নিউইয়র্কে টিকটককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সংঘটিত অপহরণ ও সহিংসতার মামলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলতানা রাজিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল জুরি। গত ২৬ জুন ব্রুকলিনের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্ক ফেডারেল আদালতে বিচার শেষে এই রায় দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলাটি সেন্টেন্সিং বা সাজা নির্ধারণের পর্যায়ে রয়েছে। আদালত এখনও সাজা ঘোষণার নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করেনি।
মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির কয়েকজন সদস্যকে ঘিরে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে চলমান ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এক প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ, আটকে রাখা এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। ওই ঘটনায় সুলতানা রাজিয়াসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়।
আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জুরি সুলতানা রাজিয়া এবং মামলার আরেক আসামিকে অপহরণসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জুরি প্রায় একদিনের আলোচনা শেষে তাদের রায়ে পৌঁছায়।
এই মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি অফিস সাতজনের বিরুদ্ধে সহিংস অপহরণের অভিযোগে সুপারসিডিং অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান বিরোধই শেষ পর্যন্ত বাস্তব জীবনে সহিংস অপরাধে রূপ নেয়।
ফেডারেল আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় জুরির দোষী রায়ের পরই সাজা ঘোষণা করা হয় না। এর আগে আদালতের প্রবেশন বিভাগ আসামির অতীত, অপরাধের প্রকৃতি, ক্ষয়ক্ষতি এবং অন্যান্য আইনি বিষয় পর্যালোচনা করে একটি প্রি-সেন্টেন্স তদন্ত প্রতিবেদন (Pre-Sentence Investigation Report) প্রস্তুত করে। এরপর বিচারক ফেডারেল সেন্টেন্সিং গাইডলাইন, প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তবে প্রতিটি মামলার পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা যায় না। আদালত এখন পর্যন্ত সুলতানা রাজিয়ার সেন্টেন্সিং শুনানির তারিখ প্রকাশ করেনি।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত বিরোধ কীভাবে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে রূপ নিতে পারে এবং তার আইনি পরিণতি কতটা কঠোর হতে পারে, সেই বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
সেন্টেন্সিং শুনানিতে বিচারক যে সাজা ঘোষণা করবেন, সেটিই হবে সুলতানা রাজিয়ার বিরুদ্ধে মামলার পরবর্তী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক ধাপ। আদালতের চূড়ান্ত আদেশ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তার দণ্ডের মেয়াদ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মাদক সম্রাট হোয়াকিন ‘এল চাপো’ গুজমান-এর পলাতক দুই ছেলে ইভান আর্চিভালদো গুজমান সালাজার এবং হেসুস আলফ্রেদো গুজমান সালাজার-কে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য প্রত্যেকের ক্ষেত্রে ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই দুই ভাইকে মেক্সিকোর কুখ্যাত ‘লস চাপিতোস’ গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) জানিয়েছে, দুই ভাই এখনও পলাতক রয়েছেন। তাঁদের অবস্থান বা গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্য দিলে পুরস্কার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংস্থাটি জনসাধারণকে সতর্ক করে বলেছে, তাদের নিজেরা আটক করার চেষ্টা করা উচিত নয়, কারণ তারা সশস্ত্র ও অত্যন্ত বিপজ্জনক। যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, কারাবন্দি মাদক সম্রাট এল চাপো-র গ্রেপ্তারের পর তাঁর মাদক পাচার চক্রের একটি বড় অংশ পরিচালনার দায়িত্ব নেন এই দুই ভাই। তাদের নেতৃত্বাধীন ‘লস চাপিতোস’ গোষ্ঠী মেক্সিকোর সিনালোয়া কার্টেল-এর অন্যতম প্রভাবশালী অংশ হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল ও অন্যান্য মাদক পাচারের সঙ্গে এই গোষ্ঠীর নাম বারবার উঠে এসেছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ফেডারেল অভিযোগ রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরেই তাদের ধরতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে বলে জানিয়েছে ICE। সংস্থাটি যেকোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য দ্রুত কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
আমেরিকায় গ্রিন কার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখা বিদেশী কর্মীদের জন্য এবার বড় ধাক্কা দিতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠান যেন সহজে বিদেশী কর্মীদের স্থায়ী নাগরিকত্বের জন্য স্পন্সর (আবেদন) করতে না পারে, সেজন্য নিয়মনীতি আরও কঠোর করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছে দেশটির শ্রম বিভাগ। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপের কারণে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। এর ফলে আমেরিকায় কর্মরত হাজার হাজার বিদেশী দক্ষ পেশাজীবীর স্থায়ী হওয়ার পথ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। সাধারণত কোনো বিদেশী কর্মীকে গ্রিন কার্ড দিতে হলে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে 'পার্ম' (PERM) নামক একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এটি হলো এক ধরনের লেবার সার্টিফিকেশন বা শ্রম অনুমোদন প্রক্রিয়া। এই নিয়মে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে প্রমাণ করতে হয় যে, সংশ্লিষ্ট পদের জন্য তারা কোনো যোগ্য মার্কিন নাগরিক খুঁজে পায়নি। এছাড়া বিদেশী কর্মী নেওয়ার কারণে স্থানীয়দের বেতন বা কর্মসংস্থানে কোনো ক্ষতি হচ্ছে না—তাও নিশ্চিত করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, ২০০৪ সালের পর এই 'পার্ম' নিয়মে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তাই বর্তমান শ্রমবাজারের কথা মাথায় রেখে এবার এই পুরো প্রক্রিয়াটি আধুনিকায়নের নামে আরও জটিল ও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই পরিবর্তনের ফলে নিয়োগদাতাদের কর্মী খোঁজার প্রক্রিয়া এবং কাগজের নথিপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি কড়াকড়ির মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন শ্রম বাজার পরীক্ষার নিয়মগুলো আরও কড়া করা হবে। শ্রম বিভাগের নতুন এজেন্ডা অনুযায়ী, কোনো কোম্পানিতে কর্মী ছাঁটাই হলে মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টি আরও জোরদার করা হবে। অর্থাৎ, কোনো সংস্থায় ছাঁটাই চললে সেখানে বিদেশী কর্মী স্পন্সর করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়মের ফলে আবেদন প্রক্রিয়া শুধু ধীরগতিরই হবে না, বরং ছোট-বড় কোম্পানিগুলোর আইনি ও প্রশাসনিক খরচও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। সামান্য অস্পষ্টতার কারণেও আবেদন সরাসরি বাতিল বা কড়া তদন্তের মুখে পড়তে পারে। অবৈধ অভিবাসী দমনের পাশাপাশি বৈধভাবে আমেরিকায় আসার এবং স্থায়ী হওয়ার পথগুলোকেও সংকুচিত করার যে নীতি ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়েছিলেন, এই সিদ্ধান্ত তারই অংশ। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিন কার্ডের জন্য ইন-কান্ট্রি 'অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস' কমিয়ে কনসুলার প্রসেসিং বা নিজ দেশে ফিরে ইন্টারভিউ দেওয়ার নিয়মও জোরদার করার চেষ্টা করছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি (H-1B) ভিসার নিয়ম এবং বিদেশী কর্মীদের ন্যূনতম বেতনের কাঠামোতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এনেছিল। নতুন এই 'পার্ম' ব্যবস্থার পরিবর্তন কার্যকর হলে আমেরিকার আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও কর্পোরেট খাতে কর্মরত বাংলাদেশীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীরা বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়বেন। সূত্র: নিউজউইক
আমেরিকায় বৈধভাবে আসার ও থাকার নিয়মগুলো আরও কঠিন করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তার এই কড়া নিয়মের খড়্গ পড়েছে এমন এক দলের ওপর, যারা এতদিন বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতেন। তারা হলেন—আমেরিকান নাগরিকদের বিদেশি (নন-সিটিজেন) স্বামী অথবা স্ত্রী। সাধারণত কোনো আমেরিকান নাগরিককে বিয়ে করলে তার বিদেশি সঙ্গী সহজেই গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্ব পেয়ে যেতেন এবং তাদের তাড়া করার ভয় থাকত না। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর ক্ষমতায় আসার পর থেকে পরিস্থিতি বদলে গেছে। এখন বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে, গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে করা হচ্ছে অত্যন্ত কঠিন ও জটিল প্রশ্ন, এবং অবৈধভাবে থাকা মানুষদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার (ডিপোর্টেশন) নিয়ম আরও জোরালো করা হয়েছে। এর ফলে অনেকেই এখন গ্রেফতার বা দেশ থেকে বের করে দেওয়ার ভয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগের মুখোমুখি হতেও ভয় পাচ্ছেন। 'আমেরিকান ফ্যামিলিজ ইউনাইটেড' নামের একটি সংস্থার প্রধান জানান, এই আতঙ্কের কারণে অনেক বিদেশি সঙ্গী নিজেই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। বর্তমানে আমেরিকার ভেতরে ও বাইরে মিলিয়ে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ এই সংকটে পড়ে তাদের সাহায্য চেয়েছেন। আমেরিকান ইমিগ্রেশন লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক শারভারী দালাল-ধেইনি বলেন, "আইন অনুযায়ী আমেরিকান নাগরিকদের স্বামী-স্ত্রীরা সবসময় বিশেষ সুবিধা পেতেন। তাদের জন্য কোনো কোটা বা সংখ্যার সীমা থাকত না। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন তাদের সাধারণ আর ১০ জন অবৈধ অভিবাসীর মতোই দেখছে।" এদিকে ইমিগ্রেশন বিভাগের (USCIS) মুখপাত্র জ্যাক কাহলার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া যাচাই-বাছাই। তিনি সাফ বলেন, কোনো মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পার পেয়ে যাবেন না। যারা নিয়ম না মেনে ভিসা ছাড়া দেশে ঢুকেছেন বা মেয়াদের চেয়ে বেশি দিন ধরে আছেন, তাদের ‘অবৈধ’ হিসেবেই ধরা হবে এবং প্রয়োজনে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে। আইনজীবীরা তাই সতর্ক করে বলছেন, আমেরিকানদের বিদেশি জীবনসঙ্গীদের এখন থেকে আর ভাবার সুযোগ নেই যে বিয়ে করলেই আমেরিকায় থাকার শতভাগ অধিকার নিশ্চিত হয়ে যায়। এই নতুন কড়াকড়ির কারণে হাজার হাজার সাধারণ পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। সূত্র: এনপিআর (NPR)