বিয়ের দিনটিকে জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে দেখেন অনেকেই। সেই দিনটিতে নিজের সেরা রূপে হাজির হতে সৌন্দর্যচর্চা, শরীরচর্চা ও নানা প্রসাধনী সেবায় মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করাও এখন অনেক কনের কাছে নতুন বাস্তবতা। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে এই প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ৩০ বছর বয়সী মেকআপ শিল্পী জেড ভয়েট এমনই একজন। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৭ সালে ইতালির টাসকানিতে অনুষ্ঠিতব্য নিজের বিয়ের আগে শুধু সৌন্দর্যচর্চার জন্যই প্রায় ৬২ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় করবেন। তবে এসব খরচের বিস্তারিত তিনি তার হবু স্বামী রায়ানকে জানাতে চান না।
নিউইয়র্ক পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেড বলেন, বাগদান হওয়ার পর তার প্রথম চিন্তা ছিল না বিয়ের ভেন্যু বা সাজসজ্জা নিয়ে। বরং তিনি ঠিক করেন, কীভাবে নিজেকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত বিয়ের জন্য প্রস্তুত করবেন।
তিনি বলেন, "এটি আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্তগুলোর একটি। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সেই দিনটি কাটাব। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমি আমার সেরা রূপে থাকতে চাই। বিয়ের ছবিগুলো সারাজীবন থাকবে। একদিন আমার সন্তানেরা যেন বলতে পারে, ‘আমার মা দারুণ সুন্দর ছিলেন।’"
জেডের সৌন্দর্যচর্চার তালিকায় রয়েছে উন্নতমানের ত্বক পরিচর্যা, বিশেষ ইনজেকশনভিত্তিক চিকিৎসা, মাইক্রোনিডলিং, নিয়মিত বোটক্স ও ফিলার, চিকিৎসকদের পরামর্শে ব্যবহৃত ত্বক পরিচর্যার পণ্য এবং নিয়মিত পিলাটিস অনুশীলন।
চোখের নিচের কালচে দাগ দূর করতে তিনি প্রতি সেশনে প্রায় এক হাজার ডলার ব্যয়ে প্লেটলেট-সমৃদ্ধ বিশেষ জেল চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া মুখ, গলা ও হাতের ত্বকের জন্য নিয়মিত মাইক্রোনিডলিং করাচ্ছেন। চিকিৎসা-মানের ত্বক পরিচর্যার পণ্য ব্যবহারেও প্রতি রিফিলে তার খরচ হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার।
প্রতি তিন থেকে চার মাস পরপর বোটক্স ও ফিলারের জন্য তার ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ডলার। শরীরকে কাঙ্ক্ষিত আকৃতিতে রাখতে প্রতি মাসে ৩০০ ডলার ব্যয়ে পিলাটিস ক্লাসেও অংশ নিচ্ছেন।
জেড জানান, একসময় তিনি ২৫ হাজার ডলার ব্যয়ে স্তন অস্ত্রোপচারের কথাও ভেবেছিলেন। তবে বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। যদিও এখনো বাহুর চর্বি অপসারণের অস্ত্রোপচার করানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন, যার সম্ভাব্য খরচ প্রায় ১০ হাজার ডলার।
তার ভাষায়, এসব খরচ বহন করতে তিনি অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছেন। তবে তার হবু স্বামীকে সবকিছু জানাননি। তিনি বলেন, "সব বিষয় জানার দরকার নেই। কিছু সৌন্দর্যের গোপন রহস্য নিজের কাছেই রাখতে চাই।"
শুধু জেড নন, যুক্তরাষ্ট্রের আরও অনেক কনে বিয়ের আগে সৌন্দর্যচর্চায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করছেন।
লং আইল্যান্ডের বাসিন্দা এবং সম্প্রতি বিয়ে করা ২৯ বছর বয়সী আলেকজান্দ্রা মাহল ডিন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবেই তিনি বিয়ের আগে নিজের সৌন্দর্যচর্চায় প্রায় ২৬ হাজার ৮৯০ ডলার ব্যয় করেছেন। তার মোট বিয়ের বাজেট ছিল প্রায় দেড় লাখ ডলার।
তিনি চোখ ও মুখের ত্বকের চিকিৎসা, মাইক্রোনিডলিং, বিলাসবহুল ত্বক পরিচর্যার পণ্য, চুলে এক্সটেনশন এবং নিয়মিত পিলাটিসে অর্থ ব্যয় করেন। তবে বিয়ের পর তার উপলব্ধি, পুরো বিষয়টি কিছুটা বাড়াবাড়িও হতে পারে।
তিনি বলেন, "বিয়ের দিনের জন্য এত প্রস্তুতি নেওয়া হয়, কিন্তু পরদিন তো আবার নিজের স্বাভাবিক চেহারাতেই ফিরে যেতে হয়।"
অন্যদিকে আগস্ট ২০২৬-এ বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়া সামি স্কটি তার ত্বকের ব্রণের সমস্যা দূর করতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার ডলার ব্যয় করেছেন। উন্নত ত্বক পরিচর্যা, বোটক্স, চুলের পরিচর্যা, নখের যত্ন, স্প্রে ট্যান এবং নিয়মিত শরীরচর্চাসহ তার মোট সৌন্দর্যচর্চার সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১ হাজার ২৭৬ ডলার।
তিনি জানান, তার হবু স্বামী মোটামুটি খরচের ধারণা জানেন এবং তাকে সমর্থনও করেন। তবে প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকটকের #BridalGlowUp-এর মতো ট্রেন্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'আগে ও পরে' ধরনের সৌন্দর্য পরিবর্তনের ভিডিও অনেক কনের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করছে। ফলে বিয়ের আগে নিখুঁত দেখানোর আকাঙ্ক্ষায় অনেকেই ব্যক্তিগত বাজেটের বড় অংশ সৌন্দর্যচর্চায় ব্যয় করছেন।
তবে মনোবিজ্ঞানীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বিয়ের প্রস্তুতিতে নিজের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সৌন্দর্যচর্চা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হলেও সেটি যেন সামাজিক চাপ বা অবাস্তব প্রত্যাশার কারণে না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে অভিবাসন অভিযান চলাকালে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর এক কর্মকর্তার গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহত ব্যক্তি গাড়ি দিয়ে কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে নিহতের পরিবার এবং অভিবাসী অধিকারকর্মীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার হিউস্টনে পরিচালিত একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানের সময় এ ঘটনা ঘটে। আইসিই জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো। সংস্থাটির দাবি, তিনি মেক্সিকোর নাগরিক ছিলেন এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) এক বিবৃতিতে জানায়, কর্মকর্তারা তার গাড়ি থামানোর নির্দেশ দিলেও তিনি তা অমান্য করেন। বরং একটি আইসিই গাড়িতে ধাক্কা দেন এবং গাড়িটিকে অস্ত্রের মতো ব্যবহার করে এক কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই পরিস্থিতিতে এক কর্মকর্তা গুলি চালান বলে ডিএইচএসের দাবি। তবে নিহতের ছেলে রোনালদো সালগাদো স্প্যানিশ ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল টেলেমুন্ডো হিউস্টন-কে জানান, তার বাবা ওই এলাকায় দিনমজুর নিয়োগের উদ্দেশ্যে শ্রমিক খুঁজতে গিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি ও সরকারি বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য থাকায় ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিও রয়টার্স পর্যালোচনা করেছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সাদা ভ্যানের পাশে একজন ব্যক্তি মাটিতে পড়ে আছেন এবং তাকে ঘিরে রয়েছেন একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। তবে ভিডিওটিতে গুলি চালানোর মুহূর্তটি দেখা যায়নি। এ ঘটনার পর টেক্সাস থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য সিলভিয়া গার্সিয়া নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ঘটনার সব ভিডিও, যোগাযোগের রেকর্ড এবং অন্যান্য আলামত সংরক্ষণ করে নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা উচিত। অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠন লিগ অব ইউনাইটেড ল্যাটিন আমেরিকান সিটিজেনস (LULAC)-এর প্রধান নির্বাহী হুয়ান প্রোয়ানোও একই দাবি জানিয়েছেন। তার ভাষায়, শুধু ডিএইচএসের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। পুরো ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া দরকার এবং সংশ্লিষ্ট সব ভিডিও প্রকাশ করা উচিত। সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করার পর থেকে আইসিই বা অন্যান্য ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এর আগে মিনিয়াপোলিসে রেনি গুড নামে এক মার্কিন নাগরিকও আইসিই অভিযানের সময় গুলিতে নিহত হন। সে সময়ও ডিএইচএস দাবি করেছিল, তিনি গাড়ি দিয়ে কর্মকর্তাকে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে স্থানীয় কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এ ধরনের কয়েকটি ঘটনার পর আইসিই তাদের কিছু বিতর্কিত অভিযান সীমিত করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও দেশজুড়ে অভিবাসন অভিযান বাড়ানো হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার অভিবাসীকে আটক করেছে আইসিই। হিউস্টনের এই ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিকে গুলি করার পেছনের পরিস্থিতি নিয়ে উভয় পক্ষের দাবিই আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হওয়া বাকি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারতভিত্তিক কয়েকটি আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে দেশটির ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। 'অপারেশন হার্ড বল' নামে পরিচালিত এই অভিযানে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এসব চক্র মাদক ও অস্ত্র পাচার, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার আয় করছিল। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে), ফেডারেল তদন্ত সংস্থা এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন স্থানেও অন্তত ৫০টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসাইলি বলেন, অনেকের কাছে অপরিচিত হলেও এসব অপরাধী চক্র অত্যন্ত শক্তিশালী। তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, অস্ত্র বেচাকেনা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, চুরি এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য, এসব সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক পরিমাণ কোকেন ও মেথামফেটামিন ছড়িয়ে দিয়েছে এবং সহিংস অপরাধের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। আদালতে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, ভারতের কারাগারে বন্দি অবস্থায় থেকেও কয়েকজন শীর্ষ গ্যাং নেতা আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাদের সহযোগীদের পরিচালনা করতেন। তদন্তে উঠে এসেছে, ভারতের কারাগারে বন্দি লরেন্স বিষ্ণোইর নেতৃত্বাধীন বিষ্ণোই গ্যাং চোরাই মোবাইল ফোন ও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ক্যালিফোর্নিয়ায় মাদক পরিবহন, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার নির্দেশ দিত। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যে বৃহত্তর লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী মাদকচক্রের কাছ থেকে প্রায় ১ হাজার ১৫০ পাউন্ড কোকেন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাতেও এই গ্যাং জড়িত। মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সহযোগী রাজন ভাট্টি এক গোপন ফেডারেল কর্মকর্তার কাছ থেকে দুই লাখ ডলার আদায়ের চেষ্টা করেন। ওই কর্মকর্তা নিজেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসকারী একজন ধনী প্রবাসী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে ভাট্টি ওই কর্মকর্তা ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিও দেন। এদিকে ভারতের কারাগারে বন্দি জগ্গু ভগবানপুরিয়ার নেতৃত্বাধীন ভগবানপুরিয়া গ্যাংয়ের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্যাংটির সদস্যরা ভারতে থাকা দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু ব্যক্তির সহযোগিতায় মানুষকে মিথ্যা হত্যামামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন। এই গ্যাংয়ের সদস্য গুরলাল সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ভারতের পাঞ্জাবের এক দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ কর্মকর্তার সহযোগিতায় ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে চাঁদা আদায়ের ষড়যন্ত্র করেছিলেন। আরেক সদস্য গুরদেব সিং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকা অবস্থায়ও গোপনে যোগাযোগের মাধ্যমে একটি পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, জগ্গু ভগবানপুরিয়া ভারতের কারাগারে বন্দি থেকেও ক্যালিফোর্নিয়ায় বিপুল পরিমাণ কোকেন পরিবহন ও বিতরণের নির্দেশ দিতেন। এছাড়া কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বাসিন্দা ৫৭ বছর বয়সী রবিন্দর সিং ধান্দার বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় প্রতি সপ্তাহে শত শত পাউন্ড কোকেন ও মেথামফেটামিন পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তার চক্র আধা-ট্রাক ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত ট্রাকের মাধ্যমে লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়েস্ট কোভিনা, অন্টারিও, ফন্টানা ও পেরিস এলাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্ত পর্যন্ত মাদক পরিবহন করত। এই মামলায় অভিযুক্ত জাস্টিন গুজম্যানকে মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার এল মন্টে এলাকার একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চক্রটির হয়ে ১৫০ পাউন্ডের বেশি কোকেন পাচারে অংশ নিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবারের অভিযানে লস অ্যাঞ্জেলেস, স্যাক্রামেন্টো, স্টকটন, সান হোসে, ফ্রেসনোসহ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শহরে অভিযান চালানো হয়। শুধু স্যাক্রামেন্টো এলাকায় ২৩টি এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে ১৯টি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের প্রধান জিম ম্যাকডনেল বলেন, অভিযুক্তরা ক্যালিফোর্নিয়াকে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২ হাজার ২০০ পাউন্ডের বেশি কোকেন ও হেরোইন, ৪০ হাজার মার্কিন ডলার নগদ অর্থ এবং অন্তত ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজন যুক্তরাষ্ট্রে, দুজন ভারতে এবং একজন ইউরোপে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, মামলায় উত্থাপিত সব অভিযোগই তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগপত্র ও আদালতের নথির ভিত্তিতে করা হয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে এক হাসপাতালে অস্ত্রোপচার চলাকালে ১৭ বছর বয়সী এক ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর বহুমূল্য জিনিসপত্র ও অর্থ চুরির অভিযোগ উঠেছে। সাহারা মরকেচো নামের ওই কিশোরী অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের (স্টেজ ৪) চিকিৎসাধীন। ইউসি সান ডিয়েগো হেলথ হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার চলাকালীন রোগীর কক্ষ থেকে নগদ অর্থ, পরিচয়পত্র, অলংকার এবং তার প্রয়াত বাবার কিছু অমূল্য ছবিসহ একটি পার্স চুরি হয়ে যায়। জীবনের এমন এক কঠিন সময়ে এই অমানবিক ঘটনার শিকার হয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। কিশোরীর বোন কালিনা মরকেচো জানান, চুরির বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের কর্মীদের জানানো হলেও তারা এটিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। তারা দাবি করেন, হয়তো বিছানার চাদরের মধ্যে জিনিসগুলো হারিয়ে গেছে এবং কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগও সে সময় গ্রহণ করা হয়নি। তবে অস্ত্রোপচারের পর সাহারা কিছুটা সুস্থ হয়ে তার অ্যাপল আইফোনের ‘ফাইন্ড মাই’ অ্যাপ ব্যবহার করে চুরি যাওয়া এয়ারপডসের অবস্থান ট্র্যাক করেন। অ্যাপের তথ্যানুযায়ী, ডিভাইসগুলোর অবস্থান সান ডিয়েগো কাউন্টির লেমন গ্রোভ এলাকার একটি বাড়িতে দেখা যায়, যা এই ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে শেরিফ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ওই ঠিকানায় পৌঁছালে বাড়ির মালিকের সাহায্যে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। কালিনার দাবি, পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায় যে সন্দেহভাজন ওই নারী সাহারার হাসপাতালেই কাজ করেন এবং তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই চুরি ও ডাকাতির অন্তত চারটি রেকর্ড রয়েছে। তবে ইউসি সান ডিয়েগো হেলথ কর্তৃপক্ষ গোপনীয়তা আইনের কারণ দেখিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের কর্মী কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যদিও এক বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে যে, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং রোগীদের ব্যক্তিগত সামগ্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি তারা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কালিনা মরকেচো আক্ষেপ করে বলেন, "হাসপাতালের মতো নিরাপদ একটি জায়গায় এমন চুরির ঘটনা ঘটবে তা আমরা ভাবতেও পারিনি। অসুস্থ মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়াটা চরম নিষ্ঠুরতা।" তিনি আরও জানান, আর্থিক ক্ষতির চেয়ে সাহারার মৃত বাবার ছবিগুলো চুরি যাওয়াই তাদের কাছে সবচেয়ে বেশি কষ্টের। ছবিগুলো সাহারাকে তার বাবার শোক ভুলতে ও মানসিক শান্তি পেতে সাহায্য করত। বর্তমানে সান ডিয়েগো পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এই চুরির ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করলেও দ্রুত অপরাধীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।