রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুঠোফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন সাকিব আল হাসান । ছবি: সংগৃহীত
১ কোটি টাকা দিলে কেস থেকে নাম তুলে দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে: সাকিব আল হাসান

বাংলাদেশের ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো থেকে নাম প্রত্যাহারের জন্য এক কোটি টাকা দাবি করে একটি প্রস্তাব এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুঠোফোনে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্যসহ নিজের বর্তমান জীবন, দেশে ফেরা, মামলা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।   সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, একটি পক্ষ যোগাযোগ করে জানায় এক কোটি টাকা দিলে তার নাম মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, মামলা ইতিমধ্যে দায়ের হওয়ায় এভাবে নাম প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, তদন্ত ও পুলিশের ক্লিয়ারেন্স ছাড়া বিষয়টি সমাধান হওয়া কঠিন।   দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্নে সাকিব জানান, তিনি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছেন। তবে তার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বড় বাধা হয়ে আছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, স্বাভাবিক নিরাপত্তা এবং চলাচলের নিশ্চয়তা ছাড়া দেশে ফেরা সম্ভব নয়।   মামলার বর্তমান অবস্থার বিষয়ে তিনি জানান, তার আইনজীবীরা বিষয়টি দেখছেন। তার ধারণা, তিনটি মামলার মধ্যে একটির অগ্রগতি দ্রুত হতে পারে। তবে বিস্তারিত আগে জানাতে চাননি। জাতীয় দলে না খেলা প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, জাতীয় দলের বাইরে থাকা সময়টা তার জন্য ভিন্ন অভিজ্ঞতা। তবে তিনি এখনো জাতীয় দলের খেলা মিস করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সময় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি এবং একা প্রস্তুতির বিষয়টি তার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।   রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, সময়ের আগে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে মনে করেন। তবে সেটিকে তিনি ভুল হিসেবে দেখছেন না। তার মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা আরও ভালোভাবে বোঝার প্রয়োজন রয়েছে।   ফিটনেস ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার বিষয়ে সাকিব জানান, কিছুদিন অনুশীলন করলে আগের অবস্থায় ফেরা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। সুযোগ পেলে তিনি ওয়ানডে ফরম্যাটে বেশি মনোযোগ দিতে চান এবং ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পরিকল্পনা করতে চান।   তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার বাইরে রাজনীতি ও সমাজ নিয়ে তার চিন্তাভাবনা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে এবং অভিজ্ঞতা তাকে আরও পরিপক্ব করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
নবজাতক কন্যাসন্তানের আগমনের খবর সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট | ছবি: আমেরিকা বাংলা
আবার মা হলেন ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট দ্বিতীয় সন্তানের মা হয়েছেন। তিনি কন্যাসন্তানের জন্মের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন।   পোস্টে লেভিট জানান, গত ১ মে তাদের পরিবারে নতুন সদস্য হিসেবে কন্যাসন্তান ‘ভিভিয়ানা’ জন্ম নেয়। পরিবারে তাকে আদর করে ‘ভিভি’ নামে ডাকা হচ্ছে। নবজাতক বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং পরিবারে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।   তিনি আরও জানান, তার বড় ছেলে নিকোলাস ছোট বোনকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। নতুন সদস্যকে ঘিরে পরিবারটি বর্তমানে সময় কাটাচ্ছে।   গর্ভাবস্থার সময়ে শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও প্রার্থনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ক্যারোলিন লেভিট।   গত এপ্রিল মাস থেকে তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং পরিচালনা করছেন প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে তিনি সাময়িকভাবে দায়িত্বে ফিরে সংবাদমাধ্যমকে তথ্য দেন।   বর্তমানে তার প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তার নিয়মিত কাজে ফেরার সময়সূচি নিয়ে হোয়াইট হাউস এখনো কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা দেয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইন্ডিয়ানা ও ওহাইও প্রাইমারিতে জয়: নির্বাচনী লড়াইয়ে চমক ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা এবং ওহাইও অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারি নির্বাচনে আবারও নিজের রাজনৈতিক দাপট প্রমাণ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৬ সালের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই নির্বাচনকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার লিটমাস টেস্ট হিসেবে দেখা হচ্ছিল, যেখানে বড় জয় পেয়েছেন তার সমর্থিত প্রার্থীরা। ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য ছিল সেই রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা, যারা জেলা পুনর্নির্ধারণ বা 'রিস্ট্রিক্টিং' পরিকল্পনায় তার বিরোধিতা করেছিলেন। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, ট্রাম্প সমর্থিত চ্যালেঞ্জারদের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন একাধিক অভিজ্ঞ রিপাবলিকান সিনেটর। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দলের ভেতরে ট্রাম্পবিরোধীদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা। অন্যদিকে, ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে রিপাবলিকান দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন বিবেক রামাস্বামী। প্রযুক্তি খাতের এই উদ্যোক্তা এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত রামাস্বামী এখন মূল নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টনের মুখোমুখি হবেন। ওহাইওতে সিনেট নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সহজ জয় পেয়েছেন শেরড ব্রাউন, যা আগামী দিনে ওহাইওতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিচ্ছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্ডিয়ানা এবং ওহাইও-র এই ফলাফল প্রমাণ করে যে রিপাবলিকান পার্টির ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ এখনো অটুট। বিশেষ করে দলের ভেতরের বিদ্রোহীদের হটিয়ে ট্রাম্প অনুসারীদের এই জয় আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের কৌশল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
থালাপতি বিজয় । ছবি: সংগৃহীত
কংগ্রেসের সমর্থনে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

ভারতের তামিলনাড়ু রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়, যিনি ভক্তদের কাছে ‘থালাপতি’ নামে পরিচিত, তার দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) সরকার গঠনের পথে এগিয়ে রয়েছে।   সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে টিভিকে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দলে পরিণত হয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন, ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলে গেছে।   এই অবস্থায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস টিভিকেকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তামিলনাড়ু প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানা গেছে, নতুন সরকারে অংশীদার হিসেবে কংগ্রেস মন্ত্রিসভায় দুটি মন্ত্রী পদসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব চাইতে পারে।   দীর্ঘদিন ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতি ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৬৭ সালের পর থেকে এই দুই দলই পালাক্রমে ক্ষমতায় ছিল। এবারের নির্বাচনে সেই ধারায় পরিবর্তন এসেছে।   টিভিকে ডিএমকেকে পেছনে ফেলে এবং এআইএডিএমকেকে তৃতীয় স্থানে নামিয়ে সরকার গঠনের অবস্থানে পৌঁছেছে। চেন্নাইয়ে দলীয় বৈঠকের পর জানা গেছে, আগামী ৭ মে বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন মন্ত্রীও শপথ নেবেন।   এদিকে বামপন্থী দলসহ ছোট দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে টিভিকে। এসব দলের সমর্থন পেলে একটি স্থিতিশীল জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হবে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়াতে ব্যয় হচ্ছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামভীতি বা ইসলামোফোবিয়া এখন আর কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত এবং কয়েক মিলিয়ন ডলারের বিশাল শিল্পে পরিণত হয়েছে। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR) এর ক্যালিফোর্নিয়া শাখার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, একটি নির্দিষ্ট প্রভাবশালী গোষ্ঠী এবং নেটওয়ার্ক সুপরিকল্পিতভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়াতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছে। এই বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে মিথ্যা তথ্য ছড়াতে, গণমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা চালাতে এবং মুসলিম বিরোধী নীতি প্রণয়নে নীতি-নির্ধারকদের প্রভাবিত করতে। CAIR-এর তথ্যমতে, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে অন্তত ২৬টি ইসলামোফোবিক গ্রুপকে প্রায় ১০৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ মূলত বিভিন্ন চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন ও প্রভাবশালী দাতাদের কাছ থেকে এসেছে। এই নেটওয়ার্কটি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে সাধারণ আমেরিকানদের মধ্যে মুসলিমদের সম্পর্কে ভয় এবং বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, বর্তমানে এই বিদ্বেষ কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলা বা গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদ করার কারণেও অনেক আমেরিকান মুসলিম এবং মানবাধিকার কর্মীরা চরম বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রে এই ধরনের 'ভিউ পয়েন্ট ডিসক্রিমিনেশন' বা মতাদর্শিক বৈষম্য মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই ধরনের পরিকল্পিত ঘৃণা ছড়ানোর ফলে মুসলিম আমেরিকানদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার হুমকির মুখে পড়ছে। এটি কেবল একটি ধর্মের মানুষের বিরুদ্ধে নয়, বরং আমেরিকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপরও বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
লোরি শ্যাভেজ-ডিরেমার
ট্রাম্প প্রশাসনে ফের ধাক্কা: এবার পদত্যাগ করলেন শ্রম সচিব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে আবারও বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। সোমবার বিভিন্ন অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করেছেন শ্রম সচিব লোরি শ্যাভেজ-ডিরেমার। গত দুই মাসের ব্যবধানে ট্রাম্পের মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নেওয়া তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তিনি। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চুং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ডিরেমার ব্যক্তিগত খাতে ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে প্রশাসন ছাড়ছেন। ডিরেমারের স্থলে বর্তমানে ডেপুটি লেবার সেক্রেটারি কিথ সন্ডারলিং ভারপ্রাপ্ত শ্রম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। লোরি শ্যাভেজ-ডিরেমারের এই পদত্যাগ এমন এক সময়ে এলো যখন শ্রম দপ্তরের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় তার বিরুদ্ধে ওঠা বেশ কিছু অভিযোগের তদন্ত করছিল। তার বিরুদ্ধে সহকর্মীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক, কর্মক্ষেত্রে মদ্যপান এবং সরকারি অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ভ্রমণের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও দপ্তরের কর্মীদের সাথে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ রয়েছে। বিদায়ী বার্তায় ডিরেমার তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে 'ডিপ স্টেট'-এর ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশংসা করে বলেন, "ঐতিহাসিক এই প্রশাসনে কাজ করা আমার জন্য সম্মানের।" উল্লেখ্য, গত মার্চে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম এবং চলতি মাসের শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির বিদায়ের পর ডিরেমার হলেন তৃতীয় নারী ক্যাবিনেট সদস্য যিনি ট্রাম্প প্রশাসন থেকে অপসারিত বা পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
মা আওয়ামী লীগ নেত্রী, মেয়ে বিএনপির সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেলেন
মা আওয়ামী লীগ নেত্রী, মেয়ে বিএনপির সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেলেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে একই পরিবারের মা ও মেয়ের ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়। বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর আলোচনায় এসেছেন নাদিয়া পাঠান পাপন, যার মা আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেত্রী।   সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ৩৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করেন। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের নাদিয়া পাঠান পাপনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাদিয়া চান্দুরা গ্রামের দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়াশোনা করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং ছাত্রজীবন থেকেই দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।   অন্যদিকে, তার মা সৈয়দা নাখলু আক্তার দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা কৃষক লীগের সাবেক সহসভাপতি, বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মেয়ের মনোনয়ন প্রসঙ্গে নাখলু আক্তার বলেন, তার রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে মেয়ের কোনো সম্পর্ক নেই এবং নাদিয়া নিজস্বভাবে ঢাকায় রাজনীতি করছেন।   তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন, তিনি এখনও দলীয় পদে বহাল রয়েছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।   এ বিষয়ে নাদিয়া পাঠান পাপনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোট গ্রহণ করা হয় না। সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে এসব আসন নির্ধারিত হয় এবং দলগুলো তাদের প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। সে হিসেবে বিএনপি জোট ৩৬টি সংরক্ষিত আসন পাচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মানসিক চিকিৎসায় নজিরবিহীন ও সাহসী পদক্ষেপ নিলেন ট্রাম্প

মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের সমাধানে এবার এক নজিরবিহীন ও সাহসী পদক্ষেপ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে তিনি সাইকেডেলিক ড্রাগ, বিশেষ করে অত্যন্ত বিতর্কিত ‘আইবোগেইন’ (Ibogaine)-এর ওপর বৈজ্ঞানিক গবেষণার গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার ওভাল অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমেরিকানদের বিশেষ করে যুদ্ধফেরত সেনাদের (Veterans) মানসিক অবসাদ, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD) এবং মাদকের আসক্তি দূর করতে এই ধরনের ড্রাগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, “যদি এই ওষুধগুলো মানুষের দাবিমতো কাজ করে, তবে তা আমাদের দেশে এক যুগান্তকারী প্রভাব ফেলবে।” কী এই আইবোগেইন? আইবোগেইন মূলত পশ্চিম আফ্রিকার একটি গুল্ম জাতীয় গাছ থেকে তৈরি এক ধরনের হ্যালুসিনোজেনিক বা দৃষ্টিভ্রমকারী ড্রাগ। যুক্তরাষ্ট্রে এটি দীর্ঘদিন ধরে হিরোইন বা এলএসডি-র মতো ‘শিডিউল-১’ ক্যাটাগরির নিষিদ্ধ ড্রাগ হিসেবে তালিকায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি মস্তিষ্কের গভীরে প্রভাব ফেলে মাদকাসক্তি এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করতে পারে। বিতর্ক ও ঝুঁকি: ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে যেমন খুশির জোয়ার বইছে সমর্থকদের মাঝে, তেমনি চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের বড় একটি অংশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আইবোগেইন ব্যবহারের ফলে হার্টের গতি অনিয়মিত হয়ে পড়া এবং হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। ১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে এর ওপর গবেষণা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এর প্রাণঘাতী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেই। প্রভাব ও অর্থায়ন:নতুন এই আদেশের ফলে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) সাইকেডেলিক ওষুধের রিভিউ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করবে। এছাড়া গবেষণা খাতে অন্তত ৫০ মিলিয়ন ডলার ফেডারেল তহবিল বরাদ্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। এই অনুষ্ঠানে বিখ্যাত পডকাস্টার জো রোগান এবং স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র উপস্থিত ছিলেন।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
পোপের সঙ্গে দ্বন্দ্ব: নিজেকে 'পুরোপুরি বাইবেল অনুসারী' দাবি করলেন ট্রাম্প

পোপ চর্তুদশ লিও’র সাথে সাম্প্রতিক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও মতভেদের মধ্যেই নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজেকে খ্রিষ্টধর্মের মূল বাণী বা 'গসপেল'-এর প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত দাবি করে তিনি বলেছেন, তিনি পুরোপুরি বাইবেলের আদর্শে বিশ্বাসী। সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ধর্ম এবং বাইবেল তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পোপ ফ্রান্সিসের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, এর আগে পোপ লিও পরোক্ষভাবে ট্রাম্পের কিছু নীতির সমালোচনা করেছিলেন, যা নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর জবাবে ট্রাম্প খ্রিষ্টান ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতে নিজের ধার্মিক ভাবমূর্তিকে সামনে নিয়ে আসছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৬-এর আসন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রক্ষণশীল খ্রিষ্টান ভোটারদের মন জয় করা ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘বাইবেল ভক্তি’ মূলত রাজনৈতিক কৌশল। তবে তার সমর্থকরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। পোপের সাথে এই স্নায়ুযুদ্ধ মার্কিন রাজনীতিতে ধর্মের প্রভাবকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ক্রমেই দূরত্ব বাড়ছে ট্রাম্পের

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউরোপের কট্টর ডানপন্থী পপুলিস্ট নেতাদের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে।  ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক কিছু বৈশ্বিক ইস্যু বিশেষ করে ইরানের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং পোপের প্রতি ট্রাম্পের সমালোচনামূলক অবস্থান এই সম্পর্কের রসায়নকে এক নাজুক পর্যায়ে নিয়ে ঠেকিয়েছে। এতদিন ইউরোপীয় জাতীয়তাবাদী নেতারা ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে নিজেদের রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। জার্মানির এএফডি (AfD) পার্টির নেতারা ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে ট্রাম্প প্রশাসনের হামলার তীব্র সমালোচনা করে একে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।  এমনকি ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি, যিনি একসময় ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন, তিনিও পোপ লিও-র ওপর ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পর দূরত্ব বজায় রাখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় এই নেতারা এখন বুঝতে পারছেন যে ট্রাম্পের উগ্রপন্থা তাদের নিজ দেশের ভোটারদের কাছে জনপ্রিয়তা কমানোর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরাজয় এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে। পপুলিজমের এই আন্তর্জাতিক বলয় এখন এক গভীর সংকটের মুখে, যেখানে মিত্ররাই এখন ট্রাম্পের নীতি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
এনালিলিয়া মেহিয়া
নিউ জার্সির বিশেষ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এনালিলিয়া মেহিয়ার বিশাল জয়

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ১১তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের বিশেষ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী এনালিলিয়া মেহিয়া (Analilia Mejia)। রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী জো হ্যাথাওয়েকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি এখন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নতুন সদস্য। সাবেক কংগ্রেস সদস্য মিকি শেরিল নিউ জার্সির গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় এই আসনটি শূন্য হয়েছিল। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মেহিয়া প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয় নিশ্চিত করেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী হ্যাথাওয়ে পেয়েছেন প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট। বিজয় পরবর্তী ভাষণে উচ্ছ্বসিত মেহিয়া বলেন, "আমি এখানে কারো সাথে খেলার জন্য আসিনি, আমি এসেছি মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করতে। এটি বাম বা ডানের লড়াই নয়, এটি ন্যায় ও অন্যায়ের লড়াই।" এনালিলিয়া মেহিয়া একজন কট্টর প্রগতিশীল রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। তিনি বার্নি স্যান্ডার্স এবং আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজের মতো নেতাদের সমর্থন পেয়েছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি মূলত নিম্নবিত্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন সুবিধা এবং ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধির মতো প্রগতিশীল ইস্যুগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এছাড়াও গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলি সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বেশ আলোচিত হয়েছিলেন। এই জয়ের ফলে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের আসন সংখ্যা আরও একটি বাড়লো, যা বর্তমানে রিপাবলিকানদের ক্ষীণ সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। মেহিয়া আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত এই মেয়াদের বাকি সময়টুকু দায়িত্ব পালন করবেন এবং আগামী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তিনি আবারও পূর্ণ মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: এআই জেনারেটেড।
আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে 'মুসলিম ন্যাটো'? তুরস্কের ডাকে মেগা বৈঠকে পাকিস্তান, সৌদি ও মিশর

বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট বদলে দিতে এবার কি তবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত ‘মুসলিম ন্যাটো’? পশ্চিম এশিয়া তথা মুসলিম বিশ্বের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে এক বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। আগামী সপ্তাহেই তুরস্কে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এক মেগা বৈঠক, যেখানে অংশ নিতে যাচ্ছে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং মিশর। তুরস্কের 'আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরাম'-এর সমান্তরালে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এই তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে যোগ দেবেন। মূলত আমেরিকা, চীন কিংবা রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মুসলিম বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো যাতে নিজস্ব একটি সামরিক ও নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই সম্ভাব্য জোটকে 'মুসলিম ন্যাটো' হিসেবে অভিহিত করছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই চার দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যৌথ নিরাপত্তা কৌশলের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভিনদেশের হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর ভিত্তি করেই এই জোট গঠিত হচ্ছে। যদি এই উদ্যোগ সফল হয়, তবে বিশ্ব রাজনীতিতে পশ্চিমা শক্তির একাধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। একই সাথে কাশ্মীর ইস্যুসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন মেরুকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা হ্রাসে ডেমোক্র্যাটদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান বিষয়ক যুদ্ধ ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করার লক্ষে ডেমোক্র্যাটদের আনা একটি প্রস্তাব মার্কিন প্রতিনিধি সভায় (হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস) নাকচ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে ২১৪-২১৩ ভোটে প্রস্তাবটি পরাজিত হয়। প্রস্তাবটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতা কমিয়ে কংগ্রেসের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা। তবে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে ডেমোক্র্যাটদের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো। ভোটাভুটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রিপাবলিকান পার্টির কেনটাকি প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রতিনিধি জ্যারেড গোল্ডেন নিজের দলের প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট প্রদান করেন। উল্লেখ্য, এটি ছিল ডেমোক্র্যাটদের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা। এর আগে গত সপ্তাহেও তারা একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন যা সফল হয়নি। এমনকি গত বুধবার সিনেটেও অনুরূপ একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তবে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনারা আবারও যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফেসবুক থেকে প্রাপ্ত এই তারিখবিহীন ছবিটিতে ভার্জিনিয়ার সাবেক লেফট্যানেন্ট গভর্নর জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স এবং তার স্ত্রী সেরিনা ফেয়ারফ্যাক্সকে দেখা যাচ্ছে।
স্ত্রীকে হত্যার পর সাবেক মার্কিন লেফটেন্যান্ট গভর্নরের রহস্যজনক আত্মহত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সাবেক লেফটেন্যান্ট গভর্নর জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স এবং তার স্ত্রী সেরিনা ফেয়ারফ্যাক্সের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভার্জিনিয়ার অ্যানানডেল এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে একে ‘মার্ডার-সুইসাইড’ বা স্ত্রীকে হত্যার পর নিজের আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে ধারণা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের কিছু সময় পর এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন সেখানে জাস্টিন এবং সেরিনা উভয়কেই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত দেখতে পায়। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, ঘটনার সময় তাদের দুই কিশোর সন্তানও ঘরের ভেতর উপস্থিত ছিল। তবে তারা শারীরিক কোনো আঘাত পায়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, সম্প্রতি সেরিনা ফেয়ারফ্যাক্স বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন, যা নিয়ে দম্পতির মধ্যে কলহ চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা না হলেও, একে একটি অভ্যন্তরীণ পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ভার্জিনিয়ার ৪১তম লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন এই অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে দ্বিতীয় আফ্রিকান-আমেরিকান নির্বাচিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তার এই আকস্মিক ও সহিংস মৃত্যুতে গোটা ভার্জিনিয়ার রাজনৈতিক মহলে শোক ও বিস্ময়ের ছায়া নেমে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
পোপ লিও
বিশ্বজুড়ে ‘স্বৈরাচারীদের’ রাজত্ব, ট্রাম্পের আক্রমণের মুখে কড়া জবাব পোপ লিওর

বিশ্বের বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবাজ নেতাদের কড়া সমালোচনা করেছেন পোপ লিও। পূর্বসূরিদের তুলনায় নজিরবিহীন আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বর্তমানে মুষ্টিমেয় কিছু ‘স্বৈরাচারী’ শাসকের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। ক্যামেরুন সফরকালে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হওয়ার পর এই প্রথম পোপ লিও এমন জোরালো বক্তব্য দিলেন। যুদ্ধ এবং ধ্বংসলীলার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যুদ্ধের কারিগররা এমন ভাব করেন যেন তারা কিছুই জানেন না। অথচ একটি সাজানো শহর বা সভ্যতা ধ্বংস করতে মাত্র কয়েক মুহূর্ত সময় লাগে, কিন্তু তা পুনর্গঠনে সারাজীবনও যথেষ্ট নয়।” পোপ আরও অভিযোগ করেন যে, বিশ্ব নেতারা ধ্বংসাত্মক কাজে এবং মানুষ মারার পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছেন, অথচ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনপদগুলো সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান নেই। তিনি বলেন, “তারা জেনেশুনেই চোখ বন্ধ করে আছেন। যেখানে ধ্বংসের নেশায় অর্থ ঢালা হচ্ছে, সেখানে মানুষের কল্যাণে সম্পদের হাহাকার দেখা দিচ্ছে।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাম উল্লেখ না করলেও পোপের এই ইঙ্গিত সরাসরি ট্রাম্প এবং বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক দেশগুলোর দিকেই। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কড়া সমালোচনার জবাবে পোপের এই ‘স্বৈরাচারী’ তকমা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যিশু জড়িয়ে ধরে আছেন ট্রাম্পকে! ছবি পোস্ট করে ফের বিতর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ যিশু খ্রিস্টের সঙ্গে নিজের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা তৈরি ছবি শেয়ার করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, যিশু খ্রিস্ট পরম মমতায় ট্রাম্পকে জড়িয়ে ধরে আছেন। মূলত ইরান যুদ্ধ নিয়ে ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও-র সঙ্গে চলমান বাদানুবাদের মধ্যেই ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিলেন। এর মাত্র দুই দিন আগেই তিনি একই ধরনের একটি ছবি পোস্ট করে সমালোচনার মুখে তা ডিলিট করেছিলেন। ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, বর্তমান বিশ্বের ‘শয়তানি শক্তির’ বিরুদ্ধে লড়াই করতে ঈশ্বর হয়তো তার ‘ট্রাম্প কার্ড’ খেলছেন। নতুন ছবিটি শেয়ার করে ট্রাম্প ক্যাপশনে লিখেছেন, "উগ্র বামপন্থীরা হয়তো এটি পছন্দ করবে না, কিন্তু আমার কাছে এটি বেশ চমৎকার মনে হয়েছে।" উল্লেখ্য, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে আসছেন মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ লিও। ট্রাম্পের এই ছবি পোস্টকে অনেক বিশ্লেষক পোপের সমালোচনার পাল্টা জবাব এবং রক্ষণশীল খ্রিষ্টান ভোটারদের সমর্থন আদায়ের কৌশল হিসেবে দেখছেন। তবে ধর্মীয় প্রতীককে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের এই ঘটনায় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকা: ট্রাম্প, মামদানির পাশে তারেক রহমান

বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে নিউইয়র্কভিত্তিক বিখ্যাত সাময়িকী ‘টাইম’। ২০২৬ সালের এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ২০২৬ সালের ‘টাইম ১০০’ তালিকাটি প্রকাশ করা হয়। তালিকায় তারেক রহমানের পাশাপাশি বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে আরও রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, পোপ লিও চতুর্দশ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এবং নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রোফাইলে টাইম ম্যাগাজিন উল্লেখ করেছে, মাত্র কয়েক মাস আগেও তিনি লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মাধ্যমে তিনি দেশের শাসনভার গ্রহণ করেন। সাময়িকীটি আরও উল্লেখ করে, নির্বাচনে জয়ের মাত্র পাঁচ দিন আগেই তার মা ও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পরলোকগমন করেন। শোকাতুর অবস্থায় দায়িত্ব গ্রহণ করলেও তারেক রহমান ১৭ কোটি মানুষের দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার অঙ্গীকার করেছেন।  তবে মুদ্রাস্ফীতি, তরুণদের বেকারত্ব এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন মোকাবিলা করা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে টাইম। বিএনপি চেয়ারপারসন থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার এই অভাবনীয় রাজনৈতিক উত্থান এবং বৈশ্বিক প্রভাবের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: এআই জেনারেটেড।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়, কিন্তু ইসরায়েলের বেলায় কেন নীরবতা?

গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে তীব্র সমালোচনা, কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং একের পর এক কূটনৈতিক আলোচনা। কিন্তু এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক শক্তি ইসরায়েলের ক্ষেত্রে।  ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে, ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে, যদিও দেশটি আজ পর্যন্ত এই বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করেনি। অথচ ইসরায়েলের এই গোপনীয়তা বা স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নেই কোনো চাপ। বিগত ১০ মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে এক প্রকার যুদ্ধংদেহী অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। যদিও এই দাবির সপক্ষে এখন পর্যন্ত অকাট্য কোনো প্রমাণ তারা হাজির করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো একে পশ্চিমাদের 'দ্বিমুখী নীতি' বা 'ডাবল স্ট্যান্ডার্ড' হিসেবে অভিহিত করেছে। ইরান অভিযোগ করেছে যে, একই অঞ্চলে একটি দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্ব উত্তাল হলেও অন্য দেশের বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে সবাই চোখ বুজে আছে। এই বৈষম্যমূলক আচরণ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
চীনের প্রতি ইতিবাচক হচ্ছে মার্কিনিদের দৃষ্টিভঙ্গি: পিউ রিসার্চের নতুন জরিপ

দীর্ঘ কয়েক বছরের বৈরী সম্পর্কের পর চীনের প্রতি মার্কিন নাগরিকদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা শিথিল হতে শুরু করেছে। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নানা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আমেরিকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বাড়ছে বলে জানিয়েছে শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার। বুধবার (১৫ এপ্রিল, ২০২৬) সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ২৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক চীনের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। গত বছরের তুলনায় এই হার ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২০২৩ সালের তুলনায় এটি প্রায় দ্বিগুণ। জরিপ অনুযায়ী, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিশ্ব রাজনীতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার ওপর মার্কিনিদের আস্থা বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থকদের মধ্যে চীনের প্রতি এই নমনীয় ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। জরিপে আরও দেখা গেছে, চীনকে ‘শত্রু’ হিসেবে দেখার প্রবণতাও আগের চেয়ে কমেছে। ২০২৫ সালে যেখানে ৩৩ শতাংশ মার্কিনি চীনকে শত্রু মনে করতেন, বর্তমানে তা ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে অর্ধেকেরও বেশি (৬০ শতাংশ) আমেরিকান এখনো চীনকে একটি শক্তিশালী ‘প্রতিযোগী’ হিসেবেই দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে টিকটক বা ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে চীনা সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা এবং প্রযুক্তি (যা 'Chinamaxxing' হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে) তরুণ মার্কিনিদের আকর্ষণ করছে। এছাড়া আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণেও অনেকে বিকল্প শক্তি হিসেবে চীনের উত্থানকে ইতিবাচকভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে এখনো চীনের প্রতি কঠোর মনোভাব বজায় রয়েছে। তাদের একটি বড় অংশ এখনো মনে করে যে, চীন আমেরিকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
পাকিস্তানে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে? ট্রাম্পের মন্তব্যে বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি রহস্যময় মন্তব্যে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে সম্ভাব্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে "বড় কিছু ঘটতে পারে"। ইসলামাবাদে অবস্থানরত নিউইয়র্ক পোস্টের একজন সংবাদদাতাকে ট্রাম্প বলেন, "আপনার সেখানে (পাকিস্তানে) থাকা উচিত, কারণ আগামী দুই দিনের মধ্যে সেখানে বিশেষ কিছু ঘটতে যাচ্ছে। আমরা সেখানেই যেতে বেশি আগ্রহী।" জেনেভাকে আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হলেও ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রতিই তার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনিরের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ট্রাম্প তাকে "ফ্যান্টাস্টিক" হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "ফিল্ড মার্শাল দুর্দান্ত কাজ করছেন। পাকিস্তানই হতে পারে উপযুক্ত স্থান।" অন্যান্য নিরপেক্ষ দেশের তুলনায় ট্রাম্প পাকিস্তানকে কেন বেছে নিচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, "যেসব দেশের এই বিষয়ের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, আমরা সেখানে কেন যাব?" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও জেনারেল আসিম মুনিরের ওপর ট্রাম্পের এই ভরসা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবান
ট্রাম্পের ইরান নীতি ও হাঙ্গেরিতে অরবানের পতন: বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ইরান নীতি এবং হাঙ্গেরির দীর্ঘকালীন নেতা ভিক্টর অরবানের নির্বাচনী পরাজয় বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। সিএনএন-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কীভাবে এই দুই নেতার রাজনৈতিক ভাগ্য এবং কৌশল একে অপরের পরিপূরক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসলামাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেস্তে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থাকে আরও ঘনীভূত করেছে। এদিকে, ইউরোপে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানের ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে। নির্বাচনে পিটার ম্যাগিয়ারের ‘তিসজা’ (Tisza) পার্টির কাছে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছেন অরবান। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতি এবং অরবানের 'ইললিবারেল ডেমোক্রেসি' বা অনুদার গণতন্ত্রের মডেল দীর্ঘকাল ধরে একে অপরকে সমর্থন দিয়ে আসছিল। অরবানের পরাজয় ইউরোপে পপুলিস্ট বা জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প ইরানে একটি "প্রকৃত চুক্তির" (Real Agreement) দাবিতে অনড় থেকে সামরিক শক্তি প্রয়োগের যে হুমকি দিচ্ছেন, তা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। সিএনএন বলছে, অরবানের প্রস্থান ট্রাম্পের জন্য ইউরোপে তার প্রভাব বিস্তারের পথকে কিছুটা কণ্টকাকীর্ণ করে তুলল। তবে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবরোধ এবং সামরিক তৎপরতা চালিয়ে ট্রাম্প বিশ্বকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে, তিনি তার পররাষ্ট্র নীতিতে কোনো আপস করবেন না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

বাংলাদেশের সার্টিফিকেট দিয়ে কি যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা যায়? যা জানা জরুরি
আমেরিকা

বাংলাদেশের সার্টিফিকেট দিয়ে কি যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা যায়? যা জানা জরুরি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0