সৌদির মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ, ঈদের চেয়েও বড় আনন্দ খুলনার আলিমুলের
খুলনার ২১ বছর বয়সী আলিমুল ইসলাম সৌদি আরবের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়ার খবরটি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে গত মাসে সুখবরটি পাওয়ার পর থেকেই আনন্দে সময় কাটছে তার।
আলিমুল বলেন, “এটা আমার কাছে ঈদের আনন্দের চেয়েও বড়। আমি আনন্দে অভিভূত। এই খুশি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
তার এই অর্জনে বন্ধুরাও বেশ উচ্ছ্বসিত। কেউ কেউ তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হয়েছেন বলে জানান আলিমুল। বিশেষ করে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্মৃতিবিজড়িত ভূমিতে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়াকে তিনি জীবনের বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন।
আলিমুল সৌদি সরকারের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২২ সালে ঘোষিত এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য ২৬৫টি পূর্ণ বৃত্তির সুযোগ রাখা হয়েছিল। বিজ্ঞান, প্রকৌশল, ইসলামিক স্টাডিজ, আরবি ভাষা ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।
সৌদি সরকারের এই বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, আবাসন ও খাবারের খরচ বহন করা হয়। পাশাপাশি যাতায়াতের বিমানভাড়া, বই কেনার জন্য বার্ষিক ভাতা এবং জীবনযাপনের খরচের জন্য মাসিক স্টাইপেন্ডও দেওয়া হয়।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও জানিয়েছে সৌদি আরব। গত মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন আবিয়াহ জানান, এই বৃত্তির সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০০ করা হবে।
এদিকে একই বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় এবার সৌদি আরবে পড়াশোনা শুরু করতে যাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোহাম্মদ হাসিব। তিনি কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রিতে আরবি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করবেন।
সৌদি আরবকে উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে হাসিব বলেন, দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে অনেকেই সম্মানজনক অবস্থানে কাজ করছেন। তার মাদ্রাসার সিনিয়র ভাই ও শিক্ষকদের অনেকেই সৌদি আরবে পড়াশোনা করেছেন। তাদের দেখে তিনিও সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহী হন।
সৌদি আরবে গিয়ে আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি দেশটির সংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচিত হতে চান হাসিব। পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চান তিনি। ভবিষ্যতে মাদ্রাসার শিক্ষক হয়ে অর্জিত জ্ঞান অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। বৃত্তির সুযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা এবং কিছু প্রোগ্রামে ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগও এ আগ্রহ বাড়ার অন্যতম কারণ।
অ্যাসোসিয়েশন অব সৌদি ইউনিভার্সিটি গ্র্যাজুয়েটস ইন বাংলাদেশের কোষাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম আল-মাদানি আরব নিউজকে বলেন, কিছু বিষয়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রে এখন আরবি ভাষায় দক্ষতা বাধ্যতামূলক নয়। আইইএলটিএস থাকলে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি মাধ্যমেও পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে সৌদি আরবের উচ্চশিক্ষা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্পর্কও শিক্ষার্থীদের আগ্রহের বড় কারণ। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করেন। পাশাপাশি মক্কা ও মদিনার প্রতি বাংলাদেশিদের গভীর ধর্মীয় ও আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।
আল-মাদানির মতে, এই ধর্মীয় ও আবেগের সম্পর্কও সৌদি আরবে পড়াশোনার প্রতি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ায়। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি হজ ও ওমরাহ পালনের সুযোগও শিক্ষার্থীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।
আলিমুল ও হাসিবের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য এই বৃত্তি শুধু বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নয়, বরং আর্থিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই নিজেদের স্বপ্ন পূরণের একটি বড় পথ। পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে অর্জিত শিক্ষা ও দক্ষতা সমাজ ও দেশের কাজে লাগাতে চান তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreনিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে দুই বছরের প্রবাসজীবন শেষে বাংলাদেশে ফিরে এসে নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিচার মোকাবিলা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। একই সঙ্গে দেশে ফিরে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলার পাশাপাশি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার আশাও ধরে রেখেছেন সাবেক এই অধিনায়ক। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, সরকার যদি তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুমতি দেয়, তাহলে তিনি দেশে ফিরতে প্রস্তুত। তার দাবি, নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সত্য নয় এবং তিনি আদালতের মুখোমুখি হতে ভয় পান না। সাকিব বলেন, সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে তিনি দেশে ফিরে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে এবং প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে রাজি। তার ভাষ্য, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন সাকিব। তিনি শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। বর্তমানে ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেননি। সাকিবের দেশে ফেরার প্রশ্নটি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তার রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠদের নিয়ে তৈরি হওয়া বৃহত্তর পরিস্থিতির সঙ্গেও যুক্ত। সাবেক সরকারের অনেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক সহযোগী বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তাদের কেউ কেউ দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। সাকিবের নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা সক্রিয় রয়েছে। এর একটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলা। অন্যটি দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষের করা মামলা। হত্যা মামলাটি নিয়ে সাকিব দাবি করেন, যে দিন তাকে মামলায় আসামি করা হয়, সেদিন তিনি কানাডার টরন্টোতে একটি ক্রিকেট ম্যাচ খেলছিলেন। এ মামলাকে তিনি ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে এখনো ওই মামলায় নিজের পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করেননি বলেও জানান তিনি। সাকিবের ব্যাংক হিসাবও প্রায় দেড় বছর ধরে তদন্তের কারণে স্থগিত রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে কোন কোন ব্যাংকে হিসাব রয়েছে বা সেখানে কত অর্থ আটকে আছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। দেশে ফেরার চেষ্টা অবশ্য এর আগেও করেছিলেন সাকিব। ২০২৪ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পর একবার বাংলাদেশে ফেরার বিমানে উঠেছিলেন বলে জানান তিনি। কিন্তু মাঝপথে তাকে ফিরে যেতে বলা হয়। পরে দুবাইয়ে নেমে আবার নিউইয়র্কে ফিরে যান তিনি। সাকিব বলেন, দেশে ফেরার ওই পরিকল্পনা পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কী পরিবর্তন হয়েছিল, তা তিনি জানেন না। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পর আরেকটি দেশে ফেরার পরিকল্পনাও ভেস্তে যায় বলে দাবি করেন সাকিব। তার ভাষ্য, কর্তৃপক্ষ ওই পোস্টকে দেশে ঢুকতে না দেওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেননি বলেও জানান। এর আগে তাকে দেশে ফেরার সুযোগ তৈরি করতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে সাকিব জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে দেশে ফেরার কোনো শর্ত তিনি বিবেচনা করবেন না। ২০২৪ সালে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানিয়েছিলেন, অন্য ক্রিকেটারদের মতো সাকিবের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। তবে একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে জনমনে যে ক্ষোভ রয়েছে, তা কমাতে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। বর্তমান সরকার অবশ্য সাকিবের দেশে ফেরার বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব এএএম সালেহ রয়টার্সকে বলেছেন, সাকিবকে সাবেক সরকারের একজন সদস্য হিসেবে নিজের কর্মকাণ্ডের পরিণতি মোকাবিলা করতে হবে। বাংলাদেশের আইন সবার জন্য সমান এবং সাকিবকে আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করে বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে বলেও জানান তিনি। সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে তিনি শান্তি ও বাংলাদেশের অগ্রগতির আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে জানান। এতে তার কোনো অনুশোচনা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। এর পর বাংলাদেশে তার একটি খালি বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। সাকিব জানান, আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইন, স্বরাষ্ট্র ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের কাছে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেখানে নিজের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোকে ভিত্তিহীন ও সাজানো দাবি করে তা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে কোনো পক্ষ থেকেই তিনি জবাব পাননি বলে দাবি করেন। দেশে ফেরার পাশাপাশি ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়েও এখন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চান সাকিব। তিনি বলেন, এখনো ভালো লাগছে, খেলাটাও উপভোগ করছেন এবং ভালো খেলছেন। তবে বয়স তার পক্ষে নেই, তাই অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আর বেশি সময় অপেক্ষা করতে চান না। বাংলাদেশের হয়ে শেষবারের মতো মাঠে নামার ইচ্ছার পাশাপাশি ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও খেলার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে সেই সুযোগ পাওয়ার আগে দেশে ফিরে আইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়াই এখন তার জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই বছর ধরে বাংলাদেশে থাকা বাবা-মায়ের সঙ্গেও দেখা করতে পারেননি সাকিব। তার দাবি, তার বাবা-মাও বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যেতে পারছেন না। দীর্ঘ এই বিচ্ছিন্নতা নিয়ে সাকিব বলেন, পুরো পরিবারের জন্য সময়টা কঠিন হলেও তারা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বেঁচে আছেন।
সৌদির মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ, ঈদের চেয়েও বড় আনন্দ খুলনার আলিমুলের
র্যাব বিলুপ্ত করে গঠন হচ্ছে নতুন বাহিনী ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’
আইসিইউতে হাতকড়া পরা ছবি নিয়ে ভাইরাল সেই আওয়ামী লীগ নেতা আর মারা গেছেন
ঠাকুরগাঁওয়ে ঋণের কিস্তি আদায়ের নামে এক গ্রাহকের বাড়ি থেকে গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন বা ইএসডিওর কর্মীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, তার কোনো কিস্তি বকেয়া ছিল না এবং ঋণ পরিশোধের জন্য আরও সাত মাস সময় ছিল। এরপরও পুরো টাকা একসঙ্গে পরিশোধের চাপ দিয়ে বাড়ি থেকে গরুটি নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ জুলাই ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের রোড এলাকায়। স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী সুমন চন্দ্র রায় ইএসডিওর শান্তিনগর শাখা থেকে মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির আওতায় দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণ নেওয়ার পর থেকে তিনি নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে আসছিলেন বলে দাবি করেছেন। সুমনের ভাষ্য, ঘটনার দিন ইএসডিওর কয়েকজন মাঠকর্মী তার বাড়িতে গিয়ে বাকি ঋণের সব টাকা একসঙ্গে পরিশোধ করতে বলেন। তাৎক্ষণিকভাবে পুরো টাকা দিতে না পারায় তারা বাড়িতে থাকা একটি গরু নিয়ে যান। সুমন চন্দ্র রায় বলেন, তার কোনো কিস্তি বকেয়া ছিল না। চুক্তি অনুযায়ী ঋণ পরিশোধের জন্য আরও সাত মাস সময় থাকার কথা। গ্রামের বাড়ি ছেড়ে শহরের ভাড়া বাসায় ওঠার কারণে তিনি পালিয়ে যাচ্ছেন এমন সন্দেহ তৈরি হলেও সংস্থাটির কাছে তার চেকসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এসবের পরও বাড়ি থেকে গরু নিয়ে যাওয়ায় তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঘটনার ছয় দিন পরও গরুটি ইএসডিওর শান্তিনগর শাখার মাঠে রাখা ছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করার দাবি করে স্থানীয় মুদি দোকানি ছানোয়ার হোসেন বলেন, সুমনের এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং তিনি পালিয়ে যাচ্ছিলেন না। তার অভিযোগ, স্থানীয়দের সামনেই টানাহেঁচড়া করে গরুটি নিয়ে যাওয়া হয়। কিস্তি বকেয়া না থাকার পরও এমন আচরণ করা ঠিক হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। ঘটনার পর স্থানীয় ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কিস্তি আদায় বা ঋণ পরিশোধে চাপ দেওয়ার নামে কোনো গ্রাহকের বাড়ি থেকে গবাদিপশু নিয়ে যাওয়ার এখতিয়ার একটি বেসরকারি সংস্থার রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। অভিযোগের বিষয়ে ইএসডিওর দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঠকর্মী ও শান্তিনগর শাখার ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শাখাটির এক কর্মচারী বলেন, সুমন অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছিলেন এমন তথ্য পাওয়ার পর গরুটি অফিসে এনে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি। ইএসডিওর এরিয়া ম্যানেজার মিতালি ঘটনাটি ঘটেছে বলে স্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, দুই পক্ষের কথা শুনলে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে। তিনি জানান, গ্রাহক অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এবং সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়ায় গরু নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছেন, এটি সংস্থার অনুমোদিত কোনো পদ্ধতি কি না এবং গ্রাহকের কিস্তি সত্যিই বকেয়া ছিল কি না, এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত গরুটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
টানা ৫ দিন অনশনের পর বিয়ে, তিন মাস পর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন, বাংলাদেশের তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ
মাগুরায় সাকিব আল হাসানের বাড়িতে আগুন, পেট্রলবোমা বিস্ফোরণ
নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা জুলাই গণঅভ্যুত্থ্যান দিবস অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পেয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আয়োজিত ‘আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল’ অনুষ্ঠান পণ্ড করে দিয়েছে ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষের বক্তব্য ছাড়াই দোয়ার মাধ্যমে দ্রুত প্রোগ্রাম শেষ করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে দশটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, পবিত্র কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থ্যান দিবস উপলক্ষ্যে ‘আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল’ শুরু হয়। এরপর শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ৪ আগস্ট পাবনায় যুবলীগ-আওয়ামীলীগের গুলিতে শহীদ হওয়া শহীদ মাহবুব হাসান নিলয়ের পিতা আবুল কালাম আজাদ। এরপর ৪ আগস্টে আরেক শহীদ জাহিদুল ইসলামের পিতাকে বক্তব্য রাখার জন্য মঞ্চে ডাকলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বাইরে থেকে মিছিল নিয়ে কনভেনশন সেন্টারে প্রবেশ করেন। এরপর অনুষ্ঠানস্থলে দাঁড়িয়ে ‘জিয়ার সৈনিক এক হও লড়াই করো’, ‘পাবিপ্রবি ছাত্রদল জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘জুলাইয়ের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান’, ‘দালালি আর করিস না পিঠের চামড়া থাকবেনা’, ‘আবু সাইদের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত, রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘আওয়ামী লীগের দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান’ এবং ‘আহ্বায়ক ভুয়া, ভুয়া’ প্রভৃতি স্লোগান দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশিদুল হক এবং অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামানের ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করলে তারা শিক্ষকদের সাথে বাগ্বিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। ঘটনার এক পর্যায়ে ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইসিই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান হোসেন তাদেরকে থামার জন্য বললে ছাত্রদল কর্মী নিশানকে ঐ শিক্ষকের দিকে তেড়ে আসতে দেখা যায়। এরপর উপাচার্য মাইক নিয়ে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের অনুষ্ঠানের পরে আলোচনায় বসার আহ্বান জানালে তারা উপাচার্যকে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে চিৎকার করে ওঠেন। পরবর্তীতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া শুরু করলে ‘স্বাধীনতা হল’ মসজিদের ইমাম মুফতী শাখাওয়াত হোসেন দোয়া পরিচালনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করেন। সংবাদ সংগ্রহকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দুর্ব্যবহার করতে দেখা যায়। তবে ছাত্রদলের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই কর্মসূচিতে জুলাইয়ের ‘স্টেক হোল্ডারদের’ দাওয়াত না দেওয়া এবং অনুষ্ঠানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি রাখার কারণে তারা কর্মসূচির প্রতিবাদ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন একজন জুলাই যোদ্ধার চেতনার প্রতীক। প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের বাদ দিয়ে জুলাইকে কেন্দ্র করে কোনো আয়োজন আমরা মেনে নিতে পারি না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫ আগস্ট উপলক্ষে কর্মসূচি আয়োজন করেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবনার যেসব সমন্বয়ক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।’ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেন বলেন, ‘জুলাই স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের কাউকেই দাওয়াত দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবনা জেলার সমন্বয়ক মঞ্জুরুল, সহ-সমন্বয়ক রুমেল এবং গুম হওয়া নিশান-কেউ আমন্ত্রণ পাননি। অথচ আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়ে অনুষ্ঠান করা হয়েছে। এ কারণেই আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি।’ তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আলোচনা সভার আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘কমিটির পক্ষ থেকে সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে প্রতিটি বিভাগেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। জুলাই যোদ্ধাদের আমন্ত্রণ জানানো না হলে সাকিব, মাসুম কীভাবে অনুষ্ঠানে এল? এমনকি হল ফিস্ট উপলক্ষে রাতের খাবারের জন্যও আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের ফোন করে দাওয়াত দিয়েছি।’ এম এস রহমান, পাবনা থেকে।
জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মতিউর রহমান লিটুর খোলা চিঠি।
জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর: সংকট, বিতর্ক ও বিভাজন