আমেরিকা

ডেবিট কার্ড লেনদেন থেকে বাড়তি মুনাফার লক্ষ্যে জোট বাঁধছে মার্কিন ব্যাংক জায়ান্টরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ১৫:১৯
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ব্যাংক ডেবিট কার্ডের লেনদেনের ওপর ফেডারেল সরকারের বেঁধে দেওয়া ফি-সীমা এড়াতে বড় ধরনের অধিগ্রহণের পথে হাঁটছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেপি মরগান চেস, ব্যাংক অব আমেরিকা, ওয়েলস ফার্গো এবং পিএনসি ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস গ্রুপ ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ‘ফিসার্ভ’ (Fiserv)-এর মালিকানাধীন একটি ডেবিট কার্ড নেটওয়ার্ক কিনে নেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে। এই পদক্ষেপ সফল হলে ব্যাংকগুলো নিজেদের অবকাঠামো ব্যবহার করে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবে, ফলে তাদের আর সরকারি ফি-সীমার নিয়মনীতির মধ্যে আটকে থাকতে হবে না।

 

২০১০ সালে পাস হওয়া ডড-ফ্র্যাঙ্ক আইনের ‘ডারবিন সংশোধনী’ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের অধিকারী ব্যাংকগুলো ডেবিট কার্ড লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ইন্টারচেঞ্জ ফি আদায় করতে পারে না। ব্যাংকগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এই আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের শত শত কোটি ডলারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। এই রাজস্বের মাধ্যমেই একসময় গ্রাহকদের বিনামূল্যে চেকিং অ্যাকাউন্ট বা ডেবিট কার্ডের নানা আকর্ষণীয় রিওয়ার্ড দেওয়া হতো। অন্যদিকে, বণিক ও ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বরাবরই দাবি করে আসছেন যে, এই ফি-সীমা কার্যকর থাকায় লেনদেনের খরচ কমেছে এবং তা খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করছে।

 

সম্প্রতি ক্যাপিটাল ওয়ান কর্তৃক ৫০.৬ বিলিয়ন ডলারে ‘ডিসকভার ফিন্যান্সিয়াল’ অধিগ্রহণের পর থেকে নিজস্ব পেমেন্ট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দিকে নজর দিচ্ছে অন্য বড় ব্যাংকগুলো। ফিসার্ভ-এর ডেবিট নেটওয়ার্কটি অধিগ্রহণ করতে পারলে বড় ব্যাংকগুলোকে লেনদেন সম্পন্ন করতে আর তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভর করতে হবে না। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে সরাসরি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ডেবিট কার্ড লেনদেনের বাজার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার এই কৌশলগত উদ্যোগ মার্কিন ব্যাংকিং ও পেমেন্ট শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ পরিবারকে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়িসহ খাদে ফেলা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০২৩ সালে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবারসহ একটি ৩শ ফুট গভীর খাদে গাড়ি ফেলে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আনা হত্যাচেষ্টার মামলা বাতিল করা হয়েছে। আদালত নিযুক্ত মানসিক স্বাস্থ্য নিরাময় কর্মসূচিতে ওই চিকিৎসকের অভাবনীয় উন্নতি হওয়ায় বিচারক এই যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন।   ৪৫ বছর বয়সী প্যাসাদেনার রেডিওলজিস্ট ধর্মেশ প্যাটেলের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মার্কারি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ক্যালিফোর্নিয়ার সান মাতেও কাউন্টির প্যাসিফিকায় 'ডেভিলস স্লাইড' নামক পাহাড় থেকে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তার টেসলা গাড়িটি খাদে ফেলে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি সান মাতেও কাউন্টির একজন বিচারক প্যাটেলের চিকিৎসকদের দেওয়া প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর এই অভিযোগগুলো খারিজ করে দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, তাকে যে মানসিক স্বাস্থ্য নিরাময় বা ডাইভারশন প্রোগ্রামে রাখা হয়েছিল, সেখানে তার আশানুরূপ উন্নতি হয়েছে।   ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি যখন প্রায় ৩শ ফুট নিচে পাহাড়ের খাদে আছড়ে পড়ে, তখন ভেতরে প্যাটেলের ৪১ বছর বয়সী স্ত্রী এবং তাদের ৭ ও ৪ বছর বয়সী দুই সন্তান উপস্থিত ছিল। তবে অলৌকিকভাবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে পরিবারের চার সদস্যই প্রাণে বেঁচে যান।   ২০২৪ সালের একটি শুনানিতে প্যাটেলের আইনজীবীরা দাবি করেন যে, দুর্ঘটনার সময় তিনি চরম হতাশাজনিত মানসিক সমস্যা বা 'মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার'-এ ভুগছিলেন। মনোবিজ্ঞানীরাও আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, ওই সময় প্যাটেল মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন হ্যালুসিনেশন বা দৃষ্টিবিভ্রমের শিকার হচ্ছিলেন। তিনি পায়ের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন এবং তার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছিল যে তার সন্তানদের পাচার করে দেওয়া হয়েছে।   চিকিৎসকদের মতে, দেশজুড়ে ফেন্টানাইল নামক মাদকের ভয়াবহতা, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সন্তানদের অপহরণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অমূলক ভয় থেকে তার মধ্যে এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল, যা জেফরি এপস্টাইনের মতো যৌন পাচারকারীদের নিয়ে তার চরম উদ্বেগের কারণে ঘনীভূত হয়।   মার্কারি নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার সান মাতেও কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক শ্যারন কে. চো যখন হত্যাচেষ্টার তিনটি অভিযোগ বাতিল করছিলেন, তখন প্যাটেল নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তিনি আদালতের গ্যালারিতে থাকা তার স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেন এবং এরপর দুজনে একসঙ্গে আদালত কক্ষ ত্যাগ করেন।   অভিযোগগুলো খারিজ হয়ে যাওয়ায় প্যাটেলকে আর কোনো বিচারের মুখোমুখি হতে হবে না এবং কর্তৃপক্ষের জব্দ করা তার পাসপোর্টটিও ফেরত দেওয়া হবে। এর আগে আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন প্যাটেলের স্ত্রী তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে নিরাময় কর্মসূচিতে পাঠানোর আকুতি জানিয়ে বলেছিলেন, "তাকে ছাড়া আমাদের কোনো পরিবার নেই।"   স্ত্রী নেহা প্যাটেল আদালতকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, মানসিক অস্থিতিশীলতার কোনো লক্ষণ দেখা দিলে পরিবারের সদস্যদের তা রিপোর্ট করার যে শর্ত চিকিৎসায় যুক্ত করা হয়েছে, প্রয়োজনে তিনি সেই অনুযায়ী সাহায্য চাইতে দ্বিধা করবেন না। বিচারক চো রায়ে উল্লেখ করেছেন, চিকিৎসকদের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্যাটেল এখন "খুব ভালো আছেন" এবং তিনি তার চলমান চিকিৎসা অব্যাহত রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ১৬:৪৯
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া ইরানিদের তথ্য তেহরানকে দেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

জালিয়াতির অভিযোগে এফবিআইর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় খালিদ আহমেদ

৫৪৭ মিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির অভিযোগে এফবিআইর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় খালিদ আহমেদ

ছবি: ইসরায়েলি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির (বামে) এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি (ডানে)

ডেবিট কার্ড লেনদেন থেকে বাড়তি মুনাফার লক্ষ্যে জোট বাঁধছে মার্কিন ব্যাংক জায়ান্টরা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ডেবিট কার্ড লেনদেন থেকে বাড়তি মুনাফার লক্ষ্যে জোট বাঁধছে মার্কিন ব্যাংক জায়ান্টরা

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ব্যাংক ডেবিট কার্ডের লেনদেনের ওপর ফেডারেল সরকারের বেঁধে দেওয়া ফি-সীমা এড়াতে বড় ধরনের অধিগ্রহণের পথে হাঁটছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেপি মরগান চেস, ব্যাংক অব আমেরিকা, ওয়েলস ফার্গো এবং পিএনসি ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস গ্রুপ ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ‘ফিসার্ভ’ (Fiserv)-এর মালিকানাধীন একটি ডেবিট কার্ড নেটওয়ার্ক কিনে নেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে। এই পদক্ষেপ সফল হলে ব্যাংকগুলো নিজেদের অবকাঠামো ব্যবহার করে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবে, ফলে তাদের আর সরকারি ফি-সীমার নিয়মনীতির মধ্যে আটকে থাকতে হবে না।   ২০১০ সালে পাস হওয়া ডড-ফ্র্যাঙ্ক আইনের ‘ডারবিন সংশোধনী’ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের অধিকারী ব্যাংকগুলো ডেবিট কার্ড লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ইন্টারচেঞ্জ ফি আদায় করতে পারে না। ব্যাংকগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এই আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের শত শত কোটি ডলারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। এই রাজস্বের মাধ্যমেই একসময় গ্রাহকদের বিনামূল্যে চেকিং অ্যাকাউন্ট বা ডেবিট কার্ডের নানা আকর্ষণীয় রিওয়ার্ড দেওয়া হতো। অন্যদিকে, বণিক ও ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বরাবরই দাবি করে আসছেন যে, এই ফি-সীমা কার্যকর থাকায় লেনদেনের খরচ কমেছে এবং তা খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করছে।   সম্প্রতি ক্যাপিটাল ওয়ান কর্তৃক ৫০.৬ বিলিয়ন ডলারে ‘ডিসকভার ফিন্যান্সিয়াল’ অধিগ্রহণের পর থেকে নিজস্ব পেমেন্ট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দিকে নজর দিচ্ছে অন্য বড় ব্যাংকগুলো। ফিসার্ভ-এর ডেবিট নেটওয়ার্কটি অধিগ্রহণ করতে পারলে বড় ব্যাংকগুলোকে লেনদেন সম্পন্ন করতে আর তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভর করতে হবে না। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে সরাসরি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ডেবিট কার্ড লেনদেনের বাজার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার এই কৌশলগত উদ্যোগ মার্কিন ব্যাংকিং ও পেমেন্ট শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ১৫:১৯
ঘণ্টা বাজিয়ে ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’-এর উদ্বোধন I ছবি: সংগৃহীত

‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ উদ্বোধনে হোয়াইট হাউস থেকেই ট্রেডিং বেল বাজালেন ট্রাম্প

নাগরিকদের তথ্য ঘেঁটে গ্রেপ্তার ৫ পুলিশ কর্মকর্তা I ছবি: সংগৃহীত

জর্জিয়ার আলবেনিতে ব্যক্তিগত স্বার্থে নাগরিকদের তথ্য ঘেঁটে গ্রেপ্তার ৫ পুলিশ কর্মকর্তা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

ফ্লোরিডায় আয়ার দায়িত্বে থাকা ২ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, বদ্ধ গাড়িতে মিলল নিথর দেহ

বিমানবন্দরে আবেগঘন বিদায়—মার্কিন নাগরিক সন্তানকে জড়িয়ে ধরেছেন অভিবাসী মা I ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নাগরিক চার সন্তানকে রেখে ৩০ বছর পর চোখের জলে বিদায় নিলেন অভিবাসী মা

প্রায় তিন দশক যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে হলো গুয়াতেমালার নাগরিক ওলগা পেরেজকে। সোমবার ফ্লোরিডা থেকে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানাতে আসা পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। বিশেষ করে তার চার মার্কিন নাগরিক সন্তানের অশ্রুসিক্ত বিদায়ের দৃশ্য যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন নীতির মানবিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওলগা পেরেজ প্রায় ৩০ বছর ধরে দক্ষিণ ফ্লোরিডায় বসবাস করছিলেন। এই সময়ে তিনি চার সন্তানের জননী হন। তার সন্তানরা সবাই যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়ায় মার্কিন নাগরিক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় আদিবাসী গুয়াতেমালান সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং ‘মাম’ ভাষার দোভাষী হিসেবে আদালত, হাসপাতাল ও বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে সহায়তা দিয়েছেন।   গত বছরের শেষ দিকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে অ্যারিজোনার একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায়। কয়েক মাস ধরে আইনি লড়াই চললেও শেষ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ সুযোগ পাননি। পরবর্তীতে জোরপূর্বক বহিষ্কারের পরিবর্তে স্বেচ্ছায় গুয়াতেমালায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   বিদায়ের আগে বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আবেগঘন মুহূর্ত কাটান ওলগা পেরেজ। সন্তানদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। উপস্থিত স্বজন ও সহকর্মীরাও তাকে বিদায় জানাতে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুয়াতেমালায় পৌঁছে প্রথমে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় অবস্থান করবেন ওলগা পেরেজ। পরে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করবেন। তার সন্তানরা সুযোগ হলে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গুয়াতেমালায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।   এর আগে চলতি বছর তার স্বামীও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত হন। ফলে পরিবারের দুই অভিভাবকই এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে, আর চার সন্তানকে দেশেই থেকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে।   অভিবাসন অধিকারকর্মীদের মতে, ওলগা পেরেজের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো ‘মিশ্র-অভিবাসন’ পরিবারের বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। এসব পরিবারের সন্তানরা মার্কিন নাগরিক হলেও বাবা বা মায়ের অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পাম বিচ পোস্টের প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিদায়ের ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই ঘটনাটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ১৩:৮
শিক্ষার বাজেট ঘাটতি মেটাতে ট্যাক্স বাড়ানোর দাবিতে অভিভাবকদের ৩ হাজার স্বাক্ষর সরাসরি নাকচ করল মিনেসোটার স্কুল ডিস্ট্রিক্ট | ছবি: সংগৃহীত

স্কুল বাঁচাতে এবার নিজেরাই ট্যাক্স বাড়ানোর দাবিতে নামলেন ৩ হাজার অভিভাবক, আমেরিকায় তীব্র উত্তেজনা!

তুরস্ক সফরে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: হোয়াইট হাউস

ট্রাম্পের ঘোষণা, তুরস্কের ওপর মার্কিন প্রতিরক্ষা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ

প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওর স্থিরচিত্র | ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় পুলিশি গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ নিহত, পুলিশের বডিক্যামে নেই - ধরা পড়ল প্রতিবেশীর ক্যামেরায়

0 Comments