দুই বছর পর দেশে ফেরার ইচ্ছা সাকিবের, নিরাপত্তা পেলে বিচার মোকাবিলার পাশাপাশি বিদায়ী সিরিজ খেলতে চান
নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে দুই বছরের প্রবাসজীবন শেষে বাংলাদেশে ফিরে এসে নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিচার মোকাবিলা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। একই সঙ্গে দেশে ফিরে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলার পাশাপাশি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার আশাও ধরে রেখেছেন সাবেক এই অধিনায়ক।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, সরকার যদি তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুমতি দেয়, তাহলে তিনি দেশে ফিরতে প্রস্তুত। তার দাবি, নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সত্য নয় এবং তিনি আদালতের মুখোমুখি হতে ভয় পান না।
সাকিব বলেন, সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে তিনি দেশে ফিরে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে এবং প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে রাজি। তার ভাষ্য, তিনি কোনো অপরাধ করেননি।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন সাকিব। তিনি শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। বর্তমানে ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেননি।
সাকিবের দেশে ফেরার প্রশ্নটি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তার রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠদের নিয়ে তৈরি হওয়া বৃহত্তর পরিস্থিতির সঙ্গেও যুক্ত। সাবেক সরকারের অনেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক সহযোগী বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তাদের কেউ কেউ দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
সাকিবের নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা সক্রিয় রয়েছে। এর একটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলা। অন্যটি দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষের করা মামলা।
হত্যা মামলাটি নিয়ে সাকিব দাবি করেন, যে দিন তাকে মামলায় আসামি করা হয়, সেদিন তিনি কানাডার টরন্টোতে একটি ক্রিকেট ম্যাচ খেলছিলেন। এ মামলাকে তিনি ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে এখনো ওই মামলায় নিজের পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করেননি বলেও জানান তিনি।
সাকিবের ব্যাংক হিসাবও প্রায় দেড় বছর ধরে তদন্তের কারণে স্থগিত রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে কোন কোন ব্যাংকে হিসাব রয়েছে বা সেখানে কত অর্থ আটকে আছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
দেশে ফেরার চেষ্টা অবশ্য এর আগেও করেছিলেন সাকিব। ২০২৪ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পর একবার বাংলাদেশে ফেরার বিমানে উঠেছিলেন বলে জানান তিনি। কিন্তু মাঝপথে তাকে ফিরে যেতে বলা হয়। পরে দুবাইয়ে নেমে আবার নিউইয়র্কে ফিরে যান তিনি।
সাকিব বলেন, দেশে ফেরার ওই পরিকল্পনা পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কী পরিবর্তন হয়েছিল, তা তিনি জানেন না।
এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পর আরেকটি দেশে ফেরার পরিকল্পনাও ভেস্তে যায় বলে দাবি করেন সাকিব। তার ভাষ্য, কর্তৃপক্ষ ওই পোস্টকে দেশে ঢুকতে না দেওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেননি বলেও জানান।
এর আগে তাকে দেশে ফেরার সুযোগ তৈরি করতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে সাকিব জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে দেশে ফেরার কোনো শর্ত তিনি বিবেচনা করবেন না।
২০২৪ সালে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানিয়েছিলেন, অন্য ক্রিকেটারদের মতো সাকিবের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। তবে একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে জনমনে যে ক্ষোভ রয়েছে, তা কমাতে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
বর্তমান সরকার অবশ্য সাকিবের দেশে ফেরার বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব এএএম সালেহ রয়টার্সকে বলেছেন, সাকিবকে সাবেক সরকারের একজন সদস্য হিসেবে নিজের কর্মকাণ্ডের পরিণতি মোকাবিলা করতে হবে। বাংলাদেশের আইন সবার জন্য সমান এবং সাকিবকে আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করে বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে তিনি শান্তি ও বাংলাদেশের অগ্রগতির আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে জানান। এতে তার কোনো অনুশোচনা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। এর পর বাংলাদেশে তার একটি খালি বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে।
সাকিব জানান, আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইন, স্বরাষ্ট্র ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের কাছে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেখানে নিজের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোকে ভিত্তিহীন ও সাজানো দাবি করে তা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে কোনো পক্ষ থেকেই তিনি জবাব পাননি বলে দাবি করেন।
দেশে ফেরার পাশাপাশি ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়েও এখন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চান সাকিব। তিনি বলেন, এখনো ভালো লাগছে, খেলাটাও উপভোগ করছেন এবং ভালো খেলছেন। তবে বয়স তার পক্ষে নেই, তাই অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আর বেশি সময় অপেক্ষা করতে চান না।
বাংলাদেশের হয়ে শেষবারের মতো মাঠে নামার ইচ্ছার পাশাপাশি ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও খেলার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে সেই সুযোগ পাওয়ার আগে দেশে ফিরে আইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়াই এখন তার জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুই বছর ধরে বাংলাদেশে থাকা বাবা-মায়ের সঙ্গেও দেখা করতে পারেননি সাকিব। তার দাবি, তার বাবা-মাও বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যেতে পারছেন না। দীর্ঘ এই বিচ্ছিন্নতা নিয়ে সাকিব বলেন, পুরো পরিবারের জন্য সময়টা কঠিন হলেও তারা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বেঁচে আছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreবাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হবেন। তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালে প্রথমবার এই মঞ্চে ভাষণ দেন। জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন জিয়াউর রহমান। তাঁর বক্তব্যে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এর ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে প্রথমবার বক্তব্য দেন বেগম খালেদা জিয়া। পরে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মারক সভা, ২০০২ সালের শিশুবিষয়ক বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালের ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভাসহ আরও কয়েকটি জাতিসংঘের কার্যক্রমে তিনি বক্তব্য দেন। এবার তাদের ছেলে তারেক রহমান একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন। তাঁর এই ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকের বেশি সময়ের সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের এবারের ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসার কথা রয়েছে। জিয়া পরিবারের তিন সদস্যের জাতিসংঘে অংশগ্রহণের ইতিহাসের শুরু ১৯৮০ সালে। জিয়াউর রহমানের পর খালেদা জিয়ার একাধিকবার অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় এবার প্রথমবারের মতো সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। এবার বাংলাদেশের জন্য জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০২৬ সালের ২ জুন এ পদে নির্বাচিত হন এবং ৮ সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব শুরু করেন। জাতিসংঘের সূচি অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে; এরপর ২৮ সেপ্টেম্বরও সাধারণ বিতর্কের কার্যক্রম রয়েছে। তারেক রহমানের ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণ তাই শুধু তাঁর প্রথম জাতিসংঘ ভাষণই নয়, একই পরিবারের তিন সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার ধারাবাহিকতারও একটি নতুন পর্ব হিসেবে সামনে আসছে।
বিষাক্ত বুড়িগঙ্গায় টিকে আছে মাত্র ২০ ডলফিন, বেঁচে থাকতে খাচ্ছে সাকার ফিস
সন্তান জন্মের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদ, যমজ নবজাতককে হাসপাতালে রেখে বাবার আত্মহত্যা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, সাইবার নিরাপত্তায় সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার
উচ্চ বেতন ও উন্নত জীবনযাপনের সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষিত বাংলাদেশিদের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নিয়ে গিয়ে অনলাইন প্রতারণা চক্রে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন দালালচক্রের মাধ্যমে এসব বাংলাদেশিকে প্রথমে বিদেশে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের অনেককে জোরপূর্বক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর ইউএনওডিসির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ‘ট্রাফিকড টু স্ক্যাম: সাউথ এশিয়ান রেসপন্সেস টু ট্রাফিকিং ইন পারসনস ফর দ্য পারপাস অব ফোর্সড ক্রিমিনালিটি ইন স্ক্যাম অপারেশনস’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২০২২ সাল থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন প্রতারণা কার্যক্রমে জোরপূর্বক অপরাধে যুক্ত করার উদ্দেশ্যে পাচারের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাসে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে তাঁদের আকৃষ্ট করা হয়। প্রতারণামূলক নিয়োগের পাশাপাশি লাইসেন্সধারী নিয়োগ সংস্থা ও স্থানীয় অনানুষ্ঠানিক দালালদের কয়েক স্তরের নেটওয়ার্কও এ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশিদের জন্য যেসব দেশকে গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইউএনওডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ক্ষেত্রে প্রতারণামূলক অনলাইন নিয়োগই পাচারকারীদের প্রধান কৌশল। অনেক সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দালালদের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং বিদেশে ভালো চাকরির সুযোগের কথা বলে তাঁদের প্রলুব্ধ করা হয়। এই পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সবাই যে কম শিক্ষিত বা অদক্ষ, তা নয়। বরং বাংলাদেশ নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতারণা কেন্দ্রে পাচারের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ রয়েছেন। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৪ জন উচ্চমাধ্যমিক, ৪৮ জন মাধ্যমিক, ২৫ জন স্নাতক এবং তিনজন স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ছিলেন। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিদেশে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৬ জন ঢাকার, ২৮ জন চট্টগ্রামের, ২৫ জন খুলনার এবং ২২ জন রাজশাহীর বাসিন্দা ছিলেন। বিদেশে যাওয়ার সময় ৮৪ জন অবিবাহিত এবং ৬৬ জন বিবাহিত ছিলেন। পাচারের আগে ২২ জন শিক্ষার্থী এবং ১৬ জন বেকার ছিলেন। আয়ের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা ছিল অনেকের। ৫৭ জন জানিয়েছেন, বিদেশে যাওয়ার আগে তাঁদের কোনো মাসিক আয় ছিল না। আর ৬০ জনের মাসিক আয় ছিল ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, প্রতারণা কেন্দ্রগুলো শিক্ষিত মানুষকে টার্গেট করে, কারণ এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ইংরেজি ভাষা ও কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা প্রয়োজন। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। শরিফুল হাসান আরও বলেন, বাংলাদেশে সাইবার প্রতারণা কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষতা ক্রমেই সহজলভ্য হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এমন কিছু কেন্দ্র ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে বলেও তাঁরা সন্দেহ করছেন। ইউএনওডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের শুধু অনলাইন প্রতারণায় যুক্ত করা হয় না, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁদের দিয়ে অন্যান্য অপরাধও করানো হয়। তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো, ভয়ভীতি দেখানো এবং অন্য কর্মীদের ওপর সহিংসতা চালাতে বাধ্য করার ঘটনাও প্রতিবেদনে নথিভুক্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের একজন তরুণের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। ২০২২ সালে বিশের কোঠায় থাকা ওই বাংলাদেশি একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আশ্বাসে পরিচিত একজনের মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় যান। বিদেশে যাওয়ার জন্য তাঁর পরিবার জমি বন্ধক রেখে ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত নিয়োগ ফি পরিশোধ করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি দালালরা তাঁকে একটি অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর তাঁকে নমপেন থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরের দারা সাকোর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের লং বে নামের একটি প্রতারণা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।. ইউএনওডিসির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তাঁকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি এবং বিনিয়োগের নামে অনলাইন প্রতারণা করতে বাধ্য করা হয়। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হলে তাঁকে নির্যাতন করা হতো। এমনকি অন্য কর্মীদের মারধর করতেও ওই বাংলাদেশিকে বাধ্য করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বড় বড় প্রতারণা কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি ছোট পরিসরের জায়গা, যেমন ভাড়া করা বাড়ি, হোটেল ও অ্যাপার্টমেন্টেও এ ধরনের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ছে বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এসব কেন্দ্র শনাক্ত করা এবং পাচারের শিকার ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। এ ধরনের ঘটনায় একটি বড় সমস্যা হলো, প্রতারণা করতে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিদের অনেক সময় প্রথমে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইউএনওডিসি বলছে, কেউ ভুয়া অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছে, অনলাইনে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বা প্রতারণার অন্য কোনো কাজে যুক্ত আছে বলেই তাকে স্বেচ্ছায় অপরাধে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তিনি পাচারের শিকার কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ইউএনওডিসির সাম্প্রতিক মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে প্রতারণা কেন্দ্র থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের নিয়মিতভাবে পাচারের শিকার কি না, তা যাচাই করা হয় না। ২০২৪ সালে জাতীয় রেফারেল ব্যবস্থা ও ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ নির্দেশিকা চালু হলেও এর প্রয়োগ এখনো ধারাবাহিক নয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আর্থিক তদন্ত এবং অর্থপাচার ও ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত লেনদেন অনুসন্ধানের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনের মূল বার্তা হলো, অনলাইন প্রতারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এর পেছনে থাকা মানবপাচার চক্র এবং জোরপূর্বক অপরাধে যুক্ত করা ব্যক্তিদের আলাদাভাবে শনাক্ত করা প্রয়োজন। ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন ও দালালচক্রের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতা, কাজের স্থান, বেতন ও ভিসার তথ্য যাচাই এবং সন্দেহজনক প্রস্তাব সম্পর্কে সতর্ক থাকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সূত্র: ইউএনওডিসি, নিউ এজ, ব্র্যাক।
‘কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারানো সম্মানের, ভালোবাসা ভাগ করার বিষয় নয়’: চিঠিতে মরিয়ম
হাটহাজারীতে সাত পা নিয়ে বাছুরের জন্ম, দেখতে কৌতূহলী মানুষের ঢ্ল
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের অতিরিক্ত গরম থেকে সুরক্ষা দিতে শীতলীকরণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করলে সেই খরচ চার বছরের মধ্যেই উঠে আসতে পারে। কর্নেল ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি বলছে, শ্রমিকদের তাপজনিত চাপ কমানোর পাশাপাশি এসব ব্যবস্থা কারখানার উৎপাদন ও আয় ধরে রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় ঢাকার আটটি পোশাক কারখানায় ছয় মাস ধরে তাপমাত্রার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, অনেক সময় কারখানার ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের তাপমাত্রার চেয়েও বেশি থাকে। বিশেষ করে আয়রনিং ও ফিনিশিং বিভাগে কাজ করা শ্রমিকেরা অতিরিক্ত গরমের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। অতিরিক্ত তাপের কারণে শ্রমিকদের কাজের সক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কারখানার আয়েও প্রভাব পড়ে। গবেষকদের হিসাবে, ওই আটটি কারখানায় অতিরিক্ত তাপজনিত চাপের কারণে বার্ষিক আয় গড়ে ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। ফলে গরমের সমস্যা শুধু শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও কর্মপরিবেশের বিষয় নয়, এটি পোশাক প্রস্তুতকারক এবং তাদের সঙ্গে কাজ করা বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করছে। তাপ কমাতে ছাদে প্রতিফলনশীল রং ব্যবহার, ছাদে তাপ নিরোধক ব্যবস্থা এবং কারখানায় বায়ু চলাচল বাড়ানোর মতো পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে গবেষণায়। গবেষকদের মতে, এসব উদ্যোগে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর হতে পারে এবং প্রায় চার বছরের মধ্যে সেই অর্থ ফেরত আসার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জেসন জাড রয়টার্সকে বলেন, নতুন গবেষণা পোশাকের ক্রেতা ও সরবরাহকারী উভয় পক্ষকে তাপ মোকাবিলায় কতটা বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি ধারণা দিচ্ছে। তাঁর মতে, শীতলীকরণে বিনিয়োগের প্রয়োজন থাকলেও অতিরিক্ত গরমের কারণে কারখানার কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তা জানা না থাকলে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বিভিন্ন পোশাক ব্র্যান্ডও কারখানায় তাপ মোকাবিলার বিনিয়োগ কত দিনে উঠে আসতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থার খরচ কে বহন করবে, তা এখনো বড় প্রশ্ন। গবেষকেরা ব্র্যান্ডগুলোকে এমন সরবরাহকারীদের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যারা শ্রমিকদের জন্য শীতলীকরণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করছে। এর আগে কর্নেল ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউট ও অংশীদারদের গবেষণায় বলা হয়েছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত তাপ ও বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা করা না হলে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের পোশাক খাত ২০৩০ সালের মধ্যে সম্মিলিতভাবে ৬৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রপ্তানি আয় হারাতে পারে। এসব দেশ বৈশ্বিক পোশাক সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদিকে, আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন বা এএএফএ গত ১৬ সেপ্টেম্বর শ্রমিকদের অতিরিক্ত তাপ থেকে সুরক্ষায় নতুন Heat Stress Toolkit প্রকাশ করেছে। এতে পোশাক ব্র্যান্ড ও কারখানাগুলোর জন্য তাপ মোকাবিলায় বাস্তবভিত্তিক নির্দেশনা, কর্মপদ্ধতি এবং সরবরাহকারীদের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, তাপ মোকাবিলার কিছু বিনিয়োগ যদি কোনো কারখানার জন্য এককভাবে আর্থিকভাবে যথেষ্ট লাভজনক না হয়, তাহলে ব্র্যান্ডগুলোকেও সেই খরচ ভাগ করে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ এবং উৎপাদন ধরে রাখার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নতুন গবেষণার ফল বলছে, কারখানা ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা শুধু শ্রমিক সুরক্ষার খরচ নয়; সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা হলে এটি উৎপাদন ও আয়ের ক্ষতি কমানোর একটি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
বাংলাদেশে এক লাফে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল ২০ টাকা, ২০২২ সালের পর একবারে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি
একাত্তরের জন্য ক্ষমা, নেতৃত্বে পরিবর্তনসহ জামায়াতকে রাজ্জাকের ৫ পরামর্শ