বিশ্ব

মুর্শিদাবাদ সীমান্তে বিএসএফ সদস্য নিহত, একই দিনে নদীতে নৌকায় আঘাতে আরও ৪ জনের মৃত্যু

কলকাতা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ৭:২৫
মুর্শিদাবাদ সীমান্তে বিএসএফ সদস্য নিহত
মুর্শিদাবাদ সীমান্তে বিএসএফ সদস্য নিহত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দায়িত্ব পালনকালে বজ্রপাতে এক সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

নিহত সদস্যের নাম বিনীত কুমার দুবে (৪৬)। তিনি বিএসএফের ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের হেড কনস্টেবল ছিলেন। তার বাড়ি উত্তর প্রদেশের কান্নৌজ জেলায়।

 

বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহকুমার বাবুরা ঘাট সীমান্ত চৌকিতে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ওই সময় এলাকায় প্রবল বজ্রঝড়, ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছিল। মিঠিপুর এলাকার আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন জিরো লাইনের কাছে খোলা আকাশের নিচে টহল দেওয়ার সময় হঠাৎ বজ্রপাত তার ওপর আঘাত হানে।

 

ঘটনার পরপরই সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মিঠিপুর ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

এদিকে একই দিনে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান এলাকায় বজ্রপাতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, গঙ্গা নদী পারাপারের সময় নৌকায় থাকা অবস্থায় বজ্রাঘাতে তারা প্রাণ হারান। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বর্ষা মৌসুমে বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির প্রবণতা বেড়েছে। এর ফলে গ্রামীণ ও নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোতে ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তারা ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা স্থানে অবস্থান না করা, গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং জলাশয় বা নদীতে অবস্থান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা ও নদীপথে চলাচলকারী মানুষদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

ঘটনাগুলোতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
জার্মানির হালবারস্টাডের বুরখার্ডি গির্জায় চলছে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ ও ধীরগতির অর্গান সংগীত পরিবেশনা। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির গান বাজছে জার্মানির এক অর্গানে, শেষ হবে ২৬৪০ সালে

জার্মানির পূর্বাঞ্চলের ছোট্ট শহর হালবারস্টাডে একটি মধ্যযুগীয় গির্জার ভেতরে চলছে বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির এবং দীর্ঘতম সংগীত পরিবেশনা। প্রায় ২৫ বছর ধরে একটি অর্গানে বাজছে একই সংগীত, যার সমাপ্তি হবে ২৬৪০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ পুরো পরিবেশনাটি চলবে মোট ৬৩৯ বছর।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, সম্প্রতি এই দীর্ঘ সংগীত পরিবেশনায় বিরল একটি পরিবর্তন এসেছে। বুধবার অর্গানটিতে সাতটি স্বরের সঙ্গে আরও একটি নতুন স্বর যুক্ত করা হয়। এই পরিবর্তন ছিল পুরো ৬৩৯ বছরের প্রকল্পের মাত্র ১৭তম ‘কর্ড পরিবর্তন’, যা প্রকল্পটির প্রায় ৪ শতাংশ অগ্রগতির প্রতীক।   এই সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে জার্মানির হালবারস্টাড শহরের ঐতিহাসিক বুরখার্ডি গির্জায়। জন কেজ অর্গান প্রকল্পের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যানেলি বর্গম্যান বলেন, দ্রুতগতির এই পৃথিবীতে এই প্রকল্প মানুষকে ধীর হওয়া, থেমে ভাবা এবং বর্তমান মুহূর্তকে অনুভব করার এক অনন্য সুযোগ করে দেয়।   এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় ২০০০ সালে। তবে সংগীত পরিবেশনা শুরু হয় ২০০১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, মার্কিন সংগীতকার জন কেজের ৮৯তম জন্মদিনে। শুরুতেই প্রায় ১৭ মাস কোনো শব্দ শোনা যায়নি। নীরবতার সেই পর্ব শেষ হয় ২০০৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, যখন প্রথমবারের মতো অর্গান থেকে সুর ভেসে আসে।   পরিবেশিত সংগীতটির নাম "ORGAN²/ASLSP (As SLow aS Possible)"। জন কেজ ১৯৮৫ সালে এটি পিয়ানোর জন্য রচনা করেন এবং ১৯৮৭ সালে অর্গানের উপযোগী করে সংশোধন করেন। তাঁর নির্দেশনা ছিল মাত্র একটি, সংগীতটি "যত ধীরে সম্ভব" বাজাতে হবে।   প্রকল্পে ব্যবহৃত অর্গানটি বৈদ্যুতিক বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে শব্দ সৃষ্টি করে। নির্দিষ্ট সময় পরপর স্বর পরিবর্তনের জন্য হাতে নতুন পাইপ যুক্ত করা হয় অথবা কোনো পাইপ সরিয়ে নেওয়া হয়। এর ফলে অর্গানের সুরে সূক্ষ্ম পরিবর্তন আসে।   সাম্প্রতিক কর্ড পরিবর্তন দেখতে বুরখার্ডি গির্জায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ উপস্থিত হন। আরও অনেকে বাইরে বসে সরাসরি সম্প্রচার দেখেন। প্রথমে কয়েক মিনিট পুরোনো সুর শোনার পর অষ্টম পাইপটি যুক্ত করা হয়। এরপর নতুন সুরের সূক্ষ্ম পরিবর্তন মনোযোগ দিয়ে শোনেন উপস্থিত দর্শনার্থীরা। অনুষ্ঠান শেষে গির্জাজুড়ে করতালি ও "ব্রাভো" ধ্বনি ওঠে।   জন কেজ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক জেফ্রি লেপেনডর্ফ বলেন, পরিবর্তনটি খুবই সূক্ষ্ম হলেও নতুন একটি উচ্চ স্বর পুরো সংগীতের আবহে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর ভাষায়, "এটি এমন এক অভিজ্ঞতা, যা একই জায়গায় দাঁড়িয়েও কয়েক ইঞ্চি নড়লেই ভিন্নভাবে অনুভূত হয়।"   জন কেজ ১৯১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯২ সালে নিউইয়র্কে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন আধুনিক পরীক্ষাধর্মী সংগীতের অন্যতম পথিকৃৎ, পাশাপাশি সংগীততত্ত্ববিদ, শিল্পী ও দার্শনিক হিসেবেও পরিচিত।   ৬৩৯ বছরের সময়সীমা নির্ধারণের পেছনেও রয়েছে একটি ঐতিহাসিক কারণ। হালবারস্টাড শহরে ১৩৬১ সালে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক অর্গানের স্মরণে ২০০০ সালে এই প্রকল্প শুরু করা হয়। দুই বছরের ব্যবধান হিসাব করলে দাঁড়ায় ঠিক ৬৩৯ বছর।   প্রকল্পটির উদ্যোক্তাদের মতে, এটি শুধু একটি সংগীত পরিবেশনা নয়, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রতীক। কারণ এই পরিবেশনা শেষ হওয়ার আগেই বহু প্রজন্ম বদলে যাবে। নতুন স্বেচ্ছাসেবক, সংগীতজ্ঞ ও কারিগরদের হাতেই প্রকল্পটির দায়িত্ব ক্রমান্বয়ে হস্তান্তর হবে।   স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো থেকে আসা সংগীতপ্রেমী মাইকেল বার্নেট বলেন, জীবনে অন্তত একবার এই অভিজ্ঞতার অংশ হতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর মতে, "পৃথিবীতে এমন সংগীতানুষ্ঠান আর নেই। একই সঙ্গে ভাবতে অবাক লাগে, ২৬৪০ সালে পৃথিবী কেমন হবে, গির্জাটি থাকবে কি না, অর্গানটি তখনও বাজবে কি না।"   অর্গান নির্মাতা জোহানেস হুফকেন জানান, এই প্রকল্পের জন্য তৈরি করা পাইপগুলো অন্তত আরও ৫০০ বছর টিকে থাকার মতো করেই নির্মাণ করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে পরিকল্পনা করার এক অসাধারণ উদাহরণ।   প্রকল্পের পরবর্তী কর্ড পরিবর্তনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ৫ অক্টোবর। আর ২৬৪০ সালের চূড়ান্ত পরিবেশনার জন্য উত্তরাধিকারসূত্রে হস্তান্তরযোগ্য বিশেষ টিকিট ইতোমধ্যে ২ হাজার ৬৪০ ইউরো মূল্যে বিক্রি শুরু হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ২৩:৫২
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা আয়াতুল্লাহ আমোলি লারিজানি। ছবি: সংগৃহীত

যে কোনো মূল্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে ইরান: লারিজানি

বিয়ের আগে আইল্যাশ এক্সটেনশন করিয়ে গুরুতর অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হন যুক্তরাজ্যের তরুণী পলি বিবি। ছবি: সংগৃহীত

বিয়েতে 'রাজকন্যার' মতো সাজতে গিয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানোর উপক্রম কনের, যেতে হলো হাসপাতালে

টাইট অ্যাকটিভওয়্যার নিয়ে মন্তব্য করে ভাইরাল হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার টিকটকার পপি। ছবি: সংগৃহীত

ব্যায়ামের পোশাক পরে শপিংমলে নারীরা, 'ভদ্রতা' নিয়ে প্রশ্ন তুলে তোপের মুখে তরুণী

চীনের জিনহুয়ায় লিপমোটরের উৎপাদন লাইনে তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ি ইতালি সরকারের ক্রয়ের অনুদান প্রকল্প ব্যবহার করে বিক্রি বাড়ানোয় ভূমিকা রেখেছে। ছবি: ভিসিজি/গেটি
ইউরোপের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে চীনের দাপট বাড়ছে

ইউরোপের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে পশ্চিম ইউরোপের বাজারে চীনা ব্র্যান্ডের তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির অংশ বেড়ে ১৪ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ওই সময়ে বিক্রি হওয়া প্রতি সাতটি ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির একটি ছিল চীনা ব্র্যান্ডের। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান শ্মিট অটোমোটিভ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে চীনা ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮০০টি, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় বাজার অংশে প্রায় পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি।   চীনের বিওয়াইডি, চেরি, এসএআইসি ও এক্সপেংয়ের মতো গাড়ি নির্মাতারা ইউরোপের বাজারে রপ্তানি বাড়িয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির বৈশ্বিক বাজারে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে চীনা শিল্পের সম্প্রসারণের মধ্যেই ইউরোপে এসব গাড়ির বিক্রি বাড়ছে। একই সময়ে কঠোর নির্গমন নীতির কারণে ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতাদেরও ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি বাড়াতে হচ্ছে। ফলে চীনা নির্মাতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ইউরোপের প্রচলিত গাড়ি নির্মাতাদের ওপর চাপ বাড়ছে।   চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি বাড়ার বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে এসব গাড়ির ওপর শুল্ক এবং বাজার সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করছে। অভিযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি পাওয়া চীনা গাড়ি নির্মাতারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের বাজারে তুলনামূলক কম দামে গাড়ি বিক্রি করে বাজার দখলের চেষ্টা করছে। ইউরোপীয় নির্মাতাদের সুরক্ষায় কোটার ব্যবস্থা ও আরও বেশি শুল্ক আরোপের দাবিও জোরালো হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে কিছু চীনা নির্মাতার তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এর সঙ্গে নিয়মিত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কও রয়েছে।   ইউরোপে চীনা গাড়ির সবচেয়ে বড় বাজার এখন যুক্তরাজ্য। দেশটির সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ না করায় যুক্তরাজ্যে চীনা গাড়ির বিক্রি বেশি হয়েছে। পশ্চিম ইউরোপের ১৮টি বড় বাজারে চীনা ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির মোট বিক্রির প্রায় এক-চতুর্থাংশই যুক্তরাজ্যে হয়েছে। অন্যদিকে মোট বিক্রির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এসেছে ইতালি থেকে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি অবশ্য ইতালির এই উচ্চ বিক্রয়কে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখেছে। দেশটিতে লিপমোটর বিপুলসংখ্যক কম দামের টি০৩ বৈদ্যুতিক গাড়ি পাঠিয়েছে। সরকারি ক্রয় ভর্তুকির সুবিধায় একপর্যায়ে এসব গাড়ির দাম ৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত নেমে এসেছিল, যা প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডগুলোর কম দামের মডেলের তুলনায়ও অনেক কম।   চীনা নির্মাতারা চলতি বছর ইউরোপের বাজারে ১২০টিরও বেশি ভিন্ন মডেলের গাড়ি বিক্রি করেছে। একই সময়ে ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলোর মডেলের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০০টি। তবে গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথিয়াস শ্মিট মনে করছেন, ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে চীনের অংশ হয়তো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এর একটি কারণ হিসেবে তিনি চীনা নির্মাতাদের প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির দিকে কিছুটা বেশি মনোযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। এসব গাড়িতে পেট্রোলচালিত ইঞ্জিনের সঙ্গে তুলনামূলক ছোট ব্যাটারি থাকে এবং বর্তমানে শুধু ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর যে অতিরিক্ত শুল্ক রয়েছে, তা এসব গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।   শ্মিটের মতে, চীনা নির্মাতারা আগামী ১২ মাসে প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে, কারণ এসব গাড়ি বর্তমানে অতিরিক্ত শুল্কের আওতার বাইরে রয়েছে। তবে আগামী ১২ মাসে এই সুবিধা বন্ধ হওয়ার কথা থাকায় চীনা নির্মাতারা ওই সময়ের মধ্যে সুযোগটি কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। এদিকে জার্মান গাড়ি নির্মাতা ভক্সওয়াগেনের প্রধান নির্বাহী অলিভার ব্লুম ইউরোপের প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপরও শুল্ক ব্যবস্থার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপরও শুল্ক বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।   এদিকে ইউরোপের গাড়ির বাজারে টেসলার বিক্রিতেও ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই গাড়ি নির্মাতার বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। তুলনামূলক কম দামের মডেল থ্রি ও মডেল ওয়াইয়ের চাহিদা বাড়ায় এই বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সময়ে ইউরোপের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া একক গাড়ির মডেল ছিল মডেল ওয়াই। গত বছর টেসলার বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তবে চলতি বছর ইউরোপের বাজারে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রিতে আবারও বৃদ্ধি দেখা গেছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ১২:৩৮
সান ফ্রান্সিসকোতে বাসা ভাড়ায় নতুন রেকর্ড

সান ফ্রান্সিসকোতে বাসা ভাড়ায় নতুন রেকর্ড! দুই বেডরুমের ভাড়া ছাড়াল ৬ হাজার ডলার

সৌদি স্থাপনায় ড্রোন হামলা

সৌদি স্থাপনায় ড্রোন হামলা, দায় স্বীকার হুথিদের

ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সহিংসতা! তিন মাসে নিহত ২৫

ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সহিংসতা! তিন মাসে নিহত ২৫

পর্তুগালে ‘অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়
পর্তুগালে ‘অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়’, ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে এক বিদেশিকে অপহরণ করে দুই দিন আটকে রেখে মারধর, হুমকি ও নির্যাতনের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির জুডিশিয়ারি পুলিশ।   গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশির বয়স ৩৫ ও ৪৩ বছর। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাদের গ্রেপ্তারে পরিচালিত অভিযানের সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের মুদ্রা ‘টাকা’র নামে।   পর্তুগালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জরনাল দে নোতিসিয়াসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুন লিসবনের একটি সড়ক থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই বিদেশিকে জোর করে একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হলেও পুরো সময় আটকে রাখা হয়েছিল।   পর্তুগালের জুডিশিয়ারি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আটকে রাখার সময় ভুক্তভোগীকে বারবার মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার মুক্তির বিনিময়ে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত মুক্তিপণের অর্থ পরিশোধের পর ভুক্তভোগীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। নির্যাতনের কারণে পরে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়। চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।   অভিযোগ পাওয়ার পর জুডিশিয়ারি পুলিশের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট তদন্ত শুরু করে। তদন্তে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার পর অভিযান চালিয়ে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তারের পর তাদের প্রাথমিক বিচারিক শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট আদালত বা বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হবে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।   লিসবনের তদন্ত ও প্রসিকিউশন বিভাগের পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ২:৪৯
স্পেনের ভবিষ্যৎ রানি লিওনরের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ

স্পেনের ভবিষ্যৎ রানি লিওনরের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ, প্যারাট্রুপার হিসেবে গড়লেন ইতিহাস

১,৫০০ দম্পতির সঙ্গে আবার বিয়ে করলেন বাবা

হামলায় স্ত্রী ও ৬ সন্তানকে হারিয়েছিলেন, এবার ১,৫০০ দম্পতির সঙ্গে আবার বিয়ে করলেন সেই বাবা

কানেকটিকাটে স্ন্যাপ সুবিধা হারানো পরিবারকে ৩০০ ডলারের খাদ্য সহায়তা

কানেকটিকাটে স্ন্যাপ সুবিধা হারানো পরিবারকে ৩০০ ডলারের খাদ্য সহায়তা, প্রিপেইড কার্ডে মিলবে এলাউন্স

0 Comments