ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ভেন্যুর বাইরে গাড়ির ট্রাঙ্কে মিলল গলিত মরদেহ
ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে প্রস্তুতি চলার মধ্যেই মেক্সিকোর টিজুয়ানায় একটি স্টেডিয়ামের বাইরে পার্ক করে রাখা একটি গাড়ির ট্রাঙ্ক থেকে এক ব্যক্তির গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। যে স্টেডিয়ামে বর্তমানে ইরান জাতীয় ফুটবল দল অনুশীলন করছে, তার অদূরেই এ ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় গাড়ির ট্রাঙ্কে রাখা ছিল। প্রাথমিক তদন্তে লাশে গুরুতর সহিংসতার চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ কারণে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্টেডিয়ামের মতো উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকার বাইরে এমন ঘটনা সামনে আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাটির পূর্ণ তদন্ত চলছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িটি বেশ কিছু সময় ধরে একই স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। পরে সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে নিরাপত্তাকর্মীরা বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ গাড়ির ট্রাঙ্ক খুলে প্লাস্টিকে মোড়ানো মরদেহটি উদ্ধার করে।
ঘটনার পর ইরান জাতীয় ফুটবল দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণও বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
মেক্সিকান প্রশাসন জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বা মাদক কার্টেলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ফরেনসিক পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreদুবাই থেকে ব্যাংককগামী ফ্লাইটে চার বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে নিয়ে ভ্রমণকালে এক থাই নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিউট পিম্পাপর্ন (৩৩) নামের ওই নারী ইতালির মিলান থেকে দুবাই হয়ে থাইল্যান্ডে ফিরছিলেন। মাঝ আকাশে মা ও মেয়ে যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, ঠিক তখনই ফ্লাইদুবাই (flydubai) এয়ারলাইন্সের ওই ফ্লাইটে এক পাকিস্তানি সহযাত্রী তাঁকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করে। ভুক্তভোগী নারী জানান, অভিযুক্ত পাকিস্তানি ব্যক্তি তাঁকে শ্লীলতাহানির পর দ্রুত হাত সরিয়ে নিয়ে জ্যাকেট দিয়ে ঢেকে ফেলে। এরপর সামনের এন্টারটেইনমেন্ট স্ক্রিন ঠিক করার ভান করতে থাকে এবং বারবার তাঁর দিকে তাকাচ্ছিল। ফ্লাইটের ভেতর আতঙ্ক বা বিশৃঙ্খলা না ছড়ানোর উদ্দেশ্যে পিম্পাপর্ন বিমানটি ব্যাংককে অবতরণ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। ফ্লাইটটি অবতরণের পরপরই তিনি কেবিন ক্রুদের বিষয়টি জানান এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। পিম্পাপর্ন জানান, বিমানবালা যখন আরবি ভাষায় ওই ব্যক্তির কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চান, তখন প্রথমে সে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। কিন্তু একপর্যায়ে জেরার মুখে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নেয়। অপরাধ স্বীকার করার পর ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগীর কাছে এসে হাঁটু গেড়ে বসে কান্নাকাটি করতে থাকে এবং বারবার ক্ষমা চায়। তবে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট তার এই আচরণ গ্রহণ করেননি এবং ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর আখ্যা দিয়ে পুলিশ ডাকতে বাধ্য হন। জানা গেছে, অভিযুক্ত পাকিস্তানি ব্যক্তি কোনো পরিবারের সাথে নয়, বরং একটি ট্যুর গ্রুপের সাথে ভ্রমণ করছিল। ওই দলের চার-পাঁচজন সদস্য এসে ভুক্তভোগীর কাছে তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করে। তবে বিমানবালা ঘটনার সাথে জড়িত নয় এমন সবাইকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্যাপ্টেনের সহায়তায় পিম্পাপর্নের শিশুটিকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে সে এই অপ্রীতিকর দৃশ্য না দেখে। পরবর্তীতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা অভিযুক্ত যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে থানায় নিয়ে যায়। ডন মুয়াং থানার পুলিশ লেফটেন্যান্ট কর্নেল চামনানিউত কনকং জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে থাইল্যান্ডে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশ আপাতত দুপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা বৈঠকের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে, যা তাদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মামলা দায়ের হয়নি। এদিকে, একা ভ্রমণকারী নারীদের ঝুঁকির বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই পিম্পাপর্ন এই ঘটনা জনসমক্ষে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, "দীর্ঘ ফ্লাইটে যাত্রীরা প্রায়ই ঘুমিয়ে থাকেন এবং একা ভ্রমণকারী নারীরা এমন পরিস্থিতিতে অরক্ষিত হয়ে পড়েন। নারীদের লজ্জিত না হয়ে এমন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে প্রতিবাদ করা উচিত এবং সাহায্য চাওয়া উচিত।" অন্যদিকে, ফ্লাইদুবাইয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। তবে চলমান তদন্তের স্বার্থে তারা যাত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, হাসপাতালে হাইকমিশনার ও তার স্ত্রী
ইরানের হুঁশিয়ারি, মার্কিন হামলা না থামলে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুমকি
মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে বৃদ্ধাকে খাওয়ানো হয় কুকুরের খাবার, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার প্রভাবে ইয়েমেনে নতুন করে মানবিক সংকট গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানি ও খাদ্যবাহী জাহাজের চলাচলে বাধা অব্যাহত থাকলে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ ইয়েমেনে খাদ্য সংকট আরও তীব্র হতে পারে এবং লাখো মানুষ ক্ষুধার ঝুঁকিতে পড়বেন। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এ পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল, জ্বালানি এবং বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করা হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খাদ্য পরিবহন, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের ওপর। মানবিক সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, ইয়েমেনের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশটিতে আগে থেকেই লাখো মানুষ খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানি সংকট ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে খাদ্যের দাম আরও বাড়বে, যা সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার কেনা কঠিন করে তুলবে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মান্দাব হয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ত্রাণ সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক না হলে শুধু ইয়েমেন নয়, খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল আরও কয়েকটি সংকটাপন্ন দেশও বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
ইউক্রেনে সবজি বিক্রেতাকে লক্ষ্য করে রুশ ড্রোন হামলা, ভিডিও ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
মালয়েশিয়ায় শ্রমিক সংকট নিরসনে ১৫ হাজার বিদেশি কর্মী নিয়োগের নির্দেশ
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েন করছে উত্তর কোরিয়া, বাড়ছে উদ্বেগ
উত্তর কোরিয়ায় চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নাগরিকদের গরম মোকাবিলায় কুকুরের মাংসের স্যুপ (ডানগোগি গুক) খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। শাসক দল ওয়ার্কার্স পার্টির মুখপত্র রোদং সিনমুন সম্প্রতি প্রকাশিত স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনায় এ পরামর্শ দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রচণ্ড গরমে শরীরের শক্তি ধরে রাখতে তরমুজ, শসা, মাছের পায়েস, লাল শিমের পায়েসের পাশাপাশি কুকুরের মাংসের স্যুপকে ‘উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় দীর্ঘদিন ধরেই এই খাবারকে গ্রীষ্মকালের ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহ চলছে। উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ উচ্চ তাপমাত্রা সতর্কতাও জারি করেছে। উত্তর কোরিয়ায় গ্রীষ্মের সবচেয়ে উষ্ণ সময় সামবক মৌসুমে কুকুরের মাংস খাওয়ার একটি পুরোনো সাংস্কৃতিক বিশ্বাস রয়েছে। ধারণা করা হয়, এ ধরনের খাবার শরীরের শক্তি ফিরিয়ে আনে এবং অতিরিক্ত গরম সহ্য করতে সাহায্য করে। যদিও এ দাবির পক্ষে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। অন্যদিকে, প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুরের মাংস খাওয়ার প্রচলন দ্রুত কমে গেছে। প্রাণীকল্যাণ নিয়ে জনমত পরিবর্তন এবং নতুন আইনি বিধিনিষেধের কারণে দেশটিতে কুকুরের মাংসের শিল্প কার্যত বিলুপ্তির পথে। এ কারণে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রচারণা নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্পের নজরদারির মধ্যেই রাশিয়ার প্রভাব কমছে পুতিনের? নতুন বিশ্লেষণ
মোদির ভিডিও সরানো নিয়ে মেটাকে ৩ দিনের আলটিমেটাম, জাকারবার্গের প্রকাশ্যে ক্ষমা দাবি ভারতের