ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। নিজ দলের আইনপ্রণেতাদের তীব্র চাপের মুখে সোমবার লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দেওয়া এক ভাষণে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও দলের নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান। এ সময় তিনি সরকারের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি দেশ ও দলের স্বার্থে সরে দাঁড়ানোর কথা বলেন। পদত্যাগের ভাষণে স্টারমার বলেন, দুই বছর আগে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত। ১৪ বছর পর লেবার পার্টি সরকার গঠন করেছিল এবং দীর্ঘ হতাশা ও নিরাশার পর দেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। তিনি বলেন, লাখ লাখ মানুষের জীবন আরও ভালো করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন। তবে সেই পর্যায়ে পৌঁছানোর পথ মোটেও সহজ ছিল না। স্টারমার বলেন, ছয় বছর আগে তিনি এমন একটি লেবার পার্টির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, যা রাজনৈতিক, আর্থিক ও নৈতিকভাবে কার্যত দেউলিয়া হয়ে পড়েছিল। সে সময় তাকে বারবার বলা হয়েছিল দলের ভবিষ্যৎ শেষ এবং তারা ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাবে। এমনকি সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনও অসম্ভব বলে দাবি করা হয়েছিল। তার ভাষ্য, তারা সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন। দলকে পুনর্গঠন করা হয়েছে, ইহুদিবিদ্বেষের বিষাক্ত প্রভাব দূর করা হয়েছে এবং অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। স্টারমার বলেন, লেবার পার্টি আবার এমন একটি দলে পরিণত হয়েছে, যে দল নিজের জাতীয় পতাকার পাশে গর্বের সঙ্গে দাঁড়ায়। এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতার জন্য ক্ষমতা অর্জন নয়, বরং ব্রিটেনকে আরও ভালো দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। তিনি বলেন, আরও ন্যায়ভিত্তিক দেশ গঠন, মর্যাদা ও সম্মান প্রতিষ্ঠা এবং সুযোগ-সুবিধা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল সরকারের লক্ষ্য। মাত্র দুই বছরেই সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। স্টারমারের মতে, ব্রিটিশ অর্থনীতি এখন আরও শক্তিশালী এবং সমপর্যায়ের দেশগুলোর তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতিটি মাসে মজুরি মূল্যস্ফীতির চেয়ে দ্রুত বেড়েছে। বিনিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে, অবকাঠামো উন্নয়ন এগিয়েছে এবং কঠোর ব্যয় সংকোচনের যুগের অবসান ঘটেছে। তিনি বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা গত ১৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত হারে কমেছে। শ্রমিক ও ভাড়াটিয়াদের অধিকারের ক্ষেত্রে এক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে বড় উন্নয়ন হয়েছে এবং শীতল যুদ্ধের পর থেকে প্রতিরক্ষা ব্যয়ে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি ঘটেছে। স্টারমার আরও বলেন, ছোট নৌকায় অবৈধ সীমান্ত পারাপার কমেছে, আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেলগুলো বন্ধ হচ্ছে, তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে এবং তার সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে পাঁচ লাখ শিশু দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্রিটেনের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বের দরবারে দেশের সুনাম পুনরুদ্ধার হয়েছে। ব্রিটেন আবারও শালীনতা, পারস্পরিক সম্মান ও আইনের শাসনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। সরকার নতুন বাণিজ্য চুক্তি করেছে, ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছে, নিজেদের মূল্যবোধ রক্ষা করেছে এবং ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করেছে। তিনি বলেন, একটি লেবার সরকার যে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেই পরিবর্তনের জন্য লড়েছে এবং তা বাস্তবায়নও করেছে। তবে এখন দলের সামনে নতুন প্রশ্ন এসেছে বলে উল্লেখ করেন স্টারমার। তিনি বলেন, লেবার পার্টিকে পরিবর্তন করে ক্ষমতায় আনা এবং মানুষের জীবন উন্নয়নের কাজ শুরু করার জন্য তিনি উপযুক্ত ছিলেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর ইতোমধ্যেই পাওয়া গেছে। কিন্তু এখন দলের প্রশ্ন হলো, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি এখনও সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না। স্টারমার বলেন, সংসদীয় দলের কাছ থেকে তিনি যে উত্তর শুনেছেন, তা তিনি সৌজন্য ও সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করছেন। তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিনি দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই নিয়েছেন। আর সেই কারণেই তিনি লেবার পার্টির নেতা পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। সোমবার সকালে তিনি তার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে রাজাকে অবহিত করেছেন বলেও জানান। দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়ে স্টারমার বলেন, তিনি লেবার পার্টির জাতীয় নির্বাহী কমিটিকে একটি সময়সূচি নির্ধারণের অনুরোধ করবেন, যাতে ৯ জুলাই থেকে মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হয় এবং গ্রীষ্মকালীন বিরতির আগেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। তার মতে, নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে এই সময়সূচি নিশ্চিত করবে যে সেপ্টেম্বর মাসে পার্লামেন্ট পুনরায় বসার আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন। নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে স্টারমার বলেন, ক্ষমতা হস্তান্তর যেন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তিনি তার উত্তরসূরিকে পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থনের প্রতিশ্রুতিও দেন। স্টারমারের ভাষ্য, নতুন নেতা এমন একটি ব্রিটেনের দায়িত্ব নেবেন, যা দুই বছর আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী, আরও ন্যায়সঙ্গত এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও প্রস্তুত। ভাষণের শেষ অংশে তিনি গত ছয় বছর বা তারও বেশি সময় ধরে পাশে থাকা বন্ধু ও সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের কর্মী এবং দেশের সিভিল সার্ভিস সদস্যদের জনসেবার জন্য অবদানের প্রশংসা করেন। ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গ টেনে স্টারমার বলেন, দেশের সর্বোচ্চ দায়িত্বপূর্ণ পদ ছেড়ে দেওয়ার পর তিনি পরিবারের জন্য আরও বেশি সময় দিতে চান। স্ত্রী ভিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সুখে-দুঃখে তিনি সবসময় পাশে ছিলেন। একই সঙ্গে সন্তানদের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ও গর্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভাষণের শেষে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান বিদায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির দলীয় প্রধান পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন। সোমবার ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর ফলে গত এক দশকে যুক্তরাজ্যে ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের অবসান ঘটছে। পদত্যাগের পর ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে সাংবাদিকদের স্টারমার বলেন, লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। স্টারমার বলেন, তার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত ছিল দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে। তিনি দলের সিদ্ধান্তকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি আরও বলেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে তার উপযুক্ততা নিয়ে দলীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রশ্নের জবাব তিনি শুনেছেন এবং তা গ্রহণ করেছেন বলে জানান। লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য তিনি দলীয় ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিকে অনুরোধ করেছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৯ জুলাই থেকে নেতৃত্ব নির্বাচনের মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে। বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয়ী হয়ে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটানোর যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে স্টারমারের এই পদত্যাগের ঘোষণা এলো।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির দলীয় প্রধান পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন। সোমবার ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর ফলে গত এক দশকে যুক্তরাজ্যে ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের অবসান ঘটছে। পদত্যাগের পর ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে সাংবাদিকদের স্টারমার বলেন, লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। স্টারমার বলেন, তার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত ছিল দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে। তিনি দলের সিদ্ধান্তকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি আরও বলেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে তার উপযুক্ততা নিয়ে দলীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রশ্নের জবাব তিনি শুনেছেন এবং তা গ্রহণ করেছেন বলে জানান। লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য তিনি দলীয় ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিকে অনুরোধ করেছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৯ জুলাই থেকে নেতৃত্ব নির্বাচনের মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে। বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয়ী হয়ে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটানোর যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে স্টারমারের এই পদত্যাগের ঘোষণা এলো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, অভিবাসন ও জ্বালানি নীতিতে ব্যর্থতার কারণে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শিগগিরই পদত্যাগ করবেন। এমন এক সময় তিনি এ মন্তব্য করলেন, যখন যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্টারমারের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।” তবে তিনি এ দাবির পক্ষে কোনো তথ্য বা সূত্র উল্লেখ করেননি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে শেষবারের মতো ট্রাম্প ও স্টারমারের সাক্ষাৎ হয়। এরপর দুই নেতার মধ্যে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে জানা গেছে। স্টারমারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কড়া সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “অভিবাসন ও জ্বালানি—এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।” একই পোস্টে তিনি উত্তর সাগরে নতুন করে তেল উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার আহ্বানও জানান। দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর সাগরে নতুন তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের লাইসেন্স ইস্যুতে ব্রিটিশ সরকারের ওপর চাপ দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও তিনি একাধিকবার সমালোচনা করেছেন। একসময় ট্রাম্পের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে স্টারমারকে ‘ট্রাম্প হুইস্পারার’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট দূরত্ব তৈরি হয়েছে। স্টারমারের পদত্যাগ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেন। শুক্রবার স্টারমার বলেছিলেন, “এখনও অনেক কাজ বাকি, আর আমি সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।” এদিকে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল বলেন, স্টারমার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন। তিনি বলেন, “দেশের জন্য যা সবচেয়ে ভালো, প্রধানমন্ত্রী সেটিই করবেন।” ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে জোর গুঞ্জন রয়েছে, সোমবার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ম্যানচেস্টারের বিদায়ী মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, যিনি সম্প্রতি একটি উপনির্বাচনে উল্লেখযোগ্য জয় পেয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের (ইউকে) বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার খুব দ্রুতই তার রাষ্ট্রীয় পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মূলত দেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল অভিবাসন নীতি এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নীতি পরিচালনায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চরম ও ধারাবাহিক ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। রোববার (২১ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকালে ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে এই দাবি করেন, যা বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় ও নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। নিজের অফিশিয়াল ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি লিখেছেন, স্যার কিয়ার স্টারমার খুব শীঘ্রই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হবেন বা নিজে থেকেই সরে দাঁড়াবেন। ট্রাম্প তার পোস্টে আরও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, কিয়ার স্টারমার দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রধান বিষয়ে সম্পূর্ণ ও মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন—যার একটি হলো দেশের সামগ্রিক অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং অন্যটি হলো জ্বালানি নীতি, বিশেষ করে উত্তর সাগরের উন্মুক্ত তেল উত্তোলন সংক্রান্ত নীতি। এই ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি ট্রাম্প তার লেখার শেষে স্টারমারের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনাও জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের ঠিক কিছু সময় আগে রোববার সকালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক বিশেষ ও অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন সরকারের ভেতরে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তনের কারণে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবারের মধ্যেই তার পদত্যাগের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি বা রূপরেখা ঘোষণা করতে পারেন। দেশের চলমান অর্থনৈতিক মন্দা ও বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের কারণে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তাদের মনোভাব এবং দলীয় সমর্থন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, যার ফলে প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির ওই বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সরকারের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় অভ্যন্তরীণ নীতি-নির্ধারক ও বিশ্বস্ত সূত্র এখন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে আগামী সোমবারের মধ্যেই তার চূড়ান্ত পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি বিশ্ববাসীর সামনে ঘোষণা করতে পারেন। সরকারের ভেতরের এই চরম অস্থিরতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মূলত ট্রাম্প আন্তর্জাতিকভাবে এই বিষয়টি নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে স্টারমারের তীব্র সমালোচনা করেন। বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের অভিবাসন সংকট এবং উত্তর সাগরের তেল ক্ষেত্রগুলো উন্মুক্ত করার বিষয়ে কিয়ার স্টারমার সরকারের নেওয়া সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপের কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোও দীর্ঘদিন ধরে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য ভবিষ্যদ্বাণী এবং বিবিসির এই আগাম প্রতিবেদন সত্যি হলে, তা যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এক বিশাল বড় ধরণের বড় পরিবর্তন ও চরম সাংবিধানিক সংকট নিয়ে আসবে। তবে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত ডাউনিং স্ট্রিট বা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো ধরণের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার সোমবারই পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদপত্র দ্য অবজারভার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি পদত্যাগের একটি সম্ভাব্য সময়সূচিও প্রকাশ করতে পারেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এসব দাবি নাকচ করে জানানো হয়েছে, স্টারমার এখনও সরকার পরিচালনার দায়িত্বে সম্পূর্ণ মনোযোগী। দ্য অবজারভারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি গ্রামীণ বাসভবন চেকার্সে স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করছেন স্টারমার। লেবার পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা আশা করছেন, সোমবারের মধ্যেই তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাবেন। অন্যদিকে সরকারের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, স্টারমার পদত্যাগের কোনো সিদ্ধান্ত নেননি এবং তিনি আগের মতোই দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টিকে বড় বিজয় এনে দেওয়া স্টারমারের জনপ্রিয়তা সাম্প্রতিক সময়ে কমে গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হচ্ছে। একাধিক বিতর্ক, রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি এবং নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের কারণে দলের ভেতরে তার নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, হাউস অব কমন্সে লেবার পার্টির শতাধিক এমপি প্রকাশ্যে তার পদত্যাগ বা নেতৃত্ব ছাড়ার সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে চাপ আরও বাড়ে শুক্রবার, যখন সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম একটি সংসদীয় আসনে জয়লাভ করেন। গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা বার্নহ্যামকে অনেকেই স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করছেন। যদিও তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেননি, বিজয় বক্তৃতায় তিনি দেশের জন্য নতুন রাজনৈতিক পথের ইঙ্গিত দেন। এ ছাড়া সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তিনি নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নিতে প্রস্তুত। দ্য টাইমসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হলে বর্তমান অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভসকে সরিয়ে দিতে পারেন। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। শুক্রবার স্টারমার নিজেও বলেন, নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো চ্যালেঞ্জ তিনি মোকাবিলা করবেন এবং দলীয় বিভাজন সৃষ্টি করে লেবার পার্টিকে আত্মবিধ্বংসী পথে না নেওয়ার আহ্বান জানান। স্টারমার যদি পদত্যাগ করেন বা তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে গত এক দশকের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সংকট বর্তমানে ব্রিটিশ রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনেই স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, দ্য অবজারভার
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবার (২২ জুন) পদত্যাগ করতে পারেন বলে খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সাপ্তাহিক সংবাদপত্র 'দ্য অবজারভার'। শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পত্রিকাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পদত্যাগের পাশাপাশি ডাউনিং স্ট্রিট থেকে নিজের বিদায়ের একটি চূড়ান্ত সময়সূচিও ঘোষণা করতে পারেন তিনি। মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য, রাজনৈতিক উপদেষ্টা, দলের অর্থদাতা এবং ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর স্টারমার এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার পক্ষে আর প্রধানমন্ত্রী পদে টিকে থাকা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক মহলে স্টারমারের এই সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরের পেছনে অন্যতম অনুঘটক হিসেবে দেখা হচ্ছে তার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের উত্থানকে। সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের একটি সংসদীয় আসনের গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হন। তার এই জয় লেবার পার্টির ভেতরে স্টারমারের নেতৃত্বকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয় এবং ডাউনিং স্ট্রিটের ক্ষমতার লড়াইয়ে বার্নহ্যামের পথ অনেকটাই প্রশস্ত করে। যদিও এর আগে শুক্রবার স্টারমার লেবার পার্টির নেতৃত্বের প্রতি যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। লন্ডনে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, দলের ভেতরে যদি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়, তবে তিনি তাতে লড়বেন এবং কোনোভাবেই লড়াই থেকে সরে দাঁড়াবেন না। 'দ্য অবজারভার'-এর প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণার আগে স্টারমার বর্তমানে তার চেকার্স কান্ট্রি বাসভবনে স্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে নিবিড় আলোচনা করছেন। তবে লেবার পার্টির শীর্ষ নেতারা ধারণা করছেন যে, পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে খুব দ্রুত, সম্ভবত সোমবারের মধ্যেই স্টারমার নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সুস্পষ্ট ও চূড়ান্ত বিবৃতি প্রদান করবেন। তার এই সম্ভাব্য বিদায় ব্রিটিশ রাজনীতিতে এক নতুন অনিশ্চয়তা ও পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে নেতৃত্ব সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম পার্লামেন্টে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। নর্থ-ওয়েস্ট ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে ফেরার পথ নিশ্চিত করেছেন বার্নহ্যাম। এই আসনটি খালি হওয়ার পর থেকেই তার জাতীয় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। উপনির্বাচনটি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ নির্বাচনের মতোই দ্রুত রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। লেবার পার্টির একাংশের মতে, দুই বছর আগে বিশাল ব্যবধানে ক্ষমতায় আসা দলটি এখন জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দুই দিক থেকেই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে এবং বামপন্থী গ্রিন পার্টির উত্থান দলটির জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। দলের ভেতরে অনেকেই মনে করছেন, এই সংকট মোকাবিলায় বার্নহ্যামই একমাত্র বিকল্প নেতা হতে পারেন, যিনি স্টারমারের মতো নয়, বরং ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক আবেদন তৈরি করতে সক্ষম। নির্বাচনের পর দেওয়া বক্তব্যে বার্নহ্যাম বলেন, “রাজনীতি এখন কাজ করছে না। দেশ যেখানে থাকা উচিত সেখানে নেই। আজকের রাত একটি মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত হতে পারে।” স্টারমার অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি যে কোনো নেতৃত্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিরুদ্ধে লড়াই করবেন। অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। তিনি এর আগে টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রী হন। ২০১০ ও ২০১৫ সালে তিনি লেবার নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সফল হননি। ২০১৭ সালে ম্যানচেস্টারের মেয়র হওয়ার পর তিনি ওয়েস্টমিনস্টারের দলীয় দ্বন্দ্ব থেকে অনেকটাই দূরে সরে যান এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে মনোযোগ দেন। এই সময়েই তিনি “কিং অব দ্য নর্থ” নামে পরিচিতি পান। তার নেতৃত্বে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের অর্থনীতি সম্প্রসারিত হয় এবং গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আবাসন প্রকল্পে অগ্রগতি ঘটে। বার্নহ্যামের রাজনৈতিক দর্শন এখন “ম্যানচেস্টারিজম” নামে পরিচিত। এতে রয়েছে অর্থনীতিতে আরও স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ, পাবলিক সার্ভিসের পুনর্গঠন এবং “ব্যবসাবান্ধব সমাজতন্ত্র” ধারণা। সমর্থকদের মতে, এটি যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তবে সমালোচকদের মতে, তার অনেক উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। স্টারমারের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দলটির ভেতরে বিভাজনও বাড়ছে। ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে এবং বামপন্থী গ্রিন পার্টির উত্থান লেবারের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহ্যাম যদি নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় নামেন, তবে তাকে একই সঙ্গে মধ্যপন্থী, বামপন্থী এবং শ্রমিক শ্রেণির ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখার কঠিন সমীকরণ মোকাবিলা করতে হবে। এদিকে তার নীতিগত অবস্থানেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। অভিবাসন, অর্থনৈতিক নীতি এবং ব্রেক্সিট ইস্যুতে তিনি আগের তুলনায় তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী অবস্থান নিচ্ছেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত। বার্নহ্যাম এখন পার্লামেন্টে ফেরার পর জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসছেন। তার পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করতে পারে ব্রিটিশ রাজনীতির আগামী দিনের গতিপথ।
যুক্তরাজ্যের উত্তর ইংল্যান্ডের অ্যাশটন-ইন-মেকারফিল্ডে অনুষ্ঠিতব্য একটি উপনির্বাচনকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সাধারণ একটি কমিউনিটি সেন্টারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই ভোটের ফলাফল ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রায় ৭৬ হাজার ভোটারের এই আসনে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, যুক্তরাজ্যের মোট জনসংখ্যার খুব ছোট একটি অংশ, আনুমানিক ০.১ শতাংশ ভোটারই পরোক্ষভাবে নির্ধারণ করতে পারেন স্টারমারের রাজনৈতিক অবস্থান এবং লেবার পার্টির দিকনির্দেশনা। অ্যাশটন-ইন-মেকারফিল্ড, উত্তর ইংল্যান্ডের এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরে লেবার পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। গত নির্বাচনে এই অঞ্চলের ২৫টির মধ্যে ২৪টি আসন জিতে নিয়েছে রিফর্ম ইউকে, যা লেবার শিবিরে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক কৌশল তৈরি করছে লেবার সমর্থক শিবির। তিনি আগামীতে পার্লামেন্টে ফিরে আসার পরিকল্পনা করছেন এবং তার সম্ভাব্য নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ স্টারমারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বার্নহ্যাম বর্তমানে এমপি না হওয়ায় তিনি সরাসরি লেবার নেতৃত্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না। তবে এই উপনির্বাচনে জয় পেলে তার জন্য সেই পথ খুলে যেতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। লেবার পার্টির বর্তমান অবস্থান দুর্বল হওয়ার পেছনে নীতি পরিবর্তন, রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দ্বিধা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার অভিযোগকে দায়ী করা হচ্ছে। একাধিক মন্ত্রী ইতোমধ্যে সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে পদত্যাগ করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে রিফর্ম ইউকে, যা জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে, লেবার ভোটব্যাংকে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি সবুজ দল এবং অন্যান্য ছোট দলগুলোও ঐতিহ্যগত লেবার ভোট বিভক্ত করছে। অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অনেকে “কিং অব দ্য নর্থ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নিজেকে একজন কার্যকর স্থানীয় প্রশাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার সমর্থকরা বলছেন, তিনি ব্রিটিশ রাজনীতির প্রচলিত ওয়েস্টমিনস্টার কেন্দ্রিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে “ম্যানচেস্টারিজম” নামে একটি বিকেন্দ্রীভূত অর্থনৈতিক মডেল প্রস্তাব করছেন। এই ধারণার মধ্যে রয়েছে স্থানীয় অর্থনীতির পুনর্গঠন, প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলোকে আরও সাশ্রয়ী করা এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। এই আসনের অন্তর্ভুক্ত ছোট ছোট শহরগুলো দীর্ঘদিন ধরে কয়লা খনি, ইস্পাত ও উৎপাদন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে গত কয়েক দশকে এসব শিল্প প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দাদের বড় অংশ নির্মাণ, খুচরা ব্যবসা, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত। এলাকাটি তুলনামূলকভাবে নিম্ন আয়ের এবং উচ্চ হোমওনারশিপের অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি পোস্ট-ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভোটার বেস, যেখানে ব্রেক্সিট-সমর্থন এবং অভিবাসন ইস্যু রাজনৈতিক আচরণকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করছে। স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক হতাশা এবং মূলধারার দলগুলোর প্রতি আস্থাহীনতা বাড়ছে। কেউ কেউ রিফর্ম ইউকের অভিবাসন নীতিকে সমর্থন করছেন, আবার অনেকে লেবার ও কনজারভেটিভ উভয় দলকেই দায়ী করছেন। এই বিভাজনের মধ্যেই বার্নহ্যাম এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিফর্ম ইউকের প্রার্থী রবার্ট কেনিয়ন প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে উভয় প্রার্থীই গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উপনির্বাচন কেবল একটি স্থানীয় ভোট নয়, বরং যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে লেবার পার্টির নেতৃত্ব এবং স্টারমারের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। ফলাফল যাই হোক, এই ভোটকে ঘিরে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
১৬ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং এক্সের (টুইটার) মতো প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দ্রুতই এই নজিরবিহীন ও কঠোর বিধিনিষেধের ঘোষণা দেবেন। সরকারি মহলে এই নতুন পদক্ষেপটিকে অস্ট্রেলিয়ার জারি করা আইনের চেয়েও কঠোর বা ‘অস্ট্রেলিয়া প্লাস’ মডেল হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি অন্যান্য অনলাইন পণ্য এবং গেমিং অ্যাপের ক্ষেত্রেও নতুন নীতি জারি করা হবে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় বিভিন্ন অনলাইন গেমের ভেতর থাকা অপরিচিত মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার বা চ্যাট করার সুযোগটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়া ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী বড় কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাত সাড়ে আটটার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটানা স্ক্রোলিং করার ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষতিকর ও আসক্তি তৈরি করে এমন কনটেন্ট থেকে দূরে রাখা এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ থেকে রক্ষা করাই এই কঠোর ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। নতুন আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো কিশোর-কিশোরী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির রোমান্টিক কিংবা যৌন উদ্দীপক চ্যাটবটগুলো ব্যবহার করতে পারবে না। সরকারের একটি সূত্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, শিশুদের অনলাইন সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের অর্ধেক বা আংশিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে আইনটিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে ব্রিটিশ সরকারকে নতুন করে আইন প্রণয়ন করতে হতে পারে। যদিও দেশটির বিদ্যমান শিশু কল্যাণ ও বিদ্যালয় আইনের অধীনে মন্ত্রীদের ইতিমধ্যেই কিছু বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়া তাদের দেশে একই ধরনের আইন কার্যকর করে টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স, রেডিট, থ্রেডস, স্ন্যাপচ্যাট ও টুইচসহ ১০টি বড় প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করেছে। যুক্তরাজ্যও ঠিক একই তালিকায় থাকা অ্যাপগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে। সরকারি এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির শতকরা ৯০ ভাগ অভিভাবকই ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার এই সরকারি উদ্যোগকে জোরালোভাবে সমর্থন জানিয়েছেন। এছাড়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ তরুণ সমাজও স্বীকার করেছে যে, অনলাইনের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ফিচারগুলো বন্ধ করে দিলে তারা ইন্টারনেটে আরও বেশি নিরাপদ থাকবে। দেশটির সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী লিসা নন্দী জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা হয়তো শতভাগ জাদুকরী সমাধান নয়, তবে এটি কম বয়সী শিশুদের আবেগীয় ও মানসিক সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ষোলো বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন এই গণ-নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়ে একে বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী বলে দাবি করেছে। আমেরিকার এই প্রবল আপত্তি ও বিরোধিতাকে উপেক্ষা করেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এই কঠোর নিয়ম বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছেন। আজ মঙ্গলবার একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। লন্ডনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঢালাওভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ না করে শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্টের ওপর সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ আনা উচিত। তাদের দাবি, বয়স নির্ধারণের বর্তমান প্রযুক্তি এখনও পুরোপুরি নির্ভুল নয় এবং এই সিদ্ধান্তের ফলে আমেরিকার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো চরম ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়বে। তবে মার্কিন আপত্তির জবাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের সরকার অন্য কোনো দেশের চাপ নয়, বরং দেশের পরিবারগুলোর ভবিষ্যতের জন্য যা সঠিক তা-ই করবে। যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী লিজ কেন্ডালও মার্কিন আপত্তির মুখে অনড় অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, দেশের শিশুদের সুরক্ষায় যা করা উচিত, তা থেকে তাকে কোনোভাবেই বিচ্যুত করা যাবে না। অস্ট্রেলিয়ার আদলে অনূর্ধ্ব-১৬ শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ক্ষতিকর ও আসক্তি তৈরি করা ফিচারের ওপর কারফিউ জারির মতো বিকল্পগুলোও এখন ব্রিটিশ সরকারের টেবিলে রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাজ্যে আয়োজিত সরকারি মতামত জরিপে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার নাগরিক অংশ নিয়েছেন, যা দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাড়াজাগানো ঘটনা। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ অভিভাবকই শিশুদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি সমর্থন করেছেন। দেশটির প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনখও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড়দের জন্য, শিশুদের জন্য নয়।
ইরান যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় সচল করতে বড় ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে ব্রিটেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংকট নিরসনের দায়িত্ব অন্য দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়ার পর যুক্তরাজ্য এই পদক্ষেপ নিল। বৃহস্পতিবার লন্ডনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সভাপতিত্বে একটি ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৩৫টি দেশ অংশ নিলেও যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়ায় থাকছে না। বিশ্বের মোট তেল চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে ইরান এই পথটি বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সময়ে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করতে সম্ভাব্য সব ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। বিশেষ করে সমুদ্রপথকে মাইনমুক্ত করা এবং পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন ইউরোপীয় দেশগুলোর মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার সতর্ক করে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা সহজ হবে না; এর জন্য সামরিক শক্তি এবং কূটনৈতিক তৎপরতার একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে। ইউরোপীয় দেশগুলো শুরুতে এই সংঘাত থেকে দূরে থাকতে চাইলেও তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে তারা এখন ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী। বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই নৌপথটি উন্মুক্ত করা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে সামরিক পরিকল্পনাবিদদের নিয়ে এ বিষয়ে আরও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer জানিয়েছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাজ্য অংশ নেবে না এবং ব্রিটিশ বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করবে না। সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্টারমার বলেন, ‘এই যুদ্ধ আমাদের নয়, আমরা এতে জড়াব না।’ মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাজ্য সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে না। তবে তিনি জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাজ্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা জোরদার করছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে—বিদেশে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সুরক্ষা দেওয়া। স্টারমার আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক নৌযান চলাচল বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় যুক্তরাজ্য কাজ করবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই এই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়া উচিত নয়।মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালাতে গিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্যত একাকী হয়ে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বারবার মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা চেয়েও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি তিনি। এমনকি সামরিক জোট ন্যাটোও এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করল দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে কোনো ব্রিটিশ সেনা মোতায়েন করা হবে না। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এই সংঘাত থেকে যুক্তরাজ্যকে দূরে রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয় এবং আমরা এতে জড়াতে যাচ্ছি না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্রিটিশ সরকার কেবল তার নাগরিক, জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের রক্ষায় ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ গ্রহণ করছে। ব্রিটেন হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার প্রচেষ্টায় সমর্থন দিলেও কোনোভাবেই সরাসরি যুদ্ধে ‘টেনে হিঁচড়ে’ জড়াতে চায় না। তবে সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগত কিছু সুবিধা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। হরমুজ প্রণালির হুমকির সঙ্গে জড়িত ইরানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে তারা। এছাড়া ইরান থেকে আসা সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিহত করতে আকাশপথে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। মিত্রহীন ট্রাম্পের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ বড় কোনো অভিযানে সাধারণত পশ্চিমা দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ সমর্থন প্রয়োজন হয়। সূত্র: আল জাজিরা
দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে ইরানে হামলার জন্য ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। শুক্রবার (২০ মার্চ) ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলো ধ্বংসে মার্কিন বাহিনীকে এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford) এবং ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যৌথ ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া (Diego Garcia) ব্যবহারের পথ এখন ওয়াশিংটনের জন্য উন্মুক্ত। শুরুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে তার আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ মিত্রদের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর স্টারমার তার অবস্থান পরিবর্তন করেন। ডাউনিং স্ট্রিট এই সিদ্ধান্তকে অঞ্চলের ‘যৌথ আত্মরক্ষা’ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, স্টারমার ব্রিটিশ জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে এই ‘আগ্রাসনে’ সহায়তা করছেন এবং এর মাধ্যমে ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবনকেই বিপদে ফেলছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরান তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অনুমতি আসায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও ব্রিটিশ সরকারের দেরি হওয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাজ্যের আরও অনেক আগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। তবে ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ জনমত এখনো এই যুদ্ধের বিপক্ষে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার বিরোধিতা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।