যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম দুই সপ্তাহে লাখ লাখ বিদেশি পর্যটক মন ভরে উপভোগ করছেন বার্গার, বার্বিকিউসহ হরেক রকমের খাঁটি আমেরিকান খাবার ও পানীয়। তবে ভুরিভোজ শেষে রেস্তোরাঁ বা বারে বকশিশ বা ‘টিপস’ দেওয়ার চেনা আমেরিকান সংস্কৃতিতে মানিয়ে নিতে বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে এই দর্শকদের। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ফুটবলপ্রেমীদের এই বকশিশ-বিমুখতায় চরম বিপাকে পড়েছেন আমেরিকার ১১টি আয়োজক শহরের রেস্তোরাঁ ও বারের কর্মীরা। সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির এক বারে আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়ার ম্যাচ চলাকালীন একটি বড় দল প্রায় ৩০০ ডলারের বিল করার পর মাত্র ৪ ডলার বকশিশ রেখে যায়। এই ঘটনাটিকে চরম হতাশাজনক ও আপত্তিকর বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই বারের কর্মী জেসিকা ওর্দেনিয়ানা।
আমেরিকার বকশিশ সংস্কৃতির এই মারপ্যাঁচ বিদেশিদের কাছে প্রায়শই গোলমেলে ঠেকে। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক রেস্তোরাঁ কর্মী বা বারটেন্ডারদের মূল মজুরি ঘণ্টায় মাত্র ২ দশমিক ১৩ ডলারের মতো নগণ্য হতে পারে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য তারা পুরোপুরি গ্রাহকদের দেওয়া বকশিশের ওপর নির্ভর করেন। এই কারণেই দেশটিতে যেকোনো বিলের ওপর অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বকশিশ দেওয়া একপ্রকার বাধ্যতামূলক সামাজিক নিয়ম। অপরদিকে ইউরোপ বা বিশ্বের অন্যান্য দেশে খাবারের মূল্যের সঙ্গেই সার্ভিস চার্জ যুক্ত থাকে এবং সেখানকার রেস্তোরাঁ কর্মীরা সাধারণ নিয়মে ভালো বেতন পান। ফলে সেসব দেশে বকশিশ দেওয়াটা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক এবং সর্বোচ্চ এক বা দুই ইউরো দিলেই চলে। এই সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণেই মূলত বাঁধছে যত বিপত্তি।
অবশ্য অনেক পর্যটকই ইচ্ছে করে এমনটা করছেন না, বরং তারা স্থানীয় নিয়মটি বুঝতে না পেরে কর্মীদের কাছে জানতে চান কীভাবে বকশিশের হিসাব করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ চলাকালীন নিজেদের কর্মীদের আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে অনেক বার ও রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এখন মোট বিলের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ বকশিশ (অটো গ্র্যাচুইটি) জুড়ে দিচ্ছে। তবে ম্যাচ চলাকালীন অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক সময় এই নিয়ম কার্যকর করতে ভুল হয়ে যাচ্ছে। আবার কানসাস সিটির মতো কিছু শহরের রেস্তোরাঁ মালিকরা এই স্বয়ংক্রিয় বকশিশের নিয়ম চালু করে উল্টো লোকসানের মুখে পড়েছেন; কারণ অতিরিক্ত খরচের ভয়ে অনেক গ্রাহক শহরের কেন্দ্রস্থলের রেস্তোরাঁগুলো এড়িয়ে চলছেন, আবার কেউ কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়তি টাকা কাটায় অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
আমেরিকার এই বহু পুরনো বকশিশ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন সমাজকর্মী ও বিশ্লেষকরা। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পর ইউরোপীয় সামন্তবাদী প্রথা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই বকশিশ ব্যবস্থার প্রচলন করা হয়েছিল। কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিকদের নামমাত্র মূল্যে বা বিনামূল্যে খাটিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রেস্তোরাঁ মালিকরা বকশিশের নিয়ম চালু করেন, যা মূল বেতনের পরিপূরক না হয়ে কালক্রমে বেতনের বিকল্প হিসেবে রূপ নেয়। বিশ্বকাপ ফুটবলের এই মহোৎসবে বিদেশি পর্যটকদের বকশিশ দেওয়ার অনীহা যুক্তরাষ্ট্রের সেই শতবর্ষী বিতর্ক
সূত্রঃ ইয়াহু নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে সিরীয় ও হাইতিয়ান অভিবাসীদের অস্থায়ী আইনি সুরক্ষা (টিপিএস) বাতিলের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে সবুজ সংকেত দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দেওয়া ৬-৩ ব্যবধানের এই বিভক্ত রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পাওয়া প্রায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার সিরীয় এবং হাইতিয়ান নাগরিক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেন। এর আগে নিম্ন আদালত সরকারের এই সুরক্ষা কর্মসূচি বাতিলের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় বাতিল করে জানিয়েছে, অস্থায়ী নির্বাসন সুরক্ষা বাতিলের এই সিদ্ধান্ত আদালতের মাধ্যমে স্থগিত করার কোনো অধিকার সিরিয়া ও হাইতির অভিবাসীদের নেই। সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষে রায় লিখতে গিয়ে বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো জানান, টিপিএস আইনের আওতায় অসাংবিধানিক দাবির বিচারিক পর্যালোচনার কোনো সুযোগ নেই। এই রায়ের ফলে অভিবাসী ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর পক্ষে সরকারের টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করা এবং ফেডারেল আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ল। তাছাড়া, হাইতির নাগরিকদের ক্ষেত্রে বর্ণবাদের অভিযোগ এনে সমান সুরক্ষার যে দাবি করা হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ বেঞ্চ সেটিও নাকচ করে দিয়েছে। বিচারপতি আলিটো উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রশাসন মূলত টিপিএস কর্মসূচির পূর্ববর্তী বাস্তবায়নের বিরোধী, যা সম্পূর্ণ বর্ণ-নিরপেক্ষ একটি যৌক্তিক আইনি অবস্থান। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে টিপিএস সুবিধা পাওয়া ১৭টি দেশের ১০ লক্ষাধিক অভিবাসীর ওপর। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে ১৩টি দেশের অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে, যার ফলে তাদের কাজের বৈধতা হারানোসহ গ্রেফতার ও বিতাড়নের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, বিচারপতি সোনিয়া সোটোমায়র এবং কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসনের সমর্থন নিয়ে ভিন্নমত পোষণকারী বিচারপতি এলেনা কাগান তার পর্যবেক্ষণে বলেন, বাদীরা আজকের এই রায়ের চেয়ে আরও ন্যায্য বিচার প্রাপ্য ছিলেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, নিম্ন আদালতে আইনি লড়াই চলাকালীন এই সিদ্ধান্তের কারণে লাখো মানুষের জীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। হোয়াইট হাউস সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, অস্থায়ী সুরক্ষিত মর্যাদা যে কেবলই অস্থায়ী, এটি তারই প্রমাণ। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন জানান, এটি কখনোই স্থায়ী নাগরিকত্ব বা বৈধ বসবাসের পথ হিসেবে তৈরি করা হয়নি এবং এটি সম্পূর্ণভাবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারির এখতিয়ারভুক্ত। অন্যদিকে সিরীয় অভিবাসীদের পক্ষে আইনি লড়াই করা ইউসিএলএ-এর আইনের অধ্যাপক আহিলান অরুলানান্থাম এই রায়ের কড়া সমালোচনা করে মার্কিন কংগ্রেসকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, টিপিএস বাতিল হলে আমাদের সমাজের লাখো মানুষ চরম সংকটে থাকা নিজ দেশগুলোতে ফেরত পাঠানোর মতো অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হবেন। ২০১২ সালে বাশার আল-আসাদের দমনপীড়নের পর সিরিয়া এবং ২০১০ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর হাইতি প্রথম টিপিএস সুবিধা পেয়েছিল। তবে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম জানান, এই দেশ দুটি আর টিপিএস-এর মানদণ্ড পূরণ করে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় হাইতিয়ান অভিবাসীদের নিয়ে নানা ভিত্তিহীন ও বিতর্কিত মন্তব্য করলেও, প্রশাসন বর্ণবাদের কোনো উদ্দেশ্য থাকার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ২০২৫ সালে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে ট্রাম্প অভিবাসন ব্যবস্থা কঠোর করতে ব্যাপক পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যার মধ্যে ভেনিজুয়েলার নাগরিকদের বিতাড়ন এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের মতো বিতর্কিত নির্বাহী আদেশও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের আটকে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে সবুজ সংকেত দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান আশ্রয়প্রার্থী নীতিমালায় একটি মৌলিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ৬-৩ ভোটের এই রায়ের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের বহুল আলোচিত 'টার্ন-ব্যাক' বা 'মিটারিং' নীতি পুনরায় চালুর পথ সুগম হলো। এর ফলে মার্কিন কেন্দ্রীয় এজেন্টরা অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রাখার আগেই সীমান্ত থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার আইনি বৈধতা পেলেন। ফেডারেল আইন অনুযায়ী মার্কিন ভূখণ্ডে পা রাখলে নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে আশ্রয়ের আবেদন করার আইনি অধিকার পেতেন এই অভিবাসীরা। রক্ষণশীল ও উদারপন্থি বিচারপতিদের মধ্যে বিভক্ত এই রায়ে বিচারপতি স্যামুয়েল অ্যালিটোর লেখা সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে বলা হয়, সাধারণ অর্থে কোনো স্থানে প্রবেশ না করা পর্যন্ত সেখানে 'উপস্থিত হওয়া' বা 'অ্যারাইভ ইন' বলা যায় না। অন্যদিকে, এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করে ৩৫ পৃষ্ঠার ভিন্নমত প্রকাশ করেন বিচারপতি সোনিয়া সোতোমায়র, যা সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের প্রায় দ্বিগুণ দীর্ঘ। তিনি যুক্তি দেন, আদালত কেবল 'ইন' বা 'ভিতরে' শব্দটিকে আঁকড়ে ধরে একটি অযৌক্তিক ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে, যা আইনের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটকে এড়িয়ে যায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সিদ্ধান্তের ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে; এমনকি কোনো আশ্রয়প্রার্থীর প্রাণনাশের সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি থাকলেও প্রবেশদ্বারের দ্বারপ্রান্ত থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা পাবে সরকার। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, আদালতের এই রায় যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক আশ্রয় আইনকে কার্যত অকার্যকর করে দেবে, যেখানে বলা আছে সরকারি কর্মকর্তারা বন্দরে পৌঁছানো মানুষদের যাচাই করবেন এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে তাদের ফেরত পাঠাবেন না। তিন প্রেসিডেন্টের মেয়াদকাল জুড়ে চলা দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি হলো সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত। ২০১৭ সালে প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে ক্যালিফোর্নিয়া ও মেক্সিকো ভিত্তিক আইনি ও মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা 'আল ওট্রো লাডো' এবং কয়েকজন আশ্রয়প্রার্থী এই নীতির বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করেছিলেন। সেসময় এই নীতির কারণে হাজার হাজার অভিবাসীকে মেক্সিকোর বিপজ্জনক অস্থায়ী ক্যাম্পে বা অস্থায়ী বাসস্থানে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছিল। অনেকেই তখন নিরুপায় হয়ে রিও গ্র্যান্ডে বা সোনোরা মরুভূমির মতো বিপজ্জনক পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই নীতি বাতিল করলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর তার প্রশাসন নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। আল ওট্রো লাডোর নির্বাহী পরিচালক এরিকা পিনহেইরো বৃহস্পতিবারের এই রায়ের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও জলবায়ু বিপর্যয়ের এই সময়ে সীমান্ত কঠোর করার এমন নীতি আরও অসংখ্য মানুষের প্রাণহানির কারণ হবে। বর্তমানে সীমান্তে এই 'মিটারিং' নীতি কার্যকর না থাকলেও, এটি পুনরায় চালু হলে নতুন করে এক বিশাল মানবিক সংকটের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন নির্দেশনার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে সন্তানদের বিয়ে নিয়ে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে বিয়ে করে স্বামী বা স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার প্রচলিত প্রক্রিয়া আগের তুলনায় দীর্ঘ ও জটিল হয়ে ওঠায় অনেক পরিবার এখন তাদের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে। একসময় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী অনেক পরিবার দেশে গিয়ে ছেলেমেয়ের বিয়ে দিতেন এবং পরবর্তীতে স্পাউস ভিসার মাধ্যমে নবদম্পতিকে একত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ করে দিতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কঠোরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই পথ আর আগের মতো সহজ নেই। বর্তমানে স্পাউস ভিসা ও গ্রিনকার্ড-সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তিতে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। প্রবাসী পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, বিয়ের পর একজন যুক্তরাষ্ট্রে এবং অপরজন বাংলাদেশে অবস্থান করতে বাধ্য হওয়ায় দীর্ঘ সময়ের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হচ্ছে। এতে দাম্পত্য সম্পর্কে মানসিক চাপ, পারিবারিক অস্থিরতা এবং অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীকে দেখতে বারবার বাংলাদেশে যাতায়াত করায় কর্মজীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনেক অভিভাবক মনে করছেন, দীর্ঘ অপেক্ষা ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে দেশে গিয়ে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখন আগের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত পাত্র-পাত্রীর মধ্যেই সম্পর্ক খোঁজার দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বা ছোটবেলা থেকে বেড়ে ওঠা তরুণ-তরুণীদের জন্য বাংলাদেশ থেকে আসা জীবনধারা, পারিবারিক সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অনেক সময় চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়ায়। খাদ্যাভ্যাস, পারিবারিক দায়িত্ব, গৃহস্থালি কাজ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থেকেও দাম্পত্য জীবনে চাপ তৈরি হতে পারে। এদিকে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) সম্প্রতি স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন নীতিগত নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে কনস্যুলার প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করতে হতে পারে। কেবল বিশেষ বা ব্যতিক্রমধর্মী পরিস্থিতি প্রমাণ করা গেলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। নতুন এই অবস্থান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, অস্থায়ী ভিসাধারী এবং তাদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, আবেদন প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ে জটিলতা দেখা দিলে দীর্ঘ সময়ের জন্য আলাদা থাকতে হতে পারে। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। আবেদনকারীর অভিবাসন ইতিহাস, আইন মেনে চলার রেকর্ড, তথ্য গোপনের অভিযোগ কিংবা অন্য কোনো জটিলতা আছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা বৈধভাবে অবস্থান করছেন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হতে পারে। তবে অতীতে স্ট্যাটাস লঙ্ঘন, ওভারস্টে বা অন্য কোনো অভিবাসন-সংক্রান্ত জটিলতা থাকলে আবেদন অনুমোদনের পথ কঠিন হতে পারে। নতুন নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে আবেদন করলেই গ্রিনকার্ড অনুমোদনের নিশ্চয়তা তৈরি হয় না। নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হলে আবেদনকারীকে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে কনস্যুলার সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সাক্ষাৎকার শেষে ভিসা অনুমোদিত হলে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ মিলবে। তবে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, নতুন নীতির প্রভাব ইতোমধ্যে অনেক পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। তাদের পরামর্শ, বিয়ে ও অভিবাসন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করা এবং অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাটর্নি খায়রুল বাশার বলেন, বৈধভাবে বিবাহিত এবং প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণকারী আবেদনকারীরা নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করতে পারেন। তবে প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া বা প্রতারণামূলক বিয়ের চেষ্টা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এর ফলে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তার মতে, যেসব ক্ষেত্রে পারিবারিক, মানসিক বা মানবিক কারণে বিশেষ ধরনের কষ্টের বিষয়টি প্রমাণ করা সম্ভব, সেখানে কিছু সুযোগ থাকতে পারে। তবে সেটি কোনোভাবেই নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন পরিস্থিতির কারণে প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে বিয়ে ও অভিবাসন পরিকল্পনা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আগের তুলনায় এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিবাসন প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য অপেক্ষার সময় এবং পারিবারিক বাস্তবতা বিবেচনা করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ফলে সন্তানদের বিয়ে নিয়ে প্রবাসী পরিবারগুলোর পরিকল্পনায় নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। একসময় যে প্রক্রিয়াকে তুলনামূলক সহজ বলে মনে করা হতো, এখন তা অনেকের কাছেই দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার বিষয় হয়ে উঠেছে।