তথ্যপ্রযুক্তি

ট্রিলিয়ন ডলারের এআই বাণিজ্যে বড় ধস, চরম গ্রাহক সংকটে টেক জায়ান্টরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১১:৫৫
ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান | ছবি: গেটি ইমেজেস
ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান | ছবি: গেটি ইমেজেস

বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বা টেক জায়ান্টগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির পেছনে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করলেও এখন তারা চরম গ্রাহক সংকটে ভুগছে। চলতি সপ্তাহে প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বাজারে বড় ধরনের পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মার্কিন পুঁজিবাজার নাসডাক কম্পোজিট ইনডেক্স চলতি সপ্তাহে প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। এর মূল কারণ ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের মনে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, এআই প্রযুক্তির পেছনে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করা হচ্ছে, তা শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব বা মুনাফা এনে দিতে পারবে কি না।

 

গোল্ডম্যান স্যাক্স-এর হিসাব অনুযায়ী, এআই প্রযুক্তির বিকাশ ও পরিচালনার জন্য হাজার হাজার নতুন ডেটা সেন্টার তৈরি করতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ২০৩১ সালের মধ্যে প্রায় ৭.৬ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ভিন্ন কথা বলছে। টেক জায়ান্টগুলো বিপুল ঋণ নিয়ে এই বিশাল অবকাঠামো তৈরি করলেও, সাধারণ গ্রাহক বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এই এআই সেবার জন্য বাড়তি টাকা দিতে আদৌ রাজি কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।

 

স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এআই নাও’-এর সহযোগী পরিচালক কেট ব্রেনান সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, অ্যালফাবেট, অ্যামাজন, মেটা, মাইক্রোসফট এবং ওরাকলের মতো বড় কোম্পানিগুলো অবকাঠামো নির্মাণের জন্য যেভাবে ঋণ বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এআই থেকে কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন বা মুনাফা এখনও আসছে না এবং এর মাধ্যমে কর্মদক্ষতা বা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির যে বড় বড় দাবি করা হচ্ছে, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

 

পিউ রিসার্চ-এর এক সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, আমেরিকার সাধারণ মানুষ এআই ব্যবহার করলেও এর জন্য টাকা খরচ করতে পুরোপুরি নারাজ। জরিপে দেখা গেছে, ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মনে করেন এই প্রযুক্তি আগামী দুই দশকে সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যেখানে মাত্র ১৬ শতাংশ মানুষ একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এর পাশাপাশি অনেক কোম্পানি কর্মী ছাঁটাই করে এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে। তবে প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনার-এর মে মাসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বদলে এআই এজেন্ট নিয়োগ করেছে, তারা শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগের সঠিক রিটার্ন পেতে ব্যর্থ হয়েছে।

 

বর্তমানে অ্যালফাবেট এবং চিপ প্রস্তুতকারক কোম্পানি এনভিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের ওপর ভর করে মার্কিন শেয়ার বাজার নতুন রেকর্ড গড়লেও, ওয়াল স্ট্রিট এখন বড় ধরনের ‘এআই বুদবুদ’ বা বাবল নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকের ‘ডটকম বাবলের’ সাথে তুলনা করছেন। ভ্যানগার্ড-এর গ্লোবাল হেড অব ক্যাপিটাল মার্কেট রিসার্চ কিয়ান ওয়াং এবং সিনিয়র গ্লোবাল ইকোনমিস্ট কেভিন খাং এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, এই এআই অর্থনীতিতে কিছু কোম্পানি হয়তো লাভবান হবে, কিন্তু অনেক কোম্পানির মূল ব্যবসাই অচল হয়ে পড়তে পারে। তাই আগামী দিনে বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের ওঠানামার মুখোমুখি হতে হবে।

 

বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ এড ইয়ার্ডেনি এক নোটে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছেন, যদি শেষ পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল পণ্যের প্রকৃত গ্রাহক চাহিদা তৈরি না হয়, তবে এই পুরো এআই ইকোসিস্টেম বা বাণিজ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো বড় এআই ডেভেলপারদের বার্ষিক রাজস্ব পর্যালোচনা করে তাঁর দল একটি ‘ক্যাপেক্স পেব্যাক টেস্ট’ বা মূলধনী ব্যয় পরিশোধের পরীক্ষা চালিয়েছে। তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো, এআই খাতটি এখনও পুরোপুরি গ্রাহক রাজস্বের ওপর দাঁড়িয়ে নেই, তবে এটি সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভরও নয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতের রাজস্ব পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে, তবে তার জন্য এআই কম্পিউটিংয়ের দক্ষতা ও ব্যবহার বহুগুণ বাড়াতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

তথ্যপ্রযুক্তি

View more
ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান | ছবি: গেটি ইমেজেস
ট্রিলিয়ন ডলারের এআই বাণিজ্যে বড় ধস, চরম গ্রাহক সংকটে টেক জায়ান্টরা

বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বা টেক জায়ান্টগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির পেছনে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করলেও এখন তারা চরম গ্রাহক সংকটে ভুগছে। চলতি সপ্তাহে প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বাজারে বড় ধরনের পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মার্কিন পুঁজিবাজার নাসডাক কম্পোজিট ইনডেক্স চলতি সপ্তাহে প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। এর মূল কারণ ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের মনে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, এআই প্রযুক্তির পেছনে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করা হচ্ছে, তা শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব বা মুনাফা এনে দিতে পারবে কি না।   গোল্ডম্যান স্যাক্স-এর হিসাব অনুযায়ী, এআই প্রযুক্তির বিকাশ ও পরিচালনার জন্য হাজার হাজার নতুন ডেটা সেন্টার তৈরি করতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ২০৩১ সালের মধ্যে প্রায় ৭.৬ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ভিন্ন কথা বলছে। টেক জায়ান্টগুলো বিপুল ঋণ নিয়ে এই বিশাল অবকাঠামো তৈরি করলেও, সাধারণ গ্রাহক বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এই এআই সেবার জন্য বাড়তি টাকা দিতে আদৌ রাজি কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।   স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এআই নাও’-এর সহযোগী পরিচালক কেট ব্রেনান সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, অ্যালফাবেট, অ্যামাজন, মেটা, মাইক্রোসফট এবং ওরাকলের মতো বড় কোম্পানিগুলো অবকাঠামো নির্মাণের জন্য যেভাবে ঋণ বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এআই থেকে কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন বা মুনাফা এখনও আসছে না এবং এর মাধ্যমে কর্মদক্ষতা বা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির যে বড় বড় দাবি করা হচ্ছে, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।   পিউ রিসার্চ-এর এক সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, আমেরিকার সাধারণ মানুষ এআই ব্যবহার করলেও এর জন্য টাকা খরচ করতে পুরোপুরি নারাজ। জরিপে দেখা গেছে, ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মনে করেন এই প্রযুক্তি আগামী দুই দশকে সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যেখানে মাত্র ১৬ শতাংশ মানুষ একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এর পাশাপাশি অনেক কোম্পানি কর্মী ছাঁটাই করে এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে। তবে প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনার-এর মে মাসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বদলে এআই এজেন্ট নিয়োগ করেছে, তারা শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগের সঠিক রিটার্ন পেতে ব্যর্থ হয়েছে।   বর্তমানে অ্যালফাবেট এবং চিপ প্রস্তুতকারক কোম্পানি এনভিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের ওপর ভর করে মার্কিন শেয়ার বাজার নতুন রেকর্ড গড়লেও, ওয়াল স্ট্রিট এখন বড় ধরনের ‘এআই বুদবুদ’ বা বাবল নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকের ‘ডটকম বাবলের’ সাথে তুলনা করছেন। ভ্যানগার্ড-এর গ্লোবাল হেড অব ক্যাপিটাল মার্কেট রিসার্চ কিয়ান ওয়াং এবং সিনিয়র গ্লোবাল ইকোনমিস্ট কেভিন খাং এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, এই এআই অর্থনীতিতে কিছু কোম্পানি হয়তো লাভবান হবে, কিন্তু অনেক কোম্পানির মূল ব্যবসাই অচল হয়ে পড়তে পারে। তাই আগামী দিনে বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের ওঠানামার মুখোমুখি হতে হবে।   বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ এড ইয়ার্ডেনি এক নোটে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছেন, যদি শেষ পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল পণ্যের প্রকৃত গ্রাহক চাহিদা তৈরি না হয়, তবে এই পুরো এআই ইকোসিস্টেম বা বাণিজ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো বড় এআই ডেভেলপারদের বার্ষিক রাজস্ব পর্যালোচনা করে তাঁর দল একটি ‘ক্যাপেক্স পেব্যাক টেস্ট’ বা মূলধনী ব্যয় পরিশোধের পরীক্ষা চালিয়েছে। তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো, এআই খাতটি এখনও পুরোপুরি গ্রাহক রাজস্বের ওপর দাঁড়িয়ে নেই, তবে এটি সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভরও নয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতের রাজস্ব পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে, তবে তার জন্য এআই কম্পিউটিংয়ের দক্ষতা ও ব্যবহার বহুগুণ বাড়াতে হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১১:৫৫
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের কাছ থেকেই বৈষম্য আর বর্ণবাদ শিখছে এআই, জাতিসংঘের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। | ছবি: সংগৃহীত

এআই মানুষের চাকরি কাড়বে না, বরং শ্রমের ঘাটতি তৈরি করবে: জেফ বেজোস

ছবি: সংগৃহীত

এআই চাহিদায় চিপের দাম বেড়েছে, বাড়তে পারে আইফোনসহ অ্যাপলের পণ্যের দাম

ইলন মাস্কের আগেই বাণিজ্যিক মস্তিষ্ক-চিপ অনুমোদন পেল চীন। ছবি: রয়টার্স
চিন্তার মাধ্যমে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের যুগ? বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক মস্তিষ্ক-চিপ অনুমোদন

মানুষের মস্তিষ্ককে সরাসরি কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত করার প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতা চলছে কয়েক বছর ধরেই। সেই প্রতিযোগিতায় এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে চীন। দেশটির গবেষকরা দাবি করছেন, বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিকভাবে অনুমোদিত মস্তিষ্ক-কম্পিউটার সংযোগকারী চিপ বাজারে আনতে তারা সফল হয়েছেন। এর ফলে প্রযুক্তি খাতে আলোচিত উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান নিউরালিংকের আগেই গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক স্পর্শ করল চীন।   চীনা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘নিও’ (NEO) নামের এই চিপ ইতোমধ্যে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।   গবেষকদের মতে, প্রথম ধাপে এই প্রযুক্তি মূলত মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পাওয়া এবং পক্ষাঘাতে আক্রান্ত রোগীদের সহায়তার জন্য ব্যবহার করা হবে। চিপটি মানুষের মস্তিষ্কের সংকেত বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস বা সহায়ক প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।   বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা ভবিষ্যতে কথা বলতে অক্ষম, চলাফেরায় অক্ষম বা স্নায়বিক জটিলতায় ভোগা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   মস্তিষ্ক-কম্পিউটার সংযোগ প্রযুক্তি নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো ইলন মাস্কের নিউরালিংক। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি প্রযুক্তি উন্নয়নের চেষ্টা করছে, যার মাধ্যমে মানুষ শুধুমাত্র চিন্তার সাহায্যে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।   সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মাস্ক বলেন, পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের চলাচলের সক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া এবং দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারের মতো সম্ভাবনা এই প্রযুক্তিকে মানবজাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।   নিউরালিংকের লক্ষ্য হলো এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে ব্যবহারকারীরা কীবোর্ডে টাইপ করা, কম্পিউটারের কার্সর নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা বিভিন্ন ডিজিটাল কাজ শুধুমাত্র মস্তিষ্কের সংকেতের মাধ্যমে করতে পারবেন।   তবে চীনের ‘নিও’ চিপের বিশেষত্ব হলো এটি তুলনামূলকভাবে কম আক্রমণাত্মক পদ্ধতিতে স্থাপন করা যায়। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, চিপটি মাথার খুলি ও মস্তিষ্কের সুরক্ষামূলক আবরণের মাঝামাঝি স্থানে বসানো হয়। সেখানে থাকা সেন্সরগুলো মস্তিষ্কের তরঙ্গ সংগ্রহ করে কম্পিউটার ব্যবস্থায় পাঠায়, যা পরে ডিজিটাল নির্দেশনায় রূপান্তরিত হয়।   এ পর্যন্ত ৩৬ জন রোগীর ওপর এই প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানো হয়েছে এবং প্রাথমিক ফলাফল ইতিবাচক বলে দাবি করা হচ্ছে।   অন্যদিকে নিউরালিংকের পরীক্ষামূলক এন-১ চিপ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ব্যবহারের অনুমোদন পায়নি। যদিও ২০২৪ সাল থেকে মানবদেহে পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হয়েছে। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক অংশগ্রহণকারীর ওপর এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে।   নিউরালিংকের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অড্রি ক্রুস নামের এক নারী সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রায় দুই দশক পর তিনি প্রথমবারের মতো নিজের নাম লিখতে সক্ষম হয়েছেন। তার মতে, এই প্রযুক্তি একদিন লাখো মানুষকে শুধু চিন্তার মাধ্যমে বিভিন্ন ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের সুযোগ করে দিতে পারে।   তবে প্রযুক্তিটির সম্ভাবনার পাশাপাশি উদ্বেগও কম নয়। সাইবার নিরাপত্তা ও স্নায়ুবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের মস্তিষ্ক থেকে সংগৃহীত তথ্য পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্যের মধ্যে অন্যতম।   অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ডেভিড টাফলির মতে, মস্তিষ্ক-চিপ প্রযুক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাত্ত্বিকভাবে এসব ডিভাইস হ্যাক হলে ব্যবহারকারীর চিন্তা, স্মৃতি কিংবা স্নায়বিক তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।   তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যদি এই প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তথ্যের মালিকানা, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ধরনের আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।   বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মস্তিষ্ক-কম্পিউটার সংযোগ প্রযুক্তির বৈশ্বিক বাজারের আকার প্রায় ৪৯ কোটি ডলার। আগামী এক দশকের মধ্যে এ বাজার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পক্ষাঘাত, পারকিনসনস রোগ, মৃগীরোগ, স্ট্রোক-পরবর্তী জটিলতা, বাকশক্তি হারানো এবং বিভিন্ন স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত কোটি কোটি মানুষের জন্য এই প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।   তবে একই সঙ্গে এটি এমন এক প্রযুক্তিগত যুগের সূচনা করছে, যেখানে মানুষের মস্তিষ্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্ক সামনে আসবে। ফলে চিকিৎসা, প্রযুক্তি, গোপনীয়তা এবং নৈতিকতার প্রশ্নে আগামী বছরগুলোতে মস্তিষ্ক-চিপ প্রযুক্তি বৈশ্বিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২২:৪০
ছবি:  আমেরিকা বাংলা অনলাইন গ্রাফিক্স

সামাজিক মাধ্যমের ছবির ‘ভিক্টরি সাইন’ থেকে যেভাবে চুরি হচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট

এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং | ছবি: সংগৃহীত

মাউস-কিবোর্ডের দিন শেষ! ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের জন্য এনভিডিয়ার নতুন 'সুপারচিপ'

ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম লোগোর সামনে ছোট ছোট খেলনা মূর্তি দেখা যাচ্ছে । ছবি: রয়টার্স

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের পেইড সংস্করণ আনছে মেটা, মাসিক খরচ কত?

ছবি: রয়টার্স
সার্চ ইঞ্জিনে স্বয়ংক্রিয় এআই ‘এজেন্ট’ ও নতুন স্মার্ট চশমা আনছে গুগল

ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তির লড়াইয়ে টিকে থাকতে নিজেদের মূল সার্চ ইঞ্জিনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে গুগল। এবার সার্চ ইঞ্জিনের সঙ্গেই যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত স্বয়ংক্রিয় ‘এজেন্ট’ এবং কোডিং টুল। এর পাশাপাশি এক দশকেরও বেশি সময় পর বাজারে নতুন প্রযুক্তির স্মার্ট চশমা বা গ্লাস আনার ঘোষণাও দিয়েছে এই প্রযুক্তি জায়ান্ট। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউতে অনুষ্ঠিত গুগলের বার্ষিক ‘আই/ও’ কনফারেন্সে মঙ্গলবার এই নতুন উদ্ভাবনগুলো উন্মোচন করা হয়। গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই জানান, তাদের নতুন ‘জেমিমনাই ৩.৫ ফ্ল্যাশ’ মডেলের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন সার্চ ইঞ্জিন পরিচালিত হবে। আরও বেশি দক্ষ ও বুদ্ধিমান এআই এজেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় অগ্রগতি।   সুন্দর পিচাই বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ডেভেলপার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য এআই এজেন্ট নিয়ে কাজ করছি। তবে এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এই এজেন্টের ক্ষমতা সাধারণ গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, যাতে এটি সবার দৈনন্দিন জীবনে কাজে আসে।   গুগল সার্চের এই পরিবর্তনের মূল আকর্ষণ হলো ‘স্পার্ক’ নামের একটি নতুন এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট। এই এজেন্টটি ব্যবহারকারীর অনুমতি সাপেক্ষে জিমেইল বা ম্যাপসের মতো সেবাগুলো থেকে তথ্য নিয়ে তাদের ব্যক্তিগত কাজ গুছিয়ে দেবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমাবে। এমনকি ব্যবহারকারীর সরাসরি তদারকি ছাড়াই এটি ইন্টারনেট ঘুরে কেনাকাটা করা, খবরের আপডেট রাখা, নির্দিষ্ট পণ্য খুঁজে দেওয়া বা কোনো অনুষ্ঠানের টিকিট বুকিংয়ের মতো কাজগুলো একাই করতে পারবে।.   গুগলের সার্চ বিভাগের প্রধান লিজ রিড এই প্রযুক্তি সম্পর্কে বলেন, সার্চ ইঞ্জিনের সেরা কার্যকারিতার সঙ্গে এআই প্রযুক্তির সেরা সুবিধাগুলোকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলার যাত্রায় এটি আমাদের পরবর্তী ধাপ।   সার্চ ইঞ্জিনের পাশাপাশি মেটা এবং অন্যান্য প্রতিযোগী সংস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে স্মার্ট চশমার বাজারেও ফিরছে গুগল। ২০১৫ সালে প্রথম সংস্করণের 'গুগল গ্লাস' প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়ার এক দশকেরও বেশি সময় পর এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হলো। ক্যামেরা ও স্পিকারযুক্ত এই চশমা তৈরিতে গুগল এবার হাত মিলিয়েছে স্যামসাং, ওয়ার্বি পার্কার এবং জেন্টল মনস্টারের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে।   বর্তমানে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর ডেটা এবং নিজেদের বিস্তৃত সেবার সুবিধা নিয়ে এআই বাজারের শীর্ষস্থান দখল করতে চায় গুগল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাণিজ্যিক ব্যবহারে বিশেষ করে প্রফেশনাল কোডিং ও বিজনেস অটোমেশনের ক্ষেত্রে বর্তমানে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক প্রত্যেকে প্রায় ৪০ শতাংশ বাজার দখল করে আছে, যেখানে গুগলের অংশ মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।   গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান নির্বাহী ডেমিস হাসাবিস জানান, তাদের নতুন জেমিমনাই ৩.৫ মডেলটি প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকের ‘ক্লড কোড’ বা ওপেনএআইয়ের ‘কোডেক্স’-এর সমকক্ষ হলেও এটি অনেক দ্রুত কাজ করে এবং এর পরিচালনা খরচও প্রায় অর্ধেক। আগামী মাসে জেমিমনাই ৩.৫-এর আরও শক্তিশালী ‘প্রো’ সংস্করণ বাজারে আসবে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, মানুষের চেয়েও বুদ্ধিমান প্রযুক্তি বা ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ (এজিআই) এখন আর বেশি দূরে নয়।   বিনিয়োগকারীরাও গুগলের এই নতুন প্রযুক্তির ওপর আস্থা রাখছেন। গত ১২ মাসে গুগলের শেয়ারের দাম প্রায় ১৩০ শতাংশ বেড়েছে, যার ফলে এর বাজারমূল্য এখন প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রকাশ: মে ১৯, ২০২৬ ২৩:৪
ছবি: সংগৃহীত

নতুন এআই মডেল বাজারে আনার আগে সরকারের সঙ্গে শেয়ার করবে গুগল, মাইক্রোসফট ও এক্সএআই

ছবি: সংগৃহীত।

গাড়িতেও যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা, বড় চমক গুগলের

শুধু কঠিন, তরল ও বায়বীয় নয়: এআই খুঁজে পেল পদার্থের চতুর্থ অবস্থা

শুধু কঠিন, তরল ও বায়বীয় নয়: এআই খুঁজে পেল পদার্থের চতুর্থ অবস্থা

0 Comments