নাটোর স্টেশনে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ-ক্যামেরাসহ ব্যাগ চু রি, সিসিটিভিতে সন্দেহভাজন শনাক্ত
নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে এক জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ ব্যাগ চু রির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে সন্দেহভাজন এক যুবকের গতিবিধি শনাক্ত করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে স্টেশনের যাত্রী বিশ্রামাগারে এ ঘটনা ঘটে। ব্যাগ উদ্ধারে রাত থেকেই সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ব্যাগ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী জার্মান নাগরিকের নাম কিরিল ল্যান্ডার উইবার। বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার উদ্দেশ্যে তিনি দেশে এসেছেন। নাটোরে আসার পর তাঁর সঙ্গে পরিচিত হওয়া এক যুবক কৌশলে ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, বুধবার বগুড়ার বিভিন্ন স্থান ঘুরে সান্তাহার রেলস্টেশনে পৌঁছান ওই পর্যটক। সেখান থেকে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনে নাটোরের উদ্দেশে রওনা দেন। নাটোর থেকে অন্য ট্রেনে দর্শনা সীমান্ত হয়ে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।
বিকেলে নাটোর স্টেশনে নেমে পরবর্তী ট্রেনের অপেক্ষায় যাত্রী বিশ্রামাগারে অবস্থান করছিলেন কিরিল। এ সময় হলুদ রঙের কটি পরা এক যুবক তাঁর সঙ্গে আলাপ শুরু করেন। পর্যটকের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি নিজেকে রেলওয়ের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। কথাবার্তার একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে পরিচিতি তৈরি হয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই যুবকের কাছে ব্যাগ রেখে টিকিট কাটতে গিয়েছিলেন কিরিল। সেই সুযোগে যুবক ব্যাগটি নিয়ে সরে পড়েন বলে তাঁর অভিযোগ। ব্যাগের মধ্যে একটি ম্যাকবুক ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল।
চু রির খবর পাওয়ার পর সান্তাহার রেলওয়ে থানার একাধিক দল রাতেই তদন্ত শুরু করে। স্টেশন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি পর্যালোচনা করা হয়।
ফুটেজে হলুদ কটি পরা এক যুবককে পর্যটকের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। একপর্যায়ে ওই যুবক নিজের পরনের কটি খুলে তার ভেতরে ব্যাগটি লুকিয়ে স্টেশন এলাকা থেকে চলে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ ব্যাগ উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজনের গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাঁকে আ ট ক এবং চু রি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
ব্যাগ হারিয়ে বিপাকে পড়েন ওই জার্মান পর্যটক। ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও ভ্রমণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম হারিয়ে স্টেশনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় পুলিশের কাছে যান।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনসুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাটি রেলওয়ে পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত। তবে ভুক্তভোগী বিদেশি নাগরিক হওয়ায় সদর থানা পুলিশও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চু রি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা করছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটকের ল্যাপটপ শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। তবে ডিভাইসটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে কি না কিংবা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আ ট ক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও ভ্রমণকালীন সেবা নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঐতিহাসিক স্থান, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকেরা বাংলাদেশে আসেন। তাঁদের নিরাপদ চলাচল এবং ব্যক্তিগত মালামালের সুরক্ষা নিশ্চিত করা পর্যটনবান্ধব পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশেষ করে রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও অন্যান্য যাত্রীসমাগমপূর্ণ স্থানে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে লেনদেন কিংবা ব্যক্তিগত মালামাল অন্যের কাছে রাখার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। পর্যটকেরা অনেক সময় স্থানীয় পরিবহনব্যবস্থা ও ভাষার সঙ্গে পরিচিত না থাকায় অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নাটোরের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সন্দেহভাজনের গতিবিধি শনাক্ত হওয়াকে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে পুলিশ। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলেও এখনো কোনো তথ্য নেই।
চু রি যাওয়া ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও অন্যান্য জিনিসপত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিদেশি পর্যটকের ব্যাগ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনাই এখন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রধান লক্ষ্য।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreবাংলাদেশে বিলাসবহুল গাড়ির তুলনায় বেশি শুল্ক ও কর দিতে হচ্ছে আমদানি করা মাল্টায়। বর্তমানে মাল্টা আমদানিতে মোট শুল্ক ও করের হার ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অথচ টেসলা ও মার্সিডিজ বেঞ্জের নির্দিষ্ট মডেলসহ অন্তত ১৪৬টি শ্রেণির গাড়িতে এর চেয়ে কম শুল্ক ও কর আরোপ করা হচ্ছে। এই বৈষম্যমূলক করকাঠামোর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের ওপর পড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুল্ককাঠামো পর্যালোচনা করে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আমদানি করা মাল্টায় যে হারে শুল্ক ও কর আরোপ করা হচ্ছে, তা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের খাদ্যতালিকায় থাকা একটি ফলের ওপর বিলাসবহুল গাড়ির চেয়েও বেশি হারে কর আরোপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হিসাব অনুযায়ী, আমদানি পর্যায়ে প্রতি কেজি মাল্টার মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা হলেও এর ওপর শুল্ক ও কর দিতে হচ্ছে প্রায় ১০৭ টাকা। অর্থাৎ শুধু আমদানি মূল্য ও কর মিলিয়েই খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৯৪ টাকা। এর সঙ্গে পরিবহন, সংরক্ষণ, ব্যবসায়িক খরচ ও মুনাফা যোগ হয়ে খুচরা বাজারে দাম আরও বেড়ে যায়। সম্প্রতি সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে প্রতি কেজি মাল্টার দাম ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। পরে আমদানি ও সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমে প্রায় ৪০০ টাকায় নেমে আসে। অন্যদিকে বাংলাদেশে আমদানি করা টেসলার বৈদ্যুতিক গাড়িতে তুলনামূলক কম শুল্ক দিতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের হিসাবে ৫০ হাজার ডলার মূল্যের একটি টেসলা গাড়ির ওপর শুল্ক ও করের হার প্রায় ৮০ শতাংশ। একইভাবে ২৫ হাজার ডলার মূল্যের বিওয়াইডি বা সমজাতীয় বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৬৪ শতাংশ। মার্সিডিজ বেঞ্জের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার কমলাপুর অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো থেকে ২০২৬ সালে উৎপাদিত তিনটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি খালাস করে র্যাংগস মোটরস লিমিটেড। প্রতিটি গাড়ির বাজারমূল্য ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এসব গাড়ির আমদানিতে শুল্ক ও করের হার ছিল ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ। তবে সব ধরনের টেসলা বা মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ির ওপর একই হারে শুল্ক আরোপ করা হয় না। গাড়ির ধরন, ইঞ্জিনের ক্ষমতা, প্রযুক্তি, মূল্য এবং নির্ধারিত এইচএস কোড অনুযায়ী করের হার পরিবর্তিত হয়। মাল্টার ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে আমদানি করা মাল্টার মোট শুল্ক ও করের হার ছিল ৫৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে তা ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে। ২০২১-২২ অর্থবছরে এই হার দাঁড়ায় ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশে। ২০২২ সালের মে মাসে ডলার সংকটের মধ্যে ফল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করে তৎকালীন সরকার। এর ফলে মাল্টার ওপর মোট শুল্ক ও করের বোঝা প্রায় ১১৪ শতাংশে পৌঁছায়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাঝামাঝি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তা আরও বাড়িয়ে প্রায় ১৩৬ শতাংশ করা হয়। ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের পর ২০২৫ সালের মার্চে কিছু অতিরিক্ত শুল্ক কমানো হয়। এরপর ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে মাল্টার মোট শুল্ক ও করের হার ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়, যা এখনো কার্যকর রয়েছে। বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল আলম প্রথম আলোকে জানান, বিশ্বের অন্য দেশে আমদানি করা তাজা ফলের ওপর এত বেশি শুল্ক আরোপের নজির বিরল। তাঁর মতে, বাংলাদেশে মাল্টার মতো ফলের ওপর বিলাসবহুল গাড়ির চেয়েও বেশি কর আরোপ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক জুনাইদুল হক জানান, আগে এক কনটেইনার মাল্টা আমদানিতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা শুল্ক ও কর দিতে হতো। বর্তমানে সেই খরচ বেড়ে ২৮ থেকে ২৯ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এতে আমদানিকারকদের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ক্রেতাদেরও বেশি দাম দিতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক তুলনাতেও বাংলাদেশের শুল্কহার অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে আমদানি করা কমলালেবুর কার্যকর গড় শুল্কহার ছিল ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। সে হিসাবে বাংলাদেশে মাল্টার ওপর মোট শুল্ক ও করের হার প্রায় ২৩ গুণ বেশি। প্রতিবেশী ভারতেও আমদানি করা কমলালেবুর ওপর মৌলিক শুল্ক ৩০ শতাংশ। অন্যান্য করসহ মোট করের বোঝা প্রায় ৩৩ শতাংশ। এদিকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে দেওয়া এক চিঠিতে তাজা ফলের ওপর শুল্ক ও কর কমানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশনের মতে, তাজা ফল অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্যের অন্তর্ভুক্ত। তাই এসব পণ্যের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান নলেজ হাব ইনস্টিটিউট ট্রাস্টের সভাপতি খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রথম আলোকে বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতেই একসময় ফল আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। তাঁর মতে, রোগীদের খাদ্যতালিকায় ব্যবহৃত মাল্টার ওপর কিছু বিলাসবহুল গাড়ির চেয়েও বেশি শুল্ক ও কর আরোপের ঘটনা দেশের বিদ্যমান করকাঠামোয় ভারসাম্যের অভাব তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুল্ক আরোপের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়লেও এর একটি বড় অংশের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। কারণ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা পণ্যের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের সময় শুল্ক, কর এবং অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নেন। ফলে মাল্টার মতো একটি ফলের উচ্চমূল্য শুধু আমদানি ব্যবসার বিষয় নয়, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্যের সঙ্গেও জড়িত। এ পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের শুল্ককাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই, পরে বিধবা জানলেন তার বিয়ে হয়ে গেছে
উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার তিন মাসের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু
নাটোর স্টেশনে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ-ক্যামেরাসহ ব্যাগ চু রি, সিসিটিভিতে সন্দেহভাজন শনাক্ত
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাকের বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির দিক থেকে এক ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের প্রথম আট মাসের হিসাবে মার্কিন বাজারে একক দেশ হিসেবে দ্বিতীয় শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারকের অবস্থান হারিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন পর দ্বিতীয় স্থানটি আবার দখলে নিয়েছে চীন। শীর্ষ অবস্থান অবশ্য ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) ৭ অক্টোবর প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে। অটেক্সার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩৯ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির বদলে এখন নিম্নমুখী ধারায় রয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ৫৬৩ কোটি ৭ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। ফলে বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ২৪ কোটি ডলার বেশি রপ্তানি করে দ্বিতীয় অবস্থান নিশ্চিত করেছে দেশটি। তবে চীনের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি খুব একটা ইতিবাচক নয়। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও শুল্কসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রভাবের মধ্যে দেশটির পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ কমেছে। এর আগে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে চিত্রটি ভিন্ন ছিল। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৪৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করে চীনের চেয়ে এগিয়ে ছিল। কিন্তু আগস্টের রপ্তানি যোগ হওয়ার পর চীন বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যায় এবং দ্বিতীয় স্থান দখল করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। দেশের মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আসে এই বাজার থেকে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমে যাওয়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত কয়েক বছরেও মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গেছে। ২০২২ সালে রপ্তানি ৩৬ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৯৭৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। কিন্তু পরের বছর বিশ্বজুড়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাবে মার্কিন ভোক্তা চাহিদায় চাপ তৈরি হলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিও কমে যায়। ২০২৩ সালে তা প্রায় ২৫ শতাংশ কমে ৭২৯ কোটি ডলারে নেমে আসে। এরপর ২০২৪ সালে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়ে ৭৩৪ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালে আবার প্রায় ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়ে রপ্তানি আয় উন্নীত হয় প্রায় ৮২০ কোটি ডলারে। তবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসের পরিসংখ্যান বলছে, বছরের শুরুতে সেই ইতিবাচক ধারাটি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই নয়, সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির বাজারেও চলতি বছরে চাপ দেখা যাচ্ছে। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে মার্কিন ব্যবসায়ীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৪ হাজার ৯০৭ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আমদানি কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। এই সামগ্রিক বাজার সংকোচনের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী হিসেবে ভিয়েতনাম নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ভিয়েতনামের রপ্তানিও শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে চলতি বছর শুধু বাংলাদেশের রপ্তানিই কমেনি, শীর্ষ সরবরাহকারী দেশগুলোর অনেকের ক্ষেত্রেই রপ্তানিতে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্র দেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক বাজার। ফলে আগামী মাসগুলোতে মার্কিন বাজারে রপ্তানি পরিস্থিতি বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তার ছাড়াই একসঙ্গে একাধিক ডিভাইস চার্জের প্রযুক্তি নিয়ে দুই বাংলাদেশি নতুন উদ্যোগ
নিউইয়র্কে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর বাংলাদেশি খোকনের মৃ ত্যুর খবর
দুর্গাপূজায় ‘মদ খেয়ে নাচানাচি’ করলে ঘাড়ে ধরে থানায় নেওয়া হবে: ফেনীর পুলিশ সুপার
অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিবার নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করেছে দেশটির সরকার। নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য বিদেশি কর্মীরা নিজেদের কাজের ভিসার প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যদের সৌদি আরবে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নতুন এ ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এই উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এর লক্ষ্য সৌদি আরবে বসবাসরত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ভিসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আরও সহজ করা। নতুন নিয়মে যোগ্য বিদেশি কর্মীরা তাদের স্বামী বা স্ত্রী, ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলেসন্তান এবং অবিবাহিত মেয়েসন্তানকে সৌদি আরবে আনার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রবেশভিসার আবেদন করতে কর্মীর নিজের কাজের ভিসা পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যোগ্য পরিবারের সদস্যদের প্রবেশভিসা কর্মীর কর্মভিসা প্রক্রিয়ার সঙ্গেই সমান্তরালভাবে দেওয়া যেতে পারে। তবে এ সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে নির্ধারিত সব শর্ত ও প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে। আগের ব্যবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরবে আনার প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষেত্রে কর্মীর নিজের কর্মভিসা সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় সেই অপেক্ষার সময় কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে যোগ্য বিদেশি কর্মীরা সৌদি আরবে কাজের জন্য যাওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের প্রবেশের ব্যবস্থাও এগিয়ে নিতে পারবেন। পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তাদের রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতিসংক্রান্ত প্রক্রিয়া দেশটির প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করা যাবে। অর্থাৎ প্রবেশভিসা পাওয়ার পরও পরিবারের সদস্যদের বৈধভাবে বসবাসের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হবে। সৌদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিশেষ করে উচ্চ দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কাজের সুযোগের পাশাপাশি পরিবারকে সঙ্গে রাখার সুবিধা বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য সৌদিতে বসবাস ও কর্মজীবনকে আরও সহজ করতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে নেওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভিসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় জটিলতা কমানো এবং বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য সৌদিতে বসবাসের পরিবেশ আরও সুবিধাজনক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পরিবারের সদস্যদের প্রবেশভিসার ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক।
দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি
নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নিতে ঢাকায় নেপালের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি দল