যুক্তরাজ্য

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন ব্রিটেনের, কি এই ‘র‍্যাপিড রেঞ্জার’?

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে উপসাগরীয় অঞ্চলে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘র‍্যাপিড রেঞ্জার’ মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শুক্রবার সকালে কুয়েতের যুবরাজের সাথে এক ফোনালাপে এই সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ‘র‍্যাপিড রেঞ্জার’ মূলত একটি স্বল্পপাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা বিশেষভাবে ড্রোন এবং দ্রুতগামী লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। প্রায় ৮ কিলোমিটার রেঞ্জ সম্পন্ন এই সিস্টেমটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে পারদর্শী। উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ড্রোনের হুমকি মোকাবিলায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঢাল হিসেবে কাজ করবে। লন্ডন থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এই সামরিক সহায়তার অংশ হিসেবে একটি প্রতিরক্ষা সিস্টেম সৌদি আরবে পাঠানো হচ্ছে। এটি সরাসরি সৌদি আরবের মূল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করা হবে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তাদের আরএএফ (RAF) রেজিমেন্ট গান ইতিমধ্যেই কার্যকর ভূমিকা পালন করছে এবং বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর সাথে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
কিয়ার স্টারমার ও শেখ মিশাল আল-আহমাদ আল-সাবাহ
কুয়েতের নিরাপত্তায় আকাশ প্রতিরক্ষা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্য কুয়েতে তাদের আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘র‍্যাপিড সেন্ট্রি’ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার পর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এ সিদ্ধান্ত আসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং কুয়েতের আমির শেখ মিশাল আল-আহমাদ আল-সাবাহ-এর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনার পর। আলোচনায় স্টারমার ওই হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং কুয়েতের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।   প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য কুয়েতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর পাশে রয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় র‍্যাপিড সেন্ট্রি ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করা হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সম্পর্কিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি বাড়তে থাকায় কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় এই ধরনের প্রতিরক্ষা সহায়তা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   সূত্র: আলজাজিরা।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে ভার্চুয়াল সম্মেলন শুরু

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে শুরু হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলন। এতে অংশ নিয়েছেন বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি। সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপার ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে "কাণ্ডজ্ঞানহীনতা" বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গতকাল এই বৈঠকের ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছিলেন, তেহরানের বাধার কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া এই নৌপথটি পুনরায় চালুর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপায় খুঁজতেই এই জরুরি আয়োজন। মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে ইরান বর্তমানে এই কৌশলগত জলপথটি কার্যত অচল করে রেখেছে। উল্লেখ্য যে, এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র উপস্থিত নেই।পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুপার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "ইরানের এই অবিবেচকের মতো আচরণ এমন সব দেশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে যারা এই সংঘাতের সঙ্গে মোটেও জড়িত নয়।" তিনি আরও যোগ করেন যে, এই পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বর্তমানে চরম হুমকির মুখে। আলোচনার পাশাপাশি কুপার জানান, একটি সম্মিলিত প্রতিরক্ষামূলক সামরিক ব্যবস্থা কীভাবে গড়ে তোলা যায়, তা পর্যালোচনার জন্য শিগগিরই সামরিক পরিকল্পনাবিদদেরও এক টেবিলে বসানো হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার ও সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা
ডাউনিং স্ট্রিটে শারা-স্টারমার বৈঠক: নতুন সিরিয়া গঠনে বিশ্বনেতাদের সমর্থন

সিরিয়ার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এক ঝটিকা সফরে বের হয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা।  এরই ধারাবাহিকতায় আজ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারের সরকারি বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন এই দুই নেতা। বৈঠকে সিরিয়ার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, মানবিক সহায়তা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ডাউনিং স্ট্রিট সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সিরিয়ার গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য যে, লন্ডনে আসার ঠিক একদিন আগেই আহমেদ আল শারা বার্লিনে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইউরোপের প্রভাবশালী দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে পর পর এই বৈঠকগুলো আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সিরিয়ার নতুন সরকারের অবস্থানকে আরও সুসংহত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধে জড়াবে না যুক্তরাজ্য, পরিষ্কার বার্তা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer জানিয়েছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাজ্য অংশ নেবে না এবং ব্রিটিশ বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করবে না।   সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্টারমার বলেন, ‘এই যুদ্ধ আমাদের নয়, আমরা এতে জড়াব না।’ মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাজ্য সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে না।   তবে তিনি জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাজ্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা জোরদার করছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে—বিদেশে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সুরক্ষা দেওয়া।   স্টারমার আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক নৌযান চলাচল বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় যুক্তরাজ্য কাজ করবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই এই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়া উচিত নয়।মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে বড় ধসের আশঙ্কা

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপ এবং যুক্তরাজ্যের ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক ধস নামতে শুরু করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত 'পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স' বা পিএমআই-এর জরিপ থেকে এই উদ্বেগের চিত্র সামনে এসেছে।  তথ্যমতে, যুদ্ধের কারণে উৎপাদন খরচ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং ব্যবসায়িক আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে গেছে। এসএন্ডপি গ্লোবালের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিস উইলিয়ামসন জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা গত মার্চ মাসে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন থমকে গেছে, অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা যুদ্ধের স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করে আরও ভয়াবহ হতে পারে। একই চিত্র দেখা গেছে ইউরোজোনের ২১টি দেশেও। জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বিগত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ। অর্থনীতিবিদরা একে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা স্থবির মুদ্রাস্ফীতির সংকেত হিসেবে দেখছেন, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেমে থাকলেও নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে।  ফলে সাধারণ মানুষের আয় না বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ। যদিও বর্তমান সূচক এখনো পতনের একদম শেষ সীমানায় পৌঁছায়নি, তবে গত কয়েক মাসের তুলনায় এটি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
অ্যাম্বুলেন্সগুলি পরিচালনা করত ইহুদী স্বেচ্ছাসেবং সংস্থা।
লন্ডনে ইহুদি-বিদ্বেষের ঘটনা, তদন্তে নেমেছে সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ

যুক্তরাজ্যের উত্তর লন্ডনের ইহুদি অধ্যুষিত গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় চারটি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে।  স্থানীয় একটি সিনাগগের পাশে রাখা এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো মূলত ইহুদি স্বেচ্ছাসেবক দল দ্বারা পরিচালিত হতো। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্তে নেমেছে যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাস-মোকাবিলাকারী বিশেষ পুলিশ বাহিনী। এই ঘটনাকে সরাসরি ইহুদি-বিদ্বেষী আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। এক বিবৃতিতে তিনি ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। স্টারমার বলেন, আমাদের আধুনিক সমাজে কোনো ধরনের ইহুদি বিদ্বেষ বা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার স্থান নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেট্রোপলিটান পুলিশের প্রধান মার্ক রাওলি অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গোল্ডার্স গ্রিনসহ আশপাশের ইহুদি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে ২৬৪ জন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ভিসা ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। ফাইল ছবি
৮ এপ্রিল থেকে সব ধরনের ভিসা ও নাগরিকত্ব আবেদন ফি বাড়াচ্ছে যুক্তরাজ্য

সব ধরনের ভিসা ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব আবেদন ফিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউকে হোম অফিস জানিয়েছে, নতুন এই ফি ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।   নতুন হার অনুযায়ী, ৬ মাস পর্যন্ত ভিজিট ভিসা ফি ৬ পাউন্ড বাড়িয়ে ১৩৫ পাউন্ড করা হচ্ছে। ২ বছর মেয়াদি ভিজিট ভিসা ৩১ পাউন্ড বৃদ্ধি পেয়ে ৫০৬ পাউন্ড, ৫ বছর মেয়াদি ভিসা ৫৫ পাউন্ড বাড়িয়ে ৯০৩ পাউন্ড এবং ১০ বছর মেয়াদি ভিসা ৬৯ পাউন্ড বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ১২৮ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে আবেদনকারী ও তার নির্ভরশীলদের জন্য ফি ৩৪ পাউন্ড বাড়িয়ে ৫৫৮ পাউন্ড করা হচ্ছে। একাডেমিক কাজের জন্য ৬ থেকে ১২ মাস মেয়াদি ভিজিট ভিসা ১৪ পাউন্ড বাড়িয়ে ২৩৪ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। একই হারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা ভিসার ফিও বাড়ছে।   যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে দক্ষ কর্মীদের স্পন্সরশিপ ভিসার ক্ষেত্রে ৩ বছর পর্যন্ত কাজের জন্য ফি ৫০ পাউন্ড এবং ৩ বছরের বেশি হলে ৯৯ পাউন্ড বৃদ্ধি পাবে। হেলথ কেয়ার কর্মীদের জন্য ৩ বছর পর্যন্ত আবেদনে ২০ পাউন্ড এবং এর বেশি হলে ৩৮ পাউন্ড বাড়ছে। সিজনাল ওয়ার্কারদের আবেদন ফি ২১ পাউন্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে।   অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের ভেতরে দক্ষ কর্মীদের স্পন্সরশিপ ভিসার ক্ষেত্রে ৩ বছর পর্যন্ত কাজের জন্য ফি ৫৮ পাউন্ড এবং ৩ বছরের বেশি হলে ১১৪ পাউন্ড বাড়ানো হচ্ছে। ভিজিটর ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনের ফি ৭২ পাউন্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে।   এছাড়া বিমানবন্দরে ট্রানজিট ভিসা আড়াই পাউন্ড এবং স্থল সীমান্ত দিয়ে ট্রানজিট ভিসা সাড়ে ৪ পাউন্ড বাড়ানো হচ্ছে। ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথোরাইজেশন (ইটিএ) ফি ৪ পাউন্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা ফি ১৯৭ পাউন্ড বাড়ানো হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র: যুক্তরাজ্য সরাসরি হুমকির শিকার নয়, দাবি ব্রিটিশ সরকারের

ইরানের কাছে যুক্তরাজ্য লক্ষ্যবস্তু করে আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে—এমন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী-এর দাবি নাকচ করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ হাউজিং সেক্রেটারি স্টিভ রিড বলেন, ইরান যুক্তরাজ্যকে লক্ষ্যবস্তু করছে বা তাদের তা করতে সক্ষম—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে নেই।   এই মন্তব্য আসে গত শুক্রবার রাতের ঘটনায়, যখন ইরান ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ওই ঘাঁটির দূরত্ব ইরান থেকে প্রায় ৩,৮০০ কিলোমিটার।   ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে মাঝপথে পড়ে যায়, অপরটি প্রতিহত করা হয়। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্রিটিশ ভূখণ্ডের কতটা কাছাকাছি পৌঁছেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার মাধ্যমে ইরানের দূরপাল্লার সামরিক সক্ষমতার ধারাবর্ধিত প্রমাণ মিলেছে। তবুও লন্ডন বা যুক্তরাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলের উপর সরাসরি হুমকি হিসেবে এ মুহূর্তে ব্রিটিশ সরকার তা দেখছে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কি লন্ডনে পৌঁছাতে পারে? ব্রিটিশ সরকারের ভিন্নমত

ইরানের কাছে লন্ডন পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে—ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাজ্য।   ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি লন্ডনে পৌঁছাতে পারে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য তাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে দেশটির ক্যাবিনেট মন্ত্রী স্টিভ রিড বলেন, ইরান যুক্তরাজ্যকে লক্ষ্যবস্তু করছে বা তা করার সক্ষমতা রাখে—এমন সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন আমাদের কাছে নেই।   এর আগে আইডিএফ দাবি করেছিল, তেহরান-এর হাতে এমন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এদিকে সাম্প্রতিক এক ঘটনায় ইরান ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই ঘাঁটির দূরত্ব প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার।   স্টিভ রিড জানান, নিক্ষেপ করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং অন্যটি মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়। তবে এগুলো ব্রিটিশ ভূখণ্ডের কতটা কাছাকাছি পৌঁছেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ৩,৮০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানার সক্ষমতা ইরানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। তবে লন্ডন যেহেতু ইরান থেকে প্রায় ৪,৪০০ কিলোমিটার দূরে, তাই ব্রিটিশ সরকার এখনই এটিকে সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে না।   তবে ইসরায়েল বারবার সতর্ক করে বলছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ক্রমেই বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল যুক্তরাজ্য

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সম্ভাব্য ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   শুক্রবার (২০ মার্চ) অনুষ্ঠিত ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে।   তবে ডাউনিং স্ট্রিট স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাজ্য সরাসরি কোনো হামলায় অংশ নেবে না এবং তাদের নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এই অনুমতি মূলত প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার অংশ হিসেবেই দেওয়া হয়েছে।   এর আগে ব্রিটিশ স্বার্থ বা নাগরিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রকে সীমিত আকারে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করা হলো।   ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার সক্ষমতাগুলো মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে—এ বিষয়ে মন্ত্রীরা একমত হয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই ধরনের সামরিক সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে একাজোট যুক্তরাজ্য ও মিত্র দেশগুলো

উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবার কঠোর অবস্থানে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের প্রভাবশালী কয়েকটি দেশ। ইরান কর্তৃক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং তেল-গ্যাস স্থাপনায় নাশকতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান। বিবৃতিতে দেশগুলো স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল বা 'সেফ প্যাসেজ' নিশ্চিত করতে তারা যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অংশ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, তাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে এই জোট। মিত্র দেশগুলো ইরানকে অবিলম্বে ড্রোন হামলা, মাইন স্থাপন এবং মিসাইল নিক্ষেপের মতো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসাথে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮১৭ নম্বর প্রস্তাবনা মেনে চলার জন্য তেহরানের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।  বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের স্থিতিশীলতা রক্ষায় মিত্র দেশগুলোর এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
প্রবাসী ইরানিদের বিক্ষোভে উত্তাল লন্ডনের রাজপথ

লন্ডনের রাজপথ এখন ইরানি প্রবাসীদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নিজ দেশের সরকারের দমনপীড়ন এবং বিতর্কিত নীতিমালার বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠেছেন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত হাজার হাজার ইরানি। তেহরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর প্রতি তীব্র ঘৃণা ও অনাস্থা প্রকাশ করে তারা রাজপথে স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করছেন লন্ডনের আকাশ-বাতাস। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ইরানে মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানের নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রবাসীদের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এখন গণবিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ইরানি পতাকার পাশাপাশি বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন বহন করছেন, যেখানে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও বিচারের দাবি জানানো হচ্ছে। লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ার ও আশপাশের এলাকায় আয়োজিত এই সমাবেশে প্রবাসী নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করা হলেও প্রবাসীরা চুপ করে বসে থাকবে না। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন, তেহরানের একনায়কতন্ত্রের অবসান না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে। এই বিক্ষোভ কেবল প্রতিবাদ নয়, বরং একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ইরানের স্বপ্নে বিভোর লক্ষ লক্ষ মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রবাসী ইরানিদের এই ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ তেহরানের ওপর বৈশ্বিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। লন্ডনের এই আন্দোলন এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইরানি ডায়াসপোরার মাঝে এক নতুন সংহতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে পুলিশ সংস্কার ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ফ্রড সামিটের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী লর্ড হ্যানসনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।   স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের ‘এমওই৩’ কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা, কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।   বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড হ্যানসনকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ও অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্কের প্রশংসা করেন। তিনি প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। লর্ড হ্যানসনও এই অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।   ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের অব্যাহত সমর্থনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চা সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   গত সপ্তাহে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা সংস্কার, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং অপরাধ বিচার খাতে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।   বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার ও আধুনিকায়ন বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটিশ পুলিশের অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্বের উদাহরণ তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের পুলিশের কৌশলগত সংস্কার, মানবাধিকার সুরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা কামনা করেন।   এছাড়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের মানবিক সহায়তায় যুক্তরাজ্যের সক্রিয় ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।   লর্ড হ্যানসন বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতের সংস্কার পরিকল্পনা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বৈঠকে ভিয়েনায় নিযুক্ত বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে স্টারমারের পাশে আইরিশ প্রধানমন্ত্রী: ওভাল অফিসে কূটনৈতিক লড়াই

ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনার জবাবে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী (Taoiseach) মাইকেল মার্টিন।  মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক বৈঠকে ট্রাম্প যখন স্টারমারকে নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছিলেন, তখন তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন আইরিশ নেতা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে, হরমুজ প্রণালীতে মাইনসুইপার না পাঠানো বা ইরান যুদ্ধে পর্যাপ্ত সহায়তা না দিয়ে স্টারমার তাকে হতাশ করেছেন। ট্রাম্প বিদ্রূপ করে বলেন, "দুর্ভাগ্যবশত কিয়ার স্টারমার উইনস্টন চার্চিল নন। তিনি হয়তো চমৎকার একজন মানুষ, কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে তিনি ফলাফল দেখাতে পারছেন না।" এ সময় যুক্তরাজ্যের জ্বালানি ও অভিবাসন নীতি নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের সাথে সাথে দ্বিমত পোষণ করেন মাইকেল মার্টিন। তিনি স্টারমারের পক্ষ নিয়ে বলেন, "ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যকার ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে আমাদের মধ্যে অনেক সমস্যা থাকলেও আমরা তা সমাধান করেছি।"  তিনি আরও যোগ করেন, "কিয়ার স্টারমার আয়ারল্যান্ড ও ব্রিটেনের সম্পর্ক উন্নয়নে অভাবনীয় কাজ করেছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি তিনি একজন অত্যন্ত আন্তরিক ও নির্ভরযোগ্য মানুষ, যার সাথে মিলেমিশে কাজ করার সামর্থ্য আপনার (ট্রাম্পের) আছে।" মার্টিন আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাণিজ্য সংঘাতের মতো অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয়েও ইউরোপ ও আমেরিকা দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র: গোপন তথ্য ফাঁসে তোলপাড় যুক্তরাজ্যে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার নিয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাজ্য সরকার।  জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (NSC) অতি গোপনীয় আলোচনার তথ্য কীভাবে জনসমক্ষে এলো, তা খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে দেশটির 'গভর্নমেন্ট সিকিউরিটি গ্রুপ'। যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। অভিযোগ উঠেছে যে, মার্চের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন ব্রিটিশ জ্বালানি মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। মূলত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এই অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের খবরটিই ফাঁস হয়ে গেছে। এই ঘটনা ব্রিটিশ গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বলয়ে বড় ধরনের ছিদ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে ক্যাবিনেট অফিসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া চিঠির বাইরে তাদের নতুন করে বলার কিছু নেই। মার্কিন-যুক্তরাজ্য সামরিক সম্পর্ক এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই তদন্তকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের উৎসাহের সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নেওয়া উচিত ছিল: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধের বিষয়ে যুক্তরাজ্য-এর অবস্থান তাকে “খুবই বিস্মিত” করেছে। তার মতে, লন্ডনের আরও উৎসাহের সঙ্গে এই যুদ্ধে অংশ নেওয়া উচিত ছিল।   ট্রাম্প বলেন, দুই সপ্তাহ আগে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার-কে জাহাজ পাঠানোর অনুরোধ করেছিলেন। তবে স্টারমার তখন তা করতে আগ্রহ দেখাননি।   তিনি বলেন, “আমি তাকে বলেছিলাম, তোমরা আমাদের প্রাচীনতম মিত্র।” একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্যের ইউক্রেনকে সহায়তার প্রচেষ্টাকে তিনি সমর্থন করেছেন।   ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্য একটি মাইন অপসারণকারী জাহাজ পাঠাতেও রাজি ছিল না, যদিও তাদের কাছে দুটি বিমানবাহী রণতরী ছিল। তার দাবি, তিনি দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু ব্রিটিশ সরকার সে বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি।   তিনি আরও বলেন, পরে স্টারমার মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তবে তখন যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছিল।   ট্রাম্প বলেন, “আমি যুক্তরাজ্যের ভূমিকায় সন্তুষ্ট ছিলাম না। আমি মনে করি তারা হয়তো অংশ নেবে, কিন্তু তাদের আরও উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেওয়া উচিত ছিল।”   সূত্র: বিবিসি নিউজ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
একসময় ওয়াশিংটন দখল করে হোয়াইট হাউজে আগুন, আজ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সেই দেশ

আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যা সময়ের প্রবাহে একেবারে ভিন্ন রূপ ধারণ করে। তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল ১৮১৪ সালে, যখন যুদ্ধের ময়দানে মুখোমুখি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। সেই সংঘর্ষে ব্রিটিশ বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন দখল করে এবং হোয়াইট হাউজসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়।   তবে ইতিহাসের চমকপ্রদ বাস্তবতা হলো যে দেশ একসময় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে হামলা চালিয়েছিল, আজ সেই দেশই বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র।   এই ঘটনার পটভূমি ছিল ১৮১২ সালের যুদ্ধ। সমুদ্র বাণিজ্য, নৌ-আধিপত্য এবং উত্তর আমেরিকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মধ্যে উত্তেজনা থেকেই সেই সংঘাত শুরু হয়।   ১৮১৪ সালের ২৪ আগস্ট ব্রিটিশ বাহিনী ওয়াশিংটনে প্রবেশ করে এবং একাধিক সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউজ, আইনসভা ভবন ইউনাইটেড স্টেটস ক্যাপিটলসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।   ইতিহাসবিদদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা যেখানে একটি বিদেশি বাহিনী রাজধানী শহরে প্রবেশ করে সরকারি স্থাপনায় আগুন দেয়। সেই সময়ের মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেমস ম্যাডিসন ও তার প্রশাসনের সদস্যরা নিরাপত্তার কারণে রাজধানী ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।   ব্রিটিশ সেনারা প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢুকে আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে এবং পরে পুরো ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয়।   ইতিহাসবিদ নিয়ল ফারগুসন বলেন, “১৮১৪ সালে ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপমানজনক মুহূর্ত ছিল। তবে সেই সংঘাতই পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে ওঠার পথ তৈরি করে।”   অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক জোসেফ নায় মনে করেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ককে অনেক সময় ‘বিশেষ সম্পর্ক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অথচ দুই শতক আগে এই দুই দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছিল এবং ব্রিটিশ বাহিনী মার্কিন রাজধানী পুড়িয়ে দিয়েছিল।   যুদ্ধের পর ওয়াশিংটন শহর পুনর্গঠন করা হয় এবং হোয়াইট হাউজ পুনরায় নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কও বদলে যায়। বিশেষ করে বিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কূটনৈতিক অংশীদারে পরিণত হয় এবং বর্তমানে তারা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে পরিচিত।   ইতিহাস তাই মনে করিয়ে দেয় যে দেশ একসময় প্রতিপক্ষ ছিল, সময়ের প্রবাহে সেই দেশই কখনও কখনও সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা: আক্রান্ত আরও এক পণ্যবাহী জাহাজ

ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের উত্তপ্ত কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার পারদ আরও এক ধাপ বাড়ল। বুধবার সকালে তৃতীয় একটি বাল্ক ক্যারিয়ার বা পণ্যবাহী জাহাজ লক্ষ্যহীন গোলার (projectile) আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  এই নিয়ে গত কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ওই অঞ্চলে মোট তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটল। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম অথরিটি (UKMTO) জানিয়েছে, দুবাই থেকে ৫০ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থানকালে জাহাজটি একটি "অজ্ঞাত গোলার" আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে স্বস্তির খবর এই যে, জাহাজের ক্রু সদস্যরা নিরাপদ আছেন এবং সমুদ্রের পরিবেশে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় বা তেল নিঃসরণের ঘটনা ঘটেনি। এর আগে ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের কাছে আরেকটি কার্গো জাহাজে হামলার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যেখান থেকে ক্রু সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরব আমিরাত উপকূলের কাছেও আরও একটি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।  সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ওই অঞ্চলে মোট ১৩টি জাহাজে হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হলো।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১১, ২০২৬ 0
যুক্তরাজ্যের সাবেক লেবার পার্টি নেতা জেরেমি করবিন
ব্রিটেন যেন আবারও `অবৈধ যুদ্ধে’ জড়িয়ে না পড়ে, হুঁশিয়ারি জেরেমি করবিনের

লন্ডনের রাজপথে উত্তাল জনস্রোত আর প্রতিবাদের মুখে দাঁড়িয়ে যুক্তরাজ্যের সাবেক লেবার পার্টি নেতা জেরেমি করবিন ব্রিটিশ সরকারকে এক চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ব্রিটেন যেন আবারও কোনো “অবৈধ যুদ্ধে” জড়িয়ে না পড়ে। লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে সমবেত বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিবৃতিতে করবিন ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের স্মৃতি মনে করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় লাখ লাখ মানুষ যুদ্ধের বিরোধিতা করলেও তাদের কথা কর্ণপাত করা হয়নি। যার ফলশ্রুতিতে বিশ্বকে এক বিধ্বংসী পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। করবিন কঠোর সমালোচনা করে বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্য অন্ধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করে আসছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কেবল বিপর্যয়কর হস্তক্ষেপই ডেকে এনেছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা এখানে ভিন্ন কিছুর পক্ষে লড়াই করতে এসেছি—এমন এক পররাষ্ট্রনীতি যা হবে সহযোগিতা, সাম্য এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে।" মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্যমতে, এদিন অন্তত ৫,০০০ মানুষ সেন্ট্রাল লন্ডনের রাস্তায় মিছিলে অংশ নেন। তাদের দাবি একটাই—ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং বৈশ্বিক শান্তি বজায় রাখতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৭, ২০২৬ 0
ইরানি রাষ্ট্রদূত সাইয়েদ আলী মৌসাভি।
সংঘাতে না জড়াতে ব্রিটেনকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের হামলায় অংশ না নিতে যুক্তরাজ্যকে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত সাইয়েদ আলী মৌসাভি। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ব্রিটেনের যেকোনো উস্কানিমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইরান তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে দ্বিধা করবে না। সম্প্রতি ‘সানডে উইথ লরা কুইন্সবার্গ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মৌসাভি এই হুঁশিয়ারি দেন। সাক্ষাৎকারে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল— ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান যদি ইরানের ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করে, তবে সেগুলোকে ইরান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করবে কি না। এর জবাবে রাষ্ট্রদূত অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "নিজেদের রক্ষা করার ব্যাপারে আমাদের কোনো সংশয় নেই। আমরা আশা করি ব্রিটিশ সরকারসহ অন্যান্য পক্ষগুলো তাদের কর্মকাণ্ডের সংবেদনশীলতা বুঝতে পারবে এবং অত্যন্ত সতর্ক থাকবে।" সাক্ষাৎকারে মৌসাভি আরও উল্লেখ করেন যে, ব্রিটেন এখন পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো আগ্রাসনে জড়ায়নি, যা একটি ইতিবাচক দিক। তিনি মন্তব্য করেন, ব্রিটিশ সরকার সম্ভবত ইরাক যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে এবং যেকোনো অবৈধ আগ্রাসনের পরিণতি সম্পর্কে তারা অবগত।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0