আজাদ কাশ্মিরে বিক্ষোভ দমনে খাদ্য-জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ, সংকটে সাধারণ মানুষ
পাকিস্তান অধিকৃত আজাদ কাশ্মিরে চলমান বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। বিক্ষোভের তীব্রতা কমাতে অঞ্চলটিতে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রবেশ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি। বিবিসি উর্দু ও পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডনের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাজার, মুদি দোকান, ফার্মেসি ও পেট্রোল পাম্পগুলোতে প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রাজধানী মুজাফফরাবাদের বাসিন্দারা খাদ্য ও জ্বালানির জন্য পার্শ্ববর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। একইভাবে পুঞ্চ, রাওয়ালাকোট, বাঘ ও নীলম উপত্যকার মানুষ প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করছেন রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদ থেকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাংবাদিকদের প্রবেশ কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে। পাশাপাশি অধিকাংশ এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ বা অত্যন্ত ধীরগতির হয়ে পড়েছে, যার ফলে তথ্যপ্রবাহেও সৃষ্টি হয়েছে বাধা।
ঐতিহাসিকভাবে সংবেদনশীল এই অঞ্চলটি ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে আজাদ কাশ্মির ও গিলগিট-বাল্টিস্তান পাকিস্তানের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচালিত হয়, যেখানে পৃথক আইনসভা রয়েছে। আজাদ কাশ্মিরের আইনসভায় মোট ৪৫টি আসন থাকলেও এর একটি অংশ উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত।
সম্প্রতি সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা বাতিল এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবিতে ৫ জুন থেকে আন্দোলন শুরু করে স্থানীয় রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে)। ৯ জুন ডাকা হরতালকে কেন্দ্র করে আন্দোলন সহিংস রূপ নেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এএফপির আগের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, গত দুই সপ্তাহে সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সংবাদমাধ্যম ও ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের কারণে এরপরের পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
বাসিন্দাদের বর্ণনায় উঠে এসেছে চরম দুর্ভোগের চিত্র। নীলম জেলার আলিফ দীন বিবিসি উর্দুকে বলেন, রেশন দোকানে টাকা জমা থাকলেও গত ১৫ দিন ধরে তিনি আটা পাচ্ছেন না। খোলা বাজারে পাওয়া গেলেও দাম এত বেশি যে তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। অন্যদিকে পুঞ্চ জেলার এক বাসিন্দা নাভিদ জানান, রাওয়ালপিন্ডি থেকে খাদ্যসামগ্রী কিনে ফেরার পথে নিরাপত্তা বাহিনী তার পণ্য জব্দ করে নেয়। পরিবারের প্রয়োজনের কথা জানিয়ে অনুরোধ করলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আজাদ কাশ্মিরের প্রবেশপথে খাদ্য ও নিত্যপণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি দাঁড়িয়ে থাকলেও সেগুলো ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে ডনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, রক্তপাত ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার এ কৌশল নিয়েছে। তার দাবি, জরুরি পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হলে বিক্ষোভের তীব্রতা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে।
তবে আন্দোলনকারীরা পিছু হটার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছেন না। জেএএকের নেতারা জানিয়েছেন, তারা দাবি আদায়ে আরও জোরালো কর্মসূচি নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে প্রায় এক লাখ মানুষ নিয়ে রাওয়ালাকোট থেকে রাজধানী মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত লংমার্চ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে আজাদ কাশ্মিরে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিক্ষোভ সাময়িকভাবে স্তিমিত হলেও কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এখন চরম চাপে রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreকানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভিক্টোরিয়া থেকে টরন্টোগামী পোর্টার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ছোট এক শিশু সিটে বসে সিটবেল্ট বাঁধতে না পারায় শেষ পর্যন্ত পুরো ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। ৬ আগস্টের এ ঘটনায় শিশুটিকে নিরাপদে সিটবেল্ট পরাতে তার অভিভাবক ও কেবিন ক্রুরা একাধিকবার চেষ্টা করেও সফল হননি। ফলে উড়োজাহাজটি টার্মিনালে ফিরে যায় এবং পরদিন পর্যন্ত যাত্রীদের ভিক্টোরিয়াতেই থাকতে হয়। পোর্টার এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, উড্ডয়নের আগে শিশুটি বারবার নিজের সিটে দাঁড়িয়ে পড়ছিল এবং সিটবেল্ট দিয়ে তাকে নিরাপদে আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। যেহেতু একজন যাত্রীকে নিরাপদভাবে সিটে সুরক্ষিত না করে উড়োজাহাজ উড্ডয়ন করা সম্ভব নয়, তাই ক্রুরা বিমানটি আবার টার্মিনালে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর শিশুটি, তার অভিভাবক এবং তাদের লাগেজ বিমান থেকে নামানো হয়। একই সঙ্গে নতুন করে ফ্লাইট পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ করতে সময় লাগে। সব মিলিয়ে এত দেরি হয়ে যায় যে ভিক্টোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের রাত ১২টা ৩০ মিনিটের রানওয়ে বন্ধ হওয়ার সময় পেরিয়ে যায়। ফলে সেদিন আর টরন্টোর উদ্দেশে ফ্লাইটটি ছাড়তে পারেনি। ফ্লাইটের অন্য যাত্রীদেরও বিমান থেকে নেমে রাতটি ভিক্টোরিয়ায় কাটাতে হয়। পরে তাদের পরদিনের ফ্লাইটে পুনরায় বুকিং দেওয়া হয়। পোর্টার এয়ারলাইন্স এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই বিমান ভ্রমণের সময় ছোট শিশুদের নিরাপদে সিটে রাখার দায়িত্ব এবং এ ধরনের পরিস্থিতিতে এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তা প্রটোকল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে শিশুটির পরিবারের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পোর্টার এয়ারলাইন্সের নীতিমালা অনুযায়ী, ফ্লাইট বাতিল বা বড় ধরনের বিলম্ব হলে যাত্রীদের পরবর্তী উপলভ্য ফ্লাইটে বিনা খরচে পুনরায় বুকিং দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
স্ত্রীর ওষুধের টাকা নেই, তাই নিজের সবকিছু বিক্রি করছেন ৮১ বছরের বৃদ্ধ
রোনালদোর বিয়ের ভেবে ভেন্যুর সামনে ভিড়, শেষে বেরিয়ে এলেন অন্য নবদম্পতি
বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির গান বাজছে জার্মানির এক অর্গানে, শেষ হবে ২৬৪০ সালে
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বিষয়ে আবারও কঠোর অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, এই জলপথের ওপর বর্তমান নিয়ন্ত্রণ থেকে তেহরান কোনো অবস্থাতেই সরে আসবে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ইরানের প্রভাবশালী নীতিনির্ধারণী সংস্থা এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের প্রধান আয়াতুল্লাহ আমোলি লারিজানি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ রক্ষায় ইরান প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে এবং এ বিষয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বর্তমানে এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি এবং ইরান এর পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শর্ত পূরণের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আমির আকরামিনিয়া দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বর্তমান নিয়ন্ত্রণ একটি "অপরিবর্তনযোগ্য বাস্তবতা"। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এই পরিস্থিতি বদলাতে পারবে না এবং বাস্তবতা মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের সামনে অন্য কোনো পথ নেই। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের চেষ্টা হলে চলমান সংঘাতের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে। এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একাধিক শর্ত দিয়েছে তেহরান। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সামরিক চাপ বন্ধ, নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং সাম্প্রতিক হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণসহ আরও কয়েকটি দাবি। এসব বিষয়ে অগ্রগতি না হলে প্রণালিটি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ফলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সমুদ্রপথে বাণিজ্যের ওপরও এর সরাসরি প্রভাব পড়ে।
বিয়েতে 'রাজকন্যার' মতো সাজতে গিয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানোর উপক্রম কনের, যেতে হলো হাসপাতালে
ব্যায়ামের পোশাক পরে শপিংমলে নারীরা, 'ভদ্রতা' নিয়ে প্রশ্ন তুলে তোপের মুখে তরুণী
ইউরোপের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে চীনের দাপট বাড়ছে
সান ফ্রান্সিসকোর রেন্টের বাজারে নতুন করে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ে শহরটির দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম রেন্ট ৬ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে একটি ভাড়া তালিকাভুক্তি প্ল্যাটফর্মের তথ্যে উঠে এসেছে। তবে এই পরিসংখ্যান নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবাসন বাজার বিশ্লেষকেরা, কারণ সব ধরনের অ্যাপার্টমেন্ট এই হিসাবের আওতায় নেই। সাম্প্রতিক এই হিসাব অনুযায়ী, সান ফ্রান্সিসকোর বর্তমান রেন্টের বাজার যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসন বাজারগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের রেন্ট দ্রুত বাড়ায় পরিবার ও একাধিক কক্ষের বাসা খোঁজা ভাড়াটিয়াদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। তবে ৬ হাজার ডলারের মধ্যম রেন্টের হিসাবটি মূলত বর্তমানে বাজারে থাকা তুলনামূলক দামি ও পেশাদারভাবে পরিচালিত অ্যাপার্টমেন্টের তালিকার ওপর নির্ভর করছে। পুরোনো ভবনের অনেক অ্যাপার্টমেন্ট এবং ছোট মালিকদের নিয়ন্ত্রণে থাকা তুলনামূলক কম রেন্টের ইউনিট এতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয় না। অন্যদিকে অ্যাপার্টমেন্ট লিস্টের মতো ভিন্ন পদ্ধতিতে বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবে দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম রেন্ট প্রায় ৪ হাজার ৪০০ ডলারের কাছাকাছি। অর্থাৎ কোন তথ্যসূত্র ও কোন ধরনের ইউনিট বিবেচনা করা হচ্ছে, তার ওপর রেন্টের হিসাব উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যেতে পারে। সান ফ্রান্সিসকোর স্থানীয় আবাসন পরিস্থিতিও দীর্ঘদিন ধরে ব্যয়বহুল। শহরের প্রায় ৬৫ শতাংশ বাসিন্দা ভাড়ায় থাকেন। ২০২৬ সালের স্থানীয় একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম রেন্ট প্রায় ৩ হাজার ৫৬১ ডলার এবং দুই থেকে তিন বেডরুমের ইউনিটের রেন্ট অনেক ক্ষেত্রে ৪ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি। শহরের আবাসন সংকটের কারণে অনেক বাসিন্দাকে আয়ের বড় অংশ রেন্টের পেছনে ব্যয় করতে হচ্ছে। স্থানীয় সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সান ফ্রান্সিসকোর প্রায় ৩৭ শতাংশ ভাড়াটিয়া পরিবার তাদের আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি রেন্ট ও ইউটিলিটিতে ব্যয় করছিল। রেন্টের এই ঊর্ধ্বগতি শুধু সান ফ্রান্সিসকোর বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াচ্ছে না, আশপাশের শহরগুলোর রেন্টের বাজারেও প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক সময়ে সান ফ্রান্সিসকোর বাইরে ওকল্যান্ডেও রেন্ট দ্রুত বাড়তে দেখা গেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে কর্মসংস্থানের চাহিদা বাড়ায় বে এরিয়ার আবাসন বাজারে নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে সান ফ্রান্সিসকোতে তুলনামূলক কম রেন্টের কিছু ইউনিট এখনো রয়েছে। শহরের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বাসিন্দাদের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি ও সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচিতেও বাজারদরের তুলনায় অনেক কম রেন্টের সুযোগ পাওয়া যায়। আবাসন সংকটের কারণে শহরটিতে দীর্ঘদিন ধরে নতুন বাড়ি নির্মাণ বাড়ানোর দাবি রয়েছে। স্থানীয় সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, সাশ্রয়ী আবাসনের চাহিদা পূরণে বছরে প্রায় ৫ হাজার নতুন ইউনিট নির্মাণ প্রয়োজন হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শহরটি গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইউনিট নির্মাণ করেছে।
সৌদি স্থাপনায় ড্রোন হামলা, দায় স্বীকার হুথিদের
ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সহিংসতা! তিন মাসে নিহত ২৫