সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

দুই বছর পর দেশে ফেরার ইচ্ছা সাকিবের, নিরাপত্তা পেলে বিচার মোকাবিলার পাশাপাশি বিদায়ী সিরিজ খেলতে চান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ১২:৩০
দুই বছর পর দেশে ফেরার ইচ্ছা সাকিবের, নিরাপত্তা পেলে বিচার মোকাবিলার পাশাপাশি বিদায়ী সিরিজ খেলতে চান
দুই বছর পর দেশে ফেরার ইচ্ছা সাকিবের, নিরাপত্তা পেলে বিচার মোকাবিলার পাশাপাশি বিদায়ী সিরিজ খেলতে চান

নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে দুই বছরের প্রবাসজীবন শেষে বাংলাদেশে ফিরে এসে নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিচার মোকাবিলা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। একই সঙ্গে দেশে ফিরে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলার পাশাপাশি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার আশাও ধরে রেখেছেন সাবেক এই অধিনায়ক।

 

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, সরকার যদি তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুমতি দেয়, তাহলে তিনি দেশে ফিরতে প্রস্তুত। তার দাবি, নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সত্য নয় এবং তিনি আদালতের মুখোমুখি হতে ভয় পান না।

 

সাকিব বলেন, সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে তিনি দেশে ফিরে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে এবং প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে রাজি। তার ভাষ্য, তিনি কোনো অপরাধ করেননি।

 

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন সাকিব। তিনি শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। বর্তমানে ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেননি।

 

সাকিবের দেশে ফেরার প্রশ্নটি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তার রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠদের নিয়ে তৈরি হওয়া বৃহত্তর পরিস্থিতির সঙ্গেও যুক্ত। সাবেক সরকারের অনেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক সহযোগী বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তাদের কেউ কেউ দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

 

সাকিবের নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা সক্রিয় রয়েছে। এর একটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলা। অন্যটি দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষের করা মামলা।

 

হত্যা মামলাটি নিয়ে সাকিব দাবি করেন, যে দিন তাকে মামলায় আসামি করা হয়, সেদিন তিনি কানাডার টরন্টোতে একটি ক্রিকেট ম্যাচ খেলছিলেন। এ মামলাকে তিনি ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে এখনো ওই মামলায় নিজের পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করেননি বলেও জানান তিনি।

 

সাকিবের ব্যাংক হিসাবও প্রায় দেড় বছর ধরে তদন্তের কারণে স্থগিত রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে কোন কোন ব্যাংকে হিসাব রয়েছে বা সেখানে কত অর্থ আটকে আছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।

 

দেশে ফেরার চেষ্টা অবশ্য এর আগেও করেছিলেন সাকিব। ২০২৪ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পর একবার বাংলাদেশে ফেরার বিমানে উঠেছিলেন বলে জানান তিনি। কিন্তু মাঝপথে তাকে ফিরে যেতে বলা হয়। পরে দুবাইয়ে নেমে আবার নিউইয়র্কে ফিরে যান তিনি।

 

সাকিব বলেন, দেশে ফেরার ওই পরিকল্পনা পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কী পরিবর্তন হয়েছিল, তা তিনি জানেন না।

 

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পর আরেকটি দেশে ফেরার পরিকল্পনাও ভেস্তে যায় বলে দাবি করেন সাকিব। তার ভাষ্য, কর্তৃপক্ষ ওই পোস্টকে দেশে ঢুকতে না দেওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেননি বলেও জানান।

 

এর আগে তাকে দেশে ফেরার সুযোগ তৈরি করতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে সাকিব জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে দেশে ফেরার কোনো শর্ত তিনি বিবেচনা করবেন না।

 

২০২৪ সালে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানিয়েছিলেন, অন্য ক্রিকেটারদের মতো সাকিবের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। তবে একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে জনমনে যে ক্ষোভ রয়েছে, তা কমাতে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

 

বর্তমান সরকার অবশ্য সাকিবের দেশে ফেরার বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব এএএম সালেহ রয়টার্সকে বলেছেন, সাকিবকে সাবেক সরকারের একজন সদস্য হিসেবে নিজের কর্মকাণ্ডের পরিণতি মোকাবিলা করতে হবে। বাংলাদেশের আইন সবার জন্য সমান এবং সাকিবকে আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করে বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে বলেও জানান তিনি।

 

সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে তিনি শান্তি ও বাংলাদেশের অগ্রগতির আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে জানান। এতে তার কোনো অনুশোচনা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। এর পর বাংলাদেশে তার একটি খালি বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে।

 

সাকিব জানান, আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইন, স্বরাষ্ট্র ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের কাছে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেখানে নিজের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোকে ভিত্তিহীন ও সাজানো দাবি করে তা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে কোনো পক্ষ থেকেই তিনি জবাব পাননি বলে দাবি করেন।

 

দেশে ফেরার পাশাপাশি ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়েও এখন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চান সাকিব। তিনি বলেন, এখনো ভালো লাগছে, খেলাটাও উপভোগ করছেন এবং ভালো খেলছেন। তবে বয়স তার পক্ষে নেই, তাই অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আর বেশি সময় অপেক্ষা করতে চান না।

 

বাংলাদেশের হয়ে শেষবারের মতো মাঠে নামার ইচ্ছার পাশাপাশি ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও খেলার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে সেই সুযোগ পাওয়ার আগে দেশে ফিরে আইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়াই এখন তার জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

দুই বছর ধরে বাংলাদেশে থাকা বাবা-মায়ের সঙ্গেও দেখা করতে পারেননি সাকিব। তার দাবি, তার বাবা-মাও বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যেতে পারছেন না। দীর্ঘ এই বিচ্ছিন্নতা নিয়ে সাকিব বলেন, পুরো পরিবারের জন্য সময়টা কঠিন হলেও তারা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বেঁচে আছেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

বাংলাদেশ

View more
জয়পুরহাটে ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি নেই
জয়পুরহাটে ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি নেই, ‘জাতির পিতা’ বলাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল

জয়পুরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি ব্যানারে না থাকা এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ সম্বোধন করা নিয়ে দুই দফা হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। এতে নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা পর সভা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। অন্যদিকে ব্যানারসংক্রান্ত ত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া।   শনিবার সকাল ১০টায় আলোচনা সভা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানের ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। তাঁকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি মঞ্চে উঠতে অস্বীকৃতি জানান। পরে জেলা প্রশাসকসহ অন্য কর্মকর্তারা মঞ্চে গিয়ে জিয়াউর রহমানের ছবি-সংবলিত একটি পোস্টার স্কচটেপ দিয়ে ব্যানারে সাঁটিয়ে দেন। এরপর প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে ওঠেন এবং প্রায় আধা ঘণ্টা দেরিতে সভার কার্যক্রম শুরু হয়।   তবে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দিচ্ছিলেন জিয়া পরিষদের জয়পুরহাট পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি একাধিকবার শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ বলে সম্বোধন করেন। এতে উপস্থিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এ কে এম গোলাম মাহফুজ উত্তেজিত হয়ে মঞ্চের ডায়াসের দিকে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে বক্তাকে ডায়াস থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং আলোচনা সভা আবার শুরু হয়।   ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের ভেতরে এখনো এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁরা সরকারের কর্মকাণ্ড বিতর্কিত করতে চান। জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধানও ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘ ১৯ বছর পর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। অথচ সেই অনুষ্ঠানের ব্যানারেই দিবসটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকা গ্রহণযোগ্য নয়।   প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী অনুষ্ঠানের আয়োজনে একাধিক ত্রুটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে তদন্তের নির্দেশ দেন তিনি। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া জানান, ইন্টারনেট থেকে ছবি সংগ্রহ করে ব্যানার তৈরি করা হয়েছিল। এই ত্রুটির জন্য তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।   জেলা প্রশাসনের আয়োজিত এই আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, সিভিল সার্জন আল-মামুন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন এবং মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতাসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানের ব্যানার তৈরি এবং বক্তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির পেছনে কোনো ইচ্ছাকৃত ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   সূত্র : স্টার নিউজ

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৭:৫৬
ডিসেম্বরে একসঙ্গে থাকার স্বপ্ন

ডিসেম্বরে একসঙ্গে থাকার স্বপ্ন, তার আগেই নিথর হয়ে ফিরলেন সেনাসদস্য তিতাস

সিলেটে নিজ বাসার বাথরুমে আমেরিকা প্রবাসী মো. নুরুল ইসলামের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

সিলেটে নিজ বাসার বাথরুমে আমেরিকা প্রবাসী মো. নুরুল ইসলামের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

জাতীয় চার নেতার নাম বাদ দিয়ে কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজের নতুন নাম

জাতীয় চার নেতার নাম বাদ দিয়ে কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজের নতুন নাম

বাংলাদেশের রেলপথে ভারতীয় বেসরকারি ট্রেন চালানোর প্রস্তাব
বাংলাদেশের রেলপথে ভারতীয় বেসরকারি ট্রেন চালানোর প্রস্তাব, তিন রুটে ২৪ ঘণ্টা মালবাহী চলাচল চায় দিল্লি

  বাংলাদেশের রেলপথ ব্যবহার করে নিজেদের বেসরকারি কনটেইনার ট্রেন পরিচালনার অনুমতি চেয়েছে ভারত। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে তিনটি আন্তসীমান্ত রেলপথে ২৪ ঘণ্টা মালবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। তবে বাংলাদেশের রেলপথে ভারতীয় বেসরকারি ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দায়ভার ভারতীয় রেলওয়েকে নিতে হবে বলে শর্ত দিয়েছে ঢাকা। দুই দেশের রেল কর্মকর্তাদের বৈঠকে এসব প্রস্তাব ও শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে।   গত ৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত ৩৮তম আন্তসরকার রেলওয়ে বৈঠকের কার্যবিবরণীতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি রেল মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধানেরা বৈঠকের কার্যবিবরণীতে স্বাক্ষর করেন।   বৈঠকে ভারত জানায়, দেশটির বেসরকারি কনটেইনার ট্রেন অপারেটররা বাংলাদেশে প্রবেশ করে সরাসরি বিভিন্ন গন্তব্যে কনটেইনার পরিবহন করতে আগ্রহী। বর্তমানে ভারতীয় সরকারি ও বেসরকারি ট্রেন সীমান্তের ওপারে বেনাপোলের বিপরীতে ভারতীয় অংশ পর্যন্ত কনটেইনার নিয়ে আসে। এরপর সেখান থেকে ট্রাক বা ট্রেইলারের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে পণ্য পরিবহন করা হয়। এই ব্যবস্থার পরিবর্তে ভারতীয় বেসরকারি ট্রেনকে বাংলাদেশের রেলপথে চলাচলের সুযোগ দিতে চায় দিল্লি।   তবে এ প্রস্তাবের বিষয়ে বাংলাদেশ স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে। বাংলাদেশের রেলপথে ভারতীয় বেসরকারি কনটেইনার ট্রেন চলাচল করলে এর সঙ্গে সম্পর্কিত সব ধরনের দায়দায়িত্ব ও ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব ভারতীয় রেলওয়েকে নিতে হবে। এ বিষয়ে উপযুক্ত ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ, বাংলাদেশের রেল অবকাঠামো ব্যবহার করে ভারতীয় বেসরকারি ট্রেন পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার আগে নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা, ক্ষয়ক্ষতি ও আইনি দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে চায় ঢাকা।   বৈঠকে ভারত আরও প্রস্তাব দিয়েছে, দার্শনা–গেদে, পেট্রাপোল–বেনাপোল এবং রোহনপুর–সিংহাবাদ রেলপথে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলাচলের পরিবর্তে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা মালবাহী ট্রেন পরিচালনার ব্যবস্থা করা হোক। ভারতের যুক্তি, সার্বক্ষণিক চলাচলের সুযোগ থাকলে সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত হবে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে গতি আসবে।   জবাবে বাংলাদেশ জানিয়েছে, গত দুই বছরে এসব রুটে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ কমে গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবার তা বেড়েছে। তাই পণ্য পরিবহনের প্রকৃত চাহিদা ও বাণিজ্যের পরিমাণ বিবেচনা করে ২৪ ঘণ্টা ট্রেন চলাচলের বিষয়টি পর্যালোচনা করা যেতে পারে।   রোহনপুর–সিংহাবাদ রুটে মালবাহী ট্রেন গ্রহণের গতি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারত অভিযোগ করেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ট্রেন গ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় তাদের ওয়াগন ও লোকোমোটিভ দীর্ঘ সময় আটকে থাকছে। তবে বাংলাদেশ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে পাঁচটি ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্ট দিয়ে ভারতের মোট ৫৭টি মালবাহী ট্রেনের রেক গ্রহণ করা হয়েছে। লোকোমোটিভ, জনবল ও রেললাইনের ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে সব সময় দ্রুত ট্রেন গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। এ সমস্যা সমাধানে বিকল্প ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্ট ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।   বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য খালাসকেন্দ্রে মালবাহী ওয়াগন দ্রুত খালি করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগের কথাও বৈঠকে জানানো হয়েছে। দেশের ১২টি মাল খালাসকেন্দ্রে ওয়াগন রাখার জায়গা বাড়ানোর কাজ চলছে। সিরাজগঞ্জ বাজার, ইব্রাহিমাবাদ, নওয়াপাড়া, ফরিদপুর ও উল্লাপাড়াসহ কয়েকটি স্থানে এ ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াগন খালাস ও পুনরায় ব্যবহারের সময় পাঁচ দিনের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে বাংলাদেশের।   ভারতীয় পক্ষ তাদের দেশ থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্টেশনে সরাসরি পণ্য বুকিংয়ের সুযোগ চেয়েছে। বর্তমানে সীমান্তে পণ্য আসার পর বাংলাদেশের ভেতরে নতুন করে বুকিংয়ের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশ জানিয়েছে, এ ব্যবস্থা চালু করতে বিদ্যমান নিয়ম পরিবর্তন করতে হবে। পাশাপাশি দেশের নিজস্ব ওয়াগনের সংখ্যাও সীমিত। তাই আপাতত বর্তমান পদ্ধতি বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ঢাকা।   বৈঠকে ভারত মালবাহী ওয়াগনের পণ্য বহনক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছে। দেশটি বিসিএন ও বিসিএনএ ধরনের ওয়াগনের ধারণক্ষমতা যথাক্রমে ৬৩ ও ৬৬ টন করার কথা বলেছে। বাংলাদেশ জানিয়েছে, দেশের পশ্চিমাঞ্চলের অনেক রেললাইন, সেতু ও কালভার্ট অতিরিক্ত ভার বহনের উপযোগী নয়। তবে নির্দিষ্ট কোনো রুটে এ ধরনের ওয়াগন চালানোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এলে তা পর্যালোচনা করা যেতে পারে।   বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৪৫ ওয়াগনের পূর্ণ দৈর্ঘ্যের কনটেইনার ট্রেন পরিচালনা, মালবাহী ট্রেনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ এবং ওপেন-টপ কনটেইনার ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ জানিয়েছে, বেনাপোলে পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ট্রেন গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তবে ওপেন-টপ কনটেইনার থেকে পণ্য খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে।   যশোরসহ কয়েকটি স্থানে ভারতীয় পক্ষ কাস্টমস সুবিধা চালুর প্রস্তাব দিলেও বাংলাদেশ তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। নওয়াপাড়ায় এ ধরনের সুবিধা চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। এ ছাড়া নতুন ধীরাশ্রম ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) চালু হলে কমলাপুর আইসিডি থেকে ভারতের সঙ্গে মালবাহী ট্রেন পরিচালনার বিষয়টি সামনে আসতে পারে।   চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ভারতের ত্রিপুরার কাছাকাছি নিশ্চিন্তপুর পর্যন্ত মালবাহী ট্রেন চলাচলের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা থেকে নিশ্চিন্তপুর পর্যন্ত যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়টি উত্থাপিত হয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতের কাছে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সম্ভাব্য চাহিদার হিসাব এবং আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব চেয়েছে।   বৈঠকে কুলাউড়া–শাহবাজপুর রেলসংযোগ প্রকল্পের বিলম্বের বিষয়টিও উঠে আসে। বাংলাদেশ জানিয়েছে, ভারতীয় ঠিকাদারের আর্থিক সমস্যা, নির্মাণসামগ্রীর ঘাটতি এবং ব্যয়সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ পিছিয়েছে। অন্যদিকে ভারত প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা মূল্য সংযোজন কর পরিশোধের বিষয়টি উত্থাপন করেছে। ঢাকা–টঙ্গী–জয়দেবপুর রেলপথ উন্নয়নকাজের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ দ্রুত সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে ভারত।   দুই দেশের মধ্যে ওয়াগন ব্যবহারের বকেয়া অর্থ নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে। ভারতের দাবি, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তাদের পাওনা ৩৯০ কোটি ৯৯ লাখ রুপি। অন্যদিকে বাংলাদেশের হিসাবে ভারতীয় রেলওয়ের কাছে তাদের পাওনা ২১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। উভয় পক্ষ হিসাব যাচাই ও সমন্বয়ের বিষয়ে একমত হয়েছে। যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনার বকেয়া বাবদ বাংলাদেশ ৫০ কোটি টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়েছে।   মৈত্রী এক্সপ্রেস পদ্মা সেতু দিয়ে পরিচালনা এবং বন্ধন এক্সপ্রেসের পুরো পথে কাস্টমস ও অভিবাসন কার্যক্রম চালুর সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বন্ধন এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে যাত্রী চাহিদা ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। মৈত্রী এক্সপ্রেসের বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।   এদিকে বর্তমানে বন্ধ থাকা তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়টি বাংলাদেশ বৈঠকে উত্থাপন করেনি। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানিয়েছেন, এটি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। বৈঠকে আলোচ্যসূচিতে থাকা বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা হয়েছে।   দুই দেশের রেল যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহন বাড়ানোর লক্ষ্যে পরবর্তী আন্তসরকার রেলওয়ে বৈঠক ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   বাংলাদেশের রেলপথে ভারতীয় বেসরকারি ট্রেন চলাচলের প্রস্তাব এবং তিনটি সীমান্ত রুটে ২৪ ঘণ্টা মালবাহী ট্রেন চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের আগে রেলপথের নিরাপত্তা, অবকাঠামোর সক্ষমতা, আর্থিক দায়বদ্ধতা এবং বাংলাদেশের নিজস্ব পরিবহন চাহিদা বিবেচনায় নেওয়াই হবে গুরুত্বপূর্ণ।a

প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ৭:৩৫
প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড

প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’, বিমানবন্দর থেকে ব্যাংকিংয়ে মিলতে পারে ১০ ধরনের সুবিধা

সরকারি দপ্তরে টাকা না দিলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৫০ হাজার বেতন দিতাম: মাসুদুজ্জামান

সরকারি দপ্তরে টাকা না দিলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৫০ হাজার বেতন দিতাম: মাসুদুজ্জামান

টেকনাফে মানবপাচার বিরোধী যৌথ বাহিনীর অভিযানে সেনাসদস্য তিতাস শেখ নিহত। ছবি: সংগৃহীত

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত, ৫৭ জিম্মি উদ্ধার

এলব্রুস জয়ের পর জাতীয় পতাকা হস্তান্তর করলেন শাকিল। ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাবে পর্বতারোহণ: ইকরামুল হাসান শাকিল

ইউরোপের সর্বোচ্চ শিখর মাউন্ট এলব্রুস সফলভাবে জয় করার পর বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছেন পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ধানমন্ডির রাশিয়ান হাউজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি অতিথিদের কাছে পতাকাটি প্রত্যর্পণ করেন। এরপর স্লাইড প্রদর্শনীর মাধ্যমে নিজের এই শ্বাসরুদ্ধকর ও রোমাঞ্চকর অভিযানের অভিজ্ঞতা সবার সামনে তুলে ধরেন তিনি। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায় এলব্রুসের চূড়ায় লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছিলেন শাকিল।   তবে এই বিশাল অর্জনের আনন্দের মাঝেই নিজেদের দীর্ঘ সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেন এই পর্বতারোহী। চরম আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, "আমরা যারা পর্বতারোহণ করি, তারা অনেক বড় স্বপ্ন বুনি। কিন্তু স্পন্সর বা পৃষ্ঠপোষকতা পেতে আমাদের অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানেও পর্বতারোহীদের রাষ্ট্রীয় পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়। সত্যি বলতে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে একসময় বাংলাদেশ থেকে পর্বতারোহণ একেবারেই হারিয়ে যাবে।"   পতাকা হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে মাউন্ট এলব্রুস অভিযানে শাকিলের তোলা ৫০টি দুর্লভ ছবি নিয়ে একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। রাশিয়ান হাউজের ডিরেক্টর অ্যালেক্সান্দ্রা খ্লেভনয়ে এর উদ্বোধন করেন। বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের (বিএমটিসি) সেক্রেটারি সাদিয়া সুলতানা জানান, পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে। অনুষ্ঠানে পাখি বিশেষজ্ঞ ও অ্যান্টার্কটিকা অভিযাত্রী ইনাম আল হক, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবুসহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।   উল্লেখ্য, ‘বাংলাদেশ-রাশিয়া ফ্রেন্ডশিপ অভিযান’ শীর্ষক এই উদ্যোগটি যৌথভাবে আয়োজন করেছিল রাশিয়ান হাউজ ইন ঢাকা এবং বিএমটিসি। গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার আগে ১১ সেপ্টেম্বর রাশিয়ান হাউসেই শাকিলের হাতে এই জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১১:৪৮
হঠাৎ ‘স্যরি’তে সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়া,

হঠাৎ ‘স্যরি’তে সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়া, নেপথ্যে রহস্য কী ?

মালিক-শ্রমিকপক্ষের ঐকমত্য

১ জানুয়ারি বর্ধিত মজুরি পাবেন পোশাক শ্রমিকরা, মালিক-শ্রমিকপক্ষের ঐকমত্য

ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে ফ্লোরিডায় ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত পিয়া ডান্ডিয়া

ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে ফ্লোরিডায় ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত পিয়া ডান্ডিয়া

0 Comments