কিয়ের স্টারমার

ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধে জড়াবে না যুক্তরাজ্য, পরিষ্কার বার্তা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer জানিয়েছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাজ্য অংশ নেবে না এবং ব্রিটিশ বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করবে না।   সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্টারমার বলেন, ‘এই যুদ্ধ আমাদের নয়, আমরা এতে জড়াব না।’ মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাজ্য সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে না।   তবে তিনি জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাজ্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা জোরদার করছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে—বিদেশে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সুরক্ষা দেওয়া।   স্টারমার আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক নৌযান চলাচল বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় যুক্তরাজ্য কাজ করবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই এই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়া উচিত নয়।মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
বন্ধুহীন ট্রাম্প! ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাশে নেই ন্যাটো ও যুক্তরাজ্য

ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালাতে গিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্যত একাকী হয়ে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বারবার মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা চেয়েও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি তিনি। এমনকি সামরিক জোট ন্যাটোও এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করল দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে কোনো ব্রিটিশ সেনা মোতায়েন করা হবে না।   আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এই সংঘাত থেকে যুক্তরাজ্যকে দূরে রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয় এবং আমরা এতে জড়াতে যাচ্ছি না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্রিটিশ সরকার কেবল তার নাগরিক, জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের রক্ষায় ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ গ্রহণ করছে। ব্রিটেন হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার প্রচেষ্টায় সমর্থন দিলেও কোনোভাবেই সরাসরি যুদ্ধে ‘টেনে হিঁচড়ে’ জড়াতে চায় না।   তবে সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগত কিছু সুবিধা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। হরমুজ প্রণালির হুমকির সঙ্গে জড়িত ইরানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে তারা। এছাড়া ইরান থেকে আসা সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিহত করতে আকাশপথে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। মিত্রহীন ট্রাম্পের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ বড় কোনো অভিযানে সাধারণত পশ্চিমা দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ সমর্থন প্রয়োজন হয়।   সূত্র: আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
মার্কিন বাহিনীকে নিজস্ব ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল যুক্তরাজ্য

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে ইরানে হামলার জন্য ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। শুক্রবার (২০ মার্চ) ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলো ধ্বংসে মার্কিন বাহিনীকে এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford) এবং ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যৌথ ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া (Diego Garcia) ব্যবহারের পথ এখন ওয়াশিংটনের জন্য উন্মুক্ত।   শুরুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে তার আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ মিত্রদের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর স্টারমার তার অবস্থান পরিবর্তন করেন। ডাউনিং স্ট্রিট এই সিদ্ধান্তকে অঞ্চলের ‘যৌথ আত্মরক্ষা’ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।   এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, স্টারমার ব্রিটিশ জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে এই ‘আগ্রাসনে’ সহায়তা করছেন এবং এর মাধ্যমে ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবনকেই বিপদে ফেলছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরান তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে।   অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অনুমতি আসায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও ব্রিটিশ সরকারের দেরি হওয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাজ্যের আরও অনেক আগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। তবে ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ জনমত এখনো এই যুদ্ধের বিপক্ষে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার বিরোধিতা করছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের হুমকির কড়া জবাব যুক্তরাজ্যের

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ মোতায়েন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকার ট্রাম্পের এই আচরণকে ‘অত্যন্ত লেনদেনমুখী’ বা হিসেবী হিসেবে অভিহিত করেছে। ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের বারবার করা দাবির প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে এটি একটি অস্বাভাবিক ও সোজাসাপ্টা মূল্যায়ন।   ব্রিটিশ কর্ম ও পেনশন বিষয়ক মন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র অনুরোধ করলেই তাতে রাজি হতে যুক্তরাজ্য বাধ্য নয়। হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে জাহাজ সরবরাহ না করলে মিত্রদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকির জবাবে তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘বাগাড়ম্বর’ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আলাদা করে দেখা জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এটি একটি লেনদেনমুখী প্রেসিডেন্সি এবং এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যুক্তরাজ্যকে পথ খুঁজে নিতে হবে।   পণ্য পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিতে জাহাজ পাঠানোর পরিবর্তে যুক্তরাজ্য বর্তমানে মাইন অপসারণকারী ড্রোন পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। ব্রিটিশ সরকারের মতে, ট্রাম্পের দাবি সরাসরি মেনে নিলে সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করলেও ইরান আক্রমণে সরাসরি সমর্থনের অভাব দেখে ট্রাম্প বারবার তার সমালোচনা করে আসছেন। এমনকি স্টারমারকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, তিনি ‘উইনস্টন চার্চিল নন’।   ডাউনিং স্ট্রিট নিশ্চিত করেছে যে, ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে কেবল রক্ষণাত্মক ব্যবস্থায় সমর্থন দেওয়ার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। রোববার দুই নেতার ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হলেও, যুদ্ধের প্রধান পক্ষ হতে চায় না বলে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে যুক্তরাজ্য।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে না জড়ানোর অবস্থান অটল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সমালোচনা এবং প্রবল চাপের মধ্যেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার ইরান ইস্যুতে যুদ্ধে না জড়ানোর সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে যুক্তরাজ্য অংশ নেবে না এবং ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হবে না।   বৃহস্পতিবার এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে স্টারমার বলেন, “আমার লক্ষ্য জাতীয় স্বার্থে শান্ত ও বিচক্ষণ নেতৃত্ব দেওয়া। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, আমাদের নিজেদের মূল্যবোধ ও নীতির পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর শক্তি থাকতে হবে।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য ট্রাম্পের চাপের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা।   স্টারমার স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাজ্য ইরান ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার পথে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রথম দফার হামলায় অংশ না নেওয়া একটি জাতীয়ভাবে বিবেচিত সিদ্ধান্ত। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘দ্য সান’-কে এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটেনের এই অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন।   ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সব সমালোচনা উপেক্ষা করে দেশের জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এবং এ অবস্থান অটল রাখার সংকল্প জানিয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৫, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0