আমেরিকা

বাবা-মায়ের নির্বাসনের জেরে নিজের জন্মস্থান যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে ছোট ছোট অভিবাসী শিশুরা

Unknown প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১৮:৩৯
জন্মস্থান যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে ছোট ছোট অভিবাসী শিশুরা l ছবি: সংগৃহীত
জন্মস্থান যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে ছোট ছোট অভিবাসী শিশুরা l ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক ধরপাকড় ও নির্বাসন অভিযানের কারণে বাবা-মায়ের সঙ্গে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে ছোট ছোট শিশু। গত বুধবার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনটি পরিবারের আটজন শিশু গুয়াতেমালার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন শিশু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং তাদের বেশিরভাগেরই এটি জীবনের প্রথম বিমানযাত্রা। ফ্লোরিডাভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘দ্য গুয়াতেমালান-মায়া সেন্টার’ এই শিশুদের লাতিন আমেরিকায় তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে এবং ভ্রমণ নথিপত্র তৈরিতে সহায়তা করছে।

 

এই পরিস্থিতিকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেছেন সংস্থাটির অন্যতম সংগঠক লিন্ডসে ম্যাকএলরয়। তিনি জানান, যে দেশকে এই শিশুরা নিজেদের বলে জেনেছে, ভালোবাসে এবং যেখানে তারা বেড়ে উঠেছে, সেখান থেকে তাদের একপ্রকার নির্বাসিত হতে হচ্ছে। পরিচিত বন্ধুবান্ধব, পরিবার এবং শিক্ষাজীবন পেছনে ফেলে সম্পূর্ণ অচেনা এক গন্তব্যে পাড়ি জমাতে বাধ্য হচ্ছে এই শিশুরা।

 

কয়েক মাস আগে ৭ বছর বয়সী ক্রিস্টিনার বাবা এবং বড় ভাইকে আটক করে নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল। এবার ক্রিস্টিনাও তার মা মাগদালেনা, ভাই-বোন ও এক বছর বয়সী এক ভাগনের সঙ্গে গুয়াতেমালায় ফিরে যাচ্ছে। তবে ক্রিস্টিনার ১৯ বছর বয়সী বড় বোন, যে ওই এক বছর বয়সী শিশুটির মা, সে পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

জানা গেছে, প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় ক্রিস্টিনাদের পরিবার বিচ্ছিন্ন হলেও পরবর্তীতে ২০২২ সালে তারা আবার একত্র হয় এবং তিন বছরের জন্য কাজের অনুমতি পায়। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন তাদের সেই অনুমতির মেয়াদ আর বাড়ায়নি। স্বামীর নির্বাসনের পর বাসা ভাড়া ও সংসারের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন মাগদালেনা। তাই বাধ্য হয়েই সন্তানদের নিয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

 

বিমানবন্দরে পরিবারগুলোর এই বিদায়বেলা ছিল অত্যন্ত বেদনদায়ক। তিন বছর বয়সী ইথান এবং ছয় বছর বয়সী আবেলকে বিদায় জানাতে এসেছিলেন তাদের বাবা। এই শিশুদের মা মাত্র দুই মাস আগে নির্বাসিত হয়েছেন। তবে তাদের বাবা পরিবারের জন্য অর্থ পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যাওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সন্তানদের বিদায় দেওয়ার সময় তিনি অঝোরে কাঁদতে থাকেন। মিয়ামি বিমানবন্দরে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য এখন প্রতিনিয়তই দেখা যাচ্ছে। অভিবাসী অধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, নতুন এই অভিবাসন নীতির কারণে অসংখ্য শিশুর শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে গিয়ে পড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আমেরিকা

View more
জোহরান মামদানি, মেয়র নিউইয়র্ক। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ১০ লাখ অ্যাপার্টমেন্টে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে না, তবু কিছু বাসিন্দার বাড়তে পারে ভাড়া

নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ১০ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের জন্য বড় স্বস্তির খবর এসেছে। শহরের রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড এক ও দুই বছরের লিজের ক্ষেত্রে ভাড়া না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া অন্যতম প্রতিশ্রুতি পূরণ হওয়ায় এটি মেয়র জোহরান মামদানির জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।   তবে এই সিদ্ধান্তের বাইরে থেকে গেছেন ব্রঙ্কসের ট্রেসি টাওয়ার্স আবাসনের শত শত বাসিন্দা। তাদের জন্য বরং আগামী চার বছরে ধাপে ধাপে প্রায় ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে, যা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ব্রঙ্কসের ৮৭১ ইউনিটের ট্রেসি টাওয়ার্স 'মিচেল-লামা' কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত একটি সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প। এই কর্মসূচি ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টের নিয়মের আওতায় পড়ে না। ফলে রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের ভাড়া স্থগিতের সিদ্ধান্ত এখানকার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না।   আবাসনটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান আরওয়াই ম্যানেজমেন্ট চলতি মাসে ভাড়া বাড়ানোর আবেদন করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম বছরে ১৫ শতাংশ, পরবর্তী দুই বছরে প্রতি বছর ৫ শতাংশ এবং চতুর্থ বছরে আরও ৩ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হবে। সব মিলিয়ে চার বছরে ভাড়া বৃদ্ধি দাঁড়াবে ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশে। এর ফলে বর্তমানে এক শয়নকক্ষের একটি ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৩৪৪ ডলার থেকে বেড়ে ধাপে ধাপে প্রায় ১ হাজার ৭৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, মিচেল-লামা কর্মসূচির আবাসনগুলোর ভাড়া নির্ধারণ করে নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এইচপিডি) বিভাগ। রাজ্যের আইন অনুযায়ী, ভবনের পরিচালন ব্যয় মেটাতে প্রয়োজনীয় ভাড়া বৃদ্ধির আবেদন অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে সংস্থাটির। ফলে এই ক্ষেত্রে মেয়রের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। এ পরিস্থিতি মেয়র মামদানির জন্য রাজনৈতিক অস্বস্তিরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব কমানো বা বিকল্প আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল স্পিকার জুলি মেনিন, ব্রঙ্কস বরো প্রেসিডেন্ট ভেনেসা গিবসনসহ ছয়জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি মেয়রের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।   জুলি মেনিন বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় যখন লাগামছাড়া, তখন মিচেল-লামার বাসিন্দাদের ওপর ৩০ শতাংশের বেশি ভাড়া বৃদ্ধির চাপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কীভাবে পরিস্থিতি এত দূর গড়াল, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। আগামী জুলাই মাসে এ বিষয়ে শুনানির আয়োজন করবে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল।   অন্যদিকে, মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, ট্রেসি টাওয়ার্সের মতো আবাসনগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ করা হবে। তবে বিদ্যমান রাজ্য আইনের কারণে পরিচালন ব্যয় মেটাতে প্রয়োজনীয় ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি সমর্থন করা ছাড়া বিকল্প নেই। এইচপিডি কমিশনার ডিনা লেভি বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠকে জানান, ভাড়া বাড়ানোর উদ্দেশ্য ভবনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়। মূল সমস্যা হলো ভবনটির দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট। আবাসনটি তিন বছর ধরে বন্ধকী ঋণের কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে রয়েছে এবং নিয়মিত পরিচালন ব্যয়ও মেটাতে পারছে না। তিনি জানান, ভবনের বিকল লিফট, ছাদ চুইয়ে পানি পড়াসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে আলাদাভাবে ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।   তবে এসব ব্যাখ্যায় আশ্বস্ত নন অনেক বাসিন্দা। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রবীণদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি। ৭৯ বছর বয়সী সাবেক ভাড়াটিয়া সমিতির সভাপতি টনি টেইলর বলেন, অবসরে যাওয়ার সময় এই আবাসনটি সত্যিই সাশ্রয়ী ছিল। এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছি যে ওষুধ কিনব, নাকি খাবার কিনব, সেটাই ভাবতে হচ্ছে। স্থানীয় কাউন্সিল সদস্য এরিক ডিনোভিটজও বিষয়টির অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড যখন ২ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়েও তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে, তখন একই শহরে অন্য একটি আবাসনে ৩০ শতাংশের বেশি ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি মেনে নেওয়া হচ্ছে।   তবে ট্রেসি টাওয়ার্সের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাসিন্দা ফেডারেল সেকশন ৮ আবাসন ভর্তুকি বা প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ভাড়া সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় থাকায় তাদের নিজস্ব পকেট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হবে না। কিন্তু বাকি শত শত পরিবারের জন্য এই প্রস্তাব বড় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।   ভাড়াটিয়া সমিতির সভাপতি জিন হিলের অভিযোগ, সাশ্রয়ী আবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েই মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক বাসিন্দার মনে হচ্ছে, সেই প্রতিশ্রুতি তাদের জন্য ছিল না।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ২১:৩
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের নতুন রায়ে সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরানোর আইনি ভিত্তি আরও শক্তিশালী হলো। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের সীমান্ত থেকেই ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা পেল ট্রাম্প প্রশাসন

সাঁজোয়া যানের নিচে চাপা পড়ে আদ্রিয়ান বনসে নামের এক মার্কিন সেনার মৃত্যু l ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সামরিক মহড়ায় ট্যাংকের নিচে চাপা পড়ে মার্কিন সেনার মৃত্যু

নেপারভিল পুলিশের কমান্ডার উইলিয়ামস l ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে ২৮ বছরের সেবা শেষে অবসরে নেপারভিল পুলিশের কমান্ডার উইলিয়ামস।

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
লস অ্যাঞ্জেলেসে সবচেয়ে দামি ভাড়াবাড়ির তালিকায় কেটি পেরির বিলাসবহুল বাড়ি

লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড হিলসে অবস্থিত ১০৩ বছরের পুরোনো একটি বিলাসবহুল এস্টেট ভাড়ার জন্য বাজারে এসেছে, যা শহরটির ইতিহাসের অন্যতম দামি ভাড়াবাড়ি হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। 'পার্ক হিল এস্টেট' নামের এই সুবিশাল বাড়িটির একসময়ের মালিক ছিলেন বিখ্যাত পপতারকা কেটি পেরি। বাড়িটিতে থাকতে হলে মাসে ২ লাখ ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার খরচ করতে হবে।   এমনকি বছরের নির্দিষ্ট সময় এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের উৎসবের ওপর ভিত্তি করে এই ভাড়া মাসে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্রোকাররা। ৩ একর জমির ওপর নির্মিত এই মনোরম বাড়ি থেকে শহরের দিগন্ত ও মহাসাগরের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়।   ১৯২৩ সালে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার সি.এফ. ডিউইটের হাত ধরে নির্মিত ৮১৫৯ হলিউড বুলেভার্ডের এই বাড়িটির ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। পরবর্তীকালে এটি কিংবদন্তি সংগীত প্রযোজক রালফ পিয়ারের মালিকানায় ছিল, যার আমন্ত্রণে ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রা বা ডিন মার্টিনের মতো তারকারা এখানে আসতেন। সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাডেল, ড্রেক, কেভিন হার্ট, ড্যানিয়েল কালুয়া ও লুইস হ্যামিল্টনের মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা এখানে সময় কাটিয়েছেন।   জানা যায়, ২০১১ সালে কেটি পেরি ও তার তৎকালীন স্বামী রাসেল ব্র্যান্ড সাড়ে ৬ মিলিয়ন ডলারে বাড়িটি কিনলেও তারা কখনোই সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেননি। তবে কেটি পেরি ইয়োগা ও পাইলেটিসের জন্য বাড়ির ভেতরের একটি গ্রিনহাউস ব্যবহার করতেন। ২০১৩ সালে বিবাহবিচ্ছেদের পর তারা বাড়িটি বর্তমান মালিক ও লাস ভেগাসের হোটেল ডেভেলপার লরেঞ্জো ডউমানির কাছে ৫৫ লাখ ৬০ হাজার ডলারে বিক্রি করে দেন।   বর্তমানে পুরোপুরি সংস্কার করা এই বাড়িটিকে আধুনিক বিলাসবহুল জীবনযাপনের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। এখানে ৯টি বেডরুম, ১১টি বাথরুম, একটি ভূমধ্যসাগরীয় ধাঁচের মূল বাড়ি, দ্বিতল পুল হাউস এবং একটি বিচ্ছিন্ন কাসিটা রয়েছে। ইতালির ফ্লোরেন্স থেকে আমদানি করা মার্বেল পাথর এবং ৪৫ ফুট উঁচু ক্যাথেড্রাল-স্টাইলের লিভিং রুম বাড়িটির আভিজাত্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।   এ ছাড়া রয়েছে রিসোর্ট-স্টাইলের ইনফিনিটি পুল, স্পা, ইনডোর-আউটডোর জিম, ইনফ্রারেড সনা, স্টিম রুম, হোম থিয়েটার এবং একটি পিকলবল কোর্ট। ব্রোকাররা জানিয়েছেন, যদিও বেভারলি হিলস বা বেল-এয়ারে এর চেয়েও বেশি ভাড়ার বাড়ি রয়েছে, তবে হলিউড হিলস এলাকার জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি নতুন রেকর্ড।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ১৭:২৯
জামিন ছাড়া আটকে রাখার নীতি পুনর্বহাল করতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন l ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসীদের জামিন ছাড়াই আটক রাখতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ট্রাম্প প্রশাসন

শুল্ক আরোপের কড়া হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প l ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন কোম্পানির ওপর ডিজিটাল কর বসালে পাল্টা ১০০% শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের

ছবি: এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি

মেডিকেয়ার–মেডিকেইডে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও বিলিং: বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য যা জানা জরুরি

ছবি: কোলাজ । আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে লাখো অভিবাসীর অনিশ্চয়তা, ট্রাম্পকে টিপিএস বাতিলের ক্ষমতা দিল সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের ফলে দেশটিতে বসবাসরত কয়েক লাখ অভিবাসীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য দেওয়া টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিলের ক্ষমতা বহাল রাখার সুযোগ দিয়েছে।   এই রায়ের ফলে প্রায়৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতিয়ান এবং ৬ হাজার সিরীয় অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। টিপিএস বাতিল হলে তাদের অনেককেই সহিংসতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা মানবিক সংকটে থাকা নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে।   আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা রায়ে বলেন, টিপিএস প্রদান বা বাতিলের সিদ্ধান্ত মূলত নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ার। সাংবিধানিক প্রশ্ন ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ সীমিত। ফলে ভবিষ্যতেও প্রশাসন টিপিএস সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা পাবে।   তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী হাজারো পরিবার এই কর্মসূচির ওপর নির্ভর করে জীবন গড়ে তুলেছে। হঠাৎ করে তাদের আইনি সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ হারানো শুধু মানবিক সংকটই সৃষ্টি করবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   টিপিএস মূলত যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা চরম অস্থিতিশীলতায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের নাগরিকদের অস্থায়ী নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই কর্মসূচির আওতায় থাকা অনেক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী জীবন গড়ে তুলেছেন। ফলে তাদের সুরক্ষা এক ঝটকায় প্রত্যাহার করা বড় ধরনের সামাজিক ও মানবিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।   অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো, টিপিএস একটি অস্থায়ী কর্মসূচি এবং এর মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না। প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই মর্যাদা বাতিল করার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে।   রায়ের পর এখন বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পেয়েছে। অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো কংগ্রেসকে দ্রুত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে টিপিএসধারীদের জন্য স্থায়ী আইনি সুরক্ষা বা নাগরিকত্বের পথ তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে জাতীয় বিতর্কও উসকে দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ১২:৪৯
নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় ‘ভালো’ আয়োজিত মেলায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ও মেলা’য় চটপটি খাওয়া প্রতিযোগিতার একটি দৃশ্য । ছবি: সংগৃহীত

জ্যামাইকায় ‘ভালো’ মেলা: নিউইয়র্ক একদিনের জন্য যেন ফিরে এলো বাংলাদেশ!

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

প্রবাসে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল, আটলান্টিক সিটি হাইস্কুলে মেধা তালিকায় ৪ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

নিউইয়র্কে জামালপুর জেলা সোসাইটির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে অতিথি ও নেতৃবৃন্দ। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে জামালপুর জেলা সোসাইটির অভিষেক, সম্প্রীতি ও উন্নয়নে একসঙ্গে কাজের অঙ্গীকার

0 Comments