আসন্ন ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে আগত লাখ লাখ ফুটবল ভক্তের ঘাড়ে নতুন করে বাড়তি খরচের বোঝা চাপতে পারে। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই ক্রীড়া আসর চলাকালীন মার্কিন রেস্তোরাঁগুলো বিদেশি দর্শনার্থীদের খাবারের বিলের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে ‘টিপস’ বা বকশিশ যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশে রেস্তোরাঁয় টিপস দেওয়ার তেমন কোনো প্রচলন না থাকায় রেস্তোরাঁকর্মীদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি এড়াতেই এমন নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রেস্তোরাঁ শিল্পের কর্মীদের আয়ের এক বিশাল অংশ নির্ভর করে ক্রেতাদের দেওয়া টিপসের ওপর। দেশটির বেশিরভাগ সার্ভার বা খাবার পরিবেশনকারী এবং বারটেন্ডারদের ন্যূনতম মজুরির চেয়েও বেশ কম বেতন দেওয়া হয়। ফলে জীবনধারণের জন্য তারা ক্রেতাদের এই বকশিশের ওপরই প্রায় সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল।
বিশ্বকাপের সময় বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক দর্শকের সমাগম হবে, যারা মার্কিন এই টিপস সংস্কৃতির সাথে মোটেও পরিচিত নন। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই আয়োজক শহরগুলোর রেস্তোরাঁগুলো কর্মীদের পাওনা নিশ্চিত করতে মূল বিলের সঙ্গেই টিপস যোগ করার কথা ভাবছে। এমনিতেই আকাশছোঁয়া দামের টিকিট, ফ্লাইট এবং হোটেল ভাড়ার চাপে দিশেহারা ভক্তদের জন্য নতুন এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবেই বাড়তি চাপ তৈরি করবে।
ইতিমধ্যেই অনেক রেস্তোরাঁ মালিক এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, আটলান্টার ‘টি’জ ব্রাঞ্চ বার’ তাদের খাবারের বিলের সাথে আগে থেকে কাটা ১৮ শতাংশ টিপস বাড়িয়ে এবার ২০ শতাংশ করার কথা বিবেচনা করছে। রেস্তোরাঁটির মালিক তেনেশিয়া মারে বাটলারের মতে, এটি কোনো সংস্কৃতির দোষ নয়, বরং বিদেশিরা এই নিয়মে অভ্যস্ত না হওয়ায় আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বোস্টন এবং কানসাস সিটির অনেক রেস্তোরাঁও একই পথে হাঁটছে। ম্যাসাচুসেটস রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশনের বোর্ড মেম্বার এবং ‘ড্যাভিওস’ রেস্তোরাঁর মালিক স্টিভ ডিফিলিপ্পো জানিয়েছেন, কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা দিতে এই নীতির বিষয়ে মেনু কার্ডে বিস্তারিত উল্লেখ করে দর্শকদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, মিসৌরি রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মাইক বারিস শহরের রেস্তোরাঁগুলোকে এই ছয় সপ্তাহের টুর্নামেন্টে বাধ্যতামূলক টিপস নীতি কার্যকর করার জোর পরামর্শ দিয়েছেন।
তবে এই নীতির সাথে সব ব্যবসায়ী পুরোপুরি একমত নন। ম্যান্সফিল্ডের ‘জিমিস পাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এর মালিক জর্জ পান্টোস মনে করেন, বাধ্যতামূলক সার্ভিস চার্জ চাপিয়ে দেওয়ার বদলে রেস্তোরাঁয় নোটিশ টাঙিয়ে অতিথিদের টিপসের বিষয়টি বিনয়ের সাথে স্মরণ করিয়ে দেওয়াটাই বেশি যৌক্তিক। এছাড়া, এই সিদ্ধান্তটি স্থানীয় আমেরিকানদের মধ্যেও ব্যাপক অসন্তোষের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
খাদ্য গবেষণা সংস্থা টেকনোমিক-এর জ্যেষ্ঠ অধ্যক্ষ ডেভিড হেনকেসের মতে, নানাবিধ অর্থনৈতিক চাপে পিষ্ট স্থানীয় বাসিন্দারা রেস্তোরাঁর এই অতিরিক্ত খরচে ক্ষুব্ধ হতে পারেন। ক্রেতাদের পূর্বানুমতি ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিপস কেটে নেওয়ার এই নীতি রেস্তোরাঁগুলোতে ক্রেতার আনাগোনা আরও কমিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
আসন্ন ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে আগত লাখ লাখ ফুটবল ভক্তের ঘাড়ে নতুন করে বাড়তি খরচের বোঝা চাপতে পারে। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই ক্রীড়া আসর চলাকালীন মার্কিন রেস্তোরাঁগুলো বিদেশি দর্শনার্থীদের খাবারের বিলের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে ‘টিপস’ বা বকশিশ যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশে রেস্তোরাঁয় টিপস দেওয়ার তেমন কোনো প্রচলন না থাকায় রেস্তোরাঁকর্মীদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি এড়াতেই এমন নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রেস্তোরাঁ শিল্পের কর্মীদের আয়ের এক বিশাল অংশ নির্ভর করে ক্রেতাদের দেওয়া টিপসের ওপর। দেশটির বেশিরভাগ সার্ভার বা খাবার পরিবেশনকারী এবং বারটেন্ডারদের ন্যূনতম মজুরির চেয়েও বেশ কম বেতন দেওয়া হয়। ফলে জীবনধারণের জন্য তারা ক্রেতাদের এই বকশিশের ওপরই প্রায় সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। বিশ্বকাপের সময় বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক দর্শকের সমাগম হবে, যারা মার্কিন এই টিপস সংস্কৃতির সাথে মোটেও পরিচিত নন। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই আয়োজক শহরগুলোর রেস্তোরাঁগুলো কর্মীদের পাওনা নিশ্চিত করতে মূল বিলের সঙ্গেই টিপস যোগ করার কথা ভাবছে। এমনিতেই আকাশছোঁয়া দামের টিকিট, ফ্লাইট এবং হোটেল ভাড়ার চাপে দিশেহারা ভক্তদের জন্য নতুন এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবেই বাড়তি চাপ তৈরি করবে। ইতিমধ্যেই অনেক রেস্তোরাঁ মালিক এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, আটলান্টার ‘টি’জ ব্রাঞ্চ বার’ তাদের খাবারের বিলের সাথে আগে থেকে কাটা ১৮ শতাংশ টিপস বাড়িয়ে এবার ২০ শতাংশ করার কথা বিবেচনা করছে। রেস্তোরাঁটির মালিক তেনেশিয়া মারে বাটলারের মতে, এটি কোনো সংস্কৃতির দোষ নয়, বরং বিদেশিরা এই নিয়মে অভ্যস্ত না হওয়ায় আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বোস্টন এবং কানসাস সিটির অনেক রেস্তোরাঁও একই পথে হাঁটছে। ম্যাসাচুসেটস রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশনের বোর্ড মেম্বার এবং ‘ড্যাভিওস’ রেস্তোরাঁর মালিক স্টিভ ডিফিলিপ্পো জানিয়েছেন, কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা দিতে এই নীতির বিষয়ে মেনু কার্ডে বিস্তারিত উল্লেখ করে দর্শকদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, মিসৌরি রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মাইক বারিস শহরের রেস্তোরাঁগুলোকে এই ছয় সপ্তাহের টুর্নামেন্টে বাধ্যতামূলক টিপস নীতি কার্যকর করার জোর পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এই নীতির সাথে সব ব্যবসায়ী পুরোপুরি একমত নন। ম্যান্সফিল্ডের ‘জিমিস পাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এর মালিক জর্জ পান্টোস মনে করেন, বাধ্যতামূলক সার্ভিস চার্জ চাপিয়ে দেওয়ার বদলে রেস্তোরাঁয় নোটিশ টাঙিয়ে অতিথিদের টিপসের বিষয়টি বিনয়ের সাথে স্মরণ করিয়ে দেওয়াটাই বেশি যৌক্তিক। এছাড়া, এই সিদ্ধান্তটি স্থানীয় আমেরিকানদের মধ্যেও ব্যাপক অসন্তোষের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। খাদ্য গবেষণা সংস্থা টেকনোমিক-এর জ্যেষ্ঠ অধ্যক্ষ ডেভিড হেনকেসের মতে, নানাবিধ অর্থনৈতিক চাপে পিষ্ট স্থানীয় বাসিন্দারা রেস্তোরাঁর এই অতিরিক্ত খরচে ক্ষুব্ধ হতে পারেন। ক্রেতাদের পূর্বানুমতি ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিপস কেটে নেওয়ার এই নীতি রেস্তোরাঁগুলোতে ক্রেতার আনাগোনা আরও কমিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নবজাতকদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে তুলতে নতুন একটি কর্মসূচি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির ট্রেজারি বিভাগ। “ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট” নামে পরিচিত এই পরিকল্পনার আওতায় যোগ্য শিশুদের নামে সরকারিভাবে এক হাজার ডলার জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মার্কিন গণমাধ্যম রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো শিশুদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের একটি ভিত্তি তৈরি করা। সরকারের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া অর্থ সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে পরিবারকে দেওয়া হবে না। বরং শিশুর নামে খোলা বিশেষ বিনিয়োগ হিসাবে এটি সংরক্ষণ করা হবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম নেওয়া নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন শিশুদের এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা, ব্যবসা শুরু বা নির্ধারিত অন্যান্য কাজে তা ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে। তবে এই সুবিধা পেতে অভিভাবকদের কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। শিশুর বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকতে হবে এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধন করতে হবে। ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পোর্টাল ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হিসাব সক্রিয় করার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক পোস্টে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সব শিশুকেই সরাসরি এক হাজার ডলার করে দেওয়া হচ্ছে। তবে তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, এটি সরাসরি নগদ অর্থ প্রদান নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগভিত্তিক একটি সঞ্চয় কর্মসূচি। অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর শিশুদের আর্থিক নিরাপত্তা তৈরিতেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন তারা। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে এবং ধাপে ধাপে নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করা হবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে।
১৯৯৪ সালে স্ট্যানফোর্ড বিজনেস স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্রে ‘ডটকম’ বিপ্লব তুঙ্গে, তখন অনেকেই করপোরেট চাকরিতে যোগ দিয়ে দ্রুত মিলিয়নিয়ার হয়ে উঠছিলেন। সেই সময় ভিন্ন পথে হাঁটেন গ্রেগ ফ্লিন। এক বন্ধুর রেস্তোরাঁ ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার যাত্রা। পরে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি আটটি অ্যাপলবিস রেস্তোরাঁ কিনে নেন। ২৬ বছর পর সেই ফ্লিন এখন তিনটি দেশে সাতটি বড় ব্র্যান্ডের তিন হাজারের বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি আউটলেট পরিচালনা করছেন। তার সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসা করে ইতিহাসে প্রথম বিলিয়নিয়ার হওয়ার কৃতিত্বও তার। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইন্টারন্যাশনাল ফ্র্যাঞ্চাইজি অ্যাসোসিয়েশন তাকে ‘হল অব ফেম’-এ অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে আগে ম্যাকডোনাল্ডসের রে ক্রোক বা কেএফসির কর্নেল স্যান্ডার্সের মতো ব্যক্তিরাই জায়গা পেয়েছিলেন। ফ্লিনের গল্প এখন যুক্তরাষ্ট্রে ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের সাফল্যের প্রতীক। এই মডেল বহু সাধারণ মানুষের জন্য ধনী হওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য পথ হয়ে উঠছে। ১৯৫০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসার বিস্তার শুরু হয়। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা পরিচালনা করছেন প্রায় আড়াই লাখ মালিক। এই খাতে প্রায় ৯০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং এটি দেশটির মোট জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশ জুড়ে রয়েছে। ডানকিন, ইউপিএস স্টোর থেকে ম্যারিয়ট হোটেলের মতো বড় বড় ব্র্যান্ড এই মডেলে পরিচালিত হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল ফ্র্যাঞ্চাইজি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ম্যাট হ্যালার বলেন, সবাই স্টিভ জবস বা ইলন মাস্ক হতে পারবেন না, কিন্তু একজন সাধারণ মানুষও সঞ্চয় করে একটি ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এই খাতটি অভিবাসীদের কাছেও বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। যুক্তরাষ্ট্রের মোট মোটেলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের মালিক ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক, যারা সুপার ৮ এবং ট্রাভেলজ ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। একসময় আমেরিকায় তরুণদের কাছে সমৃদ্ধির প্রধান পথ ছিল উচ্চশিক্ষা ও করপোরেট চাকরি। তবে এখন চিত্র পাল্টেছে। উচ্চ টিউশন ফি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে অনেক ডেস্কভিত্তিক চাকরি ঝুঁকিতে পড়ায় তরুণরা এখন সরাসরি গ্রাহকসেবামূলক ব্যবসার দিকে ঝুঁকছেন। ফিটনেস স্টুডিও, রেস্তোরাঁ বা ব্যক্তিগত সেবা খাতের ব্যবসাগুলোকে তারা তুলনামূলক নিরাপদ মনে করছেন, কারণ এগুলো পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর নয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থায় মূল কোম্পানি ব্র্যান্ড, মান ও পরিচালন পদ্ধতি নির্ধারণ করে। বিনিময়ে উদ্যোক্তারা নিজেদের পুঁজি বিনিয়োগ করেন এবং প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের সুবিধা পান। ১০০টির বেশি ট্যাকো বেল ও ডানকিন আউটলেট পরিচালনাকারী দিনেশ গোস্বামী বলেন, স্থানীয় বাস্তবতা বোঝা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি একটি পোপাইস আউটলেটের উদাহরণ দিয়ে জানান, অবস্থানগত সমস্যার কারণে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। গ্রেগ ফ্লিন তার ব্যবসায় স্থানীয় ব্যবস্থাপকদের লাভের অংশীদার করে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলেছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসা শুরু করতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন। সাধারণত ৫০ হাজার ডলার বা তার বেশি প্রাথমিক ফি লাগে এবং বিক্রির ৫ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত রয়্যালটি দিতে হয়। একটি ফিটনেস স্টুডিও খুলতে তিন থেকে আট লাখ ডলার এবং একটি বড় রেস্তোরাঁ খুলতে ১০ লাখ ডলারের বেশি খরচ হতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, শুরুতে এই ব্যবসার টিকে থাকার হার তুলনামূলক বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি প্রায় সমান থাকে। তবে সুপরিচিত ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে সফলতার সম্ভাবনা বেশি। ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের কম মজুরি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মালিকেরা লাভ বাড়াতে শ্রমিকদের বেতন কম রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, আগে একই চেইনের কর্মীরা অন্য আউটলেটে সহজে চাকরি বদলাতে পারতেন না। পরে এই নিয়ম তুলে দিলে শ্রমিকদের মজুরি ৪ থেকে ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। তবে সফল উদ্যোক্তাদের মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে এবং এটি অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। লেখাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিস্ট থেকে তথ্য নিয়ে অনুবাদ ও বিশ্লেষণ করেছেন “আমেরিকা বাংলা” নিউজ এডিটর শাহারিয়া নয়ন