সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ চালু, প্রতিটি শিশু পাবে ১ হাজার ডলার!

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১১:৫২
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মের প্রতিটি শিশুর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ১ হাজার ডলারের প্রাথমিক আমানত দেওয়ার ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মের প্রতিটি শিশুর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ১ হাজার ডলারের প্রাথমিক আমানত দেওয়ার ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ নামের একটি কর-সুবিধাপ্রাপ্ত বিশেষ বিনিয়োগ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ থেকে ২০৪৫ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া এবং বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুর নামে সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক আমানত হিসেবে ১ হাজার ডলার জমা দেওয়া হবে।

 

নতুন এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের একেবারে অল্প বয়স থেকেই সঞ্চয় ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করা। সরকারের দেওয়া প্রাথমিক ১ হাজার ডলারের পাশাপাশি বাবা-মা, অভিভাবক, আত্মীয়-স্বজন কিংবা বিভিন্ন নিয়োগকর্তারাও একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত এই অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত অর্থ জমা করতে পারবেন। এই জমানো অর্থ শেয়ারবাজারভিত্তিক স্বল্প খরচের ইনডেক্স ফান্ড বা সূচক তহবিলে বিনিয়োগ করা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকবে।

 

হোয়াইট হাউসে কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মকে আর্থিকভাবে আরও সক্ষম ও শক্তিশালী করে তুলতেই এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, একদম ছোটবেলা থেকেই বিনিয়োগের সুযোগ পাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে এই তরুণদের নিজেদের সম্পদ ও সঞ্চয় গঠনের সম্ভাবনা বহুগুণে বেড়ে যাবে।

 

মার্কিন ট্রেজারি (অর্থ) বিভাগ জানিয়েছে, এই অ্যাকাউন্টের অর্থগুলো বিশ্বের নামী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরক, ভ্যানগার্ড এবং স্টেট স্ট্রিট-এর নির্বাচিত ইনডেক্স ফান্ডে খাটানো হবে। মূলত ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের একটি বিশেষ উপহার হিসেবে এই কর্মসূচিটি দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে।

 

তবে এই নতুন স্কিমটি নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনাও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের মতে, সরকার শুরুতে ১ হাজার ডলার দিলেও যেসব ধনী পরিবার নিয়মিত এই অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত টাকা জমা করতে পারবে, দিনশেষে তারাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি লাভবান হবে। এর বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, পারিবারিক অবস্থা যেমনই হোক না কেন—এই উদ্যোগ দেশের লাখো শিশুকে ছোট থেকেই আর্থিক পরিকল্পনা, সঞ্চয় ও আধুনিক বিনিয়োগ সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কে নারীদের রাতের সাবওয়ে ভ্রমণ নিয়ে বিতর্ক, কেউ বলছেন নিরাপদ, কেউ সতর্ক
নিউইয়র্কে নারীদের রাতের সাবওয়ে ভ্রমণ নিয়ে বিতর্ক, কেউ বলছেন নিরাপদ, কেউ সতর্ক

নিউইয়র্ক শহরের মতো একটি ব্যস্ত নগরীতে সাবওয়েতে যাতায়াতের জন্য কত রাতকে 'অতিরিক্ত রাত' বলা যায়—এমন প্রশ্নে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। টিকটক ব্যবহারকারী বেকা তার এক ভিডিওতে জানতে চান, নিউইয়র্কে বসবাসকারী যাত্রীদের জন্য রাতে সাবওয়ে ব্যবহারের সর্বশেষ সময় কোনটি।   বেকা নিজে শনিবার মধ্যরাতের পর সাবওয়েতে যাতায়াত করাকে নিরাপদ মনে করেন। তিনি জানান, এলাকা, গন্তব্য এবং স্টেশন থেকে বাসার দূরত্বের মতো বিষয়গুলো রাতে সাবওয়েতে যাতায়াতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলে। যদিও মন্তব্যের ঘরে অনেকেই তাকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, এটি একটি অনিরাপদ সিদ্ধান্ত হতে পারে।   এই বিতর্কে নেটিজেনরা বিভিন্ন ধরনের মতামত দিয়েছেন। একা যাতায়াতকারী অনেক নারীর মতে, রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত সাবওয়ে ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে দলবেঁধে থাকলে যে কোনো সময়ই সাবওয়েতে ওঠা যায় বলে মনে করেন কেউ কেউ। অন্যদিকে, ভিন্ন মতও রয়েছে।   একজন নারী মন্তব্য করেছেন যে, তিনি সাবওয়ের চেয়ে উবার বা অন্যান্য রাইড-শেয়ারিং চালকদের দ্বারা হেনস্তার শিকার হওয়ার ভয়ে বেশি থাকেন, তাই দিন বা রাতের যে কোনো সময় তিনি সাবওয়েতেই যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।   দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কে বসবাসকারী এক বাসিন্দা তার অভিজ্ঞতার আলোকে জানান, রাতে একা যাতায়াতের ক্ষেত্রে পাগল বা ভবঘুরেদের চেয়েও সেইসব পুরুষদের বেশি এড়িয়ে চলা প্রয়োজন যারা নির্জন পরিবেশে নারীদের একা পেয়ে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। সাবওয়েতে নিরাপত্তার কৌশল হিসেবে অনেকে রাত ১১টার পর ফাঁকা প্ল্যাটফর্মে না দাঁড়ানোর এবং সবসময় ট্রেনের মাঝখানের বগিতে অপারেটরের কাছাকাছি বসার পরামর্শ দিয়েছেন।   সামাজিক মাধ্যমের এই বিতর্কের পেছনে থাকা নিরাপত্তা শঙ্কাগুলোর বাস্তব ভিত্তিও রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক ট্রানজিটে বছরে গড়ে দুটি খুনের ঘটনা ঘটলেও, ২০২০ সালের পর থেকে এই সংখ্যা বেড়ে গড়ে সাতটিতে দাঁড়িয়েছে।   চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত গত বছরের তুলনায় সাবওয়েতে গুরুতর হামলার ঘটনা ১০ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৮৪ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে 'জে (J) ট্রেন'-এর নিরাপত্তা নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত সপ্তাহেই এই ট্রেনে মেসিয়াস লোজানো নামের ৫৯ বছর বয়সী এক নির্মাণ শ্রমিক এক 'মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত' ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে নিহত হন, যা এই বছর সাবওয়ে সিস্টেমে ঘটা ষষ্ঠ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।  

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:২৬
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে অন্তঃসত্ত্বা মাকে হ ত্যার পর গর্ভ থেকে অনাগত সন্তান চুরি, গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে অন্তঃসত্ত্বা মাকে হ ত্যার পর গর্ভ থেকে অনাগত সন্তান চুরি, গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন

দুই দেশের পাসপোর্ট আছে? যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতে যে নিয়ম ভুললেই বিপত্তি

দুই দেশের পাসপোর্ট আছে? যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতে যে নিয়ম ভুললেই বিপত্তি

নিউইয়র্কে ৭ কোটি ডলারের জাল নোট চক্রের দুই হোতার বাড়ি নিলামে, ২৫ কোটির বাড়ি বিক্রি শুরু ৯ কোটিতে

নিউইয়র্কে ৭ কোটি ডলারের জাল নোট চক্রের দুই হোতার বাড়ি নিলামে, ২৫ কোটির বাড়ি বিক্রি শুরু ৯ কোটিতে

জর্জিয়ার লিলবার্নে আগামী ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আমাদ মেমোরিয়াল সকার টুর্নামেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় ‘আমাদ (মামু) মেমোরিয়াল সকার টুর্নামেন্ট ২০২৬’ এর ফাইনাল ১১ অক্টোবর, সবাইকে আমন্ত্রণ

জর্জিয়ার লিলবার্নে আগামী ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘আমাদ (মামু) মেমোরিয়াল সকার টুর্নামেন্ট ২০২৬’ এর ফাইনাল। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া ও বাংলাদেশ স্পোর্টস ফেডারেশন অব জর্জিয়ার আয়োজনে এই ফুটবল টুর্নামেন্ট ঘিরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তৈরি হয়েছে উৎসাহ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে মাঠে এসে ফাইনাল উপভোগ করার জন্য সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।   টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল পর্বে প্রথম ম্যাচে বিকেল ৪টায় মুখোমুখি হবে এএফসি ও মিডটাউন টার্ফ টাইগার্স। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বিকেল সাড়ে ৫টায় খেলবে রেবেলস এফসি ও বিডি ইউনাইটেড। এই দুই ম্যাচের বিজয়ী দল সন্ধ্যা ৭টায় ফাইনালে মুখোমুখি হবে। ফলে দিনব্যাপী ফুটবল আয়োজনের মধ্য দিয়ে লিলবার্নে জমবে বাংলাদেশি কমিউনিটির মিলনমেলা।   আয়োজকদের মতে, এই ধরনের ক্রীড়া আয়োজন শুধু মাঠের প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষ করে তরুণ ও তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা, তাদের মধ্যে দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করা এবং বিভিন্ন পরিবারের ও কমিউনিটির মানুষের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে এসব আয়োজন। মাঠে একসঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মধ্যেও কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ে।   সাম্প্রতিক সময়ে জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ক্রীড়াভিত্তিক আয়োজন ঘিরে মানুষের আগ্রহও দেখা গেছে। গত মাসে অনুষ্ঠিত সাকিব আলী স্মৃতি মেমোরিয়াল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে কমিউনিটির উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল। বিভিন্ন বয়সের মানুষ মাঠে উপস্থিত হয়ে খেলাগুলো উপভোগ করেন, খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন এবং আয়োজন নিয়ে নিজেদের মতামতও শেয়ার করেন। ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ঘিরে তৈরি হওয়া এই অংশগ্রহণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে একসঙ্গে হওয়ার আগ্রহের বিষয়টিও সামনে এনেছে।   ফুটবলের এই আয়োজন সেই কমিউনিটি সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার পাশাপাশি অন্যদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, বন্ধুত্ব তৈরি করা এবং কমিউনিটির সঙ্গে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকছে এই টুর্নামেন্টে।   টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, লিলবার্নের হারমনি গ্রোভ পার্কে। ঠিকানা ১১৯ হারমনি গ্রোভ রোড, লিলবার্ন, জর্জিয়া। আয়োজকদের পক্ষ থেকে দর্শকদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। দর্শকদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও থাকবে বলে আয়োজকদের প্রচারপত্রে জানানো হয়েছে।   জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া ও বাংলাদেশ স্পোর্টস ফেডারেশন অব জর্জিয়ার এই আয়োজন তাই শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা, কমিউনিটির মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার একটি সুযোগ হিসেবেও এই আয়োজনকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৩:৪
মাত্র ১৬ বছর বয়সে ৫০০ ডলার পুঁজি নিয়ে অনলাইনে সফল ব্যবসা শুরু করেছেন ইথান আলেকজান্ডার। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ১৬ বছরেই ব্যবসা শুরু করে মাসে ২৫ হাজার ডলার আয় মার্কিন কিশোরের

আটলান্টায় আবারও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কনস্যুলার সেবা নিয়ে আসছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। ছবি: সংগৃহীত

আটলান্টায় ডিসেম্বরে আবারও কনস্যুলার সেবা, জানালেন সমিতির সভাপতি আরিফিন বাবুল

নিউইয়র্কের সাবওয়ে স্টেশনে গিটার বাজিয়ে অভিনব উপায়ে করপোরেট চাকরি খুঁজছেন এক বাংলাদেশি তরুণ। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের ট্রেন স্টেশনে গিটার বাজিয়ে চাকরির খোঁজে বাংলাদেশি তরুণ

অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসক উইন্ডেল ডেভিস বুটের নাচ-গানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
অপারেশনের সময় টিকটকে নাচের ভিডিও, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকের লাইসেন্স স্থগিত

অপারেশন টেবিলে রোগী, আর পাশে চিকিৎসক কখনো গান গাইছেন, কখনো নাচছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের চিকিৎসক উইন্ডেল ডেভিস বুটের এমন একাধিক ভিডিও ২০১৮ সালে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, নাচতে নাচতে অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর এক রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী, এই দাবিটি সঠিক নয়। তাঁর এক রোগী স্থায়ীভাবে গুরুতর মস্তিষ্কের ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন, আর অন্য এক রোগীর গুরুতর জটিলতার পর জর্জিয়া কম্পোজিট মেডিকেল বোর্ড তাঁর মেডিকেল লাইসেন্স জরুরি ভিত্তিতে স্থগিত করে।    উইন্ডেল ডেভিস বুটে জর্জিয়ার আটলান্টা এলাকার লিলবার্নে কসমেটিক সার্জারি করতেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁকে প্লাস্টিক সার্জন হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তিনি বোর্ড সার্টিফায়েড প্লাস্টিক সার্জন ছিলেন না। আটলান্টা জার্নাল কনস্টিটিউশনের অনুসন্ধানে বলা হয়, তিনি আমেরিকান বোর্ড অব ডার্মাটোলজির মাধ্যমে ডার্মাটোলজিতে বোর্ড সার্টিফায়েড ছিলেন।    ঘটনাটি আলোচনায় আসে তাঁর ক্লিনিক থেকে প্রকাশ করা একাধিক ভিডিওর কারণে। ভিডিওগুলোতে তাঁকে অস্ত্রোপচার চলাকালে গান গাইতে, নাচতে এবং ক্যামেরার সামনে অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। কিছু ভিডিওতে রোগীর শরীরও দৃশ্যমান ছিল। এগুলো টিকটকের জন্য তৈরি হয়েছিল, এমন দাবিরও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। সে সময় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওগুলো তাঁর ক্লিনিকের ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারণার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছিল এবং পরে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।    সবচেয়ে আলোচিত রোগীদের একজন ছিলেন আইসিলমা কর্নেলিয়াস। কসমেটিক সার্জারির পর তাঁর হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি গুরুতর মস্তিষ্কের ক্ষতির শিকার হন। পরবর্তী সময়ে তাঁকে সার্বক্ষণিক পরিচর্যার ওপর নির্ভর করতে হয়। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল। চিকিৎসক বুটে অবশ্য আদালতের নথিতে দাবি করেছিলেন, রোগীর জটিলতা তাঁর চিকিৎসার ত্রুটির কারণে হয়নি।    এই ঘটনাসহ একাধিক রোগীর অভিযোগ সামনে আসার পর চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলা, নিরাপত্তা মান না মানা এবং রোগীর গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন সাবেক রোগী মামলা করেন এবং তাঁদের কেউ কেউ অস্ত্রোপচারের পর বিকৃতি, সংক্রমণ বা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির অভিযোগ তোলেন।    তবে জর্জিয়া মেডিকেল বোর্ডের জরুরি পদক্ষেপ আসে ২০১৮ সালের মে মাসের শেষ দিকে আরেক রোগীর গুরুতর জটিলতার পর। ওই নারী বুটের কাছে লাইপোসাকশন, ব্রেস্ট অগমেন্টেশন এবং ব্রাজিলিয়ান বাট লিফট করিয়েছিলেন। অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শ্বাসকষ্ট এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর একটি ফুসফুস ধসে পড়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে অ্যানিমিয়া হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা শনাক্ত করেন।    এরপর ২০১৮ সালের ৭ জুন জর্জিয়া কম্পোজিট মেডিকেল বোর্ড বুটের মেডিকেল লাইসেন্স জরুরি ভিত্তিতে স্থগিত করে। বোর্ডের আদেশে বলা হয়, তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য হুমকি তৈরি করছে। বোর্ড আরও জানায়, সর্বশেষ রোগীর চিকিৎসা ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য চিকিৎসা মান পূরণ করেনি এবং এর আগেও একই ধরনের সমস্যা দেখা গেছে।    গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাঁর লাইসেন্স কেবল অপারেশনের সময় নাচার কারণে স্থগিত করা হয়নি। বোর্ডের সিদ্ধান্তে মূলত রোগীদের চিকিৎসা, গুরুতর জটিলতা এবং একাধিক ঘটনায় চিকিৎসার ন্যূনতম মান বজায় না রাখার অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। নাচ ও গান করার ভিডিওগুলো অবশ্য তাঁর পেশাগত আচরণ নিয়ে বিতর্ককে আরও তীব্র করে তোলে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১১:৭
ফোর্ট হুড কা ণ্ডে নিদাল হাসানের সাজা কার্যকরের অনুমোদন

ফোর্ট হুডের আলোচিত হা ম লা, ফা য়া রিং স্কোয়াডে নিদাল হাসানের মৃ ত্যু দ ণ্ডে অনুমোদন ট্রাম্পের

মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদের প্রচারে বারাক ওবামা

মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট লড়াইয়ে আবদুল এল-সাইদের পাশে ডেট্রয়েটে প্রচারে নামছেন ওবামা

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের ক্যাটারিং ব্যবসার সম্ভাবনা

নিউ ইয়র্কে ক্যাটারিং বিজনেস শুরু করতে চান? বাংলাদেশিদের জন্য সহজ ধাপে পূর্ণ গাইড

0 Comments