আমেরিকা

মেক্সিকোতে নিখোঁজ হওয়া দুই আমেরিকান নাগরিকের লাশ উদ্ধার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১৩:৩৬
মেক্সিকোতে মার্কিন নাগরিক জাফর মাওয়ানি ও গিয়েরমো ওরতিজ মৃত উদ্ধার | ছবি: ইনস্টাগ্রাম
মেক্সিকোতে মার্কিন নাগরিক জাফর মাওয়ানি ও গিয়েরমো ওরতিজ মৃত উদ্ধার | ছবি: ইনস্টাগ্রাম

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো থেকে মেক্সিকো সিটিতে আসা এক নিখোঁজ সমকামী যুগল বা দুই সঙ্গীর মরদেহ মেক্সিকোর রাজধানী সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত মে মাসে মেক্সিকো সিটির দক্ষিণাঞ্চল থেকে এই দুই ব্যক্তি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত সপ্তাহে তাদের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি বুধবার নিশ্চিত করেছে তাদের পরিবার। এই ঘটনাটি মেক্সিকোতে চলমান অপরাধমূলক সহিংসতার এক নির্মম চিত্র আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

 

নিখোঁজ হওয়া এই দুই ব্যক্তি হলেন ৫৬ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক জাফর পাদামিস মাওয়ানি এবং তার সমবয়সী সঙ্গী গুইলারমো জাফেট হিদালগো ওরতিজ। তারা দুজনেই শিকাগো এবং মেক্সিকো সিটিতে বসবাস করতেন। মেক্সিকান পুলিশ এই অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করার পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। পরবর্তীতে আটককৃত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পাহাড়ি অঞ্চলে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা চারটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে দেশটির সরকারি আইনজীবীরা।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জাফর মাওয়ানির অসুস্থ মায়ের দেখাশোনা করার জন্যই এই দুই সঙ্গী মেক্সিকোতে সাময়িকভাবে অবস্থান করছিলেন। মে মাসে তারা নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অস্বাভাবিকভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছিল শিকাগোর স্থানীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই সূত্র ধরেই মেক্সিকান এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তাদের উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে। অবশেষে বুধবার মেক্সিকোর জাতীয় প্রশাসন ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে।

 

জাফরের পরিবারের মুখপাত্র কেট টেইলর এক বিবৃতিতে উদ্ধারকাজে সহায়তাকারী উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন এবং বন্ধুদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মেক্সিকোর সরকারি নিখোঁজ বুলেটিন অনুযায়ী, এই দুই ব্যক্তি যেখানে নিখোঁজ হয়েছিলেন সেই স্থানটি লা মার্কেসা জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। তবে তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও কারা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত তা এখনও প্রকাশ করেনি স্থানীয় প্রশাসন।

 

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মেক্সিকোতে অপরাধমূলক সহিংসতার কারণে বর্তমানে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটিতে হত্যাকাণ্ডের হার কিছুটা কমলেও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। শুধুমাত্র গত মে মাসেই দেশটিতে নতুন করে ৯৭৭ জন মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বর্তমানে মেক্সিকোতে বিশ্বব্যাপী ফুটবল বিশ্বকাপ চলার কারণে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। তারা নিখোঁজদের সন্ধানে সরকারের কাছ থেকে আরও বেশি বরাদ্দ এবং কার্যকরী পদক্ষেপ দাবি করছেন। আন্দোলনকারীদের একটি বড় অভিযোগ হলো, নিখোঁজ ব্যক্তিরা বিদেশি নাগরিক হলে প্রশাসন যেভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, দেশের সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে সেই তৎপরতা দেখা যায় না।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ডিয়ারবর্ন হাইটসে নিজের গাড়ি ও বাড়ির মাঝে চাপা পড়ে প্রাণ হারানো পাঁচ সন্তানের একক মা নাদা শুকেইয়ার। ছবি: সংগৃহীত
গাড়ি থামাতে গিয়ে নিজের গাড়ির চাপায় প্রাণ গেল পাঁচ সন্তানের মায়ের

যুক্তরাষ্ট্রের ডিয়ারবর্ন হাইটসে নিজের গাড়ি ও বাড়ির মাঝে চাপা পড়ে ৪৯ বছর বয়সী নাদা শুকেইয়ারের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচ সন্তানের এই একক মা গাড়ি থামানোর চেষ্টা করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। তদন্তে তার মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে নিশ্চিত করেছে ডিয়ারবর্ন হাইটস পুলিশ।   গত ৩ আগস্ট সোমবার সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটের দিকে শহরের কলোনিয়াল স্ট্রিটের ৭২০০ ব্লকের একটি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ সেখানে একজন নারী গাড়ির নিচে আটকে থাকার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়।   পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুকেইয়ার গাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সেটি চালু অবস্থায় ছিল। গাড়িটি তখন সামনে এগিয়ে যেতে শুরু করলে তিনি সেটি থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় গাড়িটি সামনে এগিয়ে তাকে গাড়ি ও বাড়ির মাঝখানে আটকে ফেলে।   প্রায় ৩০ মিনিট পর তার ছেলে বাইরে এসে মাকে ওই অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তিনি গাড়িটি পেছনে সরিয়ে তাকে বের করেন। পুলিশ কর্মকর্তা ও জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা চার মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিপিআর শুরু করেন।   পরে শুকেইয়ারকে কোরওয়েল হেলথ ডিয়ারবর্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তদন্তকারীরা বাড়ির ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।   ডিয়ারবর্ন হাইটস পুলিশের পক্ষ থেকে শুকেইয়ারের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। পরিবারের একজন বন্ধু হাদি সালেহ তার পরিবারের সহায়তা এবং শেষকৃত্য ও স্মরণসভা আয়োজনের খরচের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেন।   শুকেইয়ারের সন্তানরা জানিয়েছেন, তাদের মা এককভাবে পাঁচ সন্তানকে বড় করছিলেন এবং সন্তানদের প্রয়োজনকে সবসময় নিজের প্রয়োজনের আগে রাখতেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কঠিন পরিস্থিতিতেও শক্তি, ভালোবাসা ও দৃঢ়তার সঙ্গে সবকিছু মোকাবিলা করতেন।   তার সন্তানদের ভাষ্য অনুযায়ী, রান্না করা এবং পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও বাড়িতে আসা অন্যদের খাওয়াতে শুকেইয়ার আনন্দ পেতেন। তাদের প্রিয় স্মৃতির মধ্যে ছিল মায়ের সঙ্গে দৈনন্দিন কাজ করা, কেনাকাটা করতে যাওয়া এবং ফালাফেল স্যান্ডউইচ খেতে থামা।   পরিবার জানিয়েছে, শুকেইয়ারের হাসি, প্রাণবন্ত অট্টহাসি এবং পরিবারের সদস্যদের আনন্দ দেওয়ার নানা মুহূর্ত তারা সবসময় মনে রাখবেন। তাদের মতে, পরিবারের জন্য তার ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ তাদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।   ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একটি যাচাইকৃত অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগে ১ লাখ ৫৮ হাজার ডলারের বেশি জমা পড়েছিল। আরেকটি উদ্যোগেও ৭০ হাজার ডলারের বেশি জমা পড়েছিল। তবে দ্বিতীয় উদ্যোগটি ওই সময় পর্যন্ত যাচাই করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে।   শুকেইয়ারের সন্তানরা জানিয়েছেন, কঠিন সময়ে মানুষের সহায়তা তাদের জন্য গভীর সান্ত্বনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তারা পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দোয়া, অর্থ সহায়তা ও উদ্যোগটি অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১০:৫৪
অ্যারিজোনায় হত্যার শিকার হওয়া ১৯ বছর বয়সী জুলিসা রুবি সালাজার এবং অভিযুক্ত প্রেমিক ভারতীয় শিক্ষার্থী ভারুন ব্যাচিগারি (ইনসেটে)। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেমিকাকে হত্যা করে পালানোর পথে জার্মানিতে গ্রেপ্তার ভারতীয় শিক্ষার্থী, ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে

ফ্লোরিডার মিয়ামি গার্ডেনে খাবার ডেলিভারি দিতে গিয়ে বন্দুকধারীদের হামলার মুখে পড়েন এক ডেলিভারি কর্মী। ছবি: সংগৃহীত

বন্দুক দেখিয়ে ডাকাতির চেষ্টা, নিজের অস্ত্রেই হামলাকারীকে হত্যা করল ফুড ডেলিভারিম্যান

বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব

নায়ক থেকে গায়ক, অপূর্বর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ নিউইয়র্কের দর্শক

জন্মের পরপরই পরিত্যক্ত হওয়া ফ্রেডি ফিগার্স আজ একজন সফল প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং ইনসেটে তাঁর দত্তক বাবা-মা। ছবি: সংগৃহীত
জন্মের পর মা ফেলে গিয়েছিলেন, সেই শিশুই একদিন গড়ে তুললেন কোটি ডলারের ব্যবসা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় জন্মের পরপরই নিজের জন্মদাত্রী মায়ের কাছে পরিত্যক্ত হয়েছিলেন ফ্রেডি ফিগার্স। ডাম্পস্টারের পাশে পড়ে থাকা সেই নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মাত্র দুই দিন বয়সে তিনি এমন এক পরিবারের কাছে আশ্রয় পান, যারা পরে তাকে নিজেদের সন্তান হিসেবে দত্তক নেন। আজ সেই ফ্রেডি ফিগার্স একজন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক ও টেলিযোগাযোগ ব্যবসায়ী এবং নিজের প্রতিষ্ঠিত ফিগার্স কমিউনিকেশন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।   ফ্রেডি বড় হয়েছেন ফ্লোরিডার কুইন্সিতে। তার দত্তক বাবা নাথান ফিগার্স ছিলেন একজন মেইনটেন্যান্স কর্মী ও হাতের কাজ জানা মানুষ। ছোটবেলা থেকেই ফ্রেডির পুরোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি খুলে দেখা ও মেরামত করার আগ্রহ ছিল। তবে তার শৈশব পুরোপুরি সহজ ছিল না। জন্মের গল্প জানার পর স্কুলে তাকে ‘ডাম্পস্টার বেবি’ বলে অপমানও সহ্য করতে হয়েছে।   তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় মাত্র ৯ বছর বয়সে। তার বাবা একটি পুরোনো নষ্ট ম্যাকিনটোশ কম্পিউটার মাত্র ২৫ ডলারে কিনে এনে দেন। ফ্রেডি সেটি খুলে ফেলেন, আবার জোড়া লাগান এবং শেষ পর্যন্ত নিজের চেষ্টায় চালু করতে সক্ষম হন। সেই কম্পিউটারই প্রযুক্তির প্রতি তার গভীর আগ্রহ তৈরি করে।   এরপর কম্পিউটার নিয়ে তার দক্ষতা দ্রুত বাড়তে থাকে। ১৩ বছর বয়সে তিনি কুইন্সি শহরের কম্পিউটার মেরামতের কাজ করতে শুরু করেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে নিজের কম্পিউটার মেরামতের ব্যবসা শুরু করেন। প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে করতে সফটওয়্যার তৈরি এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি সেবা দেওয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন।   ফ্রেডির জীবনে তার দত্তক বাবার অসুস্থতাও বড় প্রভাব ফেলেছিল। নাথান আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর মাঝে মাঝে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেন এবং কোথায় আছেন তা মনে রাখতে পারতেন না। বাবাকে নিরাপদে রাখার জন্য ফ্রেডি একটি জিপিএস ট্র্যাকিং ডিভাইস তৈরি করেন, যা জুতার ভেতরে রাখা যেত এবং এর মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা ও যোগাযোগ করা সম্ভব হতো। পরে সেই প্রযুক্তির স্বত্ব বিক্রি করে তিনি কয়েক মিলিয়ন ডলার পান।   এই অর্থ এবং নিজের প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ফ্রেডি টেলিযোগাযোগ খাতে আরও বড়ভাবে প্রবেশ করেন। ২০১১ সালে ২১ বছর বয়সে ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন বা এফসিসি তার লাইসেন্স স্পেকট্রাম-সংক্রান্ত আবেদন অনুমোদন করে। এর মাধ্যমে নিজের সেলফোন কোম্পানি পরিচালনার সুযোগ পান তিনি। পরবর্তীতে তার প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ও কম সুবিধাপ্রাপ্ত এলাকায় যোগাযোগসেবা সম্প্রসারণের কাজও করে।   ফ্রেডির প্রতিষ্ঠিত ফিগার্স কমিউনিকেশন বর্তমানে একটি মার্কিন টেলিযোগাযোগ ও সেলুলার ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি ওয়্যারলেস সেবা, মোবাইল ব্রডব্যান্ড, হোম ফোন, আন্তর্জাতিক কলিং এবং বিভিন্ন ভোক্তা প্রযুক্তিপণ্য সরবরাহ করে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পণ্য তালিকায় স্মার্টফোন, ইন্টারনেট সেবা, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য রয়েছে।   ব্যবসার পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজ করতেও আগ্রহী ফ্রেডি। তিনি ফিগার্স ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা শিক্ষা, স্কলারশিপ, ফস্টার কেয়ারে থাকা তরুণদের সহায়তা, দুর্যোগে সহযোগিতা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে কাজ করে।   ফ্রেডি ফিগার্সের গল্প তাই শুধু একজন সফল ব্যবসায়ীর গল্প নয়। এটি এমন একজন মানুষের গল্প, যার জীবনের শুরু হয়েছিল পরিত্যক্ত অবস্থায়, কিন্তু যিনি সেই অতীতকে নিজের ভবিষ্যতের সীমা হতে দেননি।   একটি পুরোনো নষ্ট কম্পিউটার থেকে শুরু হওয়া কৌতূহল তাকে নিয়ে গেছে প্রযুক্তির জগতে। আর যে পরিবার তাকে জন্ম না দিয়েও নিজের সন্তানের মতো বড় করেছে, তাদের ভালোবাসা ও সমর্থন হয়ে উঠেছে তার জীবনের অন্যতম ভিত্তি।   জন্মের পরিস্থিতি একজন মানুষের পরিচয় নির্ধারণ করে না, ফ্রেডি ফিগার্সের জীবন যেন তারই এক বাস্তব উদাহরণ।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৯:২৪
নিউইয়র্ক সিটিতে গৃহহীন মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মাদক ও অ্যালকোহলজনিত সমস্যা সামনে এসেছে। ছবি: এপি নিউজ

নিউইয়র্কে গৃহহীনদের করুণ পরিণতি, প্রায় অর্ধেক মৃত্যুর পেছনে মাদক ও অ্যালকোহল

জাকারবার্গের বিলাসবহুল ইয়ট।ছবি:সংগৃহীত

আলাস্কায় বিপদে পড়া নৌকাকে সাহায্য করেনি জাকারবার্গের ৩০ কোটি ডলারের বিলাসবহুল ইয়ট

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প আব্দুল এল-সায়েদ এবং তার স্ত্রী সারা জুকাকুক। ছবি:সংগৃহীত

ট্রাম্প-মেলানিয়ার ছবির সাথে নিজেদের ছবি তুলনা করে এল সায়েদ বলেন, আমরা একে অপরকে সত্যি ভালোবাসি"

যুদ্ধকালীন সময়ে ৫৪ বছর বিচ্ছিন্ন থাকা এক দম্পতির আবেগঘন পুনর্মিলন। ছবি:সংগৃহীত
যুদ্ধ থেকে স্বামীর ফেরার আশায় ৫৪ বছর অপেক্ষা! শেষে জানলেন তিনি নতুন সংসার গড়েছেন

চীনে কৈশোরের প্রেমিকের ফিরে আসার আশায় ৫৪ বছর অপেক্ষা করেছেন এক নারী। এত দীর্ঘ সময়েও তিনি আর বিয়ে করেননি। শেষ পর্যন্ত একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের সহায়তায় সেই প্রিয় মানুষটির সন্ধান মিললেও পুনর্মিলনের মুহূর্তে সামনে আসে এক কঠিন বাস্তবতা, সময়ের ব্যবধানে দুজনের জীবনই বদলে গেছে।   কৈশোরে নিজের গ্রামের এক তরুণের প্রেমে পড়েছিলেন ওই নারী। কিন্তু সে সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতায় দুজন বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। এরপর প্রেমিকের কোনো খোঁজ না পেয়ে তিনি জানতেও পারেননি, তিনি বেঁচে আছেন কি না।   তবু তাকে ভুলে যাননি ওই নারী। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আর কখনো বিয়ে করবেন না। সেই সিদ্ধান্তেই অটল থেকে বছরের পর বছর নিজের গ্রামেই থেকে যান। একই সঙ্গে তিনি তার প্রিয় মানুষটির বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনা করতে থাকেন এবং মনে আশা রাখেন, একদিন হয়তো তিনি ফিরে আসবেন।   সময়ের সঙ্গে তার চুল কালো থেকে সাদা হয়ে যায়। বয়স বাড়তে থাকে, বদলে যায় চারপাশের মানুষ ও পরিবেশ। কিন্তু অপেক্ষা থামেনি।   অন্যদিকে, নিজের পুরোনো পরিবার ও গ্রামের সঙ্গে আর কখনো যোগাযোগ হবে না বলে ধরে নিয়েছিলেন সেই তরুণ। একসময় তিনি নতুন করে সংসার শুরু করেন। বিয়ে করেন, সন্তানদের বড় করেন এবং একপর্যায়ে নাতি-নাতনির দাদাও হন।   দীর্ঘ ৫৪ বছর পর ওই নারী চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের ‘ওয়েটিং ফর মি’ নামের একটি অনুষ্ঠানের সহায়তা নিয়ে তার পুরোনো প্রেমিককে খুঁজতে উদ্যোগী হন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অবশেষে তার সন্ধান পাওয়া যায়।   পুনর্মিলনের সেই মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। বহু বছর পর দুজন যখন মুখোমুখি হন, নারীটি কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তাকে সেই মানুষের আলিঙ্গনে তুলে দেওয়া হয়, যাকে তিনি জীবনের অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।   তবে এই দেখা শুধু আনন্দের ছিল না। পাঁচ দশকের বেশি সময় পর তারা একে অপরকে ফিরে পেলেও মাঝের দীর্ঘ সময়ে দুজনের জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে এগিয়ে গেছে। একজন অপেক্ষা করে কাটিয়েছেন জীবন, অন্যজন গড়ে তুলেছেন নতুন পরিবার।   এই পুনর্মিলনের গল্প তাই শুধু দীর্ঘদিনের ভালোবাসার নয়, সময়ের নির্মম বাস্তবতারও। ভালোবাসা হয়তো দীর্ঘ বিচ্ছেদ পেরিয়েও টিকে থাকতে পারে, কিন্তু হারিয়ে যাওয়া সময় সবসময় ফিরে পাওয়া যায় না।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৮:০
নিউইর্য়ক পুলিশ। ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্ক পুলিশে বাড়ছে বাংলাদেশি পুলিশ! বেতন ৯০হাজার ডলার, আবেদন করুন আজই

উদ্ধারকৃত ডলার। ছবি:সংগৃহীত

বিমানবন্দরে লাগেজ থেকে ৬ লাখ ১৮ হাজার ডলার উদ্ধার, যুবকের কারাদণ্ড

নৌকায় অভিবাসীদের বহনকরার সময়। ছবি:সংগৃহীত

এক নৌকায় রেকর্ড ২৩০ অভিবাসী নিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে, জাতীয় নিরাপত্তা জরুরি অবস্থা’র সতর্কতা

0 Comments