আমেরিকা

‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ উদ্বোধনে হোয়াইট হাউস থেকেই ট্রেডিং বেল বাজালেন ট্রাম্প

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ১৫:২
ঘণ্টা বাজিয়ে ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’-এর উদ্বোধন I ছবি: সংগৃহীত
ঘণ্টা বাজিয়ে ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’-এর উদ্বোধন I ছবি: সংগৃহীত

সোমবার ওভাল অফিসের সোনালি পরিবেশ থেকে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ এবং নাসডাকের (Nasdaq) ওপেনিং বেল বা ট্রেডিংয়ের শুরুর ঘণ্টা বাজান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের প্রেসিডেন্সিকে শেয়ারবাজারের সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত করার একটি প্রতীকী প্রয়াস হিসেবেই তার এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলায়, তিনি চাইছেন আরও বেশি সংখ্যক মার্কিন নাগরিক তাদের ৪০১(কে) (401k) বিনিয়োগের দিকে মনোযোগ দিক। বিশেষ করে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তার নীতির কারণেই শেয়ারবাজারে এই লাভ হচ্ছে, এমন দাবি করে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। ট্রেডিংয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে ট্রাম্প বলেন, "এটি আরও বাড়বে—আমার মনে হয় বাজার একদম চূড়ায় পৌঁছাবে।"

 

গত জুনে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি (AP-NORC) সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নেতৃত্বের অনুমোদন দিয়েছেন। এ কারণে শেয়ারবাজারের ওপর প্রেসিডেন্টের এই জোর দেওয়া আগামী নির্বাচনে তার দলকে কতটা সাহায্য করবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ওভাল অফিসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য ছিল মূলত ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা। ২০২৫ সালের রিপাবলিকানদের কর ও ব্যয় সংকোচন বিলের আওতায় শিশুদের শেয়ার সূচকে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিতেই এই অ্যাকাউন্টগুলো তৈরি করা হয়েছে।

 

এই অ্যাকাউন্টগুলোর পক্ষে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জোর দিয়ে বলেন, অনেক আমেরিকানেরই শেয়ারবাজারে সরাসরি কোনো অংশগ্রহণ নেই। এর মানে হলো, শেয়ারবাজারের বেশিরভাগ সুবিধা মূলত উচ্চবিত্ত পরিবারগুলো ভোগ করছে অথবা এই বিনিয়োগের সুবিধা পেতে সাধারণ মানুষকে অবসরের জন্য কয়েক দশক অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ট্রেডিংয়ের ঘণ্টা বাজানোর আগে বেসেন্ট জানান, ৩৮ শতাংশ আমেরিকান পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রের ইক্যুইটি বাজারে কোনো সরাসরি বিনিয়োগ নেই।

 

২০২৫ সালে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ (S&P 500) স্টক সূচক ১৭.৯ শতাংশ লাভ করেছে। তবে ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ২০২৩ সালে এই সূচকের বার্ষিক রিটার্ন ছিল ২৬.৩ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে তা ছিল ২৫ শতাংশ। এ বছর বেঞ্চমার্ক স্টক সূচক এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু মূল্যস্ফীতি যেমন বাইডেনের জনসমর্থনে ধস নামিয়েছিল, ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির কারণে তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়তে শুরু করেছে।

 

২০২৪ সালের নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয় কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়লাভ করলেও, তার আরোপিত শুল্ক নীতি এবং ইরানে যুদ্ধের সূচনার কারণে অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি হয়েছে। গত ১২ মাসে ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) ৪.২ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর সময় ছিল মাত্র ৩ শতাংশ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: ইসরায়েলি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির (বামে) এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি (ডানে)
ডেবিট কার্ড লেনদেন থেকে বাড়তি মুনাফার লক্ষ্যে জোট বাঁধছে মার্কিন ব্যাংক জায়ান্টরা

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নির্ধারিত নিউইয়র্ক সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়েছে। চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের ‘ইউএন চিফস অব পুলিশ সামিট (ইউএনসিওপিএস)’-এ অংশ নিতে তার নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা ছিল। তবে সফর বাতিলের আনুষ্ঠানিক কারণ জানায়নি তার দপ্তর। এর আগে তার সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিক্ষোভের প্রস্তুতি, তদন্তের দাবি এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের আহ্বান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।     আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনটি মঙ্গলবার ও বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সফরের কয়েকদিন আগেই ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে খবর আসে, বেন-গভির নিউইয়র্ক সফর থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। যদিও তার কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে সফর বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করেনি।     বেন-গভিরের সম্ভাব্য সফরের খবর প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, ফিলিস্তিনপন্থী কর্মী এবং কয়েকটি প্রগতিশীল ইহুদি সংগঠন তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে বেলজিয়ামভিত্তিক হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশন ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটসসহ কয়েকটি সংগঠন মার্কিন বিচার বিভাগ ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে তার বিরুদ্ধে তদন্ত এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।     অভিযোগকারীদের দাবি, গাজা যুদ্ধ ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে তার ভূমিকার কারণে বেন-গভিরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করা উচিত। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়নি এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষও তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি।     এদিকে নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতিক জোহরান মামদানি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার বিষয়ে অতীতে সমর্থনসূচক অবস্থান নেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়িয়ে পড়ে যে, বেন-গভির নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা হতে পারে। তবে সফর বাতিলের সঙ্গে মামদানির বক্তব্যের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন তথ্য কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেনি।     ইতামার বেন-গভির ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী সরকারের অন্যতম আলোচিত মন্ত্রী। গাজা যুদ্ধ, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি তার অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা রয়েছে। এর আগে তার বিদেশ সফর ঘিরেও বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা গেছে।     সফর বাতিলের প্রকৃত কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হলেও, নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আইনি চাপ, গ্রেপ্তারের দাবি এবং বিক্ষোভের প্রস্তুতি ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ১৫:৩২
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

ডেবিট কার্ড লেনদেন থেকে বাড়তি মুনাফার লক্ষ্যে জোট বাঁধছে মার্কিন ব্যাংক জায়ান্টরা

ঘণ্টা বাজিয়ে ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’-এর উদ্বোধন I ছবি: সংগৃহীত

‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ উদ্বোধনে হোয়াইট হাউস থেকেই ট্রেডিং বেল বাজালেন ট্রাম্প

নাগরিকদের তথ্য ঘেঁটে গ্রেপ্তার ৫ পুলিশ কর্মকর্তা I ছবি: সংগৃহীত

জর্জিয়ার আলবেনিতে ব্যক্তিগত স্বার্থে নাগরিকদের তথ্য ঘেঁটে গ্রেপ্তার ৫ পুলিশ কর্মকর্তা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ফ্লোরিডায় আয়ার দায়িত্বে থাকা ২ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, বদ্ধ গাড়িতে মিলল নিথর দেহ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রচণ্ড গরমে বদ্ধ গাড়ির ভেতর আটকে পড়ে দুই বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শিশুটি একজন বেবিসিটারের (শিশু পরিচর্যাকারী) দায়িত্বে ছিল। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগেই ওই এলাকা থেকে কয়েক মাইল দূরে অনুরূপ আরেকটি 'হট কার' (গরম গাড়ি) ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারিয়েছিল আরও এক শিশু।   ফ্লোরিডার হাল্যান্ডেল বিচ পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, গত রোববার দুপুরে অচেতন ও শ্বাসহীন অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যান ওই বেবিসিটার। সে সময় শিশুটিকে তার বাড়ির বাইরে পার্ক করা একটি গাড়ির ভেতর পাওয়া যায়। ঠিক কতক্ষণ শিশুটি গাড়িতে আটকে ছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, মিয়ামি হেরাল্ডের তথ্যমতে, ওই দিন তাপমাত্রা ছিল ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট, যা অনুভূত হচ্ছিল প্রায় ১০০ ডিগ্রির কাছাকাছি। বর্তমানে এই মর্মান্তিক ঘটনার তদন্ত চলছে এবং বেবিসিটারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না, তা ফ্লোরিডা স্টেট অ্যাটর্নি অফিস নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। থেরেসা ওগডেন নামের এক প্রতিবেশী বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কেউ কীভাবে একটি শিশুকে গাড়িতে রেখে ভুলে যেতে পারে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য ও ভয়ংকর!" এদিকে, হাল্যান্ডেল পুলিশ চিফ মিশেল সকল অভিভাবক ও পরিচর্যাকারীদের গাড়ি লক করার আগে পেছনের আসন চেক করার অভ্যাস গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পরামর্শ দেন, মোবাইল বা মানিব্যাগের মতো জরুরি জিনিস গাড়ির পেছনে রাখলে তা শেষ মুহূর্তে শিশুটির কথা মনে করিয়ে দিতে সাহায্য করতে পারে এবং একটি নিষ্পাপ প্রাণ বাঁচাতে পারে।   উল্লেখ্য, রোববারের এই ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগে ২০ মাইলেরও কম দূরত্বে প্লান্টেশন এলাকার একটি ডে কেয়ার সেন্টারের সামনে ১৮ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। ওই শিশুর বাবা তাকে 'আ ওয়ার্ল্ড অফ ডিসকভারি একাডেমি'তে নামিয়ে দেওয়ার কথা ভুলে গিয়ে সরাসরি কর্মস্থলে চলে গিয়েছিলেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তপ্ত গাড়িতে আটকে থাকার পর বিকেলে ছেলেকে নিতে এসে তিনি পেছনের আসনে তার মৃতদেহ দেখতে পান।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:১৯
বিমানবন্দরে আবেগঘন বিদায়—মার্কিন নাগরিক সন্তানকে জড়িয়ে ধরেছেন অভিবাসী মা I ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নাগরিক চার সন্তানকে রেখে ৩০ বছর পর চোখের জলে বিদায় নিলেন অভিবাসী মা

শিক্ষার বাজেট ঘাটতি মেটাতে ট্যাক্স বাড়ানোর দাবিতে অভিভাবকদের ৩ হাজার স্বাক্ষর সরাসরি নাকচ করল মিনেসোটার স্কুল ডিস্ট্রিক্ট | ছবি: সংগৃহীত

স্কুল বাঁচাতে এবার নিজেরাই ট্যাক্স বাড়ানোর দাবিতে নামলেন ৩ হাজার অভিভাবক, আমেরিকায় তীব্র উত্তেজনা!

তুরস্ক সফরে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: হোয়াইট হাউস

ট্রাম্পের ঘোষণা, তুরস্কের ওপর মার্কিন প্রতিরক্ষা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ

প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওর স্থিরচিত্র | ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় পুলিশি গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ নিহত, পুলিশের বডিক্যামে নেই - ধরা পড়ল প্রতিবেশীর ক্যামেরায়

ফ্লোরিডায় এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে পুলিশ গুলি করে হত্যার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশের বডি-ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ না করায় যে প্রশ্ন উঠেছিল, তা আরও জোরালো হয়েছে প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশের পর। ভিডিওটি পুলিশের ঘটনার বর্ণনার সঙ্গে মিলছে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে তীব্র আলোচনা।   গত বছরের ৩ আগস্ট ব্রাওয়ার্ড কাউন্টির মিরামার এলাকায় নজরদারি অভিযানের সময় হলিউড পুলিশ ৩২ বছর বয়সী ডোনাল্ড টেইলরকে গুলি করে। পুলিশ জানায়, টেইলর একাধিক সশস্ত্র ডাকাতির মামলার সন্দেহভাজন ছিলেন এবং অভিযানের সময় তিনি অস্ত্রধারী অবস্থায় কর্মকর্তাদের জন্য হুমকি তৈরি করেছিলেন। এ কারণেই গুলি চালানো হয় বলে দাবি পুলিশের। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।   তবে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিওতে ঘটনার ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ভিডিওতে টেইলরকে একটি আবাসিক সড়কে হাঁটতে দেখা যায়। এ সময় পুলিশ তাকে থামতে এবং মাটিতে শুয়ে পড়ার নির্দেশ দেয়। একপর্যায়ে গুলির শব্দ শোনা যায় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ভিডিওতে গুলি চালানোর মুহূর্তে তার হাতে কোনো অস্ত্র স্পষ্টভাবে দেখা যায় না।   টেইলরের পরিবারের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, প্রতিবেশীর ভিডিওটি পুলিশের প্রাথমিক বর্ণনার সঙ্গে অসঙ্গতি তুলে ধরেছে। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর পুলিশের বডি-ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানানো হলেও তা প্রকাশ করা হয়নি। তারা স্বাধীন তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।   অন্যদিকে হলিউড পুলিশ তাদের আগের অবস্থানেই রয়েছে। বিভাগের দাবি, কর্মকর্তারা আত্মরক্ষার প্রয়োজনে গুলি চালিয়েছিলেন এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের তথ্য তাদের বক্তব্যকে সমর্থন করে। তবে বডি-ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ না হওয়ায় ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।   এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী ও কমিউনিটির সদস্যরা পুলিশের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। প্রতিবেশীর ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওটি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যদিও গুলি চালানোর বৈধতা বা পুলিশের পদক্ষেপ আইনসম্মত ছিল কি না—সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ১২:১৯
স্যাক্রামেন্টোর রোজমন্ট এলাকায় মারাত্মক রোগবাহী মশার বংশবৃদ্ধি ঠেকাতে ২০ লাখ ল্যাব-মশা ওড়াবে প্রশাসন | ছবি: গেটি ইমেজেস

মশা মারতে ২০ লাখ মশা ছাড়ছে আমেরিকা! অভিনব কায়দায় রোগ ঠেকানোর উদ্যোগ

মেক্সিকোর টিজুয়ানা টয়োটা কারখানায় নতুন গাড়ি তৈরির প্রক্রিয়া ও বিপণনের জন্য প্রস্তুতি | ছবি: রয়টার্স

মেক্সিকো ছেড়ে আমেরিকায় কারখানা আনছে টয়োটা, নতুন চাকরি পাবেন ২০০০ মানুষ!

গ্রীষ্মে ট্রাম্পের উদ্যোগে ফিলাডেলফিয়ায় চালু হলো প্রথম ‘ফ্রিডম ফুয়েল নেটওয়ার্ক’ গ্যাস স্টেশন | ছবি: সংগৃহীত

গ্যাসের দাম কমাতে নতুন উদ্যোগ, ফিলাডেলফিয়ায় ট্রাম্পের ‘ফ্রিডম ফুয়েল’ নেটওয়ার্ক চালু

0 Comments