সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

সৌদি আরবগামী ৮৬ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৩ হাজার ৪৯০ যাত্রী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৫:৫৯
সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিলে ভোগান্তিতে যাত্রীরা
সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিলে ভোগান্তিতে যাত্রীরা

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চলায় ঢাকা থেকে সৌদিগামী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ৮৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৩৬টি সরাসরি এবং ৫০টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এসব ফ্লাইট বাতিলের ফলে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৪৯০ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।


সংশ্লিষ্ট সূত্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৪টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের পাঁচটি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে। অর্থাৎ সরাসরি ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট।


অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বাতিল হয়েছে ইন্ডিগোর ফ্লাইট। এয়ারলাইনসটির মোট ২২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটসের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজের ছয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, সালামএয়ারের চারটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।


তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা সর্বাধিক। আর ট্রানজিট ফ্লাইটের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইন্ডিগো। সব মিলিয়ে সরাসরি ও ট্রানজিট—দুই ধরনের ফ্লাইট বাতিলের কারণে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।


সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি যাঁদের যাত্রাপথে অন্য বিমানবন্দরে সংযোগ ফ্লাইট ধরার কথা ছিল, তাঁদেরও নতুন করে সময়সূচি সমন্বয়ের প্রয়োজন হচ্ছে। এতে পরবর্তী ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়েও ভোগান্তিতে পড়ছেন অনেক যাত্রী।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সীমিত কার্যক্রমের কারণেই ফ্লাইট পরিচালনায় এই বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনার সময়সূচিও বদলে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।


এ অবস্থায় যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তন আসার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সরাসরি ফ্লাইটে যাত্রা করা এবং ট্রানজিটের মাধ্যমে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের জন্য বাতিলের এই পরিস্থিতি বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনার সূচিতেও পরিবর্তন আসতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
ভারত সফর নিয়ে তারেক রহমানকে প্রশ্ন শেখ হাসিনার
দিল্লি সফর এড়িয়ে যাওয়ায় তারেক রহমানকে অপরিণত বললেন শেখ হাসিনা, তুললেন জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর না করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে যোগ না দেওয়াকে ‘অপরিণত’ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারেক রহমানের বাবা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভারত সফরের প্রসঙ্গ টেনে হাসিনা প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন বলেই কেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে বাধা তৈরি হবে।   বুধবার, ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া কিংবা স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক হিসাবের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। বরং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন। হাসিনার বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেননি তারেক রহমান। এরপর ১৩ অক্টোবর ভারতের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেননি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে তাঁর পরিবর্তে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়। দুই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বাবার ভারত সফরের উদাহরণ টানলেন হাসিনা সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ১৯৭৯ সালের একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বছর জিয়াউর রহমান ভারত সফর করেছিলেন, তখন হাসিনা নিজেও দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন। ১৯৭৫ সালের আগস্টে শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য হ ত্যা কাণ্ডের পর তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। হাসিনা বলেন, ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান যখন লন্ডন সফর করেন, তখনও তিনি সেই শহরে ছিলেন। কিন্তু তাঁর উপস্থিতি জিয়াউর রহমানের সফরে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। এ প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, তাহলে আজ তাঁর দিল্লিতে অবস্থান তারেক রহমানের ভারত সফরে বাধা হবে কেন? হাসিনার বক্তব্য, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক নির্ধারণ করা ঠিক নয়। তাঁর মতে, বাংলাদেশ ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারিয়েছে। উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর এই জোটের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিক যোগাযোগকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বার্তা দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া দরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা করা। কেন ব্রিকস সম্মেলনে যাননি তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় সম্মেলনের আগেই। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে তারেক রহমানকে সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। বিমসটেক হলো বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক সাত দেশের একটি আঞ্চলিক জোট, যার সদস্য বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে আমন্ত্রণের ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। বাংলাদেশের বক্তব্য ছিল, তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি আমন্ত্রণ জানানো হয়নি; আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বিমসটেকের সভাপতিকে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর হলে সেটি দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত এবং সফরের সময়ও অনুকূল পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। অন্যদিকে ভারতের বক্তব্য ছিল, তারেক রহমানকে ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও জানানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্রিকস সম্মেলনে কোনো সরকারি প্রতিনিধিদল পাঠায়নি। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে হাসিনা বলেন, সম্মেলনে অংশ না নেওয়ায় বাংলাদেশ সম্ভাব্য সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি সুযোগ হারিয়েছে। বিমসটেক বৈঠকেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতি ব্রিকস সম্মেলনের প্রায় এক মাস পর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। ১৩ অক্টোবরের ওই বৈঠকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যোগ দেননি। তাঁর পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, আন্তসীমান্ত অপরাধ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, মানবপাচার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের এটাই ছিল প্রথম পর্যায়ের বৈঠক। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতির পেছনে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল পাঠানোয় দেশটির অংশগ্রহণ পুরোপুরি বন্ধ ছিল না। হাসিনার অবস্থান নিয়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে চলে যান। এরপর থেকে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকা। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার তাঁর প্রত্যর্পণ চেয়েছে। অন্যদিকে হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক কার্যক্রমকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অনুপস্থিতিতে হাসিনাকে মৃ ত্যুদণ্ড দেন। এ রায় এবং তাঁর ভারতে অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কের জটিলতার অন্যতম বিষয় হয়ে রয়েছে। গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেওয়া হাসিনার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওই ঘটনার কারণে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারত অবশ্য জানিয়েছে, ওই বক্তব্যের আয়োজন বা হাসিনার মন্তব্যের প্রতি সমর্থনের সঙ্গে দেশটির সরকার যুক্ত ছিল না। এদিকে হাসিনা তাঁর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে যুক্তি দিয়েছেন, তাঁর নির্বাসনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আটকে রাখা উচিত নয়। তাঁর মতে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিরোধের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ব্রিকস সম্মেলন ও বিমসটেক বৈঠকে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি এবং হাসিনার নতুন সমালোচনা—দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আবারও সামনে এনেছে। তবে ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এবং হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে দুই দেশের মধ্যে কীভাবে সমাধানের পথ তৈরি হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৭:৪৪
সৌদি আরবে দেশে ফেরার অপেক্ষায় ৫০ ওমরাহযাত্রী

সৌদিতে বিমানবন্দরে আটকা ঈশ্বরদীর ৫০ ওমরাহযাত্রী, আবাসন নিয়েও সংকট

সাতক্ষীরায় গণপি টুনির শিকার যুবক শামীম (সংগৃহীত)

আল্লাহ ও মহানবীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, সাতক্ষীরায় গণপি টুনিতে প্রা ণ গেল যুবকের

সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিলে ভোগান্তিতে যাত্রীরা

সৌদি আরবগামী ৮৬ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৩ হাজার ৪৯০ যাত্রী

২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে আসছে ইতিহাসের নতুন বর্ণনা
২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনা বদলাচ্ছে, থাকছে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বর্ণনায় পরিবর্তন আনছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। নতুন বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের সূচনা এবং মেজর জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত বিবরণ যুক্ত করা হচ্ছে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এবং ২০২৪ সালে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও পাঠ্যবইয়ে এ ইতিহাসের বর্ণনা বদলানো হয়েছিল। ফলে তিন সরকারের আমলে স্বাধীনতার ঘোষণার বিবরণে তিন ধরনের উপস্থাপন দেখা যাচ্ছে।   আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্যও বই প্রস্তুত করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিমার্জনের কাজ শেষ করে বর্তমানে বই ছাপানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু বইয়ের মুদ্রণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৭ সালের সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের প্রথম অধ্যায়ের নাম ‘বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও গণ-আন্দোলন’। এই অধ্যায়ে দেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস, স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের সূচনা এবং স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার বিবরণ রয়েছে। নতুন বইয়ে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর গণহত্যা শুরু করে। রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে হামলার পর সেখান থেকে আক্রমণের খবর তারবার্তার মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই রাতেই শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, এ পরিস্থিতিতে নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার খবর পেয়ে জিয়াউর রহমান ‘উই রিভল্ট’ বলে বিদ্রোহ করেন। এরপর ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে ব্যাটালিয়নের বাঙালি কর্মকর্তা ও সৈনিকদের একত্র করে স্বাধীনতা ঘোষণা এবং যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দেন বলে নতুন পাঠ্যবইয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপিত হলে ২৭ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জিয়াউর রহমান অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বলে বইটিতে উল্লেখ রয়েছে। এরপর শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মির অস্থায়ী সর্বাধিনায়ক হিসেবে তিনি আরেকটি ঘোষণা দেন বলেও বিবরণে বলা হয়েছে। নতুন বইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের খবর দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুক্তিকামী মানুষ উজ্জীবিত হয়। বইটিতে আরও বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের ২৪ বছরের শোষণ ও বৈষম্যের অবসান ঘটে। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যে বর্ণনা ছিল ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারও পাঠ্যবই ও শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন এনেছিল। চলতি শিক্ষাবর্ষে পড়ানো সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনা সম্পর্কে তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত বিবরণ রয়েছে। ওই বইয়ে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়। রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে হামলার খবর তারবার্তার মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ওই রাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বন্দি করা হয়। এরপর বইটিতে বলা হয়েছে, ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরদিন ২৭ মার্চ তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের শোষণ ও বৈষম্যের অবসান ঘটে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা হয়। নতুন শিক্ষাবর্ষের বইয়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, এবার জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহের ঘটনা, রাত ২টা ১৫ মিনিটে ঘোষণা দেওয়ার বিবরণ এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ২৭ মার্চের ঘোষণার বিস্তারিত তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেভাবে লেখা ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বিবরণ ছিল আরও আলাদা। এনসিটিবির ওয়েবসাইটে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বই পাওয়া না গেলেও ২০২২ সালের বইয়ে এ বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে। সেই বইয়ে বলা হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে, অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। বইটিতে আরও বলা হয়েছিল, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালি পাকিস্তানের ২৪ বছরের শোষণ ও বৈষম্যের অবসান ঘটায়। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। অর্থাৎ, ২০২২ সালের পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা সরাসরি তুলে ধরা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের বইয়ে ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমানের ঘোষণার কথা এবং পরদিন বঙ্গবন্ধুর পক্ষে তাঁর আরেকটি ঘোষণার উল্লেখ করা হয়। আর ২০২৭ সালের বইয়ে জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহ, স্বাধীনতার ঘোষণা এবং বেতার কেন্দ্র থেকে দেওয়া ঘোষণাগুলো আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বর্ণনা নিয়ে এ পরিবর্তন সম্পর্কে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গবেষক আফসান চৌধুরী বলেছেন, রাষ্ট্রের ইতিহাসের বর্ণনা সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যায় এবং ভবিষ্যতেও বদলাতে পারে। তাঁর মতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে অনেক সময় ইতিহাসের চেয়ে রাজনীতির চর্চাই বেশি প্রাধান্য পায়। পাঠ্যবইয়ে আরও যেসব পরিবর্তন আসছে স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পাশাপাশি ২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে আরও কয়েকটি বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্সের বিবরণ, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা। এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা একটি নিবন্ধও পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ইতিহাসের বাইরে বাংলা এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়েও নতুন পাঠ্যবস্তু যুক্ত হচ্ছে। চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি করে মোট চারটি নতুন বই চালু করা হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণির নতুন বই দুটি হলো ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্ত হচ্ছে ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ এবং ‘আনন্দময় শিক্ষা’ নামের দুটি বই। সব মিলিয়ে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বর্ণনা, বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে নেতাদের ভূমিকা এবং নতুন শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে স্বাধীনতার ঘোষণার বিবরণে বিভিন্ন সরকারের সময়ে পরিবর্তন আসায় একই ঐতিহাসিক ঘটনা শিক্ষার্থীদের কাছে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হওয়ার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৫:৩৬
ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে ২০ জনের মৃত্যু

চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে পাঠানো, ৩০ বাংলাদেশির ২০ জনই নিহত

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সাদি খান

আমেরিকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারা সেই সাদি আজ ২২০ কোটি ডলারের মালিক

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর হিসেবে পরিচিত

১৪ দিনের দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন চরমোনাই পীর

এক্সো ইমেজিংয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ড. ইউসুফ হক। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মেশিন ছাড়াই ফোনে আল্ট্রাসনোগ্রাম নেপথ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইউসুফ হক, লক্ষ্য গ্রামেও চিকিৎসাসেবা

স্টেথোস্কোপের মতো ছোট একটি যন্ত্র হাতে নিয়ে রোগীর শরীরে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করা, আর সেই পরীক্ষার ছবি বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা পাওয়া। চিকিৎসাপ্রযুক্তির এই ধারণাকে বাস্তবে এগিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সো। প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ড. ইউসুফ হক। তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর, চিকিৎসা-ইমেজিং এবং ক্ষুদ্রাকৃতির ইলেকট্রনিক চিপ তৈরিতে। এক্সোর লক্ষ্য, বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড প্রযুক্তির মাধ্যমে হাসপাতালের বাইরে, এমনকি প্রত্যন্ত এলাকাতেও রোগ নির্ণয়ের কিছু সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।   ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এক্সোর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইউসুফ হক ও সন্দীপ আকারাজু। বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সে সময় ইউসুফ হক জানান, প্রথম পর্যায়ে দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে যন্ত্রটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে গ্রামীণ ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও এটি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য তাঁদের। তবে এই ঘোষণা পরিকল্পনার কথা জানায়, বাংলাদেশে যন্ত্রটির ব্যাপক ব্যবহার ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, এমনটি নিশ্চিত করে না।   এক্সোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, ইউসুফ হক প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এবং প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে তাঁর কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫টি পেটেন্টের সহ-স্বত্বাধিকারী এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেছেন কানাডার কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা ও পণ্য উন্নয়নেও তিনি কাজ করেছেন।   এক্সো প্রতিষ্ঠার আগে ইউসুফ হক স্লাইসএক্স বা ক্রেস্ট সেমিকন্ডাক্টরসের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠানটি দাঁতের ডিজিটাল এক্স-রে ইমেজিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করত। এরও আগে দুই দশকের বেশি সময় তিনি ম্যাক্সিম ইন্টিগ্রেটেড প্রোডাক্টসে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। ওই সময়ে তাঁর কাজের মধ্যে ছিল ডিজিটাল এক্স-রে ইমেজিংয়ের চিপসেট, রক্তে গ্লুকোজ পরিমাপের যন্ত্রে ব্যবহৃত চিপ, চিকিৎসা-আল্ট্রাসাউন্ডের ইলেকট্রনিক উপাদান এবং গাড়ির স্বয়ংক্রিয় পার্কিং ব্যবস্থায় ব্যবহৃত অতিস্বনক প্রযুক্তি। এক্সোর প্রোফাইল অনুযায়ী, বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হওয়া ৩০টিরও বেশি সমন্বিত সার্কিট পণ্য নকশায় তাঁর ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি দুই দশক ধরে আইইইইর বিভিন্ন কারিগরি কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।   ২০১৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড সিটিতে ইউসুফ হক, সন্দীপ আকারাজু, জানুস ব্রাইজেক ও জন কোকুলিস মিলে এক্সো ইমেজিং প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসা-ইমেজিং প্রযুক্তিকে আরও সহজে বহনযোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য করার ওপর গুরুত্ব দেয়। তাদের তৈরি এক্সো আইরিস একটি হাতে বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড প্রোব। প্রচলিত বড় আল্ট্রাসাউন্ড যন্ত্রের তুলনায় এটি আকারে ছোট এবং রোগীর কাছাকাছি গিয়ে পরীক্ষা করার জন্য নকশা করা হয়েছে। যন্ত্রটির সঙ্গে যুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার পরীক্ষার সময় চিকিৎসককে ছবির মান ও প্রয়োজনীয় দৃশ্য ধারণে সহায়তা করে।   এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সুইপএআই। এক্সোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এটি যন্ত্রের ভেতরেই কাজ করতে পারে এবং হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষার সময় ছবির মান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেয়। প্রোবটি শরীরের ওপর দিয়ে চালানোর সময় সফটওয়্যার উপযুক্ত ছবি শনাক্ত করতে এবং পর্যাপ্ত তথ্য ধারণ হয়েছে কি না তা বুঝতে সহায়তা করে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পরীক্ষার জন্য ক্লাউড বা ইন্টারনেট সংযোগের ওপর নির্ভর করতে হয় না। তবে এর অর্থ এই নয় যে যন্ত্রটি নিজে থেকেই সব রোগের চূড়ান্ত নির্ণয় করে ফেলে। এটি চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীকে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার একটি প্রযুক্তি।   এক্সোর প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুধু ছবি তোলার মান যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, আইরিসে হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে সহায়ক এআই ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং ফুসফুসের চারপাশে তরল জমা বা ফুসফুসের কিছু অংশে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মতো বিষয় শনাক্ত করতে সহায়তা করা অন্তর্ভুক্ত। এসব তথ্য চিকিৎসকের জন্য প্রাথমিক মূল্যায়নে কাজে লাগতে পারে, তবে রোগীর উপসর্গ, অন্যান্য পরীক্ষার ফল এবং চিকিৎসকের সামগ্রিক মূল্যায়নের বিকল্প নয়।   ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক্সো সুইপএআই চালুর ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যবহারের আওতায় হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় এই প্রযুক্তি সহায়তা করে। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ফুসফুসে তরল জমা এবং ফুসফুসের টিস্যুতে ঘনত্ব বা ধসের মতো পরিবর্তন শনাক্তে সহায়ক এআই ব্যবস্থার জন্য এফডিএর ৫১০(কে) ছাড়পত্রের তথ্য প্রকাশিত হয়। একই বছরের জুনে এক্সো ফুসফুসের এসব বৈশিষ্ট্য শনাক্তে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আরও তথ্য জানায়। এ ধরনের নিয়ন্ত্রক ছাড়পত্র নির্দিষ্ট ব্যবহার ও নির্দিষ্ট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সব রোগ শনাক্ত করার সামগ্রিক অনুমোদন হিসেবে একে দেখা ঠিক নয়।   বাংলাদেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা স্বাস্থ্যসেবার একটি বাস্তব সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। বড় শহরের বাইরে অনেক এলাকায় উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র, প্রশিক্ষিত কর্মী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সুযোগ সীমিত। রোগীকে পরীক্ষা করাতে দূরের হাসপাতালে যেতে হলে সময় ও অর্থ দুটিই বেশি লাগে। বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড যন্ত্র স্বাস্থ্যকর্মীদের রোগীর কাছাকাছি গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে। তবে বাস্তবে এর সুফল পেতে যন্ত্রের দাম, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা-তথ্যের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজন হলে রোগীকে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।   এক্সোর প্রধান নির্বাহী সন্দীপ আকারাজু ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের বৈঠকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পর এশিয়ায় প্রথম বাংলাদেশে প্রযুক্তিটি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক লক্ষ্য বড় হাসপাতাল হলেও ভবিষ্যতে গ্রামীণ ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এর ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ সফল হলে দূরবর্তী এলাকায় প্রাথমিক পরীক্ষা সহজ হতে পারে। তবে কোন হাসপাতাল থেকে কার্যক্রম শুরু হবে, কতটি যন্ত্র আনা হবে, এর মূল্য কত হবে এবং সাধারণ রোগীরা কখন থেকে সেবা পাবেন, সে বিষয়ে ঘোষণার সময় বিস্তারিত সময়সূচি জানানো হয়নি।   ইউসুফ হকের কর্মজীবন দেখায়, চিকিৎসা-প্রযুক্তির উন্নয়নে শুধু চিকিৎসাবিদ্যা নয়, ইলেকট্রনিকস, চিপ নকশা, সফটওয়্যার ও প্রকৌশলের সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর নেতৃত্বে এক্সো যে প্রযুক্তি তৈরি করছে, তা রোগ নির্ণয়ের কিছু ধাপকে সহজ ও দ্রুত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বাংলাদেশে এর ব্যবহার কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন, ব্যয়, প্রশিক্ষণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তিটির কার্যকর সংযোগের ওপর। আপাতত প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত পরিকল্পনা দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বহনযোগ্য ও এআই-সহায়ক পরীক্ষাপদ্ধতি যুক্ত করার একটি সম্ভাব্য পথ সামনে এনেছে।   সূত্র: এক্সোর অফিসিয়াল প্রোফাইল ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রকাশনা; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর প্রতিবেদন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ২৩:৪৮
হারানো ম্যাকবুক ফিরে পেলেন জার্মান পর্যটক

জার্মান পর্যটককে ল্যাপটপ ফিরিয়ে দিল পুলিশ, পুরস্কৃত দুই কর্মকর্তা

কোরআন পড়তে পারার কারণে পরিচিত আব্বাস প্রামাণিক

চশমা ছাড়াই কোরআন পড়তেন, নাটোরের ১২৩ বছর বয়সী সেই আব্বাস প্রামাণিক আর নেই

নার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু

0 Comments