যুক্তরাষ্ট্রের দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি বিরোধী এক বিশাল অভিযানের অংশ হিসেবে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে নতুন করে মেডিক্যাইড প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। মঙ্গলবার জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার আটলান্টার এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ গঠন এবং একটি সাইকিয়াট্রিক ক্লিনিকের সঙ্গে আলাদা দেওয়ানি নিষ্পত্তির কথা ঘোষণা করেন।
এই পদক্ষেপটি মার্কিন বিচার বিভাগের 'ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার ফ্রড টেকডাউন'-এর অংশ। দেশজুড়ে পরিচালিত এই অভিযানে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন (৬৫০ কোটি) ডলারের ভুয়া বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে বহু চিকিৎসক ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত চিকিৎসা পেশাদার রয়েছেন।
এই জালিয়াতির অন্যতম বড় ঘটনায় আটলান্টার ৫২ বছর বয়সী চিকিৎসক মুরেল রুটলেজ জুনিয়রের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা প্রতারণার ৪০টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ইস্ট পয়েন্ট এলাকায় 'রুটলেজ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েটস' নামের একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন তিনি। ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে রোগীদের এমন সব চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নামে জর্জিয়া মেডিক্যাইডের কাছে হাজার হাজার বিল জমা দিয়েছেন, যা বাস্তবে কখনোই দেওয়া হয়নি। তদন্তকারীদের মতে, ক্ষতস্থান পরিচর্যা, অ্যালার্জি পরীক্ষা এবং সাইকোথেরাপির মতো সেবার কথা বলে ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি ভুয়া বিল করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে তিনি অবৈধভাবে মেডিক্যাইড থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের মেডিক্যাইড ফ্রড অ্যান্ড পেশেন্ট প্রোটেকশন ডিভিশনসহ একাধিক ফেডারেল ও স্টেট সংস্থা যৌথভাবে এই তদন্ত পরিচালনা করে। তবে আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত রুটলেজকে নির্দোষ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় 'অ্যাভ্যান্ট ইন্টারভেনশনাল সাইকিয়াট্রি' এবং ড. ওকাহ অ্যানিওকউ-এর সঙ্গে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের একটি দেওয়ানি নিষ্পত্তি বা সেটেলমেন্টের ঘোষণাও দিয়েছে। রাজ্য তদন্তকারীদের অভিযোগ, ড. অ্যানিওকউ নিজে সেবা দিয়েছেন দেখিয়ে মেডিক্যাইডের কাছে বিল জমা দেওয়া হলেও, বাস্তবে কিছু সেবা অন্যান্য কর্মীদের দ্বারা প্রদান করা হয়েছিল।
এসব কর্মীদের অনেকেরই মেডিক্যাইড প্রোভাইডার হিসেবে লাইসেন্স বা অন্তর্ভুক্তি ছিল না। যদিও এই নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি কোনো দায় স্বীকার করেনি, তবে একজন সাধারণ নাগরিক এবং জর্জিয়ার একটি কেয়ার ম্যানেজমেন্ট সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়।
জর্জিয়ার এই ঘটনাগুলো দেশজুড়ে চলা এ বছরের সর্ববৃহৎ সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি বিরোধী অভিযানের অংশ। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের মতে, এই প্রতারণা চক্রগুলো অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা, বেআইনি কমিশন এবং ভুয়া বিলের মাধ্যমে করদাতাদের অর্থে পরিচালিত মেডিকেয়ার ও মেডিক্যাইড কর্মসূচির ব্যাপক ক্ষতি করেছে। টেক্সাসে প্রায় ৯০৬ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি এবং মানব টিস্যু গ্রাফট সংক্রান্ত আরেকটি মাল্টিবিলিয়ন ডলারের প্রতারণার ঘটনাও এই অভিযানের মাধ্যমে সামনে এসেছে।
২০০৭ সালে মার্কিন বিচার বিভাগের 'হেলথ কেয়ার ফ্রড স্ট্রাইক ফোর্স' গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ২০০ জনেরও বেশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল জমার মামলা হয়েছে। জর্জিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেডিক্যাইডের অর্থ সুরক্ষিত রাখা তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এবং এই খাতে দুর্নীতি রোধে তাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কেউ বড় কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, আবার কেউ উবার বা লিফট চালান, ট্রাক চালক হিসেবে কাজ করেন, রেস্টুরেন্ট, গ্যাস স্টেশন কিংবা মুদি দোকানে কর্মরত আছেন। অনেকে ছোট ব্যবসা পরিচালনা করেন বা স্বনিয়োজিত হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু আয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য অবসরকালীন সঞ্চয় বা রিটায়ারমেন্ট পরিকল্পনা নিয়ে সচেতনতার ঘাটতি এখনও কমিউনিটির একটি বড় বাস্তবতা। যুক্তরাষ্ট্রে গত এক দশক আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেন আশিকুর রহমান, তিনি জানান অনেক বাংলাদেশি বছরের পর বছর কাজ করলেও অবসর জীবনের জন্য নিয়মিত সঞ্চয় করেন না। অনেকে আবার মনে করেন, শুধু বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেই রিটায়ারমেন্ট সুবিধা পাওয়া যায়। বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রে কর্পোরেট চাকরি না করলেও ব্যক্তিগতভাবে অবসরকালীন সঞ্চয়ের একাধিক সুযোগ রয়েছে। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অনেকের জন্য সবচেয়ে পরিচিত রিটায়ারমেন্ট পরিকল্পনা হলো ৪০১(কে)। এই ব্যবস্থায় কর্মীরা তাদের বেতনের একটি অংশ নিয়মিত রিটায়ারমেন্ট অ্যাকাউন্টে জমা রাখতে পারেন। মোটামুটি সব প্রতিষ্ঠানেই কর্মীর জমার সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থও যোগ করে, যা এমপ্লয়ার ম্যাচ নামে পরিচিত। অর্থাৎ কর্মীর সঞ্চয়ের পাশাপাশি নিয়োগকর্তার অবদানও ভবিষ্যতের তহবিলকে আরও বড় করে তোলে। তবে যাদের কর্মস্থলে ৪০১(কে)-এর সুবিধা নেই, তাদের জন্যও বিকল্প রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে ইনডিভিজুয়াল রিটায়ারমেন্ট অ্যাকাউন্ট (আইআরএ) খোলা যায়। এর মধ্যে ট্র্যাডিশনাল আইআরএ এবং রথ আইআরএ—দুই ধরনের পরিকল্পনাই বেশ জনপ্রিয়। ট্র্যাডিশনাল আইআরএ-তে নির্দিষ্ট শর্তে কর-সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে অবসরের সময় সেই অর্থ উত্তোলন করলে তখন প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কর দিতে হয়। অন্যদিকে রথ আইআরএ (Roth IRA)-তে কর পরিশোধের পর অর্থ জমা রাখা হয়। তবে নির্ধারিত নিয়ম পূরণ করে অবসরের সময় সেই অর্থ এবং বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয় উত্তোলন করলে সাধারণত অতিরিক্ত ফেডারেল আয়কর দিতে হয় না। এ কারণে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে রথ আইআরএ অনেকের কাছে একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে যাদের কর্মজীবনের শুরু, নতুন অভিবাসী বা ভবিষ্যতে আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, তাদের জন্য এটি উপযোগী হতে পারে। যারা উবার বা লিফট চালক, ট্রাক ড্রাইভার, খাবার সরবরাহকারী, ছোট ব্যবসার মালিক কিংবা অন্য কোনো স্বনিয়োজিত পেশায় কাজ করেন, তাদের জন্যও বিশেষ অবসরকালীন সঞ্চয় প্রকল্প রয়েছে। যেমন এসইপি আইআরএ (SEP IRA) এবং সোলো ৪০১(কে) (Solo 401(k))। এসব পরিকল্পনার মাধ্যমে আয়ের একটি অংশ নিয়মিত ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করা যায়। বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে আরেকটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো, সোশ্যাল সিকিউরিটি, মেডিকেয়ার এবং মেডিকেইডই রিটায়ারমেন্ট সুবিধা। বাস্তবে তা নয়। আশিকুর রহমান বলেন, সোশ্যাল সিকিউরিটি হলো কর্মজীবনে পরিশোধ করা বেতনের করের ভিত্তিতে অবসরের সময় পাওয়া মাসিক আর্থিক সুবিধা। অন্যদিকে মেডিকেয়ার মূলত ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি এবং মেডিকেইড হলো কম আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা কর্মসূচি। এগুলোর কোনোটিই ব্যক্তিগত রিটায়ারমেন্ট অ্যাকাউন্ট নয় এবং ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের বিকল্পও নয়। তিনি আরও বলেন, শুধু সোশ্যাল সিকিউরিটির ওপর নির্ভর করলে অধিকাংশ মানুষের জন্য অবসর-পরবর্তী জীবনযাত্রার সব ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হতে পারে। তাই কর্মজীবনের শুরু থেকেই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত সঞ্চয় শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে শুরু করতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। মাসে ৫০, ১০০ বা ২০০ ডলার করেও অবসরকালীন সঞ্চয় শুরু করা সম্ভব। দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত বিনিয়োগ করলে চক্রবৃদ্ধি হারে সেই অর্থ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এখনই সময় রিটায়ারমেন্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন হওয়ার। আপনি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করুন কিংবা উবার চালান, দোকানে চাকরি করুন অথবা নিজের ব্যবসা পরিচালনা করুন, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে আজকের ছোট সঞ্চয়ই ভবিষ্যতে আর্থিক নিরাপত্তার বড় ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। বিঃদ্রঃ এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্যভিত্তিক। ব্যক্তিগত বিনিয়োগ, কর বা অবসরকালীন পরিকল্পনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত আর্থিক উপদেষ্টা বা কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে তিন দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা এক আলোচিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। ১৯৯৬ সালে একটি গির্জার ছাদে কাজ করার সময় গুলিতে নিহত এক পাদ্রির হত্যার ঘটনায়, বর্তমানে অন্য একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগরত এক বন্দির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। জর্জিয়া ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (জিবিআই) জানিয়েছে, ১৯৯৬ সালের ১ জুন জেফ ডেভিস কাউন্টির স্নাইপসভিল এলাকার ফুল গসপেল চার্চের ছাদে ৫৪ বছর বয়সী পাদ্রি জেমস হ্যান্ডকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি সেদিন গির্জার ছাদ মেরামতের কাজ করছিলেন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে সে সময় তদন্ত চালিয়েও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং মামলাটি দীর্ঘদিন ‘কোল্ড কেস’ হিসেবে রয়ে যায়। দীর্ঘ ৩০ বছর পর নতুন তথ্য-প্রমাণ এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে ৪৭ বছর বয়সী জাকারি বি. হার্পারের বিরুদ্ধে ফেলনি মার্ডার ও ম্যালিস মার্ডার-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। জিবিআই জানিয়েছে, হার্পার বর্তমানে জেনকিন্স কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে অন্য একটি হত্যা মামলায় দেওয়া যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য, নতুন সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং পুনঃতদন্তের মাধ্যমে মামলাটিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। এর ফলে প্রায় তিন দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা এই হত্যাকাণ্ডে বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জিবিআই আরও জানিয়েছে, তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। তদন্ত সম্পন্ন হলে মামলার নথি ব্রান্সউইক জুডিশিয়াল সার্কিট ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা অপরাধের ঘটনাগুলোকে ‘কোল্ড কেস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তি, নতুন সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং পুনঃতদন্তের মাধ্যমে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন বহু পুরোনো মামলার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। জর্জিয়ার এই ঘটনাটিও সেই ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসীদের খুঁজে বের করতে এবং তাদের ওপর কড়া নজরদারি চালাতে মার্কিন সরকারের প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের খরচ নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)-এর নজরদারি সরঞ্জামের এই বিশাল ও আশঙ্কাজনক বিস্তৃতির তথ্য সামনে এসেছে। অভিবাসী অধিকার বিষয়ক সংগঠন 'মিহেন্তে' (Mijente), আইনি সহায়তাকারী সংস্থা 'জাস্ট ফিউচারস ল' এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'সার্ভেইল্যান্স রেজিস্ট্যান্স ল্যাব'-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নজরদারি প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রধান ১১টি কোম্পানির পেছনে মার্কিন সরকারের ব্যয় ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ৩১ কোটি ডলারে পৌঁছায়। আর বর্তমান ২০২৬ সালে সেই ব্যয়ের পরিমাণ রেকর্ড ভেঙে এক লাফে প্রায় ৫১ কোটি ৩০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গবেষকদের মতে, মার্কিন সরকারের এই বিশাল খরচের বড় অংশই যাচ্ছে ডেটা অ্যানালিটিক্স কোম্পানি 'প্যালান্টির' এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'অ্যান্ডুরিল'-এর পকেটে। অ্যান্ডুরিল মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত নজরদারি ব্যবস্থা, প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ সীমান্ত টাওয়ার, ড্রোন এবং বিশেষ সেন্সর তৈরি করে থাকে। করদাতাদের কোটি কোটি ডলারের এই অর্থ দিয়ে আইসিই এবং সিবিপি ডেটা ব্রোকার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ক্র্যাপার, ফেসিয়াল রিকগনিশন বা মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, মোবাইল হ্যাকিং ডিভাইস এবং স্পাইওয়্যারের মতো অত্যন্ত আক্রমণাত্মক প্রযুক্তি কিনছে। এর মাধ্যমে অভিবাসীদের পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও একটি উদ্বেগজনক দিক উন্মোচন করা হয়েছে যে, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) কেবল এসব প্রযুক্তি কিনছেই না, বরং বিলিয়ন ডলারের তহবিল দিয়ে বিভিন্ন স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে এসব স্বৈরাচারী নজরদারি ডিভাইস তৈরিতে অর্থায়ন করছে। ডিএইচএস-এর 'স্মল বিজনেস ইনোভেশন রিসার্চ' (এসবিআইআর) কর্মসূচির মাধ্যমে ২০০৪ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ৫০০টি কোম্পানিকে প্রায় ৮৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই তহবিলের আওতায় এমন সব প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে যা দিয়ে মার্কিন এজেন্টরা সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোন থেকে বায়োমেট্রিক ডেটা সংগ্রহ করতে পারে এবং এআই ব্যবহার করে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাত্রীদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য তালিকাভুক্ত করতে পারে। এই প্রযুক্তিগত নজরদারির বিস্তৃতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। 'জাস্ট ফিউচারস ল'-এর নির্বাহী পরিচালক পারমিতা শাহ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কংগ্রেসের জবাবদিহিতার বাইরে গিয়ে আইসিই যেভাবে বিশাল তহবিল ব্যবহার করছে, তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। 'মোবাইল ফোর্টিফাই'-এর মতো ফেসিয়াল রিকগনিশন অ্যাপের মাধ্যমে হাজার হাজার অভিবাসী এবং আন্দোলনকারীদের মুখ স্ক্যান করা হচ্ছে, যা কার্যত ভিন্নমতাবলম্বীদের একটি ডাটাবেজ তৈরির শামিল। এছাড়া 'বার্লা আইভি' (গাড়ির ডিভাইস থেকে তথ্য চুরির প্রযুক্তি), 'ভেরিওয়াচ' (স্মার্টওয়াচের মতো ট্র্যাকিং ডিভাইস) এবং 'ট্যাঙ্গেলস' (সোশ্যাল মিডিয়া ও আর্থিক রেকর্ড ঘেঁটে মানুষের প্রোফাইল তৈরির এআই) এর মতো প্রযুক্তির ব্যবহার আমেরিকাকে একটি ডিস্টোপিয়ান বা অন্ধকার শাসনব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে টেক জায়ান্ট ও ধনকুবেররা নিজেদের স্বার্থে মার্কিন বাজেট কব্জা করছে।