সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: মাটিচাপা দেওয়ার পরও ১০ দিন ধরে চাওয়া হচ্ছিল মুক্তিপণ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ৩:৪৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সাইপ্রাসে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ ওরফে ইমনকে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির লারনাকা শহরের একটি এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, নিখোঁজ হওয়ার রাতেই তাকে হত্যা করা হয়েছিল। এরপর লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হলেও তার মুঠোফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে দিনের পর দিন মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল।

 

নিহত শাহরিয়ার আহমেদ (২২) নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার লোচনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গ্রিসপ্রবাসী নাসির মিয়ার ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে শাহরিয়ার ছিলেন সবার বড়। পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় মাত্র তিন মাস আগে শিক্ষার্থী ভিসায় সাইপ্রাসে যান তিনি। সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগ খুঁজছিলেন।

 

পারিবারিক সূত্র ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১১ জুন স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে মায়ের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেন শাহরিয়ার। তিনি জানান, একটি চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে এবং সেদিন রাতেই কাজে যোগ দেবেন। নতুন কাজ পাওয়ার খবরটি তিনি তার বাবা এবং একই এলাকার বাসিন্দা ও রুমমেট রায়হান মিয়াকেও জানিয়েছিলেন।

সেদিন রাত ৯টার দিকে কাজের স্থানে পৌঁছে রুমমেটকে নিজের অবস্থানের তথ্য পাঠান শাহরিয়ার। এরপর থেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

 

কিছু সময় পর তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে পরিবারের কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে দাবি করা হয়, শাহরিয়ারকে অপহরণ করা হয়েছে এবং তাকে ফিরে পেতে ৩৫ হাজার ইউরো দিতে হবে। শুরুতে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে পারেননি। তাদের ধারণা ছিল, হয়তো তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে।

 

কিন্তু পরদিন সকালেও শাহরিয়ার বাসায় না ফেরায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। রুমমেট রায়হান স্থানীয় থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ তার পাঠানো সর্বশেষ অবস্থানের তথ্য অনুসরণ করে অনুসন্ধান চালালেও প্রথমদিকে কোনো সাফল্য পায়নি।

এদিকে প্রতিদিনই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছিল এবং অর্থ দাবি করা হচ্ছিল। শাহরিয়ারের ব্যবহৃত নম্বরটি সারাক্ষণ সক্রিয় থাকায় পরিবার শেষ পর্যন্ত তাকে জীবিত উদ্ধারের আশায় আলোচনায় বসে। একপর্যায়ে দাবি করা অর্থ কমিয়ে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকায় সমঝোতার চেষ্টা করা হয়।

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, অর্থ পাঠানোর প্রস্তুতির মধ্যেই তারা জানতে পারেন যে সাইপ্রাস পুলিশ শাহরিয়ারের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

সাইপ্রাস পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, নিখোঁজ হওয়ার রাতেই শাহরিয়ারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ লারনাকার কোফিনু এলাকার একটি স্থানে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। গত রোববার সেখানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

 

এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে সাইপ্রাস পুলিশ। স্বজনদের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মরদেহ এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনো ঘটনার সব তথ্য প্রকাশ করেনি।

 

শাহরিয়ারের পরিবার জানায়, বিদেশে পড়াশোনার খরচ চালাতে প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হতো। পরিবারের ওপর চাপ কমাতে তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি একটি চাকরি খুঁজছিলেন। নতুন কাজ পাওয়ার আনন্দ নিয়ে যে তরুণ সেদিন রাতে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার জীবন থেমে যায়।

 

নিহত শিক্ষার্থীর মা পাপিয়া বেগম ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানিয়েছেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। নিহতের পরিবার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া এক তরুণের এমন মর্মান্তিক পরিণতি বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

বাংলাদেশ

View more
জয়পুরহাটে ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি নেই
জয়পুরহাটে ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি নেই, ‘জাতির পিতা’ বলাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল

জয়পুরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি ব্যানারে না থাকা এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ সম্বোধন করা নিয়ে দুই দফা হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। এতে নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা পর সভা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। অন্যদিকে ব্যানারসংক্রান্ত ত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া।   শনিবার সকাল ১০টায় আলোচনা সভা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানের ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। তাঁকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি মঞ্চে উঠতে অস্বীকৃতি জানান। পরে জেলা প্রশাসকসহ অন্য কর্মকর্তারা মঞ্চে গিয়ে জিয়াউর রহমানের ছবি-সংবলিত একটি পোস্টার স্কচটেপ দিয়ে ব্যানারে সাঁটিয়ে দেন। এরপর প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে ওঠেন এবং প্রায় আধা ঘণ্টা দেরিতে সভার কার্যক্রম শুরু হয়।   তবে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দিচ্ছিলেন জিয়া পরিষদের জয়পুরহাট পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি একাধিকবার শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ বলে সম্বোধন করেন। এতে উপস্থিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এ কে এম গোলাম মাহফুজ উত্তেজিত হয়ে মঞ্চের ডায়াসের দিকে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে বক্তাকে ডায়াস থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং আলোচনা সভা আবার শুরু হয়।   ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের ভেতরে এখনো এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁরা সরকারের কর্মকাণ্ড বিতর্কিত করতে চান। জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধানও ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘ ১৯ বছর পর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। অথচ সেই অনুষ্ঠানের ব্যানারেই দিবসটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকা গ্রহণযোগ্য নয়।   প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী অনুষ্ঠানের আয়োজনে একাধিক ত্রুটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে তদন্তের নির্দেশ দেন তিনি। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া জানান, ইন্টারনেট থেকে ছবি সংগ্রহ করে ব্যানার তৈরি করা হয়েছিল। এই ত্রুটির জন্য তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।   জেলা প্রশাসনের আয়োজিত এই আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, সিভিল সার্জন আল-মামুন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন এবং মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতাসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানের ব্যানার তৈরি এবং বক্তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির পেছনে কোনো ইচ্ছাকৃত ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   সূত্র : স্টার নিউজ

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৭:৫৬
ডিসেম্বরে একসঙ্গে থাকার স্বপ্ন

ডিসেম্বরে একসঙ্গে থাকার স্বপ্ন, তার আগেই নিথর হয়ে ফিরলেন সেনাসদস্য তিতাস

সিলেটে নিজ বাসার বাথরুমে আমেরিকা প্রবাসী মো. নুরুল ইসলামের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

সিলেটে নিজ বাসার বাথরুমে আমেরিকা প্রবাসী মো. নুরুল ইসলামের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

জাতীয় চার নেতার নাম বাদ দিয়ে কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজের নতুন নাম

জাতীয় চার নেতার নাম বাদ দিয়ে কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজের নতুন নাম

বাংলাদেশের রেলপথে ভারতীয় বেসরকারি ট্রেন চালানোর প্রস্তাব
বাংলাদেশের রেলপথে ভারতীয় বেসরকারি ট্রেন চালানোর প্রস্তাব, তিন রুটে ২৪ ঘণ্টা মালবাহী চলাচল চায় দিল্লি

  বাংলাদেশের রেলপথ ব্যবহার করে নিজেদের বেসরকারি কনটেইনার ট্রেন পরিচালনার অনুমতি চেয়েছে ভারত। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে তিনটি আন্তসীমান্ত রেলপথে ২৪ ঘণ্টা মালবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। তবে বাংলাদেশের রেলপথে ভারতীয় বেসরকারি ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দায়ভার ভারতীয় রেলওয়েকে নিতে হবে বলে শর্ত দিয়েছে ঢাকা। দুই দেশের রেল কর্মকর্তাদের বৈঠকে এসব প্রস্তাব ও শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে।   গত ৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত ৩৮তম আন্তসরকার রেলওয়ে বৈঠকের কার্যবিবরণীতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি রেল মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধানেরা বৈঠকের কার্যবিবরণীতে স্বাক্ষর করেন।   বৈঠকে ভারত জানায়, দেশটির বেসরকারি কনটেইনার ট্রেন অপারেটররা বাংলাদেশে প্রবেশ করে সরাসরি বিভিন্ন গন্তব্যে কনটেইনার পরিবহন করতে আগ্রহী। বর্তমানে ভারতীয় সরকারি ও বেসরকারি ট্রেন সীমান্তের ওপারে বেনাপোলের বিপরীতে ভারতীয় অংশ পর্যন্ত কনটেইনার নিয়ে আসে। এরপর সেখান থেকে ট্রাক বা ট্রেইলারের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে পণ্য পরিবহন করা হয়। এই ব্যবস্থার পরিবর্তে ভারতীয় বেসরকারি ট্রেনকে বাংলাদেশের রেলপথে চলাচলের সুযোগ দিতে চায় দিল্লি।   তবে এ প্রস্তাবের বিষয়ে বাংলাদেশ স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে। বাংলাদেশের রেলপথে ভারতীয় বেসরকারি কনটেইনার ট্রেন চলাচল করলে এর সঙ্গে সম্পর্কিত সব ধরনের দায়দায়িত্ব ও ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব ভারতীয় রেলওয়েকে নিতে হবে। এ বিষয়ে উপযুক্ত ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ, বাংলাদেশের রেল অবকাঠামো ব্যবহার করে ভারতীয় বেসরকারি ট্রেন পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার আগে নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা, ক্ষয়ক্ষতি ও আইনি দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে চায় ঢাকা।   বৈঠকে ভারত আরও প্রস্তাব দিয়েছে, দার্শনা–গেদে, পেট্রাপোল–বেনাপোল এবং রোহনপুর–সিংহাবাদ রেলপথে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলাচলের পরিবর্তে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা মালবাহী ট্রেন পরিচালনার ব্যবস্থা করা হোক। ভারতের যুক্তি, সার্বক্ষণিক চলাচলের সুযোগ থাকলে সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত হবে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে গতি আসবে।   জবাবে বাংলাদেশ জানিয়েছে, গত দুই বছরে এসব রুটে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ কমে গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবার তা বেড়েছে। তাই পণ্য পরিবহনের প্রকৃত চাহিদা ও বাণিজ্যের পরিমাণ বিবেচনা করে ২৪ ঘণ্টা ট্রেন চলাচলের বিষয়টি পর্যালোচনা করা যেতে পারে।   রোহনপুর–সিংহাবাদ রুটে মালবাহী ট্রেন গ্রহণের গতি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারত অভিযোগ করেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ট্রেন গ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় তাদের ওয়াগন ও লোকোমোটিভ দীর্ঘ সময় আটকে থাকছে। তবে বাংলাদেশ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে পাঁচটি ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্ট দিয়ে ভারতের মোট ৫৭টি মালবাহী ট্রেনের রেক গ্রহণ করা হয়েছে। লোকোমোটিভ, জনবল ও রেললাইনের ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে সব সময় দ্রুত ট্রেন গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। এ সমস্যা সমাধানে বিকল্প ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্ট ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।   বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য খালাসকেন্দ্রে মালবাহী ওয়াগন দ্রুত খালি করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগের কথাও বৈঠকে জানানো হয়েছে। দেশের ১২টি মাল খালাসকেন্দ্রে ওয়াগন রাখার জায়গা বাড়ানোর কাজ চলছে। সিরাজগঞ্জ বাজার, ইব্রাহিমাবাদ, নওয়াপাড়া, ফরিদপুর ও উল্লাপাড়াসহ কয়েকটি স্থানে এ ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াগন খালাস ও পুনরায় ব্যবহারের সময় পাঁচ দিনের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে বাংলাদেশের।   ভারতীয় পক্ষ তাদের দেশ থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্টেশনে সরাসরি পণ্য বুকিংয়ের সুযোগ চেয়েছে। বর্তমানে সীমান্তে পণ্য আসার পর বাংলাদেশের ভেতরে নতুন করে বুকিংয়ের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশ জানিয়েছে, এ ব্যবস্থা চালু করতে বিদ্যমান নিয়ম পরিবর্তন করতে হবে। পাশাপাশি দেশের নিজস্ব ওয়াগনের সংখ্যাও সীমিত। তাই আপাতত বর্তমান পদ্ধতি বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ঢাকা।   বৈঠকে ভারত মালবাহী ওয়াগনের পণ্য বহনক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছে। দেশটি বিসিএন ও বিসিএনএ ধরনের ওয়াগনের ধারণক্ষমতা যথাক্রমে ৬৩ ও ৬৬ টন করার কথা বলেছে। বাংলাদেশ জানিয়েছে, দেশের পশ্চিমাঞ্চলের অনেক রেললাইন, সেতু ও কালভার্ট অতিরিক্ত ভার বহনের উপযোগী নয়। তবে নির্দিষ্ট কোনো রুটে এ ধরনের ওয়াগন চালানোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এলে তা পর্যালোচনা করা যেতে পারে।   বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৪৫ ওয়াগনের পূর্ণ দৈর্ঘ্যের কনটেইনার ট্রেন পরিচালনা, মালবাহী ট্রেনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ এবং ওপেন-টপ কনটেইনার ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ জানিয়েছে, বেনাপোলে পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ট্রেন গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তবে ওপেন-টপ কনটেইনার থেকে পণ্য খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে।   যশোরসহ কয়েকটি স্থানে ভারতীয় পক্ষ কাস্টমস সুবিধা চালুর প্রস্তাব দিলেও বাংলাদেশ তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। নওয়াপাড়ায় এ ধরনের সুবিধা চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। এ ছাড়া নতুন ধীরাশ্রম ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) চালু হলে কমলাপুর আইসিডি থেকে ভারতের সঙ্গে মালবাহী ট্রেন পরিচালনার বিষয়টি সামনে আসতে পারে।   চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ভারতের ত্রিপুরার কাছাকাছি নিশ্চিন্তপুর পর্যন্ত মালবাহী ট্রেন চলাচলের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা থেকে নিশ্চিন্তপুর পর্যন্ত যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়টি উত্থাপিত হয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতের কাছে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সম্ভাব্য চাহিদার হিসাব এবং আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব চেয়েছে।   বৈঠকে কুলাউড়া–শাহবাজপুর রেলসংযোগ প্রকল্পের বিলম্বের বিষয়টিও উঠে আসে। বাংলাদেশ জানিয়েছে, ভারতীয় ঠিকাদারের আর্থিক সমস্যা, নির্মাণসামগ্রীর ঘাটতি এবং ব্যয়সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ পিছিয়েছে। অন্যদিকে ভারত প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা মূল্য সংযোজন কর পরিশোধের বিষয়টি উত্থাপন করেছে। ঢাকা–টঙ্গী–জয়দেবপুর রেলপথ উন্নয়নকাজের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ দ্রুত সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে ভারত।   দুই দেশের মধ্যে ওয়াগন ব্যবহারের বকেয়া অর্থ নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে। ভারতের দাবি, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তাদের পাওনা ৩৯০ কোটি ৯৯ লাখ রুপি। অন্যদিকে বাংলাদেশের হিসাবে ভারতীয় রেলওয়ের কাছে তাদের পাওনা ২১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। উভয় পক্ষ হিসাব যাচাই ও সমন্বয়ের বিষয়ে একমত হয়েছে। যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনার বকেয়া বাবদ বাংলাদেশ ৫০ কোটি টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়েছে।   মৈত্রী এক্সপ্রেস পদ্মা সেতু দিয়ে পরিচালনা এবং বন্ধন এক্সপ্রেসের পুরো পথে কাস্টমস ও অভিবাসন কার্যক্রম চালুর সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বন্ধন এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে যাত্রী চাহিদা ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। মৈত্রী এক্সপ্রেসের বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।   এদিকে বর্তমানে বন্ধ থাকা তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়টি বাংলাদেশ বৈঠকে উত্থাপন করেনি। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানিয়েছেন, এটি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। বৈঠকে আলোচ্যসূচিতে থাকা বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা হয়েছে।   দুই দেশের রেল যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহন বাড়ানোর লক্ষ্যে পরবর্তী আন্তসরকার রেলওয়ে বৈঠক ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   বাংলাদেশের রেলপথে ভারতীয় বেসরকারি ট্রেন চলাচলের প্রস্তাব এবং তিনটি সীমান্ত রুটে ২৪ ঘণ্টা মালবাহী ট্রেন চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের আগে রেলপথের নিরাপত্তা, অবকাঠামোর সক্ষমতা, আর্থিক দায়বদ্ধতা এবং বাংলাদেশের নিজস্ব পরিবহন চাহিদা বিবেচনায় নেওয়াই হবে গুরুত্বপূর্ণ।a

প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ৭:৩৫
প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড

প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’, বিমানবন্দর থেকে ব্যাংকিংয়ে মিলতে পারে ১০ ধরনের সুবিধা

সরকারি দপ্তরে টাকা না দিলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৫০ হাজার বেতন দিতাম: মাসুদুজ্জামান

সরকারি দপ্তরে টাকা না দিলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৫০ হাজার বেতন দিতাম: মাসুদুজ্জামান

টেকনাফে মানবপাচার বিরোধী যৌথ বাহিনীর অভিযানে সেনাসদস্য তিতাস শেখ নিহত। ছবি: সংগৃহীত

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত, ৫৭ জিম্মি উদ্ধার

এলব্রুস জয়ের পর জাতীয় পতাকা হস্তান্তর করলেন শাকিল। ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাবে পর্বতারোহণ: ইকরামুল হাসান শাকিল

ইউরোপের সর্বোচ্চ শিখর মাউন্ট এলব্রুস সফলভাবে জয় করার পর বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছেন পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ধানমন্ডির রাশিয়ান হাউজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি অতিথিদের কাছে পতাকাটি প্রত্যর্পণ করেন। এরপর স্লাইড প্রদর্শনীর মাধ্যমে নিজের এই শ্বাসরুদ্ধকর ও রোমাঞ্চকর অভিযানের অভিজ্ঞতা সবার সামনে তুলে ধরেন তিনি। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায় এলব্রুসের চূড়ায় লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছিলেন শাকিল।   তবে এই বিশাল অর্জনের আনন্দের মাঝেই নিজেদের দীর্ঘ সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেন এই পর্বতারোহী। চরম আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, "আমরা যারা পর্বতারোহণ করি, তারা অনেক বড় স্বপ্ন বুনি। কিন্তু স্পন্সর বা পৃষ্ঠপোষকতা পেতে আমাদের অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানেও পর্বতারোহীদের রাষ্ট্রীয় পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়। সত্যি বলতে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে একসময় বাংলাদেশ থেকে পর্বতারোহণ একেবারেই হারিয়ে যাবে।"   পতাকা হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে মাউন্ট এলব্রুস অভিযানে শাকিলের তোলা ৫০টি দুর্লভ ছবি নিয়ে একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। রাশিয়ান হাউজের ডিরেক্টর অ্যালেক্সান্দ্রা খ্লেভনয়ে এর উদ্বোধন করেন। বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের (বিএমটিসি) সেক্রেটারি সাদিয়া সুলতানা জানান, পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে। অনুষ্ঠানে পাখি বিশেষজ্ঞ ও অ্যান্টার্কটিকা অভিযাত্রী ইনাম আল হক, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবুসহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।   উল্লেখ্য, ‘বাংলাদেশ-রাশিয়া ফ্রেন্ডশিপ অভিযান’ শীর্ষক এই উদ্যোগটি যৌথভাবে আয়োজন করেছিল রাশিয়ান হাউজ ইন ঢাকা এবং বিএমটিসি। গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার আগে ১১ সেপ্টেম্বর রাশিয়ান হাউসেই শাকিলের হাতে এই জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১১:৪৮
হঠাৎ ‘স্যরি’তে সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়া,

হঠাৎ ‘স্যরি’তে সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়া, নেপথ্যে রহস্য কী ?

মালিক-শ্রমিকপক্ষের ঐকমত্য

১ জানুয়ারি বর্ধিত মজুরি পাবেন পোশাক শ্রমিকরা, মালিক-শ্রমিকপক্ষের ঐকমত্য

ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে ফ্লোরিডায় ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত পিয়া ডান্ডিয়া

ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে ফ্লোরিডায় ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত পিয়া ডান্ডিয়া

0 Comments