র্যাব বিলুপ্ত করে গঠন হচ্ছে নতুন বাহিনী ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নানা আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রে থাকা এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব বিলুপ্ত করতে যাচ্ছে সরকার। এর পরিবর্তে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি (SRB) নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাহিনীর জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন বিধান যুক্ত করে ইতিমধ্যেই ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর একটি খসড়া জনমত যাচাইয়ের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়া আইনের ওপর প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজনের পর এটি মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে। পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদে বিলটি পাস হলে র্যাবের বিদ্যমান আইনি ভিত্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হবে।
প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত দিক থেকে নতুন এই বাহিনী বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে পরিচালিত হবে। এসআরবির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। বাহিনীর সদর দপ্তর ঢাকায় স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনের তাগিদে দেশের যেকোনো স্থানে এর শাখা বা ইউনিট গঠন করা যাবে।
নাম ও আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন এলেও এসআরবির মূল দায়িত্বের পরিধিতে বড় কোনো রদবদল হচ্ছে না। পূর্বের মতোই অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করবে এসআরবি।
তবে নতুন এই বাহিনীর সবচেয়ে বড় ও উল্লেখযোগ্য সংযোজন হতে যাচ্ছে 'নাগরিক অভিযোগ প্রতিকার কমিটি'। এসআরবির কোনো সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার, হয়রানি বা অন্যায় আচরণের মতো কর্মকাণ্ডে জড়ালে সাধারণ নাগরিকরা এখন থেকে সরাসরি এই কমিটির কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে।
পাশাপাশি বাহিনীর সদস্যদের জন্য অত্যন্ত কঠোর শৃঙ্খলাবিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা, মাদকাসক্তি, অবৈধ অর্থ আদায় কিংবা অন্য যেকোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়ালে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreদীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নানা আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রে থাকা এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব বিলুপ্ত করতে যাচ্ছে সরকার। এর পরিবর্তে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি (SRB) নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাহিনীর জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন বিধান যুক্ত করে ইতিমধ্যেই ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর একটি খসড়া জনমত যাচাইয়ের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়া আইনের ওপর প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজনের পর এটি মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে। পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদে বিলটি পাস হলে র্যাবের বিদ্যমান আইনি ভিত্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হবে। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত দিক থেকে নতুন এই বাহিনী বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে পরিচালিত হবে। এসআরবির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। বাহিনীর সদর দপ্তর ঢাকায় স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনের তাগিদে দেশের যেকোনো স্থানে এর শাখা বা ইউনিট গঠন করা যাবে। নাম ও আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন এলেও এসআরবির মূল দায়িত্বের পরিধিতে বড় কোনো রদবদল হচ্ছে না। পূর্বের মতোই অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করবে এসআরবি। তবে নতুন এই বাহিনীর সবচেয়ে বড় ও উল্লেখযোগ্য সংযোজন হতে যাচ্ছে 'নাগরিক অভিযোগ প্রতিকার কমিটি'। এসআরবির কোনো সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার, হয়রানি বা অন্যায় আচরণের মতো কর্মকাণ্ডে জড়ালে সাধারণ নাগরিকরা এখন থেকে সরাসরি এই কমিটির কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে। পাশাপাশি বাহিনীর সদস্যদের জন্য অত্যন্ত কঠোর শৃঙ্খলাবিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা, মাদকাসক্তি, অবৈধ অর্থ আদায় কিংবা অন্য যেকোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়ালে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইসিইউতে হাতকড়া পরা ছবি নিয়ে ভাইরাল সেই আওয়ামী লীগ নেতা আর মারা গেছেন
কিস্তির টাকা নিয়ে ভয়ে গ্রাহকের গরু নিয়ে গেলেন এনজিও কর্মীরা
টানা ৫ দিন অনশনের পর বিয়ে, তিন মাস পর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
নয়াদিল্লিতে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত ৫ আগস্ট জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনাকে এ ধরনের সরাসরি ব্রিফিং বা সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়া দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, এ ধরনের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা সংবাদ সম্মেলনের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ভারত সরকারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ভারত সরকার এই অনুষ্ঠান আয়োজনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বা বাধা প্রদান করেনি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালনের দিনে ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার এমন বাংলাদেশ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। একইসাথে এটি জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের প্রতি চরম অবমাননার শামিল। জাতিসংঘ স্বীকৃত জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যার নির্মম সত্যকে অস্বীকার করার এই ব্যর্থ অপচেষ্টাকে বাংলাদেশের জনগণ ইতোমধ্যে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের অন্ধকার দিনগুলোতে বাংলাদেশ আর কখনো ফিরে যাবে না বলে গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় দেশের মানুষ আজ সুদৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সর্বদা সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার ভিত্তিতে ভারতের সাথে একটি গঠনমূলক, সম্মানজনক ও অমায়িক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। ২০১৩ সালের দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বারবার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এমতাবস্থায়, ভারতের মাটিতে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক অপরাধী শেখ হাসিনাকে এমন প্রকাশ্য গণমাধ্যম সংযোগের সুযোগ করে দেওয়া বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঢাকা ও নতুন দিল্লির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রযাত্রাকে গভীরভাবে ব্যাহত করছে বলে মনে করে বাংলাদেশ সরকার।
মাগুরায় সাকিব আল হাসানের বাড়িতে আগুন, পেট্রলবোমা বিস্ফোরণ
দাওয়াত না পেয়ে পাবিপ্রবিতে জুলাইয়ের অনুষ্ঠান পণ্ড করে দিল ছাত্রদল
জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মতিউর রহমান লিটুর খোলা চিঠি।
স্মৃতির জুলাই থেকে বর্তমানের অচলাবস্থা! আজ ৫ আগস্ট, ২০২৬। ঠিক দুই বছর আগে এই দিনে বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটেছিল এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন। রক্তক্ষয়ী রাজপথ, শতশত মানুষের আত্মত্যাগ এবং ছাত্র-জনতার গণবিক্ষোভের মুখে আওয়ামীলীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটেছিল। গোটা দেশ দেখেছিল এক নতুন ভোরের স্বপ্ন—যেখানে থাকার কথা ছিল বৈষম্যহীনতা, বাকস্বাধীনতা আর ইনসাফ। কিন্তু দুই বছর পর আজ আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে? যে স্বপ্ন নিয়ে তরুণরা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল, সেই বাংলাদেশে আজ তৈরি হয়েছে গভীর রাজনৈতিক বিভাজন, নতুন ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, আর একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান কি তার মূল লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে, নাকি বাংলাদেশ আবার ঘুরেফিরে পুরোনো রাজনৈতিক ঘূর্ণাবর্তেই আটকা পড়েছে? ২০২৪-এর রাজপথ ও ক্ষমতার আকস্মিক পতন! ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে। একটি সাধারণ কোটা সংস্কার আন্দোলন হঠাৎ করেই রূপ নেয় এক নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থানে। তৎকালীন সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন, গুলির ঘটনা এবং শত শত প্রাণহানি পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। যার ফলশ্রুতিতে ৫ আগস্ট দুপুরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ কোরে একপ্রকার আকস্মিকভাবেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। সেই সাথে পতন হয় আওয়ামীলীগের ফ্যাসিস্ট শাসন ব্যবস্থার। দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদের পতন দেখে গোটা দেশ। বাংলাদেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে শূন্যতা তৈরি হয়, আর সেই শূন্যতা পূরণে সামনে আসেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অন্তর্বর্তী সরকার, সংস্কারের ধীরগতি ও দুর্নীতির ছায়া! বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকারের প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল—প্রশাসনিক সংস্কার, অপরাধীদের বিচার এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের যাত্রাপথ সহজ থাকেনি। বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপণ্যের অনিয়ন্ত্রিত বাজার সাধারণ মানুষের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি করে। শুধু তা-ই নয়, সংস্কারের নামে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নতুন করে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ওঠার স্বজনপ্রীতি ও প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ ড. ইউনুসের সরকারের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা দেয়। গণমাধ্যমের খবরে উঠে আসে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে থাকা বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের কথা। ফলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—পরিবর্তনের স্বপ্ন কি তবে সুদূর পরাহত? তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও ২০২৬-এর নির্বাচনী ঝড়! রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের অন্যতম প্রধান মাইলফলক ছিল দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশে ফেরা। তার প্রত্যাবর্তন দলীয় কর্মীদের মধ্যে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা তৈরি করে এবং বিএনপির ক্ষমতা পুনর্দখলের পথকে সুগম করে। পরবর্তীতে দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও নানা বিতর্কের পর আয়োজিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন। আর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় লাভ করে। কিন্তু এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবার দেখা দেয় বিভাজন। নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আসন ভাগাভাগি, ইসি গঠন নিয়ে বিতর্ক এবং নির্বাচনকালীন সময়সূচি নিয়ে বিএনপি ও অন্যান্য মিত্রদের মধ্যে তৈরি হয় তুমুল সংঘাত। নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হয়েছে, তা নিয়ে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মন্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়। নতুন দল এনসিপির জন্ম, রাজনীতি ও জামায়াত-জোট বিতর্ক! জুলাই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় বাই-প্রোডাক্ট ছিল তরুণ ছাত্রনেতাদের দ্বারা গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল—ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি বা এনসিপি। গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে বিকল্প রাজনীতি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তারা আত্মপ্রকাশ করেছিল। তবে রাজনীতিতে পা দিয়েই দ্রুত বিতর্কের মুখে পড়ে এনসিপি। আদর্শগত অবস্থান স্পষ্ট করার আগেই তারা নির্বাচনে সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে বাংলাদেশের বিতর্কিত রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর সাথে রাজনৈতিক সমঝোতা ও নির্বাচনী জোট গঠন করে। এক সময়ের প্রগতিশীল ও বৈষম্যবিরোধী স্লোগান দেওয়া তরুণদের সাথে জামায়াতের এই জোটকে কেন্দ্র করে সুশীল সমাজ ও সাধারণ তরুণদের একাংশের মধ্যে গভীর হতাশা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। এনসিপি কি তার মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে—এই প্রশ্ন উঠে আসে রাজনীতির টেবিলে। ক্ষমতায় বিএনপি: সাফল্য, ব্যর্থতা ও দুর্নীতির পুরোনো চক্র! বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়েই শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দিকে তারা বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু এরপরই সামনে দলটির জন্য নানা চ্যালেঞ্জ। প্রথম সারির প্রধান প্রধান গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ আমলের টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলার বদলে কেবল হাতবদল হয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিএনপি নেতাকর্মীদের আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থতা নতুন সরকারকে তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলে। জনগণ আবারও দেখতে পায়—নেতৃত্ব বদলালেও ক্ষমতার চরিত্র অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে। দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার আকস্মিক প্রেস কনফারেন্স! ঠিক এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই, আজ—৫ আগস্ট ২০২৬—অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে হঠাৎ করেই নতুন বোমা ফাটানোর মত অবস্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ দুই বছর পর নজিরবিহীনভাবে দিল্লী থেকে গত ৩ আগস্ট এক আকস্মিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ২০২৪-এর অভ্যুত্থানকে 'পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র' এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের বৈধতা নিয়েও কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে অবিলম্বে তার দলের রাজনীতি করার অধিকার ফেরানোর ব্যাপারেও জানান তিনি। অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির দিনেই নয়াদিল্লি থেকে সরাসরি তার জনসম্মুখে আসাকে ঢাকার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন এক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝড়ের জন্ম দিয়েছে। বিএনপি এবং এনসিপি উভয় দলই একে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে? জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পার হয়ে গেল। শহীদের রক্তে ভেজা রাজপথ আমাদের এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু দুই বছর পর আজকের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে গভীর রাজনৈতিক সংকট, অর্থনৈতিক মন্দা, দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি আর নিত্যনতুন ক্ষমতার বিভাজন। অভ্যুত্থানের চেতনা কি তবে রাজনীতির সমীকরণে হারিয়ে গেল? নাকি এই সংকট কাটিয়ে বাংলাদেশ আবার তার গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ফিরতে পারবে?
দেশত্যাগের এক বছর পর ‘হোমকামিং’ আয়োজন: ৫ আগস্ট দিল্লিতে ভার্চুয়াল বক্তব্য দেবেন শেখ হাসিনা
জুলাই আন্দোলনের অংশীজনদের মতামত নিয়েই হবে সংবিধান সংশোধন: বিশেষ কমিটি