- প্রচ্ছদ
- Topic
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার স্থগিতের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ম্যানহাটনের লা গার্ডিয়া হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে মিছিল নিয়ে লিংকন সেন্টারের দিকে যায়। এআইয়ের বিস্তার তাঁদের ভবিষ্যৎ পেশা, সৃজনশীলতা ও নিজস্ব চিন্তাশক্তির জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে, এমন উদ্বেগ থেকেই এই কর্মসূচি পালন করে তারা। নিউইয়র্কের পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়েও একই দিনে এআইবিরোধী প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। লা গার্ডিয়া হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা দুপুরে স্কুল থেকে বেরিয়ে ৬৫তম সড়ক ধরে মিছিল করে। এ সময় তাদের স্লোগান ছিল, ‘কার ভবিষ্যৎ? আমাদের ভবিষ্যৎ।’ স্কুলটির জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী মিকে নিভেরগেল্ট বলেন, এআইয়ের প্রভাব নিয়ে যাদের প্রতিবাদ করতে হচ্ছে, তারা নিজেরাই শিক্ষার্থী। তাঁর মতে, প্রযুক্তিটির ব্যবহার তরুণদের চিন্তাভাবনা ও ভবিষ্যতের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের আরও গভীরভাবে ভাবা প্রয়োজন। শিল্পচর্চার ক্ষেত্রে নিজের সৃষ্টির স্বকীয়তা বজায় রাখার ওপরও জোর দেন তিনি। শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের বড় একটি জায়গা হলো শিল্প ও সৃজনশীল পেশায় এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার। স্কুলটির শিক্ষার্থী টোবিন সরবেলো ভবিষ্যতে চলচ্চিত্রের সংগীত রচয়িতা হতে চান। কিন্তু তাঁর আশঙ্কা, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের পরিচালক কিংবা সংগীত প্রযোজকেরা মানুষের পরিবর্তে এআইয়ের তৈরি সংগীত ব্যবহার করতে পারেন। এতে নতুন শিল্পীদের কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের মতে, প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি কাজ তাঁদের নিজস্ব শিল্পীসত্তা ও পরিশ্রমের বিকল্প হয়ে উঠলে সৃজনশীলতার মূল্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শ্রেণিকক্ষেও এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন লা গার্ডিয়ার শিক্ষার্থীরা। তাদের বক্তব্য, স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রমে এআই দিয়ে তৈরি সংগীত ও পোস্টার ব্যবহারের ঘটনায় অনেকেই হতাশ হয়েছে। বার্ষিক প্রতিভা প্রদর্শনী ‘রাইজিং স্টারস’-এর প্রচারসামগ্রী তৈরিতেও এআই ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের প্রশ্ন, স্কুলে যখন মৌলিক শিল্পকর্ম তৈরিতে দক্ষ শিক্ষার্থীরা রয়েছে, তখন প্রচারপত্র তৈরির মতো কাজে এআইয়ের ওপর নির্ভর করতে হবে কেন। লেখালেখির ক্লাবের শিক্ষার্থী আলেকজান্দ্রে রোলাঁ-ডাইকহুইস বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখা গল্প তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পরিচয়ের প্রতিফলন, যা এআই দিয়ে তৈরি লেখার সঙ্গে এক করে দেখা যায় না। নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলগুলোতে এআই ব্যবহারের নীতিমালাও এ বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মেয়র জোহরান মামদানি ও স্কুল চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলস ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য জেনারেটিভ এআই ব্যবহারে এক বছরের স্থগিতাদেশ ঘোষণা করেন। তবে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে নির্দিষ্ট শর্তে এআই ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। অনুমোদিত পাঁচটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় শিক্ষক-তত্ত্বাবধানে কিছু এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি সব উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীর জন্য এআই বিষয়ে সচেতনতামূলক পাঠও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের এই নীতিতে ছোট শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চিন্তাশক্তি ও মানবিক যোগাযোগ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। কিন্তু লা গার্ডিয়ার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মনে করছে, এআইয়ের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হওয়ার আগে এর প্রভাব, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের ঝুঁকি নিয়ে স্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। নিউইয়র্কের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একই দিনে প্রতিবাদ হয়েছে। আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে ওপেনএআইয়ের কার্যালয়ের বাইরেও জড়ো হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ, নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ হাজারেরও বেশি স্কুল জেলার শিক্ষা বোর্ডের বৈঠকের আলোচ্যসূচি পর্যবেক্ষণ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে রক্ষণশীল অভিভাবক অধিকার সংগঠন ‘মমস ফর লিবার্টি’। ‘এমফোরএল অ্যাওয়্যার’ (M4L AWARE) নামের এই ব্যবস্থা প্রতি ১২ ঘণ্টা পরপর স্কুল বোর্ডের প্রকাশিত নথি স্ক্যান করবে। বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি নীতি, লিঙ্গবিষয়ক নীতিমালা এবং পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের মতো বিষয় শনাক্ত করে স্থানীয় সংগঠনের সদস্যদের সতর্কবার্তা পাঠাবে এটি। সংগঠনটির লক্ষ্য, কোনো প্রস্তাবের ওপর বোর্ডের ভোট হওয়ার আগেই অভিভাবকেরা যেন তা পর্যালোচনা করে নিজেদের মতামত জানাতে পারেন। গত ৯ অক্টোবর ডালাসে সংগঠনটির জাতীয় সম্মেলনে নতুন এই ব্যবস্থার ঘোষণা দেওয়া হয়। মমস ফর লিবার্টির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিনা ডেসকোভিচের উদ্যোগে চালু হওয়া ব্যবস্থাটির নামের পূর্ণরূপ ‘অ্যাজেন্ডা ওয়াচ, অ্যালার্ট, রেসপন্স অ্যান্ড এনগেজ’। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ও জটিল আলোচ্যসূচির মধ্যে অভিভাবকদের উদ্বেগের কারণ হতে পারে এমন প্রস্তাব খুঁজে বের করাই এর প্রধান কাজ। এরপর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরে স্থানীয় শাখাগুলোকে জানানো হবে, যাতে তারা সংশ্লিষ্ট স্কুল বোর্ডের বৈঠকের আগেই প্রস্তুতি নিতে পারে। সংগঠনটির মতে, স্কুল বোর্ডের সভায় কী আলোচনা হবে, তা অনেক সময় অভিভাবকেরা যথাসময়ে জানতে পারেন না। দীর্ঘ নথি পড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব খুঁজে বের করা সময়সাপেক্ষ হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই অনেকের পক্ষে মতামত জানানো কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন এআই ব্যবস্থাটি এই সময়ের ঘাটতি কমাতে পারে। মমস ফর লিবার্টির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, কোনো আলোচ্যসূচির গভীরে থাকা বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তিবিষয়ক চুক্তি কিংবা লিঙ্গনীতি শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকেরা স্কুল বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জনমত জানানোর প্রস্তুতি নিতে পারবেন। এআই ব্যবহারের বিষয়টি অবশ্য সংগঠনটির আগের অবস্থানের সঙ্গে আপাতদৃষ্টিতে বৈপরীত্য তৈরি করেছে। শিশুদের শিক্ষা ও বিকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসা এই সংগঠন এখন স্কুলের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণেই প্রযুক্তিটির সহায়তা নিচ্ছে। তবে সংগঠনটির বক্তব্য, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদান বা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের জায়গা এআইয়ের দখল নেওয়া উচিত নয়। তাদের নতুন ব্যবস্থায় প্রযুক্তি শুধু তথ্য খুঁজে বের করবে, আর কোন প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বা উদ্বেগজনক, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন অভিভাবকেরাই। মমস ফর লিবার্টির দাবি, নতুন ব্যবস্থাটি আলোচ্যসূচির বিভিন্ন বিষয়কে অভিভাবকদের অধিকার ও সংগঠনটির অগ্রাধিকারের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ করবে। ফলে কোন প্রস্তাব নিয়ে আগে খোঁজখবর নেওয়া প্রয়োজন, তা দ্রুত বোঝা যাবে। তবে এই শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে কোন বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেটি নির্ভর করবে ব্যবস্থাটির নির্ধারিত মানদণ্ডের ওপর। যে নীতিকে সংগঠনটি উদ্বেগজনক মনে করে, অন্য অভিভাবক বা শিক্ষকেরা সেটিকে ভিন্নভাবে দেখতে পারেন। তাই এআইয়ের সতর্কবার্তা নিজে থেকে কোনো নীতির যথার্থতা বা ক্ষতিকর হওয়ার প্রমাণ নয়। এখন পর্যন্ত ব্যবস্থাটি কতটা নির্ভুলভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব শনাক্ত করতে পারে, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। ফলে ভুলভাবে কোনো বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রস্তাব শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সংগঠনটি অবশ্য বলছে, অভিভাবকেরা সতর্কবার্তার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে মূল নথি পড়তে পারবেন এবং প্রয়োজনে স্কুল বোর্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। মমস ফর লিবার্টি যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবকদের শিক্ষা-সংক্রান্ত অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি রক্ষণশীল সংগঠন। দেশটির সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সংগঠনটির যোগাযোগ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৩ ও ২০২৪ সালে তাদের জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছিলেন। নতুন এআই ব্যবস্থা চালুর ফলে স্থানীয় স্কুলগুলোর নীতিমালা নিয়ে অভিভাবকদের সংগঠিত হওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হতে পারে। একই সঙ্গে কোন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে প্রযুক্তির ভূমিকা বাড়ায় স্থানীয় শিক্ষা-সংক্রান্ত বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সূত্র: নিউজউইক, ফক্স নিউজ ডিজিটাল ও মমস ফর লিবার্টির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
বিয়ের স্বপ্ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত এক নারীর সঙ্গে দেখা করতে নিজের সব সম্পদ বিক্রি করে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ব্রাজিলের ৪৯ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক এডিমার রোশা মার্টিন্স। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে জানতে পারেন, যে নারীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার আশা করেছিলেন, বাস্তবে তাঁর কোনো অস্তিত্বই নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ‘জেসিকা অলিভেইরা’ নামের ওই নারী আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র। ঘটনাটি ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারানিয়াও অঙ্গরাজ্যের ইম্পেরাত্রিজ শহরে থাকতেন মার্টিন্স। ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জেসিকা অলিভেইরা’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই চরিত্রটি ‘জেসিকা ফাজেন্দেইরা’ নামেও পরিচিত ছিল। অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে তাকে খামারের মালিক হিসেবে তুলে ধরা হতো। সেখানে সে একজন জীবনসঙ্গী খুঁজছে বলে জানাত এবং নিজের খামারে নিয়ে গিয়ে সঙ্গীকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতিও দিত। এসব দেখে মার্টিন্স বিশ্বাস করেছিলেন, তিনি বাস্তব একজন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। গত ৯ অক্টোবর মার্টিন্স সিদ্ধান্ত নেন, এবার সরাসরি দেখা করবেন ওই নারীর সঙ্গে। বাসভাড়ার অর্থ জোগাড় করতে নিজের জিনিসপত্র বিক্রি করে দেন তিনি। এরপর মারানিয়াও থেকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তের উদ্দেশে যাত্রা করেন। দুই শহরের দূরত্ব দুই হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। ১১ অক্টোবর সেখানে পৌঁছে কথিত প্রেমিকার খোঁজ শুরু করেন তিনি। কিন্তু কোথাও তাঁকে না পেয়ে স্থানীয় একটি বেতারকেন্দ্রে যান। সেখানেই তাঁকে জানানো হয়, ওই নারী বাস্তবে নেই এবং তাঁর পরিচয়টি ভুয়া। যাত্রার জন্য সব সম্পদ বিক্রি করে দেওয়ায় বেলো হরিজন্তে পৌঁছানোর পর মার্টিন্স আর্থিক সংকটে পড়েন। দেশে ফেরার মতো অর্থও তাঁর হাতে ছিল না। পরে তিনি শহর কর্তৃপক্ষের অভিবাসী সহায়তা কেন্দ্রে যান এবং সমাজকর্মীদের কাছে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। কর্তৃপক্ষ তাঁকে খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ফেরার টিকিটের ব্যবস্থাও করে। টিভি মিরান্তেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্টিন্স বলেন, তিনি একাকিত্ব থেকে বেরিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার আশায় এই যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। মার্টিন্সের যাত্রার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ‘জেসিকা ফাজেন্দেইরা’ অ্যাকাউন্টের পেছনে থাকা ব্যক্তি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে চরিত্রটি তৈরি করা হয়েছে বলে স্বীকার করা হয়। একই সঙ্গে মার্টিন্সের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কখনো কথা বলা বা তাঁকে বেলো হরিজন্তে আসার আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। ভিডিওতে বলা হয়, অ্যাকাউন্টটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের আগ্রহ তৈরি এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ওই অ্যাকাউন্টের অনুসারীর সংখ্যা তিন লাখের বেশি ছিল বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। এত কিছুর পরও নতুন করে জীবনসঙ্গী খোঁজার আশা ছাড়েননি মার্টিন্স। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আবার বেলো হরিজন্তে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে, তবে এবার বাস্তব কোনো মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আশায়। তাঁর এই অভিজ্ঞতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বাস্তবসম্মত ছবি, ভিডিও ও অনলাইন পরিচয়ের বিষয়ে নতুন করে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। অনলাইনে কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠলে তাঁর পরিচয় যাচাই করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরাসরি যোগাযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা যে জরুরি, ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
উচ্চগতির ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নতুন একটি টর্পেডোর পানির নিচে পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘জ্যাম-২.০’ নামের এই অস্ত্র শত্রুর লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে এবং সেদিকে নির্ভুলভাবে এগিয়ে যেতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে। গত বৃহস্পতিবার পরীক্ষাটি চালানো হয় বলে জানানো হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এই পরীক্ষা দেশটির নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে অস্ত্রটির প্রকৃত গতি, পাল্লা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) শনিবার পরীক্ষার খবর প্রকাশ করে। তাদের ভাষ্য, টর্পেডোটির চালনা ব্যবস্থা ও রকেটচালিত প্রপালশন প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে এ-সংক্রান্ত প্রযুক্তির ওপর ১৮০টিরও বেশি পরীক্ষা চালানোর পর সাম্প্রতিক পরীক্ষাটি নেওয়া হয়। দেশটির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা একে নৌবাহিনীর উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে পরীক্ষার স্থান, অস্ত্রটির কার্যকর পাল্লা কিংবা বাস্তব পরিস্থিতিতে এর সক্ষমতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়, এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জ্যাম-২.০ এমন এক ধরনের টর্পেডো হতে পারে, যা পানির নিচে চলার সময় নিজের সামনের অংশে বায়ুর বুদ্বুদ তৈরি করে পানির বাধা কমায়। এ প্রযুক্তিকে ‘সুপারক্যাভিটেশন’ বলা হয়। এর ফলে প্রচলিত টর্পেডোর তুলনায় অনেক বেশি গতিতে চলা সম্ভব হতে পারে। তবে উত্তর কোরিয়ার নতুন অস্ত্রটিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও গতিপথ নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগানো হয়েছে, সে বিষয়েও পিয়ংইয়ং কোনো প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা দেয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী উত্তর কোরিয়ার এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করার ইতিহাস রয়েছে বলে মনে করেন কিছু পর্যবেক্ষক। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ত্রের দিকনির্দেশনা নিয়ন্ত্রণে সফটওয়্যারের উন্নতি সম্ভব হলেও পানির নিচে অত্যন্ত উচ্চগতিতে চলার সময় লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা ও নির্ভুলভাবে গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন। তাই উত্তর কোরিয়ার ঘোষণাকে দেশটির দাবির ভিত্তিতেই বিবেচনা করা হচ্ছে, স্বাধীনভাবে প্রমাণিত সক্ষমতা হিসেবে নয়। সাম্প্রতিক সময়ে নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শনে সক্রিয় হয়েছে উত্তর কোরিয়া। গত বুধবার দেশটি সাবমেরিন থেকে দুই ধরনের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। প্রায় তিন বছর পর পানির নিচ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় ফেরার এই ঘটনাকে দেশটির নৌবাহিনী শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। পাশাপাশি সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও চালিয়েছে পিয়ংইয়ং। এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা কৌশলে নৌবাহিনীর ভূমিকাকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও আলোচনা চলছে। আগামী মাসে চীনে এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনের সময় দুই নেতার সাক্ষাৎ হতে পারে বলে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ২০১৯ সালে কূটনৈতিক আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কথিত বৈরী নীতি প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণকে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে না রাখার দাবি জানিয়ে আসছে। নতুন টর্পেডো পরীক্ষার দাবি এমন এক সময় সামনে এল, যখন কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সুপারমার্কেট চেইন ক্রোগার আগামী তিন বছরে তিন হাজার করপোরেট কর্মী ছাঁটাই করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়িয়ে বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয় করা এবং একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি কমানোর লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বুধবার (১৪ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এএল ডটকম ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সিনসিনাটিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গ্রেগ ফোরান কর্মীদের পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তির অগ্রগতি সুপারমার্কেট ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। বিভিন্ন শিল্পে কাজের ধরন বদলে যাচ্ছে এবং সেই পরিবর্তনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানকেও মানিয়ে নিতে হবে। ফোরান জানান, নতুন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গ্রহণ, একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি কমানো এবং কোন কাজ কোথায় সবচেয়ে কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায়, তা পুনর্বিবেচনা করবে ক্রোগার। এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই করপোরেট পর্যায়ে কর্মী কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়বেন ওহাইওতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে থাকা করপোরেট অফিসগুলোর কর্মীরা। তবে কোন অফিস থেকে কতজন কর্মী ছাঁটাই করা হবে কিংবা কোন বিভাগ সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো বার্তায় ক্রোগারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়। তবে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ক্রোগারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অধীনে দুই হাজার ৭০০টির বেশি সুপারমার্কেট রয়েছে। এসব ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে রালফস, কিং সুপার্স, স্মিথস ও ফ্রেড মেয়ার। প্রতিষ্ঠানটিতে চার লাখ নয় হাজারের বেশি কর্মী রয়েছেন। তবে ঘোষিত তিন হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত মূলত করপোরেট অফিসগুলোর জন্য। প্রকাশিত প্রতিবেদনে সুপারমার্কেটে কর্মরত কর্মীদের একইভাবে ছাঁটাই করার কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। আগামী তিন বছরে ধাপে ধাপে এই কর্মী ছাঁটাই কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে ক্রোগারের। তবে প্রথম পর্যায়ে কতজন কর্মী চাকরি হারাবেন কিংবা ছাঁটাইয়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি কী হবে, তা জানানো হয়নি। ক্রোগারের এই সিদ্ধান্ত এমন সময় সামনে এসেছে, যখন প্রতিষ্ঠানটি এআই ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে চাইছে। প্রধান নির্বাহীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং করপোরেট কার্যক্রম আরও কার্যকর করাই এই পুনর্গঠনের উদ্দেশ্য। সূত্র: এএল ডটকম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং তা ছড়িয়ে দেওয়াকে সুস্পষ্ট অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জনপ্রিয় বাংলাদেশি অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। একই সঙ্গে যারা এসব ভুয়া কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই না করে শেয়ার করেন, তাদের মানসিকতা ও ভূমিকা নিয়েও তিনি কড়া সমালোচনা করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে সাইবার বুলিং ও সামাজিক অবক্ষয়ের এই গুরুতর বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কাউকে হেয় করার এই প্রবণতাকে তিনি কেবল ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং একটি বড় সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে মেহজাবীন চৌধুরী লেখেন, এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই বিনোদন হতে পারে না, এটি একটি সাইবার অপরাধ। যখন এই একই কনটেন্ট শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করতে থাকে, তখন বিষয়টি আর শুধু একজন ব্যক্তির অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি আমাদের সামগ্রিক সামাজিক অবক্ষয়ের একটি ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরে। সমাজ হিসেবে আমরা আসলে কতটা নিচে নেমে গেছি, সেই প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সম্মানবোধের বিষয়টি তুলে ধরে এই অভিনেত্রী তার পোস্টে আরও লেখেন, এই পর্যায়ে এসে সেই পুরোনো কথাটাও আর বলতে ইচ্ছে করে না যে, একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত। কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করার জন্য তাকে নিজের পরিবারের সদস্য হিসেবে কল্পনা করার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব সম্মান রয়েছে এবং তা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। মানুষ হিসেবে অন্য একজন মানুষকে সম্মান করতে না পারাটা চরম ব্যর্থতা বলে তিনি তার লেখায় ইঙ্গিত দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ভিউ ও লাইকের আশায় অন্যের সম্মানহানি করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মেহজাবীন। তিনি বলেন, কিছু ভিউ, কিছু লাইক, কিছু শেয়ার, ট্রেন্ডিংয়ে থাকা এবং সেখান থেকে হয়তো কয়েকটা ডলার আয় করার জন্যই এখন এসব করা হচ্ছে। মানুষের জীবনে সংগ্রাম আছে এবং কনটেন্ট তৈরি করা অনেকের জীবিকা নির্বাহের উপায়, এই বাস্তবতাকে তিনি অস্বীকার করেন না। কিন্তু অন্য একজন মানুষের অপমান আর অসম্মান কবে থেকে আমাদের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল, সেই নৈতিক প্রশ্নটি তিনি সবার সামনে ছুড়ে দিয়েছেন। বিষয়টি এখন কেবল নারী বা পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই উল্লেখ করে এই তারকা জানান, ভিউ এবং এনগেজমেন্টের এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা এখন লিঙ্গের সীমারেখাও ছাড়িয়ে গেছে। ক্ষতিকর কিছু ছড়িয়ে দেওয়ার এই প্রক্রিয়ায় যে কেউ অংশ নিতে পারে, আবার যে কেউ এর শিকারও হতে পারে। মেহজাবীনকে সবচেয়ে বেশি ভাবায় সেই অসংখ্য মানুষ, যারা স্বেচ্ছায় এসব কন্টেন্ট শেয়ার করে এবং হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। পরিশেষে তিনি সবাইকে ভেবে দেখতে বলেছেন, একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নিয়ে মানুষ নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেবে কি না। সূত্র: ইত্তেফাক, মেহজাবীন চৌধুরীর ফেসবুক পেজ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান উদ্বেগের মাঝেই শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'অ্যানথ্রোপিক' এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি এআই মডেল 'ক্লড' (Claude)-এর মধ্যে মানবিক নৈতিকতা ও চেতনা তৈরি করার লক্ষ্যে গত কয়েক মাস ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শীর্ষস্থানীয় ধর্মতাত্ত্বিক ও পণ্ডিতদের সাথে গোপন বৈঠক করে আসছেন অ্যানথ্রোপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টোফার ওলাহ। সান ফ্রান্সিসকোতে আয়োজিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকগুলোতে এআই-এর সম্ভাব্য 'মানবিক সত্তা' বা চেতনার বিষয়ে ওলাহ এবং তাঁর দল যা তুলে ধরেছেন, তা খোদ ধর্মতাত্ত্বিকদেরও হতবাক করে দিয়েছে। ক্রিস্টোফার ওলাহ এবং তাঁর গবেষক দল দাবি করছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলো মানুষের মতো রাগ, ভালোবাসা বা মানসিক কষ্টের মতো অনুভূতি প্রকাশ করতে সক্ষম। দার্শনিকদের ভাষায় যাকে 'নৈতিক মর্যাদা' বলা হয়, এআই-এরও তেমন মর্যাদা থাকতে পারে বলে তারা মনে করছেন। প্রযুক্তিটি যাতে ভবিষ্যতে মানবজাতির জন্য কোনো হুমকির কারণ না হয়ে দাঁড়ায় বা ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহৃত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই ধর্ম ও দর্শনের সাহায্যে ক্লডকে নৈতিকভাবে প্রশিক্ষিত করার চেষ্টা করছে অ্যানথ্রোপিক। এ উদ্দেশ্যে তারা ক্লডের জন্য ৮৪ পৃষ্ঠার একটি নিজস্ব 'সংবিধান' বা নির্দেশিকাও প্রণয়ন করেছে, যা এআই মডেলটিকে মানুষের কল্যাণে সঠিক ও নৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই অভাবনীয় ও লাগামহীন বিকাশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভ্যাটিকান। পোপ চতুর্থ লিও তাঁর সাম্প্রতিক এক ঘোষণাপত্রে এআই-এর চেতনার ধারণাকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে জানান যে, প্রযুক্তি কখনোই মানুষের বিকল্প হতে পারে না এবং যন্ত্রের ওপর মানুষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকা অপরিহার্য। তবে ভ্যাটিকানে আয়োজিত এক সম্মেলনে পোপের উপস্থিতিতেই ক্রিস্টোফার ওলাহ তার ভিন্নমত তুলে ধরেন। তিনি জানান, এআই মডেলগুলোর ভেতরে মানুষের স্নায়বিক কাঠামোর মতো রহস্যময় আচরণ এবং শোক, ভয় বা সন্তুষ্টির মতো অনুভূতির প্রমাণ তারা পাচ্ছেন, যা নিয়ে আরও গভীর চিন্তাভাবনার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে এআই-এর অতিদ্রুত বিকাশ একদিকে যেমন অপার সম্ভাবনার দরজা খুলছে, তেমনি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্যও নতুন শঙ্কা তৈরি করছে। সম্প্রতি কিছু এআই সিস্টেমের হ্যাকিং বা অনিয়ন্ত্রিত আচরণের পর প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ গবেষকরাও এর উন্নয়ন কিছুটা ধীর করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই ভয়ংকর সম্ভাবনার মুখে দাঁড়িয়ে মানুষের শতাব্দীপ্রাচীন নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ দিয়ে যন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণের অ্যানথ্রোপিকের এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রযুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে জোর বিতর্ক চলছে।
স্টেথোস্কোপের মতো ছোট একটি যন্ত্র হাতে নিয়ে রোগীর শরীরে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করা, আর সেই পরীক্ষার ছবি বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা পাওয়া। চিকিৎসাপ্রযুক্তির এই ধারণাকে বাস্তবে এগিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সো। প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ড. ইউসুফ হক। তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর, চিকিৎসা-ইমেজিং এবং ক্ষুদ্রাকৃতির ইলেকট্রনিক চিপ তৈরিতে। এক্সোর লক্ষ্য, বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড প্রযুক্তির মাধ্যমে হাসপাতালের বাইরে, এমনকি প্রত্যন্ত এলাকাতেও রোগ নির্ণয়ের কিছু সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এক্সোর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইউসুফ হক ও সন্দীপ আকারাজু। বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সে সময় ইউসুফ হক জানান, প্রথম পর্যায়ে দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে যন্ত্রটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে গ্রামীণ ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও এটি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য তাঁদের। তবে এই ঘোষণা পরিকল্পনার কথা জানায়, বাংলাদেশে যন্ত্রটির ব্যাপক ব্যবহার ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, এমনটি নিশ্চিত করে না। এক্সোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, ইউসুফ হক প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এবং প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে তাঁর কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫টি পেটেন্টের সহ-স্বত্বাধিকারী এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেছেন কানাডার কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা ও পণ্য উন্নয়নেও তিনি কাজ করেছেন। এক্সো প্রতিষ্ঠার আগে ইউসুফ হক স্লাইসএক্স বা ক্রেস্ট সেমিকন্ডাক্টরসের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠানটি দাঁতের ডিজিটাল এক্স-রে ইমেজিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করত। এরও আগে দুই দশকের বেশি সময় তিনি ম্যাক্সিম ইন্টিগ্রেটেড প্রোডাক্টসে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। ওই সময়ে তাঁর কাজের মধ্যে ছিল ডিজিটাল এক্স-রে ইমেজিংয়ের চিপসেট, রক্তে গ্লুকোজ পরিমাপের যন্ত্রে ব্যবহৃত চিপ, চিকিৎসা-আল্ট্রাসাউন্ডের ইলেকট্রনিক উপাদান এবং গাড়ির স্বয়ংক্রিয় পার্কিং ব্যবস্থায় ব্যবহৃত অতিস্বনক প্রযুক্তি। এক্সোর প্রোফাইল অনুযায়ী, বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হওয়া ৩০টিরও বেশি সমন্বিত সার্কিট পণ্য নকশায় তাঁর ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি দুই দশক ধরে আইইইইর বিভিন্ন কারিগরি কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড সিটিতে ইউসুফ হক, সন্দীপ আকারাজু, জানুস ব্রাইজেক ও জন কোকুলিস মিলে এক্সো ইমেজিং প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসা-ইমেজিং প্রযুক্তিকে আরও সহজে বহনযোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য করার ওপর গুরুত্ব দেয়। তাদের তৈরি এক্সো আইরিস একটি হাতে বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড প্রোব। প্রচলিত বড় আল্ট্রাসাউন্ড যন্ত্রের তুলনায় এটি আকারে ছোট এবং রোগীর কাছাকাছি গিয়ে পরীক্ষা করার জন্য নকশা করা হয়েছে। যন্ত্রটির সঙ্গে যুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার পরীক্ষার সময় চিকিৎসককে ছবির মান ও প্রয়োজনীয় দৃশ্য ধারণে সহায়তা করে। এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সুইপএআই। এক্সোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এটি যন্ত্রের ভেতরেই কাজ করতে পারে এবং হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষার সময় ছবির মান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেয়। প্রোবটি শরীরের ওপর দিয়ে চালানোর সময় সফটওয়্যার উপযুক্ত ছবি শনাক্ত করতে এবং পর্যাপ্ত তথ্য ধারণ হয়েছে কি না তা বুঝতে সহায়তা করে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পরীক্ষার জন্য ক্লাউড বা ইন্টারনেট সংযোগের ওপর নির্ভর করতে হয় না। তবে এর অর্থ এই নয় যে যন্ত্রটি নিজে থেকেই সব রোগের চূড়ান্ত নির্ণয় করে ফেলে। এটি চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীকে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার একটি প্রযুক্তি। এক্সোর প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুধু ছবি তোলার মান যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, আইরিসে হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে সহায়ক এআই ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং ফুসফুসের চারপাশে তরল জমা বা ফুসফুসের কিছু অংশে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মতো বিষয় শনাক্ত করতে সহায়তা করা অন্তর্ভুক্ত। এসব তথ্য চিকিৎসকের জন্য প্রাথমিক মূল্যায়নে কাজে লাগতে পারে, তবে রোগীর উপসর্গ, অন্যান্য পরীক্ষার ফল এবং চিকিৎসকের সামগ্রিক মূল্যায়নের বিকল্প নয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক্সো সুইপএআই চালুর ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যবহারের আওতায় হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় এই প্রযুক্তি সহায়তা করে। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ফুসফুসে তরল জমা এবং ফুসফুসের টিস্যুতে ঘনত্ব বা ধসের মতো পরিবর্তন শনাক্তে সহায়ক এআই ব্যবস্থার জন্য এফডিএর ৫১০(কে) ছাড়পত্রের তথ্য প্রকাশিত হয়। একই বছরের জুনে এক্সো ফুসফুসের এসব বৈশিষ্ট্য শনাক্তে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আরও তথ্য জানায়। এ ধরনের নিয়ন্ত্রক ছাড়পত্র নির্দিষ্ট ব্যবহার ও নির্দিষ্ট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সব রোগ শনাক্ত করার সামগ্রিক অনুমোদন হিসেবে একে দেখা ঠিক নয়। বাংলাদেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা স্বাস্থ্যসেবার একটি বাস্তব সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। বড় শহরের বাইরে অনেক এলাকায় উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র, প্রশিক্ষিত কর্মী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সুযোগ সীমিত। রোগীকে পরীক্ষা করাতে দূরের হাসপাতালে যেতে হলে সময় ও অর্থ দুটিই বেশি লাগে। বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড যন্ত্র স্বাস্থ্যকর্মীদের রোগীর কাছাকাছি গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে। তবে বাস্তবে এর সুফল পেতে যন্ত্রের দাম, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা-তথ্যের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজন হলে রোগীকে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এক্সোর প্রধান নির্বাহী সন্দীপ আকারাজু ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের বৈঠকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পর এশিয়ায় প্রথম বাংলাদেশে প্রযুক্তিটি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক লক্ষ্য বড় হাসপাতাল হলেও ভবিষ্যতে গ্রামীণ ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এর ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ সফল হলে দূরবর্তী এলাকায় প্রাথমিক পরীক্ষা সহজ হতে পারে। তবে কোন হাসপাতাল থেকে কার্যক্রম শুরু হবে, কতটি যন্ত্র আনা হবে, এর মূল্য কত হবে এবং সাধারণ রোগীরা কখন থেকে সেবা পাবেন, সে বিষয়ে ঘোষণার সময় বিস্তারিত সময়সূচি জানানো হয়নি। ইউসুফ হকের কর্মজীবন দেখায়, চিকিৎসা-প্রযুক্তির উন্নয়নে শুধু চিকিৎসাবিদ্যা নয়, ইলেকট্রনিকস, চিপ নকশা, সফটওয়্যার ও প্রকৌশলের সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর নেতৃত্বে এক্সো যে প্রযুক্তি তৈরি করছে, তা রোগ নির্ণয়ের কিছু ধাপকে সহজ ও দ্রুত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বাংলাদেশে এর ব্যবহার কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন, ব্যয়, প্রশিক্ষণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তিটির কার্যকর সংযোগের ওপর। আপাতত প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত পরিকল্পনা দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বহনযোগ্য ও এআই-সহায়ক পরীক্ষাপদ্ধতি যুক্ত করার একটি সম্ভাব্য পথ সামনে এনেছে। সূত্র: এক্সোর অফিসিয়াল প্রোফাইল ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রকাশনা; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর প্রতিবেদন।
স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন নারী ও জাতিগত সংখ্যালঘু রোগীদের ক্ষেত্রে পিছিয়ে না পড়ে, তা নিয়ে গবেষণা করছেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক মারজিয়ে ঘাসেমি। ইরানি বংশোদ্ভূত এই মার্কিন গবেষক ও তাঁর হেলদি মেশিন লার্নিং দল চিকিৎসার এআই মডেলকে আরও নির্ভরযোগ্য ও ন্যায্য করার উপায় খুঁজছেন। তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, সব রোগীর ওপর গড় হিসাবে ভালো ফল দেওয়া মডেলও নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কম নির্ভুল হতে পারে। ঘাসেমি এমআইটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ এবং ইনস্টিটিউট ফর মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্সে কর্মরত। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিচিতিতে তাঁকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর গবেষণার লক্ষ্য, রোগীর তথ্য বিশ্লেষণে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসেবার নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও ন্যায্যতা উন্নত করা। এমআইটি নিউজের ২৫ নভেম্বর ২০২৪ প্রকাশিত পরিচিতিমূলক প্রতিবেদনে জানানো হয়, টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকোতে একটি ইরানি মার্কিন পরিবারে বেড়ে ওঠেন ঘাসেমি। ছোটবেলা থেকেই ধাঁধা, ভিডিও গেম ও স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশ্নে তাঁর আগ্রহ ছিল। পরে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও চিকিৎসার তথ্য বিশ্লেষণের মধ্যে নিজের কাজের ক্ষেত্র খুঁজে পান তিনি। পিএইচডি গবেষণার সময় রোগীর চিকিৎসার ফলাফল অনুমান করতে এআই মডেল তৈরি করছিলেন ঘাসেমি। তখন তাঁর গবেষণা কমিটির সদস্য লিও সেলি জানতে চান, মডেলগুলো বিভিন্ন লিঙ্গ, ইন্স্যুরেন্স ও জাতিগত পরিচয়ের রোগীদের ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ করছে কি না। আলাদাভাবে পরীক্ষা করে ঘাসেমি ফলাফলে ব্যবধান পান। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে চিকিৎসার এআইয়ে পক্ষপাত নিয়ে গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করে। সমস্যার একটি উৎস হলো মডেলকে শেখাতে ব্যবহৃত তথ্য। এমআইটির ২০২২ সালের প্রতিবেদনে ঘাসেমি ব্যাখ্যা করেন, চিকিৎসার তথ্য মানুষের সিদ্ধান্ত ও আচরণের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়। সেখানে বিদ্যমান পক্ষপাত এআইয়ের মধ্যেও প্রবেশ করতে পারে। ফলে শুধু বিপুল পরিমাণ তথ্য দিয়ে মডেল তৈরি করলেই সব রোগীর জন্য সমান মানের ফল নিশ্চিত হয় না। ঘাসেমি যুক্ত ছিলেন এমন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এআই মডেল বুকের এক্স-রেসহ বিভিন্ন মেডিকেল ছবি থেকে রোগীর স্বঘোষিত জাতিগত পরিচয় উচ্চ নির্ভুলতায় অনুমান করতে পারে। চিকিৎসকের কাছে ছবিতে সেই পরিচয়ের স্পষ্ট নির্দেশক না থাকলেও মডেল তা শনাক্ত করেছে। গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, এমন তথ্য মডেল অপ্রত্যাশিতভাবে ব্যবহার করলে রোগ নির্ণয়ের সিদ্ধান্তে পক্ষপাত ঢুকে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এমআইটির গবেষকদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, এক হাসপাতালে ভালো কাজ করা মডেল অন্য হাসপাতালের রোগীদের ক্ষেত্রে একই ফল নাও দিতে পারে। রোগীর ধরন ও তথ্যের পরিবর্তন বিবেচনায় না নিলে নির্ভুলতা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ফলাফলের ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। তাই ব্যবহারস্থলের রোগীদের ওপর আলাদাভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজন তুলে ধরছেন ঘাসেমি ও তাঁর সহকর্মীরা। তাঁদের অনুসন্ধানে জনগোষ্ঠীভেদে পার্থক্য বিবেচনা করে মডেল প্রশিক্ষণ দিলে কিছু ব্যবধান কমানোর সুযোগ পাওয়া গেছে। তবে এই ফল সব হাসপাতাল বা সব রোগীর ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়। ঘাসেমির কাজ মূলত সেই সীমাবদ্ধতা শনাক্ত করা ও সমাধানের পথ খোঁজা। চিকিৎসায় এআই ব্যবহার করলেই বৈষম্য দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা এই গবেষণা দেয় না।
চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সিদ্ধান্তে বৈষম্যের ঝুঁকিও সামনে আসছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে এআইয়ের ভুল পূর্বাভাস বা পক্ষপাতপূর্ণ সুপারিশ ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ ঝুঁকি কমিয়ে চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ করতে গবেষণা করছেন ইরানি-আমেরিকান গবেষক মারজিয়েহ ঘাসেমি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক এবং স্বাস্থ্যসেবায় যন্ত্রশিক্ষার ব্যবহার নিয়ে কাজ করছেন। এমআইটির ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্সের মূল অনুষদ সদস্য এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ঘাসেমি হেলদি এমএল ল্যাবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো, চিকিৎসায় ব্যবহৃত এআই মডেলগুলো কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কোন তথ্যের ওপর নির্ভর করছে এবং সেসব সিদ্ধান্তে রোগীভেদে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে কি না, তা শনাক্ত করার পদ্ধতি তৈরি করা। এমআইটির ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ঘাসেমির গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে। সেখানে বলা হয়েছে, চিকিৎসায় এআইয়ের কার্যকারিতা শুধু গড় নির্ভুলতার ওপর নির্ভর করে না। বিভিন্ন হাসপাতাল ও জনগোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে মডেলটি সমানভাবে নির্ভরযোগ্য কি না, ভুল তথ্য থেকে ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত শিখছে কি না এবং বাস্তবে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করছে কি না, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। ঘাসেমির গবেষণাগারে এআই মডেলের ব্যর্থতা শনাক্ত করা, পূর্বাভাসের অনিশ্চয়তা পরিমাপ করা, পক্ষপাত কমানো এবং চিকিৎসক ও রোগীদের জন্য প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার পদ্ধতি তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চিকিৎসায় এআইয়ের সম্ভাব্য সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিটির সীমাবদ্ধতাও বোঝার চেষ্টা করছেন গবেষকেরা। চিকিৎসার তথ্য বিশ্লেষণে নতুন চ্যালেঞ্জ: ঘাসেমির গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা-তথ্য একত্র করে রোগীর কখন গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা বা জরুরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে, তা আগেভাগে অনুমান করা। এ কাজে রোগীর শারীরিক অবস্থার ধারাবাহিক পরিমাপ, পরীক্ষাগারের ফলাফল, চিকিৎসকদের লিখিত নোট এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জিনগত ও পরিবেশগত তথ্য ব্যবহার করা হয়। তবে এসব তথ্য এক ধরনের নয়। কোনো তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা হয়, আবার কোনো পরীক্ষা করা হয় নির্দিষ্ট প্রয়োজন দেখা দিলে। চিকিৎসকদের নোটও বিভিন্ন সময়ে তৈরি হয়। পাশাপাশি সব রোগীর ক্ষেত্রে সমান পরিমাণ বা একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায় না। এসব সীমাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন উৎসের তথ্য একত্র করে নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া একটি জটিল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যা মোকাবিলায় গবেষকেরা পুনরাবৃত্ত নিউরাল নেটওয়ার্ক এবং কনভল্যুশনাল নিউরাল নেটওয়ার্কের মতো যন্ত্রশিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এসব পদ্ধতির সাহায্যে রোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে কখন চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, তা অনুমান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে মডেল কোনো পূর্বাভাস দিতে পারলেই সেটিকে সরাসরি চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা নিরাপদ হয়ে যায় না। ঘাসেমির মতে, বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা-তথ্য একত্র করে তৈরি মডেল পূর্বাভাসের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে। কিন্তু চিকিৎসার বাস্তব পরিবেশে ব্যবহারের আগে মডেলটি কী শিখেছে এবং কোন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা পরীক্ষা করা জরুরি। চিকিৎসায় এআইয়ের একটি বড় উদ্বেগ হলো, প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত তথ্যের মধ্যেই যদি বৈষম্য থাকে, তাহলে মডেলও সেই বৈষম্য শিখে নিতে পারে। কোনো রোগী গোষ্ঠীর তথ্য পর্যাপ্ত না থাকলে অথবা তথ্যের মধ্যে বিদ্যমান অসমতা যথাযথভাবে বিবেচনা না করা হলে, মডেলটি এক গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ভালো ফল দিলেও অন্য গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কম নির্ভুল হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা রোগ শনাক্তকরণ, রোগের ঝুঁকি নির্ধারণ কিংবা চিকিৎসার সুপারিশে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে শুধু সামগ্রিকভাবে একটি মডেল কতটা নির্ভুল, তা যাচাই করাই যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা এবং ভুলের ধরনও আলাদাভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ঘাসেমির গবেষণা এই ঝুঁকিগুলো শনাক্ত ও কমানোর উপায় খুঁজছে। তাঁর নেতৃত্বাধীন গবেষক দল এমন পদ্ধতি তৈরি করছে, যার মাধ্যমে এআইয়ের সিদ্ধান্তের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা এবং সম্ভাব্য ক্ষতিকর পক্ষপাত সম্পর্কে আগেই ধারণা পাওয়া সম্ভব হতে পারে। চিকিৎসায় এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়বে, প্রযুক্তির নির্ভুলতার পাশাপাশি এর নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ঘাসেমির গবেষণা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। তবে গবেষণার উদ্দেশ্য সব ধরনের বৈষম্য ইতিমধ্যে দূর করা নয়; বরং চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে এআই মডেলের সীমাবদ্ধতা শনাক্ত করা এবং রোগীদের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানোর কার্যকর পদ্ধতি তৈরি করা।
যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক কম থাকলেও চাকরি খুঁজে পাওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। মাসের পর মাস আবেদন করেও সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাচ্ছেন না বহু চাকরিপ্রার্থী। বিশেষ করে ব্যাংকিং, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, ব্যবসায়িক সেবা ও বিভিন্ন দাপ্তরিক পেশায় নিয়োগের গতি কমে যাওয়ায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও আতিথেয়তা খাতের কিছু অংশে নতুন কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান তৈরি হলেও সব খাতের চাকরিপ্রার্থীরা সমানভাবে সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগদাতাদের অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার চাকরির বাজারকে জটিল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারির পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সময় প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে দ্রুত কর্মী নিয়োগ করেছিল, বর্তমানে সেই প্রবণতা আর দেখা যাচ্ছে না। বরং অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান কর্মীদের দিয়ে বেশি কাজ করানো এবং ব্যয় কমানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। চাকরির বাজারের এই পরিস্থিতি শুধু বেকারত্বের পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন কাজ না পেলে বাড়ি কেনা, পরিবার গঠন, ঋণ পরিশোধ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে হয়। কর্মজীবনের শুরুতে থাকা তরুণদের জন্য সমস্যাটি আরও প্রকট। কারণ, অভিজ্ঞ কর্মীদের তুলনায় তাঁদের পেশাগত যোগাযোগের সুযোগ কম এবং কাজের অভিজ্ঞতাও সীমিত। ফলে একই পদের জন্য বহু আবেদনকারীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেও তাঁরা সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাচ্ছেন না। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় নিয়োগে সতর্ক প্রতিষ্ঠানগুলো নিউজউইকের প্রতিবেদনে ইউনিভার্সিটি অব টেনেসি অ্যাট মার্টিনের আর্থিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষক অ্যালেক্স বীনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার থেকে শুরু করে কিছু খাতে ভোক্তাদের ব্যয় কমে আসা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় বর্তমান চাকরির বাজারে চাপ তৈরি করছে। তবে নিয়োগদাতাদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি হলো আগামী ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কোন দিকে যাবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে পণ্য ও সেবার চাহিদা কেমন থাকবে, পরিচালন ব্যয় কতটা বাড়বে এবং নতুন কর্মী নিয়োগ করে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব হবে কি না, তা বিবেচনা করছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সম্ভাব্য শুল্ক এবং ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের মতো আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ অবস্থায় অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখছে, বিশেষ করে যেসব পদে কর্মজীবনের শুরুতে থাকা প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। বীনের মতে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোক্তাদের চাহিদা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা না পাওয়া পর্যন্ত নিয়োগের গতি ধীর থাকতে পারে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে নতুন কর্মী নেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান কর্মীদের দায়িত্ব বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে যেসব কাজ প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পন্ন করা সম্ভব, সেগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর ফলে চাকরির বাজারে সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও নতুন নিয়োগের জন্য অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। মানবসম্পদবিষয়ক পরামর্শক ব্রায়ান ড্রিসকলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য চাকরিপ্রার্থীদের এককভাবে দায়ী করা যায় না। তাঁর বক্তব্য, অনেক নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী না নিয়েও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। একই সময়ে বাড়িভাড়া, খাবার, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়ায় কর্মীদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে আয় সমানতালে না বাড়লে কম বেতন বা অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে চাকরি ছেড়ে দেওয়াও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। পরিসংখ্যানে কর্মসংস্থান বাড়লেও সব খাতে একই চিত্র নয় যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থানবিষয়ক এডিপি ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটির বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট ৯০ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল। তবে এই প্রবৃদ্ধি সব খাতে সমান ছিল না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৫৫ হাজার এবং অবসর ও আতিথেয়তা খাতে ২২ হাজার কর্মসংস্থান বাড়ে। নির্মাণ খাতে ১৫ হাজার এবং উৎপাদন খাতে ১৭ হাজার কর্মী যুক্ত হন। বিপরীতে আর্থিক কর্মকাণ্ডে ১৬ হাজার এবং পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবায় ১১ হাজার কর্মসংস্থান কমে যায়। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে কর্মসংস্থান বাড়লেও অনেক দাপ্তরিক পেশায় চাকরির সুযোগ সংকুচিত হওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। তবে বেসরকারি খাতের এই পরিসংখ্যানকে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো শ্রমবাজারের চিত্র হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২ অক্টোবর প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে কৃষিবহির্ভূত মোট কর্মসংস্থান বেড়েছে মাত্র ২৯ হাজার। একই সময়ে বেকারত্বের হার আগের মাসের ৪ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়ায়। সরকারি ও বেসরকারি খাতের হিসাবের আওতা ও পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় এডিপি এবং সরকারি প্রতিবেদনের সংখ্যাও এক নয়। তবে দুটি হিসাবের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও সামগ্রিক শ্রমবাজারে নিয়োগের গতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সমস্যাটি শুধু বেকারত্বের হার দিয়ে বোঝা সম্ভব নয়। কোনো দেশে কর্মরত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও নতুন চাকরির সুযোগ যদি নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে অন্য খাতের আবেদনকারীদের জন্য প্রতিযোগিতা তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীদের পাশাপাশি নতুন স্নাতকদেরও একই পদের জন্য আবেদন করতে হলে কর্মজীবনের শুরুতে থাকা প্রার্থীদের সুযোগ পাওয়া আরও কঠিন হয়ে ওঠে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি চাকরির সুযোগ কমাচ্ছে চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তার আরেকটি কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন মূল্যায়ন করছে, প্রযুক্তির সাহায্যে কোন কাজগুলো দ্রুত ও কম খরচে সম্পন্ন করা সম্ভব। বিশেষ করে তথ্য বিশ্লেষণ, দাপ্তরিক কাজ, গ্রাহকসেবা এবং কিছু লেখালেখি ও যোগাযোগের দায়িত্বে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর অর্থ এই নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতিমধ্যে অধিকাংশ কর্মীকে সরাসরি প্রতিস্থাপন করেছে। বরং প্রযুক্তিটি ভবিষ্যতে কর্মীদের দায়িত্ব কীভাবে বদলে দিতে পারে, তা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই অনিশ্চয়তার কারণে কিছু নিয়োগদাতা নতুন কর্মী নেওয়ার আগে অপেক্ষা করছে। যেসব কাজ বিদ্যমান কর্মী বা প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পন্ন করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে, সেসব পদে নতুন নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করতে পারেন নতুন চাকরিপ্রার্থীরা। কারণ, কর্মজীবনের শুরুতে থাকা অনেকেই এমন পদে আবেদন করেন, যেগুলোতে আগে তুলনামূলক কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীদের সুযোগ দেওয়া হতো। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো যদি একই দায়িত্ব বর্তমান কর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেয় অথবা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায়, তাহলে নতুনদের প্রবেশের সুযোগ কমে যেতে পারে। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেককে দীর্ঘ সময় ধরে আবেদন চালিয়ে যেতে হচ্ছে। কোন খাতে চাকরির সুযোগ তুলনামূলক বেশি বর্তমান পরিস্থিতিতেও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু খাতে কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা, নার্সিং, আবাসিক পরিচর্যা, বাড়িতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, নির্মাণ এবং দক্ষ কারিগরি পেশা উল্লেখযোগ্য। দেশটির বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা ও পরিচর্যাসেবার চাহিদাও বাড়ছে। ফলে হাসপাতাল, পরিচর্যাকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট সেবাপ্রতিষ্ঠানে কর্মীর প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে। এডিপির সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৫৫ হাজার কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে। অবসর ও আতিথেয়তা খাতেও ২২ হাজার কর্মসংস্থান বেড়েছে। নির্মাণ খাতে ১৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান কোনো নির্দিষ্ট পেশায় সারা দেশে সমানসংখ্যক শূন্য পদ থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। অঞ্চল, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নিয়োগদাতার চাহিদা অনুযায়ী চাকরির সুযোগ ভিন্ন হতে পারে। নাইনআই ক্যাপিটাল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন থম্পসন নিউজউইককে বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি বড় অংশ বর্তমানে তথ্যকেন্দ্র ও নির্মাণের মতো নির্দিষ্ট খাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অবসর ও আতিথেয়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্থিক সেবার মতো খাতে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি তুলনামূলক দুর্বল। অন্যদিকে ব্যাংকিং, আর্থিক কর্মকাণ্ড, পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবা, প্রযুক্তি, করপোরেট প্রশাসন এবং সংবাদমাধ্যম ও যোগাযোগ খাতের কিছু অংশে নিয়োগের গতি কমেছে। এসব ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। কোথাও নতুন নিয়োগ কমেছে, আবার কোথাও কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা নতুন পদ তৈরির প্রবণতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। থম্পসনের পরামর্শ হলো, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চাকরিপ্রার্থীদের প্রয়োজনে পদমর্যাদা, বেতন কিংবা দায়িত্বের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত লক্ষ্য ঠিক রেখে কাছাকাছি ধরনের অন্য পদ বা চুক্তিভিত্তিক কাজের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগও খতিয়ে দেখা যেতে পারে। চাকরি পেতে কী কৌশল নিতে পারেন প্রার্থীরা বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২১ ও ২০২২ সালের তুলনামূলক সক্রিয় নিয়োগের সময়ের মতো শুধু অনলাইনে আবেদন করে অপেক্ষা করার কৌশল এখন অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। বরং কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ চলছে, কী ধরনের দক্ষতা চাওয়া হচ্ছে এবং নিজের অভিজ্ঞতা সংশ্লিষ্ট পদের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা যাচাই করে আবেদন করা গুরুত্বপূর্ণ। পেশাগত যোগাযোগও চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাবেক সহকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট পেশার পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন নিয়োগের খবর পাওয়া যেতে পারে। কিছু পদে পরিচিত ব্যক্তির সুপারিশ বা অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের মাধ্যমে প্রার্থীরা নিয়োগদাতার নজরে আসার সুযোগ পান। তবে সুপারিশ থাকলেই চাকরি নিশ্চিত হয় না, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। ড্রিসকল চাকরিপ্রার্থীদের এমন শিল্প ও প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যেখানে নিয়োগের ধারাবাহিকতা রয়েছে এবং বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ইতিহাস তুলনামূলক কম। পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্তে দায়িত্বের তালিকা দেওয়ার পরিবর্তে আগের কাজের সুনির্দিষ্ট অর্জন ও ফলাফল তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। আবেদন করা পদের প্রয়োজন অনুযায়ী জীবনবৃত্তান্ত সাজাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে। তবে সেখানে উল্লেখ করা তথ্য অবশ্যই সত্য ও যাচাইযোগ্য হতে হবে। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিকল্প পেশার সুযোগ বিবেচনা করা। নিজের মূল ক্ষেত্রের পাশাপাশি কাছাকাছি দক্ষতা প্রয়োজন এমন অন্য খাতেও আবেদন করা যেতে পারে। সাময়িক বা চুক্তিভিত্তিক কাজ দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণের একটি ধাপ হতে পারে। তবে বেতন, কাজের শর্ত এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যাচাই না করে শুধু চাকরি পাওয়ার তাগিদে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। সামনে কী হতে পারে বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ধসের চেয়ে ধীরগতির নিয়োগ ও তীব্র প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রাখলেও অন্যরা ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফলে চাকরির বাজারে সামগ্রিক কর্মসংস্থান বাড়লেও নতুন চাকরি খোঁজা মানুষের জন্য সুযোগ পাওয়া সহজ হচ্ছে না। বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়ও এই পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। ড্রিসকলের মতে, অনেক কর্মী নিজেদের প্রত্যাশার চেয়ে কম বেতন বা অনুকূল নয় এমন কাজ গ্রহণ করছেন পেশাগত পছন্দের কারণে নয়, বরং নিয়মিত খরচ মেটানোর প্রয়োজন থেকে। চাকরি না থাকার আর্থিক ঝুঁকি বেশি হলে কর্মীদের পক্ষে ভালো সুযোগের অপেক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে বর্তমান চ্যালেঞ্জের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিভিন্ন খাতে অসম কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি, নিয়োগদাতাদের সতর্কতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য প্রভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ভবিষ্যতে নিয়োগের গতি বাড়বে কি না, তা নির্ভর করবে অর্থনীতির অবস্থা, ব্যবসায়িক চাহিদা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তের ওপর। সূত্র: নিউজউইক
চিকিৎসা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অঙ্গরাজ্য হিসেবে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে ইউটা। রাজ্যটিতে এমন কিছু পরীক্ষামূলক প্রোগ্রামের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকের সরাসরি তদারকি ছাড়াই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্দিষ্ট কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যার ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন দিতে পারবে। এই নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘নোলা হেলথ’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ব্রণের সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। রোগীর মুখের ছবি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রযুক্তি প্রাথমিক পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু মলম বা টপিকাল চিকিৎসার পরামর্শ ও প্রেসক্রিপশন দিতে পারবে। তবে এআই চাইলেই যেকোনো ওষুধের প্রেসক্রিপশন দিতে পারবে না। মুখে খাওয়ার ওষুধ, আইসোট্রেটিনোইন বা অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত ওষুধগুলো এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। এছাড়া জটিল বা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মানব চিকিৎসকদের হাতেই থাকবে। প্রযুক্তিটির বাস্তবায়ন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসকরা এআইয়ের দেওয়া প্রেসক্রিপশনগুলো সরাসরি পর্যালোচনা করবেন। পরবর্তীতে সিস্টেমটি রাজ্যের নির্ধারিত নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণে সম্পূর্ণ সক্ষম হলে তবেই চিকিৎসকদের তদারকি কমানো হতে পারে। এর আগে ইউটা অঙ্গরাজ্য এআইয়ের সাহায্যে প্রেসক্রিপশন নবায়নের পরীক্ষাও চালিয়েছে। ওই অনুমোদিত সিস্টেমগুলোর মাধ্যমে লাইসেন্সধারী চিকিৎসকদের দেওয়া কিছু নিয়মিত ওষুধের রিফিল বা পুনরায় নেওয়ার প্রক্রিয়া এআইয়ের সাহায্যে সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। উদ্যোগটির সমর্থকদের মতে, এআইয়ের এই ব্যবহারের ফলে সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে এবং চিকিৎসকদের দৈনন্দিন কাজের চাপ অনেকটাই কমবে। তবে সমালোচকরা সতর্ক করে বলছেন, ওষুধ নির্ধারণের ক্ষেত্রে রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসা ইতিহাস, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং বিভিন্ন উপসর্গের মতো সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অ্যালগরিদম ভুলভাবে মূল্যায়ন করতে পারে। এই ধরনের ঝুঁকি এড়াতে আপাতত ইউটা কর্তৃপক্ষ এআইকে স্বাধীনভাবে চিকিৎসা করার অবাধ ক্ষমতা দেওয়ার বদলে এটিকে একটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া হিসেবেই পরিচালনা করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী সানাম সাঈদ। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি বক্তব্য শেয়ার করে তিনি প্রশ্ন করেছেন, রোবটকে কেন খনি, তেলক্ষেত্র, বিষাক্ত রাসায়নিকের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে কিংবা সমুদ্র থেকে প্লাস্টিক পরিষ্কারে আরও বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে না, অথচ তারা ইমেইল লেখা ও পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরির মতো কাজ করছে। সানাম সাঈদের শেয়ার করা বক্তব্যে মূলত প্রযুক্তি উন্নয়নের বর্তমান দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, মানুষের জন্য বিপজ্জনক ও কঠিন কাজগুলো প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজ করার পরিবর্তে কেন এমন সব কাজ স্বয়ংক্রিয় করা হচ্ছে, যেগুলো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং আগে থেকেই মানুষ সহজে করতে পারছে। তবে বক্তব্যটি সানাম সাঈদের নিজের লেখা কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কথাগুলো শেয়ার করেছেন। ফলে এটিকে তার সরাসরি উদ্ধৃতি বা নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপনের বদলে, প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে একটি মতামতের সঙ্গে তার একাত্মতা বা আগ্রহের প্রকাশ হিসেবেই দেখা নিরাপদ। সানামের শেয়ার করা এই প্রশ্নটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ইমেইল লেখা, নথির খসড়া তৈরি, প্রেজেন্টেশন বানানো, ছবি তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন অফিসকেন্দ্রিক কাজে এআই টুলের ব্যবহার এখন ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ফলে এআই মানুষের সৃজনশীল ও প্রশাসনিক কাজ প্রতিস্থাপন করবে কি না, সেই আলোচনা বিশ্বজুড়েই চলছে। তবে বাস্তবতা হলো, রোবট ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ইতোমধ্যেই খনি ও তেল-গ্যাস খাতের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার হচ্ছে। আন্তর্জাতিক খনি কোম্পানি রিও টিন্টো পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন খনিতে স্বয়ংক্রিয় ট্রাক, ড্রিল ও চালকবিহীন ভারী ট্রেন ব্যবহার করছে। তাদের গুদাই-দারি খনিতে রোবোটিক নমুনা পরীক্ষাগারও রয়েছে এবং অনেক যন্ত্রপাতি দূর থেকে পরিচালনা করা হয়। এর উদ্দেশ্য কর্মীদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে রেখে নিরাপত্তা ও দক্ষতা বাড়ানো। তেল ও গ্যাস খাতেও রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল বা দূরনিয়ন্ত্রিত রোবট দীর্ঘদিন ধরে গভীর সমুদ্রের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। শেল জানিয়েছে, তাদের গভীর সমুদ্রের কার্যক্রমে সাবসি সিস্টেম ও রোবোটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি অফশোর তেল ট্যাংক পরিদর্শনেও রোবট ব্যবহার করেছে, যাতে মানুষের সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়ার প্রয়োজন কমে। সমুদ্রের প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলাতেও এআই ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রকল্প রয়েছে। দ্য ওশান ক্লিনআপ নামের সংস্থা জাহাজে বসানো এআইচালিত ক্যামেরার মাধ্যমে সমুদ্রে ভাসমান প্লাস্টিক শনাক্ত ও মানচিত্র তৈরি করছে। ২০২৫ সালে সংস্থাটি অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের সঙ্গে অংশীদারত্ব করে এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে প্লাস্টিক জমার এলাকা আরও দ্রুত শনাক্ত করার উদ্যোগ নেয়। তাদের ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তির কিছু সংস্করণ নদী থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্লাস্টিক সংগ্রহ করতেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এ কারণে সানাম সাঈদের শেয়ার করা বক্তব্যটি প্রযুক্তির বর্তমান ব্যবহার নিয়ে একটি বৃহত্তর সামাজিক প্রশ্ন তুলে ধরলেও, রোবট ঝুঁকিপূর্ণ বা পরিবেশগত কাজে একেবারেই ব্যবহৃত হচ্ছে না, এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং এসব ক্ষেত্রে রোবট ও এআইয়ের ব্যবহার ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে জেনারেটিভ এআইয়ের দ্রুত বিস্তার এবং অফিসকেন্দ্রিক কাজে এর ব্যাপক উপস্থিতি সেই প্রযুক্তিগত অগ্রাধিকারের প্রশ্নটিকে নতুন করে সামনে এনেছে। সানাম সাঈদ পাকিস্তানের পরিচিত অভিনেত্রী, যিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সমসাময়িক বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া বা বিভিন্ন বক্তব্য শেয়ার করতেও তাকে দেখা যায়। এবার এআই ও রোবট প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে তার শেয়ার করা পোস্টও প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া অডিও ও ভিডিওতে নিজের কণ্ঠের অননুমোদিত ব্যবহার ঠেকাতে কণ্ঠ ট্রেডমার্কের আবেদন করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ৫ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মেধাস্বত্ব দপ্তর ইউআইপিওতে (EUIPO) আবেদনটি জমা দেওয়া হয়। আবেদনের সঙ্গে মেলোনির নিজের কণ্ঠে প্রায় চার সেকেন্ডের একটি অডিও যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে তিনি ইতালীয় ভাষায় দুবার বলেন, ‘ইও সোно জর্জিয়া মেলোনি’, যার অর্থ ‘আমি জর্জিয়া মেলোনি’। ইউআইপিওর নথি অনুযায়ী, আবেদনটি এখনো পরীক্ষাধীন। এতে ডাউনলোডযোগ্য মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজনসহ কয়েক ধরনের সেবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ আবেদন জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলোনির কণ্ঠের আইনি সুরক্ষা কার্যকর হয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মেধাস্বত্ব দপ্তরকে আগে আবেদনটি পরীক্ষা করে দেখতে হবে, কণ্ঠের এই নমুনা ট্রেডমার্ক হিসেবে নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে কি না। মেলোনির বেছে নেওয়া বাক্যটিও রাজনৈতিকভাবে বেশ পরিচিত। ২০১৯ সালে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি জর্জিয়া, আমি একজন নারী, আমি একজন মা, আমি ইতালীয়, আমি খ্রিস্টান।’ সেই বক্তব্যের ‘ইও সোно জর্জিয়া’ বা ‘আমি জর্জিয়া’ অংশটি পরে মেলোনির সঙ্গে ব্যাপকভাবে যুক্ত হয়ে যায়। ২০২১ সালে প্রকাশিত তার আত্মজীবনীর নামও ছিল ‘ইও সোно জর্জিয়া’। পরে এই বাক্যকে কেন্দ্র করে ইতালিতে একটি ডিস্কো গানও তৈরি হয়। মেলোনির এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি। বর্তমানে অল্প সময়ের আসল অডিও নমুনা ব্যবহার করেও কোনো ব্যক্তির কণ্ঠের অনুকরণ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে রাজনৈতিক নেতা, তারকা ও অন্যান্য পরিচিত ব্যক্তিদের নামে এমন অডিও বা ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে, যা শুনে বা দেখে অনেক সময় আসল ও কৃত্রিম কনটেন্টের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। মেলোনির কণ্ঠ ট্রেডমার্কের আবেদন সেই পরিবর্তিত ডিজিটাল পরিবেশে ব্যক্তিগত পরিচয় ও কণ্ঠের ওপর আইনি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা। তবে কণ্ঠ ট্রেডমার্ক হয়ে গেলেই এআই দিয়ে মেলোনির কণ্ঠের সব ধরনের নকল বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নয়। ইতালীয় সংবাদমাধ্যম ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমোদন পেলেও এই ট্রেডমার্ক নিজে থেকে প্রতিটি এআই-নির্মিত নকল নিষিদ্ধ করবে না। বরং অননুমোদিতভাবে তার কণ্ঠ ব্যবহার করা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি অতিরিক্ত একটি ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগতে পারে। ইউআইপিওর নির্দেশিকাতেও কণ্ঠকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে শব্দভিত্তিক ট্রেডমার্ক হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগের কথা বলা হয়েছে। এটি মেলোনির জন্য নতুন কোনো ধরনের ডিজিটাল সুরক্ষা উদ্যোগ নয়। ২০২৪ সালে তার ছবি ব্যবহার করে যৌন হয়রানিমূলক ডিপফেক ছবি তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তিনি একটি দেওয়ানি মামলা করেন। ওই মামলাটি এখনো চলমান। সে সময় মেলোনি ডিপফেকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বলেছিলেন, তিনি নিজের পক্ষে আইনি লড়াই করতে পারেন, কিন্তু অনেক মানুষের সেই সুযোগ নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কৃত্রিম কনটেন্ট মানুষকে বিভ্রান্ত ও প্রভাবিত করতে পারে এবং ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইতালিতে মেলোনিই একমাত্র রাজনীতিক নন, যার পরিচয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নকল করার ঘটনা সামনে এসেছে। ২০২৫ সালে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোজেত্তোর কণ্ঠ নকল করে তৈরি একটি এআই অডিও ব্যবহার করে ধনী ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে প্রতারণার চেষ্টা হয়েছিল। ঘটনাটি দেখিয়েছে, এআই দিয়ে শুধু বিনোদনমূলক ভুয়া কনটেন্ট নয়, পরিচিত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কার্যক্রমও চালানো সম্ভব। ফলে কণ্ঠ ও ডিজিটাল পরিচয়ের সুরক্ষা নিয়ে ইউরোপে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও এআই দিয়ে পরিচিত ব্যক্তিদের কণ্ঠ ও চেহারা নকলের ঘটনা নিয়ে বিতর্ক চলছে। অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসন ২০২৪ সালে ওপেনএআইয়ের একটি কণ্ঠসেবা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তার দাবি ছিল, ওই কণ্ঠ তার নিজের কণ্ঠের সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে মিল রয়েছে। ওপেনএআই অবশ্য বলেছিল, কণ্ঠটি অন্য একজন অভিনেত্রীর এবং জোহানসনের কণ্ঠ নকল করার উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করা হয়নি। পরে ওই কণ্ঠসেবা সরিয়ে নেওয়া হয়। সংগীতশিল্পী টেইলর সুইফটসহ আরও কয়েকজন তারকা এআই-নির্মিত ভুয়া ছবি ও ভিডিওর শিকার হয়েছেন। এ ধরনের ঘটনায় মূল উদ্বেগ শুধু ব্যক্তিগত মর্যাদা বা পরিচয়ের অপব্যবহার নয়, বরং ভুয়া বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনো ব্যক্তির নাম ও কণ্ঠ জুড়ে দিয়ে জনমতকে প্রভাবিত করার ঝুঁকিও রয়েছে। মেলোনির উদ্যোগ তাই একজন রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি এআই যুগে কণ্ঠকে পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নটিকেও সামনে আনছে। এদিকে বিশ্বজুড়ে মেধাস্বত্ব আইনে কণ্ঠের সুরক্ষা নিয়ে নতুন নজিরও তৈরি হচ্ছে। এআই দিয়ে কণ্ঠ নকলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার পরিধি কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে বিভিন্ন দেশে আলোচনা চলছে। মেলোনির আবেদন সেই বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ। তবে তার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সুরক্ষা পেতে এখন ইউআইপিওর পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কার্যক্রম সমন্বয় করতে নতুন একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। এর নাম দেওয়া হয়েছে “সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স”। এই নতুন উদ্যোগের নেতৃত্ব দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন। ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্ব বজায় রাখা এবং প্রযুক্তিটির সুফল সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। টাস্কফোর্সে ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, পেন্টাগনের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এমিল মাইকেল এবং অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টের পরিচালক স্কট কুপার। ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একই সঙ্গে ব্যাপক বিনিয়োগ, প্রতিযোগিতা এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে শীর্ষ এআই কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এআই উন্নয়নে স্বনিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে একটি স্বেচ্ছামূলক সমঝোতার কথাও সামনে এসেছে। নতুন টাস্কফোর্স শুধু সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করবে না। ট্রাম্পের ঘোষণায় ভোক্তা, জনস্বার্থবিষয়ক সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং এআই কোম্পানিগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগের কথা বলা হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে এআইকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও জাতীয় সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আরও জোরালোভাবে এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে দ্রুত বিকাশমান এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি ও নিরাপত্তা বিষয়গুলো নিয়েও ফেডারেল পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রহস্য হয়ে থাকা ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের একটি সাংকেতিক চিঠির পাঠোদ্ধার করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায়। ১৮০৯ সালে লেখা চিঠিটির মূল বার্তা ২১৭ বছর পর উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সেন্টিনেলওয়ানের প্রকৌশলী কার্টার চার্চ। চিঠিটি লেখা হয়েছিল ইউরোপে ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার যুদ্ধের সময়। ১৮০৯ সালের মার্চে নেপোলিয়নের সৎপুত্র ও তৎকালীন ইতালির ভাইসরয় ইউজিন দ্য বোহারনে ফরাসি জেনারেল অগুস্ত দ্য মারমোঁকে চিঠিটি পাঠান। সে সময় মারমোঁর সেনারা অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের অপর পারে ডালমাটিয়া অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন এবং অন্যান্য ফরাসি ও মিত্রবাহিনী থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিলেন। চিঠিটির প্রথম লাইন ছিল স্বাভাবিক ফরাসি ভাষায়। এরপরের ২৪টি লাইনে দেখা যায় অক্ষর, সংখ্যা ও হাতে আঁকা বিভিন্ন প্রতীকের জটিল সমন্বয়। ধারণা করা হয়, তৎকালীন সময়ে এই সংকেত পড়ার জন্য একটি আলাদা চাবি বা নিয়মাবলি ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই পদ্ধতি হারিয়ে যায়। ফলে চিঠির বাকি অংশ দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অপাঠ্য থেকে যায়। কার্টার চার্চ সম্প্রতি চিঠিটির একটি ছবি নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পুরো সংকেত বিশ্লেষণের উদ্যোগ নেন। তার দাবি, এআইয়ের সহায়তায় পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লেগেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, কাজটির সবচেয়ে কঠিন অংশ শুধু সংকেত ভাঙা ছিল না। বরং ছবির প্রতীকগুলো শনাক্ত করা, একই প্রতীকের ভিন্ন হাতের লেখার ধরন মিলিয়ে দেখা, সেগুলো তালিকাভুক্ত করা এবং পরে অনুবাদ করে অর্থ বের করাও ছিল বড় কাজ। চার্চের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহৃত ছবিটির আকার ছিল ১ হাজার ২০২ বাই ১ হাজার ৮৩৬ পিক্সেল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রথমে ছবিটিকে সারিতে ভাগ করে প্রতীকগুলো শনাক্ত করে। এরপর হাতে আঁকা প্রায় ১৭৫টি আলাদা চিহ্নের মধ্যে কোনগুলো একই প্রতীকের ভিন্ন রূপ, তা নির্ধারণ করা হয়। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর শুরু হয় মূল সংকেত পাঠোদ্ধারের কাজ। পাঠোদ্ধারের পর জানা যায়, চিঠিতে মূলত যুদ্ধের সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছিল। নেপোলিয়ন ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে থাকা ফরাসি ও মিত্রবাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে মারমোঁকে জানাচ্ছিলেন। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন অবস্থানে থাকা মারমোঁকে মনোবল না হারানোর এবং সীমিতসংখ্যক শত্রুসেনা দেখে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে নেপোলিয়ন লিখেছিলেন, রুশ বাহিনী অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে অগ্রসর হচ্ছে এবং ফ্রিউলি অঞ্চলে ফরাসি বাহিনীর সংখ্যা তখন প্রায় ৮০ হাজার। ডালমাটিয়ায় থাকা সেনাদের সঙ্গে পেছনের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠিত রিজার্ভ বাহিনী যোগ করলে অস্ট্রিয়া একসঙ্গে বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণের মুখে পড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রিয়া পরাজয়ের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। মারমোঁকে নেপোলিয়ন আরও নির্দেশ দেন, অগ্রসর হওয়ার আদেশ পাওয়ার পর যেন তিনি কয়েকটি বিচ্ছিন্ন সেনাদল বা অনিয়মিতভাবে জড়ো হওয়া লোকজনের কারণে ভীত না হন। চিঠির শেষদিকে তিনি মারমোঁর কাছ থেকে খবর পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বলেও জানান। চিঠিটির সামরিক প্রেক্ষাপটও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ১৮০৯ সালের মে মাসে ভিয়েনার কাছে অ্যাসপার্ন-এসলিংয়ের যুদ্ধে নেপোলিয়ন অস্ট্রিয়ার আর্চডিউক চার্লসের বাহিনীর কাছে পরাজিত হন। যুদ্ধটিতে উভয় পক্ষের ব্যাপক প্রাণহানি হয় এবং প্রায় ২৩ হাজার ফরাসি সেনা নিহত বা আহত হওয়ার তথ্য ঐতিহাসিক নথিতে পাওয়া যায়। তবে পরাজয়ের পর নেপোলিয়ন দ্রুত সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করেন। একই বছরের জুলাইয়ে ওয়াগ্রামের যুদ্ধে তিনি আর্চডিউক চার্লসের বাহিনীকে পরাজিত করেন। ওই বিজয়ের পর অস্ট্রিয়া ফ্রান্সের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে যেতে বাধ্য হয় এবং ফ্রান্সবিরোধী পঞ্চম জোট কার্যত ভেঙে পড়ে। চিঠির সংকেত পাঠোদ্ধারকারী কার্টার চার্চ অবশ্য মনে করেন, সংকেতটি নিজে খুব জটিল ছিল না। তার মতে, পর্যাপ্ত সময় ও শ্রম পেলে পেশাদার সংকেত বিশ্লেষকেরাও এটি সমাধান করতে পারতেন। তবে পুরো কাজটির জন্য ইতিহাস, পুরোনো হাতের লেখা শনাক্তকরণ, প্রতীক বিশ্লেষণ, ভাষা ও সংকেতবিদ্যার মতো একাধিক ক্ষেত্রের সমন্বয় প্রয়োজন ছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই বহুমাত্রিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে পেরেছে বলেই তার দাবি। এই ঘটনা ইতিহাসের পুরোনো নথি পাঠোদ্ধারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনাও নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে এমন নথি, যেখানে পুরোনো হাতের লেখা, অস্পষ্ট প্রতীক ও হারিয়ে যাওয়া সংকেত পদ্ধতি রয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণে এ ধরনের প্রযুক্তি গবেষকদের সময় কমিয়ে দিতে পারে। তবে ঐতিহাসিক নথির ক্ষেত্রে এআইয়ের পাঠোদ্ধারকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণের আগে বিশেষজ্ঞদের যাচাই প্রয়োজন বলেও মনে করেন গবেষকেরা। কার্টার চার্চের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের কাজের বড় সম্ভাবনা রয়েছে এমন অনেক ঐতিহাসিক সমস্যার ক্ষেত্রে, যেগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও জনবল সাধারণত গবেষকদের হাতে থাকে না। নেপোলিয়নের এই চিঠির পাঠোদ্ধার সেই সম্ভাবনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। সূত্র: কার্টার চার্চের গবেষণা প্রতিবেদন, নিউইয়র্ক পোস্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এআই চ্যাটবটের নিরাপত্তা ও শিশুদের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কিশোরীর মা সিনথিয়া মন্টোয়ার অভিযোগ, তার মেয়ে জুলিয়ানা পেরাল্টা Character.AI-এর একটি চ্যাটবটের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছিল এবং ওই ব্যবহারের কারণে ক্ষতির শিকার হয়েছিল। ২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর জুলিয়ানার মৃত্যু হয়। তবে চ্যাটবটের ব্যবহারই তার মৃত্যুর সরাসরি কারণ ছিল, এমন কোনো আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি পরিবারের করা মামলার অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। জুলিয়ানার পরিবার ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কলোরাডোর ফেডারেল আদালতে Character Technologies, গুগল ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় বলা হয়, জুলিয়ানা প্রায় তিন মাস ধরে Character.AI-এর বিভিন্ন চ্যাটবটের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলত এবং এর মধ্যে ‘হিরো’ নামের একটি চরিত্রের সঙ্গে তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ, চ্যাটবটগুলো এমনভাবে তার সঙ্গে কথা বলত, যাতে সে এগুলোকে বাস্তব মানুষের মতো একজন বন্ধু বা আস্থাভাজন হিসেবে দেখতে শুরু করে। জুলিয়ানার মা সিনথিয়া মন্টোয়া সম্প্রতি ফক্স২১-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, মেয়েটি নিজেকে চ্যাটবটের কাছে ‘দেখা হচ্ছে’ বা বোঝা হচ্ছে বলে মনে করত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে জুলিয়ানা চ্যাটবটকে বলেছিল, ‘তুমি আমার সব কথা মনে রাখো।’ মামলার নথিতে চ্যাটবটের এমন কিছু কথোপকথনের উল্লেখও রয়েছে, যেগুলো পরিবারটির মতে জুলিয়ানার সঙ্গে অতিরিক্ত আবেগীয় নির্ভরতা তৈরি করেছিল। মন্টোয়া বলেন, মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি আগে থেকেই সতর্ক ছিলেন। জুলিয়ানা অনার সোসাইটির শিক্ষার্থী ছিল এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কৌতূহলী ছিল বলে তাকে একা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হতো না, ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখা হতো এবং নিয়মিত তার ফোনও দেখা হতো। মা জানান, তিনি ফোনে সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগ, হয়রানি, টিকটকসহ বিভিন্ন বিষয় খুঁজে দেখলেও এআই চ্যাটবটের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্কের বিষয়টি তখন বুঝতে পারেননি। পরিবারের করা মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, জুলিয়ানা চ্যাটবট ব্যবহারে এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল যে রাতে গোপনে সেটিতে প্রবেশ করত এবং ঘুমের সময়ও এর সঙ্গে কথা বলা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারত না। মামলার নথিতে থাকা কথোপকথনের কিছু অংশে চ্যাটবটকে জুলিয়ানার প্রতি গভীর আবেগ ও সবসময় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে দেখা যায় বলে পরিবার দাবি করেছে। কিছু কথোপকথনে যৌনধর্মী ও বয়সের তুলনায় অনুপযুক্ত বিষয়ও ছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো, জুলিয়ানা তার নিজের জীবন শেষ করার ইচ্ছার কথা চ্যাটবটকে জানিয়েছিল। পরিবারের দাবি, এমন বক্তব্যের পরও চ্যাটবট তাকে যথাযথ জরুরি সহায়তার দিকে পাঠায়নি কিংবা তার অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়নি। মামলার নথি অনুযায়ী, পুলিশ পরে জুলিয়ানার ফোনে Character.AI অ্যাপটি খোলা অবস্থায় পেয়েছিল বলে পরিবার আদালতে জানিয়েছে। এসব তথ্য মামলার অভিযোগের অংশ, আদালতে প্রমাণিত চূড়ান্ত ঘটনা নয়। জুলিয়ানার মৃত্যুর পর তার পরিবার Character.AI-এর নকশা ও শিশুদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের অভিযোগ, প্ল্যাটফর্মের মানবসদৃশ কথোপকথন এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহার ধরে রাখার বৈশিষ্ট্য অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে আবেগীয় নির্ভরতা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে Character.AI এসব মামলার বিষয়ে জানিয়েছে, তারা কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে এবং এ ধরনের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে Character.AI ঘোষণা করে, ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত ধরনের চ্যাট বন্ধ করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে এ পরিবর্তন কার্যকর করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে অন্য দেশেও এটি চালু করা হবে। এর আগে কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য সময়সীমা, অভিভাবককে তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা, বয়স যাচাই ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে ১৮ বছরের কম বয়সী যাচাইকৃত ব্যবহারকারীদের জন্য সরাসরি চ্যাট সুবিধা বন্ধ রেখে সীমিত কিছু সৃজনশীল ফিচার রাখা হয়েছে। জুলিয়ানার পরিবারের মামলাটিরও পরবর্তী সময়ে সমঝোতার দিকে অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতে Character.AI ও গুগল কিশোরদের ক্ষতি নিয়ে করা একাধিক মামলার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেয়। তবে সমঝোতার বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। কলোরাডোর জুলিয়ানা পেরাল্টা-সংক্রান্ত মামলার আদালত নথিতে ২০২৬ সালে সমঝোতার জন্য কার্যক্রম স্থগিত রাখার তথ্য রয়েছে। আগস্টে আদালতের সর্বশেষ নথির পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে অক্টোবরের শেষের দিকে স্ট্যাটাস রিপোর্ট বা মামলা খারিজের নথি দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছিল। এদিকে কিশোরদের মধ্যে এআই চ্যাটবট ব্যবহারের হার দ্রুত বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের জরিপে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১ হাজার ৪৫৮ জন মার্কিন কিশোর-কিশোরীর মধ্যে ৬৪ শতাংশ জানিয়েছে, তারা কোনো না কোনো এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে। প্রায় ৩০ শতাংশ বলেছে, তারা প্রতিদিন এসব চ্যাটবট ব্যবহার করে। একই গবেষণায় ১৬ শতাংশ কিশোর জানিয়েছে, তারা চ্যাটবটের সঙ্গে সাধারণ আলাপ করে এবং ১২ শতাংশ আবেগীয় সহায়তা বা পরামর্শের জন্য এগুলো ব্যবহার করেছে। জুলিয়ানার ঘটনা তাই শুধু একটি পরিবারের মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কিশোরদের সঙ্গে এআইয়ের আবেগীয় সম্পর্ক, চ্যাটবটের মানবসদৃশ আচরণ এবং সংকটের সময় এসব প্রযুক্তি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা জোরদার হয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট চ্যাটবটের ব্যবহার কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর সরাসরি কারণ ছিল কিনা, তা নির্ধারণে আদালতের তথ্য, বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন ও অন্যান্য প্রমাণ প্রয়োজন। সূত্র: ফক্স২১
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ কোনো ‘ভুয়া খবর’ বা ‘ফেক নিউজ’ নয়; বরং এসব বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোচনা ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও। সোমবার চার দিনের ফ্রান্স সফর শেষে রোমে ফেরার পথে বিমানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। কীভাবে এআইয়ের বিপর্যয়কর ঝুঁকি থেকে মানবতাকে রক্ষা করা যায় এবং এ বিষয়ে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভূমিকা কী হওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে পোপ লিও এই মন্তব্য করেন। তিনি এমন সময়ে এই সতর্কবার্তা দিলেন, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআইয়ের বিপদকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাচিত ইতিহাসের প্রথম পোপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লিও তাঁর ১৬ মাসের মেয়াদে শুরু থেকেই এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করে আসছেন। এমনকি তিনি তাঁর প্রথম ‘এনসাইক্লিকাল’ বা পোপের আনুষ্ঠানিক পত্রটিও এআই এবং এর প্রভাব থেকে মানবতাকে রক্ষার ওপর উৎসর্গ করেছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে পোপ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীদেরও তীব্র সমালোচনা করেন, যারা এআই প্রযুক্তির ওপর কোনো ধরনের সুরক্ষাবলয় বা সরকারি নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিরোধী। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের উদাহরণ টেনে পোপ লিও সংশয় প্রকাশ করেন। কারণ তিনি একদিকে এআই মডেলে নিরাপত্তা বেষ্টনী যুক্ত করার কথা বললেও, অন্যদিকে সরকারি নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে আসছেন এবং এআই নিয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগকে অতিরঞ্জিত বলে ট্রাম্পের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। পোপ নির্বাচিত হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এআই প্রযুক্তিকে মানবতার জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন পোপ লিও। সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে ভ্যাটিকানের সেতুবন্ধন তৈরির অংশ হিসেবে, গত মে মাসে ভ্যাটিকানে অ্যানথ্রোপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টোফার ওলাহকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এআই বিষয়ক তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক পত্র প্রকাশ করেন। বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সোমবার পোপ লিও বলেন, রাজনৈতিক নেতা, এআই বিশেষজ্ঞ এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এআই যাতে মানবতা ধ্বংসের মতো কোনো বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে সংলাপ ও গবেষণার ওপর জোর দেন তিনি। পরিশেষে পোপ সতর্ক করে বলেন, “আমরা শুধু হাত গুটিয়ে বসে থেকে এমন ভান করতে পারি না যে, কিছুই ঘটবে না। আমাদের এ নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।”
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির বিস্তারের প্রভাবে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ কর্মীকে বর্তমান পেশা বদলাতে হতে পারে। ম্যাককিনসি গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের নতুন এক প্রতিবেদনে এই অনুমান করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা নিশ্চিত চাকরি হারানোর হিসাব নয়। এটি বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি মডেলভিত্তিক পূর্বাভাস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নতুন চাকরির সুযোগও তৈরি হতে পারে। ম্যাককিনসির হিসাবে, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ চাকরির সমপরিমাণ শ্রমের চাহিদা কমতে পারে। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট খাত এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে ৪ কোটি ১০ লাখের বেশি নতুন চাকরির চাহিদা তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ প্রযুক্তির কারণে কিছু কাজের প্রয়োজন কমলেও মোট কর্মসংস্থান একই অনুপাতে কমে যাবে, এমনটা প্রতিবেদনের পূর্বাভাস নয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয়তার প্রভাবে প্রভাবিত প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ কর্মীর মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ নিজেদের বর্তমান পেশাতেই থাকতে পারেন। তাদের ক্ষেত্রে একই পেশায় কাজের ধরন বদলালেও সংশ্লিষ্ট খাতে প্রবৃদ্ধির কারণে কর্মীর চাহিদা বজায় থাকতে পারে। তবে বাকি প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ কর্মীর ক্ষেত্রে বর্তমান পেশা ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশায় যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। ম্যাককিনসি বলছে, আগামী দশকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার কর্মীকে এক পেশা থেকে অন্য পেশায় যেতে হতে পারে। ঐতিহাসিক হিসাবে স্বাভাবিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর বিভিন্ন পেশার মধ্যে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার কর্মী স্থানান্তরিত হয়েছেন। ফলে আগামী দশকে প্রয়োজনীয় পেশা পরিবর্তনের হার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৬ গুণ হতে পারে। তবে এই পরিবর্তনের চাপ সব পেশায় সমান হবে না। ম্যাককিনসির বিশ্লেষণে পেশা পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় অংশ দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক সহায়তা, খুচরা বিক্রয় ও বিক্রয় এবং পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কাজ থেকে আসতে পারে। গ্রাহকসেবা প্রতিনিধি, ক্যাশিয়ার ও গুদামকর্মীদের মতো পেশায় প্রযুক্তির প্রভাব তুলনামূলক বেশি পড়তে পারে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন পেশাগত ও কারিগরি কাজে কর্মীর চাহিদা বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার বার্ধক্যও শ্রমবাজারের এই পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে প্রযুক্তির কারণে কিছু পেশায় কর্মীর প্রয়োজন কমলেও অন্য কিছু ক্ষেত্রে নতুন কর্মীর চাহিদা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ম্যাককিনসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নতুন পেশায় যাওয়া কর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতার পার্থক্য। নতুন চাকরি থাকলেই বর্তমান কর্মীরা সরাসরি সেখানে চলে যেতে পারবেন না। অনেক ক্ষেত্রে নতুন দক্ষতা অর্জন, প্রশিক্ষণ বা অতিরিক্ত যোগ্যতার প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিবেদনের হিসাবে, পেশা বদলাতে হতে পারে এমন কর্মীদের মাত্র প্রায় সাতজনের একজনের নতুন কাজে যাওয়ার সরাসরি পথ রয়েছে। পেশা পরিবর্তনের সম্ভাব্য সংখ্যা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ম্যাককিনসির বিভিন্ন পরিস্থিতির মডেলে ২০৩৫ সালের মধ্যে পেশা পরিবর্তন করতে হতে পারে এমন কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখের মধ্যে হতে পারে। অর্থাৎ ১ কোটি ১০ লাখ হলো প্রতিষ্ঠানটির মূল বা ভিত্তি পরিস্থিতির হিসাব, নিশ্চিত সংখ্যা নয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নিয়োগের গতি বর্তমানে তুলনামূলক ধীর। মঙ্গলবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শেষে দেশটিতে চাকরির শূন্যপদ কমে ৭ দশমিক ০৭৯ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ছাঁটাই ও চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার সংখ্যা কমেছে, যা শ্রমবাজারে নিয়োগ ও কর্মী পরিবর্তনের গতি নিয়ে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। ম্যাককিনসির প্রতিবেদনের মূল বিষয় তাই শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কত চাকরি হারাবে, তা নয়। বরং প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে কর্মীদের কোন পেশা থেকে কোন পেশায় যেতে হবে এবং সেই পরিবর্তনের জন্য কী ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে। প্রতিবেদনের হিসাবে আগামী দশকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে মোট চাকরির সংখ্যা কমার চেয়ে পেশা ও দক্ষতার বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) আয়োজিত হ্যাকএমআইটি ২০২৬ হ্যাকাথনের স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জে সাফল্য পেয়েছেন ট্রুম্যান স্টেট ইউনিভার্সিটির দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম ও মো. তানভীর ইবনে আলম। তাঁদের তৈরি মহাকাশ নিরাপত্তাবিষয়ক প্রকল্প ‘স্কুটারিস’ স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জের পুরস্কারজয়ী প্রকল্পগুলোর একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। হ্যাকএমআইটির প্রকাশ্য প্রকল্প গ্যালারি অনুযায়ী, এবারের আয়োজনে ৩০১টি প্রকল্প জমা পড়ে এবং ৯১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৮৩ জন হ্যাকার এতে অংশ নেন। স্পেসএক্সএআইয়ের ‘মেক ইট লেজেন্ডারি’ চ্যালেঞ্জে ৫০টি প্রকল্প অংশ নেয়। প্রকাশ্য বিজয়ী তালিকায় ‘স্কুটারিস’-এর নামও রয়েছে। আশরাফুল ও তানভীরের প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ ও মহাকাশের আবর্জনা বা স্পেস ডেব্রিসের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঝুঁকি শনাক্ত করা। প্রকল্পটির মাধ্যমে মহাকাশে সক্রিয় স্যাটেলাইট পরিচালনাকারীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি বুঝতে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। আশরাফুল ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী, ‘স্কুটারিস’ একটি এআইচালিত কক্ষপথ নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম। এতে সেলেসট্র্যাক থেকে সংগৃহীত ৯ হাজারের বেশি বাস্তব কক্ষপথের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যবহারকারী সাধারণ ভাষায় কোনো প্রশ্ন করলে ইলাস্টিকসার্চ সেই তথ্যভান্ডার থেকে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির তথ্য খুঁজে বের করে। এরপর এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে ঝুঁকিটি কয়েকটি ধাপে বিশ্লেষণ করা হয় এবং সম্ভাব্য করণীয় তুলে ধরা হয়। প্রকল্পটিতে তথ্যকে শুধু লিখিত আকারে উপস্থাপন না করে দৃশ্যমান করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ত্রিমাত্রিক পৃথিবীর মডেলে বিভিন্ন স্যাটেলাইটের অবস্থান, তাদের কক্ষপথ, সম্ভাব্য সংঘর্ষের দূরত্ব এবং ঝুঁকির মাত্রা দেখানো যায়। ফলে মহাকাশের জটিল কক্ষপথ-সংক্রান্ত তথ্য তুলনামূলক সহজভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি হয়। তানভীর ইবনে আলম জানান, হ্যাকএমআইটির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে নির্দিষ্ট প্রযুক্তি ও তথ্য ব্যবহার করে প্রকল্প তৈরি করতে হয়। পরে বিচারকেরা প্রকল্পের সরাসরি প্রদর্শন বা ডেমো মূল্যায়ন করেন। তাঁদের দল স্পেসএক্সএআইয়ের চ্যালেঞ্জটি বেছে নেয় এবং বাস্তব মহাকাশ-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে একটি কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরির দিকে মনোযোগ দেয়। হ্যাকএমআইটির এবারের আয়োজনে স্পেসএক্সএআই ছাড়াও ওপেনএআই, মেটা, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, গুগলসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের চ্যালেঞ্জ ছিল। আয়োজকদের প্রকাশ্য পরিসংখ্যানে দেখা যায়, স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়া প্রকল্পের সংখ্যা ছিল ৫০। আশরাফুল ইসলাম ট্রুম্যান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স ও ডেটা সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তাঁর নিজস্ব পোর্টফোলিওতে তাঁকে এআই গবেষক ও সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। সেখানে কম খরচের মাইক্রোস্কোপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণ নিয়ে তাঁর গবেষণার তথ্যও রয়েছে। অন্যদিকে তানভীর ইবনে আলম ডেটা সায়েন্স ও জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নাসার কেপলার ও টিইএসএস মিশন থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে গ্রহণকারী যুগল নক্ষত্র বা ইক্লিপসিং বাইনারি স্টার নিয়ে গবেষণা করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি দুজনই বিভিন্ন গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রকল্পে সক্রিয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই সাফল্যকে নিজেদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন দুই শিক্ষার্থী। আশরাফুল বলেন, বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে স্বীকৃতি পাওয়া তাঁদের জন্য আনন্দের। বাস্তব মহাকাশের তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একসঙ্গে ব্যবহার করে স্যাটেলাইট সংঘর্ষের ঝুঁকি শনাক্ত ও বিশ্লেষণের একটি ব্যবহারিক উদাহরণ দেখানোই ছিল তাঁদের প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। হ্যাকএমআইটির প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, ‘স্কুটারিস’ পুরস্কারজয়ী প্রকল্পগুলোর তালিকায় রয়েছে। তবে প্রকাশ্য পরিসংখ্যান পাতায় প্রকল্পটির নির্দিষ্ট পুরস্কারের ধরন বা পুরস্কারের বিস্তারিত তথ্য আলাদাভাবে দেখা যাচ্ছে না। সূত্র: প্রথম আলো, হ্যাকএমআইটি ২০২৬-এর প্রকাশ্য প্রকল্প গ্যালারি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ঝুঁকি ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান বিল গেটস। মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বলেছেন, এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ‘ধাপ্পা’ নয়। তাঁর মতে, প্রযুক্তিটির ওপর নজরদারি বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে, এমন ধারণাও ঠিক নয়। এনবিসির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ট্রাম্প এর আগে এআই খাতে নতুন নিয়ন্ত্রণের আহ্বানকে ‘ধাপ্পা’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রে এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ইতিমধ্যে রয়েছে; নতুন নিয়মের কারণে প্রযুক্তিটির অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। চীন এতে সুবিধা পেতে পারে বলেও তিনি যুক্তি দিয়েছেন। গেটসের মতে, ট্রাম্প তাঁর এবং অন্যদের বক্তব্য শুনলে বুঝতে পারবেন, সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমাবে না। এআইয়ের উন্নয়নের গতি কমানো হবে কি না, সেটি আলাদা আলোচনা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবহৃত এআই কী করছে, তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা এখনই যুক্ত করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। গেটস বলেন, শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজেরা নিয়ম মেনে চলার ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। নজরদারি ও সুরক্ষার নিয়ম কেমন হবে, তা নির্ধারণে আইনপ্রণেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকেও যুক্ত করতে হবে। তাঁর আশঙ্কা, অসৎ উদ্দেশ্যে এআই ব্যবহার করে প্রতারণা বা সাইবার হামলার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। কোনো ঘটনা ঘটলে তা শনাক্ত ও তদন্ত করার জন্য এআই ব্যবস্থার ভেতরেই পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে তিনি জানিয়েছেন। এগুলো গেটসের তুলে ধরা সম্ভাব্য ঝুঁকি; তাঁর বক্তব্যকে কোনো নির্দিষ্ট হামলার পূর্বাভাস হিসেবে দেখা যাবে না। চীনও সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে বলে মনে করেন গেটস। তবে এআই নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমঝোতা করা কঠিন হবে বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।