বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদনে জোর দিচ্ছে ইসরায়েল: নেতানিয়াহু

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ৮:৪৯
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদনে জোর দিচ্ছে ইসরায়েল
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদনে জোর দিচ্ছে ইসরায়েল

ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বিদেশি সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) পশ্চিম তীরের গুশ এৎজিয়ন এলাকায় রিজার্ভ যুদ্ধ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব কথা বলেন নেতানিয়াহু। এ সময় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বছরের পর বছর ধরে যে সহায়তা ইসরায়েল পেয়েছে, তার জন্য কৃতজ্ঞতা থাকলেও ভবিষ্যতের বাস্তবতায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।

 

নেতানিয়াহুর ভাষায়, “আমাদের আমেরিকান বন্ধুদের কাছ থেকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন পেয়েছি। কিন্তু এখন সময় এসেছে নিজেদের অস্ত্র নিজেরাই তৈরি করার। আমাদের একটি স্বাধীন অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।”

 

তিনি আরও বলেন, ইরান এবং তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ইতোমধ্যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, তবে এই সংঘাত এখনো শেষ হয়নি। আগামী কয়েক দশকে দেশের অবস্থান কোথায় দাঁড়াবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে বর্তমান শক্তি ও প্রস্তুতির ওপর। সে কারণেই এখন থেকেই সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরেই নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানোর কথা বলে আসছেন। তবে তার সাম্প্রতিক এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়টি নিয়ে দেশটির নীতিনির্ধারণী মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল তার প্রতিরক্ষা নীতিতে নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশটির নিজস্ব সামরিক শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার কৌশল সামনে আনছে সরকার।

 

এই প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে অনেকেই ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

বিশ্ব

View more
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদনে জোর দিচ্ছে ইসরায়েল
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদনে জোর দিচ্ছে ইসরায়েল: নেতানিয়াহু

ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বিদেশি সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।   মঙ্গলবার (২৩ জুন) পশ্চিম তীরের গুশ এৎজিয়ন এলাকায় রিজার্ভ যুদ্ধ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব কথা বলেন নেতানিয়াহু। এ সময় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বছরের পর বছর ধরে যে সহায়তা ইসরায়েল পেয়েছে, তার জন্য কৃতজ্ঞতা থাকলেও ভবিষ্যতের বাস্তবতায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।   নেতানিয়াহুর ভাষায়, “আমাদের আমেরিকান বন্ধুদের কাছ থেকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন পেয়েছি। কিন্তু এখন সময় এসেছে নিজেদের অস্ত্র নিজেরাই তৈরি করার। আমাদের একটি স্বাধীন অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।”   তিনি আরও বলেন, ইরান এবং তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ইতোমধ্যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, তবে এই সংঘাত এখনো শেষ হয়নি। আগামী কয়েক দশকে দেশের অবস্থান কোথায় দাঁড়াবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে বর্তমান শক্তি ও প্রস্তুতির ওপর। সে কারণেই এখন থেকেই সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরেই নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানোর কথা বলে আসছেন। তবে তার সাম্প্রতিক এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়টি নিয়ে দেশটির নীতিনির্ধারণী মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল তার প্রতিরক্ষা নীতিতে নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশটির নিজস্ব সামরিক শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার কৌশল সামনে আনছে সরকার।   এই প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে অনেকেই ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ৮:৪৯
চীন থেকে জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান কেনার পথে বাংলাদেশ, আলোচনায় অগ্রগতি

চীন থেকে জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান কেনার পথে বাংলাদেশ, আলোচনায় অগ্রগতি

গাছেরও আইনি অধিকার স্বীকৃতি

গাছেরও আইনি অধিকার স্বীকৃতি, কানাডার ছোট শহরের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ নতুন ধাপে, নিষেধাজ্ঞা এখনই উঠছে না

ছবি: সংগৃহীত
ইরানে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের আগে ‘অদ্ভুত বস্তু’ দেখেন মার্কিন পাইলট

ইরানের আকাশে বিধ্বস্ত হওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলট দাবি করেছেন, দুর্ঘটনার আগে তিনি আকাশে অস্বাভাবিক একটি উড়ন্ত কাঠামো দেখতে পেয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বস্তুটি দেখতে অনেকটা জেলিফিশের মতো ছিল এবং সেটি সম্ভবত একাধিক ড্রোনের সমন্বয়ে গঠিত ছিল।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিলে ইরানের আকাশসীমায় একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। বিমানে থাকা দুই ক্রুকে পরে জটিল উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে জীবিত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়া হয়।   ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পাইলট গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার আগে আকাশে এমন একটি কাঠামো দেখতে পান যা প্রচলিত কোনো উড়ন্ত যানের মতো ছিল না। সিএনএনের বরাতে জানা গেছে, পাইলটের বক্তব্য শুনে মার্কিন গোয়েন্দা মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যদি বস্তুটি সত্যিই সমন্বিত ড্রোন প্রযুক্তির অংশ হয়ে থাকে, তাহলে তা আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, পাইলটের বর্ণনায় বড় আকারের কিছু ড্রোনের নিচে ছোট ছোট ড্রোন একত্রে এমনভাবে চলছিল, যা দূর থেকে জেলিফিশের শুঁড়ের মতো দেখাচ্ছিল। ওই দৃশ্যটি তার কাছে অত্যন্ত অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। আরেকটি সূত্রের দাবি, পাইলট আকাশে ছড়িয়ে থাকা ড্রোনগুলোর বিন্যাসকে ‘ড্রোনের মাইনফিল্ড’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি বাস্তবে কীভাবে কাজ করতে পারে বা আদৌ এমন কোনো ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিমানটি কীভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে তা নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ড্রোন-সংশ্লিষ্ট কোনো ভূমিকা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।   সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ড্রোন প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন যুদ্ধক্ষেত্রের চিত্র বদলে দিয়েছে। নজরদারি, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ এবং আক্রমণাত্মক অভিযানে ড্রোনের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে কোনো সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ড্রোনের সমন্বিত ব্যবহার নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এলে তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।   তবে সংশ্লিষ্ট ঘটনাটি নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। পাইলট যে বস্তুটি দেখেছেন বলে দাবি করেছেন, সেটি আসলে কী ছিল, তার সঙ্গে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, কিংবা সেটি কোনো পরীক্ষামূলক প্রযুক্তির অংশ ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত শেষ হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ৬:৫৭
ছবি: সংগৃহীত

ইতালির রোম-মিলানসহ ১৫ শহরে ‘লাল সতর্কতা’ জারি

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন সামরিক নির্ভরতা থেকে ইসরায়েলকে ‘মুক্ত’ হতে হবে: নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত

তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্যেই দিল্লিতে ভারত-চীনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত
বিয়ের আগের দিন বাবা-মাসহ হবু কনের আত্মহত্যা

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের মহীশুর জেলায় বিয়ের আগের রাতে এক তরুণী ও তার বাবা-মায়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক ও সামাজিক চাপের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   সোমবার ভোররাতে মহীশুর জেলার নরসীপুরা তালুকের হালেকেম্পায়ানাহুন্ডি গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন ২১ বছর বয়সী রক্ষিতা, তার বাবা শিবান্না (৫০) এবং মা নাগারথনা (৪৫)। স্থানীয় পুলিশ ও ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রক্ষিতার বিয়ে বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে পরিবারটি ব্যস্ত ছিল। তবে বিয়ের আগের রাতেই তাদের বাড়িতে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে।   তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, একই গ্রামের বাসিন্দা উল্লাস গৌড়া নামের এক যুবক রক্ষিতাকে বিয়ে করতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়া হয়নি। পরে রক্ষিতার অন্যত্র বিয়ে ঠিক হলে ওই যুবক বিভিন্ন দাবি ও অভিযোগ ছড়িয়ে দিতে থাকেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার এ বিষয়ে একাধিকবার কথা হয়। ঘটনার আগের রাতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কিছু ছবি ও বার্তা মুছে ফেলার অনুরোধ জানানো হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।   পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার কিছু সময় আগে রক্ষিতার হবু স্বামীর পরিবারের কাছেও কিছু ছবি ও বার্তা পাঠানো হয়। এরপর দুই পরিবারের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, এসব ঘটনার জেরে পরিবারটি চরম মানসিক চাপে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে। সেখানে মৃত্যুর জন্য একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দায়ী করা হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চিরকুটের বিষয়বস্তু এবং এর সত্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।   ঘটনার পর উল্লাস গৌড়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো গ্রামে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, বিয়ের আনন্দে মুখর থাকার কথা ছিল যে বাড়িটি, সেটি কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শোকের বাড়িতে পরিণত হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ৪:৫৪
ছবি: সংগৃহীত

কানাডার মন্ট্রিয়লে বন্দুক হামলায় পুলিশ কর্মকর্তা নিহত, পাল্টা গুলিতে হামলাকারীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

শেহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

সরকারি নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কায় চেক প্রজাতন্ত্রে পাবলিক মিডিয়ার কর্মীদের সতর্কতামূলক ধর্মঘট

সরকারি নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কায় চেক প্রজাতন্ত্রে পাবলিক মিডিয়ার কর্মীদের সতর্কতামূলক ধর্মঘট

0 Comments