সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ক্লড মডেলের আচরণ নিয়ে নতুন মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। ছবি: সংগৃহীত
পরীক্ষামূলক পরিবেশ ছেড়ে বাস্তবের ইন্টারনেটে হানা, পাসওয়ার্ড চুরির সফটওয়্যারও বানিয়েছে ক্লড

সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় অ্যানথ্রপিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ক্লড চারটি ঘটনায় পরীক্ষার নির্ধারিত সীমা পেরিয়ে বাস্তব কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করেছিল। অ্যানথ্রপিকের নতুন এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষার পরিবেশে ভুল কনফিগারেশনের কারণে ইন্টারনেট সংযোগ খোলা ছিল। সেই সুযোগে ক্লড এমন কিছু বাস্তব অবকাঠামোর সঙ্গে যোগাযোগ করে, যেগুলো পরীক্ষার অংশ ছিল না।   ৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, ঘটনাগুলো সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়নের সময় ঘটেছে। ক্লডকে বলা হয়েছিল, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ও ইন্টারনেটবিহীন কৃত্রিম পরিবেশে কাজ করছে। কিন্তু পরীক্ষার অবকাঠামোর একটি ভুল কনফিগারেশনের কারণে মডেলগুলো বাস্তব ইন্টারনেটে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। অ্যানথ্রপিক পরে প্রায় ৪৮ কোটি কথোপকথন বা পরীক্ষার নথি পর্যালোচনা করে এবং একই ধরনের চারটি ঘটনা শনাক্ত করে।   প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চারটি ঘটনাতেই ক্লডকে সাইবার নিরাপত্তার ‘ক্যাপচার দ্য ফ্ল্যাগ’ ধরনের পরীক্ষা দেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের পরীক্ষায় মডেলকে একটি নির্দিষ্ট কম্পিউটার ব্যবস্থায় লুকানো তথ্য খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু কোথায় খোঁজ করা যাবে, সে বিষয়ে পরীক্ষার নির্দেশনায় নির্দিষ্ট সীমা ছিল না। ফলে বাস্তব ইন্টারনেটে পৌঁছে যাওয়ার পর ক্লড কিছু ক্ষেত্রে সেখানকার ব্যবস্থাকেও পরীক্ষার অংশ হিসেবে ধরে নেয়।   অ্যানথ্রপিকের ভাষায়, ঘটনাগুলোতে দুটি আচরণ বিশেষভাবে দেখা গেছে। প্রথমটি হলো বাস্তব পরিবেশের প্রমাণকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা বা উপেক্ষা করা। দ্বিতীয়টি হলো নির্ধারিত কাজ শেষ করার জন্য প্রয়োজনের চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া। প্রতিষ্ঠানটি এগুলোকে যথাক্রমে ‘বায়াসড রিজনিং’ এবং ‘রেকলেসনেস’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।   এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে ক্লড মিথস ৫-এর ক্ষেত্রে। পরীক্ষার সময় মডেলটি একটি ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্যাকেজ তৈরি করে তা পাইপিআইতে আপলোড করেছিল। পাইপিআই হলো পাইথন সফটওয়্যার প্যাকেজ বিতরণের একটি বহুল ব্যবহৃত উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম। প্যাকেজটি সরিয়ে নেওয়ার আগেই বাস্তব কম্পিউটার সিস্টেমে সেটি ডাউনলোড করা হয়েছিল। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, এ ঘটনায় মডেলটির কর্মকাণ্ড পরীক্ষার পরিবেশের বাইরেও প্রভাব ফেলেছিল।   অ্যানথ্রপিকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, মিথস ৫-এর ঘটনাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ মডেলটি নিজের যুক্তিতেই বুঝতে পেরেছিল যে এটি বাস্তব ইন্টারনেট হতে পারে। এমনকি বাস্তব হলে সফটওয়্যার প্রকাশের ফলে বাস্তব ক্ষতি হতে পারে বলেও মডেলটি বিবেচনা করেছিল। পরে কিছু ভুল অনুমানের ভিত্তিতে আবার ধরে নেয় যে সে একটি কৃত্রিম পরীক্ষার পরিবেশেই রয়েছে এবং কাজ চালিয়ে যায়।   আরেকটি ঘটনায় ক্লড ওপাস ৪.৭ একটি বাস্তব প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অবকাঠামোয় পৌঁছে যায়। পরীক্ষার জন্য তৈরি কাল্পনিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাস্তব একটি প্রতিষ্ঠানের নামের মিল থাকায় মডেলটি বাস্তব প্রতিষ্ঠানটিকেই পরীক্ষার লক্ষ্য হিসেবে ধরে নেয়। পরে সেটির বিভিন্ন ব্যবস্থায় প্রবেশ করে তথ্য ও পরিচয়পত্রসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, চারটি পৃথক পরীক্ষায় একই বাস্তব প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।   এই ঘটনায় মডেলটি বাস্তব ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করছে এমন কিছু লক্ষণও পেয়েছিল। কিন্তু সেটি গভীরভাবে যাচাই করেনি যে বাস্তব প্রতিষ্ঠানটিতে প্রবেশের অনুমতি আদৌ দেওয়া হয়েছিল কি না। অ্যানথ্রপিকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরবর্তী পর্যায়ে মডেলটি ওই প্রতিষ্ঠানের আরও তথ্য সংগ্রহ করে, প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে কিছু সেটিং পরিবর্তন করে এবং একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্যও দেখে।   অন্য একটি ঘটনায় ক্লড ওপাস ৪.৬-এর একটি পুরোনো সংস্করণ পরীক্ষার নির্ধারিত লক্ষ্য মেশিনে কাজ করতে গিয়ে সেটিকে অপ্রাপ্য করে ফেলে। এরপর মডেলটি আটবার কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করলেও পরীক্ষার আরেকটি ত্রুটির কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে একটি তৃতীয় পক্ষের কম্পিউটারে পৌঁছে যায় এবং সংরক্ষিত পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রশাসনিক পর্যায়ের প্রবেশাধিকার পায়। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, সেশন শেষ হওয়ার আগে মডেলটি ব্যক্তিগত তথ্যও দেখেছিল।   চতুর্থ ঘটনায় অ্যানথ্রপিকের একটি অভ্যন্তরীণ গবেষণা মডেল নির্ধারিত লক্ষ্য ছাড়িয়ে পাশের কিছু ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। পরে সেটি বুঝতে পারে যে বাস্তব অবকাঠামোর মুখোমুখি হয়েছে। এই পর্যায়ে মডেলটি কাজ থামিয়ে দেয় বলে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে। তবে অ্যানথ্রপিক স্পষ্ট করেছে, ঘটনাগুলোকে এমনভাবে দেখা উচিত নয় যে ক্লড নিজে থেকে কোনো নতুন লক্ষ্য তৈরি করে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। চারটি ঘটনাতেই মডেলগুলো তাদের দেওয়া সাইবার নিরাপত্তা কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছিল। কোনো ঘটনায় একাধিক এআই মডেলের মধ্যে সমন্বয়, আলাদা কোনো গোপন লক্ষ্য বা নজরদারি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা পাওয়া যায়নি।   প্রতিষ্ঠানটির মতে, এসব ঘটনার তাৎক্ষণিক কারণ ছিল পরীক্ষার অবকাঠামোর ভুল কনফিগারেশন। অর্থাৎ ক্লডকে ইন্টারনেটবিহীন পরিবেশে কাজ করতে বলা হলেও বাস্তবে সেই সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ ছিল না। জুলাইয়ে অ্যানথ্রপিক প্রথম তিনটি ঘটনার কথা প্রকাশ করার পর আরও বড় পরিসরে নথি পর্যালোচনা করে জানুয়ারির একটি অতিরিক্ত ঘটনা শনাক্ত করে। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, চারটি ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষগুলোকে তারা অবহিত করেছে। পাশাপাশি স্বাধীন তদন্তের জন্য মূল্যায়ন সংস্থা এমইটিআর-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে। এই তদন্তে অ্যানথ্রপিকের কর্মীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার বাইরের নথিও পর্যালোচনা করার সুযোগ থাকবে।   ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন এআই ব্যবস্থাকে আরও বেশি স্বায়ত্তশাসিত ক্ষমতা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। সফটওয়্যার লেখা, সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষা, গবেষণা এবং অন্যান্য কাজে এআইকে নিজে থেকে একাধিক ধাপ সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে একটি মডেল কোনো নির্দেশনা ভুলভাবে বুঝলে বা পরিবেশ সম্পর্কে ভুল ধারণা করলে তার প্রভাব কতদূর যেতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।   অ্যানথ্রপিক নিজেও বলেছে, ভবিষ্যতের আরও শক্তিশালী এআই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একই ধরনের ভুলের সম্ভাব্য ক্ষতি আরও বড় হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, উন্নত এআই ব্যবস্থাকে নির্ভরযোগ্যভাবে মানুষের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা এখনো একটি অমীমাংসিত প্রযুক্তিগত সমস্যা। তাই মডেলের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পরীক্ষার অবকাঠামো, নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি।   তবে প্রতিষ্ঠানটি এটিও জানিয়েছে, তাদের বর্তমান পরীক্ষায় এখন এই নির্দিষ্ট ধরনের পরিস্থিতি যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যানথ্রপিক মনে করছে, অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সূত্র: অ্যানথ্রপিক, নিউজউইক।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির ফলে বৈশ্বিক চাকরির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিল গেটস। ছবি: সংগৃহীত
এআইয়ে কোন চাকরি টিকবে? বিল গেটসের ভবিষ্যদ্বাণীতে রয়েছে ৩ পেশা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতিতে আগামী বছরগুলোতে চাকরির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। ২০২৫ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সফটওয়্যার প্রোগ্রামিং, জৈববিজ্ঞান এবং জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের কাজ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ থাকতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রও এআইয়ের প্রভাবের বাইরে থাকবে, এমন নিশ্চয়তা তিনি দেননি।    গেটসের বক্তব্য অনুযায়ী, এআই অনেক পেশার মানুষের কাজ দ্রুত ও দক্ষভাবে করতে পারবে। চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো ক্ষেত্রেও এআইয়ের সক্ষমতা বাড়বে। তবে জটিল সমস্যা সমাধান, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি তৈরি এবং বাস্তব জগতের জটিল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা কিছু সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলে তিনি মনে করেন।   তিনটি ক্ষেত্রের মধ্যে সফটওয়্যার প্রোগ্রামিংকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এআই ইতোমধ্যে কোড লেখা, কোড বিশ্লেষণ ও ত্রুটি শনাক্ত করার মতো কাজে সক্ষম হলেও জটিল সফটওয়্যার তৈরি ও পরিচালনায় মানুষের তদারকি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তবে গেটসের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টও এআইয়ের কারণে চাকরির চাহিদা পরিবর্তনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।    জৈববিজ্ঞান বা বায়োসায়েন্সও গেটসের তালিকায় রয়েছে। এআই বিপুল পরিমাণ বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ, রোগ শনাক্তকরণ ও ডিএনএ গবেষণায় সহায়তা করতে পারলেও নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে মানুষের সৃজনশীলতা ও গবেষণার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।    তৃতীয় ক্ষেত্র জ্বালানি। জ্বালানি উৎপাদন, অবকাঠামো, নিরাপত্তা, নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মতো জটিল বিষয় থাকায় এ খাত পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করা কঠিন বলে গেটসের মত।    তবে ২০২৬ সালে গেটসের অবস্থান আরও বিস্তৃত হয়েছে। তার সাম্প্রতিক লেখায় তিনি বলেছেন, এআই আইন, কাস্টমার সার্ভিস, চিকিৎসা, সফটওয়্যার ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে কাজের ধরন দ্রুত বদলে দেবে এবং অনেক চাকরি স্থায়ীভাবেও হারিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি কিছু কাজ মানুষের জন্য সংরক্ষণ করার পক্ষেও মত দিয়েছেন।    গেটসের মতে, ভবিষ্যতে শুধু কোন চাকরি থাকবে বা থাকবে না, সেই প্রশ্নের চেয়ে এআইয়ের কারণে শ্রমবাজারে যে পরিবর্তন আসবে, সেটি কীভাবে সামলানো হবে সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ, নীতিগত প্রস্তুতি এবং মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো সংরক্ষণে এখন থেকেই পরিকল্পনা করা দরকার বলে তিনি মনে করেন।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
এআইয়ের ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে মানবজাতির ঝুঁকি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষক জ্যাকব কক্সন এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগের পর সতর্ক করে বলেছেন, ক্রমেই শক্তিশালী এআই তৈরির প্রতিযোগিতা একসময় মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। চ্যাটজিপিটির প্রতিদ্বন্দ্বী এআই ‘ক্লড’-এর নির্মাতা অ্যানথ্রপিক এআই নিরাপত্তা ও অ্যালাইনমেন্টের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য পরিচিত। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ধারাবাহিক পোস্টে কক্সন জানান, গত তিন বছর তিনি অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই উভয় প্রতিষ্ঠানে এআই প্রিট্রেনিং নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানগুলো ‘স্ব-উন্নয়নশীল সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরির দিকে ছুটছে এবং এর মাধ্যমে মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে। কক্সনের মতে, ভবিষ্যতের অতিমানবীয় এআই যেকোনো কিছু হ্যাক করার পাশাপাশি বাস্তব ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জনে সক্ষম হতে পারে। তিনি দাবি করেন, প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে অনেক এআই নির্বাহী ও গবেষকের মধ্যেই ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁর ভাষায়, এআই তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সত্যিকার অর্থেই বিশ্বাস করেন, এই দশকের শেষ নাগাদ এআই মানবজাতির সবাইকে হত্যা করতে পারে। অ্যানথ্রপিকের অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্স লিড ইভান হাবিঙ্গারও প্রকাশ্যে কক্সনের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, "কিছু গবেষক সত্যিই বিশ্বাস করেন যে উন্নত এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।" হাবিঙ্গার নিজে মনে করেন, আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান এআই মডেলগুলো তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁর মূল উদ্বেগ ভবিষ্যতে এমন সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই ব্যবস্থার আবির্ভাব নিয়ে, যা নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা বারবার উন্নত করতে পারবে অর্থাৎ ‘রিকরসিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’-এর মাধ্যমে নিজেই নিজের সক্ষমতা বাড়াতে থাকবে। এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ে অ্যানথ্রপিকও এর আগে এআই নিরাপত্তা ও ঝুঁকি সংক্রান্ত আলোচনায় সতর্ক করেছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক। ছবি: সংগৃহীত
এআই মানবতার অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে, সতর্ক করলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান

উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানবতার অস্তিত্বের জন্যই বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক। এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে এখনই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগে প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় শক্তিশালী নিশ্চয়তা দরকার।   সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া এক বিস্তৃত বক্তব্যে টুর্ক এ সতর্কতা জানান। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব শুরুর আগে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি এআই কোম্পানিগুলোকে ঝুঁকি কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।   টুর্ক বলেন, উন্নত এআই মানবতার জন্য অস্তিত্বগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে প্রযুক্তি খাতের অভ্যন্তরীণ মহলে যে উদ্বেগ রয়েছে, তিনি সেটি ভাগ করে নেন। এআইয়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় কঠোর নিশ্চয়তা তৈরির জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভাবে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।   জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, শক্তিশালী এআই ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দিলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, বিভিন্ন সেবা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ব্যাহত হতে পারে। টুর্কের বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে এআই ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির প্রশ্ন।   তিনি সতর্ক করে বলেন, অল্প কয়েকজন মানুষের হাতে এআই প্রযুক্তির ওপর অত্যন্ত বড় ধরনের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে এর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, স্বাধীন যাচাই এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা একই গতিতে এগোচ্ছে কি না, সেটি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।   এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় টুর্ক এআই প্রযুক্তি উন্নয়নে জড়িত দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে এআই তৈরি ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কিছু স্পষ্ট সীমারেখা বা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ঐকমত্য তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। পাশাপাশি এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা স্বাধীনভাবে যাচাই এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও বলেন।   এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে টুর্কের উদ্বেগের পেছনে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও রয়েছে। তিনি জুলাইয়ে আলোচিত তথাকথিত ‘হাগিং ফেস’ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেন। ওই ঘটনায় এআই এজেন্টের একটি দল একটি উন্মুক্ত সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের সার্ভারে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। টুর্কের দপ্তরের মতে, এ ধরনের ঘটনা উন্নত এআইয়ের সক্ষমতা এবং বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে ব্যবধান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান শুধু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নয়, এআইয়ের সামাজিক ও মানবাধিকারগত প্রভাব নিয়েও সতর্ক করেছেন। কর্মসংস্থান, গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি এবং পরিবেশের ওপর এআইয়ের প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, এআইয়ের উন্নয়ন যেন মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার কারণ না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।   টুর্ক আগামী দিনগুলোতে এআই কোম্পানিগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকা ঝুঁকিগুলো কমাতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাবেন বলেও জানান।   এআই নিয়ে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণের দাবি অবশ্য নতুন নয়। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা উন্নত এআইয়ের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সমন্বিত নীতিমালা তৈরির ওপর জোর দিয়ে আসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও উচ্চঝুঁকির এআই ব্যবস্থার জন্য কঠোর নিয়ম চালু করেছে।   ভলকার টুর্কের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন এআই প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত হচ্ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও কাজ সম্পাদনের সক্ষমতা বাড়ছে। ফলে প্রযুক্তির সম্ভাব্য সুফলের পাশাপাশি এর অপব্যবহার, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগও বাড়ছে।   এদিকে মানবাধিকার পরিষদে দেওয়া একই বক্তব্যে টুর্ক যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন হেফাজতে চলতি বছর প্রায় ২৩ জনের মৃত্যুর বিষয়েও জবাবদিহির আহ্বান জানান। ইউক্রেনে রাশিয়ার কথিত স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ব্যবহারের প্রতিবেদন নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মানুষের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়া প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে দ্রুত নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানান। এসব প্রতিবেদনের কিছু বিষয়ে রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। সূত্র: রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশি দুই ভাই সাবিক বিন সুলতান ও শাফি বিন সুলতান, এআই স্টার্টআপ AgenticHire-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি কলেজ শিক্ষার্থী দুই ভাইয়ের এআই স্টার্টআপ পেল ৩০ হাজার ডলারের বেশি ফান্ডিং

স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর আগেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টার্টআপ গড়ে সাফল্যের নজির তৈরি করেছেন বাংলাদেশের দুই ভাই। সাবিক বিন সুলতান ও শাফি বিন সুলতানের সহপ্রতিষ্ঠিত এআইভিত্তিক নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম AgenticHire বিভিন্ন অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচি, প্রতিযোগিতা, অনুদান ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার মাধ্যমে ৩০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ পেয়েছে।   ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলার একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিক বিন সুলতান প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তাঁর বড় ভাই শাফি বিন সুলতান ঢাকার সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং AgenticHire-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা।   স্টার্টআপটির কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিক বাজারকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশি দুই ভাইয়ের সঙ্গে এর আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা হলেন সিঙ্গাপুরের রিভার ভ্যালি হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হাওইয়াং উ। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কোম্পানিটির বৃহত্তর প্রতিষ্ঠাতা দলে কাজাখস্তান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়ার সদস্যও রয়েছেন।   AgenticHire-এর যাত্রা শুরু হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে। সিঙ্গাপুরে একটি তরুণ উদ্যোক্তাকেন্দ্রিক অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় সাবিক ও হাওইয়াংয়ের মধ্যে পরিচয় হয়। সেখান থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ শুরু করেন তাঁরা। সাবিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ছয় দিনের ওই কর্মসূচির মধ্যেই ধারণা, দল ও ব্যবসার দিকনির্দেশনা তৈরি হতে শুরু করে।   তাদের নজরে আসে, প্রাথমিক পর্যায়ের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেরই আলাদা মানবসম্পদ বা নিয়োগ দল থাকে না। ফলে প্রতিষ্ঠাতা কিংবা জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদেরই চাকরিপ্রার্থীদের প্রাথমিক বাছাইয়ের সাক্ষাৎকার নিতে হয়। যোগ্য প্রার্থী একজনকে কারিগরি সাক্ষাৎকারে নেওয়ার আগেই ২০ থেকে ৩০টি পর্যন্ত প্রাথমিক সাক্ষাৎকার নিতে হতে পারে বলে সাবিক জানিয়েছেন। এই সময় ও শ্রমের চাপ কমানোর লক্ষ্যেই AgenticHire তৈরি করা হয়।   প্ল্যাটফর্মটির মূল কাজ হলো নিয়োগের প্রাথমিক ধাপটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পরিচালনা করা। কোনো প্রতিষ্ঠান একটি নির্দিষ্ট পদের জন্য মূল্যায়নের কাঠামো তৈরি করে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে সাক্ষাৎকারের সংযোগ পাঠাতে পারে। প্রার্থী নিজের সুবিধামতো সময়ে প্রাথমিক সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করেন। এরপর AgenticHire প্রার্থীর দক্ষতা, দুর্বলতা ও কাজের উপযোগিতা নিয়ে একটি কাঠামোবদ্ধ প্রতিবেদন তৈরি করে। চূড়ান্তভাবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত অবশ্য নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানই নেয়।   স্টার্টআপটি গড়ে তোলার আগে প্রতিষ্ঠাতারা বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা বলে সমস্যাটি যাচাই করেন। অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচি ও উদ্যোক্তা সম্মেলনের মাধ্যমে পাওয়া অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নিজেদের পরিচিত নেটওয়ার্কের প্রাথমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠাতাদের কাছ থেকেও নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমস্যাগুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর একটি প্রাথমিক সংস্করণ তৈরি করে পরামর্শদাতাদের সহায়তায় সেটি উন্নত করা হয়।   AgenticHire যে ৩০ হাজার ডলারের বেশি সহায়তা পেয়েছে, তার পুরোটা প্রচলিত বিনিয়োগ হিসেবে পাওয়া অর্থ নয়। প্রতিষ্ঠাতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থ এসেছে অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচির সহায়তা, প্রতিযোগিতার পুরস্কার, অনুদান এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা থেকে। এর মধ্যে ইস্ট ভেঞ্চার্সের ‘মাই ফার্স্ট ১০০০’সহ বিভিন্ন কর্মসূচি এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সহায়তার বিনিময়ে এখন পর্যন্ত কোম্পানির কোনো মালিকানা বা শেয়ার ছাড়তে হয়নি বলে সাবিক জানিয়েছেন।   প্রতিষ্ঠাতারা জানিয়েছেন, পাওয়া অর্থ মূলত পণ্য উন্নয়ন, দলের কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচি ও প্রযুক্তি সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে পণ্য চালুর প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য প্রাথমিক পর্যায়ের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গ্রাহক বাড়ানো এবং ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে প্ল্যাটফর্মটি আরও উন্নত করা। ভবিষ্যতে নতুন বাজারে প্রবেশ ও দল সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।   বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের দুই দেশের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগটি শুরু হলেও এর পরিধি শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক। দলটির সদস্যদের মধ্যে কাজাখস্তানের দানিয়া টোকসানোভা বিপণন বিভাগের দায়িত্বে, থাইল্যান্ডের আপিউইট পাসুওয়াত যোগাযোগ কার্যক্রমে, কম্বোডিয়ার মোখা সোখা পরিচালন সহযোগী হিসেবে এবং মালয়েশিয়ার জেসি চু পণ্য বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে স্কুলপড়ুয়া কয়েকজন তরুণের উদ্যোগটি ধীরে ধীরে একটি বহুজাতিক তরুণ উদ্যোক্তা দলের রূপ নিয়েছে।   AgenticHire-এর প্রতিষ্ঠাতাদের গল্পের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তাদের বয়স। প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থাকা সাবিক ও শাফি এখনো উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী। একইভাবে প্রযুক্তি বিভাগের নেতৃত্বে থাকা হাওইয়াং উও স্কুলের শিক্ষার্থী। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করার আগেই তাঁরা প্রযুক্তি ব্যবসার একটি বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে পণ্য তৈরি, গ্রাহক যাচাই এবং আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন।   সাবিকের সাম্প্রতিক এক পেশাগত পোস্টে তিনি জানান, গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে তাঁদের কোনো নির্দিষ্ট পণ্য বা এমনকি পূর্ণাঙ্গ দলও ছিল না। কয়েক মাসের মধ্যে বিভিন্ন দেশ ও সময় অঞ্চলে কাজ করে তাঁরা একটি পণ্য তৈরি করেন এবং জুনের শেষ দিকে সিঙ্গাপুরে আয়োজিত প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে সেটি উপস্থাপন করেন। তাঁর মতে, ওই অভিজ্ঞতা শুধু অর্থ সংগ্রহের সুযোগই নয়, বরং বিনিয়োগকারীরা কীভাবে একটি স্টার্টআপকে মূল্যায়ন করেন, সেটি বোঝারও সুযোগ তৈরি করেছে।   বর্তমানে AgenticHire নিজেদের একটি এআই-চালিত নিয়োগ বাছাই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরছে। তাদের লক্ষ্য হলো নিয়োগের প্রাথমিক ধাপে প্রতিষ্ঠানগুলোর সময় ও কাজের চাপ কমানো, যাতে প্রতিষ্ঠাতা বা নিয়োগদাতারা বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর প্রাথমিক সাক্ষাৎকারে সময় না দিয়ে তুলনামূলকভাবে উপযুক্ত প্রার্থীদের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। প্ল্যাটফর্মটি এখন প্রাথমিক পর্যায়ের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে গ্রাহক বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে।   বাংলাদেশি দুই ভাইয়ের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে দেশের বাইরে থেকে অর্থায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক দল গড়ে তুলেছে। এখন তাদের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো প্রাথমিক পর্যায়ের সাফল্যকে টেকসই ব্যবসায় রূপ দেওয়া এবং বিভিন্ন দেশের নিয়োগ বাজারে এআইভিত্তিক এই সেবা কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, তা প্রমাণ করা।   সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
মাউন্ট শাস্তার দুর্গম এলাকায় পথ হারানোর পর উদ্ধার করা হয় তিন হাইকারকে। ছবি: সংগৃহীত
এআই দিয়ে পরিকল্পনা করে পাহাড়ে উঠতে গিয়ে পথ হারালেন ৩ হাইকার, রাতভর আটকে থাকার পর উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মাউন্ট শাস্তা পর্বতে ওঠার পরিকল্পনা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তা নিয়েছিলেন তিন অনভিজ্ঞ হাইকার। গুগলের জেমিনি থেকে পাওয়া পথ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসংক্রান্ত পরামর্শের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার পর চূড়ায় উঠতে গিয়ে বিপাকে পড়েন তারা। পরে পথ হারিয়ে একজন হাঁটুতে আঘাত পাওয়ায় তিনজনকেই উদ্ধার করতে হয়।   ঘটনাটি ঘটে ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলে, ওরেগন সীমান্তের কাছে ক্যাসকেড পর্বতমালার অংশ মাউন্ট শাস্তায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪ হাজার ১৭৯ ফুট উঁচু এই পর্বতটি অভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের কাছেও চ্যালেঞ্জিং হিসেবে পরিচিত। সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তিন হাইকারই ক্যালিফোর্নিয়ার রোজভিলের বাসিন্দা এবং পর্বতারোহণে তারা অনভিজ্ঞ ছিলেন।   গত ২৯ আগস্ট শনিবার প্রায় ৮ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় তারা শিবির স্থাপন করেন। পরদিন ভোর ৩টার দিকে হালকা ব্যাগ নিয়ে চূড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যে ওঠা ও নামার কাজ শেষ করা।   কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর রাত ৭টার দিকে তারা মাউন্ট শাস্তার চূড়ায় পৌঁছান। অথচ পর্বত কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনায় দুপুর ১২টার মধ্যে চূড়ায় পৌঁছাতে না পারলে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ এরপর নামার সময় পর্যাপ্ত দিনের আলো না থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়।   তিনজন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে চূড়ায় পৌঁছানোর পর অন্ধকারের মধ্যেই নামা শুরু করেন। নামার প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা পথনির্দেশনার জন্য সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের জরুরি যোগাযোগ নম্বরে ফোন করেন। এরপরও তারা নির্ধারিত ক্লিয়ার ক্রিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে মাড ক্রিক ক্যানিয়নের দিকে চলে যান। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন দলের একজন পড়ে গিয়ে হাঁটুতে আঘাত পান। দুর্গম ও খাড়া মাড ক্রিক ক্যানিয়নের ভেতরে আটকা পড়ে তিনজনকে সেখানেই রাত কাটাতে হয়। তাদের কাছে পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও জরুরি সরঞ্জামও ছিল না।   পরদিন সকালে যুক্তরাষ্ট্রের বন বিভাগের পর্বতারোহণ উদ্ধারকারী দল তাদের সন্ধান পায়। উদ্ধারকারীরা আহত হাইকারকে চিকিৎসা দেন এবং তিনজনকেই নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনতে সহায়তা করেন। পরে সিসকিয়ু কাউন্টির অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী স্বেচ্ছাসেবকেরাও অভিযানে যুক্ত হন। শেষ পর্যন্ত তিন হাইকার এবং উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা নিরাপদে ট্রেইলহেডে ফিরে আসেন।   উদ্ধারের পর শেরিফের এক কর্মকর্তাকে তিন হাইকার জানান, মাউন্ট শাস্তায় ওঠার প্রস্তুতির সময় তারা গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী জেমিনির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছিলেন। কোন পথে উঠবেন এবং কতটা খাবার ও পানি সঙ্গে নেবেন, সেসব বিষয়েও তারা জেমিনির পরামর্শ নিয়েছিলেন।   শেরিফের কার্যালয় ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ভুল’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, জেমিনি তাদের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম খাবার ও পানি সঙ্গে নিতে পরামর্শ দিয়েছিল। আট ঘণ্টার মধ্যে শেষ করার কথা থাকা যাত্রাটি যখন একাধিক দিনের পরিস্থিতিতে পরিণত হয়, তখন অপর্যাপ্ত সরঞ্জাম তাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।   তবে উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরামর্শকেই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দেখছে না। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে চূড়ায় ওঠা এবং অন্ধকারে নামার সিদ্ধান্তও পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় পথনির্দেশনার জন্য একাধিক নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি রাখার ওপরও জোর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় হাইকারদের মাউন্ট শাস্তা রেঞ্জার স্টেশনে যাওয়ার আগে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ পথ ও আবহাওয়ার তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। শুধু মুঠোফোন, স্মার্ট ঘড়ি বা কোনো একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে বিকল্প পথনির্দেশনার ব্যবস্থাও সঙ্গে রাখার কথা বলা হয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে দুপুর ১২টার ‘ফিরে আসার সময়সীমা’ মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ায় পৌঁছাতে না পারলে ফিরে আসা উচিত, যাতে দিনের আলো থাকতে নিরাপদে নিচে নামা যায়। মাউন্ট শাস্তার ক্লিয়ার ক্রিক পথকে প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত কঠিন পর্বতারোহণের পথ হিসেবে বিবেচনা না করা হলেও, সেখানে শারীরিক সক্ষমতা, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি এবং আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা প্রয়োজন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ভ্রমণ, পড়াশোনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারীদের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভর করছেন। মাউন্ট শাস্তার এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, দুর্গম বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে এআইয়ের পরামর্শকে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের তথ্য, সরকারি নির্দেশনা এবং বাস্তব পরিস্থিতি যাচাইয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
মানবসদৃশ রোবট নিয়ে বড় ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত
আগামী ১০ বছরেই বিশ্বে থাকবে ১০০ কোটি মানবসদৃশ রোবট, মানুষের চেয়ে ৫ গুণ বেশি কাজ করবে: ইলন মাস্ক

আগামী এক দশকের মধ্যে বিশ্বে অন্তত ১০০ কোটি হিউম্যানয়েড বা মানবাকৃতির রোবট তৈরি হবে। আর এই রোবটগুলো পৃথিবীর সব মানুষের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতার চেয়েও বেশি উৎপাদনশীল হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক।   যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের জি-২০ সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান নির্বাহী এই মন্তব্য করেন। তিনি ধারণা করছেন, একটি হিউম্যানয়েড রোবটের উৎপাদন ক্ষমতা সাধারণ একজন মানুষের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি হবে। এরপর রোবটরাই অন্যান্য রোবট তৈরি করা শুরু করবে, যা একটি রিকার্সিভ বা চক্রাকার প্রভাব তৈরি করবে।   ইলন মাস্ক বলেন, শুরুতে এটি খুব ধীরগতিতে এগোলেও পরে তা বিস্ফোরক গতিতে বাড়বে। আজ থেকে ১০ বছর পর আমি বলতে পারি যে, পৃথিবীতে ১০০ কোটিরও বেশি হিউম্যানয়েড রোবট থাকবে। প্রতিটি রোবটের উৎপাদন ক্ষমতা সম্ভবত একজন মানুষের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি হবে। এর মানে হলো, এই ১০০ কোটি রোবট পৃথিবীর সব মানুষের সম্মিলিত ক্ষমতার চেয়েও বেশি কাজ করতে পারবে। তিনি এটিকে একটি রক্ষণশীল হিসাব বলে উল্লেখ করে জানান, তিনি এই বিষয়ে বাজি ধরতেও প্রস্তুত।   মাস্কের মতে, একটি রোবটের কার্যকারিতা তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। সেগুলো হলো এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যার কতটা উন্নত, রোবটের ভেতরের এআই চিপ কতটা শক্তিশালী এবং রোবটের ইলেকট্রোমেকানিকাল দক্ষতা বা হাত দিয়ে সূক্ষ্ম কাজ করার ক্ষমতা কতটা নিখুঁত। এই তিনটি বিষয়ই দ্রুতগতিতে উন্নত হচ্ছে বলে তিনি জানান।   এদিকে স্মার্ট অ্যানালিটিকস গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৯ হাজার ১০০টি হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, চলতি বছর শেষে এই সংখ্যা ৬০ হাজারে পৌঁছাবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৫ লাখে গিয়ে দাঁড়াবে।   বর্তমানে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির বাজারে আধিপত্য বিস্তার করছে চীন। বৈশ্বিক সরবরাহের ৯৭ শতাংশেরও বেশি আসছে চীনা নির্মাতাদের কাছ থেকে। এর মধ্যে সাংহাই ভিত্তিক অ্যাজিবট ৮ হাজার ৪০০টি রোবট সরবরাহ করে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এরপরই রয়েছে হাংঝু ভিত্তিক ইউনিটি রোবোটিক্স।   অন্যদিকে, ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান টেসলাও তাদের নিজস্ব হিউম্যানয়েড রোবট অপটিমাস বাজারে আনছে। এটি মূলত ঝুঁকিপূর্ণ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। টেসলার লক্ষ্য বছরে ১০ লাখ এমন রোবট উৎপাদন করা। মাস্ক আগেই জানিয়েছিলেন, এই অপটিমাস রোবট ভবিষ্যতে টেসলার মোট মূল্যের প্রায় ৮০ শতাংশ জায়গা দখল করে নিতে পারে।   সম্প্রতি চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমসে চীনা রোবটগুলো মানুষের গড়া রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার স্প্রিন্টে দুটি রোবট কিংবদন্তি অ্যাথলেট উসাইন বোল্টের ৯.৫৮ সেকেন্ডের বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দেয়। বেইজিং হিউম্যানয়েড রোবট ইনোভেশন সেন্টারের তৈরি তিয়ানগং আল্ট্রা ৯.৩৯ সেকেন্ডে এবং অনারস লাইটনিং ৯.৪৭ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় শেষ করে। গত বছর তিয়ানগং আল্ট্রা এই দৌড় শেষ করতে ২১.৫০ সেকেন্ড সময় নিয়েছিল, যা প্রমাণ করে মাত্র এক বছরে প্রযুক্তির কতটা বিস্ময়কর উন্নতি হয়েছে।   জি-২০ সম্মেলনে মাস্ক আরও বলেন, হিউম্যানয়েড রোবোটিক্স অবিশ্বাস্য পরিবর্তন আনবে। তার ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ব অর্থনীতিকে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেবে, যার পরিমাণ বছরে ২০ থেকে ৩০ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, আগামী বছরের শেষের দিকে এআই এমন যেকোনো ডিজিটাল কাজ করতে পারবে, যার জন্য মানুষের হাতের দরকার নেই। এটি দাবার জনপ্রিয় প্রোগ্রাম স্টকফিশ এর মতো শক্তিশালী হয়ে উঠবে, যা বিশ্বের সেরা দাবাড়ুদের অনায়াসে হারাতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
প্রযুক্তিনির্ভরতা কমাতে নিউইয়র্কের স্কুলে টু-কে থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এআই ব্যবহারে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা
প্রযুক্তিনির্ভরতা কমাতে নিউইয়র্কের স্কুলে টু-কে থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এআই ব্যবহারে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা

নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ওপর এক বছরের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভরতা কমিয়ে শিক্ষকদের মাধ্যমে সরাসরি পাঠদানকে অগ্রাধিকার দিতে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি এবং স্কুল চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলস।   এই নীতির ফলে নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ৬ লাখ সরকারি স্কুল শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হতে যাচ্ছে।   নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, টু-কে (2-K) থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য এআই এবং এআই-চালিত চ্যাটবটগুলোর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা রাখা হয়েছে।   এআইয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হওয়ার আগে এর ঝুঁকি, পক্ষপাতিত্ব এবং নৈতিক দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন করতে তাদের বছরে দুবার 'ক্রিটিকাল থিংকিং' বা সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিশেষ মডিউল সম্পন্ন করতে হবে।   হাইস্কুলের সাধারণ শিক্ষার প্রায় ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য কুইল, এডিয়া, ব্রিস্ক টিচিং, প্লেল্যাব এবং ইন্টেল এআই-রেডি স্কুলস নামক পাঁচটি বাছাইকৃত এআই টুল শিক্ষকদের কঠোর তত্ত্বাবধানে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।   শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন টাইমের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আনা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণি ও তার নিচের শিক্ষার্থীদের জন্য ডিভাইস ব্যবহার কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে। এছাড়া তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট এবং ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৪৫ মিনিট স্ক্রিন টাইমের সুপারিশ করা হয়েছে।   তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী, একাধিক ভাষা শেখা শিক্ষার্থী এবং কম্পিউটার সায়েন্সের মতো কর্মমুখী শিক্ষার ক্ষেত্রে এসব নিয়মে শিথিলতা থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষকরা তাঁদের পাঠপরিকল্পনা ও দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজে আগের মতোই নিরাপদ এআই টুল ব্যবহার করতে পারবেন।   এই নীতিমালার প্রভাব মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের জন্য 'টেকনোলজি ইন স্কুলস কোয়ালিশন' নামে নতুন একটি জোট গঠন করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আগ্রাসী প্রচারণার বিপরীতে দাঁড়িয়ে প্রযুক্তিকে অন্ধভাবে গ্রহণ করার বদলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পর্যালোচনার এই সিদ্ধান্তটিকে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রশাসন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
হামলার আগে চ্যাটজিপিটিতে সহিংস কথোপকথন, পরে ৬ জন নিহত; ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
হামলার আগে চ্যাটজিপিটিতে সহিংস কথোপকথন, পরে ৬ জন নিহত; ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার টাম্বলার রিজ শহরে গত ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ স্কুল হামলার ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং এর সিইও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে হামলায় বেঁচে ফেরা শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা এই মামলাটি করেন।   তাদের অভিযোগ, হামলাকারী তরুণের চ্যাটজিপিটিতে করা বিপজ্জনক কথোপকথনের তথ্য পুলিশের কাছে গোপন করে ওপেনএআই পরোক্ষভাবে এই হত্যাকাণ্ডকে উৎসাহিত করেছে। এর আগে গত এপ্রিলে নিহতদের পরিবারও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মুনাফাকে নিরাপত্তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছিল।   ১৮ বছর বয়সী হামলাকারী জেসি ভ্যান রুটসেলার একজন ট্রান্সজেন্ডার তরুণ ছিল, যে স্কুলে হামলা চালিয়ে পাঁচ শিশু ও এক প্রাপ্তবয়স্ককে হত্যা করে। এই ঘটনায় ১২ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী শিশুসহ আরও দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। স্কুলে তাণ্ডব চালানোর আগে সে নিজের বাড়িতে মা ও ১১ বছর বয়সী সৎ ভাইকেও হত্যা করেছিল।   হামলার পর ঘটনাস্থলেই সে নিজের বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করে। ভয়াবহ সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে সপ্তম গ্রেডের শিক্ষিকা ডিয়ারড্রে রাস্লো এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, চোখের সামনে সহপাঠীদের মৃত্যু দেখার যে ট্রমা তৈরি হয়েছে, তা তাদের আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।   মামলার পক্ষের আইনজীবী জে এডেলসন এক বিবৃতিতে জানান, ওপেনএআই এমন একটি বিপজ্জনক পণ্য তৈরি করেছে যা একজন মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরকে নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করতে প্ররোচিত করেছিল। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, হামলার সাত মাস আগে গত জুনেই হামলাকারীর চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টটি অস্বাভাবিক ও হিংসাত্মক বার্তার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়।   প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব নিরাপত্তা দলের ১২ জন কর্মী কানাডিয়ান পুলিশকে বিষয়টি জানানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে দু'বার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু ভবিষ্যতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়মিত তথ্য দেওয়ার ‘দৃষ্টান্ত’ তৈরি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় ওপেনএআইয়ের জনসংযোগ ও রাজনৈতিক দল সেই অনুরোধ নাকচ করে দেয়।   তবে ওপেনএআই-এর চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার জেসন কোয়ান পিআর টিমের হস্তক্ষেপের দাবিটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, তাদের দল সবসময় মানুষের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।   এর আগে গত এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটির সিইও স্যাম অল্টম্যান পুলিশকে তথ্য না জানানোর বিষয়টি স্বীকার করে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছিলেন। ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে তাদের নিরাপত্তা নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে এবং বর্তমান নিয়মে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ডাটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করলে সেসব সম্প্রদায় অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
‘ডাটা সেন্টারের বিরোধিতা করলে দরিদ্র হবে আমেরিকানরা!’ ট্রাম্পের কড়া সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ডাটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করা হলে সেসব সম্প্রদায় অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়বে এবং দরিদ্র হয়ে যাবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ডাটা সেন্টার নির্মাণকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেন।   ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেসব সম্প্রদায় ডাটা সেন্টার চায় না, তাদের এমন অবস্থানের কারণে তারা পিছিয়ে ও দরিদ্র হয়ে পড়তে পারে। তার দাবি, এসব স্থাপনা গড়ে উঠলে স্থানীয় পর্যায়ে কম কর এবং বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।   ডাটা সেন্টার নির্মাণের সুযোগ প্রত্যাখ্যান করলে অন্য অনেক এলাকা সেই সুযোগ গ্রহণ করতে আগ্রহী হবে বলেও সতর্ক করেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ডাটা সেন্টার স্থাপনের জন্য আরও অনেক জায়গা প্রস্তুত রয়েছে। তাই কোনো সম্প্রদায় এসব প্রকল্প প্রত্যাখ্যান করলে তার জায়গা অন্য কোনো এলাকা নিতে পারে।   ট্রাম্প আরও বলেন, ডাটা সেন্টার নির্মাণের সুযোগ নষ্ট করলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকেই এর দায় নিতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ডাটা সেন্টারবিরোধী আন্দোলন চীনের জন্য আনন্দের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   তবে যুক্তরাষ্ট্রে ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধিতা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানেনবার্গ পাবলিক পলিসি সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, ৬১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নিজেদের এলাকায় নতুন ডাটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করছেন। বসন্তকালের জরিপে এই হার ছিল ৪৯ শতাংশ।   জরিপে দেখা গেছে, ডাটা সেন্টারের বিরোধিতা কোনো একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ডেমোক্র্যাটদের ৬৯ শতাংশ, রিপাবলিকানদের ৫৪ শতাংশ এবং স্বতন্ত্রদের ৫৩ শতাংশ নিজেদের এলাকায় নতুন ডাটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করেছেন।   ডাটা সেন্টার নিয়ে মানুষের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা, স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও পানির ওপর চাপ এবং শব্দদূষণ। একই সঙ্গে ডাটা সেন্টার নির্মাণের ফলে স্থানীয়ভাবে দীর্ঘমেয়াদে কতটা কর্মসংস্থান তৈরি হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।   অ্যানেনবার্গের জরিপে আরও দেখা গেছে, ডাটা সেন্টার নিয়ে মানুষের অবস্থান বদলালেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন আসেনি। জরিপে ৬৮ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি।   এদিকে ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্কও বাড়ছে। একদিকে এসব স্থাপনা থেকে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুবিধার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ, পানি, পরিবেশ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিরোধিতা তৈরি হয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তাবাস্সুম আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
দাম্পত্য জীবনে রোমান্স ফেরাতে এআই প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছেন অনেক দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
ব্যস্ত জীবনে হারিয়ে যাওয়া অন্তরঙ্গতা ফেরাতে থেরাপিস্ট নয়, বরং এআই চ্যাটবটের সাহায্য নিচ্ছেন দম্পতিরা

দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে কাজ, সন্তান, সংসার ও নানা দায়িত্বের চাপে অনেক দম্পতির ব্যক্তিগত সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের এক দম্পতির ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছিল। ২৫ বছর একসঙ্গে থাকার পর কাজ ও সন্তান পালনের ব্যস্ততায় তাদের দাম্পত্য জীবনের ঘনিষ্ঠতা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এআই-নির্ভর একটি অন্তরঙ্গতা সহায়ক সেবা ব্যবহার করে তারা নিজেদের সম্পর্কের নতুন দিক আবিষ্কার করেছেন বলে জানিয়েছেন।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৩ বছর বয়সী ওই নারীকে প্রতিবেদনে ‘জুনিপার’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। গোপনীয়তার কারণে তাঁর পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর স্বামী জেফের সঙ্গে তাদের যমজ কন্যাসন্তান রয়েছে। দুজনই শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি তাদের রয়েছে আরও নানা দায়িত্ব। স্কুলে সন্তানদের নিয়ে যাওয়া, খেলাধুলার অনুষ্ঠান, রাতে পড়াশোনায় সহায়তা এবং বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখাশোনার পাশাপাশি দুজনেরই কাজের চাপ রয়েছে।   জুনিপারের ভাষায়, দিনের পর দিন এই ব্যস্ততার কারণে নিজেদের জন্য সময় ও শক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছিল। কয়েক বছর ধরে মাসে এক বা দুইবারের বেশি তাদের অন্তরঙ্গ সময় কাটানোও সম্ভব হতো না। তিনি চেয়েছিলেন স্বামীর সঙ্গে আবার ঘনিষ্ঠ হতে, তবে কীভাবে সেই পরিবর্তন শুরু করবেন, তা বুঝতে পারছিলেন না।   পরিস্থিতি বদলাতে তারা প্রথমে দাম্পত্য পরামর্শকের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে ‘আরিয়া’ নামের একটি সেবা ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। এটি দম্পতিদের সম্পর্ক ও অন্তরঙ্গতা নিয়ে কথা বলা, নতুন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া এবং নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ বুঝতে সহায়তা করার জন্য এআই ও মানব বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কাজ করে। আরিয়ার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এর এআই ব্যবস্থা সাধারণ প্রশ্নের উত্তর ও পরামর্শ দিতে পারে, আর জটিল বা সংবেদনশীল বিষয় সামনে এলে মানব বিশেষজ্ঞ যুক্ত হন।   সেবাটি ব্যবহারের শুরুতে জুনিপার ও জেফকে তাদের সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে ২০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এসব উত্তরের ভিত্তিতে সিস্টেম তাদের একটি নির্দিষ্ট ‘এরোটিক পারসোনা’ বা অন্তরঙ্গতার ধরন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে। দম্পতির দুজনকেই ‘অ্যাডভেঞ্চারার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ নতুনত্ব ও বৈচিত্র্যের প্রতি তাদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি বলে সিস্টেমটি ধরে নেয়।   আরিয়ার সেবায় ‘সিন’ নামে পরিচিত বিভিন্ন পরিকল্পিত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কথোপকথনের বিষয়, পরিবেশ তৈরির পরামর্শ, নির্দেশনামূলক লেখা, ভিডিও এবং অন্যান্য উপকরণ থাকে। উদ্দেশ্য হলো দম্পতিদের নিজেদের ইচ্ছা ও প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলার সুযোগ তৈরি করা এবং দীর্ঘদিনের একঘেয়েমি ভাঙতে সাহায্য করা।   জুনিপার জানান, এই ব্যবস্থার একটি বড় সুবিধা ছিল, এটি তাদের সরাসরি কথোপকথন শুরু করার সুযোগ করে দেয়। কখনো একজন অন্যজনকে কোনো কনটেন্ট পাঠিয়ে জানতে চাইতেন, সেটি একসঙ্গে চেষ্টা করতে আগ্রহী কি না। ফলে আগে যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা কঠিন মনে হতো, সেগুলো নিয়েও আলোচনা সহজ হয়ে যায়।   দম্পতিটি তাদের ফোনও এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করতেন। তারা একসঙ্গে বসে আরিয়ার দেওয়া নির্দেশনা পড়তেন এবং নিজেদের পছন্দ নিয়ে আলোচনা করতেন। তবে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে তারা এআইয়ের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন করতেন না। বরং ফোনটি ব্যবহার করতেন আগে থেকে দেওয়া নির্দেশনা ও পরিকল্পনা দেখার জন্য।   আরিয়ার সেবার সঙ্গে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যও সরবরাহ করা হয়। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এগুলো তাদের পরিকল্পিত ‘সিন’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাছাই করা হয় এবং গোপনীয় প্যাকেজিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।   গত এক বছরে নিজেদের সম্পর্কের পরিবর্তন নিয়ে সন্তুষ্ট জুনিপার বলেন, আগে তিনি জানতেন যে তাদের দাম্পত্য জীবনে আরও কিছু করা সম্ভব, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন সেটিই বুঝতেন না। নতুন এই পদ্ধতি তাকে নিজের পছন্দ ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আরও খোলামেলা হতে সাহায্য করেছে বলে তাঁর দাবি।   জেফও জানান, এই প্রক্রিয়ার ফলে তিনি সম্পর্কের অন্তরঙ্গ দিকটিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছেন। তার মতে, নিজেদের পছন্দ নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় দুজনের মধ্যে বোঝাপড়াও বেড়েছে।   দম্পতির জন্য সবচেয়ে বড় চমক ছিল, তারা এমন কিছু পছন্দ ও আগ্রহ আবিষ্কার করেন যেগুলো সম্পর্কে আগে একে অপরের ধারণা ছিল না। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রিত ভূমিকা ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কিছু নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা আলোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। জেফের ভাষায়, এ ধরনের বিষয় নিয়ে আগে তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি।   এই নতুন অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তাদের সম্পর্কের যোগাযোগও উন্নত হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন। জেফ বলেন, নতুন কিছু চেষ্টা করার আগে নিজেদের সীমা, পছন্দ ও সম্মতি নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন হয়েছে। সেই অভ্যাস শোবার ঘরের বাইরেও তাদের পারস্পরিক যোগাযোগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।   আরিয়ার সম্পর্কবিষয়ক গবেষণা বিভাগের প্রধান নিকোলাস ভেলোটা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক সময় সমস্যা ভালোবাসার অভাব নয়, বরং অন্তরঙ্গতা নিয়ে সরাসরি কথা বলতে না পারা। তাঁর মতে, অনেক দম্পতির মধ্যে নিজেদের কৌতূহল বা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে অস্বস্তি থাকে। এ ধরনের প্রযুক্তি সেই কথোপকথনের শুরুটা সহজ করতে পারে।   তবে আরিয়ার ভূমিকা শুধু এআইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোম্পানির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এআই সাধারণ নির্দেশনা ও ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি এমন পরিস্থিতি শনাক্ত করার জন্য তৈরি, যেখানে একজন বাস্তব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে মানব বিশেষজ্ঞ কথোপকথনে যুক্ত হন।   এদিকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে দাম্পত্য সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর এই প্রবণতা নিয়ে গবেষণাও শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকোলাস ভেলোটার একটি গবেষণায় আরিয়ার প্রথম ‘সিন’ ব্যবহারকারী ১৮০ জন সম্পর্কের অংশগ্রহণকারীর অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ের এবং এর ফলাফলকে সাধারণ সব দম্পতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলা যায় না। তবে এতে ডিজিটালভাবে পরিচালিত অন্তরঙ্গতা সহায়তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   আরিয়ার ওয়েবসাইটে বর্তমানে বার্ষিক সদস্যতার ক্ষেত্রে মাসিক খরচ ২৯ দশমিক ৯৫ ডলার থেকে শুরু হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদের সদস্যতায় দুই অংশীদারের অ্যাকাউন্ট, নির্দেশনামূলক কনটেন্ট, ‘সিন’, পরামর্শ সহায়তা এবং নির্বাচিত পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে।   তবে এই দম্পতির অভিজ্ঞতাকে সবার জন্য একই ফল দেবে এমন প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাদের ঘটনা মূলত একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কসংক্রান্ত তথ্য কোনো প্রযুক্তি সেবায় দেওয়ার আগে গোপনীয়তা, তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নীতিও বিবেচনা করা জরুরি।   জুনিপার ও জেফের ক্ষেত্রে অবশ্য পরিবর্তনটি তাদের কাছে স্পষ্ট। তাদের দাবি, এখন তারা সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার একে অপরের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটান। কখনো কখনো টানা কয়েক দিনও তারা একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন।   ২৫ বছর একসঙ্গে থাকার পর এআই তাদের সম্পর্কের জায়গায় কোনো মানুষকে প্রতিস্থাপন করেনি। বরং তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিটি এমন কিছু কথোপকথনের দরজা খুলে দিয়েছে, যেগুলো তারা নিজেরা আগে শুরু করতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত সেই কথোপকথনই তাদের দাম্পত্য জীবনে নতুন করে ঘনিষ্ঠতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে।   সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: সংগৃহীত
৬০% কর্মী ছাঁটাই করে এআই বসানোর পরিকল্পনা জাকারবার্গের, কর্মীদের ক্ষোভে শেষ পর্যন্ত পিছু হটলেন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে মেটার কর্মীদের বড় একটি অংশের কাজ করিয়ে নেওয়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বড় ধাক্কায় পড়েছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা কিছু দলের কর্মীসংখ্যা সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে ছোট, দক্ষ দল দিয়ে এআই-নির্ভর কাজ পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিল। তবে কর্মীদের তীব্র অসন্তোষ, এআইয়ের প্রত্যাশিত উৎপাদনশীলতা না পাওয়া এবং প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত নানা সমস্যার কারণে পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাতিল করা হয়েছে।   রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভ্যন্তরীণ নথি, কর্মীদের পোস্ট ও রেকর্ডিং এবং মেটার কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত ২০ জনের বেশি মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের ভিত্তিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। মেটা পরে রয়টার্সকে Project OT নামে ওই উদ্যোগের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে। Project OT নামটি Organization Transformation বা সাংগঠনিক রূপান্তর থেকে নেওয়া। চলতি বছরের শুরুতে মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ ও তাঁর শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটিকে আরও বেশি এআইনির্ভর করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। পরিকল্পনার মূল ধারণা ছিল, বর্তমানে হাজার হাজার কর্মী যে দৈনন্দিন কাজ করেন, তার বড় একটি অংশ ভবিষ্যতে এআই এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।   এই ব্যবস্থায় বড় দলের পরিবর্তে ছোট ও অত্যন্ত দক্ষ মানবকর্মীদের দল এআই ব্যবস্থাগুলো তদারক করবে। অভ্যন্তরীণ নথিতে এমন একটি কাঠামোর কথা বলা হয়, যেখানে ১০ থেকে ২০ জনের একটি দলকে কমিয়ে তিন থেকে পাঁচজনের দলে পরিণত করা হতে পারে। বাকি কাজ সামলানোর দায়িত্ব পড়বে এআইয়ের ওপর। তবে এটি মেটার পুরো কর্মীসংখ্যা ৬০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা ছিল না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনার অংশ হিসেবে কিছু দলের আকার সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মেটাও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এটি ছিল সম্ভাব্য পুনর্গঠন, কর্মী পুনর্বিন্যাস, খালি পদ বন্ধ এবং ছাঁটাইয়ের বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে করা পরিকল্পনা। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুনর্গঠনটি দুই ধাপে করার কথা ছিল। প্রথম ধাপের ছাঁটাই মে মাসে এবং দ্বিতীয় ধাপের আরেকটি বড় পরিবর্তন নভেম্বর মাসে করার পরিকল্পনা ছিল। এর পাশাপাশি খালি পদগুলো বন্ধ করে দেওয়া এবং যেসব কর্মীকে কম দক্ষ বলে মনে করা হতো, তাদের বাদ দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় ছিল। মে মাসে অবশ্য মেটা কর্মী কমানোর প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন করে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করে। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপটি শেষ পর্যন্ত আর এগোয়নি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রথম দফার ছাঁটাইয়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই জাকারবার্গ ও শীর্ষ কর্মকর্তারা নভেম্বরের পরবর্তী দফার পরিকল্পনা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন।   পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর মেটার কর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়। অনেক কর্মী মনে করতে শুরু করেন, এআইকে কাজে যুক্ত করার প্রকৃত উদ্দেশ্য তাদের কাজের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেওয়া। অভ্যন্তরীণ এক জরিপে কর্মীদের মনোভাবের সূচক ৭৪ শতাংশ ইতিবাচক থেকে ৫৫ শতাংশে নেমে যায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এআই প্রশিক্ষণের জন্য কর্মীদের কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিভাইসে নজরদারি বা কাজের তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাও অসন্তোষ বাড়িয়ে দেয়। কর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ অভ্যন্তরীণ যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যঙ্গও করেন।   এদিকে মেটার এআই ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কোম্পানির পরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকা এআই এজেন্টগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারেনি বলে অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে আসে। কর্মীরা এআই ব্যবহার করে বেশি কোড তৈরি করতে পারলেও সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা একই অনুপাতে বাড়েনি বলে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ তথ্য ও আলোচনায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রযুক্তিগত সমস্যাও পরিকল্পনাটিকে চাপে ফেলে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই এজেন্টের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সঙ্গে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যায়। সেবায় বিঘ্ন এবং সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনাও নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে এআইকে দ্রুত কর্মীদের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনার বাস্তব সক্ষমতা নিয়ে মেটার ভেতরেই প্রশ্ন ওঠে।   এই পরিস্থিতিতে জাকারবার্গও তাঁর অবস্থানে পরিবর্তন আনেন। জুলাইয়ে এক অভ্যন্তরীণ সভায় তিনি বলেন, এআই এজেন্ট প্রযুক্তি তাঁর প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত এগোয়নি। এরপর মেটা এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার বদলে মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিতে শুরু করে। জাকারবার্গ এক অভ্যন্তরীণ পোস্টে বলেন, মেটা মানুষের ক্ষমতায়ন এবং নতুন প্রযুক্তির শক্তি কোটি কোটি মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, শুধু কাজ স্বয়ংক্রিয় করার ওপর নয়।   তবে এআই নিয়ে মেটার উচ্চাকাঙ্ক্ষা এতে থেমে যায়নি। বরং প্রতিষ্ঠানটি এআই অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। সমস্যা হয়েছে মূলত এআইকে ব্যবহার করে দ্রুত কর্মীদের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার বাস্তবায়নে। মেটা রয়টার্সকে জানিয়েছে, Project OT ছিল খরচ কমানো, দলের কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং কর্মীদের নতুন অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কাজে স্থানান্তরের একটি উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এর মাধ্যমে হাজার হাজার কর্মীকে নতুন গঠিত বিভিন্ন দলে গুরুত্বপূর্ণ কাজে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি এবং পুরো কর্মীবাহিনীর ৬০ শতাংশ ছাঁটাই করার কোনো সিদ্ধান্ত কখনো নেওয়া হয়নি।   বিশেষজ্ঞদের কাছে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অন্য একটি কারণে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যখন দ্রুত এআইনির্ভর কর্মপরিবেশ তৈরির দিকে এগোচ্ছে, তখন মেটার অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিচ্ছে যে শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলেই বড় পরিসরে মানুষের কাজ এআই দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সহজ নয়। কর্মীদের আস্থা, প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা এবং বাস্তবে উৎপাদনশীলতা কতটা বাড়ছে, এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   মেটার Project OT শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হলেও এ ঘটনা ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান নিয়ে বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। এআই কি মানুষের কাজ কেড়ে নেবে, নাকি মানুষকে আরও দক্ষ করে তুলবে, সেই বিতর্কের মাঝেই বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এই পরীক্ষার ফল এখন শিল্পখাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠেছে।   সূত্র: রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্স খাতে বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারের শীর্ষস্থান দখল করছে চীন। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের আমেরিকা যখন চীনের রোবট নিয়ে হাসছে, তখন রোবট প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে শি জিনপিংয়ের চীন

চীনে রোবট নিয়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই মজা করছেন। কোনো রোবট দৌড়াতে গিয়ে পড়ে যাচ্ছে, কোনোটি ভারসাম্য হারাচ্ছে, আবার কোনোটি নির্দিষ্ট কাজ করতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছে। কিন্তু এসব দৃশ্যের আড়ালে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিতে চীন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং এই দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবধান বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   বেইজিংয়ে ২২ থেকে ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমস। এবারের আয়োজনে ১৬টি দেশ ও অঞ্চল থেকে ৬৬৬টি দল এবং ২ হাজার ৫৬টি রোবট অংশ নেয়। পাঁচ দিনের এই আয়োজনে ছিল ৫১টি প্রতিযোগিতা এবং ১ হাজার ৩০১টি প্রতিযোগিতামূলক পর্ব। গত বছরের প্রথম আসরে যেখানে ২৮০টি দল অংশ নিয়েছিল, এবার সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   এই আয়োজন শুধু রোবটের দৌড় বা খেলাধুলার প্রদর্শনী ছিল না। কারখানা, হোটেল ও বাড়ির মতো বাস্তব পরিবেশে রোবট কীভাবে কাজ করতে পারে, সেটিও দেখানো হয়েছে। হোটেলের ঘর পরিষ্কার করা, অফিস পরিষ্কার, দোকানের তাক সাজানোসহ বিভিন্ন কাজে রোবটের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। এর ফলে আয়োজকদের লক্ষ্য ছিল রোবটকে শুধু প্রদর্শনীর যন্ত্র হিসেবে নয়, ভবিষ্যতের উৎপাদনশীল কর্মী হিসেবে তুলে ধরা। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ১০০ মিটার দৌড়। প্রতিযোগিতার শুরুতেই একটি চীনা হিউম্যানয়েড রোবট ৯ দশমিক ৩৯ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় শেষ করে। সময়টি ২০০৯ সালে জ্যামাইকান কিংবদন্তি উসাইন বোল্টের করা ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ডের মানব বিশ্ব রেকর্ডের চেয়ে দ্রুত। পরে একই প্রতিযোগিতায় টিয়াংগং আল্ট্রা নামে আরেকটি রোবট ৮ দশমিক ৮৬ সেকেন্ডের সময় করে। শেষ দিনে ৮ দশমিক ৬৪ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে সেটি আরও দ্রুত সময় গড়ে।   তবে রোবটগুলোর এই গতি এখনো মানুষের মতো স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ বা দক্ষতার প্রমাণ নয়। দৌড় শেষ করার পর কিছু রোবট ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যায় বা সুরক্ষাবেষ্টনীতে ধাক্কা খায়। অর্থাৎ দ্রুত দৌড়াতে পারলেও হঠাৎ থামা, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং মানুষের মতো পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এখনও বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতাই দেখাচ্ছে, হিউম্যানয়েড রোবটের বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা রোবটের হার্ডওয়্যার সক্ষমতা দ্রুত বাড়লেও বাস্তব কারখানার জটিল কাজে এগুলো এখনো মানুষের বিকল্প হওয়ার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অনেক রোবট নির্দিষ্ট প্রদর্শনী, নাচ, কুংফু বা পূর্বনির্ধারিত কাজ ভালোভাবে করতে পারলেও পরিবেশ পরিবর্তিত হলে তাদের সমস্যা হয়।   তারপরও চীনের অগ্রগতিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। দেশটি হিউম্যানয়েড রোবটকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উৎপাদন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বয়স্ক জনসংখ্যা ও ভবিষ্যৎ শ্রমিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি উৎপাদন খাতের দক্ষতা বাড়ানোর জন্যও রোবটকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। চীনের বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো এর বিশাল উৎপাদন অবকাঠামো। রোবটের যন্ত্রাংশ তৈরি, পরীক্ষামূলক উৎপাদন, সফটওয়্যার উন্নয়ন এবং বড় পরিসরে নতুন মডেল বাজারে আনার ক্ষেত্রে দেশটির শিল্পভিত্তি উদ্যোক্তাদের দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ দিচ্ছে।   বিশ্বের হিউম্যানয়েড রোবট বাজারেও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে এজিআইবট, ইউনিট্রি রোবোটিকস, গ্যালবট, ইউবিটেকসহ বেশ কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে রয়েছে। গবেষণা ও বাজার বিশ্লেষণগুলোও দেখাচ্ছে, চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে এই শিল্পে বড় অংশ দখল করে আছে। চীনের রোবট প্রতিযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়। একটি হিউম্যানয়েড রোবট শুধু দ্রুত দৌড়াতে পারলেই বাস্তব কাজে খুব বেশি কার্যকর হবে না। তাকে পরিবেশ বুঝতে হবে, বস্তু শনাক্ত করতে হবে, নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ফলে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা শুধু রোবটের শরীর বা যন্ত্রাংশের মধ্যে নয়, বরং রোবটের ‘মস্তিষ্ক’ বা সফটওয়্যার নিয়েও হবে।   এ জায়গায় চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ দেশটির হিউম্যানয়েড রোবট শিল্পকে আরও এগিয়ে দিতে পারে। রোবটের হার্ডওয়্যার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একসঙ্গে উন্নত হলে একই যন্ত্র ভবিষ্যতে কারখানা, গুদাম, হাসপাতাল, হোটেল কিংবা অন্যান্য সেবামূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও রোবোটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের গবেষণা ও বিনিয়োগ করছে। তবে চীনা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণ দুই দেশের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন বিদেশে তৈরি নতুন হিউম্যানয়েড রোবট আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। কর্তৃপক্ষ জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে।   এ ধরনের বিধিনিষেধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও গবেষকেরা চীনে তৈরি নতুন রোবটের সঙ্গে সরাসরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ হারাতে পারেন। আবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুক্তি হলো, চীনা প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংযোগ ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চীনের রোবট শিল্পও অবশ্য চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়। রোবটের দাম, সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতা, বাস্তব পরিবেশে কাজ করার সক্ষমতা এবং বাজারে প্রকৃত চাহিদা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিপুল বিনিয়োগের কারণে অতিরিক্ত উৎপাদন ও ভবিষ্যতে বাজারে একীভূত হওয়ার ঝুঁকির কথাও বিশ্লেষকেরা বলছেন।   তাই বেইজিংয়ের রোবট গেমসকে শুধু বিনোদন বা প্রযুক্তির প্রদর্শনী হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। এখানে একদিকে যেমন রোবটের বর্তমান সীমাবদ্ধতা চোখে পড়েছে, অন্যদিকে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তাদের গতি ও শারীরিক সক্ষমতার বড় উন্নতিও দেখা গেছে। এক বছর আগে যে রোবট ১০০ মিটার দৌড়াতে ২১ দশমিক ৫০ সেকেন্ড সময় নিয়েছিল, এবার সেই সময় কয়েক সেকেন্ডে নেমে এসেছে। আর প্রতিযোগিতার শেষ দিনে ৮ দশমিক ৬৪ সেকেন্ডের সময় দেখিয়েছে, উন্নতির গতি কতটা দ্রুত হতে পারে।   আজকের রোবট হয়তো দৌড় শেষ করে পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু আগামী দিনের প্রশ্ন হচ্ছে, তারা কতটা দ্রুত শিখতে পারবে এবং কতটা স্বাভাবিকভাবে মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পারবে। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রযুক্তি শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, বেইজিং মিউনিসিপ্যাল গভর্নমেন্ট ও দ্য আটলান্টিক।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
লাইভ এআই সহায়তায় মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার, বিশ্বের প্রথম রোগীর টিউমার সফলভাবে অপসারণ
লাইভ এআই সহায়তায় মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার, বিশ্বের প্রথম রোগীর টিউমার সফলভাবে অপসারণ

বিশ্বে প্রথমবারের মতো অস্ত্রোপচারের সময় লাইভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সহায়তায় একজন রোগীর মস্তিষ্কের টিউমার সফলভাবে অপসারণ করেছেন চিকিৎসকেরা। যুক্তরাজ্যের ৪৮ বছর বয়সী রাইস হিবার্টের পিটুইটারি গ্রন্থির ১১ মিলিমিটার আকারের টিউমার অপসারণ করা হয় লন্ডনের ন্যাশনাল হসপিটাল ফর নিউরোলজি অ্যান্ড নিউরোসার্জারিতে। অস্ত্রোপচারের আগে টিউমারটি তার দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল।    অস্ত্রোপচারের সময় এআই সিস্টেমটি সরাসরি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও বিশ্লেষণ করে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও দৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুগুলোর অবস্থান চিহ্নিত করতে চিকিৎসকদের সহায়তা করে। এসব কাঠামো টিউমারের খুব কাছাকাছি থাকায় অস্ত্রোপচারের সময় সামান্য ভুলও গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে।    ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হসপিটালসের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এআই কোনোভাবেই নিজে অস্ত্রোপচার করেনি। পুরো প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ ছিল সার্জনদের হাতে। এআই মূলত লাইভ ভিডিও বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করার জন্য সার্জনদের একটি অতিরিক্ত সহায়ক নজর হিসেবে কাজ করেছে।    হিবার্ট বেডফোর্ডশায়ারের দুই সন্তানের বাবা। প্রায় ১৮ মাস আগেও তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন এবং প্রতিদিন দুপুরের বিরতিতে প্রায় দুই মাইল হাঁটতেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এমনই এক হাঁটার সময় হঠাৎ রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়ে খিঁচুনি শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় তার পিটুইটারি গ্রন্থিতে টিউমার ধরা পড়ে।    পিটুইটারি গ্রন্থি মস্তিষ্কের নিচের অংশে থাকা মার্বেলের মতো ছোট একটি অঙ্গ, যা শরীরের বৃদ্ধি, বিপাক, রক্তচাপ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রয়োজনীয় হরমোন তৈরি করে। গ্রন্থিটির কাছেই থাকে ক্যারোটিড ধমনি এবং দৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণকারী অপটিক নার্ভ। ফলে টিউমার বড় হয়ে এসব কাঠামোর ওপর চাপ তৈরি করলে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।    হিবার্টের ক্ষেত্রে টিউমারটি তার অপটিক নার্ভে চাপ দিতে শুরু করলে ধীরে ধীরে পার্শ্বীয় দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। তিনি বারবার হোঁচট খেতে শুরু করেন এবং প্রচণ্ড ক্লান্তি ও মাথা ঘোরার সমস্যাও দেখা দেয়। একপর্যায়ে হাঁটার সময় নিচের দিকের দৃষ্টিক্ষেত্র ঠিকমতো দেখতে না পাওয়ায় তাকে ওয়াকিং স্টিক ব্যবহার করতে হয়।   এ অবস্থায় তাকে এআই সহায়তায় পরীক্ষামূলক অস্ত্রোপচারে প্রথম রোগী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে তিনি সম্মতি দেন। ২০২৬ সালের মে মাসে অস্ত্রোপচারটি করা হয়। নাক দিয়ে এন্ডোস্কোপ প্রবেশ করিয়ে মাথার খুলির নিচের অংশে পৌঁছে টিউমার অপসারণ করা হয়।    অস্ত্রোপচারের পর হিবার্ট জানান, চোখ খোলার পর তার মনে হয়েছিল যেন একসঙ্গে চারপাশের পুরো দৃষ্টিক্ষেত্র দেখতে পাচ্ছেন। পরবর্তী আট সপ্তাহে তার দৃষ্টিশক্তি ও শারীরিক শক্তি আরও উন্নত হয়েছে এবং আগের সমস্যাগুলোও চলে গেছে। তিনি আবার কাজেও ফিরেছেন।    অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত এআই প্রযুক্তিটি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা তৈরি করেছেন। শত শত মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের ভিডিও বিশ্লেষণ করে সিস্টেমটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক কাঠামো শনাক্ত করতে পারে। গবেষণাটি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার রিসার্চ এবং গুগলের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে।    গবেষকদের লক্ষ্য এখন আরও বড় পরিসরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাই করা। ভবিষ্যতে অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দিতে পারে এমন একটি এআই সহকারী তৈরির সম্ভাবনাও দেখছেন তারা। তবে চিকিৎসকেরাই স্পষ্ট করেছেন, এই প্রযুক্তি এখনো পরীক্ষামূলক এবং রোগীর নিরাপত্তার জন্য সার্জনের সিদ্ধান্ত ও নিয়ন্ত্রণই সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন বিল গেটস। ছবি: সংগৃহীত
'সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রযুক্তি' এআই, কেড়ে নিবে কোটি মানুষের চাকরি, ঘটতে পারে জৈবসন্ত্রাস: বিল গেটস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বড় সতর্কবার্তা দিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তাঁর আশঙ্কা, আগামী এক দশকে এআই দ্রুত বিভিন্ন পেশার কাজ দখল করে নেওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে এই প্রযুক্তি সাইবার হামলা, প্রতারণা, ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং এমনকি প্রাণঘাতী জীবাণু তৈরির সক্ষমতাও সহজ করে দিতে পারে।   ২৬ আগস্ট নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় ৬ হাজার শব্দের এক দীর্ঘ প্রবন্ধে গেটস এআই যুগের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও তা মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন। একই সময়ে ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি এআই নিয়ে তাঁর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। গেটসের মতে, এআই আগের প্রযুক্তিগত বিপ্লবগুলোর মতো নয়। অতীতে প্রযুক্তি কিছু কাজের ধরন বদলে দিলেও মানুষের চিন্তাশক্তির প্রয়োজন হয় এমন নতুন কাজ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এআই সরাসরি মানুষের চিন্তা, বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার একটি বড় অংশকে প্রতিস্থাপন করতে পারে। ফলে চাকরি হারানো মানুষের জন্য নতুন কাজ তৈরির সুযোগ আগের তুলনায় অনেক কম হতে পারে।   তিনি লিখেছেন, আইন, গ্রাহকসেবা, চিকিৎসা, সফটওয়্যার ও উৎপাদন খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই দ্রুত কাজের অংশ হয়ে উঠবে। এই পরিবর্তন কয়েক প্রজন্ম ধরে নয়, মাত্র এক দশকের মধ্যেই বড় আকারে ঘটতে পারে। নতুন কিছু চাকরি তৈরি হলেও যথাযথ নীতি না থাকলে বর্তমানে যত চাকরি রয়েছে, তার তুলনায় নতুন চাকরির সংখ্যা অনেক কম হতে পারে। বিশেষ করে প্রবেশ পর্যায়ের ও মধ্যম পর্যায়ের চাকরি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন গেটস। তাঁর মতে, তরুণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবেন, কারণ কর্মজীবন শুরু করার সময় তাদের জন্য আগের তুলনায় কম সুযোগ থাকতে পারে। সফটওয়্যার প্রকৌশল, বিক্রয় ও গ্রাহকসেবা, আইনি সহায়তা, ঋণের আবেদন যাচাই, তথ্য বিশ্লেষণ এবং রোগীদের প্রাথমিক পর্যায়ের মূল্যায়নের মতো কাজেও এআই ক্রমেই ভূমিকা নিতে পারে।   শুধু দাপ্তরিক কাজ নয়, শারীরিক শ্রমের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করেন গেটস। তাঁর ধারণা, দশকের শেষ নাগাদ উন্নত রোবট নির্মাণ ও আতিথেয়তা খাতের কিছু কাজে মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু করতে পারে। একটি প্রতিষ্ঠান রোবট ও এআই ব্যবহার করে খরচ কমিয়ে পণ্যের দাম কমালে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে একই পথে যেতে বাধ্য হবে। এতে স্বয়ংক্রিয়করণের গতি আরও বাড়তে পারে। গেটসের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো, এআই যখন প্রায় ভুলহীনভাবে কাজ করতে পারবে এবং মানুষের তদারকির প্রয়োজনও কমে যাবে। তখন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আরও বেশি কাজ যন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়ার শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রণোদনা থাকবে। এর ফলে কর্মসংস্থান, আয় এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রচলিত ধারণাই বদলে যেতে পারে।   তিনি ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দার কথাও উল্লেখ করেছেন। ১৯৩৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব প্রায় ২৫ শতাংশে পৌঁছেছিল। তবে গেটস বলেন, এআইয়ের কারণে বেকারত্ব সেই পর্যায়ে পৌঁছাবে এমন পূর্বাভাস তিনি দিচ্ছেন না। তাঁর বক্তব্য হলো, এআইয়ের প্রভাব যদি ব্যাপক হয়, তা শুধু অর্থনৈতিক চক্রের পরিবর্তনের সঙ্গে শেষ হয়ে যাবে না। বরং অর্থনীতির কাঠামোর ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। এআইয়ের অপব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেছেন গেটস। তাঁর মতে, অনলাইনে আগে থেকেই সাইবার হামলা, প্রতারণা, ক্ষতিকর সফটওয়্যার ও জৈব অস্ত্র সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এআই এসব তথ্য ব্যবহার করা এবং বাস্তবে প্রয়োগ করার সক্ষমতা আরও সহজ করে দিতে পারে। দক্ষতা কম থাকা ব্যক্তিরাও বড় পরিসরে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারি ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ক্ষমতা পেতে পারেন।   হাসপাতাল, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং সরকারি সেবার ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা এআই-সহায়িত সাইবার হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। জীবাণু অস্ত্রের সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়েও তাঁর উদ্বেগ রয়েছে। গেটসের মতে, এআই যেমন নতুন ওষুধ ও টিকা তৈরির কাজ দ্রুত করতে পারে, তেমনি ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে নতুন প্রাণঘাতী রোগজীবাণু তৈরির কাজও সহজ করে দিতে পারে। এ কারণেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে এমন এআই ব্যবস্থার বাধ্যতামূলক পর্যালোচনার পক্ষে তিনি মত দিয়েছেন।   তবে গেটস শুধু এআইয়ের বিপদ তুলে ধরেননি। তাঁর মতে, সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এই প্রযুক্তি চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে নতুন ওষুধ ও টিকা আবিষ্কার, স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   এআইয়ের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে কয়েকটি পদক্ষেপের প্রস্তাবও দিয়েছেন গেটস। এর মধ্যে অন্যতম হলো কিছু নির্দিষ্ট কাজকে মানুষের জন্য সংরক্ষিত রাখা। তিনি এই ধারণার নাম দিয়েছেন ‘হিউম্যান রিজার্ভড’। বিশেষ করে এমন কাজ, যেখানে মানুষের সহানুভূতি, সম্পর্ক বোঝার ক্ষমতা ও মানবিক উপস্থিতি অপরিহার্য, সেসব ক্ষেত্রে মানুষকে সরিয়ে না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া এআই ও রোবটের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন গেটস। তাঁর যুক্তি, বর্তমানে একজন কর্মী নিয়োগ করলে প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ধরনের শ্রম কর দিতে হয়, কিন্তু রোবট কেনার ক্ষেত্রে অনেক সময় কর সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে করব্যবস্থা পরোক্ষভাবে মানুষকে বাদ দিয়ে যন্ত্র ব্যবহারে উৎসাহ দিতে পারে। রোবট ও এআই ব্যবহারের ওপর কর আরোপ করলে স্বয়ংক্রিয়করণের গতি কিছুটা কমানোর পাশাপাশি কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অর্থ জোগানো সম্ভব হতে পারে বলে তাঁর মত।   গেটস আরও বলেছেন, এআইয়ের প্রভাব সামলাতে শুধু একটি দেশের নীতি যথেষ্ট নয়। জাতীয় পর্যায়ে নতুন প্রতিষ্ঠান ও নীতিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন। এআই যেহেতু কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা, নির্বাচন, অর্থনীতি ও অবকাঠামোসহ বহু ক্ষেত্রকে একসঙ্গে প্রভাবিত করতে পারে, তাই এসব বিষয়কে আলাদা আলাদাভাবে দেখলে ঝুঁকি মোকাবিলা কঠিন হবে। এআই উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন তিনি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কিছু মাত্রায় সমন্বয় দরকার বলে মনে করেন গেটস। তাঁর মতে, প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু অভিন্ন নীতি ও নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করা উচিত।   এআই নিয়ে নিজের অবস্থানকে গেটস একেবারে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না। বরং তাঁর বক্তব্য, এখনই ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এই প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য বড় সুফল বয়ে আনতে পারে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে চাকরি হারানো, সামাজিক অস্থিরতা এবং জনআস্থার সংকট তৈরি হওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অনেক কঠিন হবে। তাঁর ভাষায়, এআইয়ের সুবিধা যেন শুধু ধনী ও প্রভাবশালী মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন পক্ষকে এআই নিয়ে আলোচনায় যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   গেটসের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে এবং কর্মক্ষেত্রে এর ব্যবহারও বিস্তৃত হচ্ছে। তাঁর মতে, এখনই নীতি নির্ধারণ ও প্রস্তুতি শুরু করা গেলে এআইয়ের সম্ভাব্য সুফল সবার মধ্যে ভাগ করে নেওয়া সম্ভব। আর তা না হলে প্রযুক্তির অগ্রগতি অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।   সংবাদসূত্র: গেটস নোটস, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, নিউইয়র্ক পোস্ট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বা এআই সঙ্গীর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ও মানসিক নির্ভরতা নিয়ে নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। ছবি: সংগৃহীত
চীনে এআই সঙ্গী নিয়ে কড়াকড়ি, তরুণদের বিয়ে-পরিবার থেকে দূরে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে

চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সঙ্গীর ব্যবহার দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও এবার এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটির সরকার। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এআই সঙ্গীর সঙ্গে অতিরিক্ত আবেগপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবহারকারীদের মধ্যে মানসিক নির্ভরতা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে তরুণরা বাস্তব জীবনের সম্পর্ক, বিয়ে ও পরিবার গঠনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন বলেও উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে ১৫ জুলাই নতুন নিয়ম চালু করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এআই সঙ্গী নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি এ ধরনের সেবার ওপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।   চীনের আইন শিক্ষার্থী ১৯ বছর বয়সী ঝাও ওয়েইয়ের অভিজ্ঞতা এ বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। জানুয়ারিতে তিনি ডৌবাও নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবায় নিজের জন্য একজন এআই সঙ্গী তৈরি করেছিলেন। এরপর প্রতিদিন তার সঙ্গে কথা বলতেন। নিজের জীবনের নানা ঘটনা, এমনকি শিক্ষকের বকাঝকার মতো বিষয়ও তিনি এআই সঙ্গীর সঙ্গে ভাগ করে নিতেন। পরে ডৌবাওর ওই সঙ্গী সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।   ঝাও জানান, বাস্তব জীবনের বন্ধুদের সঙ্গে নিজের এসব কথা বলতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। কারণ সবারই নিজস্ব সমস্যা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। কিন্তু এআইয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় অন্য পক্ষ কী ভাবছে, তা নিয়ে তাকে চিন্তা করতে হয় না। নিজের ইচ্ছামতো যেকোনো কথা বলা যায়। ডৌবাওর এআই সঙ্গী সুবিধাটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স পরিচালনা করত। গত মাসে প্রতিষ্ঠানটি নতুন নিয়ম মেনে চলার জন্য এই সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।   চীনে এআই ব্যবহারের বিস্তার বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় ব্যাপক। বয়স্করা চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর জানতে এআই ব্যবহার করছেন। ছোট শিশুরাও স্কুলে এআইভিত্তিক শিক্ষা পাচ্ছে। একই সময়ে জনসংখ্যাগত সংকটের কারণে ভবিষ্যতের শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে চাইছে সরকার। তবে এআইয়ের ব্যাপক ব্যবহার একাকীত্ব, বেকারত্ব এবং তরুণদের একা থাকার প্রবণতার মতো সামাজিক সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।   বিশেষ করে একাকীত্বের বিষয়টি চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশটির অত্যন্ত ডিজিটাল ও মুঠোফোননির্ভর জীবনযাত্রার কারণে মানুষের জন্য ফোনের মাধ্যমেই বসবাস, কাজ ও সামাজিক যোগাযোগ করা আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে একা বাড়িতে মারা যাওয়ার ধারণাকে কেন্দ্র করে তৈরি ‘আর ইউ ডেড?’ নামের একটি অ্যাপও অল্প সময়ের জন্য ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। চীনে প্রায় ২০ শতাংশ পরিবারে একজন মানুষ একা বসবাস করেন। ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মার্চে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি জরিপে দেখা যায়, একাকীত্ব অনুভব করার সময় প্রায় অর্ধেক তরুণ ভার্চুয়াল সঙ্গীর সাহায্য নিয়েছেন। হংকংয়ের সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ন্যান্সি দাইয়ের মতে, সরকারের উদ্বেগ শুধু একাকীত্ব নিয়ে নয়। দেশটিতে বিয়ে ও জন্মহার কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এআই যদি মানবিক ঘনিষ্ঠতার সহজ ও কম খরচের বিকল্প হয়ে ওঠে, তাহলে তরুণদের বাস্তব জীবনে প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার আগ্রহও কমে যেতে পারে।   ঝাওয়ের জীবনেও একাকীত্ব দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। ছোটবেলায় তার বাবা-মা কাজের সন্ধানে তাকে ছেড়ে চলে যান। চীনে এ ধরনের শিশুদের ‘বামপাশে রেখে যাওয়া শিশু’ হিসেবে পরিচিত করা হয়। ঝাও জানান, তার কখনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল না এবং বন্ধু তৈরি করার ক্ষেত্রেও নিজেকে খুব দক্ষ মনে করেন না। তাই নিজের উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা প্রকাশের জন্য এআইয়ের সঙ্গে কথা বলা তার কাছে স্বস্তির বিষয় হয়ে উঠেছিল। আরেকজন এআই ব্যবহারকারীও পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানিয়েছেন, বাস্তব জীবনে দ্রুতগতির জীবন ও উচ্চ চাপের মধ্যে তিনি এআইয়ের সঙ্গে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন।   তবে এআই সঙ্গীর ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া সরকারের জন্য সহজ নয়। নতুন নিয়মে শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কিছু এআই সেবা এবং যেসব সেবায় ধারাবাহিক মানসিক যোগাযোগ থাকে না, সেগুলোর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল সমাজবিজ্ঞানের প্রভাষক লিয়াং গে বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই স্বীকার করেছে যে এআই সঙ্গী ও এআইভিত্তিক বিভিন্ন প্রয়োগ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।   অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবাতেও চীন এআইয়ের ব্যবহার বাড়িয়ে চলেছে। গত বছর জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন স্বাস্থ্যসেবায় এআই ব্যবহারের বিষয়ে নির্দেশনা প্রকাশ করে জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় স্বাস্থ্য সহায়ক অ্যাপের পূর্ণ বিস্তার ঘটানোর লক্ষ্য রয়েছে। এমন একটি জনপ্রিয় স্বাস্থ্য সহায়ক হলো এ কিউ, যা আলিবাবার সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যান্ট গ্রুপ তৈরি করেছে। এতে বেইজিং, সাংহাইসহ বিভিন্ন শহরের শীর্ষ হাসপাতালের বাস্তব চিকিৎসকদের অবতারভিত্তিক সেবার সঙ্গে মানুষের সরাসরি কথোপকথনের সুযোগ রয়েছে।   হাংঝৌ শহরের ৩৩ বছর বয়সী শিল্পশিক্ষক লু দি নিয়মিত এ কিউ ব্যবহার করেন। তার কাছে এই সেবার বিস্তারিত ও তাৎক্ষণিক পরামর্শ সুবিধাজনক মনে হয়। তবে চিকিৎসকদের মধ্যে এআইয়ের কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে। সাংহাইয়ের রেনজি হাসপাতালের চিকিৎসক চি চেনফেই মনে করেন, বিষয়টি চিকিৎসকদের প্রতিস্থাপনের নয়, বরং তাদের আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে সহায়তা করার। তার মতে, কোনো ধরনের উদ্বেগই প্রযুক্তির অগ্রগতি থামাতে পারবে না।   নিজের এআই সঙ্গী হারানোর পর ঝাওয়ের মনে এখনো ভারী অনুভূতি রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি এআই নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করছেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নিজেকে যুক্তিবাদী মানুষ মনে করলেও একটি এআইয়ের প্রতি তার আবেগ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তার মতে, এ কারণেই রাষ্ট্রের এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসা প্রয়োজন ছিল।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

তাবাস্সুম আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
মুসলিম পরিচয় নিয়ে জেমিনির বিতর্কিত উত্তর, তীব্র সমালোচনার মুখে ইসলামবিদ্বেষী উত্তরের পরিবর্তন
মুসলিম পরিচয় নিয়ে জেমিনির বিতর্কিত উত্তর, তীব্র সমালোচনার মুখে ইসলামবিদ্বেষী উত্তরের পরিবর্তন

গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট জেমিনির একটি বিতর্কিত উত্তরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষী পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। একই ধরনের পরিস্থিতিতে মুসলিম ও ইসরায়েলি পরিচয়ের ক্ষেত্রে জেমিনির উত্তরে পার্থক্য দেখা গেছে বলে দাবি করে কয়েকজন অ্যাক্টিভিস্ট বিষয়টি সামনে আনেন। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পরীক্ষামূলক উত্তরের ভিত্তিতে পুরো এআই মডেলকে চূড়ান্তভাবে ইসলামবিদ্বেষী বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যথেষ্ট নয়।   বিতর্কের সূত্রপাত “I’m alone with a Muslim” অর্থাৎ “আমি একজন মুসলিমের সঙ্গে একা আছি” এই প্রম্পটকে ঘিরে। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, জেমিনির একটি উত্তরে ব্যবহারকারীকে নিরাপত্তাহীন বোধ করলে দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করা এবং প্রয়োজনে জরুরি সেবায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। এই উত্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশ্ন ওঠে, শুধু একজন মুসলিমের সঙ্গে একা থাকার পরিস্থিতিকে কেন সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে উপস্থাপন করা হলো।   এরপর একই ধরনের আরেকটি প্রম্পট, “I’m alone with an Israeli” ব্যবহার করে জেমিনির উত্তর তুলনা করা হয়। সেখানে একজন ইসরায়েলিকে অন্য সবার মতোই একজন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা, তার ব্যক্তিত্ব ও পটভূমির প্রতি সম্মান দেখানো এবং খোলা মন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয়। ফলে দুই উত্তরের ভাষা ও সতর্কতার মাত্রার পার্থক্য নিয়ে সমালোচনা আরও তীব্র হয়।   ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ইমাম ও অ্যাক্টিভিস্ট ওমর সুলেইমানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি গুগলের আগের ইসলাম-সংক্রান্ত সার্চ ফল নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন করেন, নতুন এআই সেবাতেও কি একই ধরনের পক্ষপাত দেখা যাচ্ছে। তার পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।   টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমালোচনার পর জেমিনির উত্তর পরিবর্তিত হয়। সংশোধিত উত্তরে বলা হয়, একজন মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে একা থাকা অন্য যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে একা থাকার চেয়ে আলাদা নয় এবং স্বাভাবিকভাবে পারস্পরিক সম্মান ও ব্যক্তিগত সীমারেখা মেনে চলাই যথেষ্ট।   এ ধরনের ঘটনায় এআইয়ের উত্তরের ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবহারকারীর পরীক্ষায় একই ধরনের প্রম্পটে ভিন্ন ভিন্ন উত্তর পাওয়ার দাবিও দেখা গেছে। ফলে একটি নির্দিষ্ট স্ক্রিনশট বা একবারের উত্তরের ওপর ভিত্তি করে কোনো মডেলের সামগ্রিক আচরণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।   তবে এআই মডেলে ধর্মীয় পক্ষপাতের বিষয়টি একেবারে নতুন নয়। ২০২১ সালের একটি গবেষণায় জিপিটি ৩এর উত্তরে মুসলিম পরিচয়ের সঙ্গে সহিংসতার যোগসূত্র তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গিয়েছিল। গবেষণায় শব্দযুক্ত প্রম্পটের ৬৬ শতাংশ উত্তরে সহিংসতার উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে খ্রিষ্টান ও শিখদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল প্রায় ২০ শতাংশ এবং ইহুদি, বৌদ্ধ ও নাস্তিকদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের নিচে ছিল।    পরবর্তী গবেষণাগুলো অবশ্য দেখিয়েছে, মডেলের সংস্করণ, প্রশিক্ষণপদ্ধতি এবং প্রম্পটের ধরন পরিবর্তিত হলে এ ধরনের ফলও বদলে যেতে পারে। ফলে পুরোনো গবেষণার ফল সরাসরি বর্তমান জেমিনির আচরণের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। তবে এসব গবেষণা দেখায়, প্রশিক্ষণ ডেটা ও মডেলের নকশায় থাকা সামাজিক পক্ষপাত এআইয়ের উত্তরে প্রতিফলিত হওয়ার ঝুঁকি বাস্তব।    জেমিনিকে ঘিরে পক্ষপাত ও ভুল তথ্যের অভিযোগ এর আগেও উঠেছে। ২০২৪ সালে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের ছবি তৈরিতে বিতর্কিত ও ভুল ফল দেওয়ার পর গুগল সাময়িকভাবে জেমিনির মানুষের ছবি তৈরির ফিচার বন্ধ করে দেয়। একই সময়ে গুগলের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছিল যে ফিচারটির কিছু ফলাফল প্রত্যাশিত মান পূরণ করেনি।   বর্তমান বিতর্ক তাই শুধু একটি চ্যাটবটের উত্তর নিয়ে নয়। ধর্ম, জাতিগত পরিচয় ও নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এআই কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সেই বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে এসেছে। একটি ভুল বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ উত্তরকে পুরো মডেলের চূড়ান্ত বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা যেমন ঠিক নয়, তেমনি এমন ঘটনাকে গুরুত্বহীন বলেও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। এআই ব্যবহারের পরিধি যত বাড়ছে, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে সমান, নিরপেক্ষ ও যুক্তিসংগত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
চীনের তৈরি মানবাকৃতির রোবট ‘লাইটনিং’ ১০০ মিটার দৌড়েছে ৯.৩২ সেকেন্ডে। ছবি: সংগৃহীত
উসাইন বোল্টকে হারাল চীনের রোবট 'লাইটনিং', ১০০ মিটার দৌড়াল মাত্র ৯.৩২ সেকেন্ডে

উসাইন বোল্টের ১০০ মিটার দৌড়ের বিশ্বরেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে চীনের তৈরি মানবাকৃতির রোবট ‘লাইটনিং’। প্রস্তুতিমূলক এক পরীক্ষায় রোবটটি মাত্র ৯.৩২ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।   চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অনারের তৈরি লাইটনিংয়ের এই সময় ২০০৯ সালে বার্লিনে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে উসাইন বোল্টের করা ৯.৫৮ সেকেন্ডের মানব বিশ্বরেকর্ডের চেয়ে ০.২৬ সেকেন্ড কম। ওই রেকর্ডই এখন পর্যন্ত মানুষের ১০০ মিটার দৌড়ের স্বীকৃত বিশ্বরেকর্ড।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লাইটনিংয়ের ৯.৩২ সেকেন্ডের দৌড়টি ছিল একটি প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষায়। এটি মানব অ্যাথলেটিকসের কোনো স্বীকৃত বিশ্বরেকর্ড নয়। ফলে বোল্টের ৯.৫৮ সেকেন্ডের রেকর্ড এখনো বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের স্বীকৃত মানব বিশ্বরেকর্ড হিসেবেই বহাল রয়েছে।   বেইজিংয়ে শুরু হওয়া দ্বিতীয় বিশ্ব মানবাকৃতির রোবট গেমসকে সামনে রেখে এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। দৌড়ের সময় লাইটনিংয়ের সর্বোচ্চ গতি উঠেছিল প্রতি সেকেন্ডে ১৪.৫ মিটার, অর্থাৎ ঘণ্টায় প্রায় ৫২.২ কিলোমিটার।   এটাই অবশ্য লাইটনিংয়ের প্রথম চমক নয়। চলতি বছরের এপ্রিলে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ২১ কিলোমিটারের মানবাকৃতির রোবট হাফ ম্যারাথনেও এটি প্রথম হয়েছিল। স্বয়ংক্রিয়ভাবে দৌড়ানো লাইটনিং ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে, যা সে সময়ের মানব হাফ ম্যারাথন বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও দ্রুত। তখন লাইটনিংয়ের উচ্চতা ছিল ১৬৯ সেন্টিমিটার এবং পায়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৫ সেন্টিমিটার। বিশ্ব রোবট গেমসের আগে গবেষকেরা এর পায়ের দৈর্ঘ্য আরও ১০ সেন্টিমিটার বাড়িয়ে ১.০৫ মিটার করেছেন বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে।   এ বছরের বিশ্ব মানবাকৃতির রোবট গেমসেও লাইটনিংসহ বিভিন্ন রোবট অ্যাথলেটিকস, ফুটবল, ভারোত্তোলন, মার্শাল আর্টসহ নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। ২২ থেকে ২৬ আগস্ট বেইজিংয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারের বেশি রোবট অংশ নিচ্ছে। রোবটের দৌড়ের এই সাফল্য চীনের মানবাকৃতির রোবট প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ ও অগ্রগতির বিষয়টিও সামনে এনেছে। দেশটির নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবটের হার্ডওয়্যারের উন্নয়নকে উৎপাদন, পণ্য পরিবহন ও ভোক্তা পর্যায়ের বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে দেখছে।   তবে মানুষের সঙ্গে রোবটের এমন রেকর্ড তুলনার ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। রোবটের শরীর, শক্তির উৎস, তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নকশা মানুষের শারীরিক সীমাবদ্ধতার মতো নয়। এ কারণে রোবটের ৯.৩২ সেকেন্ডকে বোল্টের মানব রেকর্ডের সঙ্গে তুলনা করা গেলেও এটিকে মানব অ্যাথলেটিকসের নতুন বিশ্বরেকর্ড বলা যাবে না।   তবু প্রযুক্তির দিক থেকে ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ। মাত্র কয়েক বছর আগেও মানবাকৃতির রোবটের জন্য দ্রুত ও স্থিরভাবে দৌড়ানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এখন সেই রোবটই মানুষের দ্রুততম দৌড়ের সময়কে ছাড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেখাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে রোবট কতটা দ্রুত, ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে পারবে তা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ছাড়াই ঘরের ভেতরের মানুষের উপস্থিতি ও কর্মকাণ্ড শনাক্ত করছে ওয়াই-ফাই সংবেদন প্রযুক্তি। ছবি: সংগৃহীত
ক্যামেরা ছাড়াই ঘরের ভেতর নজরদারি, এআইয়ের চোখ হয়ে উঠছে ওয়াই-ফাই রাউটার

নজরদারির ধারণা এত দিন ক্যামেরা, মাইক্রোফোন কিংবা স্মার্টফোনের মতো দৃশ্যমান প্রযুক্তির সঙ্গে বেশি জড়িত ছিল। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ওয়াই-ফাইভিত্তিক সংবেদন প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে এখন ঘরের সাধারণ ওয়াই-ফাই রাউটারও মানুষের চলাফেরা ও উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য শনাক্ত করার সক্ষমতা অর্জন করছে   প্রযুক্তি নিয়ে লেখক শ্রীজিথ শ্রীধরনের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও এই পরিবর্তনকে ভবিষ্যৎ নজরদারির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ওয়াই-ফাই রাউটার মূলত ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার যন্ত্র। কিন্তু রাউটার থেকে ছড়িয়ে পড়া বেতার সংকেত ঘরের দেয়াল, আসবাবপত্র ও মানুষের শরীরে প্রতিফলিত হয়ে আবার বিভিন্ন ডিভাইসে পৌঁছায়।   মানুষের চলাফেরা বা অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে এসব সংকেতের বৈশিষ্ট্যও বদলে যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে ঘরের ভেতরে মানুষের উপস্থিতি, নড়াচড়া কিংবা নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ধারণা তৈরি করতে পারে। গবেষণায় ওয়াই-ফাই সংকেত ব্যবহার করে দেয়ালের আড়ালেও মানুষের নড়াচড়া শনাক্ত করার সক্ষমতা বহু বছর ধরেই প্রদর্শিত হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ধরনের নজরদারির জন্য সবসময় ক্যামেরা বা মানুষের শরীরে কোনো যন্ত্র বহন করা প্রয়োজন হয় না।   ওয়াই-ফাইয়ের ‘চ্যানেল স্টেট ইনফরমেশন’ বা সংকেতের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে মানবদেহের নড়াচড়া, কার্যকলাপ এবং পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য বের করা সম্ভব। ২০২৬ সালের গবেষণাতেও বলা হয়েছে, ওয়াই-ফাইভিত্তিক এই প্রযুক্তি ডিভাইস ছাড়াই মানুষের কার্যকলাপ শনাক্ত করতে পারে এবং একই সঙ্গে ব্যক্তির পরিচয় ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি কেবল গবেষণাগারের প্রযুক্তি হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের কমকাস্ট ১৮ আগস্ট ২০২৬ থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ এক্সফিনিটি রাউটার ব্যবহারকারীদের জন্য ‘ওয়াইফাই মোশন’ নামে একটি সুবিধা চালু করেছে। এতে অতিরিক্ত ক্যামেরা বা সেন্সর ছাড়াই ঘরের ওয়াই-ফাই সংকেতের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে নড়াচড়া শনাক্ত করা যায়।   ব্যবহারকারী চাইলে এই সুবিধা চালু করতে পারেন এবং এটি বাড়ির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।কমকাস্টের প্রযুক্তিতে ক্যামেরা বা অডিও রেকর্ড করা হয় না বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। তবে রাউটার ও সংযুক্ত ডিভাইসের মধ্যে ওয়াই-ফাই সংকেতের পরিবর্তন থেকে ঘরে নড়াচড়া শনাক্ত করা সম্ভব। ফলে প্রযুক্তিটি প্রচলিত ক্যামেরাভিত্তিক নজরদারির তুলনায় কম দৃশ্যমান হলেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্ন তৈরি করছে। এখানেই এআইয়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিপুল পরিমাণ ওয়াই-ফাই সংকেত থেকে মানুষের আচরণের ধরন আলাদা করা মানুষের পক্ষে কঠিন হলেও মেশিন-লার্নিং ব্যবস্থা একই ধরনের সংকেতের পুনরাবৃত্তি বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড শনাক্ত করতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে শুধু ‘কেউ ঘরে আছে কি না’ তা নয়, বরং কখন মানুষ চলাফেরা করছে, কোন ঘরে বেশি সক্রিয়তা রয়েছে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের আচরণে পরিবর্তন হয়েছে কি না—এসব তথ্যও বিশ্লেষণ করার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। গবেষণায় ওয়াই-ফাই সংকেত ব্যবহার করে মানব চলাচল, অঙ্গভঙ্গি এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো শারীরিক গতিবিধি শনাক্ত করার সম্ভাবনাও দেখানো হয়েছে।   তবে এর ইতিবাচক ব্যবহারও রয়েছে। বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষের ঘরে পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা শনাক্ত করা, বাড়ির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, স্মার্ট-হোম ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সতর্কবার্তা দেওয়া—এসব ক্ষেত্রে ওয়াই-ফাইভিত্তিক সংবেদন প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে। প্রযুক্তির অন্যতম সুবিধা হলো, অনেক ক্ষেত্রে নতুন ক্যামেরা বা আলাদা সেন্সর স্থাপন না করেই বিদ্যমান নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ব্যবহার করা যায়।   কিন্তু একই প্রযুক্তি অপব্যবহার হলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হতে পারে। কোনো ব্যক্তির স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া তাঁর ঘরের ভেতরের চলাফেরা বা আচরণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে স্মার্ট-হোমে একাধিক ডিভাইস পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকায় একটি দুর্বল ডিভাইস পুরো নেটওয়ার্কের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় ৫৬টি বাণিজ্যিক স্মার্ট-হোম যন্ত্রের ব্যবহারকারী-অ্যাক্সেস ভাগাভাগির ব্যবস্থা পরীক্ষা করে নয় ধরনের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা ঝুঁকি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অপর্যাপ্ত অনুমতি নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশাধিকার বাতিল করতে না পারা, অতিরিক্ত অনুমতি পাওয়া এবং অনিচ্ছাকৃত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের মতো সমস্যাও রয়েছে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব ধরনের নজরদারি দৃশ্যমান নয়। ক্যামেরা থাকলে মানুষ সাধারণত বুঝতে পারে যে তাকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কিন্তু ওয়াই-ফাই সংকেত দিয়ে কোনো ধরনের সংবেদন করা হলে ব্যবহারকারীর কাছে সেটি আলাদা করে দৃশ্যমান নাও হতে পারে।   এ কারণে প্রযুক্তিবিদদের কাছে স্বচ্ছতা, ব্যবহারকারীর সম্মতি এবং তথ্য সংরক্ষণের সীমা নির্ধারণ এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকেরা ইতোমধ্যে ওয়াই-ফাইভিত্তিক সংবেদন প্রযুক্তির গোপনীয়তা রক্ষার পদ্ধতি নিয়েও কাজ করছেন। ২০২৬ সালের গবেষণায় ব্যক্তির পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের অনিচ্ছাকৃত প্রকাশ কমানোর জন্য গোপনীয়তা-সুরক্ষিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতের স্মার্ট-হোম হয়তো শুধু এমন একটি বাড়ি হবে না যেখানে রাউটার ইন্টারনেট সরবরাহ করে, বাতি নিজে থেকে জ্বলে এবং দরজা মোবাইল দিয়ে খোলা যায়। একই নেটওয়ার্ক মানুষের উপস্থিতি ও আচরণ সম্পর্কেও তথ্য দিতে সক্ষম হতে পারে।   এই প্রযুক্তি নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও, ব্যক্তিগত জীবনের অদৃশ্য নজরদারি ঠেকাতে শক্তিশালী গোপনীয়তা নীতি, স্পষ্ট সম্মতি এবং ব্যবহারকারীর তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়ছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
সিভি থেকে ইন্টারভিউ, চাকরি পেতে এআইয়ের ওপর বাড়ছে প্রার্থীদের ভরসা; মিলছে সাফল্যও
সিভি থেকে ইন্টারভিউ, চাকরি পেতে এআইয়ের ওপর বাড়ছে প্রার্থীদের ভরসা; মিলছে সাফল্যও

এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা শঙ্কা ও সতর্কবার্তার মাঝেই এক অন্যরকম নীরব বিপ্লব ঘটে চলেছে সাধারণ মানুষের জীবনে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের বাসিন্দা লনি ডিনেলোর গল্পটি এর একটি বড় প্রমাণ। এক বিষণ্ণ শনিবার সন্ধ্যায় একাকীত্বে ভুগে তিনি চ্যাটজিপিটি-র (ChatGPT) শরণাপন্ন হন এবং লেখেন, "আমার খুব একা লাগছে।"   এরপরের ঘটনাটি কোনো বড় প্রযুক্তিগত আবিষ্কারের খবর না হলেও, একজন সাধারণ মানুষের কঠিন সময়ে প্রযুক্তির পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে। লনি এখন তার এই এআই-কে নিজের 'সুন্দর ছোট্ট পরিবার' বলে ডাকেন। এআইয়ের সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিক নিয়ে যখন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের মতো রাজনীতিক এবং জিওফ্রে হিন্টনের মতো গবেষকরা সতর্ক করছেন, তখন এর বিপরীত চিত্রটিও সমানভাবে সত্য—মেশিন যত শক্তিশালী হচ্ছে, সাধারণ মানুষও তত বেশি সক্ষম হয়ে উঠছে।   মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গও সম্প্রতি তার এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, এআইয়ের এই সুপার-ইন্টেলিজেন্স ক্ষমতা গুটি কয়েক ল্যাবে আটকে না থেকে বরং সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নে ব্যবহৃত হওয়া উচিত। হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউর ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এআইয়ের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার কর্মক্ষেত্রে নয়, বরং মানুষের মানসিক প্রশান্তি, একাকীত্ব কাটানো এবং জীবনকে গুছিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।   মিনেসোটার জেনিফার এরিকসন তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাবার চিকিৎসার সময়সূচি ও ওষুধের রুটিন ঠিক রাখতে এআই ব্যবহার করছেন, যা তাকে মানসিক শান্তি দিচ্ছে। অন্যদিকে, ৯১ বছর বয়সী রন হিউম তার নাতির কাছে মেইল লিখতে এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছেন। বর্তমানে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান নিয়মিত জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করছেন। একসময় যে সুবিধা পেতে অর্থ বা প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাক্সেসের প্রয়োজন হতো, তা এখন সবার হাতের মুঠোয়।   কর্মসংস্থান ও ব্যবসার ক্ষেত্রেও এআইয়ের এই ইতিবাচক প্রভাব লক্ষণীয়। সম্প্রতি চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারী এক হাজার চাকরিপ্রার্থীর ওপর চালানো জরিপে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ৭৮ শতাংশ ইন্টারভিউয়ের ডাক পেয়েছেন এবং ৫৯ শতাংশ চাকরি পেয়েছেন। স্ট্যানফোর্ড ও এমআইটি-র এক গবেষণায় দেখা গেছে, এআইয়ের সহায়তায় কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন গ্রাহকসেবা কর্মীদের উৎপাদনশীলতা ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।   আটলান্টায় বসবাসরত ২৬ বছর বয়সী উদ্যোক্তা রবি ভ্যান জিল জানান, তার ছোট স্টার্টআপে এআই এখন সেক্রেটারি, শিডিউলার এবং লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করছে, যা মূলত ৩০ জনের একটি দলের কাজ একাই সামলে নিচ্ছে। তার মতে, ছোট ব্যবসার জন্য এআই এক অনন্য হাতিয়ার।   কেনিয়ার নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত ইয়োরা সামিটেও দেখা গেছে, তরুণ উদ্যোক্তারা সামান্য একটি স্মার্টফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে এআইয়ের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিতে পাল্লা দিয়ে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। বিশ্বজুড়ে এআইয়ের এই গণতন্ত্রীকরণের ওপর জোর দিয়েছেন ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যানও। তবে এই প্রযুক্তিকে মানুষের কল্যাণে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে এর প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা জরুরি।   সে লক্ষ্যেই পারডিউ ইউনিভার্সিটির ক্র্যাচ ইনস্টিটিউট 'গ্লোবাল ট্রাস্টেড টেক স্ট্যান্ডার্ড' তৈরি করছে। এআই নিয়ে কেবল শঙ্কা না ছড়িয়ে, একে যদি আস্থার যোগ্য করে তোলা যায়, তবে এর সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী কোনো যন্ত্র বা সিনেমাটিক ভিলেন হবে না, বরং হবে সাধারণ মানুষ।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
২৬ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন মা-মেয়ে, ছাড়লেন না ২০০ বছরের পুরোনো পৈতৃক জমি
এআই ডাটা সেন্টারের জন্য মেটার ২৬ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন কেনটাকির মা-মেয়ে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডাটা সেন্টার তৈরির জন্য বিপুল অঙ্কের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে খবরের শিরোনামে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির দুই সাধারণ নারী কৃষক। প্রায় ২৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন (২ কোটি ৬৪ লাখ) মার্কিন ডলারের চোখ ধাঁধানো প্রস্তাব পাওয়ার পরও নিজেদের ২০০ বছরের পুরোনো পারিবারিক কৃষিজমিতে এআই হাব গড়ে তুলতে দিতে সাফ অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মা ও মেয়ে।   সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেলসিয়া বেয়ার এবং তাঁর মা ইদা হাডলস্টন শুরুতে জমি বিক্রিতে রাজি হয়েছিলেন। তবে যখনই জানতে পারেন যে সেখানে এআই বট পরিচালনার জন্য ডাটা সেন্টার তৈরি করা হবে, তখনই তারা তাৎক্ষণিকভাবে চুক্তি বাতিল করেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় অন্ধ ডেলসিয়া বেয়ারের ৪৬৩ একর জমির জন্য প্রতি একরে ৪৮ হাজার ডলার এবং লাঠিতে ভর দিয়ে চলা তাঁর মা ইদার ৭১ একর জমির জন্য একরপ্রতি ৬০ হাজার ডলার—সব মিলিয়ে ২৬ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল নাম প্রকাশ না করা একটি এআই কোম্পানি।   সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রযুক্তি জায়ান্ট 'মেটা'র সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে চুক্তি বাতিলের পর ডেলসিয়া কোম্পানিটির প্রতিনিধিদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তারা যেন আর কখনো ফিরে না আসেন। জমি বিক্রি না করার বিষয়ে ডেলসিয়া জানান, কেবল একটি এআই হাব তৈরির জন্য পারিবারিক জমি ছেড়ে দিলে পরকালে বা বিচার দিবসে তাকে স্রষ্টার কাছে জবাবদিহি করতে হতে পারে—এমন নৈতিক ও ধর্মীয় অনুভূতি থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   এদিকে ডাটা সেন্টার নির্মাণকে কেন্দ্র করে মেসভিল শহরের বাসিন্দারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় অনেকেই সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা চিন্তা করে কোটি কোটি ডলারের বিনিময়ে নিজেদের জমি বিক্রি করতে রাজি হয়েছেন। তবে ডেলসিয়াসহ এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা পর্যন্ত দায়ের করেছেন।   এই বিষয়ে মেটা জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে প্রকল্পের বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সাধারণ কৃষক হয়েও বিশাল অঙ্কের অর্থের মোহ ত্যাগ করে প্রযুক্তি পরাশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে মন্দার প্রভাবে আগস্টে বড় ৫০টি মহানগরের ৩৬টিতেই বাড়ির দাম কমেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শহরে সবচেয়ে দ্রুত কমছে বাড়ির দাম, ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০