সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

প্রথমবার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে যাচ্ছে থাইল্যান্ড, নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে ২০২৭ সালে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৬:৩৭
থাইল্যান্ডের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সম্ভাবনা
থাইল্যান্ডের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সম্ভাবনা

থাইল্যান্ডের কৃষি ও নির্মাণ খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। এ উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্যও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনার কথা সামনে এলেও বাংলাদেশিদের নিয়োগ কবে শুরু হবে, কতজন কর্মী নেওয়া হবে কিংবা কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।


থাইল্যান্ডের অর্থনীতিতে কৃষি ও নির্মাণশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব খাতে শ্রমিকের চাহিদা থাকায় দেশটি বিদেশি কর্মী নিয়োগের বৈধ পথ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন শ্রমবাজারের মাধ্যমে কর্মী সংগ্রহের পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়াকে আরও নিয়মতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


তবে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। থাইল্যান্ডের মন্ত্রিসভা ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য দুই দেশের মধ্যে শ্রম সহযোগিতা ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে শ্রীলঙ্কা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে একই ধরনের চুক্তি বা চূড়ান্ত নিয়োগসূচি প্রকাশ্যে নিশ্চিত হয়নি। ফলে বাংলাদেশিদের জন্য সুযোগ তৈরির খবরকে সম্ভাব্য উদ্যোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।


শ্রীলঙ্কার সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা, কর্মীর সংখ্যা, যোগ্যতা, কাজের শর্ত এবং পারিশ্রমিকের বিষয়গুলো নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার আওতায় থাকবে। কর্মীদের থাইল্যান্ডে যাওয়ার আগে নিয়োগকর্তার সঙ্গে সরাসরি কর্মসংস্থান চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি কাজের অনুমতিপত্র, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিমার প্রমাণের মতো শর্তও পূরণ করতে হবে।


চুক্তিতে কর্মীদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও রাখা হয়েছে। বিদেশি কর্মীরা যেন স্থানীয় কর্মীদের মতো ন্যায্য আচরণ ও শ্রম আইনের আওতায় প্রাপ্য সুবিধা পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চাকরির শর্ত নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকবে। শ্রীলঙ্কার কর্মীদের ক্ষেত্রে চুক্তির মেয়াদ দুই বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আরও দুই বছর বাড়ানো যেতে পারে। মেয়াদ শেষে নিজ দেশে ফেরার ব্যবস্থার দায়িত্ব নিয়োগকর্তার ওপর থাকবে।


এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য শুধু বিদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো নয়; বরং বৈধ ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগ নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে অবৈধ নিয়োগ, কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা এবং মানব পাচারের ঝুঁকি কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।


বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কী সুযোগ তৈরি হতে পারে?


বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ চূড়ান্ত হলে কৃষি ও নির্মাণ খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোন ধরনের কাজে লোক নেওয়া হবে, কী যোগ্যতা লাগবে, বেতন কত হবে এবং নিয়োগের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়স বা অভিজ্ঞতার শর্ত থাকবে কি না—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য নেই।


একইভাবে বাংলাদেশ থেকে প্রথম দফায় কতজন কর্মী যাবেন, নিয়োগের আবেদন কখন শুরু হবে কিংবা কোন সরকারি সংস্থা প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করবে, তা-ও স্পষ্ট নয়। শ্রীলঙ্কার কর্মী নিয়োগের সময়সূচি বা চুক্তির শর্ত সরাসরি বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে তবেই এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে।


চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য সতর্কতা


থাইল্যান্ডে কাজের সুযোগের খবর সামনে আসায় আগ্রহী কর্মীদের এখন থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা এবং বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। তবে সরকারি ঘোষণা, অনুমোদিত নিয়োগকারী সংস্থা এবং নির্দিষ্ট চাকরির তথ্য প্রকাশের আগে কাউকে টাকা দিয়ে চাকরি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা উচিত নয়।


বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ভিসার প্রতিশ্রুতি কিংবা আগাম টাকা চাওয়া কোনো প্রস্তাব যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা ঝুঁকিপূর্ণ। নিয়োগকর্তার পরিচয়, লিখিত চুক্তি, বেতন, কাজের ধরন এবং কাজের অনুমতির বিষয়গুলো নিশ্চিত করা জরুরি।


সব মিলিয়ে, থাইল্যান্ডের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা থাকলেও নিয়োগ শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়। তাই আগ্রহী কর্মীদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা এবং যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
ছাত্রীদের বিকৃত ছবি তৈরির মামলায় সাবেক শিক্ষকের কারাদণ্ড
ছাত্রীদের বিকৃত ছবি তৈরি, বাংলাদেশি শিক্ষক আবুসালি রহমানের ৬ বছরের কারাদণ্ড

ইংল্যান্ডের গ্রেটার ম্যানচেস্টারে স্কুলছাত্রীদের ছবি ব্যবহার করে যৌ ন ইঙ্গিতপূর্ণ ভুয়া ছবি তৈরি এবং গোপনে তাঁদের ব্যক্তিগত ছবি তোলাসহ ২১টি অ প রাধে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও সাবেক শিক্ষক আবুসালি রহমানকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, বোল্টন ক্রাউন কোর্ট তাঁর সাজা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অ প রাধ প্রতিরোধে তাঁর বিরুদ্ধে ২০ বছরের যৌ ন ক্ষতি প্রতিরোধ আদেশ জারি করা হয়েছে।   গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সালফোর্ডের বাসিন্দা রহমান বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অস্থায়ী শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি শিক্ষকের অবস্থান ও শিক্ষার্থীদের আস্থার অপব্যবহার করেন। এ সময় বোল্টন, ব্যুরি ও সালফোর্ডের সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ছাত্রীদের অজান্তে ছবি তোলেন তিনি। যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলি সংস্থা ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, রহমান শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের অ্যাকাউন্ট খুঁজে বের করতেন। সেখান থেকে ছবি নিয়ে প্রযুক্তির সাহায্যে সেগুলো বিকৃত করে যৌ ন ইঙ্গিতপূর্ণ ভুয়া ছবি তৈরি করতেন এবং অনলাইনে ছড়িয়ে দিতেন। তাঁর ইলেকট্রনিক ফাইল থেকে ছাত্রীদের নাম ও ঠিকানাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্যও উদ্ধার করা হয়। ২০২৫ সালের ২ মার্চ উদ্বিগ্ন কয়েকজন অভিভাবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দুটি অ্যাকাউন্টে শিক্ষার্থীদের ছবি দেখতে পেয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান। তদন্তে রহমানের সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে এলে তাঁর ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র জব্দ করা হয়। এসব যন্ত্রে বিকৃত ছবির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অজান্তে তোলা ব্যক্তিগত ছবিও পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের জুনে রহমানকে প্রথম গ্রে প্তা র করা হয়। পরে তদন্তে আরও অ প রাধের তথ্য পাওয়া গেলে এবং জামিনের শর্ত ভঙ্গের ঘটনায় তাঁকে আবারও গ্রে প্তা র করা হয়। তদন্তকারীরা তাঁর সংগ্রহে তিন শতাধিক যৌ ন নি পী ড়নমূলক ছবি পান। রহমান ২০২৬ সালের ২৮ মে আদালতে ২১টি অ প রাধ স্বীকার করেন। এর মধ্যে শিশুদের অ শা লী ন ছবি তৈরির ১২টি, অ শ্লী ল উপাদান প্রকাশের চারটি, বিকৃত ছবি তৈরির তিনটি এবং ছবি বিতরণ ও সম্মতি ছাড়া পোশাকের নিচে ছবি তোলার যন্ত্র ব্যবহারের একটি করে অ প রাধ রয়েছে। জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলি আলেকজান্দ্রা ম্যান বলেন, বিদ্যালয়ে শিশুদের নিরাপদ বোধ করার অধিকার রয়েছে। রহমান শিক্ষার্থীদের অজান্তে ছবি তুলে এবং বিকৃত ছবি ছড়িয়ে শিক্ষকের প্রতি তাঁদের আস্থার গুরুতর লঙ্ঘন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৭:৩৬
থাইল্যান্ডের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সম্ভাবনা

প্রথমবার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে যাচ্ছে থাইল্যান্ড, নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে ২০২৭ সালে

নতুন বেতন স্কেলের অর্থ জোগাতে ব্যয় কমানোর সুপারিশ

নতুন বেতন স্কেলের অর্থ জোগাতে ভর্তুকি কমানো ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের সুপারিশ কমিশনের

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকার ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি মোতায়েন করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

দুর্গাপূজায় ২ হাজার ৭২৭ মণ্ডপের নিরাপত্তায় থাকবে বিজিবি

জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম, জন্মতারিখ বা ঠিকানা সংশোধনের জন্য সঠিক তথ্যের সপক্ষে প্রমাণপত্র জমা দেওয়া আবশ্যক। ছবি: সংগৃহীত
এনআইডিতে নাম, বয়স, জন্মতারিখ ও ঠিকানা সংশোধনে কোন কাগজ লাগবে, জানুন আবেদনের নিয়ম

জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম, জন্মতারিখ বা ঠিকানা ভুল থাকলে সংশোধনের জন্য সঠিক তথ্যের সমর্থনে প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়। তবে সব সংশোধনের জন্য একই কাগজপত্র প্রযোজ্য নয়। নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারী এসএসসি বা সমমান পাস হলে তাঁর শিক্ষাগত সনদ অগ্রাধিকার পায়। অন্য ক্ষেত্রে সংশোধনের ধরন অনুযায়ী জন্মনিবন্ধন সনদ, পাসপোর্টসহ প্রাসঙ্গিক দলিল প্রয়োজন হতে পারে।    নিজের বাংলা বা ইংরেজি নাম এবং জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে এসএসসি বা সমমান পাস ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট সনদ জমা দিতে হবে। এসএসসি পাস না হলে এবং সরকারি বা নির্দিষ্ট স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত থাকলে চাকরির সার্ভিস বুক বা এমপিও প্রযোজ্য হতে পারে। অন্যান্য ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ গ্রহণযোগ্য নথি সংশোধনের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বয়সের ভুল সংশোধনের আবেদনেও সঠিক জন্মতারিখের সমর্থনে নথি প্রয়োজন।    নামের বানান সংশোধন এবং সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কাগজপত্রের চাহিদায় পার্থক্য রয়েছে। নামের আমূল পরিবর্তনের জন্য গ্রহণযোগ্য পরিচয়সংক্রান্ত দলিলের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা ও জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির কপি চাওয়ার বিধান রয়েছে। ধর্ম পরিবর্তনের কারণে নাম বদলানোর ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র প্রয়োজন।    পিতা বা মাতার নাম সংশোধনের জন্য আবেদনকারীর শিক্ষাগত সনদ এবং প্রাসঙ্গিক পারিবারিক পরিচয়পত্র প্রয়োজন হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় এসএসসি বা এইচএসসি সনদে পিতা ও মাতার নাম থাকলে তা এবং পিতা, মাতা, ভাই ও বোনের এনআইডির সত্যায়িত অনুলিপি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।    বাসা, হোল্ডিং, গ্রাম, রাস্তা বা ডাকঘরের তথ্য সংশোধনে সঠিক ঠিকানার প্রমাণ জমা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাড়ির দলিল, টেলিফোন, গ্যাস বা পানির বিল, বাড়িভাড়ার চুক্তিপত্র কিংবা ভাড়ার রশিদ প্রযোজ্য হতে পারে। তবে ঠিকানার ভুল সংশোধন এবং ভোটার এলাকা স্থানান্তর আলাদা প্রক্রিয়া। ভোটার এলাকা বদলাতে স্থানান্তরের নির্ধারিত ফরম সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যাচাইয়ের জন্য জমা দিতে হয়।    জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য অনলাইন সেবায় নিবন্ধন করে আবেদন করা যায়। আবেদনে যে তথ্য পরিবর্তন চাওয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে সংযুক্ত প্রমাণপত্রের মিল থাকা প্রয়োজন। সংশোধনের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত দলিল, সাক্ষাৎকার বা তদন্তের প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস থেকে নিজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কাগজপত্রের তালিকা নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১:৩৬
মোটরসাইকেলের পেছনে ডিজিটাল নম্বরপ্লেটের পাশাপাশি সামনে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট লাগানোর নির্দেশ দিয়েছে বিআরটিএ। ছবি: সংগৃহীত

মোটরসাইকেলের সামনেও বসাতে হবে নম্বরপ্লেট, সময়সীমা ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত

পোশাকশ্রমিক

১২ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে সংসার চলে না, ৩০ হাজার টাকার দাবিতে রাজপথে পোশাকশ্রমিক

হামলার শিকার হয়ে মারা গেছেন শুক্কুর আলী ব্যাপারী

মাদক-জুয়া বন্ধ করতে গিয়ে হামলার শিকার, হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিএনপি নেতার মৃত্যু

সোনালী ব্যাংকের এটিএম, কার্ড ও ডিজিটাল ব্যাংকিং
আজ রাত থেকেই সোনালী ব্যাংকের এটিএমসহ সব ডিজিটাল লেনদেন বন্ধ, ভোগান্তির আশঙ্কা

সোনালী ব্যাংকের এটিএম, কার্ড ও ডিজিটাল ব্যাংকিংসহ সব ধরনের আর্থিক লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোর ব্যাংকিং সিস্টেম আধুনিকায়নের কাজের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এই অনুমোদন দিয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে শনিবার, ১৭ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এসব সেবা বন্ধ থাকার কথা জানিয়েছে জাগো নিউজ ২৪।    বাংলাদেশ ব্যাংকের বুধবার জারি করা সার্কুলার অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে অনলাইন ব্যাংকিং, এটিএম বুথ, কার্ড সার্ভিস ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকেরা লেনদেন করতে পারবেন না।   এই সিদ্ধান্তের কারণে যেসব গ্রাহক নিয়মিত এটিএম থেকে টাকা তোলেন, কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা করেন কিংবা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করেন, তাঁদের সাময়িক অসুবিধায় পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে জরুরি বিল পরিশোধ, ব্যবসায়িক লেনদেন ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যাংকিং সেবার ওপর নির্ভরশীল গ্রাহকদের আগেভাগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সিস্টেম আধুনিকায়নের উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নত করা এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা। তবে সেবা পুনরায় চালুর নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই।   জাগো নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ প্রয়োজনে ১৭ অক্টোবর শনিবার সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন চালু রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। তবে সোনালী ব্যাংকের ডিজিটাল সেবা বন্ধ থাকার নির্দিষ্ট সময়সীমা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে।   গ্রাহকদের তাই জরুরি নগদ অর্থের প্রয়োজন থাকলে আগেই পরিকল্পনা করা, লেনদেনের বিকল্প ব্যবস্থা যাচাই করা এবং ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সেবা চালুর সময়সূচিতে পরিবর্তন এলে ব্যাংক বা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরবর্তী ঘোষণাই হবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১০:২
এয়ারট্রাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তা রবিন খোদা

১৮ বছরে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি, দেউলিয়া থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলারের এয়ারট্রাঙ্ক গড়লেন রবিন

কৃষিকে লাভজনক করার তাগিদ দিলেন রাষ্ট্রপতি (ছবি: সংগৃহীত ও এআই দ্বারা সম্পাদিত)

উৎপাদন বাড়লেও কৃষকের লাভ নেই, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে জোর দিলেন রাষ্ট্রপতি

নরসিংদীতে তারেক মিয়ার ম রদেহ উদ্ধারের ঘটনা

রাতে নেশার টাকার জন্য বাড়ি ভাঙচুর, সকালে ছেলের র ক্তাক্ত ম রদেহ উদ্ধারের পর পলাতক বাবা

0 Comments