জর্জিয়া

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বহনকারী স্কুলবাসে অশালীন আচরণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন স্টিভেন এডওয়ার্ড উইলকিন্স। ছবি: সংগৃহীত
স্কুলবাসে অশালীন আচরণের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক বাসচালকের ২০ বছরের সাজা

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গুইনেট কাউন্টিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি স্কুলবাসে অশালীন যৌন আচরণের অভিযোগে সাবেক এক বাসচালককে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে পাঁচ বছর তাকে কারাগারে কাটাতে হবে। পাশাপাশি তাকে আজীবনের জন্য শিশু-যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকতে হবে এবং কোনো অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না।   গুইনেট কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম স্টিভেন এডওয়ার্ড উইলকিন্স (৬৭)। তিনি ২০২৩ সালে গুইনেট কাউন্টির একটি স্কুল জেলায় বাসচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।   আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চারটি ভিন্ন দিনে সুওয়ানি এলিমেন্টারি স্কুল-এর বাস লেনে অপেক্ষা করার সময় বাসের ভেতরে তিনি অশালীন যৌন আচরণ করেন। প্রতিটি ঘটনায় বাসে অন্তত একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।   বিচার চলাকালে প্রসিকিউশন আদালতে বাসের নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিও উপস্থাপন করে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিভিন্ন দিনে তিনি দুই মিনিট থেকে প্রায় ২০ মিনিট পর্যন্ত ওই অশালীন আচরণে লিপ্ত ছিলেন।   ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন এক অভিভাবক নিজের সন্তানকে স্কুলবাসে তুলে দেওয়ার সময় চালকের সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। এরপর তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের ভিত্তিতে স্টিভেন উইলকিন্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ গঠনের পরই তাকে স্কুল জেলা থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বিচার শেষে আদালত তাকে শিশু শ্লীলতাহানির ছয়টি অভিযোগ এবং প্রকাশ্যে অশালীন আচরণের চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে চার দিনের ঘটনায় মোট কতজন শিক্ষার্থী তার আচরণের মুখোমুখি হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। একইভাবে কারাদণ্ডের পর অবশিষ্ট ১৫ বছরের প্রবেশনের বিস্তারিত শর্তও প্রকাশ করা হয়নি।   গুইনেট কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি প্যাটসি অস্টিন-গ্যাটসন এক বিবৃতিতে বলেন, অভিযুক্তের আচরণ "একেবারেই জঘন্য এবং অগ্রহণযোগ্য।" তিনি বলেন, "আমরা সব ধরনের ভুক্তভোগীর সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, বিশেষ করে যারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। আগামী ২০ বছর এই আসামির ওপর কঠোর নজরদারি থাকবে এবং তাকে সারাজীবন তার কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে।"   আদালতের রায় অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কারাভোগের পর উইলকিন্সকে প্রবেশনের আওতায় থাকতে হবে। এছাড়া আজীবনের জন্য শিশু-যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হবে এবং তিনি কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না।   সূত্র: গুইনেট কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
জর্জিয়ায় মধ্যবিত্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পরিবারগুলোর বার্ষিক আয় সর্বনিম্ন ৫৩,৩২৭ ডলার প্রয়োজন। ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় কত টাকা আয় করলে নিজেকে মধ্যবিত্ত বলা যাবে? প্রকাশ হলো নতুন হিসাব

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে একজন পরিবারকে মধ্যবিত্ত হিসেবে বিবেচিত হতে বছরে কমপক্ষে ৫৩ হাজার ৩২৭ ডলার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৮২ ডলার আয় করতে হবে। আর রাজ্যটির মধ্যম পারিবারিক আয় ধরা হয়েছে ৭৯ হাজার ৯৯১ ডলার। নতুন এক বিশ্লেষণে এ তথ্য প্রকাশ করেছে আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান স্মার্টঅ্যাসেট।   সাভানাহ মর্নিং নিউজের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং দেশের ১০০টি বৃহত্তম শহরের আয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের এক বছরের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যবিত্তের সংজ্ঞা নির্ধারণে পিউ রিসার্চ সেন্টারের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্জিয়ার রাজধানী আটলান্টায় মধ্যবিত্ত হিসেবে বিবেচিত হতে বার্ষিক আয় হতে হবে অন্তত ৫৮ হাজার ৭৭৭ ডলার। এই শহরে মধ্যবিত্ত আয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৩০ ডলার এবং মধ্যম পারিবারিক আয় ৮৮ হাজার ১৬৫ ডলার।   বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, মধ্যবিত্ত হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি আয়ের প্রয়োজন ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে। সেখানে বছরে অন্তত প্রায় ৬৯ হাজার ৮৮৫ ডলার আয় করতে হয়। অন্যদিকে সবচেয়ে কম আয়ের প্রয়োজন মিসিসিপিতে, যেখানে মধ্যবিত্তের সর্বনিম্ন সীমা ৪০ হাজার ডলারের কিছু বেশি।   স্মার্টঅ্যাসেট জানিয়েছে, মধ্যবিত্ত আয়ের সীমা নির্ধারণে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের মধ্যম পারিবারিক আয়কে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। সেই মধ্যম আয়ের দুই-তৃতীয়াংশ থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত আয়কে মধ্যবিত্ত শ্রেণির পরিসর হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: জর্জিয়ার কামিংয়ে মুসলিম কমিউনিটির জন্য ৭.৫ একর জমিতে নতুন মসজিদের উদ্যোগ।
তিন জামাতেও হচ্ছে না জায়গা, জর্জিয়ার কামিংয়ে নতুন মসজিদের জমি কিনতে ২.৯ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহে কর্তৃপক্ষ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের কামিং শহরে দ্রুত বর্ধনশীল মুসলিম কমিউনিটির চাহিদা পূরণে নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য ৭ দশমিক ৫ একর জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে মাসজিদ আল রহমান (Cumming Community Center)। জমিটি কিনতে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে ২ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যে তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।   মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জমি বিক্রির জন্য মালিকের সঙ্গে চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে প্রকল্পটি ডিউ ডিলিজেন্স পর্যায়ে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ সংগ্রহ করা গেলে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর নতুন মসজিদ ও কমিউনিটি ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।   বর্তমানে কামিংয়ের পিচট্রি পার্কওয়েতে অবস্থিত মাসজিদ আল রহমান উত্তর জর্জিয়ার অন্যতম ব্যস্ত ইসলামিক সেন্টার। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা, ইসলামিক শিক্ষা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হলেও গত কয়েক বছরে মুসল্লির সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে বিদ্যমান অবকাঠামো আর চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।   বিশেষ করে কামিং, আলফারেটা, জনস ক্রিক, সুয়ানি ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিম পরিবারের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তর আটলান্টার এই অঞ্চলটি তথ্যপ্রযুক্তি ও করপোরেট খাতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের কেন্দ্র হওয়ায় দেশ-বিদেশের অনেক পেশাজীবী পরিবার এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে। ফলে স্থানীয় মসজিদগুলোতেও মুসল্লির সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।   মসজিদ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান মসজিদে জুমার দিন মুসল্লিদের চাপ সামাল দিতে তিনটি পৃথক জামাত আয়োজন করতে হয়। এরপরও অনেক মুসল্লিকে জায়গার সংকটে পড়তে হয়। রমজান, ঈদ এবং বিভিন্ন কমিউনিটি আয়োজনেও একই ধরনের স্থান সংকট দেখা দেয়।   এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান মসজিদ থেকে প্রায় ৪০০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত ৭ দশমিক ৫ একর জমি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের মতে, ভবিষ্যতে উত্তর জর্জিয়ার মুসলিম কমিউনিটির চাহিদা পূরণে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার কার্যত কোনো বিকল্প নেই।   পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন ক্যাম্পাসে একটি বৃহৎ মসজিদ, ৩০০টির বেশি পার্কিং সুবিধা, একটি বহুমুখী কমিউনিটি ভবন এবং বর্তমান স্থানে ইসলামিক স্কুল প্রতিষ্ঠা বা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বহুমুখী ভবনটি জুমার অতিরিক্ত জামাত, ঈদের নামাজ, বড় কমিউনিটি সমাবেশ, ক্রীড়া কার্যক্রম এবং অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করা হবে।   তহবিল সংগ্রহ অভিযানে বিভিন্ন পর্যায়ে অনুদান দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। কেউ ১০০ ডলারে প্রতীকী একটি ইট, এক হাজার ডলারে একটি মুসাল্লা বা নামাজের স্থান, ৬ হাজার ডলারে একটি পার্কিং স্পেস এবং ২৫ হাজার ডলারে একটি শ্রেণিকক্ষের ব্যয় বহনে অংশ নিতে পারবেন।   মসজিদ কর্তৃপক্ষ মুসলিম কমিউনিটির সদস্যদের এই উদ্যোগকে সদাকায়ে জারিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতদের মধ্যেও এই উদ্যোগের কথা ছড়িয়ে দিয়ে জমি অধিগ্রহণের তহবিল সংগ্রহে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।   মাসজিদ আল রহমান পরিচালনাকারী কামিং কমিউনিটি সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত ৫০১(সি)(৩) অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে দেওয়া অনুদান যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত কর আইনের আওতায় কর-ছাড়ের জন্য যোগ্য।   নতুন মসজিদ প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য, মাস্টারপ্ল্যান, অগ্রগতির সর্বশেষ অবস্থা এবং অনলাইনে অনুদান দেওয়ার সুবিধা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন: https://cummingcommunitycenter.com/

নুরুল্লাহ সাইদ জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মেইসভিল শহরের ডাউনটাউন ইটস রেস্টুরেন্ট থেকে বিনামূল্যে অসহায়দের ঘরে তৈরি খাবার পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিদিন রান্না হয়, কিন্তু সব খাবারের দাম নেন না—কেন!

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের মেইসভিল শহরের বাসিন্দা লিন্ডসে পেইন নিজের রেস্টুরেন্ট ও ক্যাটারিং ব্যবসার মাধ্যমে প্রতিদিন মানুষের আনন্দঘন মুহূর্তকে স্মরণীয় করে তুলছেন। তবে তার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই খাবারগুলো, যেগুলোর জন্য তিনি কখনো কোনো অর্থ নেন না। সমাজের অসহায় ও প্রয়োজনমতো মানুষের জন্য তিনি বছরের পর বছর ধরে বিনামূল্যে ঘরে তৈরি খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন।   লিন্ডসে পেইন ‘ডাউনটাউন ইটস’ নামে একটি রেস্টুরেন্ট এবং ‘এলিট ইটস ক্যাটারিং’ নামে একটি ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। বিয়ে, জন্মদিনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য প্রতিদিন খাবার প্রস্তুত করলেও, তার মানবিক উদ্যোগ ‘এভরিওয়ান ইটস’ (Everyone Eats) কর্মসূচিই তাকে আলাদাভাবে পরিচিত করেছে।   এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি আর্থিক সংকটে থাকা পরিবার, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ এবং যাদের রান্না করার সামর্থ্য বা সুযোগ নেই—তাদের জন্য নিয়মিত বিনামূল্যে ঘরে তৈরি খাবারের ব্যবস্থা করেন। অনেক ক্ষেত্রেই কোনো প্রচার ছাড়াই নীরবে মানুষের পাশে দাঁড়ান তিনি।   রেস্টুরেন্ট খোলার আগে লিন্ডসে পেইন দীর্ঘদিন হসপিস কেয়ার কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে থাকা রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেন, অনেক মানুষের জন্য একবেলা পুষ্টিকর খাবারও বড় একটি সহায়তা হতে পারে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই পরে ‘এভরিওয়ান ইটস’ উদ্যোগের সূচনা করেন।   স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, লিন্ডসের এই উদ্যোগ শুধু ক্ষুধা মেটায় না, বরং কঠিন সময়ে মানুষের পাশে থাকার একটি শক্তিশালী বার্তাও দেয়। তার বিশ্বাস, একটি উষ্ণ খাবার কখনো কখনো মানুষের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে পারে।   মানবিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে লিন্ডসে পেইন দেখিয়ে দিয়েছেন, একটি ছোট রেস্টুরেন্টও চাইলে ব্যবসার পাশাপাশি সমাজের মানুষের জন্য বড় পরিবর্তনের অংশ হতে পারে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
নিহত গুগল কর্মকর্তা শীতল রজেসিয়েন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গুগলের শীর্ষ ভারতীয় নারী কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করলেন স্বামী, ছেলেও হাসপাতালে

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে পারিবারিক সহিংসতার এক মর্মান্তিক ঘটনায় গুগলের একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ২৩ বছর বয়সী ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর নিহতের স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ৮টার কিছু আগে জর্জিয়ার স্মার্না শহরের একটি বাড়িতে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সেখানে বাড়ির ভেতর থেকে ৫৭ বছর বয়সী শীতল রজেসিয়েনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই সময় বাড়ির বাইরে থেকে দম্পতির ২৩ বছর বয়সী ছেলে জেসন রজেসিয়েনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি।   এ ঘটনায় শীতলের স্বামী ৫৬ বছর বয়সী কার্ক বি. রজেসিয়েনকে পারিবারিক বাসভবন থেকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তাকে বর্তমানে কব কাউন্টি আটক কেন্দ্রে জামিন ছাড়াই রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কার্কের বিরুদ্ধে হত্যা, মারাত্মক হামলা এবং অপরাধ সংঘটনের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এই পারিবারিক সহিংসতার পেছনের কারণ বা কী পরিস্থিতিতে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   নিহত শীতল রজেসিয়েন প্রযুক্তি খাতে সুপরিচিত একজন পেশাজীবী ছিলেন। তিনি গুগলে ইঞ্জিনিয়ারিং নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রযুক্তি শিল্পে কাজ করেছেন। গুগলে যোগ দেওয়ার আগে তিনি হোম ডিপট ডটকমে মোবাইল ও ডিজিটাল রূপান্তর বিভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া আবহাওয়া প্রযুক্তি ও আর্থিক প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ই-কমার্স, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং ওয়েব প্রযুক্তিতে তার বিশেষ দক্ষতা ছিল। তিনি দুটি সফটওয়্যার পেটেন্টেরও উদ্ভাবক ছিলেন।   পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি জর্জিয়ার আটলান্টা এলাকায় বসবাস করতেন। তার পরিবারে স্বামী, ছেলে জেসন এবং মেয়ে জেসিকা রয়েছেন। এই ঘটনার পর প্রযুক্তি অঙ্গন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শীতলের পেশাগত অবদান এবং ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে শোক প্রকাশ করেছেন।   এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে রাজি নয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।   সূত্র: এনডিটিভি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
বাড়ি কেনায় প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্মগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আইন, বাড়ি কেনায় প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্মগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যসহ পুরো দেশজুড়ে আবাসন খাতে কর্পোরেট মালিকানা হ্রাসের লক্ষ্যে সিনেটর রাফায়েল ওয়ারনকের একটি উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে ফেডারেল আইনে পরিণত হয়েছে। গত শনিবার ওয়ারনক ঘোষণা করেন, বৃহৎ প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্মগুলোর একক পরিবারের ব্যবহারের উপযোগী বা 'সিঙ্গেল-ফ্যামিলি' বাড়ি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞার এই বিধানটি কার্যকর হয়েছে।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর ছাড়াই বৃহত্তর দ্বিদলীয় এই আবাসন প্যাকেজটি আইনে পরিণত হয়। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসের অধিবেশন চলাকালে কংগ্রেস কর্তৃক পাস হওয়া কোনো বিলে প্রেসিডেন্ট নির্ধারিত ১০ দিনের মধ্যে স্বাক্ষর বা ভেটো প্রদান না করলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনে পরিণত হয়।   নতুন এই আইনটি '২১স্ট সেঞ্চুরি রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট'-এর অন্তর্ভুক্ত, যা বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ফেডারেল আবাসন সংস্কার প্যাকেজ বলে মনে করছেন আইনপ্রণেতারা। এই আইনে আবাসনের সরবরাহ বৃদ্ধি, মূল্যায়ন বা অ্যাপ্রাইজাল প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন, গ্রামীণ আবাসন কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং আরও বেশি বাড়ি নির্মাণে স্থানীয় সরকারগুলোকে উৎসাহিত করার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   এক বিবৃতিতে ওয়ারনক বলেন, সাশ্রয়ী আবাসনের সংকটের সমাধানে জর্জিয়াবাসী দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করে আসছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতির বদলে যখন সাধারণ মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তখনই এ ধরনের ভালো ও জনবান্ধব আইন প্রণয়ন করা সম্ভব।   জর্জিয়ার আবাসন বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে বাড়তে থাকা উদ্বেগের পটভূমিতেই নতুন এই আইনটি পাস হলো। সিবিএস নিউজ আটলান্টার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেট্রো আটলান্টার প্রতি চারটি ভাড়া দেওয়া সিঙ্গেল-ফ্যামিলি বাড়ির মধ্যে অন্তত একটির মালিকানা বৃহৎ কর্পোরেট বিনিয়োগকারীদের হাতে। সংখ্যায় যা ৭২ হাজারের বেশি বাড়ি।   এর ফলে এই অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানার আধিক্য দেখা যায়। আবাসন অধিকারকর্মীরা দাবি করে আসছিলেন যে, নগদ অর্থের জোরে এসব কোম্পানি সাধারণ পরিবারগুলোকে পেছনে ফেলে বাড়ি কিনে নেয়, যা প্রথমবার ক্রেতাদের জন্য সুযোগ কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বাড়ি ও ভাড়ার দাম বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে। এই প্রবণতা তুলে ধরে ওয়ারনক বারবার বলেছেন, কর্পোরেট বিনিয়োগকারীরা বাড়িগুলোকে মানুষের বসবাসের জায়গার বদলে কেবল একটি আর্থিক সম্পদ হিসেবেই বিবেচনা করে আসছেন।   প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্মগুলোর ভবিষ্যতের বাড়ি ক্রয়ের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি এই আবাসন প্যাকেজে স্থানীয় সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বাড়ি নির্মাণে উৎসাহিত করার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া নিয়ন্ত্রক বাধা কমানো, বাড়ি মেরামত ও আবহাওয়া-উপযোগী করার জন্য অনুদান এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন ফেডারেল আবাসন কর্মসূচির সংস্কারের বিষয়গুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   এই আইনে ওয়ারনকের 'অ্যাপ্রাইজাল মডার্নাইজেশন অ্যাক্ট'-ও সংযুক্ত করা হয়েছে, যা বাড়ির মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। মেট্রো আটলান্টায় ক্রমবর্ধমান দাম ও আবাসনের অপর্যাপ্ততার কারণে সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি কেনা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে জর্জিয়ার আবাসন বাজারে দীর্ঘমেয়াদে এই আইনের প্রভাব কী হবে, তা এখনো দেখার বিষয়।   তবে দেশজুড়ে সিঙ্গেল-ফ্যামিলি বাড়ির বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রভাব মোকাবিলায় এটি বিগত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ একটি ফেডারেল উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
মুনা জর্জিয়া পিকনিকের ভেন্যু পরিবর্তন
মুনা জর্জিয়া পিকনিকের ভেন্যু পরিবর্তন, ১১ জুলাই নতুন স্থানে অনুষ্ঠিত হবে দিনব্যাপী আয়োজন

আবাসন সংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু সমস্যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য MUNA (Muslim Ummah of North America) Georgia Picnic 2026-এর ভেন্যু পরিবর্তন করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্বনির্ধারিত স্থানের পরিবর্তে আগামী শনিবার, ১১ জুলাই, পিকনিকটি অনুষ্ঠিত হবে জর্জিয়ার অ্যাকওয়ার্থ শহরের রেড টপ মাউন্টেন স্টেট পার্কে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের নতুন ভেন্যুর তথ্য সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, পিকনিকটি ১১ জুলাই (শনিবার) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা (ইস্টার্ন টাইম) পর্যন্ত চলবে। নতুন ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে Red Top Mountain State Park-এর Group Shelter #2, যার ঠিকানা 50 Lodge Rd SE, Acworth, Georgia 30102।   প্রতিবছরের মতো এবারও পরিবারকেন্দ্রিক এই আয়োজনে বিভিন্ন ধরনের খাবার, বিনোদনমূলক কার্যক্রম এবং ইসলামী পরিবেশে মিলনমেলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খাবারের তালিকায় রয়েছে চিকেন বারবিকিউ, বিফ বিরিয়ানি, চিকেন বিরিয়ানি, আইসক্রিম, তাজা তরমুজসহ আরও বিভিন্ন পদ।   আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, শিশু ও বড়দের জন্য থাকবে মজাদার খেলাধুলার আয়োজন এবং ইসলামী জ্ঞানভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা। এছাড়া ইসলামী শালীনতা বজায় রাখতে ভাই ও বোনদের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক ও আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।   রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে একক অংশগ্রহণকারীর জন্য ২০ ডলার এবং সর্বোচ্চ চার সদস্যের পরিবারের জন্য ৪০ ডলার। চারজনের বেশি সদস্য হলে অতিরিক্ত প্রতিজনের জন্য ১০ ডলার করে দিতে হবে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে পার্কে প্রবেশের জন্য ১০ ডলারের পার্কিং ফি পার্ক কর্তৃপক্ষকে আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হবে।   নিবন্ধন ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য আয়োজকদের প্রকাশিত ফ্লায়ারের কিউআর কোড ব্যবহার করতে অথবা আয়োজকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। যোগাযোগের জন্য আব্দুল্লাহ মামুন (৪০৪-৭০৪-৭৭৫৩), সাজিদ শোভন (৫৭০-৪১৭-৪৮৪৩) এবং রেজাউল করিমের (৪০৪-৪৫২-৮৩২২) নম্বর দেওয়া হয়েছে।   মুনা উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত মুসলিমদের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী করতে নিয়মিত বিভিন্ন শিক্ষা, দাওয়াহ ও কমিউনিটিভিত্তিক কার্যক্রম আয়োজন করে থাকে। জর্জিয়ার এই বার্ষিক পিকনিকও সেই ধারাবাহিকতার অংশ, যেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে একসঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি পারস্পরিক পরিচয়, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের সুযোগ তৈরি হয়।   আয়োজকরা সবাইকে নতুন ভেন্যুর তথ্য নিশ্চিত করে পরিবারসহ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং স্থান পরিবর্তনের বিষয়টি পরিচিতদের জানিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন, যাতে কেউ পূর্বনির্ধারিত স্থানে চলে না যান।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
আটলান্টার একটি অনুষ্ঠানে আলিসিয়া ব্রাউন ও বিগ টিগার। ছবি: প্রিন্স উইলিয়ামস/ওয়্যারইমেজ
আমেরিকায় সন্তান অপহরণ মামলায় রেডিও তারকা বিগ টিগারের স্ত্রী গ্রেফতার

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের হার্ট কাউন্টিতে আটলান্টার জনপ্রিয় রেডিও ব্যক্তিত্ব বিগ টিগারের স্ত্রী অ্যালিসিয়া ডেনিস ব্রাউনকে (৩৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২০১৯ সালে ম্যারিল্যান্ড থেকে নিখোঁজ হওয়া ১০ বছর বয়সী এক শিশুর অপহরণ মামলার ওয়ারেন্ট বা পরোয়ানা থাকায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।   হার্ট কাউন্টির শেরিফ অফিস জানিয়েছে, গত সোমবার রাতে পুলিশ একটি জরুরি সতর্কবার্তা পায় যে, আই-৮৫ মহাসড়ক দিয়ে এক সন্দেহভাজন নারী গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন। পরে পুলিশ ও জর্জিয়া স্টেট পেট্রোল যৌথ অভিযান চালিয়ে গাড়িটি থামায় এবং অ্যালিসিয়াকে কোনো রকম প্রতিরোধ ছাড়াই আটক করে। এ সময় তাঁর গাড়ির ভেতর থেকে অক্ষত অবস্থায় দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়।   ম্যারিল্যান্ডের বাল্টিমোর কাউন্টি পুলিশ ব্রাউনের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ওই শিশু নিখোঁজের মামলায় পরোয়ানা জারি করেছিল। এছাড়া ফুলটন কাউন্টি শেরিফ অফিসও তাঁর বিরুদ্ধে শিশুর হেফাজত বা কাস্টডি নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে আরেকটি পরোয়ানা জারি করে রেখেছে। ম্যারিল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, তারা ব্রাউনকে নিজেদের রাজ্যে ফিরিয়ে নিয়ে বিচারের মুখোমুখি করবে।   স্ত্রীর এই গ্রেফতারের ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগেই তাঁর স্বামী ও রেডিও তারকা বিগ টিগার (যার আসল নাম ড্যারিয়ান মরগান) পারিবারিক আইনি জটিলতার কারণে তাঁর জনপ্রিয় রেডিও শো থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে নিজের কোনো অপরাধের কথা অস্বীকার করেছেন।   পারিবারিক এই ঝামেলা এখানেই শেষ নয়; বিগ টিগারের রেডিও সহ-উপস্থাপক ফ্রান্সেসকা অ্যামিকার গত ৩০ জুন অ্যালিসিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির একটি ফেডারেল মামলা দায়ের করেন। অ্যামিকারের দাবি, অ্যালিসিয়া সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে বিগ টিগারের সাথে অবৈধ সম্পর্কের মিথ্যা রটনা রটিয়েছেন। এর পাশাপাশি, গত ২০ জুন বিগ টিগারকেও মারামারি ও শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগে স্যান্ডি স্প্রিংস পুলিশ গ্রেফতার করেছিল, তবে পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। বর্তমানে পুরো পরিবারটি এক বিশাল আইনি গ্যাঁড়াকলে পড়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
নাগরিকদের তথ্য ঘেঁটে গ্রেপ্তার ৫ পুলিশ কর্মকর্তা I ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ার আলবেনিতে ব্যক্তিগত স্বার্থে নাগরিকদের তথ্য ঘেঁটে গ্রেপ্তার ৫ পুলিশ কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আলবেনি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের পাঁচজন সাবেক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, আইন প্রয়োগের কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ব্যক্তিগত কাজে ‘ফ্লক সেফটি’ লাইসেন্স প্লেট রিডার সিস্টেমের ডেটায় অবৈধভাবে প্রবেশ করেছিলেন তারা। এর জেরে তাদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স প্লেট ডেটার অপব্যবহার এবং শপথ ভঙ্গের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।   জর্জিয়া ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (জিবিআই) জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— টিয়ানা ডেভিস (২৭), জেড জ্যাকসন (৩২), নিকোলাস রিচার্ডসন (৩০), ব্রিটনি স্মিথ (২৩) এবং আইজ্যাক হোয়াইটাস (২৪)। আলবেনি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট গত ২৫ জুন জিবিআইকে ওই কর্মকর্তাদের ‘ফ্লক সিস্টেম’ ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানায়। এরপর পুলিশের এক অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় ধরা পড়ে, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা আইনগত কারণ ছাড়াই একাধিকবার লাইসেন্স প্লেটের সংরক্ষিত ডেটায় প্রবেশ করেছিলেন।   গত ৬ জুলাই ওই পাঁচ সাবেক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে ডগহার্টি কাউন্টি জেলে পাঠানো হয়। জিবিআই নিশ্চিত করেছে যে, গ্রেপ্তারকৃতরা আর আলবেনি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে কর্মরত নেই। তদন্তটি এখনো চলমান রয়েছে এবং জিবিআই সাধারণ মানুষের কাছে এই বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে তা সিলভেস্টারে অবস্থিত তাদের আঞ্চলিক তদন্ত কার্যালয়ে জানানোর আহ্বান করেছে। তদন্ত পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর পর্যালোচনার জন্য মামলাটি ডগহার্টি জুডিশিয়াল সার্কিটের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হবে।   এদিকে, প্রযুক্তির এমন অপব্যবহারের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। সম্প্রতি উত্তর জর্জিয়ার চেরোকি কাউন্টিতেও তিন ডেপুটি কর্মকর্তাকে স্বয়ংক্রিয় লাইসেন্স প্লেট রিডার ডেটাবেসের অপব্যবহারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ‘দ্য মার্শাল প্রজেক্ট’-এর এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, লাইসেন্স প্লেট রিডার সিস্টেমের এ ধরনের অপব্যবহার সাধারণত কোনো আইনি তদন্তের উদ্দেশ্যে নয়, বরং ব্যক্তিগত কারণেই বেশি হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই প্রযুক্তির সাহায্যে বর্তমান বা প্রাক্তন প্রেমিক-প্রেমিকা, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনদের তথ্য খোঁজার অভিযোগ উঠেছে, যার সঙ্গে অপরাধ তদন্তের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই।   প্রকাশনাটি আরও উল্লেখ করেছে, লাইসেন্স প্লেট রিডার সিস্টেমগুলো ক্রমশ অত্যাধুনিক হচ্ছে এবং একাধিক অঞ্চলের তথ্য খোঁজার সুযোগ তৈরি হওয়ায় এর অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়ছে। ফ্লক সেফটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, অপব্যবহারের ঘটনা তাদের মোট সার্চের খুব সামান্য একটি অংশ মাত্র এবং অডিট লগের মাধ্যমে অবৈধ প্রবেশ খুব সহজেই শনাক্ত করা যায়। তবে গোপনীয়তা অধিকারকর্মীদের মতে, এ ধরনের অপরাধ প্রমাণ করে যে প্রযুক্তিটি কেবল আইনি কাজেই সীমাবদ্ধ রাখতে পুলিশি ব্যবস্থাগুলোতে আরও কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীবৃন্দের একাংশ। আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জর্জিয়ায় গাজী ফাউন্ডেশনের বিশেষ বারবিকিউ পার্টি

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে বিশেষ বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করেছে গাজী ফাউন্ডেশন। আজ রবিবার (৫ জুলাই) স্থানীয় লাকি সোলস পার্কে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিভিন্ন বয়সী প্রবাসী বাংলাদেশিরা পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।   অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য মৌসুমি ফলমূল ও চিকেন বারবিকিউসহ বিভিন্ন আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে উপস্থিত অতিথিরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং প্রবাসে সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।   আয়োজকরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পাশাপাশি প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও শক্তিশালী করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাদের মতে, এ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রবাসীরা বলেন, কর্মব্যস্ত জীবনের বাইরে এ ধরনের মিলনমেলা পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করে এবং প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন গড়ে তুলতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের আনন্দ একসঙ্গে উদযাপনের সুযোগ পেয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।   অনুষ্ঠান শেষে গাজী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দিদারুল আলম গাজী উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি ভবিষ্যতেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্প্রীতি, ঐক্য ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: আমেরিকা বাংলা
জর্জিয়ায় স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে রেকর্ডসংখ্যক ১৭০ মদ্যপ চালক আটক

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর (ডিইউআই) অপরাধে ১৭০ জন চালককে গ্রেপ্তার করেছে স্টেট ট্রুপাররা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর দায়ে গ্রেপ্তারকৃত চালকের এই সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ছুটির এই আনন্দঘন সময়ে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও ব্যাপক অভিযানের মাঝেই বিপুলসংখ্যক গ্রেপ্তারের এই ঘটনা ঘটে।   ব্যাপক ধরপাকড় সত্ত্বেও স্বাধীনতা দিবসের উৎসবমুখর এই দিনে জর্জিয়ার সড়কগুলোতে প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়নি। স্টেট ট্রুপাররা ওই দিন অন্তত চারটি মারাত্মক ও প্রাণঘাতী গাড়ি দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এছাড়া রাজ্যব্যাপী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর দেওয়া সম্মিলিত তথ্যমতে, ৪ জুলাইয়ের ছুটিতে পুরো জর্জিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বমোট ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। ছুটির দিনে বেপরোয়া ও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণেই মূলত এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত আটলান্টার মহাসড়কে ভারী যানজট এবং শহরের আকাশচুম্বী ভবনের পটভূমিতে ধারণ করা একটি ছবি বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেছে। ছবিটি ছুটির দিনে মহাসড়কে ভ্রমণের তীব্র ঝুঁকি এবং মদ্যপ চালকদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের একটি স্পষ্ট চিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। উৎসবের দিনগুলোতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের পাশাপাশি চালকদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ মার্কিন প্রশাসনের সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ বিল কমাতে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রা বাড়িয়ে রাখার পরামর্শ ‘জর্জিয়া পাওয়ার’-এর | ছবি: সিবিএস নিউজ
গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে বিদ্যুৎ বিল কমাতে হিমশিম খাচ্ছেন জর্জিয়ার বাড়িওয়ালারা

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল ও জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানা উপায় খুঁজছেন স্থানীয় বাড়িওয়ালারা। বিশেষ করে নতুন ও প্রথমবার যারা বাড়ি কিনেছেন, তীব্র গরমের এই মরসুমে ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান খরচের লাগাম টানা তাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   ক্যারিমাহ কলিন্স নামের এক নতুন বাড়িওয়ালা জানান, খরচ বাঁচানোর জন্য তিনি রিয়েল এস্টেট এজেন্টের সহায়তায় বিশেষভাবে সাশ্রয়ী ও আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি একটি টাউনহোম বেছে নিয়েছেন। ভালো ইনসুলেশন বা তাপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকায় এই ধরণের বাড়িগুলো বেশ সাশ্রয়ী হয়। তবে গ্রীষ্মের মাসগুলোতে বাড়ির দোতলার অংশটি তুলনামূলক বেশি গরম হয়ে যায়। তাই ঘর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি কীভাবে সূর্যের তাপ আটকে খরচ কমানো যায়, সেই কৌশলগুলোই এখন রপ্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি।   গ্রাহকদের সচেতন করতে 'জর্জিয়া পাওয়ার' নামের একটি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র ম্যাথিউ কেন্ট জানান, গ্রীষ্মের বিদ্যুৎ বিলের প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশই খরচ হয় এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ব্যবহারের কারণে। তাই ঘর থেকে বাইরে যাওয়ার সময় থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রা বাড়িয়ে রাখা খরচ কমানোর সবচেয়ে বড় উপায়। তাপমাত্রা মাত্র ১ ডিগ্রি বাড়ালেই বিদ্যুৎ বিলের ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব। এছাড়া রাতে বড় বড় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চালানো, জানালা ও দরজার ফাঁকফোকর বন্ধ করা এবং দিনের বেলা জানালার পর্দা টেনে রাখার মতো পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।   অন্যদিকে, 'ইন্টিগ্রিটি এয়ার অ্যান্ড হোম ইন্সপেকশন'-এর মালিক মেলভিন রবিনসন জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি, যন্ত্রাংশের ঘাটতি এবং ট্যারিফ বা শুল্ক বৃদ্ধির কারণে এসি বা হিটিং সার্ভিসের খরচ ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে ছোট ছোট সার্ভিসিং কোম্পানিগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে বড় বড় কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হচ্ছে, যার ফলে সেবা মূল্য দ্বিগুণ বা তিনগুণ পর্যন্ত বাড়ছে। তীব্র গরমে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ বিল বাড়ছে, অন্যদিকে এসি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মধ্যবিত্তের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শেরিফ কেন হেনডারসন | ছবি: টাউনস কাউন্টি শেরিফ অফিস
ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে বরখাস্ত হলেন মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তা হ্যান্ডারসন

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের টাউন্স কাউন্টির শেরিফ কেনেথ হ্যান্ডারসনকে তার পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা পেশাগত অসদাচরণ ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার ঠিক এক দিন পরই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান কেম্প গত শনি ও রোববার পর পর দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে শেরিফ হ্যান্ডারসনকে বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত জানান।   গভর্নরের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার শেরিফ হ্যান্ডারসনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রশাসনের নজরে আসে। এরপরই শনিবার প্রথম নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে গভর্নর কেম্প একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এই কমিটিতে জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কারসহ দুজন অভিজ্ঞ কাউন্টি শেরিফকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   তদন্ত কমিটি গঠনের মাত্র এক দিন পরই রোববার গভর্নর দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশটি জারি করেন। তদন্ত কমিটির প্রাথমিক সুপারিশের ভিত্তিতেই শেরিফ কেনেথ হ্যান্ডারসনকে বরখাস্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। আইন অনুযায়ী তাকে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে, যা প্রয়োজনে আরও ৩০ দিন বাড়ানো হতে পারে।   উল্লেখ্য, শেরিফ হ্যান্ডারসনের বিরুদ্ধে আইনি জটিলতা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৫ সালেও তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বেআইনিভাবে আটকে রাখা, শারীরিক নির্যাতন এবং পদের শপথ ভঙ্গের মতো গুরুতর অপরাধে আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে গভর্নর কেম্প জানিয়েছেন, এবারের নতুন অভিযোগগুলো আগের অপরাধের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির।   জর্জিয়ার স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, শেরিফ হ্যান্ডারসনের বরখাস্তের মেয়াদ চলাকালীন কাউন্টির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের এই তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই হ্যান্ডারসনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি বা স্থায়ী শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তাবাস্সুম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
স্কুল-পার্কের শৌচাগারেও নিরাপদ নয় শিশুরা! গোপনে ভিডিও ধারণ করে বানানো হতো শিশু পর্নোগ্রাফি

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে শিশু পর্নোগ্রাফির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করার পর সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সন্ধান করছে দ্য ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) আটলান্টা ফিল্ড অফিস। তদন্তকারী কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে জর্জিয়ার একাধিক কাউন্টিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেদের লক্ষ্য করে গোপনে ভিডিও ধারণ করতেন।   এফবিআইয়ের তথ্যমতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন পার্ক, মুদি দোকান এবং উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাথলেটিক মাঠের সাধারণ শৌচাগারে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে কর্তৃপক্ষ এখনও অভিযুক্তের নাম বা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত কারণ জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি পেশায় একজন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার, যিনি গোপনে এসব অশ্লীল ভিডিও ধারণের সাথে যুক্ত ছিলেন।   তদন্তকারী কর্মকর্তারা জর্জিয়ার পাঁচটি নির্দিষ্ট স্থানের কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে এসব আপত্তিকর ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে লরেন্সভিলের মাউন্টেন ভিউ হাই স্কুল (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে ২০ মার্চ ২০২৬), ড্যাকুলার র‍্যাবিট হিল পার্ক (২১ মে এবং ১৭ অক্টোবর ২০২৫), ওয়াটকিনসভিলের বাটলারস ক্রসিং পাবলিক্স গ্রোসারি স্টোর (৪ আগস্ট ২০২৫ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), হোশটনের মিল ক্রিক হাই স্কুল (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এবং জেফারসনের ওল্ড পেন্ডারগ্রাস রোডের ক্রোগার স্টোর (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫)।   এই ভয়ানক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এফবিআই সাধারণ মানুষের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি বা তার সন্তান এই অপরাধীর দ্বারা সম্ভাব্য হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন বা তদন্তে সহায়ক কোনো তথ্য দিতে পারেন, তবে তাদের অবিলম্বে সংস্থাটির নির্ধারিত একটি অনলাইন ফর্ম পূরণ করতে বলা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাটি দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করেছে যে, সকল ভুক্তভোগীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সিবিএস
জর্জিয়ায় কোটি টাকার জমি মাত্র ১ ডলারে বিক্রি করে বড় জালিয়াতি

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এক বিশাল জালিয়াতি ও প্রতারণার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আবাসন ব্যবসায়ী জোসেফ ড্যানিয়েল অভিযোগ করেছেন যে দীর্ঘ এক বছর অক্লান্ত পরিশ্রমের পর তার অংশীদার তাকে না জানিয়ে প্রকল্পের মূল জমিটি মাত্র ১ ডলারে একটি অলাভজনক সংস্থায় হস্তান্তর করেছে। এই প্রতারণার বিরুদ্ধে তিনি ইতিমধ্যে চ্যাটুগা কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে একটি জালিয়াতি ও দেওয়ানি ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করেছেন।   মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জোসেফ ড্যানিয়েল এবং টিমোথি ল্যাম নামক এক ব্যবসায়ী জর্জিয়ার লিটল স্যান্ড মাউন্টেনের ৭৩৬ একর জমির ওপর ১৭১টি বাড়ির একটি আধুনিক আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার চুক্তি করেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী ড্যানিয়েল এই প্রকল্পের অর্ধেক মালিকানা, ভবিষ্যতের আয়ের অর্ধেক অংশ এবং প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলারের বিদেশী বিনিয়োগ তহবিল গঠনের বিনিময়ে একটি বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৩ মাস নকশা ও বাজেট তৈরির পর তিনি জানতে পারেন যে জমিটি গোপনে হস্তান্তর করা হয়েছে।   বাদীপক্ষের আইনজীবী ক্রিস টিমনস জানিয়েছেন যে জর্জিয়ার চ্যাটুগা কাউন্টির জমির রেকর্ড পর্যালোচনা করে তারা এই প্রতারণার বিষয়টি ধরতে পেরেছেন। নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে ক্রিশ্চিয়ান ঝেং শেং অ্যাসোসিয়েশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে নিউ ডে হরাইজনস গ্রুপ নামের অন্য একটি সংস্থায় এই বহু মিলিয়ন ডলার মূল্যের জমিটি মাত্র ১ ডলারে স্থানান্তর করা হয়। আইনজীবী বলেন যে কোনো বৈধ ব্যবসায় কোটি টাকার সম্পত্তি এভাবে ১ ডলারে বিক্রি করা হতে পারে না, যা সরাসরি বড় জালিয়াতির প্রমাণ দেয়।   তদন্তে আরও দেখা গেছে যে জমিটি যে সংস্থায় স্থানান্তর করা হয়েছে সেটির নির্বাহী পরিচালক এমিলি ফু নামের এক স্থানীয় রিয়েল এস্টেট ব্রোকার, যিনি পূর্বে অন্য একটি জালিয়াতি মামলায় আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। এছাড়া ক্রিশ্চিয়ান ঝেং শেং অ্যাসোসিয়েশনের মূল প্রতিষ্ঠাতা জ্যাকব ল্যাম বর্তমানে হংকং পুলিশের অন্য একটি ফৌজদারি অপরাধের তদন্তে ওয়ান্টেড বা পলাতক আসামি হিসেবে চিহ্নিত। এই সমস্ত বিষয় পুরো প্রকল্পটির পেছনে একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের উপস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।   মামলার আবেদনে ড্যানিয়েল তার পূর্বের চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পের ৫০ শতাংশ মালিকানা, পাওনা পারিশ্রমিক এবং জালিয়াতির কারণে হওয়া আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। মামলার অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে তারা পূর্বের সই করা চুক্তিপত্র এবং ১ ডলারের জমি স্থানান্তরের দলিলটি আদালতের সামনে উপস্থাপন করেছেন। তবে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত কোনো পক্ষই আদালতে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো জবাব দাখিল করেনি এবং মামলার মূল অভিযুক্তরা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

তাবাস্সুম জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
৩০ বছর পর ভাঙল নীরবতা: গির্জার ছাদে পাদ্রি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে তিন দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা এক আলোচিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। ১৯৯৬ সালে একটি গির্জার ছাদে কাজ করার সময় গুলিতে নিহত এক পাদ্রির হত্যার ঘটনায়, বর্তমানে অন্য একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগরত এক বন্দির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।   জর্জিয়া ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (জিবিআই) জানিয়েছে, ১৯৯৬ সালের ১ জুন জেফ ডেভিস কাউন্টির স্নাইপসভিল এলাকার ফুল গসপেল চার্চের ছাদে ৫৪ বছর বয়সী পাদ্রি জেমস হ্যান্ডকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি সেদিন গির্জার ছাদ মেরামতের কাজ করছিলেন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে সে সময় তদন্ত চালিয়েও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং মামলাটি দীর্ঘদিন ‘কোল্ড কেস’ হিসেবে রয়ে যায়।   দীর্ঘ ৩০ বছর পর নতুন তথ্য-প্রমাণ এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে ৪৭ বছর বয়সী জাকারি বি. হার্পারের বিরুদ্ধে ফেলনি মার্ডার ও ম্যালিস মার্ডার-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। জিবিআই জানিয়েছে, হার্পার বর্তমানে জেনকিন্স কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে অন্য একটি হত্যা মামলায় দেওয়া যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন।   তদন্তকারীদের ভাষ্য, নতুন সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং পুনঃতদন্তের মাধ্যমে মামলাটিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। এর ফলে প্রায় তিন দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা এই হত্যাকাণ্ডে বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   জিবিআই আরও জানিয়েছে, তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। তদন্ত সম্পন্ন হলে মামলার নথি ব্রান্সউইক জুডিশিয়াল সার্কিট ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।   যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা অপরাধের ঘটনাগুলোকে ‘কোল্ড কেস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তি, নতুন সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং পুনঃতদন্তের মাধ্যমে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন বহু পুরোনো মামলার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। জর্জিয়ার এই ঘটনাটিও সেই ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: গেটি ইমেজেস
মেডিকেইড জালিয়াতিতে ৪৩ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মার্কিন ডাক্তার গ্রেফতার

আমেরিকার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ‘মেডিকেইড’ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জালিয়াতি ও আত্মসাতের অভিযোগে একজন নামকরা চিকিৎসককে অভিযুক্ত করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫২ বছর বয়সী ওই চিকিৎসকের নাম মুরেল কার্নেল রুটলেজ জুনিয়র, যিনি ইস্ট পয়েন্টের ‘রুটলেজ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েটস’-এর স্বত্বাধিকারী। তাঁর বিরুদ্ধে রোগীদের কোনো চিকিৎসা সেবা না দিয়েই ভুয়া বিল জমা দিয়ে জর্জিয়া মেডিকেইড থেকে প্রায় ৪৩ লাখ মার্কিন ডলার আত্মসাতের চেষ্টা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।   আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্র এবং প্রমাণাদি থেকে জানা গেছে, ডাক্তার রুটলেজ ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের মার্চ মাসের মধ্যে ১১ হাজার ৩০০টিরও বেশি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রতারণামূলক বিল জমা দিয়েছিলেন। এসব দাবিকৃত বিলের সিংহভাগই ছিল রোগীদের মুখোমুখি বসে দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক থেরাপি বা সাইকোথেরাপি দেওয়ার ভুয়া বিবরণী। এ ছাড়া সিস্ট অপসারণ, বিশেষ অ্যালার্জি পরীক্ষা এবং ক্ষতস্থানের চিকিৎসার মতো জটিল কিছু জরুরি স্বাস্থ্যসেবা তিনি রোগীদের কখনোই দেননি, অথচ সরকারি তহবিল থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে জর্জিয়া মেডিকেইডের কাছে নিয়মিত ভুয়া বিল পেশ করেছিলেন।   প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ডাক্তার রুটলেজ জর্জিয়া মেডিকেইডের কাছে মোট ৪৩ লাখ ডলারের ভুয়া দাবি সাবমিট করে ইতিমধ্যেই ২৬ লাখ ডলার সরকারি তহবিল থেকে অবৈধভাবে তুলে নিয়েছেন। এই বিশাল অর্থনৈতিক জালিয়াতির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণার মোট ৪০টি পৃথক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার এই বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, যারা সরকারি মেডিকেইড কর্মসূচি থেকে অর্থ চুরি করবে, তাদের প্রত্যেককে আইনের মুখোমুখি হতে হবে এবং চুরির সমস্ত টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করা হবে।   মার্কিন আইন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আনা বড় ধরনের অভিযোগটি মূলত মার্কিন বিচার বিভাগের ২০২৬ সালের ‘ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার ফ্রড টেকডাউন’ বা জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি বিরোধী অভিযানের একটি অংশ। দেশজুড়ে চালানো এই বিশাল ক্র্যাকডাউন বা চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৪৫৫ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এই দেশব্যাপী অভিযানে অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে ৯০ জনই হলেন লাইসেন্সধারী ডাক্তার এবং উচ্চ পদমর্যাদার অন্যান্য চিকিৎসা পেশাজীবী।   এই একই তদন্তের অংশ হিসেবে লোনি রেলেফোর্ড নামের ৫৭ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তিকে আটক করেছে জর্জিয়ার প্রসিকিউটররা। তাঁর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা এবং জালিয়াতির একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ওই ব্যক্তি কোনো ধরনের নার্সিং ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা ছাড়াই নিজের অপরাধের সমস্ত ইতিহাস সম্পূর্ণ গোপন করে জর্জিয়ায় নার্স হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করছিলেন। অবৈধভাবে কাজ করার লক্ষ্যে তিনি ভুয়া নথিপত্র জমা দিয়ে এবং একজন আসল রেজিস্টার্ড নার্সের পরিচয় বা আইডি চুরি করে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে বড় ধরনের জালিয়াতি এবং পরিচয় চুরির পুরোনো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   সরকারি অর্থ ও ট্যাক্সদাতাদের ডলার সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও ফেডারেল অংশীদাররা একযোগে কাজ করছে। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার আরও জানান, এই দেশব্যাপী জালিয়াতি বিরোধী প্রচেষ্টা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। তাঁরা প্রতিটি সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির শতভাগ সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। চিকিৎসা খাতের এই বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।   সূত্র: সিবিএস নিউজ

তাবাস্সুম জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
৪০ লাখ ডলারের মেডিক্যাইড জালিয়াতি l ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় ৪০ লাখ ডলারের মেডিক্যাইড জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত আটলান্টার চিকিৎসক

যুক্তরাষ্ট্রের দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি বিরোধী এক বিশাল অভিযানের অংশ হিসেবে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে নতুন করে মেডিক্যাইড প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। মঙ্গলবার জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার আটলান্টার এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ গঠন এবং একটি সাইকিয়াট্রিক ক্লিনিকের সঙ্গে আলাদা দেওয়ানি নিষ্পত্তির কথা ঘোষণা করেন।   এই পদক্ষেপটি মার্কিন বিচার বিভাগের 'ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার ফ্রড টেকডাউন'-এর অংশ। দেশজুড়ে পরিচালিত এই অভিযানে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন (৬৫০ কোটি) ডলারের ভুয়া বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে বহু চিকিৎসক ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত চিকিৎসা পেশাদার রয়েছেন।   এই জালিয়াতির অন্যতম বড় ঘটনায় আটলান্টার ৫২ বছর বয়সী চিকিৎসক মুরেল রুটলেজ জুনিয়রের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা প্রতারণার ৪০টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ইস্ট পয়েন্ট এলাকায় 'রুটলেজ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েটস' নামের একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন তিনি। ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে রোগীদের এমন সব চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নামে জর্জিয়া মেডিক্যাইডের কাছে হাজার হাজার বিল জমা দিয়েছেন, যা বাস্তবে কখনোই দেওয়া হয়নি। তদন্তকারীদের মতে, ক্ষতস্থান পরিচর্যা, অ্যালার্জি পরীক্ষা এবং সাইকোথেরাপির মতো সেবার কথা বলে ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি ভুয়া বিল করা হয়েছে।   এর মাধ্যমে তিনি অবৈধভাবে মেডিক্যাইড থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের মেডিক্যাইড ফ্রড অ্যান্ড পেশেন্ট প্রোটেকশন ডিভিশনসহ একাধিক ফেডারেল ও স্টেট সংস্থা যৌথভাবে এই তদন্ত পরিচালনা করে। তবে আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত রুটলেজকে নির্দোষ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।   অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় 'অ্যাভ্যান্ট ইন্টারভেনশনাল সাইকিয়াট্রি' এবং ড. ওকাহ অ্যানিওকউ-এর সঙ্গে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের একটি দেওয়ানি নিষ্পত্তি বা সেটেলমেন্টের ঘোষণাও দিয়েছে। রাজ্য তদন্তকারীদের অভিযোগ, ড. অ্যানিওকউ নিজে সেবা দিয়েছেন দেখিয়ে মেডিক্যাইডের কাছে বিল জমা দেওয়া হলেও, বাস্তবে কিছু সেবা অন্যান্য কর্মীদের দ্বারা প্রদান করা হয়েছিল।   এসব কর্মীদের অনেকেরই মেডিক্যাইড প্রোভাইডার হিসেবে লাইসেন্স বা অন্তর্ভুক্তি ছিল না। যদিও এই নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি কোনো দায় স্বীকার করেনি, তবে একজন সাধারণ নাগরিক এবং জর্জিয়ার একটি কেয়ার ম্যানেজমেন্ট সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়।   জর্জিয়ার এই ঘটনাগুলো দেশজুড়ে চলা এ বছরের সর্ববৃহৎ সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি বিরোধী অভিযানের অংশ। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের মতে, এই প্রতারণা চক্রগুলো অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা, বেআইনি কমিশন এবং ভুয়া বিলের মাধ্যমে করদাতাদের অর্থে পরিচালিত মেডিকেয়ার ও মেডিক্যাইড কর্মসূচির ব্যাপক ক্ষতি করেছে। টেক্সাসে প্রায় ৯০৬ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি এবং মানব টিস্যু গ্রাফট সংক্রান্ত আরেকটি মাল্টিবিলিয়ন ডলারের প্রতারণার ঘটনাও এই অভিযানের মাধ্যমে সামনে এসেছে।   ২০০৭ সালে মার্কিন বিচার বিভাগের 'হেলথ কেয়ার ফ্রড স্ট্রাইক ফোর্স' গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ২০০ জনেরও বেশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল জমার মামলা হয়েছে। জর্জিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেডিক্যাইডের অর্থ সুরক্ষিত রাখা তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এবং এই খাতে দুর্নীতি রোধে তাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় ছয় শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে শিক্ষিকা গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের এক বিজ্ঞান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ছয়জন কিশোর শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি আদালতের নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, ম্যারিস নিকোলস নামের ওই শিক্ষিকার একটি গোপন 'ওনলিফ্যানস' (OnlyFans) অ্যাকাউন্ট ছিল। আর এই বিষয়টি জেনে যাওয়ার পর পরীক্ষায় ভালো গ্রেড পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা তাকে রীতিমতো ব্ল্যাকমেইল করত।   ডগলাস কাউন্টি শেরিফ অফিস এই ঘটনার তদন্তে নেমে ইতোমধ্যে স্ন্যাপচ্যাট, ওনলিফ্যানস, এটিঅ্যান্ডটি (AT&T) এবং একাধিক শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে এক ডজনেরও বেশি পরোয়ানা জারি করেছে।   ২৫ বছর বয়সি এই শিক্ষিকা জর্জিয়ার আলেকজান্ডার হাইস্কুলে বিজ্ঞান পড়াতেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তল্লাশি পরোয়ানায় এই মামলার বেশ কিছু আপত্তিকর ও রুদ্ধশ্বাস বিবরণ প্রকাশ পেয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই শিক্ষিকা গায়ে 'জিসাস লাভস ইউ' লেখা একটি সোয়েটার পরিহিত অবস্থায় এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হয়েছেন।   এছাড়া ক্লাসরুমের আলমারি বা ক্লোজেট, একটি পার্ক করা হামার গাড়ি এবং গলফ কোর্সে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি শিক্ষার্থীদের কাছে আপত্তিকর ছবি পাঠানো এবং তাদের সঙ্গে ‘সেক্সটিং’ বা বার্তা আদান-প্রদানের প্রমাণও পেয়েছেন তদন্তকারীরা।   ক্লাসরুমের ক্লোজেট ও হামার গাড়িতে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে ম্যারিস নিকোলসকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এর ঠিক দুই সপ্তাহ পর আরও পাঁচ শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌনতা, প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা এবং শিশুদের প্রলোভন দেখানোর মতো ১১টি অতিরিক্ত অভিযোগে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।   প্রথমবার গ্রেপ্তারের ঠিক আগে তিনি এক শিক্ষার্থীকে তাদের কথোপকথনের সমস্ত ডিজিটাল রেকর্ড মুছে ফেলার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিলেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। বর্তমানে তদন্তকারী কর্মকর্তারা গলফ কোর্সের সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিশেষ করে দুজন শিক্ষার্থীর আঙুলের ছাপ ও জেনেটিক উপাদান সংগ্রহ করে মামলার তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছেন।   উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শিক্ষিকা ম্যারিস নিকোলস লিবার্টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। এটি একটি স্বনামধন্য বেসরকারি ইভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিষ্টান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে বিয়ের আগে যেকোনো ধরনের শারীরিক বা যৌন সম্পর্ক স্থাপনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর নীতি মেনে চলা হয়। এমন একটি কট্টর নীতিমালার প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা শেষ করে তার এই ধরনের গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় সরাসরি এফবিআই অফিসে গিয়ে গোয়েন্দাগিরি শিখল শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের একদল হাই স্কুল শিক্ষার্থীর জন্য ক্লাসরুমের সাধারণ একটি দিন মুহূর্তেই রূপ নিল অপরাধ তদন্তের এক রোমাঞ্চকর বাস্তব অভিজ্ঞতায়। ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর বার্ষিক 'টিন একাডেমি'র অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা এই অনন্য সুযোগ লাভ করে। বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস আটলান্টার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, জর্জিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা এফবিআই-এর আটলান্টা ফিল্ড অফিস পরিদর্শন করে। সেখানে তারা গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, অপরাধের আলামত সংগ্রহসহ এফবিআই-এর বিভিন্ন পেশা ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করে। পরবর্তীতে তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি তাদেরকে কৃত্রিম অপরাধের দৃশ্যপট বা মক ইনভেস্টিগেশন সিনারিওতে যুক্ত করে বাস্তব তদন্তের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।   আরবিয়া মাউন্টেন হাই স্কুলের সদ্য স্নাতক পাস করা শিক্ষার্থী ড্যানিয়েল ভিল জানান, এই অভিজ্ঞতা তার সামনে এমন কিছু ক্যারিয়ারের সুযোগ উন্মোচন করেছে যা তিনি আগে কখনো ভাবেননি। তিনি বলেন, "আমি মিডিয়া ও ফিল্মিংয়ের প্রতি খুব আগ্রহী এবং আজ বুঝতে পারলাম যে এফবিআই-তেও এই লাইনে কাজ করার চমৎকার সুযোগ রয়েছে।" ড্যানিয়েল আগামী শরতে জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ক্রিমিনাল জাস্টিস এবং ফিল্ম বিষয়ে উচ্চশিক্ষা শুরু করতে যাচ্ছেন। একজন কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ হিসেবে এফবিআই-এর মতো জায়গায় এমন সুযোগ পেয়ে তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   টিফ কাউন্টি হাই স্কুলের আরেক মেধাবী শিক্ষার্থী গ্রেটা কোয়ার্সি জানান, ফরেনসিক ক্লাসের প্রতি আগ্রহই তাকে অপরাধের দৃশ্যপট তদন্তের (ক্রাইম সিন ইনভেস্টিগেশন) দিকে টেনে এনেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর এই যুগে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে দূরদর্শী গ্রেটা বলেন, "এআই-এর যেভাবে উত্থান হচ্ছে, তাতে আমি এমন একটি পেশা বেছে নিতে চেয়েছিলাম যেখানে আমাকে অন্য কিছু দিয়ে প্রতিস্থাপন করা যাবে না। এআই কখনো মানুষকে মানসিক স্বস্তি বা নিরাপত্তা দিতে পারে না, যা একজন মানুষ পারে।"   এফবিআই-এর কমিউনিটি আউটরিচ স্পেশালিস্ট ক্রিশ্চিয়ান ফোরম্যান বলেন, অনেক শিক্ষার্থীই মনে করে এফবিআই মানেই শুধু স্পেশাল এজেন্টদের দল। কিন্তু এই একাডেমির মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যুরোর মূল লক্ষ্যকে সচল রাখতে পর্দার আড়ালে যে আরও অসংখ্য পেশাদার মানুষ কাজ করে, সেই বিশাল কর্মক্ষেত্রের সাথে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া।   এফবিআই প্রতি বছরই এই টিন একাডেমির আয়োজন করে থাকে। এর মাধ্যমে জর্জিয়ার হাই স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের এফবিআই-এর ভেতরের কর্মপরিবেশ কাছ থেকে দেখার এবং দেশের সুরক্ষায় বিভিন্ন আকর্ষণীয় পেশা বেছে নেওয়ার পথ তৈরি হয়।

তাবাস্সুম জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের মিশ্র চিত্র জর্জিয়া নির্বাচনে, রিপাবলিকান রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান প্রাইমারি রানঅফ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থী রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন জয় করলেও একই সময়ে রাজ্যের অন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ট্রাম্প ও গভর্নর ব্রায়ান কেম্প সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য ও ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   নির্বাচনে কংগ্রেস সদস্য মাইক কলিন্স ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে আগামী নভেম্বরে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে, গভর্নর নির্বাচনে ট্রাম্প ও কেম্প উভয়ের সমর্থন থাকা প্রার্থী জনসন পরাজিত হয়েছেন স্ব-অর্থায়িত ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসনের কাছে।   জর্জিয়ার রিপাবলিকান প্রাইমারি রানঅফ মূলত ট্রাম্প ও গভর্নর ব্রায়ান কেম্পের রাজনৈতিক প্রভাবের একটি অঘোষিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেম্প সমর্থন দিয়েছিলেন সাবেক ফুটবল কোচ ডেরেক ডুলিকে, যিনি তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থি অবস্থান থেকে প্রচারণা চালান।   অন্যদিকে, ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে মাইক কলিন্সকে সমর্থন দেন। কলিন্স নিজেকে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা MAGA আন্দোলনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করেন। ট্রাম্প এক ফোনালাপে বলেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে জর্জিয়ায় তার পরাজয় নিয়ে কেম্পের অবস্থান নিয়ে তিনি এখনো অসন্তুষ্ট, যা এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও তীব্র করেছে।   ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ আগামী নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের জন্য শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তার প্রচার তহবিলে বর্তমানে প্রায় ৩২ মিলিয়ন ডলার রয়েছে, যা রিপাবলিকান প্রার্থী কলিন্সের তুলনায় অনেক বেশি।   অসফকে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী নভেম্বরে এই নির্বাচনের ফলাফলই তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   গভর্নর নির্বাচনে বড় ধরনের চমক দেখা গেছে। ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসন স্ব-অর্থায়নে ৯১ মিলিয়ন ডলারের বেশি প্রচারণা ব্যয় করে রিপাবলিকান মনোনয়ন জয় করেন। তিনি ট্রাম্প ও কেম্প সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করেন।   জ্যাকসন নিজেকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একজন ‘আউটসাইডার’ হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং প্রচারণায় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বার্তা দেন। তিনি এখন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক আটলান্টা মেয়র কেশা ল্যান্স বটমসের মুখোমুখি হবেন।   চলতি বছরে ট্রাম্প সমর্থিত একাধিক প্রার্থীর পরাজয়ের প্রবণতা সামনে এসেছে। এর আগে আইওয়া ও টেক্সাসসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় হেরে যান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের সমর্থন এখনো রিপাবলিকান ভোটারদের বড় অংশে প্রভাব ফেললেও সব ক্ষেত্রে এটি নিশ্চিত জয় এনে দিচ্ছে না।   জর্জিয়ার এই নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য সমীকরণেও ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে জর্জিয়ার মতো সুইং স্টেটগুলোতে ভোটার বিভাজন এবং দলীয় প্রভাব ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Unknown জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০