গাছেরও আইনি অধিকার স্বীকৃতি, কানাডার ছোট শহরের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত
গাছ যে কেবল প্রকৃতির অংশ নয়, বরং একটি জীবন্ত সত্তা—এই ধারণাকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে কানাডার একটি ছোট পৌরসভা। দেশটির কুইবেক প্রদেশে মন্ট্রিল থেকে প্রায় ৪০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত তেরাস-ভদ্রেয়ঁ শহর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, গাছেরও জীবনধারণ, স্বাভাবিক বৃদ্ধি, অখণ্ডতা ও বংশবৃদ্ধির অধিকার রয়েছে।
কানাডীয় সংবাদমাধ্যম সিবিসি’র প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রায় দুই হাজার বাসিন্দার এই শহরে গত ৯ জুন সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব পাস হয়, যার মাধ্যমে গাছকে আইনি মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শহরের মেয়র মিশেল বুর্দো জানান, পৌর কাউন্সিলের সব সদস্য একমত হয়েই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পৌরসভার বিদ্যমান সব নিয়মকানুন ও উপবিধি পুনর্বিবেচনা করা হবে। গাছ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা, অপ্রয়োজনে গাছ কাটা বন্ধ করা এবং কোনো গাছ কাটা হলে তার পরিবর্তে নতুন গাছ লাগানোর বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক জলবায়ু সংকটের অভিজ্ঞতা। গত কয়েক বছরে তেরাস-ভদ্রেয়ঁ তিনবার বড় ধরনের বন্যার মুখোমুখি হয়েছে। মেয়র বুর্দোর ভাষায়, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গাছই ‘আমাদের সবচেয়ে বড় বন্ধু’। তিনি বলেন, গাছ এক ধরনের প্রাকৃতিক বা সবুজ অবকাঠামো হিসেবে কাজ করে—যা শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বায়ুর মান উন্নয়ন, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই উদ্যোগের পেছনে একটি সাংস্কৃতিক প্রভাবও কাজ করেছে। কুইবেকের চলচ্চিত্র নির্মাতা অঁদ্রে দেসরোশের নির্মিত ‘দেস আর্ব্রেস এ দেস আর্তস’ নামের একটি চলচ্চিত্র স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে সচেতনতা তৈরি করে। ছবিটি দেখার পর অনেকেই উপলব্ধি করেন, গাছ কেবল স্থির বস্তু নয়; তারা শ্বাস নেয়, পরিবেশের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে এবং শিকড়ের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে।
মেয়র বুর্দো বলেন, “গাছ মানুষের মতোই একটি জীবন্ত সত্তা। তারা পানি গ্রহণ করে, বেঁচে থাকে এবং আমাদের নানা বিপদ থেকে রক্ষা করে।”
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অব দ্য রাইটস অব দ্য ট্রি’-তে প্রথম পৌরসভা হিসেবে স্বাক্ষর করেছে তেরাস-ভদ্রেয়ঁ। ইন্টারন্যাশনাল অবজারভেটরি অব নেচার রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘোষণাপত্রের মূল তিনটি নীতি হলো—পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্ব গাছের ওপর নির্ভরশীল, গাছের সঙ্গে মানুষের ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি বজায় রাখা জরুরি এবং গাছ একটি জীবন্ত সত্তা, যা মানবজাতির জন্য সামগ্রিকভাবে উপকারী।
সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ইয়েনি ভেগা কার্দেনাস সিবিসিকে বলেন, গাছের নিজস্ব মর্যাদা ও উপলব্ধি রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এটি আবেগের বিষয় নয়, বরং একটি বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা—গাছের প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা আছে।
বিশ্বজুড়ে প্রকৃতি ও পরিবেশকে আইনি অধিকার দেওয়ার যে প্রবণতা বাড়ছে, এই সিদ্ধান্ত তারই একটি অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর আগে ২০২১ সালে কানাডার কুইবেকেই ম্যাগপাই নদীকে ‘আইনগত ব্যক্তি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল, যা পরিবেশ সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেরাস-ভদ্রেয়ঁর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য শহর ও দেশগুলোর জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে, যেখানে পরিবেশ রক্ষাকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আরও শক্তিশালীভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পথ তৈরি হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreযুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স থেকে কানাডার মন্ট্রিয়লগামী এয়ার কানাডার একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে অ্যাসাইলাম চাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০ সেপ্টেম্বরের AC1730 ফ্লাইটে থাকা এক মার্কিন নারী হাতে লেখা নোটের মাধ্যমে কেবিন ক্রুদের কাছে কানাডায় আশ্রয় চাওয়ার কথা জানান। ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়েই মন্ট্রিয়লে পৌঁছায় এবং অবতরণের পর ওই যাত্রীকে নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিনিক্স স্কাই হারবার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মন্ট্রিয়ল ট্রুডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড্ডয়নের পর ওই নারী কেবিন ক্রুদের নজরে আসেন। তিনি ১৪ নম্বর সারিতে বসেছিলেন। তার আচরণ নিয়ে ক্রুদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলে তিনি জানান, তিনি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ওষুধ সেবন করছেন। এরপর তিনি ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের হাতে হাতে লেখা কয়েকটি নোট দেন, যেখানে কানাডায় অ্যাসাইলাম চাওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। ঘটনার পর পাইলট ও ফ্লাইট অপারেশনের মধ্যে যোগাযোগ হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককপিট থেকে জানানো হয় যে ওই যাত্রী শান্ত ছিলেন এবং বিমানের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করছেন না। এ কারণে ফ্লাইটটি অন্য কোনো বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে না নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্য মন্ট্রিয়লের দিকেই এগিয়ে যায়। প্রায় চার ঘণ্টা পর বিমানটি নিরাপদে মন্ট্রিয়লে অবতরণ করে। অবতরণের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সীমান্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ওই যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার অ্যাসাইলাম আবেদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াগতভাবে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই নারীর নাম, তার অ্যাসাইলাম চাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ বা কানাডার কর্তৃপক্ষ তার দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানা যায়নি। কানাডার নিয়ম অনুযায়ী, বিমানবন্দরসহ দেশটির যেকোনো বৈধ প্রবেশপথে পৌঁছানোর পর কেউ অ্যাসাইলাম বা রিফিউজি প্রোটেকশনের দাবি করতে পারেন। তবে আবেদন করলেই তা গ্রহণযোগ্য বা অনুমোদিত হয় না। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএ প্রথমে আবেদনটি নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে কি না তা যাচাই করে। যোগ্য হলে আবেদনটি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ড অব কানাডার কাছে পাঠানো হয়, যেখানে আবেদনকারীর রিফিউজি হিসেবে সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। কানাডা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাসাইলাম পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে দেখাতে হয় যে নিজ দেশে ফিরে গেলে নির্দিষ্ট ধরনের নিপীড়ন, নির্যাতন বা গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। শুধু উন্নত জীবন, চাকরি, শিক্ষা বা কানাডায় দীর্ঘদিন থাকার ইচ্ছা অ্যাসাইলামের ভিত্তি নয়। আবেদনকারীর পরিচয়, ভ্রমণের ইতিহাস এবং দাবির পক্ষে থাকা তথ্যও যাচাই করা হয়। এ ঘটনার ক্ষেত্রে যেহেতু যাত্রী একজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি বিমানে কানাডায় পৌঁছেছেন, তাই কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের স্থলসীমান্তে প্রযোজ্য সেফ থার্ড কান্ট্রি এগ্রিমেন্টের নিয়মটি একইভাবে প্রযোজ্য নয়। কানাডা সরকারের বর্তমান নির্দেশনায়ও বলা হয়েছে, এই চুক্তির নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ মার্কিন নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। মাঝ আকাশে একজন যাত্রীর হাতে লেখা নোট দিয়ে অ্যাসাইলাম চাওয়ার ঘটনাটি তাই ব্যতিক্রমী হলেও, কানাডায় অ্যাসাইলাম দাবি করার পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্ধারিত ইমিগ্রেশন ও রিফিউজি আইনের অধীনেই পরিচালিত হবে। এখন ওই নারীর দাবির বিষয়ে কানাডার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
গাজায় হুইলচেয়ার, টয়লেটও প্রবেশে নিষেধ করেছে ইসরাইল
রান্নাঘর সংস্কার করতে গিয়ে মিলল ১ হাজার বছরের পুরোনো কঙ্কাল, পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এলো প্রাচীন রহস্য
বিদেশি হামলা মোকাবিলায় সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইরান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন। সোমবার তিনি জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই তার এই নিউইয়র্ক সফর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, বিমানবন্দরে আরাঘচিকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গোলামহোসেইন দারজি। নিউইয়র্কে তিনি একটি উচ্চপর্যায়ের ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নিউইয়র্কে আসার আগে আরাঘচি কাতারের রাজধানী দোহায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেন। সেখানে কাতারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। আঞ্চলিক কূটনীতিতে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে এই বৈঠকও নজর কেড়েছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নিজেদের দেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন। আরাঘচির নিউইয়র্ক সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। চলমান সংঘাতের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য ভিসা দিয়েছে। তবে ইরানি প্রতিনিধিদলের চলাচল ও কিছু কেনাকাটার ওপর যুক্তরাষ্ট্র বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্বনেতা ও কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে। আরাঘচির নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের মঞ্চে ইরানের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কোনো বৈঠক বা আলোচনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সমঝোতা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাগরের তলদেশে সোলার প্যানেল বসিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনা বিজ্ঞানীদের সাফল্য
জাতিসংঘের অধিবেশনে যাওয়ার আগে ইরানের প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম দলকে ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র
বিচার শেষ হওয়ার আগেই ইতালিতে ইমাম ডিপোর্ট! যে আইনে নড়ল আবাসনও, জানুন
পড়তে বা লিখতে জানেন না। ছোটবেলা থেকে রেডিওতে কোরআন তিলাওয়াত শুনেই পবিত্র কোরআনের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। সেই শোনা থেকেই শুরু হয়েছিল মুখস্থ করার চেষ্টা। সংসার, সন্তান ও জীবনের নানা দায়িত্বের কারণে বারবার থেমেছে সেই পথ। কিন্তু ইচ্ছা থেকে সরে যাননি মিশরের সানা আবদেল সাত্তার জেইদান। দীর্ঘ প্রায় এক দশকের অধ্যবসায়ের পর ৭০ বছর বয়সে তিনি পুরো কোরআন মুখস্থ করেন এবং এক বৈঠকে প্রায় সাত ঘণ্টায় সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ থেকে শুনিয়ে দেন। মিশরের মনুফিয়া প্রদেশের বাসিন্দা সানার কোরআন হিফজের যাত্রা শুরু হয় জীবনের অনেক পরে। নিজের প্রথম সন্তান দুই বছর বয়সে পৌঁছানোর পর তিনি বাড়িতে বসেই কোরআন মুখস্থ করা শুরু করেন। প্রতিদিন সংসারের কাজের পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় কোরআনের জন্য রাখতেন তিনি। তবে শুরু থেকেই তাঁর এই যাত্রা সহজ ছিল না। তিন সন্তানের দেখাশোনা ও সংসারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি নিয়মিত মুখস্থ করা এবং তা ধরে রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। স্বামীও তাঁর এই যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ছিলেন। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর তিনি স্ত্রীর মুখস্থ করা অংশ শুনতেন এবং পুনরাবৃত্তিতে সহায়তা করতেন। সানার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ বছর ধরে এভাবে ধীরে ধীরে কোরআন মুখস্থ করেন তিনি। মুখস্থ সম্পন্ন করার পরও থেমে থাকেননি। বরং তাজবিদ বা শুদ্ধভাবে কোরআন তিলাওয়াতের নিয়ম শেখার জন্য বাড়ির কাছের একটি মসজিদে নিয়মিত যেতে শুরু করেন। সংসারের কাজ শেষ করে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি সেখানে তাজবিদের পাঠ নিতেন। কোরআন হিফজ সম্পন্ন করার পর তাঁর সামনে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। দীর্ঘদিন ধরে মুখস্থ করা পুরো কোরআন একসঙ্গে শুনিয়ে দেওয়ার আয়োজন করা হয়। প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে তিনি একটানা মুখস্থ থেকে কোরআন তিলাওয়াত করেন। মিশরীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এটিকে তাঁর দীর্ঘ হিফজযাত্রার একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সানার কাছে কোরআন হিফজ শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়। তিনি জানিয়েছেন, আল্লাহর কিতাব থেকে উপকৃত হওয়া এবং এর মাধ্যমে ধর্মীয় জীবনে এগিয়ে যাওয়াই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য। দীর্ঘ এই যাত্রা তাঁকে ধৈর্য ও নিয়মিত চর্চার গুরুত্বও শিখিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সানার গল্পের আরেকটি দিক হলো বয়স। তিনি যখন কোরআন হিফজের কাজ শুরু করেন, তখন তিনি তরুণী নন, ছিলেন সংসারী একজন মা। প্রায় এক দশক ধরে দায়িত্বের পাশাপাশি মুখস্থ ও পুনরাবৃত্তির কাজ চালিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি পুরো কোরআন হিফজ করেন। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে কোরআনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক থেমে যায়নি। বরং মুখস্থ করা অংশ নিয়মিত পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে ধরে রাখাকে তিনি প্রতিদিনের জীবনের অংশ করে নিয়েছেন। তাঁর এই দীর্ঘ অধ্যবসায়ের গল্প মিশরের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্ব পেয়েছে। সানার কোরআন হিফজের এই ঘটনা নতুন করে দেখিয়েছে, জীবনের ব্যস্ততা বা বয়সের কারণে কোনো লক্ষ্য শুরু করার সময় সবসময় শেষ হয়ে যায় না। নিয়মিত অনুশীলন, ধৈর্য এবং দীর্ঘমেয়াদি অধ্যবসায়ের মাধ্যমে জীবনের পরবর্তী পর্যায়েও নতুন কিছু অর্জন সম্ভব। সূত্র: মিশরীয় সংবাদমাধ্যম আল-মাসরি আল-ইয়াওম, টেলিগ্রাফ মিসর
ইতালির স্কুলে বোরকা নিষিদ্ধের ঘোষণা মেলোনির, কমানো হবে বিদেশি শিক্ষার্থী
মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম আল-মাদানি ৪৮ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন