সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
শিক্ষা

কানাডায় ইউসিএমএএস ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ৪:৩
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কানাডায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা ইউসিএমএএসে ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কুশল সাহা। কানাডার ছয়টি প্রদেশের অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে এই সাফল্য পেয়েছে সে।

 

কুশল সাহার এই অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের পাশাপাশি তার স্বজনদের মধ্যেও আনন্দের জোয়ার বইছে। ক্ষুদে এই মেধাবীর শিকড় বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায়। তিনি সাংবাদিক সুভাষ সাহার দৌহিত্র এবং সুস্মিতা সাহা ও কমল কৃষ্ণ সাহা দম্পতির একমাত্র সন্তান।

 

জানা গেছে, সম্প্রতি কানাডায় অনুষ্ঠিত ইউনিভার্সাল কনসেপ্ট অব মেন্টাল অ্যারিথমেটিক সিস্টেম (ইউসিএমএএস) প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শিশুদের মানসিক গণনার দক্ষতা, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং মস্তিষ্কের সার্বিক বিকাশ মূল্যায়নের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত এই কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে।

 

প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীদের মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যে ২০০টি গণিতভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। দ্রুততা ও নির্ভুলতার ভিত্তিতে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়। এবারের প্রতিযোগিতায় কুশল সাহা সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ খেতাব জিতে নেয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বছর এই সম্মান অর্জন করেছিল একজন চীনা শিক্ষার্থী। এবার সেই জায়গায় বাংলাদেশের সন্তান কুশল সাহার নাম যুক্ত হওয়ায় গর্বিত তার পরিবার এবং পরিচিতজনরা।

 

কুশলের বাবা কমল কৃষ্ণ সাহা উচ্চশিক্ষিত একজন পেশাজীবী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার্টার্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট (সিএফএ) এবং চার্টার্ড মার্কেট টেকনিশিয়ান (সিএমটি) ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে কানাডার কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

 

অন্যদিকে কুশলের মা সুস্মিতা সাহা বাংলাদেশে দন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষে বর্তমানে কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মরত আছেন।

কুশলের দাদা সাংবাদিক সুভাষ সাহা জানান, ইউসিএমএএস কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং শিশুদের মানসিক বিকাশের একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিক্ষাপদ্ধতি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিশুদের দ্রুত হিসাব করার দক্ষতা, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তি উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

 

তিনি বলেন, “কানাডার ছয়টি প্রদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় কুশল সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে। এটি শুধু আমাদের পরিবারের জন্য নয়, বাংলাদেশের জন্যও গর্বের বিষয়।”

কুশলের এই সাফল্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসিত হচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।

 

শিশু বয়সেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন কৃতিত্ব অর্জনের মাধ্যমে কুশল সাহা প্রমাণ করেছে, সঠিক সুযোগ ও পরিচর্যা পেলে বাংলাদেশি শিশুরা বিশ্বের যেকোনো মঞ্চে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম।

পরিবারের পক্ষ থেকে কুশলের জন্য সবার দোয়া ও শুভকামনা কামনা করা হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

শিক্ষা

View more
নতুন এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ওপর বুলিংয়ের চিত্র উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত শিক্ষক বুলিংয়ের শিকার, নম্বর বাড়াতেও চাপে শিক্ষকরা

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ওপর বুলিং ও মানসিক চাপের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে নতুন এক আন্তর্জাতিক গবেষণায়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মীদের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও অনেকে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়ার জন্য শিক্ষকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন কিছু শিক্ষার্থী। গবেষকদের তুলে ধরা তথ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বুলিংয়ের হার ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে।   গত ১৫ অক্টোবর জার্নাল অব মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিসার্চ অ্যান্ড প্র্যাকটিসে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। এরপর ৩ নভেম্বর গবেষণার ফলাফল নিয়ে দ্য কনভারসেশনে একটি প্রতিবেদন লেখেন অ্যাডলার ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জেসন ওয়াকার। তাঁর সঙ্গে গবেষণায় অংশ নেন জাহরা মোরাদি ও ডেবোরাহ সারকো। তিন দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৮৯ জন শিক্ষক ও কর্মীর দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে।   গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ৩০ শতাংশ জানিয়েছেন, ভালো গ্রেড পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তাঁরা চাপের মুখে পড়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা নম্বর বাড়াতে বারবার অনুরোধ করেছেন, গ্রেডের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার হুমকি দিয়েছেন কিংবা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক অনলাইন রিভিউ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কেউ কেউ আবেগকে কাজে লাগিয়ে বা ভয় দেখিয়ে নিজেদের দাবি আদায়ের চেষ্টা করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, তুলনামূলকভাবে সিনিয়র শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গ্রেডসংক্রান্ত বুলিংয়ের অভিজ্ঞতা বেশি জানিয়েছেন।   অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়র শিক্ষক ও কর্মীরা সহকর্মী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বেশি বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সামর্থ্যের বাইরে অতিরিক্ত কাজের চাপ দেওয়া, প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন রাখা এবং অসম্ভব সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে বাধ্য করা। গবেষণায় নারী শিক্ষক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সদস্যদের হয়রানির অভিজ্ঞতাও তুলনামূলকভাবে বেশি পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, কর্মক্ষেত্রে বুলিং সব সময় সরাসরি হুমকি বা অপমানের মাধ্যমে ঘটে না। অনেক সময় নিয়মিত কাজের পরিবেশের মধ্যেই এমন আচরণ চলতে থাকে, যা সহজে শনাক্ত করা কঠিন।   গবেষকেরা জানিয়েছেন, সাধারণ কর্মক্ষেত্রে বুলিংয়ের তুলনায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় কর্মক্ষেত্রে বুলিং, হয়রানি ও যৌন নির্যাতনের অভিজ্ঞতা থাকা কর্মীর হার ৩০ শতাংশের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে আগের গবেষণায় কোনো কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বুলিংয়ের হার ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে। তবে এই হার সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা নতুন গবেষণার ১৮৯ জন অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়।   গবেষকদের মতে, দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করলে শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে চাকরির প্রতি সন্তুষ্টি কমে যাওয়া, কাজের দক্ষতা হ্রাস এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে শিক্ষার মান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশের ওপরও। গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন এবং শিক্ষক ও কর্মীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।   তবে গবেষকেরা জানিয়েছেন, মাত্র ১৮৯ জনের তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া ফলাফলকে সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। বুলিংয়ের প্রকৃত বিস্তার, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং প্রতিরোধের কার্যকর উপায় জানতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষ করে নম্বর বাড়ানোর জন্য শিক্ষার্থীদের চাপ কীভাবে শিক্ষকদের পেশাগত সিদ্ধান্ত ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে, তা ভবিষ্যৎ গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ১:৪
ইউরোপে ফ্রি মাস্টার্সের সুযোগ নিয়ে ইরাসমাস মুন্ডুস স্কলারশিপের আবেদন শুরু। ছবি: সংগৃহীত

ইরাসমাস মুন্ডুসে ২০২৭ সালের স্কলারশিপ আবেদন শুরু, মাসে প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ভাতা

গবেষণার অভিজ্ঞতা ছাড়াই বিদেশের স্কলারশিপে আবেদনের সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

রিসার্চ অভিজ্ঞতা ছাড়াই বিদেশে মাস্টার্সের সুযোগ, জেনে নিন পাঁচটি আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের বিস্তারিত

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন ফিলিস্তিনি তরুণী হায়া জাবের

গাজা থেকে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজে ফিলিস্তিনি তরুণী হায়ার স্বপ্নযাত্রা

বিদেশে মাস্টার্সে ভর্তির আগে বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ে ১৫ বিষয় জানা জরুরি,
বিদেশে মাস্টার্সে ভর্তির আগে বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ে ১৫ বিষয় জানা জরুরি, জানুন বিস্তারিত

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং দেখে আবেদন শুরু করেন। কিন্তু ভর্তির পর টিউশন ফি, স্কলারশিপ, থাকার খরচ কিংবা ভিসার আর্থিক শর্ত নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় অনেককে। তাই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে মাস্টার্স করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের আগে অন্তত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন। প্রথমেই দেখতে হবে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের বিষয় অনুযায়ী মাস্টার্স প্রোগ্রাম রয়েছে কি না। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নয়, ডিগ্রির ধরন, ফুলটাইম বা পার্টটাইম সুবিধা, অনলাইন কিংবা ক্যাম্পাসে ক্লাসের ব্যবস্থা এবং আগের শিক্ষাগত যোগ্যতা গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।   দ্বিতীয়ত, অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট যাচাই করা জরুরি। ন্যূনতম সিজিপিএ, ব্যাচেলর ডিগ্রির বিষয়, প্রয়োজনীয় কোর্স ক্রেডিট, কাজের অভিজ্ঞতা এবং অতিরিক্ত কোনো কোর্স সম্পন্ন করার শর্ত রয়েছে কি না, তা দেখতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আইইএলটিএস বা অন্য ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষার স্কোর, পাসপোর্ট ও একাডেমিক ডকুমেন্টের শর্তও জানতে হবে। চতুর্থ ও পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো টিউশন ফি এবং লিভিং কস্ট। প্রতি সেমিস্টার বা ক্রেডিটের খরচের পাশাপাশি পুরো ডিগ্রি শেষ করতে কত অর্থ প্রয়োজন, তার হিসাব করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান অনুযায়ী বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াত, হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও অন্যান্য খরচও আলাদা হতে পারে।   ষষ্ঠত, স্কলারশিপ ও ফান্ডিংয়ের সুযোগ যাচাই করতে হবে। মেরিট স্কলারশিপ, টিউশন ওয়েভার, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ রয়েছে কি না, তা দেখতে হবে। স্কলারশিপের বিজ্ঞপ্তি থাকলেই প্রত্যেক শিক্ষার্থী তা পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। সপ্তম বিষয় অ্যাপ্লিকেশন ডেডলাইন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, স্কলারশিপ এবং সাধারণ ভর্তির শেষ তারিখ আলাদা হতে পারে। অষ্টম ও নবম বিষয় হিসেবে গবেষণার সুযোগ এবং কোর্স কারিকুলাম যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্সে আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট প্রফেসর, ল্যাব, গবেষণার বিষয় এবং থিসিসের সুযোগ সম্পর্কে জানতে হবে।   দশমত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক র‍্যাঙ্কিংয়ের পাশাপাশি নিজের বিষয়ের ডিপার্টমেন্ট কতটা শক্তিশালী, সেটিও বিবেচনা করতে হবে। একাদশ বিষয় হলো ডিগ্রি শেষে চাকরির সম্ভাবনা। ইন্টার্নশিপ, ক্যারিয়ার সার্ভিস, অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক এবং সংশ্লিষ্ট ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ।   দ্বাদশ বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান। শহরের নিরাপত্তা, আবহাওয়া, পাবলিক ট্রান্সপোর্টেশন, এয়ারপোর্ট এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। ত্রয়োদশ বিষয় স্টুডেন্ট ভিসা ও ইমিগ্রেশন রিকোয়ারমেন্ট। প্রয়োজনীয় ফাইন্যান্সিয়াল প্রুফ, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, ভিসা প্রসেসিং এবং পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতির নিয়ম সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি সূত্র থেকে যাচাই করতে হবে। চতুর্দশ বিষয় আবেদনের মোট খরচ। অ্যাপ্লিকেশন ফি ছাড়াও ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষা, ক্রেডেনশিয়াল ইভ্যালুয়েশন, ডকুমেন্ট অনুবাদ এবং ভিসাসংক্রান্ত খরচ থাকতে পারে।   সবশেষে নিজের প্রোফাইলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামঞ্জস্য যাচাই করতে হবে। সিজিপিএ, ইংরেজি দক্ষতা, গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা এবং চাকরির অভিজ্ঞতা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সেফ, মডারেট ও অ্যাম্বিশাস ক্যাটাগরিতে ভাগ করে শর্টলিস্ট তৈরি করা যেতে পারে। তবে সেফ ক্যাটাগরির বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি নিশ্চিত নয়। শিক্ষার্থীরা চাইলে একটি স্প্রেডশিটে ১৫ থেকে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রাম, টিউশন ফি, স্কলারশিপ, ডেডলাইন, ইংরেজি দক্ষতার শর্ত ও অন্যান্য তথ্য পাশাপাশি রেখে তুলনা করতে পারেন। চূড়ান্ত আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং গন্তব্য দেশের সরকারি ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।      

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১:১১
অনিশ্চয়তায় শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

নিউইয়র্কে দুটি স্কুল বন্ধের পরিকল্পনা, অনিশ্চয়তায় শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ পেতে বিদেশি প্রফেসর খুঁজবেন রিসার্চ প্ল্যাটফর্মে

উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ পেতে বিদেশি প্রফেসর খুঁজবেন রিসার্চ প্ল্যাটফর্মে, জেনে নিন বিস্তারিত

ইউরোপের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ টিউশন ফি ছাড়া উচ্চশিক্ষার সুযোগ মিলছে। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ! মাসে ১ লক্ষ টাকার বেশি ভাতা

২০১৪ সালে দেশের তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হন সামিন ইরতিজা নূর। ছবি: সংগৃহীত
তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম হওয়া বুয়েটের সামিন থেকে গেলেন দেশে, বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতের প্রকৌশলী

২০১৪ সালে দেশের তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন সামিন ইরতিজা নূর। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি। একই বছর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষায় সপ্তম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দশম হয়েছিলেন। এক দশকের বেশি সময় পর সেই মেধাবী শিক্ষার্থী এখন দেশের বিদ্যুৎ খাতে কর্মরত একজন প্রকৌশলী। বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসিতে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।   ভর্তি পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্যের পর উচ্চশিক্ষার জন্য বুয়েটকে বেছে নেন সামিন। ভর্তি হন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগে। ২০১৯ সালে সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে কর্মজীবনের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। প্রকৌশল শিক্ষার সঙ্গে ব্যবসায় প্রশাসনের জ্ঞান যুক্ত করে নিজের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি।   একসঙ্গে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার অভিজ্ঞতা সামিনের নিজের কাছেও ছিল বিস্ময়কর। ফলাফল প্রকাশের পর প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না এত বড় অর্জনের কথা। অল্প সময়ের মধ্যে তাঁর সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় তাঁর কৃতিত্বের খবর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসতে থাকে অসংখ্য ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন থেকেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেতে শুরু করেন তিনি।   সেই সময় অনেক শিক্ষার্থী তাঁর কাছে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে পরামর্শ চাইতেন। কীভাবে পড়াশোনার রুটিন তৈরি করতে হয়, প্রতিদিন কতক্ষণ পড়তে হয় কিংবা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মনোযোগ ধরে রাখার উপায় কী, এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হতো তাঁকে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে অন্যদের সহায়তা করার সুযোগও পেয়েছিলেন সামিন।   ভর্তি পরীক্ষার সময়কার একটি ঘটনা এখনো বিশেষভাবে মনে রেখেছেন তিনি। রুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পর বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় নিজের ছবি দেখতে পান। যে প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিতে এসেছেন, সেখানেই নিজের ছবি টাঙানো দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন সামিন। ঘটনাটি তাঁর কাছে আনন্দের পাশাপাশি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে আছে।   নিজের সাফল্যের পেছনে পরিবার ও শিক্ষকদের অবদানও গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করেন সামিন। ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বাবার আবেগ ও গর্ব, মায়ের আনন্দ এবং ছোট বোনের উচ্ছ্বাস তাঁর জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। বিশেষভাবে মনে রেখেছেন গণিতের শিক্ষক উজ্জ্বল ভাইকে। রুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার আগে ওই শিক্ষক তাঁকে প্রথম হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিতে উৎসাহ দিয়েছিলেন। ফল প্রকাশের পর তিনিই প্রথম ফোন করে সামিনকে অভিনন্দন জানান।   তবে শিক্ষাজীবনের সেই সাফল্য যে কর্মজীবনেও সবকিছু সহজ করে দেবে, এমনটা মনে করেন না সামিন। তাঁর অভিজ্ঞতায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফল কিংবা নামকরা প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি পেশাগত জীবনে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা, দক্ষতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের সামর্থ্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে পেশাগত জীবনে প্রবেশের পর এই উপলব্ধি আরও স্পষ্ট হয়েছে তাঁর কাছে। অতীতের অর্জন একজন মানুষকে আত্মবিশ্বাস দিতে পারে, কিন্তু সেই অর্জনের ওপর নির্ভর করে থেমে থাকলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বরং নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং নিয়মিত নিজের দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।   বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থেকে কাজ করছেন সামিন। ভবিষ্যতে প্রকৌশল, গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আরও বড় পরিসরে অবদান রাখতে চান তিনি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন প্রযুক্তিকে প্রকৌশল খাতে কাজে লাগানোর বিষয়ে তাঁর আগ্রহ রয়েছে। দেশের উন্নয়নে নিজের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।   বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যও সামিনের অভিজ্ঞতা থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে। প্রতিযোগিতায় সবাই প্রথম হতে পারবে না, কিন্তু নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করা সম্ভব। প্রত্যাশিত ফল অর্জনের পর অতিরিক্ত আত্মতুষ্টিতে ভোগা যেমন ঠিক নয়, তেমনি কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলে হতাশ হয়ে পড়াও উচিত নয়। একটি পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে জীবনের সামগ্রিক সাফল্য নির্ধারিত হয় না।   ২০১৪ সালে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে যে তরুণ দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন, এক দশকের বেশি সময় পর তাঁর পরিচয়ে যুক্ত হয়েছে নতুন অধ্যায়। বুয়েট থেকে প্রকৌশল ডিগ্রি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ এবং দেশের বিদ্যুৎ খাতে পেশাগত দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছেন সামিন ইরতিজা নূর। ভর্তি পরীক্ষার সেই সাফল্য তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলেও এখন নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। সূত্র: পাবলিকিয়ান

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ১০:৩৭
যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল সায়েন্স ও সোস্যাল সায়েন্সে পিএইচডি!আবেদন ও ফান্ডিং পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল সায়েন্স ও সোস্যাল সায়েন্সে পিএইচডি! আবেদন ও ফান্ডিং পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

স্নাতকে সিজিপিএ তুলনামূলক কম হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সিজিপিএ কম হলেও বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, ১৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের সুযোগ, জেনে নিন আবেদনের আগে জরুরি বিষয়গুলো

0 Comments