সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বৈধ ৮ পথ, জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত
বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বৈধ ৮ পথ, জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত

বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বসবাস করতে চান অনেকেই। কারও লক্ষ্য স্থায়ীভাবে গ্রিন কার্ড পাওয়া, কেউ চাকরি বা ব্যবসার মাধ্যমে কয়েক বছর বৈধভাবে থাকতে চান, আবার কেউ উচ্চশিক্ষার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিবারকে সঙ্গে নিতে চান। তবে পরিবারের সবার জন্য একই ধরনের ভিসা প্রযোজ্য নয়। পরিবারের একজন সদস্যের যোগ্যতা, পেশা, শিক্ষা, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আত্মীয় এবং আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে ইমিগ্রেশনের পথ আলাদা হয়।   বর্তমান মার্কিন ইমিগ্রেশন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার কয়েকটি বাস্তব ও বৈধ পথ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সরাসরি স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি করে, আবার কিছু পথ পরিবারকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেয়।   ১. ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন: প্রথম এবং সবচেয়ে পরিচিত পথ হলো ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন। পরিবারের কোনো সদস্য যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী হন, নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য পিটিশন করতে পারেন।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তার স্বামী বা স্ত্রী, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সন্তান ও বাবা-মায়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। এছাড়া নাগরিকের কিছু প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান এবং ভাই-বোন ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরির আওতায় আসতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারী সাধারণত তার স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানদের জন্য পিটিশন করতে পারেন।   তবে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশনের সব ক্যাটাগরিতে ভিসা সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ী অপেক্ষা করতে হয় এবং সময়টা মোটামুটি ১২-১৪ বছর।   ২. এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন: দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন। কোনো বাংলাদেশি পেশাজীবীর যুক্তরাষ্ট্রে যোগ্য চাকরির সুযোগ, উচ্চতর ডিগ্রি, বিশেষ দক্ষতা বা উল্লেখযোগ্য পেশাগত যোগ্যতা থাকলে তিনি বিভিন্ন এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।   এর মধ্যে ইবি-১, ইবি-২ এবং ইবি-৩ অন্যতম। কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এমপ্লয়ার স্পনসরশিপ প্রয়োজন হয়। আবার ইবি-২-এর ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা এনআইডব্লিউ-এর মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তি নিজে পিটিশন করতে পারেন।   এই ধরনের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে মূল আবেদনকারী যোগ্য হলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা ডেরিভেটিভ বেনিফিশিয়ারি হিসেবে একই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেন।   ৩. ইবি-২ ও ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার: উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ইবি-২ একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। উচ্চতর ডিগ্রি, দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা বা বিশেষ দক্ষতা থাকা ব্যক্তিরা এই ক্যাটাগরি বিবেচনা করতে পারেন।   আর যোগ্যতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট-এর বিষয়টি প্রমাণ করা গেলে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভারের মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে জব অফার বা লেবার সার্টিফিকেশনের প্রয়োজনীয়তা থেকে ওয়েইভার পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।   এই পথের বড় সুবিধা হলো, মূল আবেদনকারী ইমিগ্র্যান্ট ভিসার জন্য যোগ্য হলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও একই কেসের মাধ্যমে যুক্ত হতে পারেন।   ৪. ইবি-৫ ইমিগ্র্যান্ট ইনভেস্টর প্রোগ্রাম: যেসব পরিবারের বড় অঙ্কের বৈধ বিনিয়োগ করার সক্ষমতা রয়েছে, তাদের জন্য ইবি-৫ ইমিগ্র্যান্ট ইনভেস্টর প্রোগ্রাম যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।   ইবি-৫-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ করতে হয় এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে যোগ্য কর্মসংস্থান তৈরির শর্ত পূরণ করতে হয়। যোগ্য ইবি-৫ ইনভেস্টরের সঙ্গে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।   ৫. ই-২ ট্রিটি ইনভেস্টর ভিসা: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো ই-২ ট্রিটি ইনভেস্টর ভিসা। বাংলাদেশ ই-২ ট্রিটি কান্ট্রি হওয়ায় যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিক এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।   ই-২-এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে একটি বাস্তব ও পরিচালনাযোগ্য ব্যবসায় সাবস্ট্যানশিয়াল ইনভেস্টমেন্ট করতে হয় এবং ইনভেস্টরকে ব্যবসাটি পরিচালনা ও উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হয়।   মূল ই-২ আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। যোগ্য ই-২ স্পাউস নির্দিষ্ট শর্তে যুক্তরাষ্ট্রে কাজও করতে পারেন। তবে ই-২ গ্রিন কার্ড নয়।   এটি একটি ননইমিগ্র্যান্ট ভিসা। অর্থাৎ ব্যবসা ও ই-২ স্ট্যাটাসের শর্ত বজায় রেখে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হয়।   ৬. এইচ-১বি ও এইচ-৪: কোনো বাংলাদেশি পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রের যোগ্য এমপ্লয়ার-এর মাধ্যমে এইচ-১বি স্ট্যাটাস পেলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এইচ-৪ ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। এইচ-১বি নিজে গ্রিন কার্ড নয়। তবে যোগ্য কর্মীর ক্ষেত্রে পরবর্তীতে এমপ্লয়মেন্ট-বেসড গ্রিন কার্ডের পথ তৈরি হতে পারে।   বর্তমানে নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট আবেদনকারীদের ওপর অতিরিক্ত অর্থপ্রদানের শর্তসহ কিছু বিশেষ বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই এইচ-১বি-এর মাধ্যমে পরিবার নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে আবেদন করার সময়কার সর্বশেষ সরকারি নিয়ম যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   ৭. এল-১ ও এল-২: বাংলাদেশে কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি বা একই কর্পোরেট গ্রুপের প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার, এক্সিকিউটিভ অথবা স্পেশালাইজড নলেজ এমপ্লয়ি হিসেবে কাজ করা ব্যক্তি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট অফিসে ট্রান্সফার হয়ে এল-১ স্ট্যাটাস পেতে পারেন।   এল-১ কর্মীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এল-২ ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। যোগ্য এল-২ স্পাউস নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগও পেতে পারেন।   বিশেষ করে বাংলাদেশে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে দীর্ঘদিন কাজ করা এবং একই প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে অফিস রয়েছে, এমন পেশাজীবীদের জন্য এই পথটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   ৮. এফ-১ ও এফ-২ : পরিবারের কোনো সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন পড়াশোনার জন্য এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসা পেলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এফ-২ ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন।   তবে এফ-১ ও এফ-২ হলো ননইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাস। অর্থাৎ এটি সরাসরি গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ নয়। শিক্ষার্থী পরবর্তীতে যোগ্যতা অনুযায়ী এমপ্লয়মেন্ট-বেসড বা অন্য কোনো বৈধ ইমিগ্রেশন পথ তৈরি করতে পারলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।   পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে কী দেখবেন: বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে প্রথমেই ঠিক করতে হবে পরিবারের লক্ষ্য কী। স্থায়ীভাবে গ্রিন কার্ডের দিকে যেতে চাইলে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন, এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন এবং ইবি-৫-এর মতো ইমিগ্র্যান্ট পথগুলো গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ই-২, এইচ-১বি, এল-১ এবং এফ-১ মূলত টেম্পোরারি বা ননইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাসের ব্যবস্থা।   পরিবারের একজন সদস্যের ভিসা বা পিটিশন অ্যাপ্রুভ হলেই পরিবারের অন্য সদস্যরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অধিকার পান না। স্পাউস ও চিলড্রেনকে ডিপেন্ডেন্ট বা ডেরিভেটিভ হিসেবে যুক্ত করার ক্ষেত্রে বয়স, বৈবাহিক অবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরির শর্ত পূরণ করতে হয়।   তাই বাংলাদেশ থেকে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করার আগে পরিবারের বয়স, শিক্ষা, পেশা, কাজের অভিজ্ঞতা, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আত্মীয়, ব্যবসা বা বিনিয়োগের সক্ষমতা এবং স্থায়ী নাকি অস্থায়ীভাবে থাকার লক্ষ্য বিবেচনা করে সঠিক ইমিগ্রেশন পথ বেছে নেওয়া জরুরি।   অনেক ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে ইউএসসিআইএস ও ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানের ডিট্রইটে আয়োজিত হচ্ছে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের কনভেনশন আয়োজন
মিশিগানের ডিট্রইটে আয়োজিত হচ্ছে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের কনভেনশন আয়োজন

অ্যামেরিকায় বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের পেশাগত অর্জন, অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে মিশিগানের ডিট্রইটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, অ্যামেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস—আবিয়ার ২০২৬ সালের দ্বিবার্ষিক কনভেনশন ও সেমিনার। এ উপলক্ষে মিশিগানের স্টার্লিং হাইটসে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা জানান, আগামী ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ডিট্রইট ডাউনটাউনের রেনেসাঁ সেন্টার ও হান্টিংটন প্লেইসে অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনের এই আয়োজন। মিশিগানের ডিট্রইটে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া- আবিয়ার ২০২৬ সালের দ্বিবার্ষিক কনভেনশন ও সেমিনারে নর্থ অ্যামেরিকা, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রকৌশলী, স্থপতি, শিক্ষার্থী, গবেষক ও পেশাজীবীরা সপরিবারে অংশ নেবেন। অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকবে ক্যারিয়ার ও স্টেম ফেয়ার। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক শিক্ষা এবং পেশায় আগ্রহী শিক্ষার্থী- তরুণদের জন্য ক্যারিয়ার ও পেশাগত উন্নয়নমূলক বিভিন্ন সেশন থাকবে বলে জানান, আবিয়ার প্রেসিডেন্ট মনির জামান ও সেক্রেটারি সাদেক রহমান। পাশাপাশি বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং এবং নতুন প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করতেও গুরুত্ব দিচ্ছেন আয়োজকরা। তিন দিনের আয়োজনে থাকবে মিট অ্যান্ড গ্রিট, গালা ডিনার ও সানসেট রিভার ক্রুয। সংগঠনটির মিশিগান চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ফয়েজুল মোমেন জানান, এ সম্মেলনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন সামিনা চৌধুরী, দিলশাদ নাহার কণা, প্রতীক হাসান ও ইমরানসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পী। আয়োজকদের আশা, এই সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশি-অ্যামেরিকান প্রকৌশলী ও স্থপতিদের পেশাগত সাফল্য, উদ্ভাবন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে প্রকৌশল, স্থাপত্য ও স্টেম পেশায় উৎসাহিত করতেও ভূমিকা রাখবে। সংবাদ সম্মেলনে ইঞ্জিনিয়ার ড. নাজমুল হাসান শাহীন, জাকিরুল হক, গোলাম মর্তুজা, মাহমুদ সালাম, কাজী সোহেল আহমেদ ও মৌলি আহমেদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন খলিলুর রহমান

বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার পর নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।   সদ্য সমাপ্ত ৮০তম অধিবেশনের বিদায়ী সভাপতি আন্নালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হলেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক। এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৯টায় এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে আগামী এক বছর বৈশ্বিক এই ফোরামে নিজের কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।   শপথ গ্রহণের পর আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভায় তিনি সভাপতিত্ব করবেন। বিগত চার দশক পর এটি বাংলাদেশের জন্য এক অভাবনীয় কূটনৈতিক অর্জন। উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন প্রয়াত হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী।   দীর্ঘ সময় পর বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বশীল ফোরামে বাংলাদেশের এই প্রত্যাবর্তন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ও দৃশ্যমানতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   গত ২ জুন অনুষ্ঠিত এক গোপন ব্যালট নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে ৯৯-৯১ ভোটে পরাজিত করে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান। চার দশকের বেশি সময়ের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ড. রহমান এমন এক সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, যখন বিশ্বব্যাপী সংঘাত, জলবায়ু সংকট, মানবাধিকার ইস্যু এবং জাতিসংঘের সংস্কারের মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যের তীব্র প্রয়োজন।   আগামী এক বছর তিনি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং উদীয়মান প্রযুক্তির সুশাসনের মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বৈশ্বিক এই ফোরামের নেতৃত্ব দেবেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে ভ্রমণে ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা জারি
বাংলাদেশে ভ্রমণ না করতে ইসরায়েলিদের সতর্ক করল জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল

বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে ভ্রমণ না করতে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। ইসরায়েল ও ইরান, হিজবুল্লাহ ও হামাসের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিদেশে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের ওপর হামলার ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।  ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হালনাগাদ নিরাপত্তা মূল্যায়নে বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকির দেশগুলোর তালিকায় রাখা হয়েছে। একই তালিকায় রয়েছে সোমালিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, লিবিয়া ও আলজেরিয়া। এসব দেশে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।  তবে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জানিয়েছে, এই মূল্যায়ন নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি নয়। বরং বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি সম্পর্কে নাগরিকদের সতর্ক করতে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।  মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো বিদেশে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের জন্য সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হামাসও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের লক্ষ্য করে হামলার সক্ষমতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।  আগামী অক্টোবর মাসে ৭ অক্টোবরের হামলার তৃতীয় বার্ষিকী ঘিরে বিভিন্ন দেশে বড় ধরনের বিক্ষোভ হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এসব বিক্ষোভের কিছু সহিংস রূপ নিতে পারে এবং একই সময়ে ইসরায়েলিদের লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কাও বাড়তে পারে বলে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া জর্ডান, কাতার, সোমালিল্যান্ড ও মিসর, বিশেষ করে সিনাই উপদ্বীপে, সর্বোচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় ইসরায়েলিদের ভ্রমণ না করতে এবং অবস্থান করলে সরে যেতে বলা হয়েছে। ইরাক, ইয়েমেন, ইরান, সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলিদের ভ্রমণ আইনগতভাবেই নিষিদ্ধ রয়েছে।  বিদেশে অবস্থানরত ইসরায়েলিদের প্রকাশ্যে ইসরায়েলি বা ইহুদি পরিচয়ের চিহ্ন প্রদর্শন না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না করা, বিক্ষোভ এড়িয়ে চলা এবং সিনাগগ, কোশার রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ইহুদি সমাবেশস্থলের আশপাশে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
সুইজারল্যান্ডের মার্কেটে খালি গায়ে দাঁত ব্রাশ করতে করতে বাজার, বাংলাদেশিকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা
সুইজারল্যান্ডের মার্কেটে খালি গায়ে দাঁত ব্রাশ করতে করতে বাজার, বাংলাদেশিকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা

সুইজারল্যান্ডের একটি সুপারমার্কেটে খালি গায়ে মুখে টুথব্রাশ নিয়ে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর বাজার করার একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   সুইজারল্যান্ডপ্রবাসী এক বাংলাদেশির ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটির বর্ণনা দেওয়া হয়। পোস্ট অনুযায়ী, ওই বাংলাদেশি খালি গায়ে দাঁত ব্রাশ করতে করতে একটি সুপারমার্কেটে বাজার করতে যান। বিষয়টি দেখে দোকানের একজন ম্যানেজার তার এমন অবস্থায় সুপারমার্কেটে আসার কারণ জানতে চান।   ম্যানেজার স্থানীয় ভাষায় তাকে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি দাঁত ব্রাশ করতে করতে খালি গায়ে সুপারমার্কেটে এসেছেন। জবাবে ওই ব্যক্তি ইংরেজিতে বলেন, “No problem. Our national dress.” অর্থাৎ, “কোনো সমস্যা নেই, এটি আমাদের জাতীয় পোশাক।”   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্ট ছাড়া ঘটনাটির স্বাধীন কোনো সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কোন শহরের কোন সুপারমার্কেটে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়েও পোস্টে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।   ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিষয়টিকে মজার ঘটনা হিসেবে দেখেছেন এবং প্রবাসে থেকেও বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক ধরে রাখার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।   অন্যদিকে, কেউ কেউ এটিকে বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেছেন এবং বিদেশের জনসমাগমপূর্ণ স্থানে স্থানীয় সামাজিক রীতি, পোশাক ও শিষ্টাচার মেনে চলার পক্ষে মত দিয়েছেন।   আবার কয়েকজন মন্তব্যকারী মনে করেন, লুঙ্গি বা গামছার মতো দেশীয় পোশাক পরা নিজে কোনো সমস্যা নয়; তবে কোথায় কোন পোশাক বা আচরণ উপযুক্ত, সেটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।   ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা মূলত প্রবাসে বাংলাদেশিদের সাংস্কৃতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং বিদেশি সমাজে প্রচলিত সামাজিক শিষ্টাচার—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই তৈরি হয়েছে।   সূত্র: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্ট।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
১৯ সেকেন্ডের ভিডিও থেকে বিলিয়ন ডলারের ইউটিউব, নেপথ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাওয়েদ করিম
১৯ সেকেন্ডের ভিডিও থেকে বিলিয়ন ডলারের ইউটিউব, নেপথ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাওয়েদ করিম

বর্তমানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে ভিডিও দেখার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ইউটিউব। তবে এই বিশাল প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হয়েছিল খুব সাধারণ একটি উদ্যোগের মাধ্যমে, যার নেপথ্যে রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রযুক্তিবিদ জাওয়েদ করিম।   ২০০৫ সালে পেপ্যালের সাবেক দুই সহকর্মী স্টিভ চেন ও চ্যাড হার্লির সঙ্গে মিলে তিনি ইউটিউব প্রতিষ্ঠা করেন। পেপ্যালে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় অনলাইন লেনদেনের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কাজের অভিজ্ঞতা তাকে এই নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে সাহায্য করেছিল।   ইতিহাসে জাওয়েদ করিম সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় হয়ে আছেন ইউটিউবের প্রথম ভিডিও আপলোডের জন্য। ২০০৫ সালের ২৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো চিড়িয়াখানায় হাতির সামনে দাঁড়িয়ে মাত্র ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ধারণ করেন তিনি। “Me at the zoo” শিরোনামের সেই ছোট্ট ভিডিওটিই ইউটিউবের ইতিহাসে আপলোড হওয়া প্রথম কনটেন্ট। তখন কেউ কল্পনাও করেনি যে এই কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওটিই একদিন পুরো বিশ্বের ভিডিও দেখার সংস্কৃতিকে আমূল বদলে দেবে।   জাওয়েদ করিমের শিকড় বাংলাদেশে। তার বাবা বাংলাদেশি এবং মা জার্মান নাগরিক। জার্মানিতে জন্ম নেওয়া জাওয়েদ পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ইউটিউব প্রতিষ্ঠার পর তিনি কোম্পানিতে পূর্ণকালীন কাজ করার পরিবর্তে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে উচ্চশিক্ষায় মনোযোগ দেন এবং ইউটিউবের পরামর্শক হিসেবে কাজ চালিয়ে যান।   ২০০৬ সালে গুগল ১৬৫ কোটি ডলারে ইউটিউবকে কিনে নেয়। প্রযুক্তিতে বিনিয়োগকারী হিসেবেও করিম সফল। তার সহপ্রতিষ্ঠিত ভেঞ্চার ফার্ম 'Y Ventures'-এর মাধ্যমে তিনি এয়ারবিএনবি (Airbnb), রেডিট (Reddit) ও প্যালানটিরের (Palantir) মতো সফল প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলোতে বিনিয়োগ করেছেন। ছোট্ট একটি ভিডিও দিয়ে শুরু হওয়া সেই ইউটিউব আজ শুধু বিনোদন নয়, বরং বিশ্বজুড়ে শিক্ষা, সংবাদ ও যোগাযোগের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
স্বাধীনতার পর প্রথম, শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল শোধনাগার
স্বাধীনতার পর প্রথম, শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল শোধনাগার

স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো দেশের দ্বিতীয় ও সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার নির্মাণের পথে বাংলাদেশ। দীর্ঘ ৫৮ বছর পর চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে বড় অগ্রগতি হয়েছে। নতুন এই শোধনাগার চালু হলে বছরে অতিরিক্ত ৩০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল শোধন করা যাবে এবং দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব হবে।    বর্তমানে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইআরএলের বার্ষিক শোধন সক্ষমতা ১৫ লাখ টন। নতুন ইউনিটে আরও ৩০ লাখ টন সক্ষমতা যুক্ত হলে ইআরএলের মোট শোধন ক্ষমতা দাঁড়াবে ৪৫ লাখ টনে। এর ফলে ডিজেল, অকটেনসহ পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।    প্রকল্পটির অর্থায়নের বড় বাধাও এখন দূর হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের মধ্যে ১০০ কোটি ডলারের অর্থায়ন চুক্তি সই হয়েছে। পুরো প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২৫০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক দিচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ডলার এবং বাকি অর্থ বাংলাদেশ সরকার বহন করবে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।    ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের হিসাবে, নতুন শোধন সক্ষমতার কারণে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল দেশে পরিশোধনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৩৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে। একই সঙ্গে আধুনিক শোধনাগারে ইউরো-৫ মানের জ্বালানি উৎপাদন এবং ১৫ ধরনের পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হবে।    দেশের প্রথম রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগারটি ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রতিষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা প্রথম নেওয়া হয়েছিল ২০১২ সালে। এরপর প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাব একাধিকবার সংশোধন হলেও অর্থায়নসহ বিভিন্ন জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। এবার বিদেশি অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ায় দীর্ঘ ৫৮ বছরের অপেক্ষার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে।    ট্যাগ: ইস্টার্ন রিফাইনারি, তেল শোধনাগার, জ্বালানি নিরাপত্তা, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক, চট্টগ্রাম, জ্বালানি তেল, বাংলাদেশ, তেল আমদানি

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
আব্দুল মান্নান—ভাইরাল ভিডিওতে তাঁর অসংলগ্ন আচরণ নিয়ে চলছে আলোচনা
‘স্ত্রী মেরেছেন তাই মদ পান’, ভিডিও ভাইরালের পর নারায়ণগঞ্জে পুলিশের এসআই প্রত্যাহার

নারায়ণগঞ্জে আব্দুল মান্নান নামে সদর নৌ থানা পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) মাতলামির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে অসংলগ্ন আচরণ করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ভিডিওটি কখন, কোথায় ধারণ করা হয়েছে এবং ওই সময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ভিডিওটির প্রেক্ষাপট এবং এর সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে জানানো হবে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের নতুন কল সেন্টার চালু
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের নতুন কল সেন্টার চালু, মিলবে দ্রুত কনস্যুলার সেবা

প্রবাসী বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা আরও সহজ ও দ্রুত করতে নিউইয়র্কে চালু হয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের নতুন কল সেন্টার। ১ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হওয়া এই সেবার মাধ্যমে কনস্যুলেটের আওতাধীন বিভিন্ন স্টেটে বসবাসরত বাংলাদেশিরা কনস্যুলার সেবা নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য, পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা নিতে পারবেন।   কনস্যুলেট জেনারেলের তথ্য অনুযায়ী, কল সেন্টারে প্রশিক্ষিত ও প্রযুক্তি-সচেতন তরুণ কর্মীরা প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার সেবা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেবেন।   কল সেন্টারে যোগাযোগের জন্য দুটি নম্বর রয়েছে। টোল-ফ্রি নম্বর ৮৪৪-৮৬১-১৯৭১ এবং ২১২-৫৯৯-৬৭৬৭ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।   বর্তমানে কনস্যুলেটের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ কল সেন্টার সেবা সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পাওয়া যায়। সরকারি ছুটির দিনে সাধারণ সেবা বন্ধ থাকে। তবে অফিস সময়ের পর এবং সপ্তাহান্তে জরুরি প্রয়োজনে ৬৪৬-৬৪৫-৭২৪২ নম্বরে যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে।   ফোনে তাৎক্ষণিকভাবে সংযোগ না হলে ভয়েসমেইল রেখে যাওয়ার সুযোগও রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা বার্তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী কলদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।   কনস্যুলেটের এই উদ্যোগের ফলে নিউইয়র্কসহ এর আওতাধীন এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা সংক্রান্ত তথ্য পেতে সরাসরি কনস্যুলেটে যাওয়ার ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পাসপোর্ট, ভিসা, নথিপত্র ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা নিয়ে প্রাথমিক তথ্য ও নির্দেশনা পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন কল সেন্টারটি প্রবাসীদের জন্য সহায়ক হতে পারে।   কনস্যুলেটের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয় লং আইল্যান্ড সিটির ৩১-১০, ৩৭তম অ্যাভিনিউতে অবস্থিত।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
ইউরোপ যাত্রায় বাধা, সীমান্ত পারাপারের চেষ্টায় বসনিয়ায় ৩৬ বাংলাদেশিসহ আটক ৯৬
ইউরোপ যাত্রায় বাধা, সীমান্ত পারাপারের চেষ্টায় বসনিয়ায় ৩৬ বাংলাদেশিসহ আটক ৯৬

ইউরোপের অন্য দেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় ৩৬ বাংলাদেশিসহ ৯৬ জনকে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।   স্থানীয় সময় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশটির বিস্ত্রিকা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সীমান্ত পুলিশ এবং রিপাবলিকা শ্রপস্কার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদস্যরা যৌথভাবে অংশ নেন।   দেশটির সংবাদমাধ্যম সারায়েভো টাইমস ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বলকান অঞ্চলের সংবাদমাধ্যম দ্য ফার্স্ট বলকানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের নাগরিক। বিস্ত্রিকা এলাকাটি বসনিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ গ্রাদিস্কা সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছাকাছি।   কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম অভিযানে মোট ৬৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪০ জন পাকিস্তানি এবং ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর একই এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান চালিয়ে আরও ৩৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৮ জন আফগান, ১৩ জন বাংলাদেশি এবং দুজন পাকিস্তানি নাগরিক ছিলেন।   পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা ইউরোপের অন্যান্য দেশে প্রবেশের উদ্দেশ্যে বসনিয়া হয়ে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় স্থলপথের পাশাপাশি নৌপথ ব্যবহার করে নদী পার হওয়ারও চেষ্টা করা হয়। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পারাপারে ব্যবহৃত কয়েকটি নৌকা জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ।   এ ঘটনায় মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পাচারচক্রের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   আটকদের প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বানিয়া লুকা অঞ্চলের ‘সার্ভিস ফর ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স ফিল্ড সেন্টার’-এ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তের স্বার্থে প্রসিকিউটর কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বলকান রুটে অবৈধ সীমান্ত পারাপারের ঘটনা প্রায় ৭৪ শতাংশ কমেছে।   তবে সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার হওয়ায় মানবপাচারকারীরা আরও গোপন ও ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি ব্যবহার করছে বলে সতর্ক করেছে মানবাধিকার ও দাতব্য সংস্থাগুলো।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রার্থী দেশ হিসেবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ওপর সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারের চাপ রয়েছে। এ কারণে ফ্রন্টেক্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় গ্রাদিস্কা সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে।   তবে সাম্প্রতিক এই দুই অভিযান থেকে স্পষ্ট, কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও উন্নত জীবনের আশায় বলকান রুট ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-২ গ্রিন কার্ডের সুযোগ, কারা আবেদন করতে পারবেন
বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-২ গ্রিন কার্ডের সুযোগ, কারা আবেদন করতে পারবেন

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ খুঁজছেন বাংলাদেশি উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ইবি-২ গ্রিন কার্ড একটি উল্লেখযোগ্য পথ। বিশেষ করে জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের মাধ্যমে কিছু যোগ্য আবেদনকারী চাকরিদাতার স্পনসরশিপ ছাড়াই নিজের নামে গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন।   ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ যেসব দেশ আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত নয়, তাদের জন্য ইবি-২ বর্তমানে ‘কারেন্ট’। অর্থাৎ এ মুহূর্তে নির্দিষ্ট কোনো কাট-অফ তারিখ নেই।   ইবি-২ মূলত দুই ধরনের পেশাজীবীর জন্য। প্রথমত, উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী। সাধারণত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মাস্টার্স বা তার বেশি ডিগ্রি থাকলে, অথবা ব্যাচেলর ডিগ্রির পর সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অন্তত পাঁচ বছরের ধারাবাহিক পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকলে এই যোগ্যতা অর্জন করা যেতে পারে।   দ্বিতীয়ত, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা বা অন্যান্য পেশাগত ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী দক্ষতার অধিকারীরাও নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ইবি-২-এর জন্য যোগ্য হতে পারেন।   বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচিত পথ হলো জাতীয় স্বার্থে ছাড়। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে প্রথমে ইবি-২-এর মূল যোগ্যতা পূরণ করতে হয়।   এরপর দেখাতে হয়, তার প্রস্তাবিত কাজের যথেষ্ট গুরুত্ব ও জাতীয় গুরুত্ব রয়েছে, তিনি সেই কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য ভালো অবস্থানে আছেন এবং চাকরির অফার ও শ্রম সনদের শর্ত মওকুফ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র উপকৃত হবে।   এই কারণে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ, সাইবার নিরাপত্তা পেশাজীবী, বিজ্ঞানী, স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, শিক্ষা বা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পারেন এমন উদ্যোক্তাদের জন্য এই পথ প্রাসঙ্গিক হতে পারে।   তবে শুধু মাস্টার্স ডিগ্রি, ভালো চাকরি বা বেশি বেতন থাকলেই জাতীয় স্বার্থে ছাড় নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর নির্দিষ্ট কাজ এবং সেটির সম্ভাব্য জাতীয় গুরুত্বের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ প্রয়োজন।   সাধারণ ইবি-২ প্রক্রিয়ায় চাকরিদাতার স্পনসরশিপ এবং শ্রম সনদ প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের ক্ষেত্রে এসব শর্ত থেকে অব্যাহতি চাওয়া যায়। এরপর আবেদনকারী আই-১৪০ পিটিশন জমা দেন।   সেটি অনুমোদনের পর ভিসা নম্বর উপলব্ধ থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যোগ্য আবেদনকারী আই-৪৮৫-এর মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কনস্যুলার প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।   বর্তমানে বাংলাদেশিদের জন্য ইবি-২ ‘কারেন্ট’ থাকা একটি ইতিবাচক বিষয়। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করেছে, চাহিদা ও ভিসা ব্যবহারের হার বাড়লে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই ইবি-২-এর তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে বা সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ হতে পারে।   ইবি-২ জাতীয় স্বার্থে ছাড় সম্পর্কে জানতে ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিদের বিভিন্ন অনলাইন শিক্ষামূলক আয়োজনও রয়েছে। তবে কোনো কোর্স বা ওয়েবিনার ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শের বিকল্প নয়।   নিজের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, পেশাগত অর্জন এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রস্তাবিত কাজের গুরুত্ব বিবেচনা করে আবেদন করার আগে অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে ইউসুফ রাজু হত্যার সন্দেহভাজন গ্রেপ্তারে দুই বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার প্রশংসা
নিউইয়র্কে ইউসুফ রাজু হত্যার সন্দেহভাজন গ্রেপ্তারে দুই বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার প্রশংসা

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বাংলাদেশি কর্মী ইউসুফ রাজুকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এবং ব্রঙ্কসে আরেক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে খোঁজা সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারে ভূমিকা রাখায় দুই বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার প্রশংসা করেছে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)।   সংগঠনটির পক্ষ থেকে সার্জেন্ট ভূঁইয়া ও অফিসার আহমেদের সাহস, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্ববোধের প্রশংসা করে তাদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে।   ২৩ আগস্ট ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজ্জা রেস্টুরেন্টে গুলির ঘটনায় ৪৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি কর্মী ইউসুফ রাজু নিহত হন।   একই ঘটনায় ৩৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি কর্মী মোহাম্মদ রাসেল পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। পরে পুলিশ তদন্তে ৩১ বছর বয়সী জেসাস আকোস্তাকে এই হামলার সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে।   পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, ব্রুকলিনের ঘটনার দুই দিন পর ব্রঙ্কসের একটি বডেগায় গুলি চালিয়ে ৩৩ বছর বয়সী টেইভন শুলারকে হত্যা করা হয়। তদন্তকারীরা দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পাওয়ার পর আকোস্তাকে দুই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেই যুক্ত সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজতে শুরু করেন।   টানা কয়েকদিনের অনুসন্ধানের পর ২৯ আগস্ট ব্রঙ্কসের ওয়াটসন ও মরিসন অ্যাভিনিউ এলাকার একটি পার্ক থেকে আকোস্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, একজনের বেনামি ৯১১ কলের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।   আকোস্তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা ও দুটি হত্যা চেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। পরবর্তী আদালত কার্যক্রমে অভিযোগগুলো তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন এক বার্তায় বলেছে, কমিউনিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্জেন্ট ভূঁইয়া ও অফিসার আহমেদের সাহস, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা প্রশংসনীয়। তাদের অসাধারণ কাজের জন্য সংগঠনটি তাদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছে।   ইউসুফ রাজুর হত্যাকাণ্ড নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজুই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। তার মৃত্যুর পর বাংলাদেশে থাকা স্ত্রী, মা ও দুই মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তাকে দেশে নিয়ে দাফন এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটির পক্ষ থেকে সহায়তা সংগ্রহও করা হয়েছে।   একই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ব্রুকলিনে বাংলাদেশি কর্মী হত্যার অভিযোগ এবং এর মাত্র দুই দিন পর ব্রঙ্কসে আরেক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ থাকায় ঘটনাটি নিউইয়র্কজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। শেষ পর্যন্ত সন্দেহভাজনের গ্রেপ্তার স্বস্তি এনেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কমিউনিটিতে।   এই গ্রেপ্তারে দায়িত্ব পালনকারী দুই বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার স্বীকৃতি পাওয়াকে কমিউনিটির পক্ষ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশিদের মার্কিন ভিসায় নতুন অধ্যায়, স্থগিতাদেশ উঠলেও কড়াকড়ি বহাল
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কী আপডেট, জেনে নিন সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর জানুয়ারি ২০২৬ থেকে চালু থাকা অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিতাদেশ গত ২১ আগস্ট থেকে আর কার্যকর নেই। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করা যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ওই স্থগিতাদেশের বাধা আর থাকছে না। তবে ভিসা সংক্রান্ত সব ধরনের বিধিনিষেধ উঠে যায়নি। বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসায় জামানতের নিয়ম এখনো বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসায় নিরাপত্তা যাচাই আরও জোরদার করা হয়েছে। নির্দিষ্ট অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে অতিরিক্ত জামানতের ব্যবস্থাও চালু হয়েছে। অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ায় কী বদলেছে - চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল। এর আওতায় পরিবারভিত্তিক এবং চাকরিভিত্তিক স্থায়ী অভিবাসনের ভিসাও পড়েছিল। পরে আদালতের আদেশের পর ২১ আগস্ট থেকে ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ওই নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞার কারণে অভিবাসী ভিসা ইস্যু আটকে থাকার পরিস্থিতি শেষ হয়েছে। এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার জন্য যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিকরা এখন সংশ্লিষ্ট ভিসা শ্রেণি অনুযায়ী প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবেন। তবে স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়া মানেই ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ভিসার যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার, নিরাপত্তা যাচাই এবং অন্যান্য অভিবাসন আইনের শর্ত পূরণ করতে হবে। পরিবারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা - যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দার পরিবারের সদস্য হিসেবে যারা বাংলাদেশ থেকে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য আবেদন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে আগের ৭৫ দেশের স্থগিতাদেশ এখন আর বাধা নয়। তবে পরিবারের মাধ্যমে অভিবাসনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা অগ্রাধিকার তারিখ অনুযায়ী ভিসা পাওয়ার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। কোনো আবেদন অনুমোদিত হলেই সঙ্গে সঙ্গে ভিসা পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট শ্রেণিতে ভিসা নম্বর খালি থাকতে হবে এবং আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ যুক্তরাষ্ট্রের মাসিক ভিসা বুলেটিনের নির্ধারিত তারিখের মধ্যে থাকতে হবে। বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের ভিসা প্রক্রিয়ায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী কাগজপত্র যাচাই, আঙুলের ছাপ ও ছবি নেওয়া এবং কনস্যুলার সাক্ষাৎকারের ধাপ রয়েছে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কাগজপত্রও চাওয়া হতে পারে। চাকরির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চাকরিভিত্তিক অভিবাসী ভিসার ওপরও আগের ৭৫ দেশের স্থগিতাদেশ উঠে গেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট যোগ্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ওই স্থগিতাদেশের কারণে ভিসা ইস্যু আটকে থাকার বাধা নেই। তবে এ ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর চাকরির ধরন, আবেদন অনুমোদন, অগ্রাধিকার তারিখ, ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতা এবং অন্যান্য আইনগত শর্ত পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ কোনো কোম্পানি আবেদনকারীর পক্ষে আবেদন করলেই স্থায়ী ভিসা নিশ্চিত হবে না। প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করা হবে। বাংলাদেশিদের পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসা এখন কী অবস্থায়: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসার আবেদন বন্ধ নেই। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ভিসা জামানত বা ভিসা বন্ডের নিয়ম। বাংলাদেশ এই ভিসা বন্ডের আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। ফলে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসার জন্য অন্য সব দিক থেকে যোগ্য বিবেচিত হলে কনস্যুলার কর্মকর্তা তাকে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলারের জামানত দিতে বলতে পারেন। কত টাকা জামানত দিতে হবে, তা সাক্ষাৎকারের সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা নির্ধারণ করবেন। তবে জামানত দিলেই ভিসা নিশ্চিত হবে না। আবেদনকারীকে প্রথমে ভিসার অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কনস্যুলার কর্মকর্তার নির্দেশ পাওয়ার আগে নিজের উদ্যোগে এই জামানতের টাকা জমা দেওয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই টাকা জমা দিতে হবে। নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অনুমোদিত সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়লে অথবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে না গেলে জামানত ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা চালু, তবে যাচাই কঠোর: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার ভিসার আবেদন চালু রয়েছে। তবে শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকারীদের যাচাই আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও যাচাই করা হতে পারে। এ ধরনের আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল প্রকাশ্য রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি নিশ্চিত হওয়া, আর্থিক সক্ষমতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার উদ্দেশ্য এবং সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি নিরাপত্তা যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসংস্থানের ভিসায় কী অবস্থা: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন অস্থায়ী কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদন পুরোপুরি বন্ধ নেই। তবে কোন ভিসায় কী শর্ত থাকবে, তা ভিসার ধরন অনুযায়ী আলাদা।বিশেষ করে দক্ষ কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত এইচ-১বি এবং তাদের নির্ভরশীলদের এইচ-৪ ভিসার ক্ষেত্রে অনলাইন উপস্থিতি যাচাই জোরদার করা হয়েছে। অন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর চাকরি, নিয়োগকর্তা, আবেদন অনুমোদন এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। অভিবাসী ভিসায় আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন নিয়ম: অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ উঠে গেলেও আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের নিয়ম শিথিল হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আগস্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর কাছ থেকে জনকল্যাণের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় অতিরিক্ত আর্থিক জামানত চাওয়া হতে পারে। এটি বাংলাদেশি প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে কনস্যুলার কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে এ ধরনের জামানত চাইতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ : ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি ভিসা শ্রেণির আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন উপস্থিতির তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এর অর্থ এই নয় যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলেই কারও ভিসা বাতিল হবে। তবে আবেদনকারীর পরিচয়, ভ্রমণের উদ্দেশ্য, নিরাপত্তা এবং ভিসার যোগ্যতা যাচাইয়ের সময় সরকারি কর্মকর্তারা আইন অনুযায়ী বিভিন্ন তথ্য বিবেচনা করতে পারেন। তাই ভিসা আবেদনকারীদের জন্য আবেদনপত্রে সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশিদের ভিসা সাক্ষাৎকার কোথায় হচ্ছে: যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে আবেদনকারীদের নিজেদের নাগরিকত্ব বা বৈধ বসবাসের দেশ থেকেই ভিসার আবেদন ও সাক্ষাৎকারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসই স্বাভাবিক ভিসা প্রক্রিয়ার প্রধান কেন্দ্র। শুধু দ্রুত সাক্ষাৎকার পাওয়ার আশায় অন্য দেশে গিয়ে আবেদন করার ক্ষেত্রে বাড়তি জটিলতা তৈরি হতে পারে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য বর্তমান চিত্র: বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হলো, ৭৫ দেশের নাগরিকদের ওপর চালু থাকা অভিবাসী ভিসা ইস্যুর স্থগিতাদেশ উঠে গেছে। এর ফলে পরিবার বা চাকরির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ওই নির্দিষ্ট বাধা আর নেই। অন্যদিকে পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসার আবেদন চালু থাকলেও বাংলাদেশিদের জন্য ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলারের ভিসা জামানতের নিয়ম রয়েছে। শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদনও করা যাচ্ছে, তবে অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই আগের তুলনায় কঠোর হয়েছে। নির্দিষ্ট অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক জামানত চাওয়া হতে পারে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
হাতকড়া হাতে ফেসবুক লাইভে আসামি আসির মিয়া, বর্ণনা দেন পালানোর ঘটনার।
হাতকড়া পরা অবস্থায় পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে ফেসবুক লাইভে হাজির ডাকাত!

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পুলিশের কাছ থেকে ডাকাতি মামলার এক আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের দাবি, স্থানীয় কয়েকজন নারী ও স্বজনদের হট্টগোলের সুযোগ নিয়ে আসামি পালিয়ে যান। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, তাকে হাতকড়াসহ পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে মো. আসির মিয়া (৩২) নামের ওই আসামি নিজের ফেসবুক থেকে লাইভে এসে হাতে থাকা হাতকড়া দেখিয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দামোধরতপী গ্রামের কাছে দামোধরতপী পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর রাত ১০টার দিকে আসির মিয়া ফেসবুক লাইভে আসেন।   আসির মিয়া দামোধরতপী গ্রামের মৃত শফিক মিয়ার ছেলে। ফেসবুক লাইভে তিনি দাবি করেন, শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নির্দেশে উপপরিদর্শক (এসআই) নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে আটক করতে আসেন। এ সময় পুলিশ তাকে হাতকড়া পরানোর চেষ্টা করে। তিনি পুলিশের কাছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখতে চাইলেও তা দেখানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দামোধরতপী গ্রামের বাসিন্দা মো. জিয়াউল হক বেগের করা একটি ডাকাতি মামলায় আসির মিয়া এবং তার দুই ভাই নাছির মিয়া ও বাচ্ছু মিয়া আসামি। বুধবার রাতে এসআই নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে আসির মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে হঠাৎ হট্টগোল শুরু হয়। এ সময় আসির মিয়া ফেসবুক লাইভে ঘটনার বিবরণ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তার স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাকে পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর আসির মিয়াকে পুনরায় গ্রেপ্তারে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান ও তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। দামোধরতপী গ্রামের বাসিন্দা ও পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় সদস্য মো. আজির উদ্দিন বলেন, আসির মিয়াকে আটকের সময় হইচইয়ের মধ্যে সুযোগ বুঝে তিনি পুলিশের হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলী উল্লাহ বলেন, ‘হাতকড়া নিয়ে আসামি পালিয়েছে, তা ঠিক নয়।’ তিনি জানান, নিয়মিত মামলার আসামি হিসেবে আসির মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর কয়েকজন নারী ঝামেলা সৃষ্টি করলে সেই সুযোগে তিনি পালিয়ে যান। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
পেনসিলভেনিয়ায় বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তার প্রয়োজনীয় তথ্য মিলবে জিপ কোডে
পেনসিলভেনিয়ায় নতুন! চাকরি, শিক্ষা ও জরুরি সহায়তার ঠিকানা জেনে নিন

পেনসিলভেনিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, আবাসন ও আইনি সহায়তা পাওয়ার বিভিন্ন সরকারি ও কমিউনিটি সেবা রয়েছে। বিশেষ করে নতুন আসা পরিবারের জন্য নিজের জিপ কোড ব্যবহার করে এসব সেবা খুঁজে নেওয়া সহজ।   সবার আগে কাজে লাগতে পারে পেনসিলভেনিয়া ২১১। ২১১ নম্বরে ফোন করে বা নিজের জিপ কোড জানিয়ে কাছাকাছি খাবার, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরি, শিক্ষা ও অন্যান্য সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়। সেবাটি বিনামূল্যে এবং ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে।   চাকরির জন্য পেনসিলভেনিয়ার সরকারি ক্যারিয়ারলিংক ব্যবহার করা যেতে পারে। সেখানে চাকরি খোঁজা ও আবেদন করার পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, চাকরি খোঁজার প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার সহায়তা পাওয়া যায়। বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি, ইংরেজি শেখার ক্লাস এবং প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষার সুযোগও জিপ কোড অনুযায়ী খুঁজে নেওয়া যায়। ফিলাডেলফিয়ার ফ্রি লাইব্রেরিতে নতুন অভিবাসীদের জন্য ইংরেজি শেখা ও নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতির বিভিন্ন রিসোর্স রয়েছে। খাবারের প্রয়োজন হলে পেনসিলভেনিয়া ২১১-এর মাধ্যমে কাছাকাছি ফুড প্যান্ট্রি, বিনামূল্যের খাবার ও অন্যান্য খাদ্য সহায়তা খুঁজে পাওয়া যায়। একইভাবে আবাসন ও বাড়িভাড়ার সহায়তার তথ্যও পাওয়া যায়। ড্রাইভার লাইসেন্স বা স্টেট আইডির জন্য পেনডটের ড্রাইভার লাইসেন্স ও ফটো সেন্টার জিপ কোড দিয়ে খুঁজে নেওয়া যায়। তাই পেনসিলভেনিয়ায় নতুন হলে নিজের জিপ কোড দিয়ে সরকারি ও স্থানীয় সেবাগুলো খুঁজে দেখুন। চাকরি, স্কুল, খাবার, আবাসন বা অন্যান্য সহায়তার জন্য ২১১ এবং ক্যারিয়ারলিংক হতে পারে ভালো শুরু।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনে কিশা ল্যান্স বটমসের পাশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক স্টেট সিনেটর নাবিলা পার্কস
জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনে কিশা ল্যান্স বটমসের পাশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক স্টেট সিনেটর নাবিলা পার্কস

জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ ও সাবেক স্টেট সিনেটর নাবিলা পার্কস ডেমোক্রেটিক গভর্নর প্রার্থী কিশা ল্যান্স বটমসের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।   বুধবার লরেন্সভিলের বাংলাদেশি মালিকানাধীন হালাল গ্রোসারি স্টোর আল হুদা গ্রোসারিতে বটমসের প্রচারণামূলক কর্মসূচিতে ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপস্থিত ছিলেন নাবিলা। বিষয়টি তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টেও তুলে ধরেছেন।   আল হুদা গ্রোসারিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে বটমস জর্জিয়ার পরিবারগুলোর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ কমানোর লক্ষ্যে তাঁর পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে গ্রোসারি পণ্যের ওপর স্থানীয় পর্যায়ের সেলস ট্যাক্স কমানো বা বাতিলের উদ্যোগ। পাশাপাশি ডায়াপার ও মাসিক স্বাস্থ্যসামগ্রীর ওপর জর্জিয়ার ৪ শতাংশ স্টেট সেলস ট্যাক্স বাতিলের প্রস্তাবও তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে।   বটমসের প্রচারণায় দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। কর্মজীবী পরিবারগুলোর ওপর ব্যয়ের চাপ কমাতে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর করের বোঝা কমানোর কথা বলছেন তিনি। তাঁর প্রচারণায় সাশ্রয়ী মূল্যের খাবারের উদাহরণ হিসেবে ৫ ডলারের রোটিসেরি চিকেনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।   নাবিলা পার্কস তাঁর পোস্টে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী হওয়া উচিত, কর্মজীবী পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরির কারণ হওয়া উচিত নয়। বটমসের পরিকল্পনায় তিনি তাঁর পরিবারের সমর্থনের কথাও জানান।   বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে নাবিলা পার্কসের সম্পৃক্ততা তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ২০২২ সালের নির্বাচনে নাবিলা পার্কস জর্জিয়া স্টেট সিনেটের ৭ নম্বর ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হন।   তিনি জর্জিয়া স্টেট সিনেটে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। তাঁর সিনেট মেয়াদ ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ছিল। চলতি বছর তিনি লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন, তবে সেই নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি।   নাবিলার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কর্মজীবী পরিবার, হেলথ কেয়ার, নারীদের স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে বটমসের সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা সংক্রান্ত পরিকল্পনার অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি জর্জিয়ার বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির দৃষ্টিতেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   এদিকে জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনকে সামনে রেখে বটমস ও রিপাবলিকান প্রার্থী রিক জ্যাকসন দুজনই মেট্রো আটলান্টায় নিজেদের নীতিগত অগ্রাধিকার তুলে ধরছেন। বুধবার একই দিনে দুই প্রার্থীর কর্মসূচিকে ঘিরে জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনের প্রচারণা আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।   নাবিলা পার্কসের আল হুদা গ্রোসারিতে উপস্থিতি এবং বটমসের সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য সমর্থনের বিষয়টি জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার আরেকটি দৃশ্যমান উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
মাদারীপুরের ইতালি প্রবাসী মোঃ ইরান শিকদার
ইতালিতে পর্যটকের হারানো ১০ হাজার ইউরো ফিরিয়ে দিয়ে সততার নজির গড়লেন বাংলাদেশি তরুণ

ইতালির কাতানিয়া শহরে উজবেকিস্তানের দুই পর্যটকের ফেলে যাওয়া প্রায় ১০ হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা) এবং পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ফিরিয়ে দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি মো. ইরান শিকদার। প্রবাসের মাটিতে তার এই মানবিকতা ও সততা বর্তমানে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।   গত ১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টার দিকে কাতানিয়া শহরের ‘লা বারকা’ নামক রেস্টুরেন্টে খেতে আসেন উজবেকিস্তানের ওই দুই পর্যটক। খাওয়া শেষে চলে যাওয়ার সময় তারা মনের ভুলে নিজেদের ব্যাগটি রেস্টুরেন্টেই ফেলে যান।   ব্যাগটিতে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও পাসপোর্টের মতো জরুরি নথিপত্র ছিল। রেস্টুরেন্টে কর্মরত ওয়েটার ইরান শিকদার বিষয়টি খেয়াল করে ব্যাগটি নিরাপদে নিজের কাছে রেখে দেন এবং প্রকৃত মালিকের সন্ধানে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন।   প্রায় এক ঘণ্টা পর চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তা নিয়ে ওই দুই পর্যটক ব্যাগের খোঁজে রেস্টুরেন্টে ফিরে আসেন। তখন ইরান শিকদার তাদের হাতে অক্ষত অবস্থায় ব্যাগটি তুলে দেন। হারানো অর্থ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন তারা এবং এই বাংলাদেশির সততায় মুগ্ধ হয়ে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।   মাদারীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওমর আলী শিকদারের ছেলে ইরান শিকদার ইতালির সিসিলি প্রদেশে সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। তার এই মহৎ কাজ বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
তিস্তা মহাপ্রকল্পের সঙ্গে চীনা যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কিনছে বাংলাদেশ
তিস্তা মহাপ্রকল্পের সঙ্গে চীনা যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কিনছে বাংলাদেশ

চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য তিস্তা মহাপ্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে অত্যাধুনিক জে-১০সিই (J-10CE) যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে এই যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   মে মাসে সংঘটিত স্বল্পস্থায়ী ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমানের বিপরীতে চীনা জে-১০সিই-এর অভাবনীয় যুদ্ধসাফল্যের কারণেই বাংলাদেশ এই ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানটির প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে বলে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (এসসিএমপি) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হুমায়ুন কবির চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আখ্যায়িত করে ‘এক চীন নীতি’র প্রতি ঢাকার অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর দুদেশের সম্পর্ককে ‘ভবিষ্যতে চীন–বাংলাদেশ অভিন্ন সম্প্রদায়’ পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়েও তারা একমত হন। এছাড়া, প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) প্রতিষ্ঠা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও ইপিজেড নির্মাণ, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ নানা দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।   সিইআইজেড-এ প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানি বিনিয়োগ করতে পারে, যা স্থানীয়দের জন্য প্রায় এক লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।   সামরিক চুক্তির বিষয়ে সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, জে-১০সিই যুদ্ধবিমান এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার জন্য সরকার গঠিত একটি প্যানেল ইতোমধ্যে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করছে।   বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), অ্যাটাক ও ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং ইউএভি (UAV) সিস্টেম নিয়ে চীনের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চলছে। ইউরোপীয় রাফাল বা ইউরোফাইটার টাইফুনের তুলনায় চীনা যুদ্ধবিমানের দাম তুলনামূলক কম হওয়া এবং সরাসরি যুদ্ধে এর চমৎকার পারফরম্যান্সের কারণে বাংলাদেশ এটিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।   চলতি অর্থবছরের বাজেট সহায়তা পেলে দ্রুতই এই সামরিক চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে বলে সরকারি পর্যায় থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল; ইন্টারভিউ দিয়ে ভিসা পাননি, তাদের যা জানা জরুরি
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল; ইন্টারভিউ দিয়ে ভিসা পাননি, তাদের যা জানা জরুরি

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা ইস্যুতে চলা স্থগিতাদেশ বাতিল হওয়ার পর এখন সবচেয়ে বেশি অপেক্ষায় রয়েছেন তারা, যারা ইতোমধ্যে ভিসা ইন্টারভিউ দিয়েছেন কিন্তু এখনো ভিসা হাতে পাননি। ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে এই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।   ফলে শুধু বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার কারণে অভিবাসী ভিসা আটকে রাখার আগের বাধাটি এখন আর নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে ইন্টারভিউ দেওয়া প্রত্যেক আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা পেয়ে যাবেন।   যারা ইন্টারভিউ দিয়েছেন এবং ইন্টারভিউয়ের পর ভিসা ইস্যু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় হলো তাদের কেসের বর্তমান অবস্থা। কোনো আবেদনকারীর কেস যদি শুধু ৭৫ দেশের ওপর আরোপ করা আগের ভিসা স্থগিতাদেশের কারণে আটকে থাকে, তাহলে সেই বাধা এখন আর নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এসব অপেক্ষমাণ কেস আবার প্রক্রিয়াকরণ ও ভিসা ইস্যুর দিকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   অভিবাসন আইনজীবীরাও বলছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশের কারণে আটকে থাকা কেসগুলো আবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আইনজীবী রিচার্ড টি. হারম্যান সতর্ক করে বলেছেন, এর অর্থ সবার ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদন হয়ে যাওয়া নয়। আবেদনকারীর অন্য কোনো যাচাই বা আইনগত শর্ত বাকি থাকলে সেটি সম্পন্ন হতে হবে।   তবে কোনো আবেদনকারীর কেস যদি প্রশাসনিক যাচাই, নিরাপত্তা যাচাই, অতিরিক্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা বা অন্য কোনো আইনগত প্রক্রিয়ায় থাকে, তাহলে সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভিসা ইস্যু নাও হতে পারে। তাই ইন্টারভিউ পাস করলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য প্রতিটি কেসের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়া জরুরি।   এখন বাংলাদেশি আবেদনকারীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তাদের কতদিন অপেক্ষা করতে হবে। এ বিষয়ে এখনো সবার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। তাই ৭ দিন, ১৫ দিন বা ৩০ দিনের মধ্যে সব অপেক্ষমাণ কেস শেষ হয়ে যাবে, এমন দাবি করার মতো কোনো সরকারি তথ্য নেই।   অন্যদিকে যারা এখনো ইন্টারভিউ দেননি, তাদের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। ৭৫ দেশের ওপর আগের ভিসা ইস্যু স্থগিতাদেশ বাতিল হলেও বর্তমানে অভিবাসী ভিসার ইন্টারভিউ নির্ধারণ নিয়ে আলাদা সাময়িক পরিবর্তন চলছে। ফলে পুরোনো স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই নতুন ইন্টারভিউয়ের তারিখ পেয়ে যাবেন, এমন নিশ্চয়তাও এখনো নেই।   যারা ইতোমধ্যে ইন্টারভিউ দিয়েছেন, তাদের নতুন করে পুরো ভিসা আবেদন শুরু করার প্রয়োজন আছে, এমন কোনো সাধারণ নির্দেশনা এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তাদের উচিত নিজেদের সিইএসি কেসের অবস্থা নিয়মিত দেখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে কোনো নতুন ইমেইল বা নির্দেশনা এলে তা অনুসরণ করা।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো বাংলাদেশি আবেদনকারীর ভিসা ইন্টারভিউ হয়ে থাকলে এবং শুধুমাত্র ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতাদেশের কারণে তার ভিসা আটকে থাকলে, সেই নির্দিষ্ট বাধা এখন আর কার্যকর নেই। তবে ভিসা ইস্যুর আগে অন্য কোনো যাচাই বা প্রক্রিয়া বাকি থাকলে সেটি সম্পন্ন হতে হবে।   অর্থাৎ, ইন্টারভিউ দিয়ে যারা ভিসার অপেক্ষায় আছেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি আগের চেয়ে ইতিবাচক। এখন অপেক্ষা হচ্ছে তাদের অপেক্ষমাণ কেস কত দ্রুত আবার প্রক্রিয়াকরণ ও ভিসা ইস্যুর পর্যায়ে এগিয়ে যায়।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর, অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর, অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২১ অগাস্ট থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা এই বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞা আর কার্যকর থাকছে না।   এর আগে গত ২১ অগাস্ট নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত এক যুগান্তকারী রায়ে এই স্থগিতাদেশ বাতিল করে দেয়। ‘ক্লিনিক বনাম রুবিও’ নামে পরিচিত এই মামলায় আদালত জানায়, এ ধরনের নীতি প্রণয়নে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনি এখতিয়ারের সীমা লঙ্ঘন করেছেন।   চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপালসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্রান্ট বা অভিবাসী ভিসা ইস্যু করার প্রক্রিয়াটি স্থগিত করা হয়েছিল। তৎকালীন প্রশাসনের দাবি ছিল, এসব দেশের আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে সরকারি সহায়তা বা জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ‘উচ্চ ঝুঁকি’ রয়েছে।   তবে গত ২৮ অগাস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করে যে, আদালতের নির্দেশে এই স্থগিতাদেশ এখন সম্পূর্ণ অকার্যকর। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে অভিবাসীদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে এবং তারা যেন কোনোভাবেই রাষ্ট্রের ওপর বোঝা হয়ে না দাঁড়ান, তা নিশ্চিত করতে যাচাইকরণ নীতিমালাগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে।   নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে আবেদনকারীদের ভিসা দেওয়া বন্ধ থাকলেও আবেদন জমা দেওয়া বা সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ চালু ছিল।   বর্তমানে এই স্থগিতাদেশ পুরোপুরি উঠে যাওয়ায় আটকে থাকা ভিসা ইস্যুর চূড়ান্ত ধাপটি আবারও উন্মুক্ত হলো। এর ফলে বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত ৭৫টি দেশের নাগরিকরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো বাধা ছাড়াই তাদের গ্রিন কার্ড ও অভিবাসী ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়াটি পুনরায় এগিয়ে নিতে পারবেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র: সারাহ আলড্রিচ

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তায় ওয়াশিংটন বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ আলড্রিচ।   জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   সারাহ আলড্রিচ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।   তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। ভবিষ্যতে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী ওয়াশিংটন।   স্মরণসভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যানসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, মার্কিন কর্মকর্তারা ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।   মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সূচনা করেছে, তা বিশ্বের অন্যান্য তরুণদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।   অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘জুলাইকন্যা’ প্রদর্শন করা হয়। এতে আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ ও অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে মন্দার প্রভাবে আগস্টে বড় ৫০টি মহানগরের ৩৬টিতেই বাড়ির দাম কমেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শহরে সবচেয়ে দ্রুত কমছে বাড়ির দাম, ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০