যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের নীতিগত বাধা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়লা শিল্পের পক্ষে প্রকাশ্য ওকালতির পরেও দেশটিতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। মার্কিন ইতিহাসের বুকে এই প্রথমবারের মতো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকে পেছনে ফেলে বেশি জ্বালানি সরবরাহ করেছে সৌরশক্তি বা সোলার পাওয়ার। বৈশ্বিক জ্বালানি বিষয়ক থিংক ট্যাংক ‘এম্বার’, সোলার এনার্জি行业 ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির যৌথ প্রতিবেদনে এই বৈপ্লবিক চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ১২ দশমিক ৮ শতাংশ এসেছে সৌরশক্তি থেকে, যা একটি নতুন রেকর্ড। মার্কিন বিদ্যুৎ গ্রিডে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির এই দ্রুত অগ্রগতি পরিবেশবান্ধব শক্তির এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।
থিংক ট্যাংক এম্বারের প্রকাশিত সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ও তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে সৌরশক্তি যেখানে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ অবদান রেখেছে, সেখানে ঐতিহ্যবাহী কয়লা শিল্পের অবদান ছিল মাত্র ১২ দশমিক ২ শতাংশ। এটি মার্কিন ইতিহাসের বুকে কয়লা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের চতুর্থ সর্বনিম্ন মাসিক রেকর্ড হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এম্বারের জ্যেষ্ঠ জ্বালানি ও ডেটা বিশ্লেষক নিকোলাস ফুলঘাম এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় সৌরশক্তির ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর বিপরীতে কয়লা তার পুরনো একক আধিপত্য ক্রমান্বয়ে হারাচ্ছে; প্রথমে এটি দেশের বৃহত্তম উৎসের মর্যাদা হারায় এবং এখন বছরের ব্যবধানে আরও নিচে নেমে যাচ্ছে।
জ্বালানি খাতের এই ঐতিহাসিক অর্জনের ফলে গত মে মাসে প্রাকৃতিক গ্যাস এবং পারমাণবিক শক্তির পর সৌরশক্তিই এখন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার, দেশীয় উৎপাদন শিল্পের প্রবৃদ্ধি এবং পরিবহন ও হিটিং ব্যবস্থায় বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কারণে বিগত দুই দশক ধরে স্থবির থাকা মার্কিন বিদ্যুতের সামগ্রিক চাহিদা এখন দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বর্ধিত চাহিদা পূরণে সৌরশক্তি নিজেদের কার্যকারিতা ও সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এটি মাসিক রেকর্ডের গণ্ডি পেরিয়ে বার্ষিক হিসাবেও কয়লাকে স্থায়ীভাবে ছাড়িয়ে যাবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই অভাবনীয় ও রেকর্ড সাফল্য এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিন এনার্জির পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী কয়লা শিল্পকে বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। গত সপ্তাহেও ট্রাম্প কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং কয়লা রপ্তানি বাড়াতে প্রায় ৭০ কোটি ডলারের একটি বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন এবং হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে কয়লাকে একটি ‘সেরা ব্যবসা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক প্যানেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘হিলিন’-এর প্রধান নির্বাহী মার্টিন পোচতারুক বলেন, ট্রাম্প মুখে কয়লা শিল্পের ফিরে আসার কথা বললেও বিনিয়োগকারীরা কেবল সেখানেই অর্থ খাটাবেন যেখানে সবচেয়ে ভালো আর্থিক রিটার্ন বা লাভ পাওয়া যাবে। আর বর্তমান বাজারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সৌরশক্তিই হচ্ছে সবচেয়ে লাভজনক ও দ্রুত বর্ধনশীল খাত।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের এই খনিজ জ্বালানি নীতির পক্ষ সমর্থন করে দাবি করেছেন যে, তাঁরা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে কাজ করছেন এবং বামপন্থীদের ধ্বংসাত্মক নীতি থেকে মার্কিন কয়লা শিল্পকে রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তব বাজার চিত্র বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা; সোলার এনার্জি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী বিগত পাঁচ বছর ধরে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে সৌরশক্তিই দেশটিতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এমনকি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন তৈরি হওয়া মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৯১ শতাংশই এসেছে সৌরশক্তি এবং ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থা থেকে। ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কিছু বড় পরিবেশবান্ধব প্রকল্প বাতিল এবং বড় অঙ্কের তহবিল বন্ধ করার পরেও সৌরশক্তির এই জয়যাত্রা রুখতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে মেয়রের শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকালে লেফট্যানেন্ট গভর্নর শিলা অলিভার প্লাজায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র চলতি বছরের স্কলারশিপের অর্থের পরিমাণ ও আবেদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তুলে ধরেন। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই বিশেষ শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় এবার মোট ৫২টি স্কলারশিপ প্রদান করা হবে। এর মধ্যে ২০২৬ সালের হাইস্কুল সিনিয়র শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০টি এবং ট্রেড স্কুল, মাস্টার্স ও ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য ১২টি স্কলারশিপ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যোগ্য শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত বৃত্তি পেতে পারেন। বৃত্তির শর্ত অনুযায়ী আবেদনকারীকে অবশ্যই আটলান্টিক সিটির স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীকে ২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েটিং ক্লাসের সদস্য অথবা সম্প্রতি মাস্টার্স কিংবা ডক্টরাল প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া থাকতে হবে। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে যারা এই স্কলারশিপ পেয়েছেন, তারা এবার নতুন করে আবেদনের জন্য যোগ্য হবেন না। বৃত্তির অর্থ সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে। সিটি প্রশাসন জানায়, সিটি কর্মচারী ও কমিউনিটির সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বাধীন বৃত্তি কমিটি আবেদনপত্র মূল্যায়ন করবে। সম্পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক স্কোরিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে সিটি কাউন্সিল সভাপতি অ্যারন রেনডলফ, সহসভাপতি কলিম শাহবাজ এবং কাউন্সিলর এট লার্জ স্টিফেনি মার্শালসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীদের আগামী সোমবার (১৫ জুন) বিকেল ৪টার মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ভোটারদের মনে সংশয় তৈরি এবং বিভ্রান্তি ছড়াতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একটি গোপন তহবিল থেকে লাখ লাখ ডলার খরচ করা হয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নতুন কিছু ট্যাক্স বা কর সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনার পর জানা গেছে, ‘ফেয়ার ইলেকশন ফান্ড’ নামের একটি অলাভজনক সংস্থা সুইং স্টেট বা দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমাতে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচার ও বড় অঙ্কের অর্থায়ন করেছে। ফাঁস হওয়া সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ডেলাওয়্যারে নিবন্ধিত এই শক্তিশালী তহবিলটির পরিচালক হিসেবে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আইনজীবী ক্লেটা মিচেল এবং গবেষক হিদার হানি সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। ক্লেটা মিচেল ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচন উল্টে দেওয়ার ট্রাম্পের বিতর্কিত প্রচেষ্টায় সরাসরি আইনি সহযোগিতা করেছিলেন। অন্যদিকে, হিদার হানি বর্তমানে মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিতে (ডিএইচএস) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন। অতীতে ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্প যে সমস্ত জালিয়াতির মনগড়া অভিযোগ করেছিলেন, তার পেছনে হানির তৈরি করা বিভ্রান্তিকর ও ত্রুটিপূর্ণ গবেষণাই মূল উপাদান হিসেবে কাজ করেছিল। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে ‘আমেরিকান প্রিন্সিপলস প্রজেক্ট ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংস্থাকে এই তহবিল থেকে ৩ লাখ ডলার দেওয়া হয়। ওই সংস্থাটি পেনসিলভেনিয়া ও নেভাদাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটে বিজ্ঞাপন দিয়ে দাবি করেছিল যে, স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জন্য ভোটের ফলাফল প্রত্যয়ন বা চূড়ান্ত করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর; মার্কিন আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শেষে ভোটের ফলাফল প্রত্যয়ন করা কর্মকর্তাদের জন্য আইনি বাধ্যতাবাধকতা। ট্রাম্প হেরে গেলে নির্বাচনের ফলাফলকে বিতর্কিত করার এবং ভোট গণনা আটকে দেওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবেই মূলত এই ভয় ও সংশয় ছড়ানো হয়েছিল। এছাড়া, ‘ফেয়ার ইলেকশন ফান্ড’ ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটারদের অধিকার সংকুচিত করার একটি বিলের পক্ষে জনমত গড়তে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের পেছনে ২ লাখ ৮৫ হাজার ডলার ব্যয় করে। পাশাপাশি স্প্যানিশ ভাষায় অভিবাসী বিরোধী বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য ট্রাম্পের আরেক কট্টর সহযোগী মাইক ডেভিসের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ১৮ লাখ ৭৫ হাজার ডলার দেওয়া হয়। এই তহবিলের পেছনে মূল অর্থদাতা হিসেবে কাজ করেছে ‘কনজারভেটিভ পার্টনারশিপ ইনস্টিটিউট’ (সিপিআই), যা ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের অনুগতদের অন্যতম প্রধান নীতি গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালে সিপিআই এই ফান্ডে ৬০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দেয়। আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসন যখন দেশের সামগ্রিক নির্বাচন ব্যবস্থার সততা নিয়ে আবারও অন্যায্য প্রশ্ন তুলছে, ঠিক তখনই ট্রাম্প শিবিরের এই কোটি কোটি ডলারের গোপন প্রচারণার তথ্য সামনে এল। ওয়াচডগ বা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসন এবার বিচার বিভাগ ও অন্যান্য সরকারি সংস্থাকে ব্যবহার করে নিজেদের সুবিধা মতো নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিন এলাকায় সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন পাওয়ার সুযোগ নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি আবাসন প্ল্যাটফর্ম ‘হাউজিং কানেক্ট’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে লটারির ভিত্তিতে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হাউজিং কানেক্ট কর্মসূচির আওতায় স্বল্প ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য নির্ধারিত ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ দেওয়া হয়। আগ্রহী আবেদনকারীরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন এবং নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রুকলিনে কম ভাড়ায় দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কোনো আবাসনের ভাড়া, ইউনিটের ধরন কিংবা যোগ্যতার শর্ত নির্ভর করে নির্দিষ্ট প্রকল্পের ওপর। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা জরুরি। হাউজিং কানেক্টের মাধ্যমে পরিচালিত এসব কর্মসূচিতে আবেদনকারীদের পারিবারিক আয়, পরিবারের সদস্য সংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়। নির্বাচিত ব্যক্তিদের পরবর্তী ধাপে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিউইয়র্ক সিটিতে আবাসন ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন কর্মসূচিগুলো অনেক বাসিন্দার কাছে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ব্রুকলিন, কুইন্স ও ব্রঙ্কসের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের প্রকল্পে নিয়মিত আবেদন গ্রহণ করা হয়। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি হাউজিং কানেক্ট ওয়েবসাইটে চলমান ও আসন্ন আবাসন লটারির বিস্তারিত তথ্য, যোগ্যতার শর্ত এবং আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে জানা যাবে। কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের শুধুমাত্র সরকারি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে এবং এ ধরনের আবেদন প্রক্রিয়ায় কোনো ফি প্রদান না করার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়েছে।