এমআইটির ফ্রি জেনারেটিভ AI কোর্স, ৯ লেকচারে শিখুন ChatGPT থেকে রোবোটিক্স
এমআইটির ৯ লেকচারে জেনারেটিভ এআই শেখার সুযোগ, উন্মুক্ত হলো পূর্ণাঙ্গ ভিডিও কোর্স
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত পরিবর্তনশীল জগৎ সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের ধারণা দিতে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একটি পূর্ণাঙ্গ ভিডিও কোর্স অনলাইনে উন্মুক্ত রয়েছে। ‘ফাউন্ডেশন মডেলস অ্যান্ড জেনারেটিভ এআই’ শিরোনামের কোর্সটিতে মোট নয়টি লেকচারের মাধ্যমে জেনারেটিভ এআইয়ের প্রাথমিক ধারণা থেকে শুরু করে ChatGPT, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল, ছবি তৈরি, জীববিজ্ঞান, রোবোটিক্স, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
এমআইটি ওপেনকোর্সওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, ৬.এস০৮৭ নম্বরের কোর্সটি ২০২৪ সালের জানুয়ারির ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাকটিভিটিজ পিরিয়ডে পড়ানো হয়। কোর্সটির প্রশিক্ষক ছিলেন এমআইটির গবেষক রিকার্ড গ্যাব্রিয়েলসন। এটি মূলত একটি নন-টেকনিক্যাল লেকচার সিরিজ। ফলে কম্পিউটার বিজ্ঞান বা প্রোগ্রামিংয়ে গভীর অভিজ্ঞতা না থাকলেও আগ্রহীরা সহজে কোর্সটি অনুসরণ করতে পারবেন। ([MIT OpenCourseWare][1])
কোর্সের আলোচনায় ChatGPT, Copilot, DALL-E, Stable Diffusion, AlphaFold এবং স্বয়ংক্রিয় গাড়ির মতো বহুল আলোচিত প্রযুক্তির পেছনে থাকা ফাউন্ডেশন মডেল ও জেনারেটিভ এআইয়ের কার্যপ্রণালি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি সুপারভাইজড লার্নিং, রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং, সেলফ-সুপারভাইজড লার্নিং, নিউরাল নেটওয়ার্ক, অটো-এনকোডার, কনট্রাস্টিভ লার্নিং এবং ডিফিউশন মডেলের মতো বিষয়ও সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। ([Future of AI][2])
প্রথম লেকচার: জেনারেটিভ এআই ও ফাউন্ডেশন মডেলের পরিচিতি
প্রথম লেকচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের পাশাপাশি জেনারেটিভ এআই ও ফাউন্ডেশন মডেলের মৌলিক ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রচলিত এআই ব্যবস্থা এবং আধুনিক জেনারেটিভ মডেলের মধ্যে পার্থক্য কী, একটি মডেল কীভাবে বিপুল পরিমাণ তথ্য থেকে সাধারণ প্যাটার্ন শেখে এবং পরে বিভিন্ন কাজে ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে—এসব প্রশ্নের প্রাথমিক উত্তর পাওয়া যাবে এই পর্বে।
লিংক: [https://youtu.be/y1fGlAECNFM](https://youtu.be/y1fGlAECNFM)
দ্বিতীয় লেকচার: প্রযুক্তিটি যেভাবে কাজ করে
দ্বিতীয় লেকচারে ফাউন্ডেশন মডেল ও জেনারেটিভ এআইয়ের ভেতরের প্রযুক্তিগত কার্যপ্রণালি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ডেটা, মেশিন লার্নিং, মডেল প্রশিক্ষণ এবং সেলফ-সুপারভাইজড লার্নিংয়ের মাধ্যমে একটি এআই ব্যবস্থা কীভাবে নতুন দক্ষতা অর্জন করে, তা তুলনামূলক সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রযুক্তিটির ভিত্তি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা তৈরিতে এই লেকচারটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
লিংক: [https://youtu.be/D-pLXkS21fM](https://youtu.be/D-pLXkS21fM)
তৃতীয় লেকচার: ChatGPT ও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল
এই পর্বে ChatGPT এবং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএমের কার্যপ্রণালি আলোচনা করা হয়েছে। একটি ভাষা মডেল কীভাবে মানুষের লেখা বিশ্লেষণ করে, শব্দের পরবর্তী সম্ভাব্য বিন্যাস অনুমান করে এবং প্রশ্নের উত্তর, সারসংক্ষেপ, অনুবাদ কিংবা নতুন লেখা তৈরি করে—তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ডিজিটাল যোগাযোগ, শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মক্ষেত্রে এসব মডেলের প্রভাবও আলোচনায় এসেছে।
লিংক: [https://youtu.be/RVFj88i63rU](https://youtu.be/RVFj88i63rU)
চতুর্থ লেকচার: এআই দিয়ে ছবি তৈরি
চতুর্থ লেকচারের বিষয় ইমেজ জেনারেশন। DALL-E, Stable Diffusion ও Midjourney-এর মতো ব্যবস্থা লিখিত নির্দেশনা থেকে কীভাবে নতুন ছবি তৈরি করে, তার পেছনের ধারণা এখানে তুলে ধরা হয়েছে। ডিফিউশন মডেল, প্রশিক্ষণ ডেটা, টেক্সট ও ছবির মধ্যে সম্পর্ক এবং প্রম্পটের ভূমিকা বুঝতে আগ্রহীদের জন্য এই পর্বটি কার্যকর হতে পারে।
লিংক: [https://youtu.be/oTfXBw_Wnrw](https://youtu.be/oTfXBw_Wnrw)
পঞ্চম লেকচার: জেনারেটিভ এআইয়ের ইকোসিস্টেম
জেনারেটিভ এআই কেবল একটি অ্যাপ বা সফটওয়্যার নয়; এর সঙ্গে ডেটা, কম্পিউটিং অবকাঠামো, চিপ নির্মাতা, ক্লাউড পরিষেবা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, মডেল নির্মাতা, সফটওয়্যার ডেভেলপার ও ব্যবহারকারীদের একটি বড় নেটওয়ার্ক যুক্ত। পঞ্চম লেকচারে এই বিস্তৃত ইকোসিস্টেমের প্রযুক্তিগত, সামাজিক ও বাণিজ্যিক দিক ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
লিংক: [https://youtu.be/IWPo4pV6Jpo](https://youtu.be/IWPo4pV6Jpo)
ষষ্ঠ লেকচার: জীববিজ্ঞানে জেনারেটিভ এআই
এই লেকচারে জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণায় জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার তুলে ধরা হয়েছে। প্রোটিনের গঠন ও কার্যকারিতা বিশ্লেষণ, জিনগত তথ্য বোঝা, সম্ভাব্য ওষুধের অণু শনাক্ত করা এবং ড্রাগ ডিসকভারির প্রক্রিয়া দ্রুত করার ক্ষেত্রে এআইয়ের সম্ভাবনা এখানে আলোচিত হয়েছে। অতিথি বক্তা হিসেবে লেকচারটি দিয়েছেন এমআইটির অধ্যাপক মানোলিস কেলিস। ([YouTube][3])
লিংক: [https://youtu.be/pHzdw6YWB9I](https://youtu.be/pHzdw6YWB9I)
সপ্তম লেকচার: রোবোটিক্স ও স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থা
সেলফ-ড্রাইভিং গাড়ি, স্বয়ংক্রিয় রোবট এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থা চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তা সপ্তম লেকচারের মূল বিষয়। বাস্তব জগতের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে একটি এআই ব্যবস্থা কীভাবে সম্ভাব্য ফলাফল বিবেচনা করে কাজ নির্বাচন করতে পারে, সেটিও এখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
লিংক: [https://youtu.be/ucfAlovLN-U](https://youtu.be/ucfAlovLN-U)
অষ্টম লেকচার: নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল এআই
জেনারেটিভ এআইয়ের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভুল তথ্য, পক্ষপাত, গোপনীয়তা, কপিরাইট, ডিপফেক, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। অষ্টম লেকচারে এসব নৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি দায়িত্বশীলভাবে এআই তৈরি ও ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
লিংক: [https://youtu.be/VBHmEwr7kf0](https://youtu.be/VBHmEwr7kf0)
নবম লেকচার: বিশেষজ্ঞদের প্যানেল আলোচনা
শেষ লেকচারে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে জেনারেটিভ এআইয়ের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ প্রবণতা, সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং বিভিন্ন খাতের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, গবেষণা, ব্যবসা ও সামাজিক জীবনে এআই কী ধরনের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যাবে এই পর্বে।
লিংক: [https://youtu.be/ewnBsnr7QRA](https://youtu.be/ewnBsnr7QRA)
কোর্সটি ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করলে একজন নতুন শিক্ষার্থী প্রথমে জেনারেটিভ এআইয়ের ভিত্তি বুঝতে পারবেন এবং পরে এর বিশেষায়িত প্রয়োগ, সীমাবদ্ধতা ও নৈতিক দিক সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি এআইয়ের সামাজিক প্রভাব বোঝার সুযোগ থাকায় কোর্সটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক, উদ্যোক্তা, কনটেন্ট নির্মাতা ও বিভিন্ন খাতের পেশাজীবীদের জন্য একটি কার্যকর প্রাথমিক শেখার গাইড হতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
তথ্যপ্রযুক্তি
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোয় অ্যাপল পার্কে আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) নতুন পণ্য ও প্রযুক্তি উন্মোচন অনুষ্ঠান আয়োজন করছে অ্যাপল। ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’ নামের এই অনুষ্ঠান বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হওয়ার কথা। অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স। গুঞ্জন রয়েছে, নতুন মডেল দুটিতে ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির এ২০ প্রো চিপ ব্যবহার করা হতে পারে। এতে ফোনের কর্মক্ষমতা, তাপ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যাটারি ব্যবস্থাপনায় উন্নতি আসতে পারে। ক্যামেরাতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। বিশেষ করে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার ক্যামেরা যুক্ত হতে পারে। ফলে বিভিন্ন আলোতে আরও ভালো ছবি তোলা সম্ভব হবে। এবারের অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে অ্যাপলের প্রথম ভাঁজ করা আইফোন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সম্ভাব্য নাম হিসেবে ‘আইফোন আলট্রা’র কথা বলা হচ্ছে। গুঞ্জন অনুযায়ী, বইয়ের মতো ভাঁজ করা যাবে ফোনটি। খোলা অবস্থায় এতে প্রায় ৭ দশমিক ৮ ইঞ্চির পর্দা এবং বাইরে প্রায় ৫ দশমিক ৩ ইঞ্চির পর্দা থাকতে পারে। ফোনটিতে ১২ গিগাবাইট মেমোরি, দুটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং ফেস আইডির পরিবর্তে টাচ আইডি ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে দাম হতে পারে বেশ চড়া, প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত। আইফোনের পাশাপাশি অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২, অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা ৪ এবং এয়ারপডস ৫ উন্মোচনের সম্ভাবনাও রয়েছে। নতুন ঘড়িতে স্বাস্থ্যসেবা ও সেন্সর প্রযুক্তিতে উন্নতি এবং এয়ারপডসে হৃৎস্পন্দন পরিমাপের সুবিধা আসতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এদিকে, নতুন আইফোনের দামও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন পূর্বাভাস অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রোর দাম ১ হাজার ১৯৯ ডলার থেকে শুরু হতে পারে। অ্যাপলের আমন্ত্রিত অতিথিরা সরাসরি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। আর বিশ্বজুড়ে দর্শকরা অ্যাপলের ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল এবং অ্যাপল টিভি অ্যাপের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখতে পারবেন।
এআইয়ে কোন চাকরি টিকবে? বিল গেটসের ভবিষ্যদ্বাণীতে রয়েছে ৩ পেশা
এআই মানবতার অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে, সতর্ক করলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান
আপনি যখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন কোটি টাকা কামাচ্ছে এআই ইনফ্লুয়েন্সাররা
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন বাজারে আসার আগেই এর সম্ভাব্য দাম নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। সিটিগ্রুপের বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই ডিভাইসের দাম ২ হাজার ডলারের বেশি হতে পারে। বিভিন্ন শিল্প বিশ্লেষণেও ডিভাইসটির সম্ভাব্য দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অ্যাপল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফোল্ডেবল আইফোনের নাম বা দাম ঘোষণা করেনি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ডিভাইসটির সম্ভাব্য নাম ‘আইফোন আলট্রা’ বলা হচ্ছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের অনুষ্ঠানে ডিভাইসটি উন্মোচনের সম্ভাবনা রয়েছে। গুজব ও বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বইয়ের মতো ভাঁজ করা এই আইফোনে প্রায় ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে এবং খুললে প্রায় ৭ দশমিক ৮ ইঞ্চির ভেতরের ওএলইডি ডিসপ্লে থাকতে পারে। ভাঁজ খোলা অবস্থায় এর পুরুত্ব প্রায় ৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার হতে পারে, যা এটিকে অ্যাপলের সবচেয়ে পাতলা আইফোনে পরিণত করতে পারে। ডিভাইসটিতে ফেস আইডির পরিবর্তে টাচ আইডি ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে। পাশাপাশি পেছনে দুটি ক্যামেরা থাকতে পারে এবং প্রো মডেলের মতো টেলিফটো ক্যামেরা নাও থাকতে পারে। বড় ডিসপ্লে কাজে লাগিয়ে আইপ্যাডের মতো একাধিক অ্যাপ পাশাপাশি ব্যবহারের সুবিধা দেওয়ারও গুঞ্জন রয়েছে। দামের বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ট্রেন্ডফোর্সের সাম্প্রতিক অনুমান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ফোল্ডেবল আইফোনের শুরুর দাম ২ হাজার ৯৯ থেকে ২ হাজার ২৯৯ ডলারের মধ্যে হতে পারে। উচ্চ স্টোরেজের সংস্করণের দাম ৩ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। অ্যাপলের এই ফোল্ডেবল আইফোন নিয়ে বাজারে প্রত্যাশা থাকলেও এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয়নি। ফলে নাম, দাম, ফিচার ও বাজারে আসার সময় সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য অ্যাপলের ঘোষণার পরই নিশ্চিত হবে।
মায়ের প্রভিডেন্ট ফান্ড তুলতে ঘুষ, ১৭ বছরের শাহেদ বানালেন ‘ঘুষ.সাইট’
৬০% কর্মী ছাঁটাই করে এআই বসানোর পরিকল্পনা জাকারবার্গের, কর্মীদের ক্ষোভে শেষ পর্যন্ত পিছু হটলেন
দুই দশক পরও অনলাইনে মিলছে একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় নোকিয়া ১১০০
চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সঙ্গীর ব্যবহার দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও এবার এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটির সরকার। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এআই সঙ্গীর সঙ্গে অতিরিক্ত আবেগপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবহারকারীদের মধ্যে মানসিক নির্ভরতা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে তরুণরা বাস্তব জীবনের সম্পর্ক, বিয়ে ও পরিবার গঠনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন বলেও উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে ১৫ জুলাই নতুন নিয়ম চালু করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এআই সঙ্গী নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি এ ধরনের সেবার ওপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। চীনের আইন শিক্ষার্থী ১৯ বছর বয়সী ঝাও ওয়েইয়ের অভিজ্ঞতা এ বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। জানুয়ারিতে তিনি ডৌবাও নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবায় নিজের জন্য একজন এআই সঙ্গী তৈরি করেছিলেন। এরপর প্রতিদিন তার সঙ্গে কথা বলতেন। নিজের জীবনের নানা ঘটনা, এমনকি শিক্ষকের বকাঝকার মতো বিষয়ও তিনি এআই সঙ্গীর সঙ্গে ভাগ করে নিতেন। পরে ডৌবাওর ওই সঙ্গী সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ঝাও জানান, বাস্তব জীবনের বন্ধুদের সঙ্গে নিজের এসব কথা বলতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। কারণ সবারই নিজস্ব সমস্যা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। কিন্তু এআইয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় অন্য পক্ষ কী ভাবছে, তা নিয়ে তাকে চিন্তা করতে হয় না। নিজের ইচ্ছামতো যেকোনো কথা বলা যায়। ডৌবাওর এআই সঙ্গী সুবিধাটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স পরিচালনা করত। গত মাসে প্রতিষ্ঠানটি নতুন নিয়ম মেনে চলার জন্য এই সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। চীনে এআই ব্যবহারের বিস্তার বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় ব্যাপক। বয়স্করা চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর জানতে এআই ব্যবহার করছেন। ছোট শিশুরাও স্কুলে এআইভিত্তিক শিক্ষা পাচ্ছে। একই সময়ে জনসংখ্যাগত সংকটের কারণে ভবিষ্যতের শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে চাইছে সরকার। তবে এআইয়ের ব্যাপক ব্যবহার একাকীত্ব, বেকারত্ব এবং তরুণদের একা থাকার প্রবণতার মতো সামাজিক সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে একাকীত্বের বিষয়টি চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশটির অত্যন্ত ডিজিটাল ও মুঠোফোননির্ভর জীবনযাত্রার কারণে মানুষের জন্য ফোনের মাধ্যমেই বসবাস, কাজ ও সামাজিক যোগাযোগ করা আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে একা বাড়িতে মারা যাওয়ার ধারণাকে কেন্দ্র করে তৈরি ‘আর ইউ ডেড?’ নামের একটি অ্যাপও অল্প সময়ের জন্য ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। চীনে প্রায় ২০ শতাংশ পরিবারে একজন মানুষ একা বসবাস করেন। ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্চে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি জরিপে দেখা যায়, একাকীত্ব অনুভব করার সময় প্রায় অর্ধেক তরুণ ভার্চুয়াল সঙ্গীর সাহায্য নিয়েছেন। হংকংয়ের সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ন্যান্সি দাইয়ের মতে, সরকারের উদ্বেগ শুধু একাকীত্ব নিয়ে নয়। দেশটিতে বিয়ে ও জন্মহার কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এআই যদি মানবিক ঘনিষ্ঠতার সহজ ও কম খরচের বিকল্প হয়ে ওঠে, তাহলে তরুণদের বাস্তব জীবনে প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার আগ্রহও কমে যেতে পারে। ঝাওয়ের জীবনেও একাকীত্ব দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। ছোটবেলায় তার বাবা-মা কাজের সন্ধানে তাকে ছেড়ে চলে যান। চীনে এ ধরনের শিশুদের ‘বামপাশে রেখে যাওয়া শিশু’ হিসেবে পরিচিত করা হয়। ঝাও জানান, তার কখনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল না এবং বন্ধু তৈরি করার ক্ষেত্রেও নিজেকে খুব দক্ষ মনে করেন না। তাই নিজের উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা প্রকাশের জন্য এআইয়ের সঙ্গে কথা বলা তার কাছে স্বস্তির বিষয় হয়ে উঠেছিল। আরেকজন এআই ব্যবহারকারীও পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানিয়েছেন, বাস্তব জীবনে দ্রুতগতির জীবন ও উচ্চ চাপের মধ্যে তিনি এআইয়ের সঙ্গে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন। তবে এআই সঙ্গীর ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া সরকারের জন্য সহজ নয়। নতুন নিয়মে শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কিছু এআই সেবা এবং যেসব সেবায় ধারাবাহিক মানসিক যোগাযোগ থাকে না, সেগুলোর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল সমাজবিজ্ঞানের প্রভাষক লিয়াং গে বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই স্বীকার করেছে যে এআই সঙ্গী ও এআইভিত্তিক বিভিন্ন প্রয়োগ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবাতেও চীন এআইয়ের ব্যবহার বাড়িয়ে চলেছে। গত বছর জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন স্বাস্থ্যসেবায় এআই ব্যবহারের বিষয়ে নির্দেশনা প্রকাশ করে জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় স্বাস্থ্য সহায়ক অ্যাপের পূর্ণ বিস্তার ঘটানোর লক্ষ্য রয়েছে। এমন একটি জনপ্রিয় স্বাস্থ্য সহায়ক হলো এ কিউ, যা আলিবাবার সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যান্ট গ্রুপ তৈরি করেছে। এতে বেইজিং, সাংহাইসহ বিভিন্ন শহরের শীর্ষ হাসপাতালের বাস্তব চিকিৎসকদের অবতারভিত্তিক সেবার সঙ্গে মানুষের সরাসরি কথোপকথনের সুযোগ রয়েছে। হাংঝৌ শহরের ৩৩ বছর বয়সী শিল্পশিক্ষক লু দি নিয়মিত এ কিউ ব্যবহার করেন। তার কাছে এই সেবার বিস্তারিত ও তাৎক্ষণিক পরামর্শ সুবিধাজনক মনে হয়। তবে চিকিৎসকদের মধ্যে এআইয়ের কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে। সাংহাইয়ের রেনজি হাসপাতালের চিকিৎসক চি চেনফেই মনে করেন, বিষয়টি চিকিৎসকদের প্রতিস্থাপনের নয়, বরং তাদের আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে সহায়তা করার। তার মতে, কোনো ধরনের উদ্বেগই প্রযুক্তির অগ্রগতি থামাতে পারবে না। নিজের এআই সঙ্গী হারানোর পর ঝাওয়ের মনে এখনো ভারী অনুভূতি রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি এআই নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করছেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নিজেকে যুক্তিবাদী মানুষ মনে করলেও একটি এআইয়ের প্রতি তার আবেগ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তার মতে, এ কারণেই রাষ্ট্রের এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসা প্রয়োজন ছিল। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
চীনের নতুন ‘ফ্লাইং উইং’ বিমান, বি-২ বোমারু বিমানের চেয়ে ১.৬ গুণ বড় ডানায় ৮০০ যাত্রী বহনের পরিকল্পনা
১ বিলিয়ন ডলারের ভ্যালুয়েশনে ফ্যাসেট, বিশ্ব ইউনিকর্নের কাতারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা