বাংলাদেশ

ঈদযাত্রায় প্রাণহানি বাড়ছেই: ১২ দিনে সড়ক-রেল-নৌপথে নিহত ২৪১

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৫:৪৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ঈদযাত্রা পুরোপুরি শেষ না হলেও প্রাথমিক হিসাবেই ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। মাত্র ১২ দিনেই বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ২৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

 

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, এই সময়ের মধ্যে ২০৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪২ জন নিহত এবং অন্তত ৪৪১ জন আহত হয়েছেন। যদিও ঈদের আগে-পরে মোট ১৫ দিনকে সাধারণত ঈদযাত্রা হিসেবে ধরা হয়, তবে এবারের হিসাব এখনো পূর্ণাঙ্গ নয়।

 

এদিকে, ১৮ মার্চ রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় দুই লঞ্চের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত দুজন নিহত হন। একই দিন কুমিল্লায় একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইনে উঠে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে ১২ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হন।

 

অন্যদিকে, ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে আরও কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, ঈদের সময় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বেপরোয়া গতি, চালকের ক্লান্তি ও অদক্ষতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গত এক দশকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশে হাজারো দুর্ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রতিযোগিতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং দুর্বল তদারকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বেপরোয়া গতি। পাশাপাশি সড়কের নাজুক অবস্থাও বড় ঝুঁকি হিসেবে কাজ করছে।

 

তারা মনে করেন, দুর্ঘটনা কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার, দক্ষ চালক তৈরি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ এবং কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি। একই সঙ্গে চালক ও যাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

বাংলাদেশ

View more
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি নয়, ঢাকায় এআই ক্যামেরা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যেতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা। তবে এই আধুনিক প্রযুক্তির কৃতিত্ব কার—তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ এটিকে বিএনপির সফলতা হিসেবে প্রচার করলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূল উদ্যোগ ও টেন্ডার প্রক্রিয়াটি ছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের।   সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ানবাজারের সোনারগাঁও হোটেল ক্রসিংয়ে গিয়ে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। একসময় যেখানে এক লেনের যানবাহন আটকে অন্য লেন ছাড়তে ট্রাফিক পুলিশকে রীতিমতো গলদঘর্ম হতে হতো, সেখানে এখন আর কোনো দৌড়ঝাঁপ নেই। সিগন্যালে লাল-সবুজ বাতি জ্বলার সাথে সাথেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেমে যাচ্ছে ও চলতে শুরু করছে সব ধরনের যানবাহন। চালকদের মধ্যেও ট্রাফিক আইন মানার এক ধরনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে, যা রাজধানীর চিরচেনা যানজটের চিত্রে কিছুটা স্বস্তি এনেছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সফলতার প্রশংসা করে অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক দল বিএনপির অবদান হিসেবে উল্লেখ করছেন। তবে ট্রাফিক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই প্রথম ঢাকায় এআই ক্যামেরা স্থাপনের এই দূরদর্শী উদ্যোগ নিয়েছিল।   প্রকল্পের শুরুতেই গুলশান-২ গোলচত্বর এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্যামেরা বসানো হয়। সেখানে দেখা যায়, ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যেকোনো যানবাহনকে মুহূর্তে শনাক্ত করছে এই এআই ক্যামেরা এবং সেই স্বয়ংক্রিয় তথ্য সরাসরি চলে যাচ্ছে ট্রাফিক বিভাগের সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টারে। গুলশানের এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে বিজয় সরণিসহ রাজধানীর আরও vanished ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এই ক্যামেরা বসানোর কাজ প্রক্রিয়াধীন ছিল।   প্রযুক্তির এই আধুনিকায়নে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ নগরবাসী ও শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইম উল ইসলাম নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, লাল বাতি জ্বলছে আর সমস্ত গাড়ি নিজ থেকেই থেমে যাচ্ছে, এটা আমাদের জন্য একদম নতুন এক অভিজ্ঞতা। আশা করি এর মাধ্যমে ঢাকার সড়কের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা কিছুটা হলেও দূর হবে।   তবে এই প্রযুক্তির কারণে অসাবধানী চালকদের গুনতে হচ্ছে জরিমানা। নতুন এই ব্যবস্থার মুখে পড়া মোটরসাইকেল চালক সোহেল রানা জানান, প্রথম দিন বিষয়টা বুঝতে পারিনি। ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কারণে হঠাৎ মোবাইলে ২০০০ টাকা মামলার মেসেজ পাই। এরপর থেকে রাস্তায় চলাচল করার সময় খুব সতর্ক থাকি।   এদিকে সড়ক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহারকে স্বাগত জানালেও চালকদের সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, সিগন্যালগুলোকে পুরোপুরি আধুনিক ও কার্যকর করতে হলে চালকদের আইন মানার প্রবণতা বা কমপ্লায়েন্স অত্যন্ত জরুরি। চালকরা যদি সচেতন না হন, তবে কোনো উন্নত প্রযুক্তিই শেষ পর্যন্ত কাজে আসবে না।   বিদ্যমান ট্রাফিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, "বর্তমানে সড়কে গাড়ি থামিয়ে মামলা দেওয়ার যে প্রচলিত পদ্ধতি রয়েছে, তাতে বেশ কিছু সমস্যা হয়। একটি গাড়ি থামালে পেছনের সবগুলো গাড়ি আটকে গিয়ে কৃত্রিম যানজট তৈরি হয়। অনেক সময় চালক ও পুলিশের মধ্যে বাকবিতণ্ডায় সময় নষ্ট হয়। এছাড়া ভিআইপি যানবাহনের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগে অনেক সময় পুলিশ দ্বিধায় পড়ে। এই বাস্তবতায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআইনির্ভর স্বয়ংক্রিয় মামলা ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।"   উদ্যোগটি যার আমলেই নেওয়া হোক না কেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং চালকদের আইন মানার মানসিকতা বজায় থাকলে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   সূত্র: দ্য ডেল্টা লেন্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ১৮, ২০২৬ ১৫:৫১
ছবি: সংগৃহীত

বোয়িং চুক্তির পর বিমানকে ১৪টির বদলে ১০ উড়োজাহাজ কেনার সংশোধিত প্রস্তাব এয়ারবাসের

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সার্টিফিকেট দিয়ে কি যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা যায়? যা জানা জরুরি

ছবি: আমেরিকা বাংলা

সংসদ অবৈধ করার ‘স্লো গেম’?, নতুন করে প্রশ্নের মুখে অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রোববার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন | ছবি: পিএমও
জনগণের শান্তি–নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশের জনগণের শান্তি–নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সক্ষমতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব এবং এ দায়িত্ব পালনে পেশাদারি ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।   রোববার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।   তারেক রহমান বলেন, “দেশের জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের ভূমিকার ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। আপনারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করবেন। এটাই আপনাদের কাছে সরকারের প্রত্যাশা।”   পুলিশ সদস্যদের নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুধু স্মরণের মধ্য দিয়েই আপনাদের-আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যেসব শহীদ পুলিশ ভাইয়েরা আত্মত্যাগ করেছিলেন, যেকোনো মূল্যে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।”   তিনি আরও বলেন, “এই বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদের দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আসুন, আজ আমরা আবারও নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।”   প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে বর্তমান সরকারের মাধ্যমে। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে নির্যাতন, নিপীড়ন ও অধিকারহীনতার শিকার মানুষ এখন শান্তি ও নিরাপত্তা চায়।   মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “এই সেই ঐতিহাসিক রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, যেখানে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের নামে বর্বর হামলা চালিয়ে শত শত ঘুমন্ত পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছিল। আমি আজকের অনুষ্ঠানে প্রথমেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সব পুলিশ সদস্যকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।”   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম।”   জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উত্তাল মার্চে যখন স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য ঢাকায় আনা হচ্ছিল, তখন সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে একসঙ্গে জড়ো করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী কৌশল বা যুক্তি ছিল, তা এখনো গবেষণার বিষয় হতে পারে।”   বক্তব্যের শেষে প্যারেডে অংশ নেওয়া পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি। এর আগে সকালে ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ১০, ২০২৬ ২:৩৫
রাশিয়ান ডে উপলক্ষে শোভাযাত্রা | ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ান ডে উপলক্ষে রূপপুর গ্রিনসিটিতে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ফাইল ছবি

অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে ঢাকার সহযোগিতা চাইল ভারত

মিরপুরে ১৫০টির বেশি স্পটে চাঁদাবাজি । ছবি: আমেরিকা বাংলা

মিরপুরে ‘মিলেমিশে’ চাঁদাবাজি, তালিকায় শতাধিক বিএনপির নেতা কর্মীর নাম

ছবি: সংগৃহীত
গ্রিসের কারাগারে বাংলাদেশির মৃত্যু, স্বজন না মেলায় সেখানেই দাফন

গ্রিসের করিদালোজ কারাগারে কামরান দেলোয়ার হোসেন খান নামের এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের খুঁজে না পাওয়ায় এবং প্রবাসে থাকা এক স্বজনের অনুরোধে তার মরদেহ গ্রিসেই দাফনের উদ্যোগ নিয়েছে এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।   দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৪ মার্চ কারাগারে তার মৃত্যু হয়। তার কাছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা কোনো বৈধ নথি না থাকায় শুরুতে তাকে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবে গ্রিক নথিতে তাকে বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ থাকায় মানবিক বিবেচনায় দূতাবাস তার মরদেহের দায়িত্ব গ্রহণ করে।   অনুসন্ধানে জানা যায়, কামরানের পৈতৃক বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়। তবে সেখানে তার বর্তমান পরিবারের কোনো সদস্যকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে বিদেশে অবস্থানরত তার এক ভাই দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জানান, বাংলাদেশে তাদের আর কোনো স্বজন নেই। তিনি মরদেহ দেশে না পাঠিয়ে গ্রিসেই দাফনের জন্য অনাপত্তি জানান।   সাধারণত বৈধ কাগজপত্রহীন বা পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সরকারি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও মানবিক কারণে গ্রিক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   দূতাবাস জানায়, এথেন্স থেকে দূরবর্তী থেসালোনিকি অঞ্চলের কুমুটিনী এলাকার একটি মুসলিম কবরস্থানে আগামী ৭ মে দাফন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি চলছে।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকারের বরাদ্দকৃত বাজেটে সাধারণত বৈধ কর্মীদের মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য আর্থিক সহায়তা থাকে। প্রবাসে দাফনের জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকলেও পরিবারের অনুরোধে দূতাবাস নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এই উদ্যোগ নিয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি দূতাবাস তদারকি করছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ৩, ২০২৬ ২২:৮
ঘুষের টাকা ফেরত দাবিতে বিক্ষোভ করছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী

২১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে চাকরী না দেয়ার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে; এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

প্রজনন রক্ষায় কাপ্তাই হ্রদে আজ মধ্যরাত থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাছ ধরা বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে প্রেমিকাকে বাড়িতে ডেকে শ্বাসরোধে হত্যা, প্রেমিক পলাতক

0 Comments