সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

এআই অবকাঠামো এখন চোরদের নিশানায়, যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ লাখ ডলারের ডেটা সেন্টার সরঞ্জাম চুরি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ২২:১
ছবি: সাইবারনিউজ
ছবি: সাইবারনিউজ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণে ব্যবহৃত মূল্যবান সরঞ্জাম ও তামার তার চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সম্প্রতি ১৩ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের ডেটা সেন্টার অবকাঠামো সরঞ্জাম ও তামার তার বহনকারী দুটি ট্রেলার চুরির ঘটনা সামনে এসেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের কুক কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগোর একটি ট্রাক ইয়ার্ড থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি চুরি হওয়া ট্রাকের সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি ট্রেলারে প্রায় তিন লাখ ডলার মূল্যের তামার তার ছিল, যা আলাবামা থেকে চুরি করা হয়েছিল।

 

তদন্তকারীরা ট্রাকটির বিল্ট-ইন ট্র্যাকিং ডিভাইসের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখতে পান, ট্রেলারটি অক্ষত থাকলেও ট্রাকে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নম্বরপ্লেট লাগানো ছিল। পরে তদন্তে জানা যায়, ওই নম্বরপ্লেটও উইসকনসিন থেকে চুরি করা হয়েছিল।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, অপরাধীরা প্রথমে আলাবামা থেকে ট্রাকটি চুরি করে। এরপর পরিচয় গোপন করতে চুরি করা নম্বরপ্লেট লাগিয়ে সেটি ইলিনয়ে নিয়ে আসে। ট্রাক ইয়ার্ডের মালিক তদন্তকারীদের জানান, যে ব্যক্তি চুরি হওয়া ট্রাকটি সেখানে রেখে গিয়েছিল, সে এক সপ্তাহ আগেও আরেকটি ট্রাক একই স্থানে এনে রেখেছিল।

 

পরে ওই দ্বিতীয় ট্রাকটির মালিক জানান, তার ট্রেলারটি ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিল থেকে চুরি হয়েছিল। এতে প্রায় ১০ লাখ ডলারের ডেটা সেন্টার অবকাঠামো সরঞ্জাম ছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ডেটা সেন্টারে সরবরাহ করার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই ট্রেলারের বর্তমান অবস্থান প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

এদিকে ছয় মাসব্যাপী এক অনুসন্ধানে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র এখন সরবরাহ ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে মূল্যবান পণ্য চুরি করছে। তারা 'স্ট্র্যাটেজিক থেফট' নামে পরিচিত একটি কৌশল ব্যবহার করে ট্রাক পরিবহন প্রতিষ্ঠান, ব্রোকার বা ক্যারিয়ারদের প্রতারণার মাধ্যমে পণ্য কিংবা অর্থ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

 

কার্গো চুরি প্রতিরোধবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক কার্গোনেটের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর উত্তর আমেরিকায় প্রায় ৭২ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য চুরি হয়েছে। এসব চুরির বড় অংশই ছিল তামাসহ বিভিন্ন ধাতু এবং এন্টারপ্রাইজ কম্পিউটিং হার্ডওয়্যার।

 

প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে ডেটা সেন্টারের কম্পিউটিং সরঞ্জাম এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং যন্ত্রপাতি। উচ্চ বাজারমূল্য ও বাড়তি চাহিদার কারণে এসব পণ্য চোরচক্রের কাছে ক্রমেই বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আমেরিকানদের সঞ্চয় টার্গেট করা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা স্ক্যাম সিটির বিরুদ্ধে এফবিআইয়ের অভিযান
আমেরিকানদের সঞ্চয় লু টতে বিশ্বজুড়ে ‘স্ক্যাম সিটি’, এফবিআইয়ের বৈশ্বিক অভিযান

আমেরিকানদের সঞ্চয় লু টতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিশাল ‘স্ক্যাম সিটি’ বা প্র তা র ণার ঘাঁটি। এসব ঘাঁটি থেকে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের টার্গেট করে অনলাইন, ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্র তা র ণা চালানো হচ্ছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে অভিযান জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই।   এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, ‘অপারেশন ব্ল্যাকআউট’-এর আওতায় বিদেশে থাকা বিশাল প্র তা র ণা কমপ্লেক্সগুলো শনাক্ত, অচল ও ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, এসব চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।   প্যাটেলের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘাঁটি কোনো ছোটখাটো অফিস নয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় এমন কমপ্লেক্স রয়েছে, যেগুলো দেখতে অনেকটা পুরো শহর বা গ্রামের মতো। সেখানে পা চা রের শিকার মানুষদের জো র করে কাজ করানো হয় এবং তাদের ব্যবহার করে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা আমেরিকানদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়।   প্যাটেল বলেন, এসব প্র তা র ণার শিকারদের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক নাগরিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফোন কল, খুদে বার্তা এবং টেলিগ্রামের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রথমে বিশ্বাস তৈরি করা হয়।   প্র তা র ণার একটি প্রচলিত কৌশল হলো অনলাইনে বন্ধুত্ব বা প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করা। পরে সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ভুক্তভোগীকে ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে অর্থ দিতে উৎসাহিত করা হয়। শুরুতে সেখানে বড় অঙ্কের লাভ দেখানো হতে পারে। কিন্তু টাকা তুলতে গেলে দেখা যায়, অর্থ আর ফেরত নেওয়া যাচ্ছে না।   প্যাটেল এসব ঘাঁটিকে ‘শহর’ ও ‘গ্রাম’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, সেখানে এমন অবকাঠামো রয়েছে যেখানে মানুষকে জো র করে শ্রম দিতে বাধ্য করা হয়।   আগস্টে কম্বোডিয়ার প্রায় ২০০ একর আয়তনের ওসমাচ রিসোর্টে এমন একটি ঘাঁটিতে অভিযান চালানো হয়। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিন দিন ধরে ২৮টি ভবনে তল্লাশি চালিয়ে ১১৩টি হার্ডড্রাইভ, ১৫টি কম্পিউটার এবং ৩৫টি বাক্সভর্তি আলামত জব্দ করা হয়।   শুধু অভিযান চালানো নয়, মানুষ যাতে প্র তা র ণার শিকারই না হন, সে বিষয়েও কাজ করছে এফবিআই। ‘অপারেশন লেভেল আপ’-এর মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ প্র তা র ণার শিকারদের আগেভাগে শনাক্ত করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।   এফবিআই জানিয়েছে, এই উদ্যোগের আওতায় ১০ হাজার ৪০৬ জন সম্ভাব্য ভুক্তভোগীকে সতর্ক করা হয়েছে। এর ফলে আনুমানিক ৬৬০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ১২২ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ বা ফ্রিজ করা হয়েছে।   সংস্থাটি জানিয়েছে, যাদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছে, তাদের ৭৭ শতাংশই শুরুতে বুঝতে পারেননি যে তারা প্র তা র ণার শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া ৫৮৪টি প্র তা র ণামূলক ওয়েবসাইট জব্দ এবং ৭ হাজার ৬৭০টি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টের তথ্য বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়েছে।   সেপ্টেম্বরে মাদাগাস্কারে ১৩টি প্র তা র ণা কেন্দ্র বন্ধ করতেও মার্কিন বিচার বিভাগের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করে। অভিযানে ৩ হাজার ২০০টির বেশি ইলেকট্রনিক ডিভাইস প্রক্রিয়া করা হয়। এফবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কেন্দ্র চীনা সংগঠিত অ প রা ধ চক্র পরিচালনা করছিল।   তবে এসব চক্রের অবস্থানও বদলে যাচ্ছে। প্যাটেল জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের পর এখন মধ্য ও সাব-সাহারান আফ্রিকার দিকে নিজেদের ঘাঁটি সরিয়ে নিচ্ছে কিছু প্র তা র ণা চক্র। নতুন এসব এলাকাতেও অভিযান চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে এফবিআইয়ের।   এফবিআইয়ের সাম্প্রতিক তথ্যেও অনলাইন প্র তা র ণার বড় ঝুঁকি উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সাইবারভিত্তিক অ প রা ধে প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।   ফলে বিশ্বজুড়ে গড়ে ওঠা এসব ‘স্ক্যাম সিটি’ এখন শুধু অনলাইন প্র তা র ণার কেন্দ্র নয়, বরং সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত একটি বড় অ প রা ধ নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে এফবিআইয়ের নজরে রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৩:৯
কাঁচা দুধ ও দুধজাত পণ্যে থাকা ক্ষতিকর জীবাণু ছোট শিশুদের গুরুতর অসুস্থ করে তুলতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রে কাঁচা দুধ নিয়ে নতুন উদ্বেগ, গুরুতর অসু স্থ হচ্ছে শিশুরা

ইরান নিয়ে সামরিক পদক্ষেপ ও চুক্তির মধ্যে দ্রুত সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান নিয়ে ট্রাম্পের কড়া বার্তা, ‘ভালো-মন্দ যেকোনো উপায়ে’ শিগগিরই ইতি টানার ইঙ্গিত

সরকারি অর্থে ট্রাম্পকে তুলে ধরে প্রচারিত বিজ্ঞাপন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক

ট্রাম্প প্রশাসনের বিজ্ঞাপনে সরকারি অর্থের ব্যবহার, প্রশ্নের মুখে ২ কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শিল্পকারখানা নির্মাণের পাশাপাশি বাড়ছে সরবরাহ সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক কারখানা হচ্ছে, কিন্তু উৎপাদন সচল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা কতটা

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও গতি পাচ্ছে উৎপাদন খাত। ২০২৬ সালের আগস্টে দেশটির ম্যানুফ্যাকচারিং খাত সম্প্রসারণের অবস্থানেই ছিল। ইনস্টিটিউট ফর সাপ্লাই ম্যানেজমেন্টের ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই আগস্টে ৫৪ দশমিক ৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ে এই সূচক ছিল ৫৫ দশমিক ৬, যা ২০২২ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ।   তবে এই ইতিবাচক চিত্রের আড়ালে রয়েছে বড় একটি সমস্যা। কারখানাগুলো বাড়লেও তাদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক উপাদান, শ্রমিক, ইস্পাতসহ বিভিন্ন উপকরণের সরবরাহ এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে। সরবরাহকারীদের পণ্য পৌঁছানোর গতিও টানা নবম মাসে ধীর হয়েছে।   অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ এগোলেও সেই উৎপাদন ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।   শুধু কারখানা বানালেই হবে না   যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ফিরিয়ে আনার আলোচনা বা ‘রিশোরিং’ এখন মূলত নতুন কারখানা নির্মাণ ও বড় অঙ্কের বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে হচ্ছে। কিন্তু একটি বড় কারখানা কখনোই একা চলে না।   এর পেছনে থাকে অসংখ্য ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান। কেউ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ তৈরি করে, কেউ মেশিনের অংশ বানায়, কেউ বিশেষ ধরনের টুল তৈরি করে, আবার কেউ কারখানার যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ করে।   তাই বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা তৈরিতে উৎসাহিত করাই যথেষ্ট নয়। সেই কারখানাগুলো চালু হওয়ার পর প্রয়োজনীয় উপকরণ ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ করার মতো দেশীয় সক্ষমতাও থাকতে হবে।   ছোট প্রতিষ্ঠানই বড় ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ   যুক্তরাষ্ট্রের ছোট মেশিন শপ ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেরই দক্ষ কর্মী, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভালো ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু আধুনিক উৎপাদনের চাহিদা পূরণে তাদের অনেকেই যন্ত্রপাতি, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা ও উৎপাদন প্রক্রিয়া আধুনিক করার প্রয়োজন অনুভব করছে।   সমস্যাটি সবসময় দক্ষতার অভাব নয়। অনেক সময় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় একটি ছোট প্রতিষ্ঠান তার সক্ষমতা বড় পরিসরে কাজে লাগাতে পারে না।   আধুনিক উৎপাদনে শুধু ফোন বা ই-মেইলের মাধ্যমে অর্ডারের অবস্থা জানানো যথেষ্ট নয়। ক্রেতাদের জানতে হয় একটি অর্ডারের কতটুকু কাজ শেষ হয়েছে, কোথায় রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ করা সম্ভব হবে কি না।   এই তথ্য দ্রুত দিতে না পারলে ভালো মানের পণ্য তৈরি করেও কোনো সরবরাহকারী বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য দুর্বল অংশ হয়ে উঠতে পারে।   মান নিয়ন্ত্রণও বড় বিষয়   যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়লে স্থানীয় সরবরাহকারীদের প্রতিযোগিতাও বাড়বে। তখন শুধু একটি যন্ত্রাংশ তৈরি করতে পারলেই হবে না; একই মানের পণ্য বারবার, নির্ভুলভাবে এবং নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ করতে হবে।   মেশিন তৈরির ক্ষেত্রে অনেক সময় এক ইঞ্চির হাজার ভাগের এক ভাগের মতো অতি ক্ষুদ্র মাপের পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। উৎপাদনের সময় আধুনিক পরিমাপ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো অংশে ত্রুটি তৈরি হচ্ছে কি না তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব।   এ ধরনের আধুনিকায়ন হয়তো বিলিয়ন ডলারের নতুন কারখানার মতো আলোচনায় আসে না। কিন্তু নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এর গুরুত্ব অনেক।   শুধু নতুন মেশিন কিনলেই সমাধান নয়   উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হলেও শুধু দামি মেশিন কিনলেই সমস্যার সমাধান হবে না।   একটি ছোট মেশিন শপে যদি প্রতিটি যন্ত্রাংশ তৈরিতে বারবার মেশিন সেটআপ করতে হয়, অতিরিক্ত হাতে কাজ করতে হয় বা দীর্ঘ সময় মেশিন বন্ধ রাখতে হয়, তাহলে বড় পরিসরে প্রতিযোগিতা করা কঠিন।   আধুনিক মাল্টি-অপারেশন মেশিন একই যন্ত্রে একাধিক কাজ করার সুযোগ দিতে পারে। এতে পণ্য এক মেশিন থেকে অন্য মেশিনে নেওয়ার প্রয়োজন কমে, সময় বাঁচে এবং বেশি পরিমাণে উৎপাদন করা সহজ হয়।   লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি কেনা নয়। লক্ষ্য হলো এমন একটি উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীরা মান, সরবরাহের সময় এবং খরচ—তিন ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতা করতে পারে।   দক্ষ কর্মীর ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ   প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, তা পরিচালনা করার মতো দক্ষ মানুষ না থাকলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো কঠিন।   আধুনিক ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে মেশিন প্রোগ্রাম করা, পরিচালনা করা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ত্রুটি শনাক্ত করার জন্য বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয়।   দীর্ঘদিন ধরে অভিজ্ঞ মেশিন অপারেটর ও কারিগরদের কাছ থেকে হাতে-কলমে কাজ শিখে নতুন প্রজন্মের কর্মীরা দক্ষতা অর্জন করেছে। কিন্তু অভিজ্ঞ কর্মীরা অবসরে গেলে তাদের বহু বছরের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের কর্মীদের এমন একটি শিল্পে প্রবেশ করতে হচ্ছে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি সফটওয়্যার, অটোমেশন, পরিমাপ প্রযুক্তি ও আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থার জ্ঞানও প্রয়োজন।   তাই ভবিষ্যতের উৎপাদন খাতে দক্ষ কারিগরি কর্মী ও আধুনিক প্রযুক্তি—দুটিকেই একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।   সরকারও ছোট উৎপাদন প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দিচ্ছে   যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসন বা এসবিএও এই ঘাটতি মোকাবিলায় উদ্যোগ নিচ্ছে। ২০২৬ সালের মে মাসে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও বিশেষায়িত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে মতামত চেয়েছে। একই সঙ্গে ছোট সরবরাহকারীদের বড় পরিসরে কাজ করার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।   এ ছাড়া বড় শিল্প ক্রেতা ও ছোট সরবরাহকারীদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করতে এসবিএ সরবরাহকারী ম্যাচমেকিং কর্মসূচিও আয়োজন করেছে।   ছোট উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য এসবিএ ৫ কোটি ডলারের অনুদান কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে।   রিশোরিংয়ের অর্থ শুধু কারখানা ফিরিয়ে আনা নয়   যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ফিরিয়ে আনার প্রকৃত সাফল্য শুধু কতগুলো কারখানা তৈরি হলো বা কত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হলো—তা দিয়ে মাপা যাবে না।   এর সঙ্গে দেখতে হবে, ওই কারখানাগুলোকে সরবরাহ করার মতো ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যাপ্ত মেশিন, দক্ষ কর্মী, অর্থায়ন এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা আছে কি না।   ম্যাককিনসির গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের উৎপাদিত পণ্য আমদানি করেছে। এর প্রায় এক-চতুর্থাংশ পণ্য সরবরাহের ঘনত্ব, জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্ব এবং ভূরাজনৈতিক দূরত্বসহ বিভিন্ন কারণে বিশেষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।   এতে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু বড় কারখানা নয়, স্থিতিশীল দেশীয় সরবরাহ নেটওয়ার্কও গুরুত্বপূর্ণ।   আসল পরীক্ষা হবে কারখানার ভেতরে   যুক্তরাষ্ট্র যত ইচ্ছা বড় বড় কারখানা নির্মাণের ঘোষণা দিতে পারে। কিন্তু সেসব কারখানায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও উপকরণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে না পারে, দক্ষ কর্মী তৈরি করতে না পারে এবং আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করতে না পারে, তাহলে উৎপাদন ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে।   কারখানা উদ্বোধনের বড় আয়োজনের চেয়ে তাই তার পেছনে থাকা হাজারো ছোট ব্যবসার সক্ষমতার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।   একটি উৎপাদন অর্থনীতির শক্তি শুধু কতগুলো কারখানা তৈরি করা যায়, তার ওপর নির্ভর করে না। বরং সেই কারখানাগুলো সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সরবরাহ ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী, দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য—তার ওপরও নির্ভর করে।   যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতের পরবর্তী ধাপে তাই বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি মেশিন শপ, যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী, প্রযুক্তিবিদ এবং দক্ষ কর্মীদের সক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ১:৩১
মাটির নিচে বা মাটিতে আংশিকভাবে আবৃত বাড়ির সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নকশা

যুক্তরাষ্ট্রে মাটির নিচে বসবাস শুরু হতে পারে, তবে যেসব সমস্যা চিহ্নিত হলো গবেষণায়

H-1B ভিসার ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আইনি লড়াই চলছে। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের H-1B ভিসা ফি আবারও আটকে দিল আদালত

দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত জাস্টিন মেরি মে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে খাবার না দিয়ে দুই কন্যাশিশুকে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার মা

চাকরির প্রস্তাব ছাড়াই নির্দিষ্ট শর্তে EB-1A শ্রেণিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করা যায়। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের EB-1A ভিসায় গ্রিন কার্ড, যে ৫ ক্ষেত্রে যোগ্যতা থাকলে আবেদন করা যায়

ক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের প্রথম অগ্রাধিকার শ্রেণি EB-1-এর আওতায় অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে বিশেষ একটি পথ। EB-1A নামে পরিচিত এই শ্রেণিতে আবেদনকারীর কোনো নির্দিষ্ট চাকরির প্রস্তাব বা নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে আবেদনকারীকে নিজের পেশাগত ক্ষেত্রে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক স্বীকৃতি ও অসাধারণ সাফল্যের প্রমাণ দিতে হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা, ইউএসসিআইএসের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, EB-1A শ্রেণিতে যোগ্যতার ক্ষেত্র পাঁচটি। এগুলো হলো বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা এবং ক্রীড়া। অর্থাৎ এসব ক্ষেত্রের কোনো একটিতে অসাধারণ দক্ষতা ও স্বীকৃতির প্রমাণ থাকলে একজন বিদেশি নাগরিক EB-1A শ্রেণিতে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।   তবে শুধু এই পাঁচ ক্ষেত্রের কোনো একটিতে কাজ করলেই EB-1A-এর জন্য যোগ্য হওয়া যায় না। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীকে নিজের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন এবং তার সাফল্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হয়েছে, এমন প্রমাণ দিতে হয়। অর্থাৎ পেশার ক্ষেত্রের পাশাপাশি ব্যক্তির অর্জন, পরিচিতি এবং সেই অর্জনের স্বীকৃতিও গুরুত্বপূর্ণ।   EB-1A আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ বিবেচনা করা হয়। ইউএসসিআইএসের Form I-140 নির্দেশনায় পুরস্কার বা সম্মাননা, পেশাগত সংগঠনের সদস্যপদ, আবেদনকারীকে নিয়ে প্রকাশিত উপাদান, অন্যদের কাজ মূল্যায়নের দায়িত্ব, মৌলিক গুরুত্বপূর্ণ অবদান, বৈজ্ঞানিক বা একাডেমিক লেখা, প্রদর্শনী বা শিল্পকর্ম, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা, তুলনামূলকভাবে উচ্চ পারিশ্রমিক এবং পারফর্মিং আর্টসে বাণিজ্যিক সাফল্যের মতো বিষয়গুলোর প্রমাণের কথা উল্লেখ রয়েছে।   নির্ধারিত প্রমাণের কাঠামোর ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সাধারণত ১০টি নির্ধারিত মানদণ্ডের মধ্যে অন্তত তিনটি পূরণ করার প্রমাণ দিতে হয়, অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তুলনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন। তবে অন্তত তিনটি মানদণ্ড পূরণ করলেই আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হয় না। ইউএসসিআইএস পরে পুরো প্রমাণপত্র বিবেচনা করে আবেদনকারী সত্যিই সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতার পর্যায়ে রয়েছেন কি না, সেটিও মূল্যায়ন করে।   EB-1A-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, আবেদনকারী নিজেই নিজের হয়ে Form I-140, Petition for Alien Worker জমা দিতে পারেন। অর্থাৎ এই নির্দিষ্ট শ্রেণিতে কোনো মার্কিন নিয়োগকর্তাকে আবেদনকারীর পক্ষে পিটিশন দাখিল করতে হয় না। একই কারণে EB-1A-এর জন্য সাধারণ কর্মভিত্তিক শ্রম সনদ বা শ্রমবাজার পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। ইউএসসিআইএসের নীতিমালাতেও বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের স্ব-আবেদনের এই সুযোগের কথা বলা হয়েছে।   তবে EB-1-এর সব শ্রেণির নিয়ম এক নয়। প্রথম অগ্রাধিকার কর্মভিত্তিক অভিবাসন শ্রেণির মধ্যে EB-1A ছাড়াও অসাধারণ অধ্যাপক বা গবেষক এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপক বা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা দুটি শ্রেণি রয়েছে। অসাধারণ অধ্যাপক বা গবেষক শ্রেণিতে আবেদনকারীর সংশ্লিষ্ট একাডেমিক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত তিন বছরের শিক্ষকতা বা গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকতে হয় এবং সাধারণত একজন মার্কিন নিয়োগকর্তাকে আবেদন করতে হয়।   অন্যদিকে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বা নির্বাহী কর্মকর্তাদের শ্রেণিতেও মার্কিন নিয়োগকর্তার পিটিশন প্রয়োজন হয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে একই প্রতিষ্ঠান, তার মূল প্রতিষ্ঠান, শাখা, সহযোগী বা অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানে গত তিন বছরের মধ্যে অন্তত এক বছর ব্যবস্থাপক বা নির্বাহী হিসেবে কাজ করার প্রমাণ দিতে হয়।   EB-1-এর আওতায় আবেদন অনুমোদিত হলে পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যরাও অভিবাসনের সুযোগ পেতে পারেন। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত ২১ বছরের কম বয়সী সন্তানরা সংশ্লিষ্ট অভিবাসী মর্যাদায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন।   তবে EB-1A কোনো স্বয়ংক্রিয় গ্রিন কার্ড ব্যবস্থা নয়। আবেদনকারীকে নিজের যোগ্যতা, অর্জন এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে স্বীকৃতির বিষয়ে যথেষ্ট নথি দিতে হয়। ইউএসসিআইএসের মূল্যায়নে শুধু প্রমাণের সংখ্যা নয়, সেগুলোর মান এবং পুরো আবেদনের সামগ্রিক চিত্রও গুরুত্বপূর্ণ।   যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য EB-1A বিবেচনা করছেন এমন ব্যক্তিদের তাই শুধু নিজের পেশার ক্ষেত্রটি পাঁচটি নির্ধারিত বিভাগের মধ্যে পড়ে কি না, সেটি দেখলেই হবে না। সেই ক্ষেত্রের মধ্যে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জিত স্বীকৃতি, পেশাগত অবদান এবং তা প্রমাণ করার মতো নথিপত্রও প্রস্তুত করতে হয়। অভিবাসন আইনের জটিলতা বিবেচনায় ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য অনুমোদিত অভিবাসন আইনজীবী বা স্বীকৃত আইনগত সহায়তাকারীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   সূত্র: ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ২২:২৬
ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ায় কৃষি প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নিভা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে তিন বছরের কম সময়ে পিএইচডি, বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নিভার সাফল্য

ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক কর্মকর্তা জন হ্যারল্ড রজার্স। ছবি: সংগৃহীত

ডেটিং সাইটে চীনা গুপ্তচরের ফাঁদে মার্কিন ফেড কর্মকর্তা, গোপন তথ্য শেয়ারে ৩৮ মাসের জেল

ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমার নির্দিষ্ট গ্রাহকদের ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ছবি: সংগৃহীত

ওবামাকেয়ারের প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলার ফেরত, কারা পাবেন এই টাকা?

0 Comments