ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্বে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ত্রিশিতা
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন কূটনীতিক ত্রিশিতা মওলা বর্তমানে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন নয়াদিল্লি সফরে থাকায় সাময়িকভাবে দূতাবাসের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। ২ অক্টোবর প্রকাশিত ডেইলি সানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ত্রিশিতা মওলা ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কূটনীতিক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলো। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন তিনি।
এরই অংশ হিসেবে ১ অক্টোবর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসাইনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া পাঁচ লাখ ডেঙ্গু এনএস১ দ্রুত শনাক্তকরণ পরীক্ষার কিট হস্তান্তর করেন ত্রিশিতা। মার্কিন সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত স্ট্রাইডস কর্মসূচির আওতায় এসব কিট দেওয়া হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে কিটগুলো সরবরাহ করার কথা রয়েছে।
কিট হস্তান্তরের পর ত্রিশিতার নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধিদল কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ডেঙ্গু ওয়ার্ড এবং রোগ নির্ণয় ল্যাবরেটরিও পরিদর্শন করে। সেখানে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা এবং রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের কার্যক্রম সম্পর্কে তারা অবগত হন।
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর ত্রিশিতা মওলার নেতৃত্বে মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে বিশেষায়িত পুলিশিং, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের পর মার্কিন প্রতিনিধিদল ডিএমপির সোয়াট, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট এবং কে-৯ ইউনিট পরিদর্শন করে। এসব ইউনিটের কার্যক্রম, সক্ষমতা ও ব্যবহৃত প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিচিতি অনুযায়ী, ত্রিশিতা মওলা ২০০৮ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এর আগে বাংলাদেশে কনস্যুলার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। কর্মজীবনে সুইজারল্যান্ড, উত্তর মেসিডোনিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও মন্টেনেগ্রোতেও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়া আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় মার্কিন দূতাবাসের ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন ত্রিশিতা। দীর্ঘ কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে বিভিন্ন দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠা ত্রিশিতা কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্নার্ড কলেজ থেকে অর্থনীতি ও গণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর মার্কিন পররাষ্ট্রসেবায় যোগ দিয়ে বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমানে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে মার্কিন দূতাবাসের কার্যক্রমে প্রতিনিধিত্ব করছেন ত্রিশিতা মওলা। তার এই দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন মার্কিন কূটনীতিকের জন্য কূটনৈতিক ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে সামনে এসেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreবাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন কূটনীতিক ত্রিশিতা মওলা বর্তমানে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন নয়াদিল্লি সফরে থাকায় সাময়িকভাবে দূতাবাসের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। ২ অক্টোবর প্রকাশিত ডেইলি সানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ত্রিশিতা মওলা ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কূটনীতিক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলো। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে ১ অক্টোবর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসাইনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া পাঁচ লাখ ডেঙ্গু এনএস১ দ্রুত শনাক্তকরণ পরীক্ষার কিট হস্তান্তর করেন ত্রিশিতা। মার্কিন সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত স্ট্রাইডস কর্মসূচির আওতায় এসব কিট দেওয়া হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে কিটগুলো সরবরাহ করার কথা রয়েছে। কিট হস্তান্তরের পর ত্রিশিতার নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধিদল কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ডেঙ্গু ওয়ার্ড এবং রোগ নির্ণয় ল্যাবরেটরিও পরিদর্শন করে। সেখানে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা এবং রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের কার্যক্রম সম্পর্কে তারা অবগত হন। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর ত্রিশিতা মওলার নেতৃত্বে মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে বিশেষায়িত পুলিশিং, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর মার্কিন প্রতিনিধিদল ডিএমপির সোয়াট, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট এবং কে-৯ ইউনিট পরিদর্শন করে। এসব ইউনিটের কার্যক্রম, সক্ষমতা ও ব্যবহৃত প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিচিতি অনুযায়ী, ত্রিশিতা মওলা ২০০৮ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এর আগে বাংলাদেশে কনস্যুলার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। কর্মজীবনে সুইজারল্যান্ড, উত্তর মেসিডোনিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও মন্টেনেগ্রোতেও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় মার্কিন দূতাবাসের ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন ত্রিশিতা। দীর্ঘ কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে বিভিন্ন দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠা ত্রিশিতা কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্নার্ড কলেজ থেকে অর্থনীতি ও গণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর মার্কিন পররাষ্ট্রসেবায় যোগ দিয়ে বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে মার্কিন দূতাবাসের কার্যক্রমে প্রতিনিধিত্ব করছেন ত্রিশিতা মওলা। তার এই দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন মার্কিন কূটনীতিকের জন্য কূটনৈতিক ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে সামনে এসেছে।
বন্ধ মিটারে ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখিয়ে বিল ২৯ হাজার! বিপাকে গ্রাহক
মন্ত্রী-এমপিদের ব্যাংক হিসাব তলব আমাকে দিয়ে শুরু হোক: হাসনাত আব্দুল্লাহ
বাংলাদেশে থেকে পড়তে আসা মাহফুজ আহমেদের এখন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা
রোমানিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা দিতে ঢাকায় আসছে দেশটির দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল। আগামী ৮ থেকে ১১ অক্টোবর ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীসহ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে। শুক্রবার, ২ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে অবস্থিত রোমানিয়ার দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে। দূতাবাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের আওতায় প্রাথমিকভাবে উচ্চশিক্ষার জন্য রোমানিয়ায় যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদের অন্যান্য জরুরি কনস্যুলার অনুরোধও বিবেচনা করা হবে। তবে এই বিশেষ সেবা নিতে ইচ্ছুক আবেদনকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। রোমানিয়ার দূতাবাস জানিয়েছে, শুধু দেশটির সরকারি ই-ভিসা পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিশ্চিতকরণ পাওয়া ব্যক্তিদের আবেদন গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ অনলাইন ব্যবস্থায় নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত না হলে ৮ থেকে ১১ অক্টোবরের ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশনে গিয়ে নতুন করে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। রোমানিয়ার সরকারি ই-ভিসা ব্যবস্থায় প্রথমে অনলাইনে আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হয়। আবেদনটি যাচাই ও অনুমোদিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার মিশনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের নির্ধারিত সময়ে মূল কাগজপত্রের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অনুলিপিও সঙ্গে রাখতে হয়। বাংলাদেশি নাগরিকদের রোমানিয়ায় প্রবেশের জন্য ভিসা প্রয়োজন। দেশটির সরকারি ই-ভিসা পোর্টালের তালিকায় বাংলাদেশকে ভিসা-প্রয়োজনীয় দেশগুলোর মধ্যে রাখা হয়েছে। তাই উচ্চশিক্ষা, কাজ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে রোমানিয়ায় যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের নির্ধারিত ভিসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশন নিয়ে দূতাবাস আবেদনকারীদের বিশেষভাবে সতর্ক করেছে। অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিশ্চিতকরণে দেওয়া তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হওয়ার পাশাপাশি ভিসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অসম্পূর্ণ নথি বা অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্যের সঙ্গে অসঙ্গতি থাকলে আবেদন গ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। রোমানিয়ার সরকারি ভিসা ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত উপস্থিতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ই-ভিসা পোর্টালে আবেদন সম্পন্ন করলেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয় না। আবেদনকারীর নির্ধারিত কনস্যুলার মিশনে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে রোমানিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজছেন এমন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকায় এই অস্থায়ী কনস্যুলার সেবা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ সাধারণ নিয়মে কনস্যুলার মিশনে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়। ঢাকায় প্রতিনিধিদলের উপস্থিতির ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যোগ্য আবেদনকারীরা সরাসরি প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এই উদ্যোগকে ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ভিসা আবেদন গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর নথি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে। রোমানিয়ার সরকারি ই-ভিসা পোর্টালেও উল্লেখ রয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়ার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। ৮ থেকে ১১ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠেয় এই ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশনে যেতে আগ্রহীদের তাই প্রথমে রোমানিয়ার সরকারি ই-ভিসা পোর্টালে নিজেদের আবেদন ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্য যাচাই করা এবং দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: রোমানিয়ার দূতাবাস
পাকিস্তানের আকাশসীমা পেরিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রূপপুরের ইউরেনিয়ামবাহী বিমান
শাহজালাল বিমানবন্দরের যাত্রীভোগান্তি লাইভে তুলে ধরে ভাইরাল ডা. ওরাকাতুল জান্নাত
জমজমের পানি দিতে দেরি, বিমানের দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
সাইবার অপরাধের তদন্ত ও প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরে ইউনিটটির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি নতুন ইউনিটের জনবল ও কার্যক্রমের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোয় ইউনিটটির জন্য ৪ হাজার ৫৯২টি পদ রাখা হয়েছে। তবে উদ্বোধনের দিনই এই সংখ্যক সদস্য কাজে যোগ দিয়েছেন, এমন তথ্য সরকার দেয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, শুরুতে পুলিশের বিদ্যমান বাহিনী থেকে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের পদায়ন করা হবে। পরে নিয়োগের মাধ্যমে জনবল কাঠামো পূর্ণ করা হবে। ইউনিটটির নেতৃত্বে থাকবেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইকবাল হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার বা মনোনীত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কার্যক্রম তদারকি করবেন। থানায় সাইবার সেবা ও তদন্তের জন্য এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল পদায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রতিটি থানায় ইতিমধ্যে দুই থেকে তিনজন প্রশিক্ষিত তদন্ত কর্মকর্তা কাজ করছেন, এমন তথ্য উদ্বোধনী বক্তব্যে নিশ্চিত করা হয়নি। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে ছড়িয়ে থাকা সাইবার তদন্তকে একটি কাঠামোয় আনার লক্ষ্য জানিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিটের অধীনে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে। ডার্ক ওয়েব, ক্রিপ্টো, ম্যালওয়্যার, আর্থিক তথ্য ও সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন কাজে চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ল্যাব ও বিশেষজ্ঞ পদে নিয়োগের কথা ভবিষ্যৎ উদ্যোগ হিসেবে জানিয়েছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার ও অপরাধের ধরন বদলে যাওয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। নতুন ইউনিট আর্থিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপরাধসহ বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের তদন্তে সহায়তা করবে বলে সরকার আশা করছে। তবে ইউনিটটির জন্য পৃথক ২৪ ঘণ্টার সহায়তা কেন্দ্র চালু হয়েছে বা সেটি ৯৯৯-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে - এমন ঘোষণা যাচাই করা সূত্রগুলোতে পাওয়া যায়নি।
মেট্রোরেলের আট প্যাকেজে ৫৮ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকার কাজ অনুমোদন
আকাশসীমার জটিলতা কাটিয়ে আজ ঢাকায় আসছে রূপপুরের নতুন ইউরেনিয়াম চালান