কানাডায় ইউসিএমএএস ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
কানাডায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা ইউসিএমএএসে ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কুশল সাহা। কানাডার ছয়টি প্রদেশের অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে এই সাফল্য পেয়েছে সে।
কুশল সাহার এই অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের পাশাপাশি তার স্বজনদের মধ্যেও আনন্দের জোয়ার বইছে। ক্ষুদে এই মেধাবীর শিকড় বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায়। তিনি সাংবাদিক সুভাষ সাহার দৌহিত্র এবং সুস্মিতা সাহা ও কমল কৃষ্ণ সাহা দম্পতির একমাত্র সন্তান।
জানা গেছে, সম্প্রতি কানাডায় অনুষ্ঠিত ইউনিভার্সাল কনসেপ্ট অব মেন্টাল অ্যারিথমেটিক সিস্টেম (ইউসিএমএএস) প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শিশুদের মানসিক গণনার দক্ষতা, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং মস্তিষ্কের সার্বিক বিকাশ মূল্যায়নের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত এই কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে।
প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীদের মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যে ২০০টি গণিতভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। দ্রুততা ও নির্ভুলতার ভিত্তিতে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়। এবারের প্রতিযোগিতায় কুশল সাহা সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ খেতাব জিতে নেয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বছর এই সম্মান অর্জন করেছিল একজন চীনা শিক্ষার্থী। এবার সেই জায়গায় বাংলাদেশের সন্তান কুশল সাহার নাম যুক্ত হওয়ায় গর্বিত তার পরিবার এবং পরিচিতজনরা।
কুশলের বাবা কমল কৃষ্ণ সাহা উচ্চশিক্ষিত একজন পেশাজীবী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার্টার্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট (সিএফএ) এবং চার্টার্ড মার্কেট টেকনিশিয়ান (সিএমটি) ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে কানাডার কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
অন্যদিকে কুশলের মা সুস্মিতা সাহা বাংলাদেশে দন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষে বর্তমানে কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মরত আছেন।
কুশলের দাদা সাংবাদিক সুভাষ সাহা জানান, ইউসিএমএএস কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং শিশুদের মানসিক বিকাশের একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিক্ষাপদ্ধতি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিশুদের দ্রুত হিসাব করার দক্ষতা, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তি উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “কানাডার ছয়টি প্রদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় কুশল সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে। এটি শুধু আমাদের পরিবারের জন্য নয়, বাংলাদেশের জন্যও গর্বের বিষয়।”
কুশলের এই সাফল্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসিত হচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।
শিশু বয়সেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন কৃতিত্ব অর্জনের মাধ্যমে কুশল সাহা প্রমাণ করেছে, সঠিক সুযোগ ও পরিচর্যা পেলে বাংলাদেশি শিশুরা বিশ্বের যেকোনো মঞ্চে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম।
পরিবারের পক্ষ থেকে কুশলের জন্য সবার দোয়া ও শুভকামনা কামনা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
শিক্ষা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাডক্লিফ ইনস্টিটিউট ২০২৭–২০২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের কাছ থেকে ফেলোশিপের আবেদন আহ্বান করেছে। নির্বাচিত ফেলোরা নয় মাস হার্ভার্ডে গবেষণা, সৃজনশীল কাজ বা নীতিনির্ধারণী প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তারা ৭৮ হাজার মার্কিন ডলার স্টাইপেন্ড এবং প্রকল্প ব্যয়ের জন্য অতিরিক্ত ৫ হাজার ডলার পাবেন। প্রয়োজনে আবাসন, স্থানান্তর, স্বাস্থ্যসেবা ও শিশুসেবা বাবদ অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হতে পারে। হার্ভার্ড র্যাডক্লিফ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক, বিজ্ঞানী, লেখক, সাংবাদিক, শিল্পী, নীতিনির্ধারক এবং সৃজনশীল পেশাজীবীরা এ ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত ব্যক্তিরা ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৮ সালের মে পর্যন্ত হার্ভার্ডে অবস্থান করে নিজ নিজ প্রকল্পে পূর্ণসময় কাজ করবেন। ফেলোশিপের আওতায় নির্বাচিতরা পাবেন: * ৭৮ হাজার মার্কিন ডলার স্টাইপেন্ড * প্রকল্প পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত ৫ হাজার ডলার * হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ও গবেষণা সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ * ব্যক্তিগত অফিস বা কর্মস্থল * যোগ্যতার ভিত্তিতে আবাসন, স্থানান্তর, স্বাস্থ্যসেবা ও শিশুসেবা সহায়তা। আবেদনকারীদের নিজ নিজ বিষয়ে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। মানবিক ও সমাজবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে আবেদনকারীদের সাধারণত ডক্টরেট ডিগ্রি এবং প্রকাশিত গবেষণাকর্ম থাকতে হবে। বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে আবেদনকারীদের জন্যও গবেষণা প্রকাশনার নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। বর্তমানে কোনো ডিগ্রি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এ ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। ২০২৭–২০২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। মানবিক, সমাজবিজ্ঞান, সৃজনশীল শিল্প, নন-ফিকশন ও সাংবাদিকতা বিভাগের আবেদন শেষ হবে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও গণিত বিভাগের আবেদন গ্রহণ করা হবে ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। হার্ভার্ড র্যাডক্লিফ ফেলোশিপকে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা ও সৃজনশীল ফেলোশিপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নির্বাচিত ফেলোরা আন্তঃবিষয়ক পরিবেশে গবেষণা ও নতুন ধারণা বিকাশের সুযোগ পান।
মেয়েদের আপত্তিকর ছবি তুলে লন্ডনে বয়ফ্রেন্ডের কাছে পাঠাতেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী
ডার্ক ম্যাটারের খোঁজে, নাসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিশনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. লামিয়া
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ, মিলবে প্রায় ১ কোটি টাকা
বাংলাদেশের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের স্নাতক মিফতাহুল জান্নাত একই সঙ্গে বিশ্বের তিনটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়—হার্ভার্ড, কেমব্রিজ ও অক্সফোর্ড, থেকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত পূর্ণ স্কলারশিপ নিয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। মিফতাহুল জানান, কেবল একাডেমিক ফল নয়, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যই তার আবেদনকে আরও শক্তিশালী করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি বস্তি এলাকার শিশুদের শিক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগে কাজ করেছেন। পাশাপাশি ফ্রান্সে শিক্ষাবিনিময় কর্মসূচি এবং হংকংয়ে ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা তার বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হার্ভার্ডের শিক্ষাবিষয়ক স্নাতকোত্তর কর্মসূচি তার দীর্ঘদিনের সামাজিক কাজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়কেই বেছে নিয়েছেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা শিক্ষার্থীদের জন্য মিফতাহুলের পরামর্শ, আবেদন করার আগে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা এবং নিজের জীবন, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে আলাদা আলাদা স্টেটমেন্ট অব পারপাস তৈরি করা। তার মতে, বাস্তব সামাজিক কাজের অভিজ্ঞতা, সুস্পষ্ট লক্ষ্য এবং শিক্ষকদের শক্তিশালী সুপারিশপত্র আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হার্ভার্ডে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে কাজ করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন মিফতাহুল। তিনি চান, বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, রোহিঙ্গা শিশু এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে, যেখানে সামাজিক বা অর্থনৈতিক অবস্থানের কারণে কেউ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না। চট্টগ্রামভিত্তিক এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা এবং নারী নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির বহু শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, হার্ভার্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন।
১৮ বছরেই বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অধ্যাপক, ৩০৬ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাথান থমাস
ঢাবির শিক্ষক বরখাস্তে নতুন মোড়! স্বচ্ছ তদন্তের দাবি যুক্তরাজ্যের
চুরি ও গবেষণা অনিয়মে প্রত্যাহার ৩২৫ বাংলাদেশি গবেষণাপত্র, প্রশ্নের মুখে গবেষণার মান
উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। বিশেষ করে সোশ্যাল সায়েন্সে পিএইচডি করতে আগ্রহীদের কাছে দেশটি আকর্ষণীয়, কারণ অধিকাংশ প্রোগ্রামেই পূর্ণ অর্থায়ন, গবেষণাকেন্দ্রিক প্রশিক্ষণ, শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একাডেমিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। তবে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগভেদে ভিন্ন হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ সোশ্যাল সায়েন্স পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদনের সময় পূর্ণাঙ্গ গবেষণা প্রস্তাব (রিসার্চ প্রপোজাল) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণত আবেদনকারীদের স্টেটমেন্ট অব পারপাসে গবেষণার আগ্রহ, সম্ভাব্য গবেষণার ক্ষেত্র এবং যেসব অধ্যাপকের সঙ্গে কাজ করতে চান, সেসব বিষয় তুলে ধরতে হয়। এর ফলে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা তুলনামূলক সহজ হয়। পূর্ণ অর্থায়নও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় আকর্ষণ। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি মওকুফ, মাসিক স্টাইপেন্ড, স্বাস্থ্যবীমা এবং গবেষণা বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য অতিরিক্ত অর্থসহায়তা পেয়ে থাকেন। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু সেলফ-ফান্ডেড প্রোগ্রাম চালু হয়েছে, তবুও শীর্ষস্থানীয় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশ সোশ্যাল সায়েন্স পিএইচডি এখনো সম্পূর্ণ অর্থায়নের আওতায় পরিচালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পিএইচডি প্রোগ্রামের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো বিস্তৃত কোর্সওয়ার্ক। গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা কোয়ান্টিটেটিভ ও কোয়ালিটেটিভ গবেষণা পদ্ধতি, রিসার্চ ডিজাইন, তাত্ত্বিক কাঠামো এবং বিষয়ভিত্তিক উন্নত কোর্স সম্পন্ন করেন। ফলে গবেষণা পরিকল্পনা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং একাডেমিক লেখালেখিতে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। সোশ্যাল সায়েন্সের অনেক বিভাগে প্রচলিত ডিসার্টেশন কাঠামোও অন্যান্য দেশের তুলনায় আলাদা। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি দীর্ঘ মনোগ্রাফের পরিবর্তে তিন বা চারটি গবেষণাপত্রের সমন্বয়ে ডিসার্টেশন সম্পন্ন করার সুযোগ থাকে। এসব গবেষণাপত্র সাধারণত আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশযোগ্য মানের হওয়ায় শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে প্রবেশের আগেই গবেষণা প্রকাশনার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। বিশ্বব্যাপী একাডেমিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের পিএইচডির গ্রহণযোগ্যতা দীর্ঘদিনের। পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পাবলিক পলিসি, ননপ্রফিট স্টাডিজসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা পরিকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অধ্যাপকদের তত্ত্বাবধান শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক গবেষণা পরিবেশে কাজ করার সুযোগ বাড়ায়। গবেষণার পাশাপাশি পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে। দেশটিতে নিয়মিত আয়োজিত হয় সমাজবিজ্ঞান, জনপ্রশাসন, পাবলিক পলিসি, ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এসব সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও সম্ভাব্য নিয়োগদাতাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। বেশিরভাগ পিএইচডি শিক্ষার্থী পড়াশোনার সময় টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা পরবর্তী সময়ে নিজস্ব কোর্সও পরিচালনা করার সুযোগ পান। এতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষাদানের বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে শিক্ষকতা বা গবেষণাভিত্তিক চাকরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পিএইচডি সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপ, ভিজিটিং স্কলার, ভিজিটিং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, লেকচারার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসরসহ বিভিন্ন ধরনের একাডেমিক ও গবেষণামূলক পদে আবেদন করার সুযোগ থাকে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডিগ্রি নিয়ে ইউরোপ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগও তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সব বিশ্ববিদ্যালয় বা বিভাগে সুযোগ-সুবিধা এক রকম নয়। অর্থায়ন, কোর্সের কাঠামো, গবেষণার পরিবেশ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয়ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভর্তি নীতি
যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক শেষে কাজ করতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য লাগবে ১ লাখ ডলারের ফি
শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় বড় সুযোগ, বছরে ৪৫ লাখ টাকার বৃত্তি