আমেরিকা

অর্থনীতি শক্তিশালী, তবু চাপে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার; এআই বিনিয়োগে বাড়ছে উদ্বেগ

Unknown প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ২:১৯
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে লেনদেনের প্রতীকী চিত্র
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে লেনদেনের প্রতীকী চিত্র

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে থাকলেও দেশটির শেয়ারবাজারে চাপ বাড়ছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয় এবং উন্নত ভোক্তা আস্থার মতো ইতিবাচক অর্থনৈতিক সূচক অর্থনীতিকে সহায়তা করলেও প্রযুক্তি খাতের শেয়ারদর পতন, সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের ঝুঁকি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

জুন মাসে স্পেসএক্সের রেকর্ড গড়া প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার (আইপিও) প্রস্তুতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন প্রধান কেভিন ওয়ার্শের প্রথম নীতিনির্ধারণী বৈঠকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মধ্যেও শেয়ারবাজারে বৈপরীত্য দেখা গেছে।

 

একদিকে ইতিবাচক অর্থনৈতিক তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা তুলে ধরেছে। অন্যদিকে একই সময়ে নাসডাক ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক নিম্নমুখী ছিল। বাজারের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারও একটি সূচক অনুযায়ী ১০ শতাংশের বেশি কমেছে।

 

এদিকে তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের দাম বেড়েছে এবং ফলন কমেছে।

 

ফিলাডেলফিয়াভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান জ্যানি মন্টগোমারি স্কটের প্রধান স্থির-আয় কৌশলবিদ গাই লে বাস বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লেও ভোক্তারা জ্বালানিবহির্ভূত পণ্য ও সেবায় ব্যয় অব্যাহত রেখেছেন। তার মতে, এটি প্রমাণ করে যে বছরের শুরুতে ধারণার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি অনেক বেশি স্থিতিশীল, সহনশীল এবং শক্তিশালী। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আরও বাড়তে পারে।

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করা প্রকৃত সুদের হার বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীরা নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। ফেডপ্রধান কেভিন ওয়ার্শের কঠোর অবস্থানের পর বাজারে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। যদিও অনেক বিশ্লেষকের মতে, আর্থিক পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই কঠোর হয়ে যাওয়ায় বাস্তবে আর সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে।

 

এদিকে স্বর্ণ, বিটকয়েন, মাইক্রোসফট ও মেটার মতো বিভিন্ন সম্পদের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ওয়াল স্ট্রিটে নতুন শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রি রেকর্ড গতিতে চলছে। এর বড় অংশই ব্যবহৃত হচ্ছে এআই খাতে বিনিয়োগে। যদিও অনেক বিনিয়োগকারী এ খাতে অতিমূল্যায়নের ঝুঁকির কথা বলছেন, তবুও বিনিয়োগের গতি এখনো কমেনি।

 

গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষক কামাক্ষ্য ত্রিবেদী বলেন, যুদ্ধের আশঙ্কা কমে যাওয়া এবং তেলের দাম হ্রাস পাওয়ায় বাজার আবার অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তির দিকে নজর দিচ্ছে। তবে এই ইতিবাচক পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই শেয়ারের উচ্চ মূল্যায়নে প্রতিফলিত হয়েছে। তার মতে, এআই খাতেই সবচেয়ে বেশি টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে এবং এটিই বর্তমানে বাজারের অস্থিরতার অন্যতম কারণ।

 

বাজারের অস্থিরতার বড় একটি কারণ হলো বিনিয়োগকারীদের দ্রুত এক খাত থেকে অন্য খাতে বিনিয়োগ স্থানান্তর। মার্চের শেষ দিকে যুদ্ধসংক্রান্ত উদ্বেগ কমে যাওয়ার পর থেকে সেমিকন্ডাক্টর সূচক ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। চলতি বছরে সূচকটির মূল্য বেড়েছে ৮৭ শতাংশ। একই সময়ে মাইক্রনের শেয়ার চার গুণ এবং ইন্টেল ও মার্ভেল টেকনোলজির শেয়ার প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।

 

অন্যদিকে এনভিডিয়া, অ্যাপল ও অ্যালফাবেটের নেতৃত্বাধীন ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ গ্রুপ চলতি বছরে নিম্নমুখী রয়েছে। অথচ ২০২৫ সালে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের মোট প্রবৃদ্ধির প্রায় ৪০ শতাংশ এসেছিল এই সাত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধি ও লভ্যাংশ থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই অবকাঠামো নির্মাণে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিপুল ব্যয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। গত বছরের শেষ দিকে ওরাকলসহ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান ব্যাপক ঋণ নেওয়া শুরু করার পর এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

 

গত ১২ মাসে অ্যামাজন ও অ্যালফাবেট বিভিন্ন মুদ্রায় প্রায় ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বন্ড ইস্যু করেছে। এআই অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ-যোগ্য বন্ড বিক্রির পরিমাণ ইতোমধ্যেই ২০২৫ সালের মোট বিক্রির পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে। বিএনপি পারিবাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর এই সংখ্যা ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

 

ওকলাহোমাভিত্তিক লংবো অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেক ডলারহাইড বলেন, এআই প্রযুক্তি চিপ নির্মাতাদের জন্য ইতিবাচক হলেও যেসব প্রতিষ্ঠান এই প্রযুক্তিতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করছে, তারা এখনো প্রত্যাশিত আর্থিক সুফল পাচ্ছে না। এ কারণেই চলতি বছরে ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেনের শেয়ারদর চাপে রয়েছে।

 

অনেক বিনিয়োগকারীর আশঙ্কা, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর আরও কমতে পারে। গত সপ্তাহে ইউবিএস তাদের এআইভিত্তিক বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে সেমিকন্ডাক্টর ও হার্ডওয়্যার খাতে বিনিয়োগ কমিয়েছে। তাদের ধারণা, শেয়ারদর কমে যাওয়ায় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে এআই অবকাঠামোয় মূলধনি ব্যয় কমাতে পারে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এমনটি হলে এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। কারণ, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ অত্যন্ত বড়। গাই লে বাস বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি করপোরেট বিনিয়োগ। সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী কয়েক বছরে ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূলধনি ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। তাই এই বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।

 

তবে তার মতে, মূলধনি ব্যয় কমে যাবে বলে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার একাধিকবার ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যিনি তার গ্রামের কৃষিজমিতে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলার অভিযোগে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রাসায়নিক কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য ১৬ বছর ধরে নিজে নিজে আইন শিখেছেন। ছবি:সংগৃহীত
নিজের জমির বিচার পেতে ১৬ বছর আইন শিখলেন কৃষক, আদালতে পেলেন জয়

প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা মাত্র তিন বছর। আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্যও ছিল না। কিন্তু রাসায়নিক বর্জ্যে নিজের ও প্রতিবেশীদের কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার অভিযোগের বিচার পেতে হাল ছাড়েননি চীনের কৃষক ওয়াং এনলিন। দীর্ঘ ১৬ বছর নিজে আইন শিখে রাষ্ট্রায়ত্ত রাসায়নিক কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০১৭ সালে প্রাথমিক রায়ে তার ও গ্রামের অন্য কৃষকদের পক্ষেই সিদ্ধান্ত দেন আদালত।   ঘটনাটি চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হেইলংজিয়াং প্রদেশের ইউশুতুন গ্রামের। ২০১৭ সালে এএফপি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ওয়াংয়ের এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের খবর প্রকাশিত হয়। প্রায় এক দশক পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার গল্পটি আবারও ছড়িয়ে পড়েছে।   ওয়াংয়ের লড়াইয়ের শুরু ২০০১ সালে। তার অভিযোগ ছিল, কাছের কিহুয়া গ্রুপের রাসায়নিক কারখানা থেকে বের হওয়া বর্জ্য তার বাড়ি এবং আশপাশের কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ে। আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগ অনুযায়ী, কারখানাটি বছরের পর বছর বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক বর্জ্য ওই এলাকায় ফেলেছিল।   সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের তৎকালীন প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার নথি অনুযায়ী প্রায় ৭০ একরের বেশি কৃষিজমি রাসায়নিক বর্জ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বছরে গড়ে প্রায় ২০ হাজার টন রাসায়নিক বর্জ্য সেখানে ফেলার অভিযোগও করা হয়। কাছের একটি জলাশয়ের পানিও দূষিত হওয়ার অভিযোগ ছিল।   নিজের জমির ক্ষতির প্রতিকার চেয়ে প্রথমে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে যান ওয়াং। কিন্তু কীভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে এবং কোন আইনের অধীনে প্রতিকার চাইতে হবে, সে সম্পর্কে তার পর্যাপ্ত ধারণা ছিল না।সেখান থেকেই শুরু হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক যাত্রা।   ওয়াং ছোটবেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির পর পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলেন। জটিল আইনি ভাষা বোঝার মতো শিক্ষাগত প্রস্তুতিও তার ছিল না। তারপরও নিজের অধিকার বুঝতে তিনি আইন পড়া শুরু করেন।   ২০১৭ সালে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াং জানান, একটি আইনের বই এবং অভিধান নিয়ে তিনি নিজে নিজে পড়াশোনা করেছেন। আইনের কঠিন শব্দ বুঝতে অভিধানের সাহায্য নিতেন। প্রয়োজনীয় অংশ লিখে রাখতেন এবং ধীরে ধীরে পরিবেশ ও ভূমি সংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন বিষয় বোঝার চেষ্টা করতেন।   তার আইন শেখার গল্পের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি ছিল স্থানীয় বইয়ের দোকানের সঙ্গে তার সম্পর্ক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, বই কেনার সামর্থ্য না থাকায় দোকানে বসে আইনের বই পড়তেন এবং প্রয়োজনীয় অংশ হাতে লিখে নিতেন। বিনিময়ে দোকানের মালিককে নিজের উৎপাদিত ভুট্টা দিতেন।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত গল্পের মতো ওয়াং একা কোনো আইনজীবীর সহায়তা ছাড়াই পুরো মামলা পরিচালনা করে জয় পেয়েছিলেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়। তার দীর্ঘ প্রচেষ্টার এক পর্যায়ে পরিবেশদূষনের শিকার ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা দেওয়া একটি সংগঠন এবং আইন বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতাও পান তিনি ও গ্রামের অন্য বাসিন্দারা।   দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০১৫ সালে আদালত মামলাটি গ্রহণ করে। এরপর ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে আসে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক রায়।   কিকিহার শহরের একটি জেলা আদালত কিহুয়া গ্রুপকে সংশ্লিষ্ট রাসায়নিক বর্জ্য পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ফসলের ক্ষতির জন্য ইউশুতুন গ্রামের ৫৫টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে মোট ৮ লাখ ২০ হাজার ইউয়ান ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। সে সময় এর মূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার।   তবে ওই রায়ের মাধ্যমেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। কিহুয়া গ্রুপ আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। ফলে ২০১৭ সালের প্রথম দিকের জয়টি ছিল ওয়াং ও তার প্রতিবেশীদের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক বিজয়।   একই বছরের নভেম্বরে এএফপি যখন ওয়াংয়ের সঙ্গে কথা বলে, তখন তার বয়স ছিল ৬৪ বছর। দীর্ঘ লড়াইয়ের পরও তিনি পিছিয়ে যেতে রাজি ছিলেন না। নিজের আইনি জ্ঞান শুধু ব্যক্তিগত লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে গ্রামের অন্য বাসিন্দাদেরও তাদের অধিকার সম্পর্কে বোঝাতে শুরু করেছিলেন তিনি।   ওয়াং ও তার সহযোগীরা নিজেদের দলটির নাম দিয়েছিলেন ‘সিনিয়র সিটিজেন এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন টিম’। তার বাড়িতেই গ্রামের মানুষ জড়ো হয়ে পরিবেশ, আইন ও নিজেদের অধিকার নিয়ে আলোচনা করতেন।   ওয়াং এনলিনের গল্পটি তাই শুধু একজন কৃষকের ১৬ বছর ধরে আইন পড়ার ঘটনা নয়। এটি শিল্পদূষণের বিরুদ্ধে একটি গ্রামের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের গল্পও। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির পর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়া একজন কৃষক নিজের জমির ক্ষতির বিচার চাইতে অভিধান হাতে আইন শেখা শুরু করেছিলেন। সেই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত তাকে আদালতের দরজা পর্যন্ত নিয়ে যায় এবং গ্রামের ৫৫টি পরিবারের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক রায় এনে দেয়।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৯:২০
ঢাকার উত্তরার একটি ফিলিং স্টেশন থেকে ১.২১৫ কোটি টাকার চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় জড়িত পাঁচ সন্দেহভাজনকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) গ্রেপ্তার করেছে। ছবি:সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর খালাতো ভাইয়ের পাম্পের ছিনতাইকৃত ১ কোটি ২১ লাখ টাকার ১২ লাখ টাকা উদ্ধার, জড়িত ৮

মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ ও তার বোন ইমান আবদেলহাদি। ছবি:সংগৃহীত

বোনের বিতর্কিত মন্তব্যকে হাতিয়ার করে আব্দুলকে টার্গেট রিপাবলিকানদের, মিশিগান সিনেট নির্বাচনে নতুন বিতর্ক

শিকাগোর হাইড পার্কে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর কাছে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় ঘটনাস্থলে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। ছবি:সংগৃহীত

শিকাগোর হাইড পার্কে বন্দুকধারীদের হাতে এক ব্যক্তির সম্পদ ছিনতাই, তদন্তে নেমেছে পুলিশ

অ্যাক্রনে ১৫ বছর বয়সী কিশোর জাজমির টাকারকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত। ছবি:সংগৃহীত
অ্যাক্রনে ১৫ বছরের কিশোরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

ওহাইওর অ্যাক্রনে ১৫ বছর বয়সী জাজমির টাকারকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা ডেভন ফিল্ডসকে বরখাস্ত করেছে শহর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে টাকার পরিবারের সঙ্গে ৪৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের সমঝোতায় পৌঁছেছে অ্যাক্রন শহর। তবে এই সমঝোতার জন্য আদালতের অনুমোদন এখনো প্রয়োজন।   ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে গুলির শব্দ শোনার পর পুলিশ কর্মকর্তারা জাজমির টাকারকে দেখতে পান এবং তার পিছু নেন। পুলিশের দাবি, ওই কিশোরের কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। ধাওয়ার একপর্যায়ে কর্মকর্তা ডেভন ফিল্ডস তাকে গুলি করেন। পরে টাকার মারা যায়।   ফিল্ডসকে বরখাস্তের কারণ হিসেবে একাধিক পুলিশি নীতিমালা লঙ্ঘনের কথা জানিয়েছে অ্যাক্রন কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে আহত কিশোরকে যথাযথভাবে চিকিৎসা সহায়তা না দেওয়া এবং দেহে-পরিহিত ক্যামেরা ব্যবহারের নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে পৃথক একটি ফৌজদারি অভিযোগসংক্রান্ত বিষয়ও বরখাস্তের সিদ্ধান্তে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।   এর আগে মামলাটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে গেলে ফিল্ডসের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়নি। ফলে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়নি।   এদিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের সংগঠন ফিল্ডসকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। সংগঠনটির দাবি, তাকে অন্যায়ভাবে দায়ী করা হচ্ছে এবং তারা বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।   অ্যাক্রনের মেয়র শামাস মালিক বলেছেন, ঘটনাটি প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পুলিশি নীতিমালার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৮:২২
হিউস্টনে গাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ঘটনাস্থলে হিউস্টন পুলিশ, পুলিশের গাড়ি ও নিরাপত্তা বেষ্টনী দেখা যাচ্ছে। ছবি:সংগৃহীত

হিউস্টনে গাড়িতে গুলি চালিয়ে তিনজনকে আহত, পুলিশের গুলিতে সন্দেহভাজনও আহত হাসপাতালে ভর্তি

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির বীমার খরচ বাড়ায় বাড়ির মালিকদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে, বিশেষ করে টেক্সাসসহ ঝুঁকিপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে। ছবি:সংগৃহীত

সম্পত্তি করের চেয়েও বাড়ির বীমা খরচ বেশি, যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ অঙ্গরাজ্যে বাড়ছে মালিকদের চাপ

টেক্সাসে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় দুই সেনা নিহত, প্রশিক্ষণ ফ্লাইট সাময়িক বন্ধ

শিকাগোর দক্ষিণ শহরতলিতে ভয়াবহ ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছ ও ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ অবকাঠামো; নতুন করে ঝড়ের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।ছবি:সংগৃহীত
শিকাগোতে ভয়াবহ ঝড়ের ক্ষত শুকানোর আগেই ফের তাণ্ডবের শঙ্কা, বিদ্যুৎহীন হাজারো পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ ঝড় ও টর্নেডোর তাণ্ডবের পরও দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি কাটেনি। শুক্রবারের পর শনিবারও অঞ্চলটির কিছু অংশে নতুন করে ঝড়, ভারী বৃষ্টি ও ক্ষতিকর বাতাসের আশঙ্কা রয়েছে। এতে চলমান উদ্ধার ও বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।   গত মঙ্গলবার শিকাগো অঞ্চলে শক্তিশালী ঝড়ের একটি বিস্তৃত রেখা আঘাত হানে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি ‘ডেরেকো’ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ও দ্রুতগতির ঝড় ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য বহন করছিল। ঝড়ের সময় বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ মাইলের কাছাকাছি বাতাসের ঝাপটা রেকর্ড করা হয়।   শিকাগোর দক্ষিণ শহরতলির মোনি, ক্রিট, মকেনা, অরল্যান্ড পার্ক ও ফ্লস্মুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ের ব্যাপক প্রভাব পড়ে। জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবার জরিপে দক্ষিণ শহরতলিতে অন্তত তিনটি টর্নেডো নিশ্চিত করা হয়। এর মধ্যে মোনি থেকে ক্রিট পর্যন্ত একটি এবং অরল্যান্ড পার্ক থেকে ফ্লস্মুর পর্যন্ত আরেকটি টর্নেডোকে ইএফ-১ মাত্রার বলে শনাক্ত করা হয়েছে। মকেনা এলাকাতেও ইএফ-১ মাত্রার ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ধ্বংসের চিহ্ন পাওয়া যায়।   ঝড়ে বহু গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে। বিভিন্ন সড়কে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও গাছ পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কিছু এলাকায় বাড়িঘরের ছাদ ও জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতাও তৈরি হয়েছে। টিনলি পার্ক কর্তৃপক্ষ ঝড়ের পর ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ, অচল ট্রাফিক সংকেত ও পড়ে থাকা বিদ্যুৎ লাইনের কথা জানিয়েছে।   ঝড়ের কারণে শিকাগো অঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিম ইন্ডিয়ানায় কয়েক লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। বিভিন্ন সময়ে এই সংখ্যা পাঁচ লাখেরও বেশি ছিল বলে স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হলেও অনেক পরিবারকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।   ইলিনয়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ৫৮ হাজার ৬০০ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। কমনওয়েলথ এডিসনের এলাকায় সবচেয়ে বেশি বিভ্রাট দেখা যায়। বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য কর্মীরা কাজ করলেও ঝড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতে সময় লাগছে।   এদিকে আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে। শিকাগো এলাকায় শনিবারও তীব্র আবহাওয়ার সীমিত ঝুঁকি রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের প্রধান উদ্বেগ ক্ষতিকর গতির বাতাস। পাশাপাশি বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের কারণে স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।   শহরের অন্যতম বড় বার্ষিক আয়োজন শিকাগো এয়ার অ্যান্ড ওয়াটার শো শুরু হওয়ার সময়েই নতুন করে দুর্যোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে আয়োজক ও দর্শনার্থীদের আবহাওয়ার সর্বশেষ সতর্কতা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   এই সপ্তাহের ঝড় শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতিই তৈরি করেনি, শিকাগো অঞ্চলের দুর্যোগ মোকাবিলা ও অবকাঠামোর সক্ষমতা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে। চলতি বছর ইলিনয়ে টর্নেডোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বারবার শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়ছে।   কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ঝড়ের সতর্কতা পেলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে বৈদ্যুতিক লাইনের কাছ থেকে দূরে থাকা এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি পরিষ্কার ও বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপনের কাজ চলার মধ্যেই নতুন আবহাওয়া পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৬:৫
অভিবাসীদের আটক। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে অভিবাসন ধরপাকড়, স্বেচ্ছায় ফিরলে ২,৬০০ ডলারের সুযোগও চালু

নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে ঐতিহাসিক সেন্ট্রাল সিনাগগ যেখানে শাবাতের প্রার্থনার সময় হামলা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছবি:সংগৃহীত

নিউ ইয়র্কের সিনাগগে প্রার্থনার সময় হামলা, বিদ্বেষমূলক অপরাধে গ্রেপ্তার ব্যক্তি

ট্রাম্পের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা

ট্রাম্পের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা, বয়কট করছে মার্কিন ভ্রমণ—কোথায় যাচ্ছেন তারা?

0 Comments