আমেরিকা

ট্রাম্প টাওয়ারের সামনের রাস্তার নাম ওবামার নামে করার জোর প্রস্তুতি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ৯:৪৮
প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং শিকাগোর বর্তমান মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন | ছবি: সংগৃহীত
প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং শিকাগোর বর্তমান মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন | ছবি: সংগৃহীত

শিকাগোর ট্রাম্প টাওয়ারের সামনের রাস্তার নাম পরিবর্তন করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নামে নামকরণের একটি প্রস্তাবের প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন শহরটির মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন। এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি বাধা বা নিয়ম পরিবর্তনের জন্য তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছেন। চলতি সপ্তাহে এক বিবৃতিতে শিকাগোর মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামার ব্যতিক্রমী ও অনন্য নেতৃত্বের বিষয়ে কোনো ধরনের বিতর্কের অবকাশ নেই। এই বিশেষ সম্মাননা প্রদানের লক্ষ্যে জীবিত কোনো ব্যক্তির নামে রাস্তার নামকরণ না করার যে দীর্ঘদিনের নিয়ম রয়েছে, সেটি সংস্কার করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। এর ফলে ভবিষ্যতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ও বিশিষ্ট শিকাগোবাসীদেরও একই ধরনের সম্মাননা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন তিনি।

 

মূলত শিকাগোর অ্যালডারম্যান ব্রেন্ডন রেইলি এই নতুন অধ্যাদেশটি সিটি কাউন্সিলে উত্থাপন করেছেন। এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হলো ওবাশ অ্যাভিনিউ নামক রাস্তাটির একটি অংশকে সম্মানসূচক 'বারাক হুসেইন ওবামা ওয়ে' হিসেবে পুনর্নামকরণ করা। এই নির্দিষ্ট রাস্তাটি সরাসরি ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে দিয়ে চলে গেছে এবং বর্তমানে এই পুরো প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে রয়েছে। এই পুরো পরিকল্পনাটির পেছনে কেবল শিকাগোর মেয়রের একক সমর্থন নয়, বরং এর সপক্ষে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষের স্বাক্ষর সংবলিত একটি বিশাল আবেদনপত্র বা পিটিশন জমা পড়েছে, যা এই উদ্যোগের প্রতি সাধারণ মানুষের ব্যাপক জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়।

 

এই ঐতিহাসিক নামকরণের ক্ষেত্রে বর্তমানে একমাত্র মূল অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে শিকাগো শহরের একটি প্রাচীন আইনি নিয়ম বা বিধান। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সম্মানসূচক রাস্তার নামকরণ কেবল সেই সমস্ত ব্যক্তিদের স্মরণে করা সংরক্ষিত থাকে, যারা ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন বা আমাদের মাঝে আর বেঁচে নেই। যেহেতু বারাক ওবামা এখনো জীবিত, তাই এই আইনি জটিলতা কাটাতে মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন ইতিমধ্যে আইনটি পুরোপুরি পরিবর্তন বা সংস্কার করার বিষয়ে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছেন।

 

মজার বিষয় হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন এই একই ভবনের গায়ে বিশাল আকৃতির সোনালী অক্ষরে নিজের নাম স্থায়ীভাবে খোদাই করেছিলেন, তখন এই ধরনের কোনো নিয়মের প্রসঙ্গ ওঠেনি। ট্রাম্প নিজেই অবশ্য অতীতে একই ধরনের আইনি নিয়মের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যখন তিনি আমেরিকার কাগজের মুদ্রায় নিজের ছবি যুক্ত করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইন অনুযায়ীও মুদ্রায় ছবি স্থান পেতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবশ্যই প্রয়াত বা মৃত হতে হয়।

 

শিকাগো শহর কর্তৃপক্ষ অবশ্য বেশ কয়েক বছর আগেই ট্রাম্পের নামে থাকা সম্মানসূচক রাস্তার নামফলকটি সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করেছে। ট্রাম্পের সেই পুরনো সম্মাননা কেড়ে নেওয়ার পর এখন শহর প্রশাসন সেই একই স্থানে ওবামার নাম যুক্ত করার জন্য ব্যাপকভাবে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ওবামার মধ্যনাম 'হুসেইন' শব্দটিকে নেতিবাচক বা ব্যঙ্গাত্মক অর্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিলেন। শিকাগো শহর কর্তৃপক্ষ এখন ট্রাম্পের সেই ব্যঙ্গকে এক প্রকার জবাব দিতেই তার মালিকানাধীন ভবনের ঠিক সামনের সাইনবোর্ডে বড় অক্ষরে 'হুসেইন' নামটি স্থায়ীভাবে ঝুলিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মা  ডেজিরি হুইলার
মিশিগানে মা ও দুই মাসের শিশুর মরদেহ বাথটাবে উদ্ধার, ‘সন্তানদের নিয়েই সবকিছু করতেন’

ওয়াটারফোর্ড টাউনশিপের একটি অ্যাপার্টমেন্টে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ গিয়ে মা ও তাঁর শিশুকে বাথটাবে অচেতন অবস্থায় পায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুজনই পানিতে ডুবে গিয়েছিলেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহত মায়ের নাম ডেজিরি হুইলার। তিনি তিন সন্তানের মা ছিলেন। ঘটনাস্থলে মা ও শিশুকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয় হাসপাতালে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করা হয়।   পুলিশ প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ ডুবে যাওয়া বলে জানিয়েছে। তবে ওকল্যান্ড কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় জানিয়েছে, তাঁদের মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ ও মৃত্যুর ধরন এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তদন্তকারীরা বিষক্রিয়া পরীক্ষার ফলাফলেরও অপেক্ষায় রয়েছেন।   প্রতিবেশীদের কাছে হুইলার ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ। সন্তানদের সঙ্গে সবসময় তাঁকে দেখা যেত বলে জানান তারা।   প্রতিবেশী লরি মেডারিস বলেন, হুইলার সন্তানদের সঙ্গে সবকিছুই করতেন। তিনি সবসময় হাসিখুশি থাকতেন।   আরেক প্রতিবেশী সু ক্যারি জানান, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও হুইলারকে তাঁর ১৩ বছর বয়সী সন্তান ও দুই মাসের শিশুর সঙ্গে দেখেছিলেন।   ক্যারি বলেন, হুইলার ও তাঁর দুই সন্তান বাইরে বেরিয়ে এসে তাঁকে প্রতিবেশী হিসেবে অভিবাদন জানান। শিশুটি কেমন আছে জানতে চাইলে হুইলার জানিয়েছিলেন, সে ভালো আছে। এরপর তাঁরা ঘরে ফিরে যান—সেটিই ছিল হুইলারকে জীবিত অবস্থায় দেখার শেষ মুহূর্ত।   পরে ক্যারি পুলিশকে হুইলার ও তাঁর শিশুকে বাড়ি থেকে বের করে আনতে দেখেন। সেই সময় হুইলারের কিশোর সন্তানও ঘটনাস্থলে ছিল।   ক্যারি জানান, পরিস্থিতি দেখে ওই কিশোর এতটাই ভেঙে পড়েছিল যে ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিল না। পরিবারের সদস্যদের কান্নার দৃশ্য এখনো তাঁর মনে বারবার ফিরে আসছে বলে জানান তিনি।   মা ও শিশুর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে কীভাবে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তা জানতে তদন্ত এখনো চলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৬:৫৯
হিজাব ও হালাল খাবার নিষিদ্ধের প্রস্তাব ছবি: সংগৃহীত

হিজাব ও হালাল খাবার নিষিদ্ধের প্রস্তাব, ‘ইসলাম ঠেকাতে’ টেক্সাস রিপাবলিকানদের নতুন পরিকল্পনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি দ্বিদলীয় বিল। ছবি: কোলাজ, আমেরিকা বাংলা

রাশিয়ার তেল কিনলে ভারতকে দিতে হতে পারে ১০০% শুল্ক, মার্কিন সিনেটে বিল পাস

টেক্সাসে সুইমিংপুলে ডুবে যাওয়া ২ বছরের অ্যানেলিস, ১০ সপ্তাহের জীবনযুদ্ধ শেষে মৃত্যু

টেক্সাসে সুইমিংপুলে ডুবে যাওয়া ২ বছরের অ্যানেলিস, ১০ সপ্তাহের জীবনযুদ্ধ শেষে মৃত্যু

নিউইয়র্কে গ্যাং সদস্য ছেলের হামলায় জড়িত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, জামিন ৭৫ হাজার ডলারে
নিউইয়র্কে গ্যাং সদস্য ছেলের হামলায় জড়িত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, জামিন ৭৫ হাজার ডলারে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গ্যাং সদস্য ছেলের হামলায় ‘গেটওয়ে ড্রাইভার’ বা পালানোর গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার অভিযোগে অভিযুক্ত এক সাবেক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। জেনিফার ল্যাকার্ড (৪৯) নামের ওই নারী কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার ৭৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে চুপচাপ জামিন লাভ করেন। নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের কৌঁসুলি এবং আদালতের নথিপত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   তবে তিনি মুক্তি পেলেও তার ‘স্লাটি গ্যাং’-এর সদস্য ছেলে চেস ল্যাকার্ড (২০) এবং সাবেক সাজাপ্রাপ্ত স্বামী জেমস ল্যাকার্ড (৪৯) এখনও কারাগারেই বন্দি রয়েছেন।   আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ল্যাকার্ড পরিবারের এই তিন সদস্য গত ২৯ জুন ব্রঙ্কসে একটি ‘ড্রাইভ-বাই শুটিং’ বা চলন্ত গাড়ি থেকে হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন।   ইস্ট ১৬১ নম্বর সড়ক ধরে ইয়াঙ্কি স্টেডিয়ামের খুব কাছেই এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মা জেনিফার ও বাবা জেমস একটি ক্রাইসলার প্যাসিফিকা মিনিভ্যান চালিয়ে তাদের ছেলেকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। এরপর ছেলে চেস ল্যাকার্ড গাড়ির জানালা নামিয়ে এক প্রতিপক্ষের ওপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালান। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।   সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ছেলে চেসের একটি মামলার শুনানির ঠিক কয়েক মিনিট পরই এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার আগে মা জেনিফার তার ছেলেকে টেক্সট করে লিখেছিলেন, "তুমি শুধু সরাসরি বাইরে বসে থাকতে পারো না। এর জন্য সঠিক সময় মেলাতে হবে।" এই ঘটনার পর জেনিফার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হলে, মাউন্ট ভার্নন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে জেনিফারকে বরখাস্ত করা হয়।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৫:৩২
বয়সের ৬১ বছরের ব্যবধান, ৮৫ বছরের স্বামীর সন্তানের মা হতে চান ২৪ বছরের তরুণী

বয়সের ৬১ বছরের ব্যবধান, ৮৫ বছরের স্বামীর সন্তানের মা হতে চান ২৪ বছরের তরুণী

টেক্সাসে মার্কিন আইনপ্রণেতার তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন

টেক্সাসে মার্কিন আইনপ্রণেতার তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গে আইসিই হেফাজত থেকে মুক্তির পর শীতে জমে মৃত্যু হাইতিয়ান অভিবাসীর

যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গে আইসিই হেফাজত থেকে মুক্তির পর শীতে জমে মৃত্যু হাইতিয়ান অভিবাসীর

জুলাইয়ে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আইসিইর হাতে রেকর্ড গ্রেপ্তার, আটক ৪৩ হাজারের বেশি
জুলাইয়ে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আইসিইর হাতে রেকর্ড গ্রেপ্তার, আটক ৪৩ হাজারের বেশি

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। জুলাই মাসে সংস্থাটি ৪৩ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করে ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে পাঠিয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এক মাসে সর্বোচ্চ। কংগ্রেসে দেওয়া আইসিইর ডেটা পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।    জুনে রেকর্ড সংখ্যক গ্রেপ্তারের পর জুলাইয়ে অভিযান আরও বেড়েছে। জুলাইয়ের প্রথম ১২ দিনে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৪৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মাসের বাকি সময়ে দৈনিক গড় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৪৫০ জনে।    এই সময়েই আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে টেক্সাস ও মেইনে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ৭ জুলাই হিউস্টনে ৫২ বছর বয়সী লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আইসিইর দাবি, তাকে আটক করার সময় তিনি গাড়ি দিয়ে এক কর্মকর্তাকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও পরবর্তী বিভিন্ন প্রতিবেদনে ঘটনাটির বিবরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।    হ্যারিস কাউন্টির মেডিকেল এক্সামিনার পরে আরাউহোর মৃত্যুর ধরনকে ‘হোমিসাইড’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেন। এ ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবিও জোরালো হয়েছে।    এর মাত্র ছয় দিন পর, ১৩ জুলাই মেইনের বিডেফোর্ডে আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে ২৬ বছর বয়সী জোহান সেবাস্তিয়ান দুরান গেরেরো নিহত হন। পরপর দুটি প্রাণঘাতী ঘটনার পর আইসিই সাময়িকভাবে গাড়ি থামিয়ে অভিযান পরিচালনা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে পরে নির্দিষ্ট ধরনের টার্গেটেড অভিযানে এ ধরনের পদক্ষেপ আবার চালু করা হয়।    হিউস্টনের ঘটনায় ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য নিয়েও তদন্তকারীদের কাছে বেশ কিছু প্রশ্ন এখনো অনিষ্পন্ন রয়েছে। স্থানীয় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং আইসিইর কাছ থেকে প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।    জুলাইয়ের এই রেকর্ড গ্রেপ্তার দেখাচ্ছে, প্রাণঘাতী অভিযান নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন থেমে নেই। বছরের প্রথম সাত মাসেই আইসিই ২ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি মানুষকে ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে পাঠিয়েছে।    আইসিই এখন বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে গ্রেপ্তার অভিযান জোরদার করছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী ও তাদের পরিবারের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে যাদের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এখনো অনিশ্চিত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ১২:৪৪
ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বে ফের আঘাত

ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বে ফের আঘাত, এবার ‘বার্থ ট্যুরিজম’ও টার্গেটে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ট্রাম্পের চুলে হঠাৎ এত পরিবর্তন কেন? লাস ভেগাসের ছবি ঘিরে নতুন আলোচনা

ফ্লোরিডায় গভীর রাতে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ ১৬ বছরের কিশোরী

ফ্লোরিডায় গভীর রাতে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ ১৬ বছরের কিশোরী, মেয়েকে ফেরার আকুতি বাবার

0 Comments