আমেরিকা

মেক্সিকোতে নিখোঁজ হওয়া দুই আমেরিকান নাগরিকের লাশ উদ্ধার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১৩:৩৬
মেক্সিকোতে মার্কিন নাগরিক জাফর মাওয়ানি ও গিয়েরমো ওরতিজ মৃত উদ্ধার | ছবি: ইনস্টাগ্রাম
মেক্সিকোতে মার্কিন নাগরিক জাফর মাওয়ানি ও গিয়েরমো ওরতিজ মৃত উদ্ধার | ছবি: ইনস্টাগ্রাম

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো থেকে মেক্সিকো সিটিতে আসা এক নিখোঁজ সমকামী যুগল বা দুই সঙ্গীর মরদেহ মেক্সিকোর রাজধানী সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত মে মাসে মেক্সিকো সিটির দক্ষিণাঞ্চল থেকে এই দুই ব্যক্তি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত সপ্তাহে তাদের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি বুধবার নিশ্চিত করেছে তাদের পরিবার। এই ঘটনাটি মেক্সিকোতে চলমান অপরাধমূলক সহিংসতার এক নির্মম চিত্র আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

 

নিখোঁজ হওয়া এই দুই ব্যক্তি হলেন ৫৬ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক জাফর পাদামিস মাওয়ানি এবং তার সমবয়সী সঙ্গী গুইলারমো জাফেট হিদালগো ওরতিজ। তারা দুজনেই শিকাগো এবং মেক্সিকো সিটিতে বসবাস করতেন। মেক্সিকান পুলিশ এই অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করার পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। পরবর্তীতে আটককৃত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পাহাড়ি অঞ্চলে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা চারটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে দেশটির সরকারি আইনজীবীরা।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জাফর মাওয়ানির অসুস্থ মায়ের দেখাশোনা করার জন্যই এই দুই সঙ্গী মেক্সিকোতে সাময়িকভাবে অবস্থান করছিলেন। মে মাসে তারা নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অস্বাভাবিকভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছিল শিকাগোর স্থানীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই সূত্র ধরেই মেক্সিকান এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তাদের উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে। অবশেষে বুধবার মেক্সিকোর জাতীয় প্রশাসন ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে।

 

জাফরের পরিবারের মুখপাত্র কেট টেইলর এক বিবৃতিতে উদ্ধারকাজে সহায়তাকারী উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন এবং বন্ধুদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মেক্সিকোর সরকারি নিখোঁজ বুলেটিন অনুযায়ী, এই দুই ব্যক্তি যেখানে নিখোঁজ হয়েছিলেন সেই স্থানটি লা মার্কেসা জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। তবে তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও কারা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত তা এখনও প্রকাশ করেনি স্থানীয় প্রশাসন।

 

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মেক্সিকোতে অপরাধমূলক সহিংসতার কারণে বর্তমানে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটিতে হত্যাকাণ্ডের হার কিছুটা কমলেও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। শুধুমাত্র গত মে মাসেই দেশটিতে নতুন করে ৯৭৭ জন মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বর্তমানে মেক্সিকোতে বিশ্বব্যাপী ফুটবল বিশ্বকাপ চলার কারণে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। তারা নিখোঁজদের সন্ধানে সরকারের কাছ থেকে আরও বেশি বরাদ্দ এবং কার্যকরী পদক্ষেপ দাবি করছেন। আন্দোলনকারীদের একটি বড় অভিযোগ হলো, নিখোঁজ ব্যক্তিরা বিদেশি নাগরিক হলে প্রশাসন যেভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, দেশের সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে সেই তৎপরতা দেখা যায় না।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ফ্লোরিডায় ভুয়া পুলিশ সেজে আসল পুলিশের গাড়ি থামানোর চেষ্টা l ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় ভুয়া পুলিশ সেজে আসল পুলিশের গাড়ি থামানোর চেষ্টা, শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ভুয়া পুলিশ পরিচয় দিয়ে একটি গাড়ি থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেই গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। পরে জানা যায়, তিনি যে গাড়িটিকে থামানোর চেষ্টা করেছিলেন, সেটি ছিল হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের (HCSO) একটি আন্ডারকভার (অচিহ্নিত) সরকারি গাড়ি।   হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জুন থোনোটোসাসা এলাকার ইউএস হাইওয়ে ৩০১ নর্থ-এ একটি কালো শেভ্রোলেট সাবার্বান গাড়ির চালক লাল-নীল জরুরি বাতি জ্বালিয়ে একটি আন্ডারকভার শেরিফের গাড়িকে থামানোর সংকেত দেন। ওই গাড়িতে দায়িত্ব পালন করছিলেন শেরিফের কর্মকর্তারা।   বিষয়টি বুঝতে পেরে আশপাশে থাকা ডেপুটিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়িটি থামান এবং চালক নাদি জাবারি (৪৬)-কে আটক করেন।   তদন্তে অভিযোগ ওঠে, জাবারি নিজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে ট্রাফিক স্টপ পরিচালনার চেষ্টা করেছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সেজে প্রতারণার (Impersonating a Law Enforcement Officer) অভিযোগ আনা হয়েছে।   হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এ ঘটনার পর সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, কোনো গাড়ির পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলে নির্জন স্থানে না থেমে নিরাপদ ও জনবহুল স্থানে গিয়ে ৯১১ নম্বরে ফোন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পরিচয় নিশ্চিত করা উচিত।   শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, ভুয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে প্রতারণার মতো ঘটনা জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:২৯
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

৭ হাজার পৃষ্ঠার যৌন টেক্সট! নিউজার্সির শিক্ষিকার বিরুদ্ধে চাইল্ড পর্নোগ্রাফি তৈরির অভিযোগ

মেক্সিকোতে মার্কিন নাগরিক জাফর মাওয়ানি ও গিয়েরমো ওরতিজ মৃত উদ্ধার | ছবি: ইনস্টাগ্রাম

মেক্সিকোতে নিখোঁজ হওয়া দুই আমেরিকান নাগরিকের লাশ উদ্ধার

সান ফ্রান্সিসকোর একটি ভবনের সামনে ইউনাইটেড স্টেটস পোস্টাল সার্ভিসের একটি ডেলিভারি ভ্যান | ছবি: গেটি ইমেজেস

ট্রাম্পের প্রস্তাবে ভোটার তালিকা না দিলে ব্যালট পাঠাবে না মার্কিন ডাক বিভাগ

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস | ছবি: এপি
ডেমোক্রেটিক পার্টি ধ্বংসের অভিযোগে মামদানির ওপর চটলেন লেটিটিয়া জেমস

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। গত নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর মামদানি রাজ্যব্যাপী একাধিক গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক প্রার্থীকে সমর্থন দেন। জেমসের মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড দলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও ঐক্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।   জেমস আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে মামদানির সমর্থিত প্রার্থীরা নিউইয়র্ক সিটির প্রকৃত রাজনীতি বোঝেন না। বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার সাংস্কৃতিক পার্থক্য ও দীর্ঘদিনের সংগ্রাম সম্পর্কে তাদের কোনো বাস্তব ধারণা নেই। এই নতুন প্রার্থীরা বর্ণবাদ ও শ্রেণীগত জটিল সমস্যাগুলো অনুধাবন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে দলের ভেতরে এক ধরণের আদর্শিক দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে।   নির্বাচনী মাঠে মামদানির রাজনৈতিক প্রভাব ইতিমধ্যেই নিউইয়র্কের রাজ্য এবং কংগ্রেসের প্রাথমিক নির্বাচনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার সমর্থনে ক্লেয়ার ভালদেজ এবং দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার বর্তমান আইনপ্রণেতাদের পরাজিত করে প্রতিনিধি পরিষদের দৌড়ে জয়ী হয়েছেন। এর পাশাপাশি রাজ্য সিনেটে দুটি এবং স্টেট অ্যাসেম্বলিতে চারটি আসনে মামদানি সমর্থিত সমাজতান্ত্রিক প্রার্থীরা বিশাল জয় পেয়েছেন।   সহকর্মীদের বরাত দিয়ে জেমস জানান যে ডেমোক্রেটিক পার্টির এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনে অনেকেই হতাশ। তিনি বলেন যে দলের ওপর আমাদের সবারই কিছুটা ক্ষোভ থাকতে পারে, তবে তার মানে এই নয় যে পুরো দলকেই ধ্বংস করে দিতে হবে। তিনি এই প্রবণতাকে ট্রাম্পের অনুসারী মাগা বা এমএজিএ আন্দোলনের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির সাথে তুলনা করেন। স্থানীয় বিনিয়োগকারী ও অন্য ডেমোক্র্যাট নেতাদের সাথে সম্পর্ক নষ্টের আশঙ্কাও করছেন অনেকে।   তবে এই সমস্ত আশঙ্কার মাঝেও প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিজ বুধবার বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। দল অতিরিক্ত বামপন্থার দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি এই উদ্বেগ উড়িয়ে দেন। তিনি উল্টো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে মেয়র মামদানির কার্যকরী সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন, যা ওভাল অফিসে তাদের বৈঠকের মাধ্যমে বারবার স্পষ্ট হয়েছে।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও নভেম্বর মাসে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মেয়র মামদানি এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। তাদের করমর্দন ও হাসিমুখে ছবি তোলার ঘটনা সমালোচকদের বেশ অবাক করেছিল। তবে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাতের পরেও ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ডেমোক্রেটিক পার্টির এই প্রাথমিক নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তিনি সাফ জানান যে আমেরিকা কখনই একটি কমিউনিস্ট দেশ হবে না।   সূত্র: দ্য হিল

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১৩:১১
ছবি: মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা

টেক্সাসে ১৭০০ অপরাধে জড়িত ৭৩৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করল আইসিই

ছবি: আউটফ্রন্ট মিডিয়া

নিউইয়র্কের বাসে ‘মিউজিয়াম অব সেক্স’ বিজ্ঞাপন ঘিরে বিতর্ক, অপসারণের দাবি ধর্মীয় নেতাদের

ডুলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টিএসএ প্রি-চেক সাইনবোর্ড | ছবি: গেটি ইমেজেস

যুক্তরাষ্ট্রে বিমান ভ্রমণে বড় পরিবর্তন, বিমানবন্দরে অনেক যাত্রীর আর দেখাতে হবে না পরিচয়পত্র

বৈশাখী উৎসবের পর আগামীকাল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সাধারণ সভা
বৈশাখী উৎসবের সফল আয়োজনের পর আগামীকাল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সাধারণ সভা

আটলান্টা, জর্জিয়া: সম্প্রতি বর্ণাঢ্য আয়োজনে বৈশাখী উৎসব সফলভাবে সম্পন্ন করার পর এবার সাধারণ সভার আয়োজন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের অন্যতম প্রবাসী সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামীকাল শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ৮টায় এই সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।   সভার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে লাকি শোলস পার্ক কমিউনিটি সেন্টার, ৪৬৫১ ব্রিট রোড, নরক্রস, জর্জিয়া ৩০০৯৩।   বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরেফিন বাবুল এবং সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আহসান (শান্ত) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের লাইফ মেম্বার ও সাধারণ সদস্যদের যথাসময়ে উপস্থিত থেকে সভায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণ এবং কমিউনিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিনিময়ের লক্ষ্যে এই সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, এ মাসের ১৪ই জুন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে জর্জিয়ায় বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য বৈশাখী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী বাংলা খাবারের আয়োজন, শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা এবং পারিবারিক মিলনমেলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল র‍্যাফেল ড্র, যেখানে বিজয়ীদের মধ্যে বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অংশগ্রহণকারী ও আয়োজকদের মতে, এবারের বৈশাখী উৎসবটি ছিল সংগঠনের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সফল ও প্রাণবন্ত আয়োজন।   সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন, বৈশাখী উৎসবের সেই ইতিবাচক সাড়া ও সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় এবারের সাধারণ সভাও ফলপ্রসূ হবে। সভায় সংগঠনের চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, কমিউনিটির কল্যাণে নতুন উদ্যোগ এবং সদস্যদের বিভিন্ন মতামত নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া দীর্ঘদিন ধরে জর্জিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। জাতীয় দিবস উদযাপন, বাংলা নববর্ষ, পারিবারিক মিলনমেলা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কমিউনিটি উদ্যোগের মাধ্যমে সংগঠনটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।   সংগঠনের পক্ষ থেকে সাধারণ সভায় সকল সদস্যকে সময়মতো উপস্থিত থেকে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১২:১০
ছবি: গেটি ইমেজেস

মেয়েদের গোপন কক্ষে ছেলেদের প্রবেশের সুযোগ, আমেরিকার তিন স্কুলের বিরুদ্ধে বড় তদন্ত

ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ১৩ ভোটে হার শামসুল হকের, নিউইয়র্ক প্রাইমারিতে জিতলেন না কোনো বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী

ওয়াশিংটনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট | ছবি: এপি

আমেরিকায় লাখ লাখ অভিবাসীর থাকার বিশেষ সুবিধা বাতিলের অনুমতি দিলেন সুপ্রিম কোর্ট

0 Comments