- প্রচ্ছদ
- ক্যারিয়ার
ক্যারিয়ার
বাংলাদেশে রসায়ন নিয়ে উচ্চশিক্ষার শুরু। এরপর থাইল্যান্ড হয়ে জাপানে গবেষণার দীর্ঘ পথচলা। ন্যানোপ্রযুক্তি, শক্তি রূপান্তর, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সেন্সিং প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে গবেষণা করে জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণায় নিজের অবস্থান গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. মোঃ জাহিদুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি জাপানের ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওতে বিশেষ নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। এর আগে দেশটির নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী অধ্যাপক হিরোশি আমানোর গবেষণাগোষ্ঠীর একটি উপদলেও কাজ করেছেন তিনি। জাপানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংস্থা পরিচালিত গবেষক তথ্যভান্ডার জে গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওর ল্যাবরেটরি ফর বায়োম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড বায়োইঞ্জিনিয়ারিংয়ে যুক্ত রয়েছেন ড. জাহিদুল। সেখানে উন্নত উপাদান, ন্যানোপ্রযুক্তি ও জৈব উপাদানভিত্তিক গবেষণার সঙ্গে তাঁর কাজের সংযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে রসায়নে উচ্চশিক্ষার মধ্য দিয়ে তাঁর একাডেমিক জীবনের সূচনা হয়। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান থাইল্যান্ডে। দেশটির রাজামঙ্গলা ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থান্যাবুরি থেকে ২০১৪ সালে রসায়নে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরবর্তী গন্তব্য ছিল জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে ২০১৮ সালে রাসায়নিক ব্যবস্থা প্রকৌশলে ডক্টর অব ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। ডক্টরাল গবেষণায় তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল দ্রবণ প্লাজমা প্রযুক্তির সাহায্যে ন্যানোকার্বন ও কার্বনভিত্তিক উন্নত উপাদান তৈরি। এসব উপাদান কীভাবে শক্তি রূপান্তর ও তড়িৎ অনুঘটন প্রক্রিয়ায় কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও গবেষণা করেন তিনি। বিশেষ করে জ্বালানি কোষ ও লিথিয়াম এয়ার ব্যাটারির মতো উন্নত শক্তি প্রযুক্তিতে এসব উপাদানের সম্ভাব্য ব্যবহার ছিল তাঁর গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। ডক্টরেট সম্পন্ন করার পর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড সিস্টেমস ফর সাসটেইনেবিলিটিতে গবেষক হিসেবে কাজ শুরু করেন জাহিদুল ইসলাম। প্রাপ্ত জীবনবৃত্তান্তের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী অধ্যাপক হিরোশি আমানোর গবেষণাগোষ্ঠীর একটি উপদলে পোস্টডক্টরাল গবেষণার সুযোগ পান তিনি। অধ্যাপক হিরোশি আমানো ২০১৪ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। নীল আলো নির্গমনকারী কার্যকর এলইডি উদ্ভাবনে অবদানের জন্য ইসামু আকাসাকি ও শুজি নাকামুরার সঙ্গে যৌথভাবে তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। তাঁদের উদ্ভাবন বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ও দীর্ঘস্থায়ী আধুনিক এলইডি বাতি তৈরির পথ সুগম করে। জাপানের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা জাহিদুল ইসলামের গবেষণাজীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে। নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষণাপর্বে তিনি উন্নত উপাদানবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক উপাদান নিয়ে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের এপ্রিলে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইলেকট্রনিক্স বিভাগে গবেষক হিসেবে যুক্ত হন। সেখানে ন্যানো উপাদান ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের কার্যকারিতা নিয়ে তাঁর গবেষণার পরিসর আরও বিস্তৃত হয়। এই গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিভিন্ন উপাদানের গঠন ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের কার্যক্ষমতার সম্পর্ক বোঝা। ফলে রসায়নভিত্তিক উপাদান গবেষণার পাশাপাশি বাস্তব প্রযুক্তিতে সেসব উপাদানের ব্যবহার নিয়েও কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়। ২০২১ সালের জুনে জাপান অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির স্কুল অব ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্সে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। সেখানে ২০২৩ সালের মে পর্যন্ত গবেষণা করেন। এই সময় তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল গ্রাফিনভিত্তিক ফিল্ড ইফেক্ট ট্রানজিস্টর, গ্যাস শনাক্তকরণ এবং উন্নত ইলেকট্রনিক সেন্সর। গ্রাফিন অত্যন্ত পাতলা কার্বনভিত্তিক একটি উপাদান, যার বিশেষ বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সেন্সর তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে কাজ চলছে। জাহিদুল ইসলামের গবেষণাতেও গ্রাফিনভিত্তিক ডিভাইস ব্যবহার করে গ্যাস শনাক্তকরণ প্রযুক্তির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। দীর্ঘ পোস্টডক্টরাল গবেষণার পর ২০২৩ সালের জুনে আবার নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন তিনি। এবার যোগ দেন গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে। সেখানে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এই পর্যায়ে উন্নত কার্যকরী ন্যানো উপাদান তৈরি, সেগুলোর গঠন ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ এবং তড়িৎ রাসায়নিক কার্যকারিতা পরীক্ষার মতো বিষয়ে গবেষণা চালিয়ে যান তিনি। শক্তি উৎপাদন, রূপান্তর ও সংরক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রযুক্তিতে নতুন উপাদানের সম্ভাব্য ব্যবহারও তাঁর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে টোকিও মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব বায়োম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড বায়োইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিশেষ নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যুক্ত হন। একই বছরের অক্টোবরে টোকিও মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল ইউনিভার্সিটি ও টোকিও ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একীভূত হওয়ার মাধ্যমে ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিও প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে একই পদে তাঁর একাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওতে তাঁর গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জৈব উপাদান, পলিমার এবং নরম পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়। এর ফলে রসায়ন, উপাদানবিজ্ঞান, শক্তি প্রকৌশল ও ইলেকট্রনিক্সে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে আরও বিস্তৃত গবেষণাক্ষেত্রে কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়েছেন তিনি। জাহিদুল ইসলামের গবেষণার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, একটি উপাদান তৈরি থেকে শুরু করে তার গঠন, রাসায়নিক ও বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য নির্ণয় এবং বাস্তব প্রযুক্তিতে ব্যবহারের সম্ভাবনা পরীক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে কাজ করা। গবেষণার প্রয়োজনে তিনি ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ, স্ক্যানিং ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ, অ্যাটমিক ফোর্স মাইক্রোস্কোপ, রামান স্পেকট্রোস্কপি এবং এক্স রে ডিফ্র্যাকশনের মতো উন্নত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এসব প্রযুক্তির সাহায্যে ন্যানো উপাদানের গঠন ও বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম পর্যায়ে বিশ্লেষণ করা সম্ভব। তড়িৎ রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পরীক্ষামূলক পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রোকেমিক্যাল ইম্পিড্যান্স স্পেকট্রোস্কপি ও সাইক্লিক ভোল্টামেট্রি। ব্যাটারি, জ্বালানি কোষ এবং তড়িৎ অনুঘটনভিত্তিক প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত উপাদানের কার্যকারিতা মূল্যায়নে এসব পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গবেষণাপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রেও তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। জাপানের জে গ্লোবাল গবেষক তথ্যভান্ডারে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪১টি গবেষণা প্রকাশনার তথ্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রকাশনাগুলোর মধ্যে ন্যানো উপাদানভিত্তিক তড়িৎ রাসায়নিক সেন্সর, সামুদ্রিক জৈব উপাদান থেকে তৈরি কার্বনের মাধ্যমে শক্তি সংরক্ষণ এবং বিশেষ ধরনের পলিমার ন্যানোফাইবারের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা নিয়ে গবেষণা রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তাঁর সহগবেষকেরা বিশেষ ধরনের জৈব পলিমার ন্যানোফাইবার দিয়ে তৈরি জেল ও পাতলা স্তরের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা নিয়ে কাজ করেছেন। এই গবেষণার সঙ্গে টিস্যু পুনর্গঠনের মতো জৈব চিকিৎসা প্রযুক্তির সম্ভাব্য সম্পর্কও রয়েছে। বাংলাদেশে রসায়নে উচ্চশিক্ষা থেকে থাইল্যান্ডে স্নাতকোত্তর, এরপর জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরেট, একাধিক পোস্টডক্টরাল গবেষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা। ড. মোঃ জাহিদুল ইসলামের একাডেমিক পথচলায় রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গবেষণাক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা। নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর গবেষণাগোষ্ঠীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে শক্তি প্রযুক্তি, ন্যানো উপাদান, গ্রাফিনভিত্তিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও জৈব উপাদান নিয়ে গবেষণা, সব মিলিয়ে তাঁর কর্মজীবন বিস্তৃত হয়েছে বিজ্ঞানের একাধিক শাখায়। বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গন থেকে যাত্রা শুরু করে জাপানের আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিবেশে শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত হওয়ার এই পথচলা বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি গবেষকদের অবদানের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সূত্র: পাবলিকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে নতুন একটি চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে কর্মীদের ছাঁটাই তুলনামূলক কম, অন্যদিকে নতুন কর্মী নিয়োগের গতি ধীর হয়ে গেছে। ফলে চাকরি থাকা মানুষের জন্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলেও যারা নতুন চাকরি খুঁজছেন, তাদের জন্য প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে উঠছে। শ্রম বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বেকার ভাতার আবেদন ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার। আগের সপ্তাহের সংশোধিত সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার। টানা চার সপ্তাহ ধরে নতুন আবেদন ২ লাখের নিচে রয়েছে। এটি চাকরির বাজারে ছাঁটাই কম থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। তবে একই সময়ে নতুন নিয়োগের গতি দুর্বল। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মাত্র ২৯ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে, যা আগস্টের ১ লাখ ৩৩ হাজারের তুলনায় অনেক কম। আরেকটি বিষয় চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে যারা চাকরি খুঁজছেন, তাদের সংখ্যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থাৎ চাকরি হারানোর পর দ্রুত নতুন কাজে যোগ দেওয়া সবার জন্য সহজ হচ্ছে না। অন্যদিকে দক্ষ কর্মীর ঘাটতিও তৈরি হচ্ছে। নির্মাণ, বৈদ্যুতিক কাজ, প্লাম্বিং, যন্ত্রপাতি পরিচালনা ও কারিগরি পেশায় কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। বয়স বাড়ার কারণে অভিজ্ঞ কর্মীদের একটি অংশ অবসরে যাচ্ছে, আর অভিবাসন নীতির পরিবর্তনও কিছু খাতে কর্মী সরবরাহে প্রভাব ফেলছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক জরিপেও দেখা গেছে, চাকরি হারানোর আশঙ্কা কিছুটা কমেছে এবং চাকরি হারালে নতুন চাকরি পাওয়ার প্রত্যাশা সামান্য বেড়েছে। তবে একই সময়ে পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: এখন শুধু সাধারণ অফিসের চাকরির পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, বৈদ্যুতিক কাজ, যন্ত্রপাতি মেরামত, পরিবহন ও কারিগরি দক্ষতার চাকরিগুলোর দিকেও নজর দেওয়া যেতে পারে। তবে কোনো চাকরির জন্য আবেদন করার আগে নিয়োগদাতা ও বেতনের তথ্য যাচাই করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নতুন বেকার ভাতা চাওয়ার আবেদন কমেছে। তবে একই সময়ে নতুন চাকরি তৈরির গতি দুর্বল হয়ে পড়ায় দেশটির কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে নতুন বেকার ভাতা আবেদনের সংখ্যা কমে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদেরা এর আগে প্রায় ২ লাখ আবেদনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ফলে প্রকৃত সংখ্যা পূর্বাভাসের চেয়ে কিছুটা কম হয়েছে। নতুন আবেদন কমে যাওয়াকে শ্রমবাজারে বড় ধরনের ছাঁটাই না থাকার একটি লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চাকরির বাজারের পুরো চিত্র ইতিবাচক নয়। নতুন কর্মসংস্থান তৈরির গতি ধীর হয়ে যাওয়ায় চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি বেড়েছে মাত্র ২৯ হাজার। অর্থাৎ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের বর্তমান কর্মীদের ধরে রাখলেও নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এই পরিস্থিতি শ্রমবাজারে একটি ভিন্ন ধরনের প্রবণতা তৈরি করেছে। একদিকে বড় ধরনের ছাঁটাই তুলনামূলকভাবে কম, অন্যদিকে নতুন নিয়োগও আগের মতো দ্রুত হচ্ছে না। এর ফলে যারা নতুন চাকরি খুঁজছেন, তাদের চাকরি পেতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে। ধারাবাহিকভাবে বেকার ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যাতেও কিছুটা বৃদ্ধি দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে নিয়মিত বেকার ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ ১৬ হাজারে পৌঁছেছে। চাকরি খোঁজার সময়ও বেড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে বেকার থাকা ব্যক্তিদের নতুন চাকরি খুঁজে পেতে গড়ে ১১ সপ্তাহের বেশি সময় লেগেছে। অর্থনীতির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সংকেত, কারণ শ্রমবাজারে চাকরির সুযোগ থাকলেও নিয়োগের গতি কমে গেলে বেকার মানুষের কর্মসংস্থানে ফিরতে বেশি সময় প্রয়োজন হয়। অবসর গ্রহণের প্রবণতা, অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন খাতে নিয়োগের ধীরগতি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারকে প্রভাবিত করছে।তবে নতুন বেকার ভাতা আবেদন কমে যাওয়ায় এখনো ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের কোনো স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। বরং বর্তমান পরিস্থিতিকে কম ছাঁটাই এবং কম নিয়োগের শ্রমবাজার হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন চাকরি খুঁজছেন, কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করতে চাইছেন অথবা প্রশিক্ষণ শেষে চাকরিতে প্রবেশের চেষ্টা করছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য নিয়োগের গতি কমে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান, বেকারত্বের হার, মজুরি বৃদ্ধি এবং নতুন নিয়োগের তথ্য শ্রমবাজারের প্রকৃত অবস্থার আরও পরিষ্কার ধারণা দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে সেপ্টেম্বর মাসে আবারও ধীরগতির চিত্র দেখা গেছে। দেশটির নিয়োগদাতারা মাসটিতে মাত্র ২৯ হাজার নন-ফার্ম চাকরি যোগ করেছেন। একই সময়ে বেকারত্বের হার আগস্টের ৪ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। চাকরি সৃষ্টির এই সংখ্যা গত এক বছরের গড় মাসিক বৃদ্ধির তুলনায় বেশ কম। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের আগে ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪৫ হাজার নন-ফার্ম চাকরি বেড়েছিল। ফলে সেপ্টেম্বরে মাত্র ২৯ হাজার চাকরি যোগ হওয়া শ্রমবাজারের গতি কমে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। তবে সরকারি প্রতিবেদনে এটিও বলা হয়েছে যে সেপ্টেম্বর মাসে বড় বড় শিল্পখাতগুলোর বেশিরভাগেই কর্মসংস্থানে খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ এটি এমন কোনো প্রতিবেদন নয় যেখানে একসঙ্গে বিভিন্ন খাতে ব্যাপক চাকরি হারানোর চিত্র দেখা যাচ্ছে। বরং নতুন চাকরি তৈরির গতি তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়েছে। বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছালেও গত কয়েক মাসে এটি ৪ দশমিক ১ থেকে ৪ দশমিক ৩ শতাংশের একটি সংকীর্ণ সীমার মধ্যে রয়েছে। সেপ্টেম্বর শেষে প্রায় ৭ দশমিক ১ মিলিয়ন মানুষ বেকার ছিল বলে সরকারি তথ্য জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকায় চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে নতুন গ্র্যাজুয়েট, ক্যারিয়ার পরিবর্তন করতে চাওয়া কর্মী এবং যারা সম্প্রতি চাকরি হারিয়েছেন, তাদের নতুন চাকরি পেতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে। তবে সব খাতে একই পরিস্থিতি নয়। স্বাস্থ্যসেবা খাতে সেপ্টেম্বরেও কর্মসংস্থান বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রায় ১৭ হাজার চাকরি যোগ হয়েছে। এর মধ্যে বহির্বিভাগীয় স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতাল খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে, যদিও নার্সিং ও আবাসিক যত্নের কিছু প্রতিষ্ঠানে চাকরি কমেছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতের এই প্রবণতা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণের কারণে এই খাতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। ফলে সামগ্রিক শ্রমবাজার ধীর হলেও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশায় সুযোগ থাকতে পারে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের সংখ্যাও নজরে রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ২৭ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চাকরিহীন মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ছিল। মোট বেকার মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বেকারদের অংশ ছিল ২৭ দশমিক ১ শতাংশ। এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ দীর্ঘদিন বেকার থাকার ফলে একজন কর্মীর আর্থিক চাপ বাড়ার পাশাপাশি নতুন চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘ সময় চাকরি না থাকলে অনেকের সঞ্চয় কমে যায়, ঋণের চাপ বাড়ে এবং পরিবারের দৈনন্দিন খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও অন্যান্য বড় রাজ্যের উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে চাকরি হারানোর প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। বাড়িভাড়া, স্বাস্থ্যবীমা, গাড়ির কিস্তি, খাবার এবং শিশুদের দেখাশোনার খরচ অনেক পরিবারের বাজেটের বড় অংশ নিয়ে নেয়। বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও শ্রমবাজারের এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী কর্মীরা স্বাস্থ্যসেবা, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, নির্মাণ, খুচরা ব্যবসা, প্রযুক্তি, গুদাম ও বিভিন্ন সেবা খাতে কাজ করেন। কোনো খাতে নিয়োগ কমে গেলে এসব কর্মীর নতুন চাকরি খোঁজার সময় প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে পড়াশোনা করেছেন বলেই যুক্তরাষ্ট্রে ফান্ডিংসহ মাস্টার্স বা পিএইচডিতে আবেদনের পথ বন্ধ হয়ে যায় না। তবে ভর্তি ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সিদ্ধান্ত নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভাগের নির্ধারিত যোগ্যতা, আবেদনকারীর একাডেমিক প্রস্তুতি ও ফান্ডিংয়ের সুযোগের ওপর। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রকাশিত ভর্তি নির্দেশনায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রোগ্রামভিত্তিক শর্ত পূরণের কথা বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের কমিটি ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন কলেজে শিক্ষার্থীদের সুযোগ ও অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন করার প্রস্তুতিতে নিজের ডিগ্রি, ট্রান্সক্রিপ্ট এবং বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতার সঙ্গে নির্বাচিত প্রোগ্রামের শর্ত মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি নির্দেশনায় বিভিন্ন বিভাগের জন্য আলাদা একাডেমিক ফলাফল, সুপারিশপত্র, ব্যক্তিগত বিবৃতি ও অন্যান্য নথির শর্ত রয়েছে। ফলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ যোগ্যতা পূরণ করলেই তার সব মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির যোগ্যতা পূরণ হয়েছে, এমন ধরে নেওয়া যায় না। ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষাও প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট ভর্তি নির্দেশনায় আইইএলটিএসের ন্যূনতম স্কোর ৬.৫ উল্লেখ রয়েছে। তবে এই স্কোরকে যুক্তরাষ্ট্রের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অভিন্ন শর্ত মনে করা ঠিক হবে না। আবেদনকারীকে নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের হালনাগাদ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। একইভাবে জিআরই সব প্রোগ্রামে বাধ্যতামূলক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, তাদের কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে জিআরই বা জিম্যাট প্রয়োজন হয়। ভর্তির পাশাপাশি ফান্ডিংয়ের জন্যও আলাদা খোঁজ নেওয়া জরুরি। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও স্কলারশিপ সরাসরি বিভাগ থেকে দেওয়া হয়। রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ সম্পর্কে জানতে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ ভর্তির আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি বিভাগ কীভাবে ফান্ডিং দেয়, তার জন্য আলাদা আবেদন প্রয়োজন কি না এবং কোন সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হয়, সেসব বিষয়ও পরিষ্কার করা প্রয়োজন। অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ পেলেই সব ধরনের ব্যয় একইভাবে কভার হবে, এমন নয়। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫ থেকে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নির্দেশনায় সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার পূর্ণ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সঙ্গে স্টাইপেন্ড, টিউশন ওয়েভার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তুকিযুক্ত হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কথা রয়েছে। কম সময়ের নিয়োগে সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। তাই কোনো অফারকে ফুল ফান্ডেড হিসেবে বিবেচনা করার আগে টিউশন, অন্যান্য ফি, স্টাইপেন্ড, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং সহায়তার মেয়াদ লিখিত অফারে কীভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তা বুঝে নিতে হবে। প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আবেদনকারীর লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজের যোগ্যতার স্পষ্ট ও প্রমাণযোগ্য বিবরণ তৈরি করা। নির্বাচিত প্রোগ্রাম অনুযায়ী প্রজেক্ট, গবেষণার অভিজ্ঞতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আবেদনপত্রে তুলে ধরা যায়। তবে কোনো একজনের সিজিপিএ বা পরীক্ষার স্কোর দেখে একই ফল পাওয়ার নিশ্চয়তা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও কার্যকর সূচনা হলো উপযুক্ত প্রোগ্রাম খুঁজে তার ভর্তি ও ফান্ডিংয়ের শর্ত বোঝা, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা। সূত্র: scholarship funding with low CGPA
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য মেধাতালিকায় ১৭তম হয়েও নিয়োগপত্র পাননি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মিশন আচার্য। স্থায়ী ঠিকানায় নিজের নামে বসতভিটা না থাকার কারণে তাঁর নিয়োগ আটকে গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ৩০ বছর বয়সী মিশন আচার্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। এর আগে মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ এবং উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ-৪.৮৩ অর্জন করেন তিনি। দারিদ্র্য ও পারিবারিক প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে সরকারি চাকরির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন। মিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বাবা বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যান। এরপর তিনি মায়ের সঙ্গে ঝিনাইদহে ভাড়া বাসায় বড় হয়েছেন। তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাসনদে বর্তমান ঠিকানার তথ্য রয়েছে। এমনকি নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ওই ঠিকানায় পুলিশি যাচাইও হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে তাঁর উপজেলায় তিনি ১৭তম অবস্থান অর্জন করেন। মোট ১৮২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হলেও ১৮০ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন বলে মিশন জানিয়েছেন। বাকি দুজনের একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং অন্যজন তিনি নিজে। মিশনের অভিযোগ, নিজের নামে বসতভিটা না থাকার কারণেই তাঁর নিয়োগ আটকে আছে। তাঁর পরিস্থিতির সবচেয়ে আবেগঘন দিক হলো, যে তরুণ নিজের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে সরকারি চাকরির মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন, তাঁরই এখন ঠিকানা-সংক্রান্ত জটিলতায় চাকরির স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এদিকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরে সামগ্রিকভাবেও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সুপারিশ পাওয়ার পরও অনেক প্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৮১৭টি নিয়োগের বিষয় পর্যালোচনায় থাকার কথা জানানো হয়েছিল। তবে মিশন আচার্যের ব্যক্তিগত ঘটনা একটি বড় সামাজিক প্রশ্ন সামনে এনেছে—একজন চাকরিপ্রার্থীর মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি স্থায়ী ঠিকানার মতো বিষয় কতটা প্রভাব ফেলবে? এটি এখন শুধু একজন তরুণের চাকরি পাওয়ার গল্প নয়, বরং দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে শিক্ষিত হয়ে ওঠা একজন মানুষের স্বপ্নের গল্পও।
ফ্লোরিডায় ২০২৮ সালে হাইস্কুল শেষ করা শিক্ষার্থীদের ব্রাইট ফিউচারস স্কলারশিপ পেতে আগের ব্যাচের চেয়ে বেশি নম্বর লাগবে। অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগের আগস্টে হালনাগাদ করা নির্দেশিকায় দুটি প্রধান স্কলারশিপেরই এসএটি পরীক্ষার ন্যূনতম নম্বর বাড়ানো হয়েছে। পরিবর্তনটি ২০২৮ সালের গ্র্যাজুয়েটদের জন্য; ২০২৭ সালে হাইস্কুল শেষ করা শিক্ষার্থীদের নম্বরের শর্ত আগের মতোই রয়েছে। ফ্লোরিডা অ্যাকাডেমিক স্কলারস ক্যাটাগরিতে ২০২৮ সালের গ্র্যাজুয়েটদের এসএটিতে অন্তত ১৩৫০ পেতে হবে। ২০২৭ সালের গ্র্যাজুয়েটদের জন্য প্রয়োজন ১৩৩০। একই ক্যাটাগরিতে সিএলটি পরীক্ষার ন্যূনতম নম্বর ৯৫ থেকে ৯৬ হলেও এসিটির শর্ত ২৯-ই থাকছে। ফ্লোরিডা মেডালিয়ন স্কলারস ক্যাটাগরিতে এসএটির শর্ত ১১৯০ থেকে ১২০০, এসিটির শর্ত ২৪ থেকে ২৫ এবং সিএলটির শর্ত ৮২ থেকে ৮৩ হচ্ছে। অর্থাৎ ২০২৮ সালের শিক্ষার্থীদের জন্য সব পরীক্ষার নম্বরের শর্ত একই হারে বাড়েনি। তবে পরীক্ষার নম্বর পেলেই স্কলারশিপ নিশ্চিত হয় না। অ্যাকাডেমিক স্কলারসের জন্য নির্ধারিত কোর্সে ন্যূনতম ৩ দশমিক ৫০ এবং মেডালিয়ন স্কলারসের জন্য ৩ দশমিক ০০ ওয়েটেড জিপিএ প্রয়োজন। পাশাপাশি নির্ধারিত কোর্স, স্বেচ্ছাসেবা বা বেতনভুক্ত কাজের ঘণ্টা এবং আবেদনসংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হয়। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্কলারশিপ পেতে শিক্ষার্থীকে ফ্লোরিডার বাসিন্দা এবং মার্কিন নাগরিক অথবা যোগ্য অনাগরিকও হতে হবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো হাইস্কুল শেষ করার বছর অনুযায়ী শর্ত মিলিয়ে দেখা। ফ্লোরিডার সরকারি তথ্যপত্র অনুযায়ী, পরীক্ষার নম্বর অর্জন করতে হবে গ্র্যাজুয়েশনের বছরের ৩১ আগস্টের মধ্যে; বছরের মাঝামাঝি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য আলাদা সময়সীমা রয়েছে। একই বছরের ৩১ আগস্টের মধ্যে ফ্লোরিডা ফিন্যান্সিয়াল এইড আবেদনও জমা দিতে হয়।
কানাডায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ৩৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশটি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। একই সময়ে আরও ১ হাজার ৩৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক অপসারণ প্রক্রিয়ার আওতায় ছিলেন। কানাডার সরকারি সংস্থা কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)-এর ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। সিবিএসএর হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত কানাডা বিভিন্ন দেশের মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ জন বিদেশি নাগরিককে অপসারণ করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ৩৪০। নাগরিকত্বের হিসাবে এই সময়ে ভারতীয় ৪ হাজার ২২৭ জন, মেক্সিকোর ২ হাজার ২৮২ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৬০১ জনকে অপসারণ করা হয়েছে। তবে আলোচনার বড় বিষয় হলো, অপসারণ প্রক্রিয়ায় থাকা ১ হাজার ৩৬৮ বাংলাদেশি। এই সংখ্যা এমন নয় যে সবাইকে ইতোমধ্যে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে বা সবাইকে শিগগিরই বাংলাদেশে পাঠানো হবে। সিবিএসএর ভাষায়, ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এর মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে কাজ করা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কাছ থেকে ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহের মতো বিষয়ও থাকতে পারে। কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় কোনো বিদেশি নাগরিকের দেশে প্রবেশ বা অবস্থানের আইনগত অধিকার না থাকলে তাকে অপসারণের প্রক্রিয়ায় নেওয়া হতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপসারণ আদেশ থাকলেই তাকে সঙ্গে সঙ্গে দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায় না। সিবিএসএ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনি সুযোগ ও প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই অপসারণ কার্যকর করা হয়। আদালতের স্থগিতাদেশ, প্রি-রিমুভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট, ফৌজদারি মামলা, কারাদণ্ড কিংবা ভ্রমণ নথি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপসারণ বিলম্বিত হতে পারে। সংবাদে সাধারণভাবে ‘বহিষ্কার’ শব্দটি ব্যবহার করা হলেও কানাডার সরকারি পরিসংখ্যানে ‘removal’ বা অপসারণ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অপসারণ আদেশ রয়েছে।২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে কানাডায় কার্যকর হওয়া মোট ১৪ হাজার ৮৯৭টি অপসারণের মধ্যে ৮ হাজার ৫৭৭টি ছিল ডিপোর্টেশন অর্ডার, ৩ হাজার ১৭টি এক্সক্লুশন অর্ডার এবং ৩ হাজার ৩০৩টি ডিপার্চার অর্ডারের আওতায়। অর্থাৎ, ৩৪০ বাংলাদেশির সবাই একই ধরনের আদেশের ভিত্তিতে অপসারিত হয়েছেন—এমন তথ্য সরকারি নাগরিকত্বভিত্তিক পরিসংখ্যানে নেই। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে নাগরিকত্বের হিসাবে সবচেয়ে বেশি অপসারণ হয়েছে ভারতের নাগরিকদের। এরপর রয়েছে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, কলম্বিয়া ও হাইতির নাগরিকরা। বাংলাদেশের ৩৪০ জনের অবস্থান এই তালিকায় সপ্তম। অন্যদিকে, অপসারণ প্রক্রিয়ায় থাকা ৪৯ হাজার ৫৩৬ জনের নাগরিকত্বভিত্তিক তালিকায় ভারতীয় নাগরিক ১০ হাজার ২৯৫ জন নিয়ে সর্বোচ্চ। এরপর মেক্সিকো ৬ হাজার ১০২, নাইজেরিয়া ২ হাজার ৫৮৫, চীন ১ হাজার ৯০৫, যুক্তরাষ্ট্র ১ হাজার ৬৫৫, পাকিস্তান ১ হাজার ৫১৯, কলম্বিয়া ১ হাজার ৪২৮ এবং বাংলাদেশ ১ হাজার ৩৬৮ জন। সাম্প্রতিক বছরগুলোর পরিসংখ্যানেও কানাডায় অপসারণ কার্যক্রম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়। সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মোট ১৫ হাজার ২৩১ জন, ২০২৪ সালে ১৭ হাজার ৩৯৭ জন এবং ২০২৫ সালে ২৩ হাজার ১৬০ জনকে অপসারণ করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের মাত্র প্রথম আট মাসেই সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮৯৭ জনে। তবে বছরের বিভিন্ন সময়ে পরিসংখ্যান পরিবর্তিত হতে পারে এবং বর্তমানে ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের অবস্থাও পরবর্তীতে বদলাতে পারে। সিবিএসএ নিজেই জানিয়েছে, একজন ব্যক্তির অবস্থা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে এবং তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইনভেন্টরিতে থাকতে পারেন। ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ৩৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিক কানাডা থেকে অপসারিত হয়েছেন এবং আরও ১ হাজার ৩৬৮ জনের অপসারণ প্রক্রিয়া চলমান ছিল। তবে এই ১ হাজার ৩৬৮ জনের সবাই যে একই কারণে বা একই সময়ে কানাডা ছাড়বেন, এমন কোনো তথ্য সরকারি পরিসংখ্যানে নেই।
নিউইয়র্ক সিটিতে সরকারি চাকরি খুঁজতে আগ্রহীদের জন্য ম্যানহাটনে ‘জবস এনওয়াইসি সেন্টার’ চালু করেছে সিটি প্রশাসন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মেয়র জোহরান মামদানি ২ লাফায়েত স্ট্রিটে সেন্টারটির উদ্বোধন করেন। নিয়মিত ওয়াক-ইন সেবা শুরু হবে ৫ অক্টোবর। সিটি মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, চাকরিপ্রার্থীরা সেখানে খালি পদ খুঁজতে, আবেদনপত্র প্রস্তুত করতে এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রক্রিয়া বুঝতে সহায়তা পাবেন। নিয়োগ দিচ্ছে এমন সিটি এজেন্সির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগও থাকবে। সেন্টারটিতে চাকরিমেলা, এজেন্সিগুলোর নিয়োগ কার্যক্রম, ক্যারিয়ারবিষয়ক ওয়ার্কশপ ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। সরকারি চাকরির সুযোগ ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নেটওয়ার্কিং ইভেন্টও হবে। নিউইয়র্ক সিটির স্মল বিজনেস সার্ভিসেস এবং ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস যৌথভাবে সেন্টারটি তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা সিটির একটি জায়গাকে চাকরিপ্রার্থীদের সেবায় ব্যবহার করা হচ্ছে। সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে ‘জবস এনওয়াইসি’ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা বিভাগ, এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালস এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কসহ ৪৭টি সিটি এজেন্সি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগে সহায়তা পেয়েছে। নতুন সেন্টারটি সেই উদ্যোগের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে কাজ করবে। সেন্টার উদ্বোধনের সময় মেয়র মামদানি বলেন, সরকারি চাকরিতে যাওয়ার পথ বুঝতে মানুষের অসুবিধা হওয়া উচিত নয়। নতুন সেন্টার চাকরিপ্রার্থীদের উপযুক্ত সুযোগ খুঁজতে এবং নিয়োগের শর্ত বুঝতে সহায়তা করবে।
চাকরির ইন্টারভিউ ও নিয়োগ পরীক্ষাকেই সাইবার হামলার ফাঁদে পরিণত করেছে উত্তর কোরিয়া-সংশ্লিষ্ট ‘ওয়াটারপ্লাম’ নামের একটি হ্যাকিং গ্রুপ। ভুয়া নিয়োগকারী বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ে আইটি পেশাজীবীদের চাকরির প্রস্তাব দিয়ে ইন্টারভিউ, কোডিং পরীক্ষা কিংবা সফটওয়্যার সমস্যা সমাধানের নামে ক্ষতিকর ফাইল ও কোড চালাতে প্রলুব্ধ করছে তারা। এতে কম্পিউটারে ম্যালওয়্যার ঢুকে চুরি হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ক্রিপ্টোকারেন্সি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট সাইবার ক্রাইম সেন্টার, জাপানের ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সি, অস্ট্রেলিয়ার সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং জার্মানির সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ১৮ সেপ্টেম্বর যৌথভাবে এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ‘ওয়াটারপ্লাম’কে ‘কনটেজিয়াস ইন্টারভিউ’ নামেও শনাক্ত করা হয়। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এই কার্যক্রমে ১০০টির বেশি দেশে অন্তত ৩০ হাজার ডিভাইস আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে ৭ হাজারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট থেকে অর্থ বা অ্যাকাউন্টের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর হিসাবে, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অন্তত ১.৭ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ১০.৭১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি উত্তর কোরিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে। মূলত সফটওয়্যার ডেভেলপার, ওয়েব ডিজাইনার, ইঞ্জিনিয়ার এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি, ব্লকচেইন ও ওয়েব৩ খাতের বিশেষজ্ঞরা এই হামলার প্রধান লক্ষ্য। হ্যাকাররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন চাকরির প্ল্যাটফর্ম, গিগ-ওয়ার্ক সেবা ও ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা এনএফটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকারী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার ঘটনাও শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। ফাঁদের পরের ধাপটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। ভুয়া ইন্টারভিউ বা টেকনিক্যাল অ্যাসাইনমেন্টের সময় প্রার্থীকে কোনো কোড চালানো, ফাইল ডাউনলোড করা, সফটওয়্যারের সমস্যা সমাধান করা কিংবা নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম ইনস্টল করতে বলা হয়। কিন্তু এসব নির্দেশনার আড়ালে থাকতে পারে ক্ষতিকর কোড। সেটি চালানোর পর ম্যালওয়্যার আক্রান্ত কম্পিউটারে প্রবেশ করে এবং হ্যাকাররা লগইন তথ্য, সংবেদনশীল নথি ও ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত তথ্য চুরি করতে পারে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, আক্রান্ত ডিভাইসের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর কর্মস্থল বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে প্রবেশের সুযোগও তৈরি হতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত কম্পিউটার আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানের তথ্য, মেধাস্বত্ব বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই ধরনের প্রতারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফেস-সোয়াপ প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও আগে থেকেই এফবিআইয়ের নজরে রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া-সংশ্লিষ্ট কিছু আইটি কর্মী ভিডিও ইন্টারভিউতে নিজেদের প্রকৃত পরিচয় আড়াল করতে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। ফলে শুধু ভিডিও কলে প্রার্থীর চেহারা দেখেই পরিচয় নিশ্চিত না করে অতিরিক্ত যাচাইয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিশেষ করে আইটি চাকরিপ্রার্থীদের সতর্ক থাকতে বলেছে। অচেনা নিয়োগকারীর পাঠানো কোড, ফাইল বা সফটওয়্যার নিজের মূল কম্পিউটারে চালানোর আগে তার উৎস যাচাই করা জরুরি। একইভাবে কোনো চাকরির প্রস্তাবে অস্বাভাবিকভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ পরিশোধ, অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট ব্যবহার কিংবা পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্যে অসঙ্গতি থাকলে বাড়তি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এফবিআইয়ের সাইবার সতর্কতা তালিকাতেও ‘ওয়াটারপ্লাম’ বা ‘কনটেজিয়াস ইন্টারভিউ’ নিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বরের যৌথ সতর্কবার্তাটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংস্থাগুলোর মতে, চাকরির স্বাভাবিক নিয়োগপ্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশের এই কৌশল আইটি পেশাজীবী ও নিয়োগদাতা—দুই পক্ষের জন্যই নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। Source: এফবিআই, মার্কিন ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট সাইবার ক্রাইম সেন্টার
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা শেষ করেও চাকরির বাজারে জায়গা করে নিতে পারছেন না বিপুলসংখ্যক তরুণ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশের মাধ্যমিক-পরবর্তী শিক্ষা পাওয়া ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী শ্রমশক্তির প্রায় ৩৬ শতাংশ বেকার। অর্থাৎ এই শ্রেণির চাকরিপ্রত্যাশী প্রতি ১০০ তরুণের মধ্যে প্রায় ৩৬ জন কাজ পাচ্ছেন না। আইএমএফের সেপ্টেম্বর ২০২৬ সংখ্যার Finance & Development সাময়িকীতে প্রকাশিত বিশ্লেষণে এশিয়ার তরুণদের কর্মসংস্থানের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, বাংলাদেশের সামগ্রিক তরুণ বেকারত্বের হার প্রায় ১০ শতাংশ হলেও মাধ্যমিক-পরবর্তী শিক্ষাপ্রাপ্ত তরুণদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৩৬ শতাংশ। পরিস্থিতির পেছনে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে শিক্ষা ও চাকরির বাজারের চাহিদার অসামঞ্জস্য। আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের অনেকেই তাঁদের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য উদ্ধৃত করে গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশে বেকারের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৬ লাখ ২৪ হাজার। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী বেকারের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ ৩২ হাজার। বেকারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উচ্চশিক্ষিত। চাকরির বাজারে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতির সঙ্গে শিক্ষিত তরুণের সংখ্যা বৃদ্ধির ব্যবধানও সমস্যাটিকে জটিল করছে। বিডিজবসের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুরের হিসাবে, বছরে প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ তরুণ বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন; তাঁদের মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত লাখ বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক। কিন্তু নতুন শিল্প ও উচ্চদক্ষতার চাকরি একই গতিতে তৈরি হচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। আইএমএফের পৃথক বাংলাদেশ প্রতিবেদনে একই ধরনের কাঠামোগত সমস্যার কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, শিক্ষার হার বাড়লেও উচ্চ উৎপাদনশীল খাতে সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান বাড়েনি। ২০২৪ সালের তথ্য ব্যবহার করে ওই প্রতিবেদনে উচ্চশিক্ষিত ১৫–২৯ বছর বয়সীদের বেকারত্ব প্রায় ২৫ শতাংশ দেখানো হয়েছে—যা ভিন্ন বয়সসীমা ও শিক্ষার সংজ্ঞার কারণে ১৫–২৪ বছর বয়সীদের ৩৬ শতাংশ হিসাবের সঙ্গে সরাসরি তুলনীয় নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে আইএমএফ সতর্ক করেছে। প্রযুক্তি উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করলেও দক্ষতা উন্নয়নের চেয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত এগোলে তরুণ কর্মীদের ওপর চাকরির বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষাকে নিয়োগদাতাদের প্রয়োজনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক তুলনায় পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশের নয়। আইএমএফের হিসাবে একই শ্রেণির শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব শ্রীলঙ্কায় প্রায় ৪৩ শতাংশ, আর ভারতেও হার ৪০ শতাংশের ওপরে। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের তুলনায় বাংলাদেশের হার বেশি।
মুম্বাইয়ের কুরলার বস্তিতে মাত্র ৮ বাই ১০ ফুটের একটি ঘরে মায়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠা জয়কুমার বৈদ্য আজ নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে কাজ করছেন। শৈশবে অর্থাভাবে স্কুলের বেতন দিতে না পারায় একসময় তার পরীক্ষার ফল আটকে রাখা হয়েছিল। সংসারের খরচ ও নিজের পড়াশোনা চালাতে টেলিভিশন মেরামতের কাজও করেছেন তিনি। পরে সেই জয়কুমারই রোবোটিকসে তিনটি জাতীয় ও চারটি রাজ্য পর্যায়ের পুরস্কার জিতে বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের জগতে নিজের জায়গা করে নেন। জয়কুমারের শৈশব কেটেছে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে। তার মা একাই সংসারের দায়িত্ব সামলাতেন। স্কুলের বেতন দিতে না পারার সময়গুলোতে পরিবারের ওপর চাপ আরও বাড়ত। পড়াশোনা চালিয়ে যেতে জয়কুমার টেলিভিশন মেরামতের দোকানে কাজ করে মাসে প্রায় ৪ হাজার রুপি আয় করতেন। পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদের পড়াতেন এবং বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ করতেন। তবে অর্থের অভাব তার পড়াশোনার আগ্রহ থামাতে পারেনি। মুম্বাইয়ের কেজে সোমাইয়া কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। শিক্ষাজীবনেই রোবোটিকসে তিনটি জাতীয় পর্যায়ের এবং চারটি রাজ্য পর্যায়ের পুরস্কার পান। এরপর তিনি লারসেন অ্যান্ড টুব্রোতে শিক্ষানবিশির সুযোগও পান। ২০১৬ সালে জয়কুমার ভারতের টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চে জুনিয়র গবেষণা ফেলো হিসেবে যোগ দেন। সেখানে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র উপাদান তৈরি ও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গঠন নিয়ে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন তিনি। নাসার জীবনীতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করেছেন এবং উচ্চ তাপমাত্রার অতিপরিবাহীসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গঠন নিয়ে কাজ করেছেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ায় স্নাতকোত্তর গবেষক হিসেবে কাজ শুরু করেন জয়কুমার। ২০২১ সালে সেখান থেকে তড়িৎ প্রকৌশলে প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে অর্ধপরিবাহী তৈরির প্রযুক্তি ও পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেন তিনি। নাসার সঙ্গে তার যাত্রাও শুরু হয় গবেষণার ধারাবাহিকতায়। নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে তিনি প্রথমে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের একটি প্রকল্পে এক্স-রে দূরবীক্ষণযন্ত্রের জন্য বিশেষ ধরনের পাতলা স্তরের উপাদান তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন। বর্তমানে তিনি গ্রহের বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণে ব্যবহৃত চতুর্মেরু ভর বর্ণালিমাপক তৈরির সঙ্গে যুক্ত। নাসার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জয়কুমার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের গ্রহীয় পরিবেশ গবেষণাগারে ভূমি সহায়তা সরঞ্জাম প্রকৌশল বিভাগের প্রধান এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা পরিচালনা বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বিভিন্ন মহাকাশ মিশনের জন্য ভর বর্ণালিমাপকের মান নির্ধারণ, ভূমি ব্যবস্থা এবং পরিচালনাগত প্রস্তুতির দায়িত্বে রয়েছেন। তার কাজের সঙ্গে মঙ্গলগ্রহ ও চাঁদসহ সৌরজগতের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক মিশনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডল ও উর্ধ্ববায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণ মিশনের একটি যন্ত্রের সঙ্গেও কাজ করেছেন, যা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের নিরপেক্ষ গ্যাস ও আয়নের গঠন পরিমাপে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি পৃথিবীর ওপরের বায়ুমণ্ডল ও আয়নমণ্ডল নিয়ে গবেষণার জন্য তৈরি একটি মিশনের যন্ত্রের ভূমি সহায়তা ও পরিচালনাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। যে ছেলেটির পরিবারের জন্য একসময় স্কুলের বেতন জোগাড় করাই কঠিন ছিল, সেই জয়কুমার বৈদ্য এখন মহাকাশবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র তৈরির কাজে যুক্ত। তার জীবনের পথচলা দেখিয়েছে, আর্থিক সংকট শিক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ালেও সুযোগ ও অধ্যবসায় থাকলে সেখান থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণায়ও জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।
গুগলে বছরে ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের চাকরি করেও ৩৭ বছর বয়সে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন ফ্লোরেন্স পয়রেল। চাকরি ছাড়ার সময় তার সঞ্চয় ছিল প্রায় ১৫ লাখ ডলার। ২০২৪ সালের এপ্রিলে চাকরি ছেড়ে তিনি নিজের ভাষায় ‘স্বল্পমেয়াদি অবসর’ শুরু করেন। চাকরি ছাড়ার প্রায় দেড় বছর পরও তিনি আবার পূর্ণকালীন কাজে ফিরবেন কি না, তা নিশ্চিত ছিলেন না। ফ্লোরেন্স সুইজারল্যান্ডে তার সঙ্গী জানের সঙ্গে থাকেন। জান তার চেয়ে ১৭ বছরের বড় এবং তিনিও গুগলে কাজ করতেন। দুজন একই সময়ে চাকরি থেকে সরে দাঁড়ান। ২০১৮ সালে জানের সঙ্গে পরিচয়ের পর ফ্লোরেন্স আর্থিক স্বাধীনতা নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে শুরু করেন। তিনি উপলব্ধি করেন, অবসর নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করলে জান তখন আরও অনেক বেশি বয়সী হয়ে যাবেন। তাই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় একসঙ্গে কাটানোর জন্য আগেই কাজ থেকে বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফ্লোরেন্স সবসময়ই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক ছিলেন। তিনি আয়ের বড় একটি অংশ সঞ্চয় করতেন, খুব কমই বাইরে খেতে যেতেন এবং বিনোদনে বেশি অর্থ ব্যয় করতেন না। ভ্রমণের ক্ষেত্রেও তিনি তুলনামূলক কম খরচের উড়োজাহাজ বেছে নিতেন এবং সাধারণ মানের হোটেলে থাকতেন। পরে পরিবেশ ও টেকসই জীবনযাপন নিয়ে জানার পর তিনি নিরামিষভোজী হন এবং কোনো পণ্য কেনার সময় সেটির পরিবেশগত ও নৈতিক প্রভাব নিয়েও ভাবতে শুরু করেন। কোনো কিছু কেনার আগে ফ্লোরেন্স নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করেন। পণ্যটি তার সত্যিই প্রয়োজন কি না, ভবিষ্যতে সেটি বর্জ্য হয়ে যাবে কি না, ব্যবহৃত পণ্য হিসেবে সেটি পাওয়া যায় কি না, সেটি প্রাণিজ উপাদানমুক্ত কি না, নৈতিকভাবে উৎপাদিত হয়েছে কি না এবং পণ্যটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য কি না, সেসব বিষয় বিবেচনা করেন তিনি। তার মতে, অর্থ খরচ করা হোক বা না হোক, ভালো কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে অর্থ মানুষের ক্ষমতা বাড়াতে পারে। চাকরি ছাড়ার সময় ফ্লোরেন্সের ব্যাংকে প্রায় ১৫ লাখ ডলার সঞ্চয় ছিল। এই অর্থের কারণে দীর্ঘ সময় কাজ থেকে দূরে থাকার বিষয়ে তিনি আর্থিকভাবে স্বস্তি অনুভব করেন। সুইজারল্যান্ড বিশ্বের ব্যয়বহুল দেশগুলোর একটি হলেও তিনি সেখানে সাধারণ জীবনযাপন করছেন। হাঁটা, জুরিখ হ্রদে সাঁতার কাটা এবং বাড়িতে রান্না করার মতো কাজেই তিনি সময় কাটাচ্ছেন। ফ্লোরেন্স জানান, এখন তিনি কোনো কিছু কেনার ক্ষেত্রে পরিমাণের চেয়ে প্রয়োজন ও মানকে বেশি গুরুত্ব দেন। ভালোভাবে তৈরি এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায় এমন পণ্যের জন্য তিনি বেশি অর্থ খরচ করতেও রাজি। তার মতে, বিষয়টি সবকিছু বাদ দেওয়া নয়, বরং আরও সচেতনভাবে প্রয়োজনীয় জিনিস বেছে নেওয়া। কেনাকাটাকে তিনি কখনো মানসিক স্বস্তি পাওয়ার উপায় হিসেবে দেখেননি। বরং তার কাছে কেনাকাটা বিরক্তিকর ও চাপের বিষয়। দীর্ঘদিন অর্থ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মাধ্যমে আর্থিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার পর ৩৭ বছর বয়সেই তিনি উচ্চ বেতনের চাকরি থেকে সরে দাঁড়িয়ে নিজের সময়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সূত্র: সিএনবিসি
বাংলাদেশি তরুণী বৃষ্টি শিকদারের সাফল্যের গল্প শুরু হয়েছিল স্কুলজীবনে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে। ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের পর তিনি বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নজরে আসেন। পরে হার্ভার্ড, এমআইটি, স্ট্যানফোর্ড, ক্যালটেক, কর্নেল, ডিউক ও কেমব্রিজসহ ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটিকে বেছে নেন তিনি। বৃষ্টি শিকদার ২০০৮ সালে প্রোগ্রামিং শুরু করেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার অনুপ্রেরণা থেকেই ধীরে ধীরে প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ গভীর হয়। ২০১২ সালের আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে তিনি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। ২০১৩ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডেও ব্রোঞ্জ পদক পান। একই বছর জাতীয় ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে চ্যাম্পিয়ন এবং বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডে রানারআপ হন। আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডের সরকারি তথ্যেও ২০১২ সালের তাঁর ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় বৃষ্টি ১৮টি বিদেশি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে ১৪টি থেকে ভর্তির সুযোগ পান বলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হার্ভার্ড, প্রিন্সটন ও অক্সফোর্ডসহ বিভিন্ন শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রথম আলোর প্রতিবেদনে হার্ভার্ড, এমআইটি, স্ট্যানফোর্ড, ক্যালটেক, ডিউক ও কেমব্রিজের নামও এসেছে। শেষ পর্যন্ত তিনি এমআইটিতে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করেন। এমআইটিতে পড়ার সময়ও থেমে থাকেননি বৃষ্টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বছরেই গুগলে ইন্টার্নশিপ করেন। এরপর ২০১৬ সালে কুয়েরা, ২০১৭ সালে ব্রিজওয়াটার এবং ২০১৮ সালে লন্ডনে গুগল ডিপমাইন্ডে ইন্টার্নশিপ করেন। গুগল ট্রান্সলেটের একটি দলে কাজ করার সময় ছবির ভেতরের তথ্যকে লিখিত টেক্সটে রূপান্তরের প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করেন তিনি। এমআইটি থেকে স্নাতক হওয়ার পর বৃষ্টি রুব্রিকে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন। সেখানে ডিস্ট্রিবিউটেড ফাইল সিস্টেম নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা পরে গুগলের চাকরির ইন্টারভিউতেও তাঁকে সহায়তা করে। ২০২২ সালের প্রথম আলোর সাক্ষাৎকারে বৃষ্টি জানান, তিনি প্রথমে গুগলের এল-ফোর পদের জন্য ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন। তাঁর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পরে এল-ফাইভ পদের জন্যও ইন্টারভিউ দেওয়ার সুযোগ পান এবং শেষ পর্যন্ত জ্যেষ্ঠ সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান। নারীদের প্রযুক্তি খাতে অংশগ্রহণ বাড়াতেও কাজ করেছেন বৃষ্টি। ২০২০ সালে তিনি ‘জার্নিজ ইন টেক’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম শুরু করেন, যেখানে প্রযুক্তি খাতে সফল বাংলাদেশি নারীদের অভিজ্ঞতা ও ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা করা হতো। তাঁর মতে, অনেক মেয়েই নিজেদের সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান থাকে এবং ব্যর্থতার ভয় তাদের বড় সুযোগ নেওয়া থেকে পিছিয়ে দেয়। সাম্প্রতিক একটি পেশাগত প্রোফাইলেও বৃষ্টিকে গুগলের জ্যেষ্ঠ সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি গুগলে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। ফলে ২০২২ সালের তথ্যের পরও তাঁর গুগলে জ্যেষ্ঠ সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করার সাম্প্রতিক প্রমাণ পাওয়া যায়। বৃষ্টির এই পথচলায় একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের সাফল্য রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে এমআইটির মতো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা, বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ এবং গুগলে জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার দৃষ্টান্ত। তাঁর গল্প বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সম্ভাবনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: প্রথম আলো
একসময় পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থতা, ভর্তি পরীক্ষায় একের পর এক প্রত্যাখ্যান আর বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনেও ধারাবাহিক রিজেকশন। সেই ইমরানই এখন যুক্তরাষ্ট্রের নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে কাজ করছেন। ইমরানের নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, স্কুলজীবন থেকেই ব্যর্থতার সঙ্গে তার পরিচয়। চতুর্থ শ্রেণিতে গণিতে ১৩ নম্বর পেয়ে ফেল করা দিয়ে শুরু। পরে হাইস্কুলে গণিত ও ইংরেজিতে একাধিকবার ফেল করেন। নবম শ্রেণিতে স্কুলও বদলাতে হয়। এসএসসিতে পান ৩.৫৬ জিপিএ। এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে ছিলেন মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থীর একজন। পরীক্ষায় প্রায়ই সেই পাঁচজনের মধ্যে চতুর্থ হতেন। এরপর মেডিকেল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় একের পর এক ব্যর্থতা আসে। শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগে ভর্তি হন। সেখানেও থেমে থাকেননি। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য ১০ বারের বেশি চেষ্টা করেন। আইএসএসবিতে অংশ নেন দুইবার, দুবারই রেড কার্ড পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার পদেও চারবার আবেদন করে সফল হননি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্ল্যানেটারি সায়েন্স পড়ার স্বপ্ন দেখেন। সেই পথও সহজ ছিল না। দুইবার জিআরই, দুইবার আইইএলটিএস এবং দুইবার টোফেল দেওয়ার পর ২০১৬ সালে ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রত্যাখ্যাত হন। পরের বছর আরও পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসে রিজেকশন। তবু ব্যর্থতাকে শেষ বলে মেনে নেননি ইমরান। শেষ পর্যন্ত অবার্ন ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশিপ নিয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস থেকে স্পেস ও প্ল্যানেটারি সায়েন্সে পিএইচডি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে কাজ করছেন। নাসার বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও মহাকাশ গবেষণা কার্যক্রমে জেপিএল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রকাশ্য বৈজ্ঞানিক নথিতেও ইমরানের জেপিএলের সঙ্গে গবেষণামূলক কাজের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। তার এই পথচলা দেখায়, একের পর এক ব্যর্থতা কোনো মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয় না। যে ফলাফলগুলো একসময় তাকে নিজেকেই ব্যর্থ মনে করাত, সেগুলোই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে আরও বড় লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথে অভিজ্ঞতা। ইমরানের গল্প তাই শুধু নাসায় কাজ করার গল্প নয়, বরং বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার এক দীর্ঘ যাত্রার গল্প।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ২ দশমিক ৫৭ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক শেষ করেছিলেন আরমান সাইকট। সাধারণ ধারণা অনুযায়ী, এমন ফলাফল নিয়ে উচ্চশিক্ষার বড় সুযোগ পাওয়া কঠিন। কিন্তু সেই ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করে দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সপেরিমেন্টাল কোয়ান্টাম রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে পূর্ণ অর্থায়নে ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডি প্রোগ্রামে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। আরমানের এই অর্জনের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে একাডেমিক ফলাফলের বাইরে গবেষণায় তার দীর্ঘ প্রস্তুতি। স্নাতক শেষ করার পর তিনি প্রায় ১৪ মাস গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এ সময় গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন এবং কোয়ান্টাম বিজ্ঞানে নিজের দক্ষতা ও আগ্রহ তৈরি করেন। তবে এই সুযোগ একবারে আসেনি। গবেষণার সুযোগ ও পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য তিনি প্রায় ১০০ জন অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ইমেইল পাঠানো, প্রত্যাখ্যান সামলানো এবং নতুন সুযোগ খুঁজে যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পান তিনি। আরমানের যাত্রা দেখাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই একজন শিক্ষার্থীর পুরো ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। গবেষণার অভিজ্ঞতা, নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা, শেখার আগ্রহ, মেন্টরশিপ এবং দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য তার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা দিচ্ছে। সিজিপিএ প্রত্যাশার চেয়ে কম হলেও গবেষণার কাজ, প্রকাশনা, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা দিয়ে নিজের প্রোফাইল শক্তিশালী করার সুযোগ থাকে। আরমান সাইকটের কোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়। এটি এমন শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ, যারা তুলনামূলক কম সিজিপিএর কারণে নিজেদের একাডেমিক ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। তার পথচলা অন্তত এটুকু স্পষ্ট করে, একটি ট্রান্সক্রিপ্ট একজন শিক্ষার্থীর সম্ভাবনার পুরো গল্প বলে না। লক্ষ্য, গবেষণার দক্ষতা, কৌতূহল এবং বারবার চেষ্টা করার মানসিকতাও ভবিষ্যতের দরজা খুলে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।