আমেরিকা

সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারে নৌ-প্রতিরক্ষা কোম্পানি কিনে নিল মার্কিন জায়ান্ট লকহিড মার্টিন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১১:৮
সমুদ্রের তলদেশে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলারে ‘আল্ট্রা মেরিটাইম’ কিনে নিল লকহিড মার্টিন | ছবি: সংগৃহীত
সমুদ্রের তলদেশে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলারে ‘আল্ট্রা মেরিটাইম’ কিনে নিল লকহিড মার্টিন | ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বখ্যাত মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন সোমবার সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী প্রযুক্তিতে বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান ‘আল্ট্রা মেরিটাইম’ কিনে নেওয়ার চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। দুই দেশের প্রতিরক্ষা খাতের এই বিশাল ব্যবসায়িক চুক্তিটির আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মাধ্যমে সমুদ্রের তলদেশে সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়াবে লকহিড মার্টিন।

 

আল্ট্রা মেরিটাইম মূলত বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সামরিক ব্যবস্থা তৈরি এবং সরবরাহ করে থাকে। তাদের উৎপাদিত পণ্যের তালিকায় রয়েছে আধুনিক সোনার প্রযুক্তি, সোনোবয়া, টর্পেডো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার সলিউশন এবং স্বয়ংক্রিয় সামুদ্রিক সেন্সিং প্ল্যাটফর্মের মতো বিশ্বমানের প্রযুক্তি।

 

লকহিড মার্টিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই অধিগ্রহণের ফলে ডুবোজাহাজ এবং সাবমেরিন বিধ্বংসী যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের সামগ্রিক শক্তি অনেক বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে আল্ট্রা মেরিটাইমের তৈরি সোনোবয়া, টানা সোনার অ্যারে এবং জাহাজের নিচে বসানো সোনার লাইনের মতো পণ্যগুলো এখন সরাসরি লকহিড মার্টিনের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

 

লকহিড মার্টিন রোটারি অ্যান্ড মিশন সিস্টেমসের প্রেসিডেন্ট স্টেফানি সি হিল বলেন, এই চুক্তির ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের সহযোগী দেশগুলোর নৌবাহিনীর কাছে আরও উন্নত মানের সাবমেরিন বিধ্বংসী প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। আল্ট্রা মেরিটাইমের আন্তর্জাতিক বাজার এবং রপ্তানিযোগ্য পণ্যগুলো লকহিড মার্টিনের বর্তমান সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

 

চুক্তির সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আল্ট্রা মেরিটাইম আনুষ্ঠানিকভাবে লকহিড মার্টিনের ‘রোটারি অ্যান্ড মিশন সিস্টেমস’ ব্যবসায়িক খাতের একটি অংশ হিসেবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। আধুনিক নৌ প্ল্যাটফর্মের জন্য এই দুই জায়ান্টের একত্রীকরণ সামরিক বাজারে বড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের জেন-জি প্রবাসীদের বড় একটি অংশ। ছবি: সংগৃহীত
সন্তান জন্ম দিতে বিদেশে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের জেন-জি বাবা-মায়েরা, পছন্দ কানাডা-যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ

সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে দেশটির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। বিশেষ করে জেনারেশন জেড বা জেন-জি প্রবাসীদের একটি অংশ তুলনামূলক ভালো চিকিৎসাসেবা, কম খরচ, বেশি মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ নাগরিকত্বের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।   গ্রিনব্যাক এক্সপ্যাট ট্যাক্স সার্ভিসেসের একটি জরিপে দেখা গেছে, বিদেশে বসবাসরত মার্কিন জেন-জি প্রবাসীদের ২৮ শতাংশ ইতোমধ্যে বিদেশে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। আরও ৬৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। জরিপের ফলাফল নিয়ে ভাইসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।   জরিপে অংশ নেওয়া সব মার্কিন প্রবাসীর মধ্যে ৫৪ শতাংশ জানিয়েছেন, বিদেশে বসবাসের সময় তাঁদের সন্তান জন্ম হয়েছে। প্রজন্মভেদে সহস্রাব্দ প্রজন্ম বা মিলেনিয়ালরা এ ক্ষেত্রে এগিয়ে। তাঁদের প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। জেন-জি প্রবাসীদের মধ্যে এই হার ২৮ শতাংশ হলেও ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগ্রহ তাঁদের মধ্যে বেশ বেশি।   বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার পেছনে শুধু ভ্রমণের আগ্রহ কাজ করছে না। তরুণ মার্কিন বাবা-মায়েদের কাছে জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নাগরিকত্বসংক্রান্ত উদ্বেগ গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছে। জরিপে চিকিৎসাসেবার মান, সন্তান জন্ম দেওয়ার খরচ, নাগরিকত্বের সুবিধা এবং মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটির নীতিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হয়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ অভিভাবক বলেছেন, বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রক্রিয়া তাঁদের কাছে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মনে হয়েছে।   কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির মতো দেশগুলো এ ক্ষেত্রে অনেক মার্কিন পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এসব দেশে স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারকেন্দ্রিক বিভিন্ন সরকারি সুবিধা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ভিন্ন হওয়ায় সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু পরিবার বিদেশকে বিকল্প হিসেবে দেখছে। নাগরিকত্বও অনেকের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিছু দেশে জন্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ থাকায় সন্তানের ভবিষ্যৎ ভ্রমণ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাড়তি সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অভিভাবকেরা। জরিপে প্রায় চারজনের মধ্যে তিনজন প্রবাসী বলেছেন, সন্তান জন্ম দেওয়ার দেশ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে এসব দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা তাঁদের বিবেচনায় থাকে।   তবে বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সবার অবস্থান এক নয়। জরিপে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রবাসী বলেছেন, সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে তাঁরা সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার কথা বিবেচনা করবেন। প্রায় ৪৭ শতাংশ জানিয়েছেন, পরিবার বা বন্ধুদের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য তাঁদের ওপর চাপ ছিল। তারপরও অনেকে বিদেশেই সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। জরিপে পাঁচজনের মধ্যে একজনের বেশি বলেছেন, ভবিষ্যতে সুযোগ থাকলেও তাঁরা বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়াকেই বেছে নেবেন।   বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমদিকে অবশ্য অনেকের উদ্বেগ থাকে। জেন-জি ও মিলেনিয়াল প্রবাসীদের অর্ধেকের বেশি জানিয়েছেন, বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার চিন্তায় তাঁরা শুরুতে অস্বস্তি বা দুশ্চিন্তা অনুভব করেছিলেন। কিন্তু যারা শেষ পর্যন্ত বিদেশে সন্তান জন্ম দিয়েছেন, তাঁদের বড় অংশ অভিজ্ঞতাটি নিয়ে সন্তুষ্ট। জরিপ অনুযায়ী, বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়া মিলেনিয়ালদের ৯৩ শতাংশ এবং জেন-জির ৮৯ শতাংশ অন্যদেরও এমন অভিজ্ঞতার সুপারিশ করবেন বলে জানিয়েছেন।   এর পেছনে আরও একটি পরিবর্তন কাজ করছে। দূরবর্তী কাজের সুযোগ বাড়ায় অনেক তরুণ মার্কিন নাগরিকের কর্মস্থল ও বসবাসের জায়গার মধ্যে আগের মতো কঠোর সম্পর্ক নেই। ফলে সন্তান জন্ম, পরিবার গঠন কিংবা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য অন্য দেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াও তুলনামূলক সহজ হচ্ছে। তবে জরিপটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সব জেন-জি বাবা-মায়ের ওপর করা কোনো জাতীয় জনসংখ্যাভিত্তিক জরিপ নয়। মূলত বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন প্রবাসীদের মধ্যে পরিচালিত জরিপের ফলাফল থেকে এই প্রবণতার চিত্র পাওয়া গেছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সব তরুণ পরিবার বিদেশে সন্তান জন্ম দিতে চাইছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।   গ্রিনব্যাকের অন্যান্য গবেষণাতেও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসকারী নাগরিকদের মধ্যে জীবনযাত্রার মান, খরচ, স্বাস্থ্যসেবা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভাবনা বিদেশে থাকার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে। ২০২৫ সালের তাদের আরেক জরিপে ৩৫ শতাংশ সাধারণ মার্কিন উত্তরদাতা বিদেশে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছিলেন।   সব মিলিয়ে বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্মের মূলধারার সিদ্ধান্ত হয়ে ওঠেনি। তবে জেন-জি প্রবাসীদের মধ্যে চিকিৎসা খরচ, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবারবান্ধব নীতি ও ভবিষ্যৎ নাগরিকত্বের সুযোগকে গুরুত্ব দিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার দেশ বেছে নেওয়ার প্রবণতা যে তৈরি হয়েছে, জরিপের ফলাফল তা স্পষ্ট করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ২২:৫০
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইআরএসের প্রস্তাবিত নতুন নিয়মে চার ধরনের ফেরতযোগ্য কর ক্রেডিটের নগদ ফেরত সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের কর সুবিধা বা ট্যাক্স ক্রেডিট বাতিলে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) দেশজুড়ে কোভিড সংক্রমণের প্রবণতা নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস, প্রায় সব অঙ্গরাজ্যে বাড়ছে সংক্রমণ

গবেষণায় দেখা গেছে, পাইলটদের বিকিরণজনিত ক্যানসারে মৃত্যুর হার অন্যান্য যেকোনো পেশার মানুষের তুলনায় অনেকটাই বেশি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সেরা দুই চাকরিতে ক্যানসারে মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি: বলছে গবেষণা

দেশটির জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, বাড়তে পারে বাড়ি-গাড়ি ও ক্রেডিট কার্ডের সুদ

যুক্তরাষ্ট্রের মোট জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ঋণের এই নতুন মাইলফলক দেশটির অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণ দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সরকারি সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বাড়ছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত বাড়ি, গাড়ি ও ক্রেডিট কার্ডের মতো ব্যক্তিগত ঋণের সুদের ওপর পড়তে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের দৈনিক হিসাব অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশটির মোট সরকারি ঋণ ছিল প্রায় ৪০.০৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাজারে থাকা সরকারি ঋণ প্রায় ৩২.২৭ ট্রিলিয়ন ডলার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজেদের মধ্যে থাকা ঋণ প্রায় ৭.৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার।   মাত্র এক দশকের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় দেশটির মোট ঋণ ছিল ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে। এরপর ট্রাম্প ও জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় ঋণ দ্রুত বেড়েছে। এর বড় একটি অংশ এসেছে কোভিড-১৯ মহামারির সময়কার সরকারি ব্যয় থেকে। তবে মহামারি শেষ হওয়ার পরও রাজস্ব ও ব্যয়ের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ব্যবধান ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে রয়েছে।   ঋণ বাড়ার সঙ্গে সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলোর একটি হলো সুদ পরিশোধের ব্যয়। পিটার জি পিটারসন ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে জাতীয় ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। সংস্থাটি বলছে, সুদের ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকা সরকারি বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।   এখানেই সাধারণ আমেরিকানদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সরকার যখন ঋণ নেওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের বেশি সুদ দিতে বাধ্য হয়, তখন সরকারি বন্ডের সুদের হার বা ফলন বাড়তে পারে। আর যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সুদের হার দেশটির অন্যান্য ঋণের সুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে।   অর্থাৎ, সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষের ঋণ নেওয়ার খরচেও পড়তে পারে। বাড়ি কেনার জন্য গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ কিংবা ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার দীর্ঘমেয়াদে চাপের মুখে পড়তে পারে। পিটারসন ফাউন্ডেশনও বলছে, জাতীয় ঋণ বাড়ার ফলে সুদের হারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে এবং এতে পরিবারের জীবনযাত্রার খরচ বাড়তে পারে।   এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের বাজারে চাপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রকে ঋণ দেওয়ার বিনিময়ে বেশি মুনাফা দাবি করছেন। এর ফলে ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বেড়েছে এবং পুরোনো ঋণ পুনঃঅর্থায়ন ও নতুন ঘাটতি মেটাতে সরকারের খরচও বাড়ছে।   জাতীয় ঋণের পুরো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার অবশ্য সরাসরি বাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছে পাওনা নয়। এর একটি বড় অংশ সরকারের বিভিন্ন তহবিল ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হিসাব করা হয়। ট্রেজারি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৩২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ জনসাধারণের হাতে থাকা সরকারি সিকিউরিটিজের মাধ্যমে রয়েছে। বাকি প্রায় ৭.৮ ট্রিলিয়ন ডলার সরকারের অভ্যন্তরীণ হিসাবের ঋণ।   ঋণের দ্রুত বৃদ্ধির পেছনে শুধু একটি প্রেসিডেন্ট বা একটি রাজনৈতিক দলের নীতিকে দায়ী করা কঠিন। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় প্রশাসনের সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বেড়েছে। মহামারি মোকাবিলা, করনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং অন্যান্য সরকারি কর্মসূচির ব্যয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রাজস্বের ঘাটতি যুক্ত হয়েছে।   রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কোভিড-১৯-সংক্রান্ত ঋণ বাদ দিয়েও অনুমোদিত নতুন ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। বাইডেনের সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ২.২ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে দুই প্রশাসনের সময়কার ঋণ বৃদ্ধির তুলনা করার ক্ষেত্রে মহামারি এবং বিভিন্ন সময়ের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।   বর্তমান প্রশাসন ঋণের চাপ সামাল দিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও বলেছেন, অর্থনীতিকে আরও দ্রুত বাড়িয়ে ঋণের বোঝা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে বাজেট বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে সরকারি ব্যয় ও রাজস্বের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে ব্যয় কমানো, কর থেকে আয় বাড়ানো অথবা দুটির সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে।   এদিকে ঋণের বাজারে চাপ কমাতে ট্রেজারি বিভাগ ঋণ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনছে। দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সরবরাহ ও বাজারের চাপ সামলাতে সরকার বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯ আগস্ট ট্রেজারি ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের ফলন ১৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর পুনঃক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।   পরদিন বেসেন্ট জানান, প্রয়োজনে এই পুনঃক্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে। তবে বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বাজারে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু জাতীয় ঋণের মূল কারণগুলো সমাধান করে না।   জাতীয় ঋণ নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি দিক হলো, সরকারকে যদি বাজেটের ক্রমবর্ধমান অংশ শুধু সুদ পরিশোধেই ব্যয় করতে হয়, তাহলে শিক্ষা, অবকাঠামো, গবেষণা কিংবা অন্যান্য সরকারি কর্মসূচিতে অর্থ ব্যয়ের সুযোগ কমে যেতে পারে। পিটারসন ফাউন্ডেশন বলছে, ঋণের সুদ ব্যয় বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিনিয়োগ ও সামাজিক কর্মসূচির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।   তবে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ মানেই যে সাধারণ আমেরিকানদের তাৎক্ষণিকভাবে সমপরিমাণ ব্যক্তিগত ঋণ নিতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। একজন মানুষের ওপর গড়ে প্রায় কত ঋণ পড়ে, এমন হিসাব মূলত জাতীয় ঋণকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে তৈরি করা একটি পরিসংখ্যান। এটি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত ব্যাংক ঋণ বা সরকারের কাছে তাঁর সরাসরি পাওনা বোঝায় না।   তবু এর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব বাস্তব। সরকারি ঋণ যত বাড়বে এবং সেই ঋণের জন্য সুদ যত বেশি দিতে হবে, তত বেশি অর্থ বাজেটের অন্য খাত থেকে সরিয়ে দিতে হতে পারে। একই সঙ্গে বন্ডের সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে পরিবারের নতুন ঋণ নেওয়া আরও ব্যয়বহুল হতে পারে।   এই কারণেই ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলককে শুধু একটি বড় সংখ্যা হিসেবে দেখছেন না অর্থনীতিবিদ ও বাজেট বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের কাছে এটি যুক্তরাষ্ট্রের আয় ও ব্যয়ের দীর্ঘদিনের ভারসাম্যহীনতার একটি বড় সতর্কসংকেত। সামনে কংগ্রেস ও প্রশাসন কীভাবে ব্যয়, কর এবং ঋণ ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই ঋণের চাপ শেষ পর্যন্ত কতটা বাড়বে এবং তার প্রভাব সাধারণ আমেরিকান পরিবারের ওপর কতটা পড়বে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ২১:৯
যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসার ফি পরিবর্তনের উদ্যোগ, দুশ্চিন্তায় প্রযুক্তিখাতের ভারতীয় পেশাজীবীরা

যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসার ফি পরিবর্তনের উদ্যোগ, দুশ্চিন্তায় প্রযুক্তিখাতের ভারতীয় পেশাজীবীরা

বাংলা, স্প্যানিশ ও ম্যান্ডারিনে কথা বলে নেটদুনিয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন নিউইয়র্কের মেয়র

বাংলা, স্প্যানিশ ও ম্যান্ডারিনে কথা বলে নেটদুনিয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন নিউইয়র্কের মেয়র

নিউইয়র্কে ডাকযোগে পাঠানো প্রায় ৫ লাখ ডলারের চেক চুরি, যুবক গ্রেপ্তার I ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ডাকযোগে পাঠানো প্রায় ৫ লাখ ডলারের চেক চুরি, যুবক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের সেরা পাবলিক স্কুলের তালিকায় শীর্ষ ১২-তে মিশিগানের ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা পাবলিক স্কুলের তালিকায় শীর্ষ ১২-তে মিশিগানের ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি

যুক্তরাষ্ট্রের সেরা পাবলিক হাইস্কুলগুলোর বার্ষিক তালিকায় এবার রাজ্যের শীর্ষস্থান দখলের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে প্রথম ১২-এর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে মিশিগানের ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি। গত ১৮ আগস্ট Patch-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১৮ হাজার পাবলিক স্কুলের তথ্য বিশ্লেষণ করে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের এই তালিকা প্রকাশ করেছে ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট।   মিশিগানের ব্লুমফিল্ড হিলস, হোয়াইট লেক এবং ট্রয়—এই তিনটি ক্যাম্পাসে বিস্তৃত এই পাবলিক ম্যাগনেট স্কুলটি সারা দেশের মধ্যে ১২তম স্থান অর্জন করেছে।   ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট মূলত কলেজ প্রস্তুতি, রাজ্যভিত্তিক মূল্যায়নে দক্ষতা, স্নাতক পাসের হার এবং পাঠ্যক্রমের বিস্তৃতির মতো ছয়টি মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে এই র‍্যাংকিং তৈরি করে থাকে। ইন্টারন্যাশনাল একাডেমির নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির প্রায় ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে স্নাতক পাসের হার ৯৯ শতাংশ।   সব মিলিয়ে ১০০-এর মধ্যে ৯৯.৯৩ স্কোর অর্জন করেছে স্কুলটি। হুরন ভ্যালি স্কুলসের সুপারিনটেনডেন্ট পল সালাহ এক ইমেইল বার্তায় এই সাফল্যকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের অসামান্য প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, রাজ্যের সেরা এবং জাতীয় পর্যায়ে ১২তম স্বীকৃতি পাওয়াটা একটি অসাধারণ অর্জন, যা শিক্ষার্থীদের জন্য চমৎকার একাডেমিক সুযোগের বিষয়টি তুলে ধরে।   ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের মূল্যায়নে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সেরা পাবলিক হাইস্কুল নির্বাচিত হয়েছে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মুরফ্রিজবোরোতে অবস্থিত সেন্ট্রাল ম্যাগনেট স্কুল।   তবে মিশিগানের অন্যান্য স্কুলগুলোও এই জাতীয় তালিকায় বেশ ভালো অবস্থান তৈরি করেছে। WZZM13-এর সংবাদ অনুযায়ী, ক্লিনটন টাউনশিপের ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ম্যাকম্ব জাতীয় পর্যায়ে ২১তম এবং গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসের সিটি হাই মিডল স্কুল ৬০তম স্থানে রয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই ফলাফল মিশিগানের শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নেরই একটি ইতিবাচক প্রতিচ্ছবি।

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৮:৪৯
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭৩ বছরের বৃদ্ধাকে প্রকাশ্যে কু পিয়ে খু ন, গ্রেপ্তার ১৯ বছরের তরুণ

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭৩ বছরের বৃদ্ধাকে প্রকাশ্যে কু পিয়ে খু ন, গ্রেপ্তার ১৯ বছরের তরুণ

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে বাড়িতে ঢোকার মুহূর্তে ধসে পড়ল বারান্দা, আহত ৭ কর্মকর্তা I ছবি: সংগৃহীত

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে বাড়িতে ঢোকার মুহূর্তে ধসে পড়ল বারান্দা, আহত ৭ কর্মকর্তা

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাটালিকে নিয়ে রোজি ও’ডনেলের মন্তব্যে তুমুল আলোচনা

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাটালিকে নিয়ে রোজি ও’ডনেলের মন্তব্যে তুমুল আলোচনা

0 Comments