সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

১ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি কর্মী নিচ্ছে ইতালি, বাংলাদেশিদের জন্যও থাকছে বড় সম্ভাবনা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৫:৩৬
২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা ইতালির
২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা ইতালির

ইতালিতে কাজের স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দেশটির ২০২৬ থেকে ২০২৮ মেয়াদের ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সালে বিভিন্ন খাতে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই কোটায় বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্যও আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

 

ইতালির সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মোট কোটার মধ্যে ৭৬ হাজার ২০০ জনকে অমৌসুমি কাজে নেওয়া হবে। এ ছাড়া কৃষি ও পর্যটন খাতে মৌসুমি কাজের জন্য ৮৯ হাজার এবং স্বনিয়োজিত কাজের জন্য আরও ৬৫০ জনের সুযোগ থাকবে।

 

কেয়ারগিভিং খাতেও থাকছে সুযোগ

 

বাংলাদেশসহ বিদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশেষ আগ্রহের একটি খাত হতে পারে পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং। ২০২৭ সালের অমৌসুমি কর্মী কোটার মধ্যে এই খাতে ১৪ হাজার পদ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন ও নেপালসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকরা নির্ধারিত কোটার আওতায় আবেদন করার সুযোগ পাবেন। ফলে ইতালিতে কাজের জন্য যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

তিন বছরে প্রায় ৫ লাখ বিদেশি কর্মী নেবে ইতালি

 

ইতালির এই কর্মী নিয়োগ পরিকল্পনা শুধু ২০২৭ সালের জন্য নয়। ২০২৬ থেকে ২০২৮—এই তিন বছরে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

এর মধ্যে ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন এবং ২০২৮ সালেও একই সংখ্যক অর্থাৎ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

বাংলাদেশ থেকে সরাসরি আবেদন করা যাবে না

 

ইতালির এই কর্মী কোটার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চাকরিপ্রার্থী নিজে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন না। ইতালিতে বৈধভাবে অবস্থানরত কোনো নিয়োগকর্তা বা অনুমোদিত প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্মীর জন্য কাজের অনুমোদন বা ‘নুল্লা ওস্তা’র আবেদন করবেন।

 

‘নুল্লা ওস্তা’ অনুমোদিত হলে এরপর নিজ দেশে থাকা ইতালীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ চাকরিপ্রার্থীর জন্য প্রথম ধাপ হলো বৈধ নিয়োগকর্তা ও প্রকৃত চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করা।

 

কখন শুরু হবে প্রাক্‌-আবেদন

 

২০২৭ সালের কর্মী কোটার জন্য ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘পোর্তালে সার্ভিজি আলি’ প্ল্যাটফর্মে ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে আবেদনপত্রের প্রাক্‌-পূরণ বা প্রিকম্পাইলেশন শুরু হবে। এই প্রক্রিয়া চলবে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত।

 

এই সময়ে নিয়োগকর্তারা প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন প্রস্তুত করতে পারবেন। এরপর নির্ধারিত ‘ক্লিক ডে’তে সংশ্লিষ্ট আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

 

২০২৭ সালের গুরুত্বপূর্ণ ‘ক্লিক ডে’

 

খাতভেদে ২০২৭ সালের আবেদন শুরুর তারিখ আলাদা করা হয়েছে। কৃষি খাতের মৌসুমি কর্মীদের জন্য ১২ জানুয়ারি ২০২৭, পর্যটন খাতের মৌসুমি কর্মীদের জন্য ৯ ফেব্রুয়ারি, অমৌসুমি কর্মীদের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং খাতের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।

 

ইতালির স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় এসব আবেদন গ্রহণ শুরু করার কথা রয়েছে। নির্ধারিত কোটায় আসন খালি থাকা সাপেক্ষে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

 

দালালচক্র থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ

 

ইতালিতে কাজের সুযোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই চাকরিপ্রার্থীদের বৈধ নিয়োগকর্তা ও নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এগোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

কোনো ব্যক্তি বা দালালকে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়োগপত্র, নিয়োগকর্তার পরিচয় ও বৈধতা এবং ‘নুল্লা ওস্তা’র সত্যতা যাচাই করা জরুরি। শুধু টাকা দিলেই ইতালিতে চাকরি বা ভিসা নিশ্চিত হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

 

বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের তাই নির্ধারিত তারিখ, আবেদন প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে সরকারি তথ্য যাচাই করে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ কর্মসূচির আওতায় সুযোগ থাকলেও ভিসা পাওয়ার আগে বৈধ চাকরি, নিয়োগকর্তার আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদন—প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তের মৃ ত্যু দ ণ্ড চাইছে প্রসিকিউশন
লিমন-বৃষ্টি হ ত্যা মা ম লায় মৃ ত্যু দ ণ্ড চাইছে ফ্লোরিডার প্রসিকিউশন, বি চার নির্ধারিত ২০২৭ সালে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃ ত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহর মৃ ত্যুদ ণ্ড চাইছে প্রসিকিউশন। হিলসবরো কাউন্টির স্টেট অ্যাটর্নির দপ্তর গত ৮ মে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেয়। মামলার বি চার এখনো শুরু হয়নি; মৃ ত্যুদ ণ্ডের কোনো রায়ও হয়নি।   লিমন ও বৃষ্টি দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করছিলেন। ২৭ বছর বয়সী এই দুই শিক্ষার্থীকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল দেখা যায়। পরে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুর কাছে লিমনের মৃ ত দে হ এবং কাছাকাছি পানিতে বৃষ্টির মৃ ত দে হ পাওয়া যায়। তদ ন্তের পর লিমনের ক্যাম্পাসের বাইরের বাসার সাবেক সহবাসী, ২৬ বছর বয়সী আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে হ ত্যা র অ ভি যোগ আনা হয়। মে মাসে গ্র্যান্ড জুরি তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি অ ভি যোগে বি চার শুরুর অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে অ স্ত্র ব্যবহার করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুজনকে হ ত্যা করার দুটি অ ভি যোগ রয়েছে। প্রমাণ ন ষ্ট করা, মৃ ত দে হ অবৈধভাবে সরানো এবং মৃ ত্যুর তথ্য গোপনের অ ভি যোগও আনা হয়েছে। স্টেট অ্যাটর্নির দপ্তরের দাবি, ফ্লোরিডার আইনে মৃ ত্যুদ ণ্ড চাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুতর পরিস্থিতি এ মামলায় রয়েছে। এগুলো প্রসিকিউশনের অবস্থান; আ দা লতে অ ভি যোগগুলো এখনো প্রমাণিত হয়নি। ১৮ মে আবুগারবিয়েহ আইনজীবীর মাধ্যমে অ ভি যোগ অস্বীকার করে লিখিত বক্তব্য দেন। প্রকাশিত আ দা লতসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, জু রি বি চার শুরুর তারিখ ৩ নভেম্বর ২০২৭ নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে এ সূচি বদলাতে পারে। ফলে মে মাসের মৃ ত্যুদ ণ্ড চাওয়ার সিদ্ধান্ত বা ২০২৭ সালের বি চারসূচিকে নতুন কোনো রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এদিকে মে মাসেই লিমন ও বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা। ৮ মে সমাবর্তনে তাঁদের স্মরণে পোশাকসহ দুটি খালি চেয়ার রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষে ডিগ্রিগুলো গ্রহণ করেন মায়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি। লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিবিষয়ে এবং বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গবেষণা করছিলেন। সূত্র: হিলসবরো কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির দপ্তর, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা ও ডব্লিউইউএসএফ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৭:৮
২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা ইতালির

১ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি কর্মী নিচ্ছে ইতালি, বাংলাদেশিদের জন্যও থাকছে বড় সম্ভাবনা

এইচওয়াই ৪ বৈদ্যুতিক বিমানের গবেষণায় চট্টগ্রামের মেয়ে দেবযানী ঘোষ

এইচওয়াই ৪ বৈদ্যুতিক বিমানের গবেষণায় চট্টগ্রামের মেয়ে দেবযানী ঘোষ

রাবিতে ছাত্রদলের হামলায় গুরুতর আহত ৪ সাংবাদিক, পরিস্থিতি সামলাতে না পারার কথা জানালেন প্রক্টর

রাবিতে ছাত্রদলের হামলায় গুরুতর আহত ৪ সাংবাদিক, পরিস্থিতি সামলাতে না পারার কথা জানালেন প্রক্টর

প্রীতম ও শেহতাজের বিবাহবিচ্ছেদ: পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবেই দাম্পত্য জীবনের আনুষ্ঠানিক ইতি
প্রীতম ও শেহতাজের বিবাহবিচ্ছেদ: পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবেই দাম্পত্য জীবনের আনুষ্ঠানিক ইতি

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা প্রীতম হাসান এবং মডেল-অভিনেত্রী শেহতাজ মনিরা হাশেমের দাম্পত্য জীবনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটতে যাচ্ছে। রোববার রাতে নিজেদের ফেসবুক পেজে আলাদা পোস্টের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন দুজনই।   সংবাদমাধ্যমের কাছে বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিতও করেছেন শেহতাজ। মূলত পারস্পরিক বোঝাপড়ায় বড় ধরনের পার্থক্যের কারণেই দীর্ঘ দশ বছরের পথচলার পর আলাদা হওয়ার এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।   প্রীতম ও শেহতাজ উভয়েই তাঁদের পোস্টে জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ চিন্তাভাবনা এবং নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর, দুই পরিবারের পূর্ণ সম্মতি ও সমর্থন নিয়েই তাঁরা বিচ্ছেদের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তবে একসঙ্গে কাটানো সময় ও স্মৃতিগুলোর প্রতি তাঁরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং একে অপরের প্রতি সর্বদা সম্মান ও শুভকামনা থাকবে বলেও জানিয়েছেন।   পাশাপাশি, জীবনের এই কঠিন ও রূপান্তরকালীন সময়ে বন্ধু, সহকর্মী এবং গণমাধ্যমের কাছে নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন এই জুটি।   ২০১৭ সালে প্রীতমের জনপ্রিয় গান ‘জাদুকর’-এর মিউজিক ভিডিওতে কাজ করতে গিয়েই মূলত তাঁদের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সেই পরিচয় ধীরে ধীরে প্রেমে গড়ায় এবং দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রেমের পর ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর শ্রীমঙ্গলের একটি হোটেলে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা।   বিয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের সুন্দর মুহূর্তগুলো ভক্তদের নজর কাড়লেও, বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছিল। অবশেষে সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো এবং আনুষ্ঠানিকভাবেই আলাদা পথে হাঁটার ঘোষণা দিলেন এই তারকা জুটি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:৪৭
টানা ৯০ দিন জামাতে নামাজ আদায় করায় ৩২ শিশুকে বাইসাইকেল উপহার

টানা ৯০ দিন জামাতে নামাজ আদায় করায় ৩২ শিশুকে বাইসাইকেল উপহার

বারিধারায় ফুটপাতে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহতের মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়া ১৭ বছর বয়সী সেই কিশোর। ছবি: সংগৃহীত

বারিধারায় কিশোরের জামিন নাকচ, বিচারক বললেন, 'প্রশ্রয় পেলে বিচারকে সহজ ভাববে বিত্তবানরা'

জমি দান ও রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য ঘটনাটি ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরেছেন সাব-রেজিস্ট্রার মো. মহিউদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

চাকরির ভেরিফিকেশন বাদ পড়ার শঙ্কায় মুসলিম তরুণ, এক শতক জমি দিলেন হিন্দু প্রতিবেশী

টাঙ্গাইলের মেয়ে সোমা সাঈদ এখন নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি
টাঙ্গাইলের মেয়ে সোমা সাঈদ এখন নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি

বাংলাদেশের টাঙ্গাইলে জন্ম নেওয়া সোমা এস. সাঈদ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কুইন্সের একাদশ জুডিশিয়াল ডিস্ট্রিক্ট থেকে তিনি নির্বাচিত হন। বর্তমানে নিউইয়র্কের আদালতের নথিতে তাঁকে কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের সিভিল টার্মের বিচারপতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব ইলেকশনসের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী সোমা সাঈদ পেয়েছেন ২ লাখ ৭৮ হাজার ৩১ ভোট। ওই নির্বাচনে কুইন্সের ভোটাররা সুপ্রিম কোর্টের পাঁচটি বিচারপতি পদে ভোট দেন। নির্বাচনের পর প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে তাঁর ভোটের সংখ্যা কম উল্লেখ করা হলেও সরকারি চূড়ান্ত ফলে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৩১ ভোটই দেখানো হয়েছে।   সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার আগে থেকেই বিচারক হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে সোমা সাঈদের। ২০২১ সালে তিনি কুইন্স কাউন্টি থেকে নিউইয়র্ক সিটি সিভিল কোর্টের বিচারক নির্বাচিত হন। এশিয়ান আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশন অব নিউইয়র্কের পরিচিতিতে তাঁকে নিউইয়র্ক স্টেট ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নির্বাচিত বাংলাদেশি আমেরিকান বিচারক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   ২০২২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ম্যানহাটনের নিউইয়র্ক কাউন্টি ক্রিমিনাল কোর্টেও বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন সোমা। সেখানে আসামিদের প্রাথমিক হাজিরাসহ বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি।   বর্তমানে কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের সিভিল টার্মের পার্ট ৩১-এর দায়িত্বে রয়েছেন সোমা সাঈদ। আদালতের প্রকাশিত কার্যবিধিতেও তাঁর নাম ও দায়িত্বের উল্লেখ রয়েছে।   সোমা সাঈদের জন্ম টাঙ্গাইল জেলায়। তাঁর বাবা আফতাব উদ্দিন সাঈদ বাংলাদেশে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর মাকে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠার শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও বিচারাঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।   নিউইয়র্কেই তাঁর শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে। তিনি আইএস ২৩৮ ও জ্যামাইকা হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন। এরপর সিটি কলেজ অব নিউইয়র্ক থেকে স্নাতক এবং আলবেনি ল স্কুল থেকে জুরিস ডক্টর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিচারক হওয়ার আগে আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। নিজের আইন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর পেশাগত জীবনে।   আইন পেশার পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনেও নেতৃত্ব দিয়েছেন সোমা সাঈদ। তিনি কুইন্স কাউন্টি উইমেনস বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম নারী সভাপতি ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে কুইন্সের প্রথম মুসলিম বিচারক হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।   ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন সোমা সাঈদ। নির্বাচনের পর প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁকে এ পদে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। শপথ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতও পরিবেশন করা হয়েছিল।   নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের নাম বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে মিল থাকলেও দুই দেশের আদালতব্যবস্থা এক নয়। নিউইয়র্কে স্টেট সুপ্রিম কোর্ট বিস্তৃত এখতিয়ারসম্পন্ন একটি বিচারিক আদালত, যেখানে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার বিচার হয়। নিউইয়র্ক স্টেটের সর্বোচ্চ আদালত হলো কোর্ট অব আপিলস।   টাঙ্গাইলের মেয়ে সোমা সাঈদের বিচারিক জীবনের এই অগ্রযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি আমেরিকানদের সাফল্যের গল্পে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত করেছে। সিভিল কোর্টের বিচারক থেকে নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হওয়া তাঁর দীর্ঘ পেশাগত পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে সামনে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৭:৫১
পুঠিয়ার ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুলের প্রধান ফটকে দেওয়া হয়েছে বাঁশের বেড়া

পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ, স্কুলের ফটকে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাঠে কলাগাছ লাগালেন জমিদাতা

শাহজালাল বিমানবন্দরে দুই বিমানকর্মীর জুতায় মিলল ১৬ কোটি টাকার স্বর্ণ

শাহজালাল বিমানবন্দরে দুই বিমানকর্মীর জুতায় মিলল ১৬ কোটি টাকার স্বর্ণ

সৌদি আরবের মদিনায় হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা

সৌদি আরবের মদিনায় হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা

0 Comments