ইউরোপের তিন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হলো ৩৫ বাংলাদেশিকে, বিমানবন্দরে মিলল সহায়তা
ইউরোপের তিন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় পৌঁছেছেন। একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন দেশে ফেরেন। সকাল সোয়া ৮টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ফ্লাইটটি।
ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দেশে ফেরার পর বাংলাদেশিদের বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় এই সহায়তা দিচ্ছে। এ কাজে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক সহযোগিতা করেছে।
এ সময় বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে ফেরত আসা ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া হবে।
অনিয়মিতভাবে ইউরোপে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য ২০১৭ সালে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস (এসওপি) চুক্তি সই করে বাংলাদেশ সরকার। এই চুক্তির আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে সাইপ্রাস, ইতালি, রোমানিয়া ও ফ্রান্স থেকে আসা মানুষের সংখ্যা বেশি।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, গত কয়েক বছরে ইউরোপ থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতালি, গ্রিস ও জার্মানি থেকে আসা মানুষের সংখ্যা বেশি।
তিনি বলেন, দেশে ফেরত আসা ব্যক্তিদের বিমানবন্দরে তাৎক্ষণিক সহায়তা ও কাউন্সেলিং দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের অর্থনৈতিক সহায়তাও করা হয়, যাতে তাঁরা নতুন করে জীবন গুছিয়ে নিতে পারেন।
শরিফুল হাসান আরও জানান, ঝুঁকি নিয়ে যেন বাংলাদেশিরা ইউরোপে পাড়ি না জমান, সে জন্য সারা দেশে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলো বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View more২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচনার পর প্রতীকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এ জন্য গত বৃহস্পতিবার রাতে বইটির ছাপার কাজ আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে যেসব বই মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে, সেগুলো ফিরিয়ে এনে সংশোধনের পর আবার বিতরণের পরিকল্পনাও করছে সংস্থাটি। এনসিটিবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বইয়ে ব্যবহৃত বিতর্কিত প্রতীকটি পরিবর্তন করে সংশোধিত সংস্করণ শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে নতুন করে কোন প্রতীক ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর আবার সরবরাহ করা হবে। শিক্ষার্থীরা যেন পাঠ্যবই থেকে কোনো ভুল তথ্য না পায়, তা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এনসিটিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দাঁড়িপাল্লা একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতীক হওয়ায় বইটিতে এর ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে জ্ঞানের পিরামিডের মাধ্যমে চারটি স্তর তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। প্রতিটি স্তর বোঝাতে আলাদা প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। উপাত্তের স্তরে রয়েছে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো দেখতে একটি বৃত্তাকার চিহ্ন। তথ্যের স্তরে ব্যবহার করা হয়েছে পরমাণু কিংবা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে প্রতীক। জ্ঞানের স্তরে রয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। আর পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞা বোঝাতে রাখা হয়েছিল দাঁড়িপাল্লার ছবি। বইটির ছাপার কাজের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। মুদ্রণমালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহের অধিকাংশ কাজই সম্পন্ন হয়েছে। ফলে বিতরণ করা বইগুলো ফিরিয়ে এনে প্রতীক পরিবর্তন করতে হলে নতুন করে সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হবে। এতে বই সরবরাহের কাজেও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর বেশির ভাগের ছাপার কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সব শ্রেণি মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কার্যক্রম চলছে। ফলে একটি বইয়ের প্রতীক সংশোধনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে ছাপা ও বিতরণের কাজ সমন্বয় করতে হবে। প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহারের ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে গেলে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়েও প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা রাখা হয়েছিল। তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বইয়ে প্রজ্ঞা বোঝাতে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরিয়ে আনা হলে তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই প্রতীক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞা বোঝানোর জন্য বিশ্বজুড়ে সর্বজনস্বীকৃত কোনো একক প্রতীক নেই। ইতিহাস, দর্শন ও বিভিন্ন সংস্কৃতিতে প্যাঁচা কিংবা বইকেও প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। সংশোধিত আইসিটি বইয়ে দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে কোন চিহ্ন রাখা হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। এ বিষয়ে এনসিটিবির পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হবে।
ইউরোপের তিন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হলো ৩৫ বাংলাদেশিকে, বিমানবন্দরে মিলল সহায়তা
মেয়েকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে থাপ্পড় দিলেন বাবা, পুলিশের হাতে সোপর্দ
কর্মচারীর বেতন বাঁচাতে নিজেই বানালেন কাঠের ক্রেন, চেয়ারে বসেই চা পৌঁছে দেন হাতেম!
বাংলাদেশের মানিকগঞ্জে এক স্বামী-স্ত্রীর পুনর্মিলনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। প্রায় তিন মাস ধরে নিখোঁজ স্ত্রীকে খুঁজে বেড়ানোর পর ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিওর মাধ্যমে তাঁর সন্ধান পান স্বামী আলী হোসেন। দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা আর উদ্বেগের অবসান ঘটে তাঁদের পুনর্মিলনের মধ্য দিয়ে। ঘটনাটি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার। সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৭ বছর বয়সী আলী হোসেনের স্ত্রী মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তিনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর স্বামী আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও বিভিন্ন স্থানে তাঁকে খুঁজেছেন। কিন্তু কোথাও স্ত্রীর সন্ধান পাননি। দিন গড়িয়েছে, কিন্তু স্ত্রীর খোঁজ মেলেনি। কোথায় আছেন, কীভাবে দিন কাটছে—এসব অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন আলী হোসেন। অন্যদিকে, নিখোঁজ ওই নারী সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি নিজের নাম ও ঠিকানাও ভুলে গিয়েছিলেন। খাবারের খোঁজে তাঁকে মানুষের দরজায় দরজায় যেতে হতো। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভয়েস অব রবিউল ভাই’ নামে পরিচিত এক কনটেন্ট নির্মাতার নজরে আসেন ওই নারী। তাঁর অসহায় পরিস্থিতি দেখে পরিবারকে খুঁজে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। নারীর অবস্থার কথা জানিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর একসময় তা পৌঁছে যায় আলী হোসেনের কাছে। ভিডিওতে স্ত্রীকে চিনতে পেরে আর দেরি করেননি আলী হোসেন। তিনি দ্রুত সেখানে ছুটে যান। গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁদের দেখা হয় এবং দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদের পর আবার একসঙ্গে হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে তাঁদের পুনর্মিলনের মুহূর্তটি আবেগঘন হয়ে ওঠে। আলী হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁর স্ত্রীকে ফিরে পেতে তাঁকে দুই মাস ২৩ দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিনি পেশায় একজন দর্জি। তাঁদের তিন সন্তান—দুই ছেলে ও এক মেয়ে। স্ত্রীর অসুস্থতার ইতিহাসও রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের জন্য এই দীর্ঘ বিচ্ছেদ যে কতটা উদ্বেগের ছিল, তা তাঁদের পুনর্মিলনের ঘটনাতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যে কনটেন্ট নির্মাতার ভিডিও এই পরিবারকে আবার এক করেছে, তিনি জানান, রাস্তায় অসহায় অবস্থায় ওই নারীকে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, যেভাবেই হোক তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। ভিডিওটি প্রকাশের উদ্দেশ্য ছিল তাঁর স্বজনদের খুঁজে বের করা। শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ সফল হয়। ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শুধু বিনোদনের জায়গা নয়; দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা হলে এটি হারিয়ে যাওয়া মানুষের পরিবার খুঁজে পেতেও সহায়তা করতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতিতে নিখোঁজ বা অসুস্থ ব্যক্তির ছবি ও পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁর মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতিও সম্মান রাখা জরুরি।
রংপুর মেডিকেলে আগুন, আতঙ্কে প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করে আহত ৪০ রোগী-স্বজন
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মারুফ বেপারিকে গু লি করে হ ত্যা
সাজেকে পর্যটকদের ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর গু লি, আহত নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য
মাত্র দেড় তিন মিনিটের বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুকে ২৫ বার ‘স্যার’ সম্বোধন করেছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম। বক্তব্যের এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে শুধু সম্বোধন নয়, বক্তব্যে রাজারহাটে সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি, সরকারি উদ্যোগের প্রশংসা ও চাকরিজীবীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রাজারহাট উপজেলার বৈদ্যের বাজার হরিসভা সংস্কৃতি দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অসচ্ছল হরিজন, রবিদাস ও বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউএনও তানজিলা তাসনিম। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। অনুষ্ঠানে শতাধিক শাড়ি বিতরণ করা হয়। বক্তব্যে রাজারহাটে একটি সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন ইউএনও। তিনি বলেন, সরকার কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে দক্ষ জনবলের প্রয়োজন রয়েছে। এ অবস্থায় রাজারহাটে সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হলে শুধু এ উপজেলা নয়, উত্তরবঙ্গের মানুষও উপকৃত হবেন। বিষয়টি যথাসময়ে মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের জন্য মন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। বক্তব্যের শুরুতে রাজারহাটে প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন এবং হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য উপহার দেওয়ায় মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইউএনও। এ ছাড়া ভিজিএফের চাল বস্তাবন্দী করার উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, আগে চালের বস্তা ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে সমস্যা হতো। নতুন উদ্যোগে সেই সমস্যা কমবে। সরকারি চাকরিজীবীদের পক্ষ থেকে নবম পে-স্কেল নিয়েও মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তানজিলা তাসনিম। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ চাকরিজীবীদের কাজের উদ্দীপনা বাড়াবে। এর আগেও আলোচনায় এসেছিলেন তানজিলা তাসনিম। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কক্সবাজারের ইউএনও থাকাকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে এক পর্যটকের কাছ থেকে তাকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেও আলোচনায় আসেন তিনি। অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জেলা পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বি, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলহাজ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান, সদস্যসচিব সাহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক উদ্যোগের প্রশংসা-বক্তব্যে একাধিক বিষয় উঠে এলেও দেড় মিনিটে মন্ত্রীকে ২৫ বার ‘স্যার’ সম্বোধনের বিষয়টিই তানজিলা তাসনিমকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হন এবং সবচেয়ে দুর্নীতিবাজরা নেতা হয়ে যান: স্পিকার
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা থেকে জিনের বাদশা'সহ দুইজন আটক