আমেরিকায় পড়ার স্বপ্ন? টিউশন ফি থেকে বিমান ভাড়া—সব খরচ দেবে ফুলব্রাইট
পেশাদার ও মেধাবী তরুণদের যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ করে দিতে ২০২৭-২০২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য মর্যাদাপূর্ণ 'ফুলব্রাইট ফরেন স্টুডেন্ট প্রোগ্রাম' (এফএফএসপি)-এর আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট-এর অর্থায়নে এবং ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন (আইআইই)-এর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত প্রার্থীরা ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এক বা দুই বছর মেয়াদী সম্পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ পাবেন।
মূলত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে এই অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে দৃঢ় আগ্রহী প্রার্থীদের এই বৃত্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এই বৈশ্বিক কর্মসূচিতে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত তরুণ শিক্ষক এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান, থিংক ট্যাংক বা এনজিওতে কর্মরত জুনিয়র থেকে মিড-লেভেলের পেশাদারদের আবেদনের জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আমেরিকান স্টাডিজ, নিরাপত্তা ও জ্বালানি অধ্যয়ন, কৃষি ও ভৌত বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি খাত, প্রকৌশল, ব্যবসা প্রশাসন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সামাজিক বিজ্ঞান, অর্থনীতি এবং টেসল (TESOL)-এর মতো বিভিন্ন যুগোপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আবেদনের সুযোগ পাবেন।
আবেদনের প্রাথমিক যোগ্যতা হিসেবে প্রার্থীর অবশ্যই বাংলাদেশের যেকোনো স্বীকৃত সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অসামান্য ফলাফলসহ অন্তত চার বছর মেয়াদী স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। তবে প্রার্থীর যদি যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি থাকে অথবা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি থাকেন, তবে তিনি আবেদনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন; যদিও কেবল বাংলাদেশ থেকে অর্জিত মাস্টার্স ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারবেন।
এছাড়া আবেদনকারীকে প্রস্তাবিত অধ্যয়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম দুই বছরের পূর্ণকালীন কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং আবেদনের সময় বাংলাদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণস্বরূপ টোফেল (TOEFL) পরীক্ষায় ন্যূনতম ৯০ অথবা আইইএলটিএস (IELTS)-এ ৭ স্কোর থাকা বাধ্যতামূলক।
যোগ্য ও আগ্রহী প্রার্থীদের প্রোগ্রামের নির্দেশিকা অনুযায়ী সম্পূর্ণ অনলাইনে নিজেদের আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। আবেদন প্যাকেজের অংশ হিসেবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের সব একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অনলাইনে নিবন্ধিত আবেদন পোর্টালের মাধ্যমে সরাসরি রেফারেন্সকারীদের দেওয়া তিনটি সুপারিশপত্র বা রিকমেন্ডেশন লেটার, একাডেমিক রেকর্ডের তথ্য ফরম এবং বৈধ টোফেল বা আইইএলটিএস স্কোর জমা দিতে হবে। এছাড়া কোনো আবেদনকারীর কাছে যদি জিআরই (GRE) বা জিম্যাট (GMAT)-এর বৈধ স্কোর থাকে, তবে তা-ও আবেদনের সঙ্গে বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে যুক্ত করা যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স স্কাই হারবার বিমানবন্দরে উড়োজাহাজে ওঠার আগে জিম্বাবুয়ের এক নারীকে ডেকে নিয়ে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার হাতে আটক করানোর অভিযোগ উঠেছে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে। ৪৪ বছর বয়সী প্যাটিয়েন্স গোরকে গত মার্চে বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। পরে তাকে অ্যারিজোনার তিনটি পৃথক স্থানে প্রায় দুই সপ্তাহ আটক রাখা হয়। এ ঘটনায় গোর ও তার স্বামী ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ঘটনার দিন গোর তার স্বামী ওলাওলুওয়া ওমোতোশোর সঙ্গে ফিনিক্স স্কাই হারবার বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে ছিলেন। তারা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ভ্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় গেটের এক কর্মী বিমানবন্দরের মাইকে গোরকে বারবার কাউন্টারে আসতে বলেন। গোরের হাতে আগে থেকেই বোর্ডিং পাস থাকা সত্ত্বেও কর্মী সেটি নিয়ে কথা বলেন। গোর কাউন্টারের কাছে পৌঁছানোর পরপরই তিন ব্যক্তি সেখানে আসেন এবং তাকে তাদের সঙ্গে যেতে বলেন। পরে জানা যায়, তারা অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার কর্মকর্তা ছিলেন। গোর ও তার স্বামীর করা মামলায় দাবি করা হয়েছে, বিমান সংস্থার কর্মী তাকে কাউন্টারে ডাকার পর অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে উপস্থিত হন। এরপর বিমান সংক্রান্ত কথিত বিষয়টি নিয়ে আর কোনো আলোচনা হয়নি এবং গোরকে ফ্লাইটে ওঠার বিষয়েও আর কিছু বলা হয়নি। এসব ঘটনার ভিত্তিতে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গোরকে আটক করার বিষয়টি আগে থেকেই প্রত্যাশিত ছিল। তবে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। দম্পতিটি ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে অবহেলা ও বেআইনি আটকের অভিযোগ এনেছেন। তাদের দাবি, ঘটনাটির কারণে আইনি খরচসহ ৭৫ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে গোরের সন্তান নেওয়ার চিকিৎসা প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। গোর নিজেই মামলায় নিজের পক্ষে লড়ছেন এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার কাছেও মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা প্রশ্নগুলোর জবাব দেয়নি। আটকের পর গোরকে ফিনিক্সের অভিবাসন দপ্তর, ফ্লোরেন্স আটককেন্দ্র এবং এলয় আটককেন্দ্রে রাখা হয়। মামলার নথিতে তার আটকের পরিবেশ নিয়ে একাধিক অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে মেঝেতে রাখা গদিতে ঘুমানো, খোলা শৌচাগার ব্যবহার, পরিষ্কার পোশাক ও অন্তর্বাস না পাওয়া এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আলোতে সংবেদনশীলতা থাকা সত্ত্বেও তাকে সানগ্লাস দেওয়া হয়নি বলেও মামলায় দাবি করা হয়েছে। আটক অবস্থায় খাবার দেওয়ার সময় নিয়েও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে সকালের খাবার ভোর ৪টায়, দুপুরের খাবার সকাল ১১টায় এবং রাতের খাবার বিকেল ৪টায় দেওয়া হতো বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে গোর ক্ষুধা, অস্বস্তি ও ঘুমের সমস্যায় ভুগেছিলেন বলে মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে। ওই সময় তার সন্তান নেওয়ার চিকিৎসা প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়। আদালতে জমা দেওয়া চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, গোর এমন একটি সময়সংবেদনশীল সন্তান নেওয়ার চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলেন, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ে ওষুধ গ্রহণ, নিয়মিত চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ এবং নির্দিষ্ট সময়ে চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পন্ন করা প্রয়োজন ছিল। আটক অবস্থায় এসব চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। আটকের চার দিন পর তার আইনজীবী মানবিক কারণে তাকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করেন। ওই আবেদনে তার চলমান চিকিৎসার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। গোর প্রায় ২৪ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ২০১১ সালে তার আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও একজন অভিবাসন বিচারক তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিয়েছিলেন। ওই আদেশের কারণে তাকে জিম্বাবুয়েতে ফেরত পাঠানো থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। আদালতে করা আবেদনে বলা হয়েছে, গোরের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং তিনি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়মিত হাজিরায় অংশ নিতেন। গোরের ১১ বছর বয়সী একটি মার্কিন নাগরিক সন্তান রয়েছে এবং তার আইনগত হেফাজতও তার কাছে। তিনি ১২ বছর ধরে একটি বড় বিমা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন এবং বর্তমানে জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫ সালের আগস্টে তিনি ওমোতোশোকে বিয়ে করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, আটকের আগে স্বামীর সঙ্গে ভ্রমণের সময় তাদের কোনো সমস্যা হয়নি। ঘটনার দিনও তারা বিমানবন্দরে চেক-ইন ও নিরাপত্তা তল্লাশি শেষ করে বোর্ডিং পাস পেয়েছিলেন। গোরকে আটক করার সময় অভিবাসন কর্মকর্তারা নিজেদের পরিচয় স্পষ্টভাবে দেননি বলে তার স্বামীর হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা গোরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও অপসারণের আদেশ থাকার কথা জানান। তবে ওমোতোশোর দাবি, তাকে যে পরোয়ানা দেখানো হয়েছিল তাতে বিচারকের স্বাক্ষর ছিল না। কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন ছাড়া অন্যরা নিজেদের নাম ও পরিচয় নম্বরও জানাননি বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। বিমান সংস্থার কর্মীরা ওই সময় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো প্রশ্ন বা হস্তক্ষেপ করেননি বলেও মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে। পরে গোরের আইনজীবী তাকে আটক রাখার বৈধতা নিয়ে ফেডারেল আদালতে আবেদন করেন। সরকারের পক্ষ থেকে তার মুক্তির আবেদনের বিরোধিতা করা হয়নি। ২৬ মার্চ জেলা বিচারক সুসান ব্রনোভিচ গোরকে মুক্তির নির্দেশ দেন। পরদিন তিনি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের আটক অবস্থা থেকে মুক্তি পান। মুক্তির পর গোর আবার সন্তান নেওয়ার চিকিৎসা শুরু করেন। তবে মামলার নথি অনুযায়ী, পরবর্তী চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কোনো কার্যকর ভ্রূণ তৈরি হয়নি। তার স্বামী আদালতে দেওয়া হলফনামায় দাবি করেন, আটকের কারণে তাদের পরিবার এবং সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনায় গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে গোর ও তার স্বামীর করা মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে বিচারাধীন এবং এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ বিমানভাড়া, সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও সস্তা বিমানবন্দরের তালিকা
স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির তিনজনকে হত্যার পরও হাল ছাড়েননি খুনি ভারতীয় আসামি, যুক্তরাষ্ট্রে চাইলেন নতুন বিচার
নিউইয়র্ক হারবারে নৌকা উল্টে ৫ মাসের শিশুসহ নারী নিহত, উদ্ধার ১২ জন
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মায়ামিতে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে স্ট্যাম্পস স্কলারশিপে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্যও এই ধরনের বড় স্কলারশিপের সুযোগ থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ হতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব মায়ামির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্ট্যাম্পস স্কলারশিপ পূর্ণ শিক্ষাব্যয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সমৃদ্ধি তহবিল বা এনরিচমেন্ট ফান্ডের সুবিধা দিতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনার খরচ বহনে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা পান। স্ট্যাম্পস স্কলারশিপ মূলত অত্যন্ত মেধাবী ও কৃতিত্বপূর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক একটি সুযোগ। একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণ, সহশিক্ষা কার্যক্রম, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জন আবেদনকারীর মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব মায়ামির তথ্য অনুযায়ী, নতুন স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের মেধাভিত্তিক স্কলারশিপ রয়েছে। এসব স্কলারশিপের পরিমাণ কয়েক হাজার ডলার থেকে শুরু করে পূর্ণ শিক্ষাব্যয়ের সমপরিমাণ পর্যন্ত হতে পারে। তবে প্রতিটি স্কলারশিপের যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া ও সময়সীমা আলাদা। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কলারশিপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতা করেন। তবে স্কলারশিপ পাওয়ার বিষয়টি আবেদনকারীর একাডেমিক ও অন্যান্য যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট বছরের বিশ্ববিদ্যালয় নীতির ওপর নির্ভর করে। ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি ফ্লোরিডার কোরাল গেবলসে অবস্থিত একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত সর্বশেষ নিয়ম দেখে আবেদন করা উচিত। শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, পূর্ণ অর্থায়নের স্কলারশিপ মানেই সব ধরনের ব্যক্তিগত খরচ সবসময় পুরোপুরি বহন করা হবে এমন নয়। স্কলারশিপের আওতায় ঠিক কোন কোন খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট পুরস্কারের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। তাই আবেদন করার আগে টিউশন, ফি, আবাসন, খাবার, বই, স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য খরচ সম্পর্কে শর্তগুলো ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই শুধু আবেদন করাই নয়, ভালো একাডেমিক প্রোফাইল তৈরি, সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপের আবেদন ও সময়সীমা প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে, তাই সর্বশেষ তথ্য দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
মার্কিন গার্লফ্রেন্ডকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে, ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার
ফ্লোরিডায় দুই নারীর অপ্রত্যাশিত বন্ধুত্ব, যেভাবে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হলো
আমেরিকায় ৩০০ ডলারের মেডিসিন কিনুন ২০ ডলারে! বাংলাদেশিদের জন্য এই ৩ উপায়
ফ্লোরিডায় ২৯ বছর বয়সী এক অন্তঃসত্ত্বা নারী এখন অনেকটা আত্মগোপনে দিন কাটাচ্ছেন। সাময়িক সুরক্ষা মর্যাদা বা টিপিএসের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর যেকোনো সময় তাকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না তিনি। সিবিএস নিউজকে ওই নারী জানান, মাত্র ৬ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। জীবনের অধিকাংশ সময় এই দেশেই কাটিয়েছেন তিনি। হাইতিতে এখন তার কোনো পরিবারও নেই। ফলে তাকে সেখানে ফেরত পাঠানো হলে কোথায় থাকবেন, সেটিও জানেন না। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ৩ লাখের বেশি হাইতিয়ান নাগরিক টিপিএসের আওতায় ছিলেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন এই সুরক্ষা কর্মসূচি শেষ করেছে। টিপিএসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে হাইতিয়ান অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের অভিযান জোরদার করার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে অভ্যন্তরীণ সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে। টিপিএস এমন একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা, যার আওতায় নিজ দেশে যুদ্ধ, সহিংসতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে নিরাপদে ফিরতে না পারা নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকরা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ও কাজ করার সুযোগ পান। টিপিএসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ওই নারী চাকরি হারিয়েছেন। তার হেলথ ইন্স্যুরেন্সও শিগগিরই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। অথচ তার গর্ভাবস্থা উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতি সপ্তাহে চিকিৎসকের কাছে যেতে হচ্ছে। এখন চিকিৎসার খরচ কীভাবে বহন করবেন, তা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। তার সঙ্গী একজন মার্কিন নাগরিক। ফলে সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলে শিশুটি মার্কিন নাগরিক হওয়ার যোগ্য হবে। কিন্তু সন্তানের জন্মের আগে তাকে বহিষ্কার করা হলে পরিবারটি কীভাবে একসঙ্গে থাকবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নিজের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ওই নারী বলেন, জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই কাটিয়েছেন এবং এই দেশটিকেই নিজের ঘর হিসেবে মনে করেন। টিপিএস শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্লোরিডার হাইতিয়ান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও উদ্বেগ বেড়েছে। মিয়ামির লিটল হাইতিতে আগে যেখানে ব্যস্ততা দেখা যেত, এখন অনেক মানুষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না বলে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এদিকে হাইতির নিরাপত্তা পরিস্থিতিও এখনো অত্যন্ত নাজুক। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ১০ জুলাই দেশটির জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের ‘লেভেল ৪: ডু নট ট্রাভেল’ সতর্কতা জারি করেছে। সেখানে অপরাধ, অপহরণ, সন্ত্রাস, অস্থিরতা এবং সীমিত স্বাস্থ্যসেবার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে টিপিএস হারানোর পর দেশে ফেরার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। আর সেই দ্বিমুখী অনিশ্চয়তার মধ্যেই ফ্লোরিডার এই অন্তঃসত্ত্বা নারী এখন প্রতিদিন কাটাচ্ছেন গ্রেপ্তার ও নির্বাসনের আতঙ্কে।
ভাসমান পেয়ারার হাটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, নৌকায় ঘুরে দেখলেন কৃষকদের ব্যস্ততা
আগস্টের মধ্যেই সব ফিল্ড অফিসারকে বডি ক্যামেরার আওতায় আনছে আইসিই