আমেরিকা

জর্জিয়ায় বৈশাখী মেলার আয়োজন, প্রবাসে বাঙালিয়ানার মিলনমেলা ১২ এপ্রিল

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: এপ্রিল ৩, ২০২৬ ০:৪৫
ছবি: আমেরিকা বাংলা
ছবি: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব বৈশাখী মেলা। আগামী রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।

 

জানা গেছে, আটলান্টার লিলবার্ন শহরের বার্কমার হাই স্কুল প্রাঙ্গণ (৪০৫ প্লেজেন্ট হিল রোড, লিলবার্ন, জিপ-৩০০৪৭)-এ দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। মহান স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ এবং বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে এই বিশেষ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।

 

অনুষ্ঠানে থাকছে বৈশাখী মেলার বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্টল, দেশীয় খাবার, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্পসহ নানা আয়োজন। শিশু ও পরিবারদের জন্য থাকবে বিশেষ বিনোদনের ব্যবস্থা, যা পুরো অনুষ্ঠানকে করে তুলবে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।

 

এছাড়াও, আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত ও প্রবাসী শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন, নৃত্য ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করবেন।

 

আয়োজকরা জানান, প্রবাসে বসবাসরত নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

 

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার পক্ষ থেকে সকল প্রবাসী বাংলাদেশি এবং স্থানীয় কমিউনিটির সদস্যদের এ উৎসবে অংশগ্রহণ করে বাঙালিয়ানার এই মিলনমেলাকে সফল করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।


দেশ থেকে দূরে থেকেও বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আনন্দকে একসাথে ধারণ করার এই আয়োজন প্রবাসীদের হৃদয়ে নিয়ে আসবে এক টুকরো বাংলাদেশ।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি
সেন্ট্রাল পার্কে বিশ্বকাপ ফাইনাল উন্মাদনা, বিনামূল্যে খেলা দেখার সুযোগ নিউইয়র্কবাসীর

নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে বড় ধরনের গণ-প্রদর্শনীর আয়োজন ঘোষণা করেছে নিউইয়র্ক সিটি ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য প্রশাসন। আগামী ১৯ জুলাই ম্যানহাটনের সেন্ট্রাল পার্কের গ্রেট লনে অনুষ্ঠিত হবে এই আয়োজন, যেখানে প্রায় ৫০ হাজার দর্শক একসঙ্গে বিনামূল্যে ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন।   নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল, ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি আয়োজক কমিটি, গ্লোবাল সিটিজেন এবং সেন্ট্রাল পার্ক কনজারভেন্সির যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।   আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সেন্ট্রাল পার্কের উন্মুক্ত প্রান্তরে তিনটি বড় এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হবে, যেখানে হাজারো ফুটবলপ্রেমী একসঙ্গে বিশ্বকাপের ফাইনাল উপভোগ করতে পারবেন। এই প্রদর্শনীকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিনামূল্যের বিশ্বকাপ ফাইনাল ভিউয়িং ইভেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য কোনো টিকিট ফি থাকবে না। তবে দর্শকদের জন্য লটারিভিত্তিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করা হবে। আগামী ১১ জুন সকাল ১০টা থেকে নিবন্ধন শুরু হয়ে ১৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে। মোট টিকিটের ২০ শতাংশ স্থানীয় অলাভজনক সংস্থা এবং নিউইয়র্ক সিটি সার্ভিসের স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।   অনুষ্ঠানস্থলের প্রবেশদ্বার দুপুর ১২টায় খুলে দেওয়া হবে এবং বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ শুরু হবে বিকেল ৩টায়। খেলা ছাড়াও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, স্থানীয় খাবারের স্টল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি থাকবে।   এছাড়া ‘ফিফা অ্যারেনা’ নামে একটি অস্থায়ী ক্ষুদ্র ফুটবল মাঠও চালু করা হয়েছে, যা ১০ জুন থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এখানে বিনামূল্যে ফুটবল প্রশিক্ষণ, কমিউনিটি টুর্নামেন্ট এবং সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।   মেয়র মামদানি বলেন, বিশ্বকাপ শুধু উচ্চমূল্যের টিকিটধারীদের জন্য নয়, বরং পুরো শহরের মানুষের জন্য একটি উৎসব। তার ভাষায়, কর্মজীবী ও মধ্যবিত্ত নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।   গভর্নর হোকুল বলেন, বিশ্বকাপের ম্যাচ সরাসরি মাঠে বসে দেখা সবার জন্য সম্ভব নয়। তবে সেন্ট্রাল পার্কের এই আয়োজনের মাধ্যমে লাখো মানুষ একসঙ্গে ফুটবল উন্মাদনা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য সরকার ৬ মিলিয়ন ডলার এবং নিউইয়র্ক সিটি সরকার ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে।   বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে নিউইয়র্ক ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক নজর কাড়ছে। সেন্ট্রাল পার্কের এই আয়োজনকে শুধু ম্যাচ প্রদর্শনী নয়, বরং বৈচিত্র্য, সম্প্রীতি ও নগর সংস্কৃতির এক বৃহৎ জনউৎসব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ১৫:৫
ফাইল ছবি

যে স্বপ্নের টানে মানুষ ছুটে যায় আমেরিকায়, কতটা পূরণ হয় সেই স্বপ্ন?

ছবি: সংগৃহীত

এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইওর নাগরিকত্ব বাতিলে মার্কিন সরকারের মামলা

অর্থ সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি!

অর্থ সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি, ২০৩২ সালের পর পূর্ণ ভাতা অনিশ্চিত

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে রক্ষণশীল সামাজিক মূল্যবোধের পুনরুত্থান? বিয়ের বাইরে সন্তান জন্মকে গ্রহণযোগ্য মনে করছেন কম মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে নতুন এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। দেশটির গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যালাপের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, বিয়ের বাইরে সন্তান জন্ম দেওয়া, জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার এবং জুয়ার মতো কিছু বিষয়কে আগের তুলনায় কম মানুষ নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করছেন।   মঙ্গলবার প্রকাশিত গ্যালাপের জরিপ অনুযায়ী, গত এক বছরের ব্যবধানে বিয়ের বাইরে সন্তান জন্ম দেওয়াকে গ্রহণযোগ্য মনে করা মার্কিন নাগরিকের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে যেখানে ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা বিষয়টিকে গ্রহণযোগ্য বলেছিলেন, সেখানে ২০২৬ সালে সেই হার নেমে এসেছে ৫৮ শতাংশে। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের মধ্যে এ বিষয়ে জনমতের সমর্থন ৯ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক মানসিকতায় একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে উদার সামাজিক মূল্যবোধের বিস্তারের পর এখন কিছু ক্ষেত্রে আবারও রক্ষণশীল অবস্থানের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে দেশটির জনমত।   গ্যালাপ ২০০১ সাল থেকে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সামাজিক আচরণ ও নৈতিক প্রশ্ন নিয়ে জনমত জরিপ পরিচালনা করে আসছে। এবারের জরিপে ২০টি ভিন্ন আচরণ ও সামাজিক বিষয়ের নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে মতামত নেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচটি বিষয়ে গ্রহণযোগ্যতার হার গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তিনটি ক্ষেত্রে এটি জরিপের ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।   জরিপে দেখা গেছে, জন্মনিয়ন্ত্রণকে নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করেন এমন মানুষের হার ৯০ শতাংশ থেকে কমে ৮৩ শতাংশে নেমে এসেছে। গ্যালাপের দুই দশকেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে এটি সর্বনিম্ন হার।   একইভাবে জুয়াকে গ্রহণযোগ্য মনে করা মানুষের হার ৬৩ শতাংশ থেকে কমে ৫৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। প্রাণী ক্লোনিংকে গ্রহণযোগ্য মনে করেন মাত্র ২৭ শতাংশ উত্তরদাতা, যা এই বিষয়েও রেকর্ড সর্বনিম্ন।   এছাড়া কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে যৌন সম্পর্ককে গ্রহণযোগ্য মনে করার হারও কমেছে। গত বছর যেখানে ৪১ শতাংশ মানুষ এটিকে গ্রহণযোগ্য বলেছিলেন, এখন সেই হার ৩৫ শতাংশ।   জরিপে বেশ কয়েকটি আচরণকে অধিকাংশ উত্তরদাতা নৈতিকভাবে ভুল বা অগ্রহণযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, মানুষের ক্লোনিং, বহুবিবাহ, আত্মহত্যা, পর্নোগ্রাফি এবং লিঙ্গ পরিবর্তন।   অন্যদিকে কিছু বিষয় এখনও অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বিবাহবিচ্ছেদ, অবিবাহিত নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পর্ক, সমকামী সম্পর্ক, মানব ভ্রূণভিত্তিক স্টেম সেল গবেষণা, পশুর লোম থেকে তৈরি পোশাক ব্যবহার এবং মৃত্যুদণ্ড।   গর্ভপাত, প্রাণীর ওপর চিকিৎসাবিষয়ক পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসান সংক্রান্ত বিষয়ে জনমত তুলনামূলকভাবে বিভক্ত রয়েছে বলে জরিপে দেখা গেছে।   জরিপটি রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতেও বড় ধরনের পার্থক্য তুলে ধরেছে। ডেমোক্র্যাট সমর্থকরা অধিকাংশ সামাজিক আচরণকে রিপাবলিকানদের তুলনায় বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করেন। উদাহরণ হিসেবে, গর্ভপাত এবং লিঙ্গ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন রিপাবলিকানদের তুলনায় অনেক বেশি।   তবে মৃত্যুদণ্ড, পশুর লোমের পোশাক ব্যবহার এবং প্রাণীর ওপর চিকিৎসা পরীক্ষা চালানোর বিষয়ে রিপাবলিকানদের সমর্থন তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে।   গ্যালাপের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক মেগান ব্রেনান সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে বলেন, বিয়ের বাইরে সন্তান জন্ম এবং জন্মনিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়ে জনমতের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে মূলত রাজনৈতিকভাবে নির্দলীয় বা স্বাধীন ভোটারদের মধ্যে।   তার মতে, এই ফলাফল হয়তো দীর্ঘদিনের উদার সামাজিক প্রবণতা থেকে একটি “দোলকের বিপরীত দিকে যাত্রা” নির্দেশ করছে। আবার এটিও হতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে আরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সূচনা হচ্ছে।   সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় চর্চা, বিশেষ করে তরুণ পুরুষদের মধ্যে ধর্মীয় আগ্রহ বৃদ্ধির বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা প্রকাশ্যে খ্রিস্টীয় মূল্যবোধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ সুবিধার সহজলভ্যতা নিয়ে বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এ প্রেক্ষাপটে গ্যালাপের জরিপের ফলাফল দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।   পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরের জরিপগুলোই স্পষ্ট করবে এটি সাময়িক পরিবর্তন, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক মূল্যবোধে আরও স্থায়ী রূপান্তরের সূচনা।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২২:১৬
ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসন দমন ও সীমান্ত নিরাপত্তায় ৭০ বিলিয়ন ডলারের বিল পাস, ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায়

কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিলেন এপস্টেইনের সাবেক সহকারী (ছবি: সংগৃহীত)

কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিলেন এপস্টেইনের সাবেক সহকারী, ট্রাম্প-এপস্টেইন যোগাযোগ নিয়ে নতুন তথ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে তিন শিশুকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মা গ্রেপ্তার, তদন্তে উঠে এলো নতুন তথ্য

নিউইয়র্কে আইস এর বড় অভিযান চালানোর হুমকি! ছবি: (সংগৃহীত)
নিউইয়র্কে আইস এর বড় অভিযান চালানোর হুমকি, ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি এজেন্ট পাঠানো হবে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থা আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট)-এর ব্যাপক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্তবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা টম হোম্যান। তিনি বলেছেন, নিউইয়র্ক সিটিতে এমন সংখ্যক আইসিই এজেন্ট মোতায়েন করা হবে যা এর আগে কখনও দেখা যায়নি।   সোমবার ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হোম্যান এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হখুল সম্প্রতি যে অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনগত পরিবর্তন অনুমোদন করেছেন, তার প্রতিক্রিয়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।   হোম্যানের ভাষায়, “আমি গভর্নরকে আগেই বলেছিলাম, নিউইয়র্ক সিটিতে আপনি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আইস দেখতে পাবেন। পরিকল্পনা প্রস্তুত হচ্ছে। ঠিক কবে তা হবে, এখনই বলছি না, তবে এটি আসছে।”   তার এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো যখন নিউইয়র্ক সিটি এনবিএ ফাইনালস ও আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।   গত মাসে গভর্নর ক্যাথি হখুল অভিবাসন-সংক্রান্ত একগুচ্ছ নতুন বিধান অনুমোদন করেন। এসব বিধানের মাধ্যমে স্থানীয় পুলিশ ও সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের সহযোগিতার সুযোগ আরও সীমিত করা হয়েছে।   নতুন ব্যবস্থায় কোনো ফেডারেল কর্মকর্তা নাগরিক বা অভিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার বা পুলিশ বিভাগকে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি করতে নিষেধ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে স্থানীয় কর্মকর্তারা ফেডারেল অভিবাসন সংস্থার পক্ষে অভিবাসন আইন প্রয়োগে অংশ নেন।   এছাড়া আদালতের অনুমোদিত পরোয়ানা ছাড়া কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পত্তিতে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের প্রবেশের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগের সময় মুখ ঢেকে রাখার বিষয়েও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।   তবে অঙ্গরাজ্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, কোনো অভিবাসী ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজা ভোগ শেষ করলে তাকে আটক করার ক্ষেত্রে ফেডারেল সংস্থাগুলো এখনও আইনগত সুযোগ পাবে।   নিউইয়র্ক সিটির ডেমোক্র্যাট মেয়র জোহরান মামদানি হোম্যানের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমরা আইসিই বা অন্য কাউকে আমাদের কমিউনিটিতে ভয় ছড়াতে দেব না। বিশেষ করে এমন একটি সময়ে, যখন পুরো বিশ্বের মানুষ আমাদের শহরে আসছে।”   উগান্ডায় জন্ম নেওয়া এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে আসা মামদানি বলেন, অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া ও সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্বকাপের মতো বড় আয়োজনও তাদের অবদানের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।   অন্যদিকে গভর্নর হখুলও ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে বলেছিলেন, কোনো অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় প্রশাসন সাহায্য না চাইলে সেখানে জোরপূর্বক অভিবাসন অভিযান বাড়ানো হবে না। কিন্তু বর্তমান হুমকি সেই অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   হখুল বলেন, “আমাদের স্থানীয় পুলিশকে স্থানীয় অপরাধ দমনে মনোযোগী থাকতে হবে। স্কুল, বাড়ি বা কর্মস্থল থেকে মানুষ ধরে এনে কারাগার ভরাট করার কাজে আমরা সহযোগিতা করব না। তবে অপরাধীদের ব্যাপারে আমরা সব সময় সহযোগিতা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।”   তিনি আরও সতর্ক করেন, বড় ধরনের আইসিই অভিযান নিউইয়র্কের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং রাজনৈতিকভাবেও এর প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে।   নিউইয়র্ক সিটির মতো কিছু এলাকায় আগেই ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সহযোগিতার ওপর সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে নতুন আইন কার্যকর হলে লং আইল্যান্ডের নাসাউ কাউন্টির মতো এলাকাগুলোও প্রভাবিত হবে। নাসাউ কাউন্টি গত বছর আইসিইর সঙ্গে একটি সহযোগিতা চুক্তি করেছিল।   গত কয়েক বছর ধরেই নিউইয়র্কে আইসিইর কার্যক্রম বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিবাসন আদালতের ভেতরে অভিযান চালানো, আটক ব্যক্তিদের অস্থায়ী আটককেন্দ্রে রাখার পরিবেশ এবং বিভিন্ন অভিযানের ধরন নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।   ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন মূলত ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন শহরে ব্যাপক অভিবাসন অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বর্ণগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের আটক এবং পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তারের অভিযোগ ওঠে। যদিও সংশ্লিষ্ট ফেডারেল সংস্থাগুলো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।   এখন নিউইয়র্কে নতুন করে বড় ধরনের আইসিই অভিযান চালানোর সম্ভাবনা ঘিরে ফেডারেল সরকার ও অঙ্গরাজ্য প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। অভিবাসন নীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ শহরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২১:২১
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

লং আইল্যান্ডে ইতিহাস, ভ্যালিডিক্টোরিয়ান ও স্যালুট্যাটোরিয়ান হয়ে আইভি লিগে দুই যমজ ভাই

ছবিঃ নিউজ মিয়ামি

এফবিআইয়ের শীর্ষ প্রতারকের তালিকায় ফ্লোরিডার নারী, হাতিয়েছেন ৩২ মিলিয়ন ডলার

ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউইয়র্কে দাগি অবৈধ অভিবাসীদের তালিকা প্রকাশ, গভর্নর ও মেয়রকে দুষছে আইস

0 Comments