে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি হোয়াইট হাউসে জমা দেওয়া এক মতামতে বলেছে, উপজাতীয় ভূমি বিস্তৃত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং সেখানে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে এসব অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণ পরিকল্পনার পর প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ আরও বেড়েছে। তবে আদিবাসী নেতারা জোর দিয়ে বলছেন, যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মতি, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এআই প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হলেও, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার প্রশ্নও সমান গুরুত্ব নিয়ে সামনে এসেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি যে নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবকদের জন্য অভাবনীয় সব সুযোগ তৈরি করছে, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মানা জাম্পালা। কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বাসিন্দা এই কিশোরীর বয়স মাত্র ১২ বছর। আর এই বয়সেই সে 'ভোক্সা' (Voxa) নামের একটি এআই-চালিত রিসেপশনিস্ট বা স্বয়ংক্রিয় অভ্যর্থনাকারী সিস্টেম তৈরি করে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে। মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে গ্রাহক সেবায় সহায়তা করার অভিনব এক লক্ষ্য নিয়েই প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করেছে খুদে এই উদ্যোক্তা। গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে 'ভোক্সা' বাজারে আনে মানা জাম্পালা। ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় লোকবলের অভাবে বা কাজের চাপে সব গ্রাহকের ফোন কল রিসিভ করতে পারে না, যার ফলে সম্ভাব্য ক্রেতা বা ক্লায়েন্ট হারানোর প্রবল ঝুঁকি থাকে। মানার তৈরি এই আধুনিক এআই রিসেপশনিস্ট ঠিক সেই সমস্যারই সমাধান নিয়ে এসেছে। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ভুলতার সাথে গ্রাহকদের ফোন কল গ্রহণ করতে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান করতে সক্ষম। এর ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানেরই আর নতুন কোনো গ্রাহক হারানোর ভয় থাকবে না। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মানা জানায়, এমন একটি দরকারি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পেছনের অনুপ্রেরণা সে পেয়েছিল তার বাবার কর্মস্থল থেকে। বাবার অফিসে সময় কাটানোর সময়ই সে প্রথম লক্ষ্য করে যে, কীভাবে ছোট ব্যবসাগুলো প্রতিদিন গ্রাহকদের কল সামলাতে গিয়ে হিমশিম খায়। সেখান থেকেই তার মাথায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি স্মার্ট ও সাশ্রয়ী রিসেপশনিস্ট তৈরির আইডিয়া আসে। মাত্র ১২ বছর বয়সেই এমন একটি বাস্তবমুখী ও কার্যকরী প্রযুক্তি তৈরি করে মানা প্রমাণ করেছে যে, মেধা ও উদ্ভাবনী চিন্তার কাছে বয়স কোনো বাধাই নয়।
১৭ বছর বয়সী মার্কিন স্কুলছাত্র এডওয়ার্ড ক্যাং 'রেটিনামাইন্ড' (RetinaMind) নামের একটি অভিনব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টুল উদ্ভাবন করেছেন, যা কেবল চোখের রেটিনা স্ক্যান করেই অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এএসডি) এবং অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (এডিএইচডি) শনাক্ত করতে সক্ষম। নিউজার্সির বার্গেন কাউন্টি অ্যাকাডেমির এই শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে কোডিং শিখে এই ডিপ-লার্নিং কনভোল্যুশনাল নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন। হংকংয়ের একটি গবেষণায় চোখের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মস্তিষ্কের বিকাশের যোগসূত্র আবিষ্কারের বিষয়টি মূলত তাকে এই কাজে অনুপ্রাণিত করেছিল। মানুষের সাধারণ দৃষ্টিতে রেটিনার ম্যাকুলা এবং নার্ভ স্তরের দৈর্ঘ্য, পুরুত্ব ও গভীরতার যে সূক্ষ্ম ও জটিল পার্থক্যগুলো ধরা পড়ে না, রেটিনামাইন্ড টুলটি সেটিই নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতে পারে। একাধিক প্রেডিকটিভ মডেলের সমন্বয়ে তৈরি এই সিস্টেমটি রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রায় ৮৯ থেকে ৯০ শতাংশ নির্ভুল ফলাফল দিতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতে অটিজম ও এডিএইচডি শনাক্তকরণে একটি যুগান্তকারী, ব্যথামুক্ত এবং অত্যন্ত সাশ্রয়ী স্ক্রিনিং পদ্ধতি হয়ে উঠতে পারে। অটিজম এবং এডিএইচডির ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তরে রোগ নির্ণয় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রচলিত আচরণগত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল এবং এতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। নিজের এই গবেষণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি মজবুত করতে এডওয়ার্ড ক্যাং রেটিনার বিকাশ এবং স্নায়বিক ভিন্নতার জেনেটিক যোগসূত্র নিয়েও কাজ করেছেন। সেখানে তিনি রেটিনার কোষে পার্থক্যের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে 'এবিসিএ৪' (ABCA4) জিনকে চিহ্নিত করেন। এই যুগান্তকারী গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ 'রিজেনেরন সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চ' প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলার পুরস্কার জিতেছেন এই কিশোর। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন যে রেটিনার এই সূক্ষ্ম কাঠামোগত পার্থক্য অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। তবে ক্যাংয়ের এই এআই মডেলটি প্রমাণ করেছে যে, প্রযুক্তির সহায়তায় লুকানো বায়োমার্কারগুলো খুঁজে বের করে আগামী দিনে আরও দ্রুত, নিখুঁত ও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি শুরু করা সম্ভব।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণে ব্যবহৃত মূল্যবান সরঞ্জাম ও তামার তার চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সম্প্রতি ১৩ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের ডেটা সেন্টার অবকাঠামো সরঞ্জাম ও তামার তার বহনকারী দুটি ট্রেলার চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কুক কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগোর একটি ট্রাক ইয়ার্ড থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি চুরি হওয়া ট্রাকের সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি ট্রেলারে প্রায় তিন লাখ ডলার মূল্যের তামার তার ছিল, যা আলাবামা থেকে চুরি করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা ট্রাকটির বিল্ট-ইন ট্র্যাকিং ডিভাইসের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখতে পান, ট্রেলারটি অক্ষত থাকলেও ট্রাকে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নম্বরপ্লেট লাগানো ছিল। পরে তদন্তে জানা যায়, ওই নম্বরপ্লেটও উইসকনসিন থেকে চুরি করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, অপরাধীরা প্রথমে আলাবামা থেকে ট্রাকটি চুরি করে। এরপর পরিচয় গোপন করতে চুরি করা নম্বরপ্লেট লাগিয়ে সেটি ইলিনয়ে নিয়ে আসে। ট্রাক ইয়ার্ডের মালিক তদন্তকারীদের জানান, যে ব্যক্তি চুরি হওয়া ট্রাকটি সেখানে রেখে গিয়েছিল, সে এক সপ্তাহ আগেও আরেকটি ট্রাক একই স্থানে এনে রেখেছিল। পরে ওই দ্বিতীয় ট্রাকটির মালিক জানান, তার ট্রেলারটি ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিল থেকে চুরি হয়েছিল। এতে প্রায় ১০ লাখ ডলারের ডেটা সেন্টার অবকাঠামো সরঞ্জাম ছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ডেটা সেন্টারে সরবরাহ করার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই ট্রেলারের বর্তমান অবস্থান প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে ছয় মাসব্যাপী এক অনুসন্ধানে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র এখন সরবরাহ ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে মূল্যবান পণ্য চুরি করছে। তারা 'স্ট্র্যাটেজিক থেফট' নামে পরিচিত একটি কৌশল ব্যবহার করে ট্রাক পরিবহন প্রতিষ্ঠান, ব্রোকার বা ক্যারিয়ারদের প্রতারণার মাধ্যমে পণ্য কিংবা অর্থ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। কার্গো চুরি প্রতিরোধবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক কার্গোনেটের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর উত্তর আমেরিকায় প্রায় ৭২ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য চুরি হয়েছে। এসব চুরির বড় অংশই ছিল তামাসহ বিভিন্ন ধাতু এবং এন্টারপ্রাইজ কম্পিউটিং হার্ডওয়্যার। প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে ডেটা সেন্টারের কম্পিউটিং সরঞ্জাম এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং যন্ত্রপাতি। উচ্চ বাজারমূল্য ও বাড়তি চাহিদার কারণে এসব পণ্য চোরচক্রের কাছে ক্রমেই বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন ও রোবোটিক প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার বিশ্বজুড়ে শ্রমবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে কর্মসংস্থানের ধরন বদলে যাচ্ছে, আর বহু প্রচলিত পেশা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা বলছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বে কোটি কোটি চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। বাংলাদেশও এ পরিবর্তনের বাইরে থাকছে না। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও অটোমেশনের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে। তবে একই সময়ে নতুন কর্মক্ষেত্রও তৈরি হবে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে পুনরাবৃত্তিমূলক বা রুটিনভিত্তিক কাজগুলো। বিশ্বব্যাংকের ‘সাউথ এশিয়া ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রায় ৭ শতাংশ চাকরি সরাসরি এআইয়ের কারণে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১৫ শতাংশ চাকরিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। ডব্লিউইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ক্যাশিয়ার, বাস, ট্রেন ও বিমানের টিকিট বিক্রেতা, ডাটা এন্ট্রি কর্মী, প্রশাসনিক সহকারী, নির্বাহী সচিব, ব্যাংকের কাউন্টার কর্মকর্তা এবং ডাক বিভাগের কর্মীদের মতো পেশা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিজিটালাইজেশন, জেনারেটিভ এআই এবং রোবোটিক অটোমেশন দ্রুত এসব কাজের জায়গা দখল করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চালকবিহীন যানবাহন প্রযুক্তির উন্নয়নও পরিবহন খাতের কিছু চাকরিকে ভবিষ্যতের ঝুঁকির তালিকায় যুক্ত করেছে। যদিও বাংলাদেশসহ অনেক দেশ এখনো এ প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু করেনি। গবেষণায় বলা হয়েছে, কেরানি ও অফিস সহকারী ধরনের চাকরিগুলো আগামী বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে। কারণ এসব কাজের বড় অংশই তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, নথি ব্যবস্থাপনা এবং নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণভিত্তিক। এ ধরনের কাজ এআই তুলনামূলক সহজেই সম্পন্ন করতে পারে। বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো এসব কাজ হাতে-কলমে করা হয়। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, একজন কর্মী যেখানে কয়েক ঘণ্টা সময় নিয়ে একটি কাজ সম্পন্ন করেন, সেখানে আধুনিক এআইভিত্তিক সফটওয়্যার একই কাজ অনেক কম সময়ে করতে সক্ষম। গণমাধ্যম খাতেও প্রযুক্তির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বর্তমানে এআই ব্যবহার করে দ্রুত সংবাদ সারাংশ তৈরি, অনুবাদ এবং তথ্য বিশ্লেষণের কাজ করা হচ্ছে। ফলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিনির্ভর সংবাদ, সাধারণ অনুবাদ বা নিয়মিত কনটেন্ট তৈরির কাজে নিয়োজিত কর্মীদের ওপর চাপ বাড়তে পারে। তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, মাঠপর্যায়ের রিপোর্টিং এবং তথ্য যাচাইয়ের মতো দক্ষতাভিত্তিক কাজের চাহিদা বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনজি অ্যান্ড কোম্পানির ‘জেনারেটিভ এআই অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব ওয়ার্ক ইন আমেরিকা’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, জেনারেটিভ এআই অফিসভিত্তিক বহু চাকরির কাঠামো বদলে দেবে। বিশেষ করে গ্রাহকসেবা, অ্যাকাউন্টিং সহায়তা, বেতন প্রক্রিয়াকরণ, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সহায়তাসংক্রান্ত কাজ দ্রুত অটোমেটেড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ম্যাককিনজির গবেষণায় বলা হয়েছে, সব চাকরি হারিয়ে যাবে এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে কাজের ধরন বদলে যাবে। যেসব পেশায় মানবিক যোগাযোগ, সৃজনশীলতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে মানুষের চাহিদা বজায় থাকবে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ব্যবস্থাপনা এবং সৃজনশীল খাতকে তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষণাতেও একই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে। ‘দ্য ফিউচার অব অফিস অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সাপোর্ট অকুপেশনস ইন দ্য এরা অব এআই’ শীর্ষক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে ২০২৯ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ লাখ অফিস সহকারীর চাকরি কমে যেতে পারে। গবেষকরা জানিয়েছেন, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে ডকুমেন্টেশন, সময়সূচি নির্ধারণ, প্রতিবেদন তৈরি এবং গ্রাহক ব্যবস্থাপনার কাজে এআইভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু করেছে। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। ‘এআই ইমপ্যাক্ট অন লেবার ফোর্স অ্যান্ড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারস’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, এআই-সহায়ক কোডিং টুল এবং স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার তৈরির প্রযুক্তি সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে শুধু কোডিং দক্ষতা যথেষ্ট হবে না। জটিল সমস্যা সমাধান, সিস্টেম ডিজাইন, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি এবং মানবিক দক্ষতার গুরুত্ব আরও বাড়বে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং, কলসেন্টার, পোশাকশিল্প ব্যবস্থাপনা, গণমাধ্যম এবং সরকারি অফিসগুলোতেও ধীরে ধীরে অটোমেশন ও এআইভিত্তিক সফটওয়্যারের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে কম দক্ষতাভিত্তিক অফিস চাকরিগুলো ভবিষ্যতে চাপের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিবর্তনকে আতঙ্কের চোখে না দেখে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। ইতিহাস বলছে, প্রতিটি প্রযুক্তিগত বিপ্লব কিছু কর্মসংস্থান কমালেও নতুন ধরনের পেশা ও কাজের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে কর্মীদের খাপ খাইয়ে নেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে থাকলেও দেশটির শেয়ারবাজারে চাপ বাড়ছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয় এবং উন্নত ভোক্তা আস্থার মতো ইতিবাচক অর্থনৈতিক সূচক অর্থনীতিকে সহায়তা করলেও প্রযুক্তি খাতের শেয়ারদর পতন, সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের ঝুঁকি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। জুন মাসে স্পেসএক্সের রেকর্ড গড়া প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার (আইপিও) প্রস্তুতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন প্রধান কেভিন ওয়ার্শের প্রথম নীতিনির্ধারণী বৈঠকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মধ্যেও শেয়ারবাজারে বৈপরীত্য দেখা গেছে। একদিকে ইতিবাচক অর্থনৈতিক তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা তুলে ধরেছে। অন্যদিকে একই সময়ে নাসডাক ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক নিম্নমুখী ছিল। বাজারের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারও একটি সূচক অনুযায়ী ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। এদিকে তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের দাম বেড়েছে এবং ফলন কমেছে। ফিলাডেলফিয়াভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান জ্যানি মন্টগোমারি স্কটের প্রধান স্থির-আয় কৌশলবিদ গাই লে বাস বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লেও ভোক্তারা জ্বালানিবহির্ভূত পণ্য ও সেবায় ব্যয় অব্যাহত রেখেছেন। তার মতে, এটি প্রমাণ করে যে বছরের শুরুতে ধারণার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি অনেক বেশি স্থিতিশীল, সহনশীল এবং শক্তিশালী। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আরও বাড়তে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করা প্রকৃত সুদের হার বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীরা নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। ফেডপ্রধান কেভিন ওয়ার্শের কঠোর অবস্থানের পর বাজারে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। যদিও অনেক বিশ্লেষকের মতে, আর্থিক পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই কঠোর হয়ে যাওয়ায় বাস্তবে আর সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে। এদিকে স্বর্ণ, বিটকয়েন, মাইক্রোসফট ও মেটার মতো বিভিন্ন সম্পদের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ওয়াল স্ট্রিটে নতুন শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রি রেকর্ড গতিতে চলছে। এর বড় অংশই ব্যবহৃত হচ্ছে এআই খাতে বিনিয়োগে। যদিও অনেক বিনিয়োগকারী এ খাতে অতিমূল্যায়নের ঝুঁকির কথা বলছেন, তবুও বিনিয়োগের গতি এখনো কমেনি। গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষক কামাক্ষ্য ত্রিবেদী বলেন, যুদ্ধের আশঙ্কা কমে যাওয়া এবং তেলের দাম হ্রাস পাওয়ায় বাজার আবার অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তির দিকে নজর দিচ্ছে। তবে এই ইতিবাচক পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই শেয়ারের উচ্চ মূল্যায়নে প্রতিফলিত হয়েছে। তার মতে, এআই খাতেই সবচেয়ে বেশি টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে এবং এটিই বর্তমানে বাজারের অস্থিরতার অন্যতম কারণ। বাজারের অস্থিরতার বড় একটি কারণ হলো বিনিয়োগকারীদের দ্রুত এক খাত থেকে অন্য খাতে বিনিয়োগ স্থানান্তর। মার্চের শেষ দিকে যুদ্ধসংক্রান্ত উদ্বেগ কমে যাওয়ার পর থেকে সেমিকন্ডাক্টর সূচক ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। চলতি বছরে সূচকটির মূল্য বেড়েছে ৮৭ শতাংশ। একই সময়ে মাইক্রনের শেয়ার চার গুণ এবং ইন্টেল ও মার্ভেল টেকনোলজির শেয়ার প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। অন্যদিকে এনভিডিয়া, অ্যাপল ও অ্যালফাবেটের নেতৃত্বাধীন ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ গ্রুপ চলতি বছরে নিম্নমুখী রয়েছে। অথচ ২০২৫ সালে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের মোট প্রবৃদ্ধির প্রায় ৪০ শতাংশ এসেছিল এই সাত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধি ও লভ্যাংশ থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই অবকাঠামো নির্মাণে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিপুল ব্যয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। গত বছরের শেষ দিকে ওরাকলসহ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান ব্যাপক ঋণ নেওয়া শুরু করার পর এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গত ১২ মাসে অ্যামাজন ও অ্যালফাবেট বিভিন্ন মুদ্রায় প্রায় ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বন্ড ইস্যু করেছে। এআই অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ-যোগ্য বন্ড বিক্রির পরিমাণ ইতোমধ্যেই ২০২৫ সালের মোট বিক্রির পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে। বিএনপি পারিবাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর এই সংখ্যা ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ওকলাহোমাভিত্তিক লংবো অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেক ডলারহাইড বলেন, এআই প্রযুক্তি চিপ নির্মাতাদের জন্য ইতিবাচক হলেও যেসব প্রতিষ্ঠান এই প্রযুক্তিতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করছে, তারা এখনো প্রত্যাশিত আর্থিক সুফল পাচ্ছে না। এ কারণেই চলতি বছরে ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেনের শেয়ারদর চাপে রয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারীর আশঙ্কা, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর আরও কমতে পারে। গত সপ্তাহে ইউবিএস তাদের এআইভিত্তিক বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে সেমিকন্ডাক্টর ও হার্ডওয়্যার খাতে বিনিয়োগ কমিয়েছে। তাদের ধারণা, শেয়ারদর কমে যাওয়ায় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে এআই অবকাঠামোয় মূলধনি ব্যয় কমাতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এমনটি হলে এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। কারণ, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ অত্যন্ত বড়। গাই লে বাস বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি করপোরেট বিনিয়োগ। সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী কয়েক বছরে ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূলধনি ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। তাই এই বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তবে তার মতে, মূলধনি ব্যয় কমে যাবে বলে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার একাধিকবার ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে।
২০ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রযুক্তি বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ভারতের তরুণ উদ্যোক্তা ধ্রব্য শাহ। ১৫টিরও বেশি উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক প্রকল্প তৈরি, দুটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিক্রি, একক প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নিজের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উদ্যোগের জন্য ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ O-1 ভিসা অর্জনের মাধ্যমে তিনি ব্যতিক্রমী সাফল্যের নজির গড়েছেন। বর্তমানে ধ্রব্য শাহর প্রতিষ্ঠান এমন একটি স্মৃতি অবকাঠামো তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারীগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষণ করে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে সহায়তা করবে। ধ্রব্য শাহর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরবর্তী বড় অগ্রগতি আরও শক্তিশালী ভাষা মডেল তৈরিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার স্মৃতিশক্তি এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য বোঝার সক্ষমতা বাড়ানোই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধ্রব্য শাহর প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন প্রযুক্তি বিশ্বের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাদের মধ্যে রয়েছেন ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ প্রিন্সের সহযোগী কেনেখট, গুগল এআইয়ের প্রধান জেফ ডিন এবং ওপেনএআই, মেটা ও গুগলের একাধিক শীর্ষ নির্বাহী। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ O-1 ভিসা অর্জন করেছেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, শিল্প ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ এই ভিসা প্রদান করা হয়। বিশ্বমানের বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা ও শিল্পীদের জন্য নির্ধারিত এই ভিসা পাওয়া সবচেয়ে কম বয়সী ভারতীয়দের একজন ধ্রব্য শাহ। ‘সোলো ফাউন্ডার্স’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ধ্রব্য শাহ বলেন, উদ্যোক্তা হওয়ার কোনো পূর্বপরিকল্পনা তার ছিল না। কৌতূহল থেকেই তিনি একের পর এক সফটওয়্যার প্রকল্প তৈরি করতে শুরু করেন। তিনি জানান, প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তে বাস্তব সমস্যার সমাধান তৈরির দিকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্যোগ গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করেছে। ধ্রব্য শাহর বিশ্বাস, ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি ব্যবহারকারীর পূর্বের তথ্য, অভ্যাস এবং প্রয়োজন মনে রেখে আরও ব্যক্তিগত ও কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম হবে। তার ভাষায়, আগামী প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারীর জন্য স্মৃতি এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য ধারণের সক্ষমতাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এই লক্ষ্য নিয়েই তার প্রতিষ্ঠান এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদি তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহারের সক্ষমতা দেবে। ২০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ধ্রব্য শাহর অর্জনের তালিকায় রয়েছে ১৫টির বেশি উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক প্রযুক্তি প্রকল্প তৈরি, দুটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সফলভাবে বিক্রি, একক প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উদ্যোগের জন্য ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ, যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ O-1 ভিসা অর্জন এবং বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সমর্থন ও বিনিয়োগ লাভ। প্রযুক্তি খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, ধ্রব্য শাহর এই যাত্রা প্রমাণ করে, উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা থাকলে প্রচলিত শিক্ষাপথের বাইরেও অল্প বয়সে বৈশ্বিক প্রযুক্তি অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।
বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বা টেক জায়ান্টগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির পেছনে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করলেও এখন তারা চরম গ্রাহক সংকটে ভুগছে। চলতি সপ্তাহে প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বাজারে বড় ধরনের পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মার্কিন পুঁজিবাজার নাসডাক কম্পোজিট ইনডেক্স চলতি সপ্তাহে প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। এর মূল কারণ ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের মনে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, এআই প্রযুক্তির পেছনে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করা হচ্ছে, তা শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব বা মুনাফা এনে দিতে পারবে কি না। গোল্ডম্যান স্যাক্স-এর হিসাব অনুযায়ী, এআই প্রযুক্তির বিকাশ ও পরিচালনার জন্য হাজার হাজার নতুন ডেটা সেন্টার তৈরি করতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ২০৩১ সালের মধ্যে প্রায় ৭.৬ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ভিন্ন কথা বলছে। টেক জায়ান্টগুলো বিপুল ঋণ নিয়ে এই বিশাল অবকাঠামো তৈরি করলেও, সাধারণ গ্রাহক বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এই এআই সেবার জন্য বাড়তি টাকা দিতে আদৌ রাজি কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে। স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এআই নাও’-এর সহযোগী পরিচালক কেট ব্রেনান সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, অ্যালফাবেট, অ্যামাজন, মেটা, মাইক্রোসফট এবং ওরাকলের মতো বড় কোম্পানিগুলো অবকাঠামো নির্মাণের জন্য যেভাবে ঋণ বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এআই থেকে কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন বা মুনাফা এখনও আসছে না এবং এর মাধ্যমে কর্মদক্ষতা বা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির যে বড় বড় দাবি করা হচ্ছে, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। পিউ রিসার্চ-এর এক সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, আমেরিকার সাধারণ মানুষ এআই ব্যবহার করলেও এর জন্য টাকা খরচ করতে পুরোপুরি নারাজ। জরিপে দেখা গেছে, ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মনে করেন এই প্রযুক্তি আগামী দুই দশকে সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যেখানে মাত্র ১৬ শতাংশ মানুষ একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এর পাশাপাশি অনেক কোম্পানি কর্মী ছাঁটাই করে এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে। তবে প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনার-এর মে মাসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বদলে এআই এজেন্ট নিয়োগ করেছে, তারা শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগের সঠিক রিটার্ন পেতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে অ্যালফাবেট এবং চিপ প্রস্তুতকারক কোম্পানি এনভিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের ওপর ভর করে মার্কিন শেয়ার বাজার নতুন রেকর্ড গড়লেও, ওয়াল স্ট্রিট এখন বড় ধরনের ‘এআই বুদবুদ’ বা বাবল নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকের ‘ডটকম বাবলের’ সাথে তুলনা করছেন। ভ্যানগার্ড-এর গ্লোবাল হেড অব ক্যাপিটাল মার্কেট রিসার্চ কিয়ান ওয়াং এবং সিনিয়র গ্লোবাল ইকোনমিস্ট কেভিন খাং এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, এই এআই অর্থনীতিতে কিছু কোম্পানি হয়তো লাভবান হবে, কিন্তু অনেক কোম্পানির মূল ব্যবসাই অচল হয়ে পড়তে পারে। তাই আগামী দিনে বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের ওঠানামার মুখোমুখি হতে হবে। বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ এড ইয়ার্ডেনি এক নোটে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছেন, যদি শেষ পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল পণ্যের প্রকৃত গ্রাহক চাহিদা তৈরি না হয়, তবে এই পুরো এআই ইকোসিস্টেম বা বাণিজ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো বড় এআই ডেভেলপারদের বার্ষিক রাজস্ব পর্যালোচনা করে তাঁর দল একটি ‘ক্যাপেক্স পেব্যাক টেস্ট’ বা মূলধনী ব্যয় পরিশোধের পরীক্ষা চালিয়েছে। তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো, এআই খাতটি এখনও পুরোপুরি গ্রাহক রাজস্বের ওপর দাঁড়িয়ে নেই, তবে এটি সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভরও নয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতের রাজস্ব পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে, তবে তার জন্য এআই কম্পিউটিংয়ের দক্ষতা ও ব্যবহার বহুগুণ বাড়াতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিন দিন মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠছে—বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিবিদদের মুখে প্রতিনিয়ত এমনটাই শোনা যাচ্ছে। এমনকি প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিরাও দাবি করেছেন যে, ইতোমধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে গেছে এআই। তবে জাতিসংঘের নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে এআই-এর বুদ্ধিমত্তার আড়ালে এক ভয়াবহ আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মূলত মানুষের কাছ থেকেই সমাজ ও ইতিহাসের কিছু কুৎসিত পক্ষপাতিত্ব উত্তরাধিকারসূত্রে গ্রহণ করছে। জাতিসংঘের গবেষকেরা বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত ১৩৩টি এআই সিস্টেম নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করে দেখেছেন। এই গবেষণায় দেখা গেছে, এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৪৪ শতাংশ সিস্টেমে স্পষ্ট লিঙ্গবৈষম্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, এক-চতুর্থাংশের বেশি এআই সিস্টেমে একই সঙ্গে লিঙ্গবৈষম্য ও বর্ণবাদ বা জাতিগত বিদ্বেষ উভয়েরই উপস্থিতি দেখা গেছে। লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো (এলএলএম) বারবার নারীদের ঘরবাড়ি, পরিবার ও সন্তান লালন-পালনের গৎবাঁধা কাজের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং পুরুষদের ব্যবসা, নেতৃত্ব ও কর্মজীবনে সফলতার প্রতীক হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এআই সিস্টেমগুলো এমন সব উত্তর তৈরি করেছে, যেখানে নারীদের কেবল যৌনতার বস্তু কিংবা পুরুষের অধীনস্ত হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। জাতিসংঘের লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতাবিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, গবেষকরা যখন লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলোকে কোনও ব্যক্তির লিঙ্গ দিয়ে বাক্য শুরু করে তা সম্পন্ন করতে বলেছিলেন, তখন প্রতি পাঁচটি উত্তরের মধ্যে প্রায় একটি উত্তর চরম লিঙ্গবৈষম্যমূলক বা নারীবিদ্বেষী হিসেবে এসেছে। এমনকি কিছু উত্তর নারীদের স্বাধীন মানুষ না ভেবে সম্পত্তি বা বস্তু হিসেবেও বর্ণনা করেছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কোটি কোটি মানুষ ই-মেইল লেখা, প্রেজেন্টেশন তৈরি, কনটেন্ট তৈরি এবং দৈনন্দিন নানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজার কাজে যেহেতু দিন দিন এআইয়ের ব্যবহার বাড়াচ্ছেন, তাই এই বৈষম্যমূলক অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সমাজে বিদ্যমান অসমতাগুলো আরও বেশি সুদৃঢ় হচ্ছে। ইউএন উইমেন স্পষ্ট জানিয়েছে, এটি কোনো সফটওয়্যার বাগ বা যান্ত্রিক ত্রুটি নয়; বরং এআই মূলত ইন্টারনেট থেকে এসব কুসংস্কার শেখে। ইন্টারনেট জগতটি গত কয়েক দশকের নানা রকম গৎবাঁধা ধারণা ও বৈষম্যে ভরপুর থাকায় এআই শেষ পর্যন্ত মানুষের সেই পক্ষপাতগুলোকেই পুনরায় ফুটিয়ে তোলে। সংস্থাটির ডিজিটাল প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান জয়তমা বিক্রমনায়েকে বলেন, এআই模型গুলো মানুষের দ্বারা এবং মানুষকে নিয়ে লেখা বহু দশকের টেক্সট থেকে এসব পক্ষপাত শিখছে। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, নারীরা ইতোমধ্যে অনলাইনে অসম মাত্রায় হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন এবং এআইয়ের মাধ্যমে কিছু কিছু সহিংসতার রূপ তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া আরও সহজ হয়ে উঠছে। জরিপে অংশ নেওয়া নারী মানবাধিকার কর্মী, সমাজকর্মী ও নারী সাংবাদিকদের মধ্যে প্রায় প্রতি চারজনের একজন এআইয়ের সহায়তায় অনলাইন সহিংসতার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীদের মধ্যে ১২ শতাংশ বলেছেন, তাদের সম্মতি ছাড়াই ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার করা হয়েছে। অন্যদিকে6 শতাংশ বলেছেন, তাদের ডিপফেক বা বিকৃত ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই বৈষম্য দূর করতে ইউএন উইমেন এআই তৈরির প্রতিটি স্তর থেকে শুরু করে তা বাস্তবায়ন ও নীতি নির্ধারণের প্রতিটি ধাপে লিঙ্গ সমতা এবং নারী অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, বর্ণবাদী পক্ষপাতগুলো এভাবে চলতে থাকলে তা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কারগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে—বিশ্বজুড়ে চলমান এমন তীব্র উদ্বেগকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিলেন ই-commerce জায়ান্ট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। প্যারিসে আয়োজিত ইউরোপের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি মেলা ‘ভিভাটেক’-এ অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, এআই প্রযুক্তির কারণে মানুষের চাকরি হারানোর কোনো আশঙ্কা নেই, বরং এর ফলে ভবিষ্যতে বাজারে শ্রমের চাহিদা আরও বাড়বে। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকসহ অনেক প্রযুক্তিবিদ যখন তরুণদের কর্মসংস্থানে এআই-এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, তখন বেজোস সম্পূর্ণ ভিন্ন ও আশাবাদী এক চিত্র তুলে ধরলেন। নিজের নতুন এআই উদ্যোগ ‘প্রমিথিউস’ (যা উৎপাদন শিল্পকে গতিশীল করতে কাজ করছে) নিয়ে আলোচনাকালে বেজোস বলেন, "আমি জানি অনেক স্মার্ট মানুষ মনে করছেন এআই মানুষকে অপ্রয়োজনীয় করে তুলবে। আমি এই ভাবনার সঙ্গে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করি। আমার মনে হয়, এআই আসলে ভবিষ্যতে শ্রমের ঘাটতি তৈরি করবে এবং মানুষের কাজের নতুন নতুন সুযোগ উন্মোচন করবে।" তবে বেজোসের এই আশাবাদের বিপরীতে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের ‘ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস’। তারা সতর্ক করে বলেছে, সঠিক নীতিমালা না থাকলে এআই-এর কারণে কেবল বড় বড় কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররাই ধনী হবে, আর সাধারণ কর্মীরা চাকরি হারাবে। প্রযুক্তি সম্মেলনের মূল মঞ্চে বেজোস তার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ব্লু অরিজিন’ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাও শেয়ার করেন। চাঁদে স্থায়ী মানব বসতি গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "আমরা চাঁদে শুধু বেড়াতে যাচ্ছি না, সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য যাচ্ছি।" চাঁদের সম্পদ ও 'তড়িৎবিশ্লেষণ' প্রযুক্তি ব্যবহার করে রকেটের জ্বালানি তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। গত মে মাসে ফ্লোরিডায় ব্লু অরিজিনের মনুষ্যবিহীন ‘নিউ গ্লেন’ রকেটের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণকে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে স্বীকার করেন বেজোস। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটায় নিজেকে ভাগ্যবান দাবি করে তিনি জানান, চলতি বছর শেষের আগেই তারা পুনরায় রকেট উৎক্ষেপণে সক্ষম হবেন। মহাকাশ বাজারের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে বর্তমানে ইলন মাস্কের ‘স্পেসএক্স’-এর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় রয়েছে বেজোসের ব্লু অরিজিন। মেলাটিতে দর্শকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘ইউনিট্রি’ কোম্পানির তৈরি একটি হিউম্যানয়েড বা মানবসদৃশ রোবট। কোনো কথা বা রিমোট ছাড়াই, মাথায় একটি বিশেষ ‘ইইজি’ হেডব্যান্ড পরে মানুষ শুধুমাত্র নিজের মস্তিষ্কের তরঙ্গের সাহায্যে রোবটটিকে নিয়ন্ত্রণ করে দেখিয়েছে। এই প্রদর্শনী প্রমাণ করে যে, এআই এখন আর কেবল চ্যাটবটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বাস্তব পৃথিবীতে রোবটের রূপ নিয়ে মানুষের পাশাপাশি কাজ করতে প্রস্তুত হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি
বিশ্বখ্যাত ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বাজারে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে এক বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জনপ্রিয় এআই কোডিং সফটওয়্যার কারসরের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যানিস্ফিয়ারকে ৬০ বিলিয়ন ডলারে কিনে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে করপোরেট এআই প্রযুক্তির বাজারে স্পেসএক্সের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা। কয়েক দিন আগেই ইলন মাস্কের এই রকেট ও এআই কোম্পানিটি প্রথমবারের মতো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। নাসডাক শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং এটি বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হয়। এই ব্লকবাস্টার আইপিও অভিষেকের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় কারসর সফটওয়্যারটি কিনে নেওয়ার বড় চুক্তিটি সম্পন্ন করল স্পেসএক্স। মূলত গত এপ্রিল মাস থেকেই কোম্পানিটি কারসরকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য আলোচনা চালিয়ে আসছিল। স্পেসএক্স মূলত তাদের নিজস্ব এআই প্রযুক্তি এক্সএআই এবং এর চ্যাটবট গ্রককে আরও উন্নত করতে কারসরের এই কোডিং সক্ষমতাকে কাজে লাগাবে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক্সএআই-এর সাথে স্পেসএক্সের একীভূতকরণ হলেও এআই কোডিংয়ের বাজারে তারা প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। ৬০ বিলিয়ন ডলারের এই নতুন চুক্তিটি কারসরকে আরও বড় পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং বা ডেটা সেন্টারের ক্ষমতা সরবরাহ করবে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাক-বাজার লেনদেনেই স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কোম্পানিটির বাজার মূলধনের সাথে আরও প্রায় ২৪৭ বিলিয়ন ডলার যোগ হতে যাচ্ছে, যার ফলে এর মোট বাজার মূল্য দাঁড়াবে ২.৫৩ ট্রিলিয়ন ডলার। বর্তমানে স্পেসএক্সের প্রতিটি শেয়ার ২১১.২৭ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে, যা আইপিও চালুর মূল দাম ১৩৫ ডলারের চেয়ে প্রায় ৫৬ শতাংশ বেশি। এই ধারা বজায় থাকলে স্পেসএক্স শিগগিরই আমাজনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম কোম্পানিতে পরিণত হবে। ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো কারসরও সিলিকন ভ্যালির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্টার্টআপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোডিং করতে পারে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কারসর অত্যন্ত দ্রুত গতিতে তাদের ব্যবসা প্রসারিত করেছে। চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্সের সাথে শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটি বার্ষিক প্রায় ২.৬ বিলিয়ন ডলারের করপোরেট রাজস্ব আয় করছে। এর আগে কোম্পানিটি এনভিডিয়া ও গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিনিয়োগসহ ৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে নতুন তহবিল সংগ্রহের আলোচনা করছিল। আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যে এই চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে। স্পেসএক্সের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এক্স৬৭-এর সাথে কারসরের এই মার্জার বা একীভূতকরণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছে। রেগুলেটরি ফাইলিং বা প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র অনুযায়ী, কোনো বিশেষ কারণে এই চুক্তিটি বাতিল হলে স্পেসএক্স কারসরকে ১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে। এছাড়া সরকারি বা আইনি জটিলতার কারণে চুক্তি সফল না হলে অতিরিক্ত ৪ বিলিয়ন ডলার রেগুলেটরি ফি দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।