টেক্সাসে অভিবাসন অভিযানের সময় আইসিই (ICE) কর্মকর্তার গুলিতে নিহত ১
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে অভিবাসন অভিযান চলাকালে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর এক কর্মকর্তার গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহত ব্যক্তি গাড়ি দিয়ে কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে নিহতের পরিবার এবং অভিবাসী অধিকারকর্মীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার হিউস্টনে পরিচালিত একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানের সময় এ ঘটনা ঘটে। আইসিই জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো। সংস্থাটির দাবি, তিনি মেক্সিকোর নাগরিক ছিলেন এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) এক বিবৃতিতে জানায়, কর্মকর্তারা তার গাড়ি থামানোর নির্দেশ দিলেও তিনি তা অমান্য করেন। বরং একটি আইসিই গাড়িতে ধাক্কা দেন এবং গাড়িটিকে অস্ত্রের মতো ব্যবহার করে এক কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই পরিস্থিতিতে এক কর্মকর্তা গুলি চালান বলে ডিএইচএসের দাবি।
তবে নিহতের ছেলে রোনালদো সালগাদো স্প্যানিশ ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল টেলেমুন্ডো হিউস্টন-কে জানান, তার বাবা ওই এলাকায় দিনমজুর নিয়োগের উদ্দেশ্যে শ্রমিক খুঁজতে গিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি ও সরকারি বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য থাকায় ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিও রয়টার্স পর্যালোচনা করেছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সাদা ভ্যানের পাশে একজন ব্যক্তি মাটিতে পড়ে আছেন এবং তাকে ঘিরে রয়েছেন একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। তবে ভিডিওটিতে গুলি চালানোর মুহূর্তটি দেখা যায়নি।
এ ঘটনার পর টেক্সাস থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য সিলভিয়া গার্সিয়া নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ঘটনার সব ভিডিও, যোগাযোগের রেকর্ড এবং অন্যান্য আলামত সংরক্ষণ করে নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা উচিত।
অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠন লিগ অব ইউনাইটেড ল্যাটিন আমেরিকান সিটিজেনস (LULAC)-এর প্রধান নির্বাহী হুয়ান প্রোয়ানোও একই দাবি জানিয়েছেন। তার ভাষায়, শুধু ডিএইচএসের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। পুরো ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া দরকার এবং সংশ্লিষ্ট সব ভিডিও প্রকাশ করা উচিত।
সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করার পর থেকে আইসিই বা অন্যান্য ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।
এর আগে মিনিয়াপোলিসে রেনি গুড নামে এক মার্কিন নাগরিকও আইসিই অভিযানের সময় গুলিতে নিহত হন। সে সময়ও ডিএইচএস দাবি করেছিল, তিনি গাড়ি দিয়ে কর্মকর্তাকে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে স্থানীয় কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
এ ধরনের কয়েকটি ঘটনার পর আইসিই তাদের কিছু বিতর্কিত অভিযান সীমিত করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও দেশজুড়ে অভিবাসন অভিযান বাড়ানো হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার অভিবাসীকে আটক করেছে আইসিই।
হিউস্টনের এই ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিকে গুলি করার পেছনের পরিস্থিতি নিয়ে উভয় পক্ষের দাবিই আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হওয়া বাকি রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এখন শহরের ডিডিওটি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারছে। ‘রাইড টু রাইজ’ কর্মসূচির আওতায় এই সুবিধা চালু করেছে সিটি অব ডেট্রয়েট। বিনামূল্যে রাইডের জন্য কোনো আলাদা বাস পাস, আবেদন বা ফি প্রয়োজন নেই। শিক্ষার্থীকে শুধু বাসে ওঠার সময় স্কুল থেকে দেওয়া বৈধ স্টুডেন্ট আইডি দেখাতে হবে। ডেট্রয়েট সিটির তথ্য অনুযায়ী, সরকারি, চার্টার ও বেসরকারি স্কুলে পড়া কে-১২ শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির সুবিধা পাবে। স্টুডেন্ট আইডিতে শিক্ষার্থীর নাম, ছবি এবং স্কুলের নাম থাকতে হবে। সাধারণ স্টেট আইডি স্কুল কর্তৃক ইস্যু করা স্টুডেন্ট আইডির বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। এই সুবিধা শুধু স্কুলে যাওয়া-আসার জন্য সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীরা ডিডিওটির নিয়মিত রুট ব্যবহার করে স্কুলের পাশাপাশি আফটার-স্কুল প্রোগ্রাম, কাজ, খেলাধুলার অনুশীলন কিংবা অন্য প্রয়োজনেও বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবে। বাস চলাচলের সময়সীমার মধ্যে সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও সপ্তাহান্তেও সুবিধাটি পাওয়া যাবে। শহরের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটি বছরের ৩৬৫ দিন কার্যকর রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ডেট্রয়েটের মেয়র মেরি শেফিল্ডের প্রশাসন চলতি বছরের শুরুতে কর্মসূচিটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে। পরে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার বাড়ায় এটি স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগস্টে সিটি অব ডেট্রয়েট জানায়, ‘রাইড টু রাইজ’ ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষজুড়ে চলবে এবং কর্মসূচিটির জন্য মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বাজেট থেকে ১০ লাখ ডলার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সিটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শেষ দুই মাসে কর্মসূচিটি চালু হওয়ার পর ডিডিওটি বাসে শিক্ষার্থীদের যাত্রীসংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছিল। মেয়র শেফিল্ড বলেছেন, শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতির পথে পরিবহন যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেটিই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে শহর কর্তৃপক্ষ ‘রাইড টু রাইজ অ্যাম্বাসেডর’ কর্মসূচিও যুক্ত করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৫ জন অ্যাম্বাসেডর বাস, ট্রানজিট সেন্টার এবং বিভিন্ন হাইস্কুলের বাসস্টপে ব্যস্ত সময়ে উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের পাশাপাশি ডিডিওটি এবং ডেট্রয়েট পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ট্রানজিট ইউনিটসহ অন্যান্য সিটি কর্মীরাও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত থাকবেন। ডেট্রয়েট সিটির ভাষ্য, পরিবহন খরচ অনেক শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল, চাকরি বা বিভিন্ন শিক্ষামূলক সুযোগে অংশ নেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেই বাধা কমাতেই বিনামূল্যে গণপরিবহনের এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। রাইড টু রাইজ ব্যবহারের প্রক্রিয়াও সহজ রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীকে যেকোনো নিয়মিত ডিডিওটি সিটি বাসে উঠতে হবে, চালককে বৈধ স্কুল আইডি দেখাতে হবে, তারপর কোনো ভাড়া না দিয়েই যাত্রা করা যাবে। আলাদা অ্যাপ, বিশেষ ট্রানজিট পাস বা কোনো আবেদনপত্রের প্রয়োজন নেই। ডেট্রয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুবিধা ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষেও চালু থাকায় পরিবারগুলোর দৈনন্দিন পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি স্কুল ও অন্যান্য কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সহজ হবে বলে আশা করছে শহর কর্তৃপক্ষ।
১০ বিলিয়ন থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ নতুন উদ্যোগে আসওয়ার রহমান
দুই মাসের আন্দোলনেও রক্ষা হলো না গাছ, অ্যারিজোনায় কেটে ফেলা হলো ২০০ বছরের পুরোনো কটনউড
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি কর্মীদের কত বেতন দিতে হবে, সামনে এলো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। গত বছরও পুরস্কারটির জন্য তার সম্ভাবনা বেশ আলোচনায় ছিল। তবে ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার আগে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই কমে এসেছে। বরং পূর্বাভাসভিত্তিক বাজারের হিসাবে ট্রাম্পের চেয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সম্ভাবনা বেশি দেখা যাচ্ছে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার কালশির হিসাবে ট্রাম্পের ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা ১ শতাংশের নিচে, আর কার্নির সম্ভাবনা ২ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে পলিমার্কেটে ট্রাম্প ও কার্নি—দুজনের সম্ভাবনাই ১ শতাংশ করে দেখানো হয়েছে। তবে এসব সংখ্যা নোবেল কমিটির কোনো আনুষ্ঠানিক পূর্বাভাস নয়; বাজারে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ধারণা ও লেনদেনের ভিত্তিতে সম্ভাবনা ওঠানামা করে। কার্নির সম্ভাবনা অবশ্য এর কিছুদিন আগেই অনেক বেশি ছিল। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কালশিতে তার সম্ভাবনা সাময়িকভাবে ১৪ শতাংশে উঠে যায় এবং তিনি ওই সময় তালিকার শীর্ষে ছিলেন। পরে তা দ্রুত কমে যায়। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন ওঠানামাই দেখায় যে পূর্বাভাসভিত্তিক বাজারের তথ্যকে নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের নিশ্চিত ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায় না। ট্রাম্প গত বছরজুড়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তার প্রচেষ্টায় আটটি যু দ্ধের অবসান হয়েছে। এসব দাবির কারণে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার আগে তার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা জোরালো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের পুরস্কার পান ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। পরে তিনি নিজের নোবেল পদক ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন। ট্রাম্প সেটি গ্রহণ করেন। নোবেল কমিটি ট্রাম্পকে পুরস্কার না দেওয়ার পর হোয়াইট হাউস থেকে কমিটির বিরুদ্ধে ‘রাজনীতিকে শান্তির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার’ অভিযোগও তোলা হয়েছিল। ২০২৬ সালে পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য আরও কঠিন হয়েছে। চলতি বছরে তার প্রশাসনের ভেনেজুয়েলা অভিযান এবং ইরানে মার্কিন হামলার পর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যেই নোবেল শান্তি পুরস্কারের দৌড়ে তার সম্ভাবনা পূর্বাভাস বাজারে নেমে এসেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণেও ট্রাম্পের এবারের সম্ভাবনা খুব কম বলে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতামত উঠে এসেছে। অন্যদিকে মার্ক কার্নি ২০২৫ সালে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এবং কানাডার ওপর অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার সম্ভাবনার কথাও একাধিকবার ওঠে এসেছে, যা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। কার্নি একই সময়ে ইউরোপের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি তিনি বিশ্বের মধ্যম শক্তির দেশগুলোকে নিজেদের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক আলোচিত বক্তৃতায় কার্নি পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থার মধ্যে মধ্যম শক্তির দেশগুলোর সহযোগিতার ওপর জোর দেন। তার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয় এবং পরবর্তী সময়ে নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনাতেও তার নাম উঠে আসে। তবে কার্নি নোবেল কমিটির চূড়ান্ত তালিকায় আছেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়। নরওয়ের নোবেল কমিটি নিয়ম অনুযায়ী বর্তমান বছরের মনোনীতদের নাম প্রকাশ করে না। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও সেটি নোবেল কমিটির আনুষ্ঠানিক সমর্থন বা স্বীকৃতি নয়। মনোনয়নসংক্রান্ত তথ্য সাধারণত ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন বা প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংগঠন রয়েছে। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৩১ জানুয়ারি। এরপর কমিটি সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা করে এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত বিবেচনায় নেয়। বর্তমান পূর্বাভাস বাজারে ট্রাম্প ও কার্নির পাশাপাশি সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং ইউক্রেনের শিশু অধিকারকর্মী মাইকোলা কুলেবার নামও আলোচনায় রয়েছে। কালশির বর্তমান বাজারে সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস এগিয়ে রয়েছে। তবে এগুলোও কেবল বাজারভিত্তিক পূর্বাভাস, নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত নয়। নোবেল শান্তি পুরস্কার সাধারণত এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়, যারা জাতিগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, শান্তি প্রতিষ্ঠা, সামরিক শক্তি কমানো কিংবা শান্তি সম্মেলন আয়োজন ও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০২৬ সালের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে ৯ অক্টোবর নরওয়ের অসলোতে। ফলে নোবেল ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন আগে ট্রাম্প ও কার্নিকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন মূলত পূর্বাভাস বাজার। সেখানে কার্নির সম্ভাবনা ট্রাম্পের চেয়ে বেশি দেখা গেলেও শেষ সিদ্ধান্ত নেবে নরওয়ের নোবেল কমিটিই।
৯০ ডলারের এককালীন পেমেন্ট পাচ্ছেন লাখো বয়স্ক, শর্ত পূরণ না করায় বাদ ৪ কোটি
লিথুয়ানিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ, রাশিয়ার হুঁশিয়ারি
গাড়ি চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ও সবচেয়ে খারাপ শহর কোনগুলো, দেখুন তালিকায়
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের বিদেশে থাকা স্বজনদের গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে নির্দিষ্ট আর্থিক সক্ষমতা দেখাতে হয়। এ ক্ষেত্রে স্পনসরকে সাধারণত ফর্ম আই-৮৬৪, অর্থাৎ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট জমা দিতে হয়। এই নথির মাধ্যমে স্পনসর আইনগতভাবে অঙ্গীকার করেন যে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসী প্রয়োজন হলে তার আর্থিক সহায়তা পাবেন এবং সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, অধিকাংশ পরিবারভিত্তিক অভিবাসন আবেদনে এই আর্থিক সহায়তার নথি প্রয়োজন হয়। কিছু নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হতে পারে, যদি আবেদনকারীর হয়ে কোনো মার্কিন নাগরিক, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা মার্কিন নাগরিকত্বধারী আত্মীয় আবেদন করেন। মূল বিষয় হলো, স্পনসরের আয় তার পরিবারের মোট সদস্যসংখ্যার জন্য নির্ধারিত ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ হতে হবে। অর্থাৎ, সবার জন্য একই আয়সীমা প্রযোজ্য নয়। স্পনসরের পরিবারে কতজন সদস্য আছেন, তার ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়। ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের দারিদ্র্য নির্দেশনা অনুযায়ী, ৪৮টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই সদস্যের পরিবারের দারিদ্র্যসীমা ২১ হাজার ৬৪০ ডলার। এর ১২৫ শতাংশ হলো ২৭ হাজার ৫০ ডলার। তিন সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে দারিদ্র্যসীমা ২৭ হাজার ৩২০ ডলার এবং ১২৫ শতাংশের হিসাব দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার। চার সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে দারিদ্র্যসীমা ৩৩ হাজার ডলার এবং ১২৫ শতাংশ হলো ৪১ হাজার ২৫০ ডলার। পরিবারের সদস্যসংখ্যা আরও বাড়লে প্রয়োজনীয় আয়ও বাড়ে। এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্পনসরের নিজের আয় যদি তার নির্ধারিত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ১২৫ শতাংশ সীমা পূরণ করে, তাহলে অন্য পরিবারের সদস্যদের আয় যোগ করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে পরিবারের সদস্যসংখ্যা হিসাবের বাইরে থাকবে। বরং আই-৮৬৪ ফর্মে স্পনসরের পরিবারের সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করেই প্রয়োজনীয় আয়ের সীমা ঠিক করা হয়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা নির্ধারণের সময় স্পনসরের স্বামী বা স্ত্রী, নির্দিষ্ট সন্তান, আয়কর রিটার্নে নির্ভরশীল হিসেবে দেখানো ব্যক্তি, যে অভিবাসীকে স্পনসর করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অন্যান্য অভিবাসী আবেদনকারীকেও হিসাবের মধ্যে রাখতে হয়। কোনো অ-নির্ভরশীল আত্মীয় একই বাড়িতে থাকলে এবং তার আয় ব্যবহার করতে চাইলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ফর্ম আই-৮৬৪এ প্রয়োজন হতে পারে। যদি স্পনসরের নিজের আয় প্রয়োজনীয় সীমায় না পৌঁছায়, তখন আবেদন বাতিল হয়ে যায় না। এ ক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রয়েছে। একজন যোগ্য যৌথ স্পনসর বা জয়েন্ট স্পনসর অতিরিক্ত আর্থিক দায়িত্ব নিতে পারেন। অথবা একই পরিবারের যোগ্য সদস্যের আয় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ফর্ম ও আর্থিক প্রমাণ জমা দিতে হয়। আয়ের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে সম্পদও ব্যবহার করা যায়। স্পনসরের আয় নির্ধারিত সীমার নিচে থাকলে সঞ্চয়, শেয়ার, বন্ড বা নির্দিষ্ট সম্পদের মূল্য ব্যবহার করে ঘাটতি পূরণের সুযোগ রয়েছে। তবে সম্পদের ক্ষেত্রে আলাদা হিসাব ও প্রমাণের নিয়ম আছে। সাধারণভাবে সম্পদের নিট মূল্য এবং আয়ের ঘাটতির অনুপাত নির্দিষ্ট নিয়মে বিবেচনা করা হয়। আবেদনের সঙ্গে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী সাম্প্রতিক বেতন স্লিপ, চাকরির প্রমাণ, নিয়োগকর্তার চিঠি, আয়কর-সংক্রান্ত নথি বা অন্যান্য আর্থিক কাগজপত্র জমা দিতে হতে পারে। কোনো স্পনসরের আয় দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকলে অতিরিক্ত আয় বা সম্পদের প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। স্পনসর হওয়ার জন্য শুধু পর্যাপ্ত আয় থাকাই যথেষ্ট নয়। সাধারণভাবে আর্থিক স্পনসরকে অন্তত ১৮ বছর বয়সী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হতে হয়। পাশাপাশি তার যুক্তরাষ্ট্রে ডমিসাইল বা প্রধান বসবাসের ভিত্তি থাকতে হয়। ফর্ম আই-৮৬৪ স্বাক্ষর করার পর এটি আইনগতভাবে কার্যকর একটি অঙ্গীকারে পরিণত হয়। সাধারণভাবে স্পনসরের আর্থিক দায়িত্ব তখন পর্যন্ত চলতে পারে, যতক্ষণ না স্পনসর করা ব্যক্তি মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন, সামাজিক নিরাপত্তা আইনের অধীনে ৪০টি যোগ্য কর্ম-ত্রৈমাসিক অর্জন করেন বা আইনে নির্ধারিত অন্য কোনো সমাপ্তির শর্ত পূরণ হয়। বাংলাদেশিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিবারগুলোর জন্য তাই যুক্তরাষ্ট্রে স্বজনকে গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে আনতে শুধু পারিবারিক সম্পর্ক প্রমাণ করাই যথেষ্ট নয়। আবেদন করার আগে সম্ভাব্য স্পনসরের পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বর্তমান আয়, কর-সংক্রান্ত নথি, প্রয়োজনীয় ১২৫ শতাংশ সীমা এবং প্রয়োজনে যৌথ স্পনসর বা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ—সবকিছু যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আয়ের সীমা প্রতি বছর হালনাগাদ হওয়ায় পুরোনো কোনো অঙ্কের ওপর নির্ভর না করে আবেদন জমা দেওয়ার সময়কার কার্যকর দারিদ্র্য নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরও জানিয়েছে, আই-৮৬৪ জমা দেওয়ার সময় কার্যকর দারিদ্র্য নির্দেশনাই সাধারণভাবে আয় যোগ্যতা নির্ধারণে ব্যবহার করা হয়।
চাকরি ছিল, স্বপ্নও ছিল, স্পনসর না পেয়ে আমেরিকা ছাড়লেন ভারতীয় বিজ্ঞানী, নতুন জীবন জার্মানিতে
আমেরিকায় পাসপোর্ট আবেদনে আসছে বড় পরিবর্তন, ঘরে বসেই শেষ হবে পুরো প্রক্রিয়া