যুক্তরাজ্যে খুনের শিকার ভাবা ব্যক্তি আসলে নিজের ছুরির ওপর ঘুমিয়েই মারা গেছেন
যুক্তরাজ্যে এক ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় নিজের ব্যাগে থাকা ছুরির ওপর অসাবধানতাবশত অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়ে নিজের মৃত্যুকে ডেকে এনেছেন। গত বছরের ১ আগস্ট সকালে নর্থহ্যাম্পটনের একটি খালের পাশের ফুটপাতে ৫৭ বছর বয়সী রবার্ট ব্রাউনকে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি বেঞ্চে পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এটিকে একটি হত্যাকাণ্ড বলে ধরে নিয়েছিল। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তারও করেছিল, তবে পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে তাদের কোনো দোষ না পেয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের জন্য আয়োজিত একটি আদালত শুনানিতে তদন্তকারীরা জানান, ব্রাউন আসলে মদ্যপ অবস্থায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। অসাবধানতাবশত ঘুমের ঘোরে গড়িয়ে তিনি নিজের পিঠের ব্যাগে রাখা একটি তীক্ষ্ণ ছুরির ওপর চেপে বসেন। পাঁচ ইঞ্চি লম্বা একধারের ধারালো ব্লেডটি ব্রাউনের ব্যাগ এবং তার পরিহিত কাপড়ের তিনটি স্তর ভেদ করে সরাসরি তার বাহুতে গিয়ে আঘাত করে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে এবং তিনি ঘুমন্ত অবস্থাতেই বেঞ্চের ওপর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
বিশেষজ্ঞরা আদালতে জানান, ব্রাউন দীর্ঘদিন ধরে তীব্র অ্যালকোহল বা মদ পানের সমস্যায় ভুগছিলেন। এই ধরনের আসক্তি মানুষের শরীরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত মদ পানের কারণে তিনি যখন ছুরির আঘাত পান, তখন ব্যথার অনুভূতি তীব্র থাকা সত্ত্বেও তিনি তা টের পাননি এবং গভীর ঘুম থেকে জেগে উঠতে পারেননি। ফলস্বরূপ, কোনো ধরণের প্রতিরোধ বা চিকিৎসার সুযোগ ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে রক্তক্ষরণের কারণে তার শরীর আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
ঘটনার পর নর্থহ্যাম্পটনশায়ার পুলিশ দীর্ঘ ছয় মাস ধরে একটি হত্যা মামলার তদন্ত চালিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে সব ধরণের ফরেনসিক ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে তারা নিশ্চিত হয় যে এখানে কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। তদন্তের গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করে পুলিশ প্রশাসন এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাদের হত্যা মামলার তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেয়। তারা এক বিবৃতিতে ঘোষণা করে যে, এই ক্ষতটি খুব সম্ভবত কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া সম্পূর্ণ নিজের মাধ্যমেই অনিচ্ছাকৃতভাবে তৈরি হয়েছিল।
আদালতের শুনানির পর চলতি সপ্তাহে রবার্ট ব্রাউনের এই মর্মান্তিক মৃত্যুকে একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়েছে। এই মামলার দায়িত্বে থাকা সিনিয়র করোনার অ্যান পেম্বার গত বৃহস্পতিবার পুরো ঘটনাটিকে একটি অত্যন্ত দুঃখজনক দুর্ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়নে এটি স্পষ্ট যে কোনো অপরাধমূলক চক্রের সাথে ব্রাউনের মৃত্যুর সম্পর্ক নেই। এটি কেবলই অসাবধানতা এবং অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে সৃষ্ট একটি চরম বিপর্যয়।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের সমারভিল শহরে নিজ বাসা থেকে ৪৬ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যাওয়ার পর ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমারসেট কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, নিহত নারীর নাম অ্যালিন এসপিনাল (৪৬)। তিনি সমারভিলের ব্রুকসাইড অ্যাভিনিউয়ের একটি বাসায় বসবাস করতেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার কিছু আগে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ একটি ফোন আসে। ফোনে ওই বাসায় বসবাসকারী এক নারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার ভেতরে অ্যালিন এসপিনালকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার বুক, গলা ও উরুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের স্বামী ইগনাসিও এসপিনালকে (৫৫) সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে মঙ্গলবার নিউ জার্সির ওয়েস্ট নিউ ইয়র্ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রির হত্যা, বেআইনি উদ্দেশ্যে অস্ত্র রাখার অভিযোগ এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমারসেট কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তকারীরা সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন, বিভিন্ন আলামত ও ইলেকট্রনিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছেন এবং ফরেনসিক পরীক্ষা চালিয়ে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছেন। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, তদন্ত চলমান থাকায় এ মুহূর্তে ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য বা কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। নিউ জার্সির স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সোমারসেট কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় যৌথভাবে ঘটনাটির তদন্ত করছে। সূত্র: ফক্স নিউজ
অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তার ১৫ কোটি ডলারের চুক্তি ফিরিয়ে দিল ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ আইন প্রতিষ্ঠান
ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ১০ লাখের বেশি অভিবাসীর সুরক্ষা বাতিল, অনিশ্চয়তায় লাখো মানুষের ভবিষ্যৎ
এলিজাবেথ স্ট্রিট গার্ডেনে আবাসন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারছেন না মামদানি
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) ফোর্ট হুডের কাছে বেল কাউন্টির সালাডো এলাকায় একটি খোলা মাঠে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটে দুপুরের দিকে। ফোর্ট হুড থেকে পরিচালিত হেলিকপ্টারটিতে দুইজন ক্রু ছিলেন এবং দুজনই ঘটনাস্থলে মারা যান। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। সাধারণত পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিহত সেনাদের নাম প্রকাশ করে না। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, হেলিকপ্টারটি দুর্ঘটনার সময় একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়নে ছিল। কী কারণে এটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। হেলিকপ্টারটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পর আগুন ধরে যায় এবং আশপাশের শুকনো ঘাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কাছাকাছি কয়েকটি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে হেলিকপ্টারটি কোনো বাড়ি বা স্থাপনায় আঘাত করেনি। বেল কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের মুখপাত্র ক্লিফ কোলম্যান দুর্ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ঘটনাস্থলের ছবিতে বড় একটি এলাকা পুড়ে যেতে এবং হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষের আশপাশে দমকলকর্মীদের কাজ করতে দেখা গেছে। ফোর্ট হুডের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডিং জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইথান ডিভেন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থল নিরাপদ করা এবং প্রাথমিক উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করাই তাদের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে নিহত ক্রুদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফোর্ট হুডের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন প্রাথমিক তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি, মানবিক ভুল, আবহাওয়া অথবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসেনি। এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি মার্কিন সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার। দুইজন ক্রু এটি পরিচালনা করেন। সামনের আসনে থাকেন কো-পাইলট ও গানার এবং পেছনের আসনে থাকেন পাইলট। ১৯৮৪ সাল থেকে অ্যাপাচি মার্কিন সামরিক বাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ফোর্ট হুড যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটিগুলোর একটি। প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার একরজুড়ে বিস্তৃত এই ঘাঁটি ভারী স্থলবাহিনী ও সামরিক ইউনিটের প্রশিক্ষণ ও মোতায়েনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। চলতি বছরের মার্চেও ফোর্ট হুডে আয়োজিত একটি মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও জনসম্পৃক্ততা কর্মসূচিতে এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার প্রদর্শন করা হয়েছিল। ফোর্ট হুডে এর আগেও প্রাণঘাতী সামরিক প্রশিক্ষণ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০১৫ সালের নভেম্বরে প্রশিক্ষণের সময় একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে চার সেনাসদস্য নিহত হন। পরের বছর ভারী বৃষ্টির কারণে ফুলে ওঠা একটি খালের পানিতে সামরিক যান ভেসে গেলে ফোর্ট হুডের নয় সেনা মারা যান। সাম্প্রতিক এই অ্যাপাচি দুর্ঘটনায় নিহত দুই সেনার পরিচয় এবং তারা কোন ইউনিটে কর্মরত ছিলেন, তা এখনো প্রকাশ করেনি সেনাবাহিনী। তদন্ত এগোলে হেলিকপ্টারের নির্দিষ্ট মডেল, উড্ডয়নের রুট এবং দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় শ্বাসনালিতে বমি আটকে মৃত্যুর মুখে তিন বছরের শিশু, প্রাণ বাঁচাল পুলিশ
ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেবেলো সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান শাজিয়া হক
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে সন্তানদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাক্তন প্রেমিকের গুলিতে প্রাণ দিলেন পাঁচ সন্তানের মা
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ম্যাককেসন। ১৩ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৩৬৩টি পদে কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী ম্যাককেসনের মোট ৫৩৯টি পদে নিয়োগ কার্যক্রম চলছে। বর্তমান নিয়োগে ডিস্ট্রিবিউশন অপারেশন, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসা ও কৌশল, গ্রাহকসেবা, ফার্মেসি, চিকিৎসা ও চিকিৎসা গবেষণা, অর্থ ও হিসাব এবং বিপণন ও বিক্রয়সহ বিভিন্ন বিভাগে কর্মী নেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি নিয়োগ চলছে ডিস্ট্রিবিউশন অপারেশন বিভাগে। এই বিভাগে ১১৫টি পদে কর্মী নিচ্ছে ম্যাককেসন। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিতে ৬৭টি, ব্যবসা ও কৌশলে ৩৯টি, গ্রাহকসেবা ও সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় ৩২টি, অর্থ ও হিসাব বিভাগে ৩১টি, বিপণন ও বিক্রয়ে ২২টি, ফার্মেসিতে ১৬টি এবং চিকিৎসা ও চিকিৎসা গবেষণায় ১৪টি পদে নিয়োগ চলছে। বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি আগ্রহের হতে পারে ওয়্যারহাউস ও ডিস্ট্রিবিউশন-সংক্রান্ত চাকরিগুলো। জর্জিয়ার এলাবেল ও বুফোর্ড, টেক্সাসের গ্রেপভাইন ও হিউস্টন, ক্যালিফোর্নিয়ার চিনো ও রোজভিল, ভার্জিনিয়ার ক্লিয়ার ব্রুক, নিউ জার্সির রবিনসভিল এবং মিসৌরির কানসাস সিটি ও ও’ফ্যালনসহ বিভিন্ন শহরে ওয়্যারহাউস কর্মী নিয়োগ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ডেলিভারি পেশাতেও কর্মী নিচ্ছে ম্যাককেসন। অ্যারিজোনার টলেসনে ১২ আগস্ট নতুন করে ডেলিভারি প্রফেশনাল–পার্সেল ভ্যান পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। নিউ জার্সি ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও ডেলিভারি-সংক্রান্ত পদে নিয়োগ চলছে। এসব পদের ক্ষেত্রে সাধারণত বৈধ ড্রাইভার লাইসেন্স, গ্রহণযোগ্য ড্রাইভিং রেকর্ড এবং নির্দিষ্ট শারীরিক সক্ষমতার শর্ত থাকতে পারে। অফিসভিত্তিক কাজ বা গ্রাহকসেবায় আগ্রহীদের জন্যও রয়েছে একাধিক সুযোগ। কাস্টমার সার্ভিস রিপ্রেজেন্টেটিভ, কাস্টমার অনবোর্ডিং স্পেশালিস্ট, অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার এবং গ্রাহক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পদে কর্মী নেওয়া হচ্ছে। টেক্সাসের আরভিংয়ে ১২ আগস্ট কাস্টমার অনবোর্ডিং স্পেশালিস্ট এবং ১০ আগস্ট অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার পদে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে অভিজ্ঞ বাংলাদেশিদের জন্যও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সুযোগ। সফটওয়্যার ডেভেলপার, ফুল-স্ট্যাক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ডেটা ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিক্যাল আর্কিটেক্ট এবং বিভিন্ন ডিজিটাল ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা পদে নিয়োগ দিচ্ছে ম্যাককেসন। টেক্সাসের আরভিং ও ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট একাধিক পদে কর্মী নেওয়া হচ্ছে। ফার্মেসি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতেও নিয়োগ চলছে। নিউ জার্সির ডেলরান টাউনশিপে ফার্মাসিস্ট, নর্থ ক্যারোলিনায় রিইম্বার্সমেন্ট কেস ম্যানেজার এবং বিভিন্ন স্থানে রোগী সহায়তা ও ক্লিনিক্যাল-সংক্রান্ত পদে কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে। তবে এসব চাকরির অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের পেশাগত লাইসেন্স, যুক্তরাষ্ট্রে স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রে কাজের বৈধ অনুমতি। ম্যাককেসনের সব পদে বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা স্পনসরশিপ দেওয়া হয় না। প্রতিষ্ঠানটির বেশ কিছু বর্তমান চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীকে কোম্পানির ইমিগ্রেশন স্পনসরশিপ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণকালীন কাজ করার বৈধ অনুমতি থাকার শর্ত দেওয়া হয়েছে। ফলে মার্কিন নাগরিক, গ্রিন কার্ডধারী, বৈধ ওয়ার্ক পারমিটধারী অথবা অন্য কোনো বৈধ ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি থাকা বাংলাদেশিরা যোগ্যতা অনুযায়ী এসব চাকরিতে আবেদন করতে পারেন। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি আবেদন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট পদে ভিসা স্পনসরশিপের সুযোগ রয়েছে কি না, সেটি অবশ্যই আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। ম্যাককেসনের কর্মসংস্থানের সুযোগ আগামী কয়েক বছরে আরও বাড়তে পারে। ওকলাহোমার মুর শহরে ৩ লাখ ৩০ হাজার বর্গফুটের নতুন একটি আঞ্চলিক বিতরণকেন্দ্র নির্মাণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। গত ২৪ জুন প্রকল্পটির ঘোষণা দেয় ওকলাহোমা ডিপার্টমেন্ট অব কমার্স। নতুন কেন্দ্রটিতে প্রাথমিকভাবে ২০০-এর বেশি সরাসরি চাকরি তৈরি হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হলে সরাসরি ও পরোক্ষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মিলিয়ে প্রায় ৬৩৩টি কর্মসংস্থানের প্রভাব তৈরি হতে পারে। তবে এই ৬৩৩টির সবই ম্যাককেসনের সরাসরি চাকরি নয়। চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ প্রতারণা সম্পর্কেও সতর্ক করেছে ম্যাককেসন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চাকরির আবেদন বা নিয়োগের নামে তাদের নিয়োগ কর্মকর্তারা কখনো অর্থ বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চান না। সাধারণ জিমেইল বা হটমেইল ঠিকানা কিংবা অনলাইন চ্যাটরুম ব্যবহার করেও আনুষ্ঠানিক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় না। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকা বাংলাদেশিদের জন্য ম্যাককেসনের বর্তমান নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। উচ্চ দক্ষতার প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা পদের পাশাপাশি ওয়্যারহাউস, ডেলিভারি এবং গ্রাহকসেবার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রেও চাকরি রয়েছে। তবে চাকরির তালিকা নিয়মিত পরিবর্তিত হওয়ায় আবেদন করার আগে পদের অবস্থান, যোগ্যতা, বেতন, কাজের সময়, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স এবং ইমিগ্রেশন বা ভিসা স্পনসরশিপের শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
মিফতাহ সিদ্দিকীর নিয়োগে সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে আশাবাদ জুয়েল সাদতের
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের ধরতে আইসিইর নতুন হাতিয়ার ‘ইলেকট্রিক শক’ গ্লাভস, উদ্বেগ মানবাধিকার কর্মীদের