২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয় বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধাক্কা তৈরি করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুদ্ধ, অর্থনীতি, মুদ্রাস্ফীতি ও অন্যান্য নীতি-প্রয়োগ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তার প্রতি অসন্তুষ্টি ও অনুশোচনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টের সাম্প্রতিক YouGov জরিপে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া ৩৮ শতাংশ ভোটার এখন তার ওপর আগের মতো ভরসা রাখতে পারছেন না। কমলা হ্যারিসের ভোটারদের তুলনায় এই সংখ্যা দ্বিগুণ। জরিপে আরও দেখা গেছে, ট্রাম্পের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত ‘শ্রমজীবী শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের’ মধ্যে তার জনপ্রিয়তা ৬৩ শতাংশ থেকে নেমে মাত্র ৪৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জরিপে বলা হয়েছে, ভোটাররা এখন ট্রাম্পের নীতি ও কার্যকলাপে অসন্তুষ্ট। বিশেষ করে গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা (৪৫%), মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা (৩৯%), অর্থনৈতিক নীতি (৩০%) এবং ইরান নীতি (২৮%)–এর কারণে ভোটাররা তার নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ভোটারদের অনুশোচনা স্পষ্ট করে, ৫ শতাংশ সরাসরি বলেছেন যে তারা ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে ভুল করেছেন। ১৬ শতাংশ ভোটার কোনো না কোনোভাবে পুনরায় নির্বাচনে ভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন। বিশেষ করে ৩০ বছরের কম বয়সী এবং হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যে এই অনুশোচনার হার যথাক্রমে ১৭% ও ১৬%। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের ভোটারদের এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং অসন্তুষ্টি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী বা পরবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে পাম বন্ডির নাটকীয় বিদায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এক নজিরবিহীন ও অবমাননাকর ঘটনা সামনে এসেছে। দায়িত্ব ছাড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে খোদ বিচার বিভাগের ভেতরে একটি ডাস্টবিনে তার ফ্রেমবন্দি ছবি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র উত্তেজনা ও সমালোচনা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আকস্মিক ঘোষণায় পাম বন্ডিকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেন। এই ঘটনার পরদিন শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিএমজেড (TMZ) এক প্রতিবেদনে জানায়, বিচার বিভাগের করিডোরে রাখা একটি ময়লার ঝুড়িতে বন্ডির বাঁধাই করা ছবিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। অত্যন্ত প্রভাবশালী এই কর্মকর্তার ছবি এভাবে ডাস্টবিনে কে বা কারা ফেলল, তা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে। পাম বন্ডির ১৪ মাসের দায়িত্বকাল শুরু থেকেই ছিল নানা বিতর্কে ঘেরা। বিশেষ করে কুখ্যাত জেফ্রি এপস্টেইন মামলার নথি প্রকাশে অস্বচ্ছতার অভিযোগে তিনি শুরু থেকেই কোণঠাসা ছিলেন। এছাড়া ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়া এবং বিচার বিভাগে গণহারে বরখাস্তের ঘটনায় খোদ রিপাবলিকান দলের ভেতরেই তার বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিদায়লগ্নে বন্ডিকে 'মহান দেশপ্রেমিক' বলে অভিহিত করেছেন, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই বিদায় ছিল অত্যন্ত তিক্ত। ডাস্টবিনে ছবি পাওয়ার ঘটনাটি বিচার বিভাগের কর্মীদের ভেতরে জমে থাকা ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। বন্ডির পদত্যাগের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চকে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ এপ্রিল কংগ্রেসের ওভারসাইট কমিটির সামনে বন্ডির হাজির হওয়ার কথা রয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে উত্তাল মার্কিন রাজনীতি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে তোলপাড় শুরু হয়েছে খোদ ওয়াশিংটনে। অভিজ্ঞ জেনারেলদের একের পর এক বরখাস্তের পেছনে ইরান নিয়ে হেগসেথের 'অবাস্তব' পরিকল্পনাকে দায়ী করছেন দেশটির শীর্ষ রাজনীতিকরা। মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির সদস্য সিনেটর ক্রিস মারফি এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পেন্টাগনের অভিজ্ঞ জেনারেলরা সম্ভবত হেগসেথকে সতর্ক করেছিলেন যে— ইরানের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ পরিকল্পনা একেবারেই 'অকার্যকর' এবং 'বিপজ্জনক'। আর এই সত্য বলার কারণেই এখন কোপের মুখে পড়তে হচ্ছে ঝানু সামরিক কর্মকর্তাদের। মারফির মতে, হেগসেথ এমন এক যুদ্ধের স্বপ্ন দেখছেন যার বাস্তব ভিত্তি নেই। অভিজ্ঞ জেনারেলরা যখনই যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরছেন, তখনই তাদের পথ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য এক বিশাল ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা প্রদর্শন করছে, অন্যদিকে পেন্টাগনের অন্দরে চলছে এই 'শুদ্ধি অভিযান'। সামরিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এভাবে অভিজ্ঞ নেতৃত্বহীন হয়ে পড়লে মার্কিন বাহিনী এক অনিশ্চিত ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক রাজনৈতিক নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলেন জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং। শুক্রবার দেশটির সংসদীয় প্রক্রিয়ায় এই নির্বাচনের মাধ্যমে মূলত ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা দখলকারী এই সেনাপ্রধানের কর্তৃত্বই রাষ্ট্রীয়ভাবে আরও সুসংহত হলো। রাজধানী নেপিডোয় দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে ৫৬৬ সদস্যের মধ্যে ৪২৯ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ৬৯ বছর বয়সী মিন অং হ্লাইং। উল্লেখ্য, গত সোমবারই তিনি সেনাপ্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। মিয়ানমারের ২০০৮ সালের সামরিক-প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী, কোনো চাকুরীরত সরকারি কর্মকর্তা বা সেনাপ্রধান প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না—আর সেই আইনি বাধা দূর করতেই তার এই পদত্যাগ। এই নির্বাচনে জান্তা প্রধানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক জেনারেল নিও সও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া কায়িন স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য নান নি নি আয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পেয়েছেন। নির্বাচনটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। জান্তা সরকার আয়োজিত গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে সামরিক বাহিনীর মদদপুষ্ট ইউএসডিপি (USDP) দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। পার্লামেন্টের প্রায় ৮৬ শতাংশ আসনই এখন জান্তা সমর্থিত ও অনির্বাচিত সামরিক প্রতিনিধিদের দখলে। ফলে বিরোধী দল এবং পশ্চিমা দেশগুলো এই পুরো প্রক্রিয়াকে একটি 'প্রহসন' হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চি এবং তার সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখনো বন্দি রয়েছেন। সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে (NLD) আগেই বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জান্তা। আগামী সপ্তাহেই নতুন প্রেসিডেন্ট তার মন্ত্রিসভা গঠন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে এবং ১০ এপ্রিলের মধ্যে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করবেন।
বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন Khaleda Zia-এর শাসনামলে দেশের মানুষ ভালো ছিল—এ কারণেই দলটিকে দীর্ঘ সময় ভুগতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চিফ হুইপ Nurul Islam। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল। নুরুল ইসলাম বলেন, “বেগম জিয়ার আমলে দেশের উন্নতি হয়েছিল, মানুষ ভালো ছিল—এই কারণেই আমরা ১৭ বছর ভুগেছি।” তিনি দাবি করেন, Ziaur Rahman দেশকে নানা অসংগতি থেকে বের করে এনেছিলেন এবং বহুদলীয় রাজনীতির প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচির ফলে স্বল্প সময়ে খাদ্যসংকট দূর হয়েছিল। একই ধারাবাহিকতায় Tarique Rahman-ও বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সভায় Sheikh Mujibur Rahman-এর সমালোচনা করে চিফ হুইপ বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্তে দুর্বলতা ছিল। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগও তোলেন তিনি। তারেক রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি সাশ্রয়ী জীবনযাপন করেন এবং বিভিন্ন সংস্কারমূলক প্রস্তাব দিয়েছেন, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পদে মেয়াদসীমা নির্ধারণের বিষয়ও রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির ব্যাপারীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামসহ অন্যরা।
বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা নিরসনে একজোট হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। টোকিও’র আকাসাকা প্রাসাদে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই বিশ্বনেতা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জাপান সফররত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানান, ফ্রান্স ও জাপান উভয় রাষ্ট্রই আন্তর্জাতিক বিধি-বিধান এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য হলো শান্তি ফিরিয়ে আনা। আমরা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, স্থিতিশীলতা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার পক্ষে জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির নাজুকতা তুলে ধরে বলেন, সংঘাতের দ্রুত প্রশমন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে দুই দেশ একমত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানের এই কঠিন আন্তর্জাতিক পরিবেশে ফ্রান্স ও জাপানের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা গভীর হওয়া অত্যন্ত অর্থবহ। দুই নেতাই মনে করেন, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা বজায় রাখা বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিশ্ব রাজনীতিতে এক বড় ধরনের কম্পন সৃষ্টি করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য টেলিগ্রাফ'-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটো থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। ট্রাম্পের মতে, এই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি এখন কেবল আলোচনার পর্যায়ে নেই, বরং এটি 'পুনর্বিবেচনারও ঊর্ধ্বে'। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ন্যাটোকে একটি 'কাগুজে বাঘ' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "আমি কখনোই ন্যাটোর ওপর আস্থা রাখতে পারিনি। আমি সবসময় জানতাম তারা কতটা দুর্বল এবং মজার ব্যাপার হলো পুতিনও সেটা ভালো করেই জানেন।" প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ক্ষোভের মূলে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল 'হরমুজ প্রণালী' রক্ষায় ন্যাটো মিত্রদের অনীহা। হরমুজ প্রণালীতে সেনা পাঠাতে অস্বীকার করায় মিত্র দেশগুলোকে 'কাপুরুষ' বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। তার মতে, মিত্রদের সমর্থন হওয়া উচিত ছিল 'স্বয়ংক্রিয়', যা এই সংকটের সময় দেখা যায়নি। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার তুলনা টেনে ট্রাম্প আক্ষেপের সুরে বলেন, "আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবার পাশে দাঁড়িয়েছি, এমনকি ইউক্রেনের ক্ষেত্রেও। অথচ ইউক্রেন আমাদের সমস্যা ছিল না। এটি আমাদের জন্য একটি পরীক্ষা ছিল এবং আমরা তাদের জন্য সর্বোচ্চটা করেছি। কিন্তু বিনিময়ে যখন আমাদের প্রয়োজন হলো, তারা আমাদের পাশে থাকল না।" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান দীর্ঘদিনের ট্রান্স-আটলান্টিক নিরাপত্তা বলয়কে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ন্যাটোর প্রতি আমেরিকার এই বিমুখতা বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লন্ডন ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন নিরসনে এক বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ব্রিটিশ রাজপরিবার। আগামী ২৭ থেকে ৩০ এপ্রিল সস্ত্রীক যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতেই এই রাষ্ট্রীয় সফরের আয়োজন করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমন্ত্রণে এই সফরে যাচ্ছেন রাজা চার্লস ও কুইন ক্যামিলা। মঙ্গলবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই সফরের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, "মেলানিয়া এবং আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, রাজা ও রানি আগামী ২৭-৩০ এপ্রিল আমাদের দেশে ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফরে আসছেন। ২৮ এপ্রিল হোয়াইট হাউসে একটি জমকালো নৈশভোজের আয়োজন করা হবে।" তবে এই সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন বিভিন্ন ইস্যুতে লন্ডন ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো। সম্প্রতি ট্রাম্প যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি মিত্র দেশকে 'সাহসহীন' বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এছাড়া জ্বালানি আমদানির বিষয়েও ব্রিটেনকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার রাজার এই 'সফট পাওয়ার' বা রাজকীয় প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রশমিত করতে চাইছে। যদিও ব্রিটেনের অভ্যন্তরে এই সফর নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভিসহ অনেক বিরোধী রাজনীতিবিদ দাবি করেছেন, যে ব্যক্তি বারবার ব্রিটেনকে অপমান করছেন, তার আমন্ত্রণে রাজার এই সফরে যাওয়া উচিত নয়। বাকিংহাম প্যালেস থেকে জানানো হয়েছে, এই সফরটি দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং আধুনিক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে। সফরের অংশ হিসেবে রাজা চার্লস বারমুডাও ভ্রমণ করবেন বলে জানা গেছে। রাজা হিসেবে চার্লসের এটিই হবে প্রথম আনুষ্ঠানিক যুক্তরাষ্ট্র সফর। এর আগে প্রিন্স অফ ওয়েলস থাকাকালীন তিনি ১৯ বার দেশটিতে সফর করেছিলেন। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের সাথে তার এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল বলে মনে করা হচ্ছে।
সিরিয়ার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এক ঝটিকা সফরে বের হয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা। এরই ধারাবাহিকতায় আজ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারের সরকারি বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন এই দুই নেতা। বৈঠকে সিরিয়ার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, মানবিক সহায়তা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ডাউনিং স্ট্রিট সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সিরিয়ার গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য যে, লন্ডনে আসার ঠিক একদিন আগেই আহমেদ আল শারা বার্লিনে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইউরোপের প্রভাবশালী দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে পর পর এই বৈঠকগুলো আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সিরিয়ার নতুন সরকারের অবস্থানকে আরও সুসংহত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা দাবির বেশিরভাগই তেহরান মেনে নিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৩০ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “তারা আমাদের বেশিরভাগ দাবি মেনে নিয়েছে। কেন নেবে না?” তিনি জানান, আলোচনা সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলছে এবং তা ইতিবাচক অগ্রগতির পথে রয়েছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান তাদের আন্তরিকতার প্রমাণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। তার ভাষ্য, “তারা আমাদের ২০ জাহাজভর্তি তেল দিয়েছে, যা আগামীকাল থেকে পাঠানো শুরু হবে।” মার্কিন প্রস্তাবিত শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা আরোপ, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা এবং ইসরায়েল-কে স্বীকৃতি দেওয়া। তবে সব শর্তে এখনো চূড়ান্ত ঐকমত্য হয়নি বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। এর আগে রোববার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খারগ দ্বীপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে। “হয়তো আমরা খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেব, কিংবা নেব না। আমাদের হাতে অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে,” যোগ করেন তিনি। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখনো স্পষ্ট না হলেও সংশ্লিষ্ট মহল এ আলোচনার অগ্রগতিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা, ইরান যুদ্ধ, কূটনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট এবং সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা। পাশাপাশি প্রশাসনিক অনিয়ম, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি ও রাজনৈতিক অস্থিরতাও গুরুত্ব পেয়েছে। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো- বণিক বার্তা: নিষিদ্ধের পরও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পালাবদলের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর দলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও নেতৃত্বে এখনো শেখ পরিবারের প্রভাব বজায় রয়েছে। দলটির নেতাকর্মীরা দেশ ও বিদেশে অবস্থান করে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা নিয়মিত বিবৃতি ও অডিও বার্তার মাধ্যমে দলের অবস্থান জানাচ্ছেন। তবে এখনো তাকে প্রকাশ্যে বা ভিডিও বার্তায় দেখা যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি দল পুনর্গঠনের একটি প্রাথমিক পর্যায়ের কৌশল হতে পারে। প্রথম আলো: টিকা সংকটে উদ্বেগ, হামে বাড়ছে শিশুমৃত্যু দেশে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। কেন্দ্রীয় গুদামে ১০টি রোগের টিকার মজুত শূন্যে নেমে আসায় স্বাস্থ্য খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি মাসেই হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৪১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, টিকা সংগ্রহে প্রশাসনিক জটিলতা, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং মাঠপর্যায়ে জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক শিশু প্রথম ডোজ নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ থেকে বাদ পড়ছে, যা ‘ড্রপ-আউট’ হিসেবে পরিচিত। কোভিড-পরবর্তী সময়ে এই প্রবণতা বেড়েছে। ফলে টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। একসময় পোলিও ও ধনুষ্টংকার নির্মূলে সাফল্য পাওয়া বাংলাদেশে হাম নির্মূলের লক্ষ্য ২০২৫ সালের মধ্যে নির্ধারণ করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতি সেই অর্জনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। দ্য ডেইলি স্টার: হামের প্রাদুর্ভাবে বেড়েছে শিশুমৃত্যু, উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় চলতি বছর অন্তত ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে এই সংখ্যা ৪৬ পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু চলতি মাসেই ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে। এছাড়া বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের মতে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে এবং মার্চ মাসে তা দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ঢাকার পাশাপাশি ময়মনসিংহ, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহী অঞ্চলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। কালের কণ্ঠ: সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সংসদে উত্তেজনা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নোটিশ উত্থাপন করলে তাৎক্ষণিক আলোচনা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। কার্যসূচি আগে না নোটিশ আগে এই প্রশ্নে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সংসদ কক্ষে। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংসদকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। অন্যদিকে সরকারি পক্ষ জানায়, নির্ধারিত কার্যসূচি শেষ না করে এ বিষয়ে আলোচনা সম্ভব নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলের অবস্থানকে অপরিণত পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন। যুগান্তর: ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: নিহত ১৮ বাংলাদেশি, শোকে স্বজনরা লিবিয়া থেকে ইউরোপগামী পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১২ জন সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুরের ৫ জন এবং দোয়ারাবাজারের ১ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। স্বজনদের অভিযোগ, দালালরা বড় নৌকায় ইতালি বা গ্রিসে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে ঝুঁকিপূর্ণ ছোট নৌকায় যাত্রীদের তুলে দেয়। যাত্রাপথে ভুল রুটে গিয়ে দীর্ঘ সময় সাগরে অবস্থান করতে হওয়ায় খাবার ও পানির অভাবে তাদের মৃত্যু হয়। আজকের পত্রিকা: গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে না তোলায় মতবিরোধ অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশ সংসদে না তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি পক্ষ বলছে, অধ্যাদেশটির উদ্দেশ্য ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে, তাই এটি নতুন করে আইনে পরিণত করার প্রয়োজন নেই। তবে বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে। এছাড়া মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন ও গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে বিরোধী সদস্যরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। নয়া দিগন্ত: নেপালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, বড় সংস্কার নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ শিক্ষা খাতে বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, দুই মাসের মধ্যে এসব সংগঠন অপসারণ করা হবে এবং ৯০ দিনের মধ্যে অরাজনৈতিক ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’ গঠন করা হবে। এছাড়া স্নাতক পর্যায়ে ভর্তিতে নাগরিকত্ব সনদের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা সুযোগ পায়। শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে নির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিউ এইজ: দুর্নীতি মামলার জট বেড়ে ৮ হাজারের বেশি দেশে দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার জট বেড়ে বর্তমানে ৮ হাজার ৩৩০টিতে দাঁড়িয়েছে। ২০০৪ সালে কমিশন গঠনের পর থেকে জমে থাকা মামলার সঙ্গে নতুন মামলা যুক্ত হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত পাঁচ বছরে প্রতি বছর গড়ে প্রায় দুই হাজার নতুন মামলা যুক্ত হলেও নিষ্পত্তির হার কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাক্ষীর অনুপস্থিতি, আইনি জটিলতা এবং উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে বিচারপ্রক্রিয়া ধীরগতির হচ্ছে। দেশ রূপান্তর: ‘ওয়ান ইলেভেন’ সংশ্লিষ্ট ১১৩ জনের তালিকা প্রস্তুত ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেন-এর সময় রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ১১৩ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দেশ-বিদেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। তালিকায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা, আমলা, ব্যবসায়ী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। বিদেশে অবস্থানরতদের বিষয়ে তথ্য পেতে ইন্টারপোলের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। টাইমস অব বাংলাদেশ: গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নে জরুরি আলোচনা প্রয়োজন গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী নয় মাসের মধ্যে শেষ হতে যাচ্ছে। তবে এখনো নতুন করে আলোচনার সূচনা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে পানির বণ্টন নির্ধারণে পুরনো গড় হিসাব ব্যবহৃত হচ্ছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত পানি পাচ্ছে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরান ইস্যুতে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির মধ্যেই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিয়ে বিস্ফোরক ও অপমানজনক মন্তব্য করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডায় আয়োজিত ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ সামিট’-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি সরাসরি যুবরাজকে লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ কটাক্ষ করেন। সভায় ট্রাম্প দম্ভোক্তি করে বলেন, “তিনি হয়তো ভেবেছিলেন আমি একজন ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তাকে বুঝতে হবে যে এখন আমার তোষামোদ করা ছাড়া তার উপায় নেই। এমনকি তাকে আমার পশ্চাদ্দেশে চুমু খেতে হবে।” সেখানে উপস্থিত সৌদি প্রতিনিধিদের দিকে তাকিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “ওনাকে বলবেন আমার সঙ্গে যেন ভালো ব্যবহার করেন।” ট্রাম্পের এই আচমকা রাগের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে এক বছর আগের একটি ঘটনা। ট্রাম্পের দাবি, এক বছর আগে যুবরাজ সালমান আমেরিকাকে একটি ‘মৃতপ্রায় দেশ’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ইরানের হুমকির মুখে পড়ে আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় সেই পুরনো ক্ষোভ ঝাড়লেন ট্রাম্প। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মাঝে সৌদি আরব যখন নিজেদের ভূখণ্ড মার্কিন বাহিনীকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, ঠিক তখনই ট্রাম্প এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রিয়াদকে চরম বার্তা দিলেন। তবে বক্তব্যের শেষে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে গিয়ে তিনি যুবরাজকে ‘প্রকৃত যোদ্ধা’ ও ‘অসাধারণ মানুষ’ বলেও অভিহিত করেন। একইসাথে ইরান বিরোধী যুদ্ধে সৌদি আরবসহ কাতার, কুয়েত ও আমিরাতের সমর্থনের প্রশংসাও করেন তিনি।
আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তরসহ দেশের পাঁচটি সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে এনসিপি। রবিবার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। ঘোষণা অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রার্থী করা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রার্থী হয়েছেন আরিফুল ইসলাম আদীব। এ ছাড়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটিতে মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজালকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানা যাবে বলে জানিয়েছে দলটি।
নেপালের নবগঠিত সরকার দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র (বালেন) শাহর নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই গ্রহণ করা হয়েছে ১০০ দফার এক বিশাল সংস্কার কর্মসূচি। এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পরীক্ষার মানসিক চাপ কমিয়ে আনা। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে নেপালের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সব ধরনের রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসগুলো থেকে রাজনৈতিক দল সমর্থিত সংগঠনগুলো সরিয়ে ফেলার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এর পরিবর্তে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে গঠন করা হবে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’, যারা সরাসরি শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করবে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত থাকা বা দলীয় ট্রেড ইউনিয়ন পরিচালনা করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো প্রথাগত অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা আর থাকছে না। পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করতে এবং মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প ও মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন পদ্ধতির প্রবর্তন করা হচ্ছে। এছাড়া সেশন জট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দিষ্ট শিক্ষা ক্যালেন্ডার মেনে দ্রুত ফলাফল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। নেপালি জাতীয়তাবাদকে উৎসাহিত করতে ‘অক্সফোর্ড’, ‘পেন্টাগন’ বা ‘সেন্ট জেভিয়ার্স’-এর মতো বিদেশি নামধারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতি বছরের মধ্যে নেপালি নাম গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উচ্চশিক্ষাকে আরও সহজলভ্য করতে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব সনদের প্রয়োজনীয়তা তুলে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের পেনশন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে প্রাদেশিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে বালেন শাহর সরকার।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদকে যদি ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পরিচালনা করা যায়, তবেই সারাদেশে পূর্ণাঙ্গ ইনসাফ কায়েম করা সম্ভব হবে। আজ রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে নবনির্বাচিত ডেপুটি স্পিকারকে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আপনি ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আজ আপনার বক্তব্যে যে মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ঠিক সেটাই প্রত্যাশা করে। আমরা চাই, এই সংসদই হোক দেশের সকল কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু।" ডেপুটি স্পিকারের পদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, এই চেয়ারটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতীক। আপনি ইনসাফের যে বার্তা দিয়েছেন, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আমরা আশা করি, আপনি প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করবেন এবং সংসদীয় কার্যক্রমে প্রত্যেকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করবেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডেপুটি স্পিকারকে আশ্বস্ত করে বলেন, দায়িত্ব পালনকালে সংসদীয় রীতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
মাত্র দেড় বছর আগে সংঘটিত ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রক্তাক্ত আন্দোলন- যাকে অনেকেই ‘জুলাই বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যা দেন তা ঘিরে জনমনে নানা আলোচনা ও বিতর্ক থাকলেও এর পেছনের কারণগুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হওয়া এবং সামাজিক বৈষম্যই এই আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে। শুরুতে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নামলেও পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বহু শিক্ষার্থী আহত, গ্রেপ্তার কিংবা আতঙ্কে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০০৯ সালের পর থেকে নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক, বিরোধী মত দমনের অভিযোগ এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছিল। তরুণ প্রজন্ম এসব ঘটনা প্রত্যক্ষ করে বড় হয়েছে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছিল। অন্যদিকে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের আধিপত্য নিয়েও অসন্তোষ ছিল। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছিল এবং তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ তৈরি করা হচ্ছিল। অর্থনৈতিক দিক থেকেও মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ায়। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ জনঅসন্তোষকে আরও উসকে দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এসব কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যতের প্রশ্নে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়। তবে এই আন্দোলনের মূল্যায়ন নিয়ে সমাজে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ এটিকে বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র ও তরুণ সমাজের সম্পর্ককে নতুনভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে রাজনৈতিক জবাবদিহি, জ্বালানি সংকট, মানবিক বিপর্যয়, স্বাস্থ্যসেবার অব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক অনিয়মের চিত্র। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো- বণিক বার্তা: ‘জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আত্মবিশ্বাসী সরকার, মাঠের পরিস্থিতি ভিন্ন’ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানি করছে এবং এপ্রিল মাসের জন্য প্রয়োজনীয় কার্গো সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, আমদানিনির্ভরতার কারণে বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে বড় ঝুঁকির মুখে রয়েছে। যুগান্তর: ‘বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক: একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী জবাবদিহির মুখে’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার গঠনের এক মাসের মাথায়ই বিএনপির একাধিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হয়েছে। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠকে তাদের কাছে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্তত ছয়জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর কাছে তাদের দায়িত্ব পালনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, সরবরাহ ঘাটতি এবং তা মোকাবিলার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি নিয়েও সড়ক ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। পররাষ্ট্র খাত নিয়েও আলোচনা হয়, যেখানে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়। বৈঠকে মন্ত্রীদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। মানবজমিন: ‘পুরনো পোশাকই ফিরছে পুলিশে’ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তন আনা পুলিশের পোশাক আবারও পরিবর্তনের পথে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নির্ধারিত আয়রন গ্রে রঙের পোশাক নিয়ে বাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত অনেকেই নতুন পোশাকের রং ও মান নিয়ে আপত্তি জানান। এ নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ–এর সদস্যদের মধ্যে জরিপ চালানো হয়। জরিপের ভিত্তিতে আবার আগের গাঢ় নীল রঙ এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় হালকা সবুজ রঙের পোশাক ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমকাল: ‘ইউরোপে যাওয়ার পথে সাগরে সুনামগঞ্জের ১০ জনের মৃত্যু’ উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার পথে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে অন্তত ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১০ জন রয়েছেন। স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে অসুস্থ হয়ে পড়েন যাত্রীরা। পরে অনেকেই মারা যান এবং পাচারকারীরা মৃতদেহ সাগরে ফেলে দেয়। নিহতদের মধ্যে দিরাই, দোয়ারাবাজার ও জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দারা রয়েছেন। কালের কণ্ঠ: ‘রামেক হাসপাতালে আইসিইউ অব্যবস্থাপনা: ১৮ দিনে ৫১ শিশুর মৃত্যু’ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ সংকটের কারণে ১৮ দিনে ৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই শিশুরা সবাই আইসিইউ শয্যার অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিল। চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউতে নেওয়ার সুপারিশ করলেও শয্যার অভাবে তা সম্ভব হয়নি। অধিকাংশ শিশু সাধারণ ওয়ার্ডেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়, যা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রথম আলো: ‘ঋণখেলাপি ছিলেন, এখন সংসদে’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঋণখেলাপি থাকা সত্ত্বেও অনেকে এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন। আইন অনুযায়ী ঋণখেলাপিদের প্রার্থী হওয়ার কথা না থাকলেও, আদালতের স্থগিতাদেশ ও ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ নিয়ে অনেকেই নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে অনেকেই ঋণ সমস্যার সমাধান করে ফেলেন, যা আইন প্রয়োগের দুর্বলতা নির্দেশ করে। নিউ এইজ: ‘পেট্রল পাম্পে ট্যাগ অফিসার, ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন’ জ্বালানি তেল মজুত ঠেকাতে সরকার পেট্রল পাম্পে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ এবং ডিপোগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশজুড়ে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নজরদারি বাড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরসহ সারাদেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হবে। দ্য ডেইলি স্টার: ‘ভুল চালানে ১০ বছরে বাংলাদেশের ক্ষতি ৬৮ বিলিয়ন ডলার’ ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ভুল চালান বা মিসইনভয়েসিংয়ের কারণে বাংলাদেশ প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৬.৮ বিলিয়ন ডলার এভাবে দেশ থেকে বেরিয়ে গেছে, যা মোট বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ শনিবার নয়াপল্টনে পা রাখছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরকার প্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণের পর এটিই হবে দলীয় কার্যালয়ে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। আজ ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় তার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে নিজেই এই ঘোষণা দেন তারেক রহমান। সভা শেষে তিনি যখন মঞ্চ ত্যাগ করছিলেন, তখন উপস্থিত নেতাকর্মীদের বাঁধভাঙ্গা স্লোগান ও উচ্ছ্বাসের জবাবে হাস্যোজ্জ্বল মুখে তিনি বলেন, "আগামীকাল নয়াপল্টন অফিসে যাব। সেখানে তোমাদের দেখতে চাই।" প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকেই নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দীর্ঘ সময় পর প্রিয় নেতাকে সামনে থেকে দেখার আকাঙ্ক্ষায় সকাল থেকেই কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নয়াপল্টন এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এটি নিছক সফর নয়; বরং কার্যালয়ে বসে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বর্তমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কাঠমান্ডু, নেপাল নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ (২৭ মার্চ) শপথ গ্রহণ করেছেন বালেন্দ্র শাহ। মার্চের শুরুতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) বড় জয় অর্জন করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করলেন। শপথ গ্রহণের আগে ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র একটি গান প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি নেপালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও যুবসমাজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। রাজনীতিতে আসার আগে বালেন্দ্র নেপালের আন্ডারগ্রাউন্ড হিপ-হপ জগতে র্যাপার ও গীতিকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করার আগে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। মাত্র তিন বছরের মেয়র পদে থাকার সময়েই তিনি দেশের তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এর আগে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন, যা যুবসমাজের তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এক সপ্তাহের মধ্যেই জনগণ ওলির সরকারের পতন নিশ্চিত করেন। বালেন্দ্র শাহ বালেন নামে বেশি পরিচিত। ১৯৯০ সালে কাঠমান্ডুতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। নেপালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করে পরে ভারতের বিশ্বেশ্বরায়া টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বড় দলগুলোর প্রার্থীকে পরাজিত করে ৬১ হাজারের বেশি ভোটে জয়লাভ করেন। বালেন্দ্রের জনপ্রিয়তা মূলত তার সামাজিক বার্তা, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং যুবসমাজের প্রতি সমর্থনের কারণে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তার নেতৃত্ব নেপালে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র: বিবিসি
দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপালের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দেশটিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর আজ শুক্রবার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন সাবেক জনপ্রিয় র্যাপার এবং কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বলেন শাহ’ নামেই সমধিক পরিচিত। আজ শুক্রবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এর আগে নির্বাচনে তাঁর দল এক বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে, যা নেপালের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বলেন শাহর এই উত্থান নেপালের তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। সম্প্রতি নেপালে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দুর্নীতিবিরোধী এক বিশাল ছাত্র-যুব আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সেই আন্দোলনে সহিংসতায় অন্তত ৭৭ জন প্রাণ হারান। মূলত অর্থনৈতিক সংকট এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সেই ক্ষোভকে পুঁজি করেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্ত করেন বলেন শাহ। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম বক্তব্যে বলেন শাহ দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন। ৩০ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দেশটিতে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে তোলা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই এখন তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন সংগীতশিল্পী এবং স্বতন্ত্র ধারার রাজনীতিক হিসেবে তাঁর এই জয় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা হিমালয় কন্যা নেপালকে এক নতুন দিশা দেখাতে পারে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে বলেন শাহ কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, যেখানে তিনি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং নগরায়নের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন। আন্তর্জাতিক মহলও নেপালের এই নতুন নেতৃত্বকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে চীন ও ভারতের মধ্যবর্তী এই কৌশলগত রাষ্ট্রের নতুন সরকার বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী ধরনের ভারসাম্য বজায় রাখে, সেদিকেই এখন সবার নজর।
ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের লক্ষ্য এবং এর দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে খোদ মার্কিন রিপাবলিকান শিবিরে বিভক্তি ও চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ের পর মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সাউথ ক্যারোলাইনার প্রভাবশালী কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেস ক্ষোভ প্রকাশ করে সিএনএন-কে জানান, ব্রিফিং চলাকালীন যথাযথ উত্তর না পেয়ে তিনি সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত কোনো তহবিলের আবেদনে তিনি সমর্থন দেবেন না। তার মতে, প্রশাসন কংগ্রেসকে বিভ্রান্ত করছে এবং যুদ্ধের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য স্পষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে। ন্যান্সি মেস বলেন, "প্রতিটি দিন যত গড়াচ্ছে, রিপাবলিকানদের মধ্যে এই যুদ্ধের সমর্থন তত কমছে। আমি আমার অঙ্গরাজ্যের সন্তানদের তেলের দামের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে মরতে পাঠাতে পারি না।" একইসাথে তিনি সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের কড়া সমালোচনা করেন। গ্রাহাম সম্প্রতি ইরানের প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র 'খার্গ আইল্যান্ড' দখলের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তাকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করেন মেস। তিনি সতর্ক করে বলেন, গত ৭০ বছরে শাসন পরিবর্তন বা এ জাতীয় যুদ্ধে আমেরিকার ইতিহাস কেবল ব্যর্থতারই সাক্ষ্য দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews