নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে যাত্রী নামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৫০ বছর বয়সী ফর হায়ার গাড়িচালক রুহুল আমিন। শুক্রবার ভোরে ফোর্ট গ্রিন এলাকায় একটি ছোটখাটো সড়ক দুর্ঘটনার পর সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে এক ব্যক্তি তার গাড়ির কাছে এসে মুখে গুলি করে পালিয়ে যায়। অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্স তাকে এমডি আমিন নামে শনাক্ত করেছে। বাংলাদেশি কমিউনিতে তিনি রুহুল আমিন নাসির নামে পরিচিত বলে কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর ৪টার কিছু পর ব্রুকলিনের ফোর্ট গ্রিনের নর্থ পোর্টল্যান্ড অ্যাভিনিউ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সে সময় আমিন রাতের শিফটে কাজ করছিলেন। সিবিএস নিউইয়র্ক ও এনওয়াইওয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রী নামানোর সময় আমিনের গাড়ির সঙ্গে একটি মেডিকেল পরিবহন ভ্যানের ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়। এরপর সেখানে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন আমিন। পুলিশ সূত্রের বরাতে এনওয়াইওয়ান জানায়, বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে পাশের হুইটম্যান হাউসেস এলাকা থেকে এক ব্যক্তি বেরিয়ে এসে আমিনের গাড়ির কাছে যায়। ওই ব্যক্তি গাড়ির জানালায় নক করার পর তাকে গুলি করে। গুলিটি আমিনের মুখের ডান পাশে লাগে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আমিনকে নিউইয়র্ক প্রেসবিটারিয়ান ব্রুকলিন মেথডিস্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। শনিবার সকালে নিউজ ১২ জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্সের প্রতিষ্ঠাতা ফার্নান্দো মাতেও এনওয়াইওয়ানকে জানান, আমিন বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন এবং বর্তমানে কুইন্সে বসবাস করেন। স্ত্রী ও সন্তানদের জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি প্রায় ১৬ বছর ধরে গাড়ি চালিয়ে আসছেন। ঘটনার পর নিউইয়র্ক সিটি ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমোজিন কমিশন চালকের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, লাইসেন্সধারী চালকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয় এবং প্রত্যেক চালকের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে কাজ করার অধিকার রয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্স জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহের মধ্যে কর্মরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হওয়া এটি দ্বিতীয় চালকের ঘটনা। আমিনের পরিবারের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হামলাকারীকে শনাক্ত করতে তথ্যের জন্য পুরস্কার ঘোষণার পরিকল্পনাও রয়েছে সংগঠনটির। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পর বন্দুকধারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। শনিবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। হামলাকারীর পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা জানতে তদন্ত চলছে।
যুক্তরাজ্যের এসেক্সে সমুদ্রসৈকতে জোয়ারের প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া এক শিশুকে উদ্ধার করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নারী ও তাঁর কিশোরী মেয়ে। গত বুধবার বিকেলে এসেক্সের ওয়েস্ট মার্সি সৈকতে হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুধবার বিকেলে ওয়েস্ট মার্সি সৈকতে বেড়াতে গিয়ে হঠাৎ সাত বছর বয়সী এক শিশু জোয়ারের তোড়ে সাগরে ভেসে যেতে থাকে। এ সময় শিশুটিকে বাঁচাতে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানিতে ঝাঁপ দেন মা সেলিনা রহমান এবং তাঁর ১৫ বছর বয়সী মেয়ে। কিন্তু শিশুটিকে স্রোতের মুখ থেকে উদ্ধার করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে গিয়ে একপর্যায়ে প্রবল স্রোতের টানে তারা দুজনই সাগরের পানিতে তলিয়ে যান। দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে কোস্টগার্ড, লাইফবোট, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং জরুরি সেবার একাধিক দল। এসেক্স পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মর্মান্তিক এই ঘটনার বিস্তারিত কারণ উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই দুর্ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী থেকে থাকলে অথবা কারও কাছে ঘটনার কোনো ছবি বা ভিডিও চিত্র সংরক্ষিত থাকলে তা দিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।
কোভিড-১৯ মহামারির আগে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অনেক বাংলাদেশি পরিবারের কাছে নিজের বাড়ি কেনা ছিল ভবিষ্যতের পরিকল্পনা, জরুরি প্রয়োজন নয়। তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ থাকলেও অনেকেই ভাড়া বাসায় থাকাকেই স্বস্তিদায়ক মনে করতেন। কিন্তু ২০২০ সালের লকডাউন সেই ধারণা বদলে দেয়। মাসের পর মাস ঘরে বন্দি জীবন, বাড়ি থেকে কাজ, সন্তানদের অনলাইন ক্লাস এবং সীমিত জায়গায় বসবাসের অভিজ্ঞতা অনেক পরিবারকে উপলব্ধি করায়—নিজস্ব একটি বাড়ি শুধু বিনিয়োগ নয়, জীবনযাত্রার মানেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু যখন অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশি বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন আবাসন বাজারের চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে। বাড়ির দাম দ্রুত বেড়েছে, মর্টগেজ সুদের হারও কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে যাদের কয়েক বছর আগে বাড়ি কেনার সুযোগ ছিল, তাদের অনেকেই এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বাংলাদেশি অধ্যুষিত শহর—নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড, জর্জিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়ার অনেক এলাকায় কোভিড-পূর্ব সময়ের তুলনায় বাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক এলাকায় ২০২০ সালের আগে প্রায় ৩ লাখ ডলারে বিক্রি হওয়া বাড়ির মূল্য এখন ৫ থেকে ৬ লাখ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। যদিও সব বাজারে একই হারে মূল্য বৃদ্ধি হয়নি, তবে জনপ্রিয় আবাসিক এলাকাগুলোর অধিকাংশেই বাড়ির দাম এবং মাসিক মর্টগেজ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক পরিবার এখন আর ডাউন পেমেন্ট নয়, বরং মাসিক মর্টগেজ কিস্তির হিসাব করেই পিছিয়ে যাচ্ছেন। উচ্চ সুদের কারণে একই দামের বাড়ির মাসিক কিস্তি কয়েক বছর আগের তুলনায় শত শত ডলার বেশি পড়ছে। আটলান্টাপ্রবাসী এক সফটওয়্যার প্রকৌশলী বলেন, “কোভিডের আগে যে বাড়িটি কেনার সুযোগ ছিল, এখন সেই একই বাড়ি কিনতে গেলে মাসিক কিস্তিই আমার বাজেটের বাইরে চলে যায়। তখন সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেছি, এখন সামর্থ্য থাকলেও বাজার আর আগের জায়গায় নেই।” আবাসন বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কোভিডের সময় কম সুদের হার এবং বাড়ি থেকে কাজের প্রবণতা লাখো পরিবারকে বাড়ি কেনার বাজারে নিয়ে আসে। কিন্তু একই সময়ে নতুন বাড়ির সরবরাহ সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। ফলে বাড়ির দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং অনেক এলাকায় একাধিক ক্রেতার প্রতিযোগিতায় বিক্রয়মূল্য আরও বেড়ে যায়। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরস (NAR)-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. লরেন্স ইউনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে এখনও আবাসনের অন্যতম বড় সমস্যা হলো পর্যাপ্ত বাড়ির সরবরাহ না থাকা। তার ভাষায়, ক্রেতাদের জন্য আগের চেয়ে কিছুটা বেশি বিকল্প তৈরি হলেও বাজার এখনও পুরোপুরি কোভিড-পূর্ব অবস্থায় ফেরেনি। তাই অনেক এলাকায় আবাসনের সংকট এখনো রয়ে গেছে। বর্তমানে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—যদি ভবিষ্যতে মর্টগেজ সুদের হার কমে, তাহলে কি বাড়ি কেনা সহজ হবে? অর্থনীতিবিদদের মতে, উত্তরটি এতটা সহজ নয়। এনএআরের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ নাদিয়া ইভানজেলো বলেন, মর্টগেজ সুদের হার ১ শতাংশ কমলে প্রায় ৫৫ লাখ অতিরিক্ত পরিবার বাড়ি কেনার যোগ্য হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, পর্যাপ্ত বাড়ির সরবরাহ না বাড়লে নতুন ক্রেতাদের এই ঢল আবারও দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। অর্থাৎ সুদের হার কমলেও প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় বাড়ির দাম আরও বাড়তে পারে। এ কারণেই অনেক রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ মনে করেন, শুধু সুদের হার কমার অপেক্ষায় বসে থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও মিলতে পারে। বাজারে যদি ক্রেতার সংখ্যা বাড়ে কিন্তু বিক্রির জন্য বাড়ির সংখ্যা সেই অনুপাতে না বাড়ে, তাহলে দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। অন্যদিকে তুলনামূলক কম দামের শহর বা ছোট শহরগুলোতে এখনও কিছুটা সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি পাওয়া গেলেও অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি সেখানে যেতে আগ্রহী নন। কারণ এসব এলাকায় ভালো স্কুল, বাংলাদেশি কমিউনিটি, মসজিদ, হালাল গ্রোসারি কিংবা পেশাগত সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলক কম। ফলে কম দামে বাড়ি পাওয়া গেলেও জীবনযাত্রার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় অনেক পরিবার জনপ্রিয় শহরগুলোতেই থাকতে চান। ড. লরেন্স ইউনও মনে করেন, আবাসন বাজারকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাভাবিক করতে হলে নতুন বাড়ির নির্মাণ বাড়ানো এবং সরবরাহ বৃদ্ধি করা ছাড়া বিকল্প নেই। তার মতে, শুধু সুদের হার কমানো নয়, বাজারে আরও বেশি বাড়ি আসাটাই ভবিষ্যতে ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির কারণ হতে পারে। রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকদের মতে, যারা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাড়ি কিনতে চান, তাদের এখন থেকেই ডাউন পেমেন্টের জন্য সঞ্চয়, ক্রেডিট স্কোর উন্নত করা এবং বাজারের পরিবর্তনের ওপর নিয়মিত নজর রাখা উচিত। কারণ আবাসন বাজারে সঠিক সময়ে প্রস্তুত থাকাই অনেক সময় সবচেয়ে বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়ায়।
যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে কয়েক দশক আগে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ শিশু যৌন নিপীড়ন ও দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। দক্ষিণ ওয়েলসের গুয়েন্ট পুলিশ দীর্ঘ তদন্তের পর গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) যুক্তরাজ্যের নিউপোর্ট, সোয়ানসি, লন্ডন, বার্মিংহাম, ল্যাঙ্কাশায়ার, এডিনবার্গ এবং স্কটল্যান্ডের আর্গিল অ্যান্ড বিউট এলাকা থেকে এই আট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। 'অপারেশন ওক' নামের বিশেষ এই পুলিশি অভিযানের আওতায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ১৭টি ধর্ষণের ঘটনাসহ মোট ৩৪টি সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে শিশু অবস্থায় যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া বেশ কয়েকজন নারীর সাম্প্রতিক অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়। গ্রেপ্তারকৃত এই আটজনের বয়স বর্তমানে ৫৪ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে এবং তারা প্রত্যেকেই ব্রিটিশ নাগরিক। তবে অভিযুক্তদের পরিচয় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রয়েছেন। তারা হলেন—মোহাম্মদ শেখ আব্দুল হান্নান, শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহ এবং আমিনুর রহমান চৌধুরী। এই মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর সব অপরাধের বিবরণ উঠে এসেছে। বার্মিংহামের বাসিন্দা ৫৮ বছর বয়সী শাফাক মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ১১ বছরের কম বয়সী ও ১৬ বছরের ঊর্ধ্বের নারী ধর্ষণসহ সর্বোচ্চ ১১টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এডিনবার্গের মোহাম্মদ শেখ আব্দুল হান্নানের (৫৪) বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও এর ষড়যন্ত্রসহ আটটি এবং ল্যাঙ্কাশায়ারের শাকিল বাবুরের (৫৮) বিরুদ্ধে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুকে শ্লীলতাহানির চারটি অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নিউপোর্টের সৈয়দ মোহাম্মদ আশান তাকভি (৬৫) ও সোয়ানসির মুরাদ আলীর (৫৭) বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ধর্ষণের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিউপোর্টের শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহর (৭৩) বিরুদ্ধে দুটি, টটেনহ্যামের আমিনুর রহমান চৌধুরীর (৫৮) বিরুদ্ধে একটি এবং স্কটল্যান্ডের কেভিন লরেন্সের (৫৪) বিরুদ্ধে ধর্ষণের ষড়যন্ত্র ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ওয়েলসের প্রধান ক্রাউন প্রসিকিউটর জেনি হপকিন্স জানিয়েছেন, আসামিদের বিচারের মুখোমুখি করতে এবং জনস্বার্থে অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিচার নিশ্চিত করতে প্রসিকিউটররা যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় অভিযুক্তদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারের বিষয়টিও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। আগামী ২৪ জুলাই নিউপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই আট আসামিকে হাজির করার কথা রয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের প্রবাসী কমিউনিটি ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার অন্যতম গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র হলেও এবার যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগোতে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ অর্জন করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল ফাহাদ। ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (রিসার্চ) বিষয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির মর্যাদাপূর্ণ EPSRC Doctoral Landscape Award (DLA) লাভ করেছেন। এই স্কলারশিপের আওতায় তার সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করা হবে। পাশাপাশি গবেষণাকালীন জীবনযাপনের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের নির্ধারিত বার্ষিক স্টাইপেন্ডও পাবেন, যা পুরো গবেষণা মেয়াদজুড়ে প্রদান করা হবে। আবদুল্লাহ আল ফাহাদ কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি খুলনার নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। এ পর্যন্ত তার তিনটি আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি Q1, একটি Q2 এবং একটি Q4 মানের জার্নালে স্থান পেয়েছে। এছাড়া স্প্রিংগার থেকে প্রকাশিত একটি বইয়ের অধ্যায়, দুটি IEEE আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন এবং স্প্রিংগারে প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা আরও একটি গবেষণাপত্র রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে নির্বাচিত হওয়ার পেছনে দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পিত প্রস্তুতি, ধারাবাহিক গবেষণা, আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনা এবং সম্ভাব্য সুপারভাইজারদের সঙ্গে নিয়মিত একাডেমিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আবেদন প্রক্রিয়ায় নানা প্রতিযোগিতা ও অনিশ্চয়তা থাকলেও তিনি গবেষণার লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি। যুক্তরাজ্যের Engineering and Physical Sciences Research Council (EPSRC) দেশটির প্রকৌশল ও ভৌতবিজ্ঞান গবেষণার অন্যতম প্রধান অর্থায়নকারী সংস্থা। তাদের অর্থায়নে পরিচালিত Doctoral Landscape Award-এর মাধ্যমে প্রতিবছর নির্বাচিত গবেষকদের বিশ্বমানের গবেষণার সুযোগ, আধুনিক গবেষণাগার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়। উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ এখনও পিএইচডির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রাধিকার দিলেও যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণার মান, শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং প্রতিযোগিতামূলক অর্থায়নের কারণে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আবদুল্লাহ আল ফাহাদ মনে করেন, বিদেশে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই গবেষণায় সম্পৃক্ত হওয়া, আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনায় গুরুত্ব দেওয়া, শক্তিশালী একাডেমিক প্রোফাইল তৈরি করা এবং সম্ভাব্য সুপারভাইজারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ধৈর্য ধরে আবেদন চালিয়ে যাওয়াও সফলতার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কুয়েটের একজন তরুণ শিক্ষক থেকে বিশ্বের অন্যতম গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ অর্জনের এই সাফল্য বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। বিশেষ করে যারা যুক্তরাজ্যে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য এটি প্রমাণ করে যে সঠিক পরিকল্পনা, মানসম্মত গবেষণা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (WUST) আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ভার্জিনিয়ায় নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস চালুর পর এবার ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্ববিদ্যালয়টির দ্বিতীয় স্থায়ী ক্যাম্পাস চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সম্প্রসারণকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের অর্কিড মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও চ্যান্সেলর বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রকৌশলী আবুবকর হানিফ আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ক্যাম্পাসের ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ফারহানা হানিফসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আবুবকর হানিফ বলেন, “ভার্জিনিয়ায় আমাদের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার পর এবার লস অ্যাঞ্জেলেসে দ্বিতীয় স্থায়ী ক্যাম্পাস চালুর মাধ্যমে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছি। এটি শুধু একটি নতুন ক্যাম্পাস নয়, বরং বাংলাদেশি-আমেরিকানদের শিক্ষা উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু ডিগ্রি অর্জন করবে না, বরং দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করবে।” অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবুবকর হানিফ জানান, WUST এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও জনশক্তি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান পিপলএনটেক (PeopleNTech) এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের সফল কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করাই এই দুই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেস ক্যাম্পাস চালুর প্রশাসনিক কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে। নতুন ক্যাম্পাসে প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসায় প্রশাসন, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক সময়ের চাহিদাসম্পন্ন বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইউনিভার্সিটির চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার ফারাহানা হানিফ বলেন, “শিক্ষা মানুষের জীবন পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। লস অ্যাঞ্জেলেস ক্যাম্পাসের মাধ্যমে আরও বেশি শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ এবং কর্মজীবনের নতুন সুযোগ লাভ করবে।” তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, নেতৃত্বের বিকাশ এবং বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের ওপরও সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সম্প্রতি ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় লস অ্যাঞ্জেলেসে দ্বিতীয় স্থায়ী ক্যাম্পাস চালুর ঘোষণা প্রতিষ্ঠানটির জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন ক্যাম্পাস চালু হলে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা আরও সহজলভ্য হবে এবং বাংলাদেশি-আমেরিকানদের প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশটির উচ্চশিক্ষা খাতে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর ৫০০টি শিক্ষাবৃত্তির ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই তথ্য জানান ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। রাষ্ট্রদূত জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে সৌদি সরকার বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে রাজনীতি, অর্থনীতি এবং বিশেষ করে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে নিবিড়ভাবে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শিক্ষাবৃত্তির পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শ্রমবাজারে প্রবেশ আরও সহজ করার বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান যেকোনো নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা দ্রুত দূর করতে উভয় পক্ষই সম্মতি প্রকাশ করেছে। এছাড়া হজ ও ওমরাহ পালন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টির বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে সৌদি আরবে বসবাসরত প্রায় ৩৮ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি সে দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। একই সঙ্গে তাদের পাঠানো বিপুল রেমিট্যান্স বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও বড় ভূমিকা পালন করছে। দীর্ঘদিনের এই পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করতে উভয় দেশের সরকারই বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। সাক্ষাতকালে সৌদি প্রতিনিধিদলের পক্ষে ভাইস অ্যাম্বাসাডর খালিদ সাঈদ এম আল হাদাল এবং কনস্যুলার সেকশনের ডেপুটি হেড মুহাম্মদ ফাহাদ ধি. আল সুহাইমিও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার পাঠানো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ ভারত পেয়েছে এবং সেটি বর্তমানে আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত দ্বি-সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ ভারত পেয়েছে এবং সেটি বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “হ্যাঁ, আমরা প্রত্যর্পণের একটি অনুরোধ পেয়েছি। আগেও যেমন জানিয়েছি, বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন এবং বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ভারতের পক্ষ থেকে এ অনুরোধ বিবেচনা করা হবে। একই সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকরা জানতে চান, বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক হত্যা মামলায় ভারতের হেফাজতে থাকা এক ব্যক্তিকে ফেরত চেয়ে ঢাকা থেকে আরেকটি প্রত্যর্পণ অনুরোধ এসেছে কি না। জবাবে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি নিশ্চিত নন। বিষয়টি যাচাই করে দেখতে হবে বলেও জানান তিনি। প্রশ্নকারী সাংবাদিকও ওই মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি বা নিহত রাজনীতিকের পরিচয় প্রকাশ করেননি। তবে এ প্রসঙ্গেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পুনর্ব্যক্ত করেন, ভারতের কাছে আসা যেকোনো প্রত্যর্পণ অনুরোধ সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসারেই পরীক্ষা করে দেখা হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি কার্যকর থাকলেও কোনো ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে দুই দেশের প্রযোজ্য আইন, চুক্তির শর্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের পাঠানো অনুরোধের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) দায়িত্ব পালনকালে নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ ব্রঙ্কসে একটি সড়কের সহ-নামকরণ (স্ট্রিট কো-নেমিং) করা হচ্ছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ইস্ট ১৭২ স্ট্রিট ও বিচ অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলে আনুষ্ঠানিকভাবে সড়কটির নাম রাখা হবে ‘ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে’। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের অনুমোদনের পর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এনওয়াইপিডির কর্মকর্তা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানটি সংক্ষিপ্ত হবে। তাই অংশগ্রহণকারীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই ম্যানহাটনের ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউ ভবনে দায়িত্ব পালনকালে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন। তদন্তে জানা যায়, নেভাডা থেকে আসা শেন ডেভন তামুরা ভবনে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই দিদারুল ইসলাম প্রাণ হারান। পরে ভবনের ভেতর হামলাকারী আত্মহত্যা করে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীর মূল লক্ষ্য ছিল ভবনটিতে অবস্থিত ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) সদর দপ্তর; দিদারুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত লক্ষ্য ছিলেন না। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া দিদারুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পর নিউইয়র্ক সিটির স্কুল সেফটি এজেন্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত হওয়ার পর তাকে মরণোত্তর ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। দিদারুল ইসলামের মৃত্যুর সময় তার স্ত্রী তৃতীয় সন্তানের গর্ভে ছিলেন। পরে সন্তানের জন্ম হলেও বাবাকে আর দেখার সুযোগ হয়নি। তার অকাল মৃত্যুতে স্ত্রী, তিন সন্তান এবং পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজা ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে হাজারো পুলিশ সদস্য, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষ উপস্থিত হয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। নিউইয়র্ক সিটিতে সমাজ, জননিরাপত্তা ও নগরের জন্য বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্মরণে সড়কের সহ-নামকরণের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ব্রঙ্কসের ইস্ট ১৭২ স্ট্রিট ও বিচ অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থল এখন থেকে ‘ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ নামে পরিচিত হবে। এই নামকরণ একজন কর্তব্যপরায়ণ পুলিশ কর্মকর্তার আত্মত্যাগের প্রতি নিউইয়র্ক সিটির আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার হাইডেলবার্গ এলাকায় দোকানে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার কয়েকদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মো. জসীম উদ্দীন। তার মৃত্যুতে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে হাইডেলবার্গ এলাকায় ব্যবসা করে আসছিলেন মো. জসীম উদ্দীন। গত শনিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত তার দোকানে প্রবেশ করে তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। হামলার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জানা গেছে, নিহত মো. জসীম উদ্দীনের বাড়ি বাংলাদেশের ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলায়। ঘটনার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। হামলার কারণ বা এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ওপর ডাকাতি, ছিনতাই ও সহিংস হামলার ঘটনা নতুন নয়। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা অনেক প্রবাসী নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র হামলায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। মো. জসীম উদ্দীনের মৃত্যুতে স্বজন, সহকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন্স ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা) এর ৪০তম কনভেনশন আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন লস অ্যাঞ্জেলেস/ইউনিভার্সাল সিটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের দাবি, ফোবানার সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অনুসারে এটিই একমাত্র মূল ও বৈধ ৪০তম ফোবানা কনভেনশন। একই সময়ে ‘ফোবানা’ নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানের প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে মূল কনভেনশনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফোবানার বর্তমান নেতৃত্ব। ফোবানার নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন রবিউল করিম বেলাল এবং নির্বাহী সচিব খালেদ আহমেদ রউফ এক যৌথ বক্তব্যে বলেন, ফোবানার সংবিধান অনুযায়ী সদস্য সংগঠনগুলোর ভোটের মাধ্যমে দুই বছর আগেই কনভেনশনের আয়োজক শহর নির্ধারণ করা হয়। সেই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় এবারের ৪০তম কনভেনশনের আয়োজক ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটি। তারা জানান, কনভেনশনকে সফল করতে ক্যালিফোর্নিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় সভা, সমন্বয় বৈঠক ও প্রস্তুতিমূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারাও এসব আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ফোবানা নেতাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকটি পৃথক গোষ্ঠী ‘ফোবানা’ নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন শহরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। তবে এসব আয়োজনের সঙ্গে ফোবানার সাংবিধানিক কাঠামো কিংবা নিবন্ধিত সদস্য সংগঠনগুলোর কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। তাই বিভিন্ন প্রচারণা বা বিজ্ঞাপন দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রবাসীদের তথ্য যাচাই করে মূল কনভেনশনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। রবিউল করিম বেলাল বলেন, “ফোবানা শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর ঐক্যের প্রতীক। নিবন্ধিত সদস্য সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ, সংবিধান এবং সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই ফোবানা কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।” খালেদ আহমেদ রউফ বলেন, “কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতেই পারেন। কিন্তু সেটিকে ফোবানা কনভেনশন হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। প্রবাসীদের বিভ্রান্ত না হয়ে মূল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার আহ্বান জানাই।” আয়োজকদের উদ্যোগে সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার হলিউডে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় কমিউনিটির নেতারা বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তর স্বার্থে বিভেদ নয়, ঐক্যই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কনভেনশনকে ঘিরে ক্যালিফোর্নিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি এবং সবাইকে একই প্ল্যাটফর্মে সম্পৃক্ত করাই তাদের লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে শিগগিরই একটি বৃহৎ টাউন হল সভার আয়োজন করা হবে, যেখানে কনভেনশনের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের কনভেনশনে আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও কানাডা থেকে শত শত শিল্পী, সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, কমিউনিটি নেতা ও দর্শনার্থী অংশ নেবেন। তিন দিনের এই আয়োজনে থাকবে আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সাহিত্যসভা, সেমিনার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক আলোচনা, নারীর ক্ষমতায়ন, যুব নেতৃত্ব, বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ফোরাম, গ্রন্থমেলা, ফ্যাশন শো, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা। এছাড়া কনভেনশনের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য ‘সিলভার প্যাকেজ’-এর বিশেষ মূল্যছাড়ের সময়সীমা আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কনভেনশনের আহ্বায়ক ডা. জয়নুল আবেদীন ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ এম. ইকবাল। তারা জানান, সীমিতসংখ্যক এ প্যাকেজে ভিআইপি পাস, বিশেষ নেটওয়ার্কিং সেশনে অংশগ্রহণের সুযোগ এবং সংরক্ষিত আসনের সুবিধা থাকবে। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে ফোবানা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম কনভেনশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য, সংস্কৃতি এবং নতুন প্রজন্মের সম্পৃক্ততাকে আরও শক্তিশালী করবে।
একসময় রাজধানী ঢাকার একটি পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল ছিলেন তিনি। শত শত শিক্ষার্থীর কাছে ছিলেন সম্মানিত শিক্ষক, দক্ষ ইংরেজি প্রশিক্ষক এবং বইপ্রেমী মানুষ। কিন্তু জীবনের একের পর এক আঘাতে সবকিছু হারিয়ে শেষ পর্যন্ত মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। গত মঙ্গলবারে কুমিল্লার লাকসাম রেলস্টেশন এলাকায় তাঁর মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এক সংগ্রামী শিক্ষকের জীবনের করুণ অধ্যায়। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ঢাকার ফার্মগেটের সিটি রয়্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালের দিকে কলেজের পরিচালনা কমিটিতে বিভিন্ন পরিবর্তন আসে এবং পরিচালনা কমিটির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় একপর্যায়ে রফিকুল ইসলামকে প্রিন্সিপালের পদ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। তাঁর স্বজনদের ভাষ্য, চাকরিটি তিনি স্বেচ্ছায় ছাড়েননি; পরিস্থিতির কারণেই তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হয়। চাকরি হারানোর পরও তিনি ভেঙে পড়েননি। নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা করেছিলেন। ফার্মগেট এলাকায় একটি পুরোনো বইয়ের লাইব্রেরি চালু করেন। পাশাপাশি ইংরেজির প্রাইভেট পড়িয়ে সংসার চালাতেন। শিক্ষক হিসেবে তাঁর সুনামের কারণে অনেক শিক্ষার্থী তাঁর কাছে ইংরেজি শিখতে আসতেন। ধীরে ধীরে আবার জীবন গুছিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২০ সালে করোনা মহামারি সেই স্বপ্নও ভেঙে দেয়। দীর্ঘদিনের বইয়ের ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। প্রাইভেট টিউশনিও একেবারে কমে আসে। আয়ের প্রায় সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন তিনি। যে মানুষটি সারা জীবন অন্যকে শিক্ষার আলো দিয়েছেন, সেই মানুষটিই তখন সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে হিমশিম খেতে থাকেন। এর মধ্যেই নেমে আসে আরও বড় বিপর্যয়। হঠাৎ তাঁর স্ত্রী ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। স্ত্রীকে সুস্থ করে তুলতে তিনি নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেন। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে একের পর এক সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়। ঢাকায় টিকে থাকার মতো আর্থিক সামর্থ্যও ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত দুই সন্তানকে নিয়ে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরতে বাধ্য হন। কিন্তু সেখানেও ছিল না কোনো নিশ্চয়তা। চিকিৎসার খরচ জোগাতে গ্রামের সম্পত্তির বড় অংশ আগেই বিক্রি হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিতে হয় শ্বশুরবাড়িতে। সেই সময় সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়ায় দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ। বড় ছেলে এসএসসি পর্যায়ের শিক্ষার্থী। ছোট ছেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। কিন্তু কোথায় তাদের ভর্তি করাবেন, কীভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন—কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। গ্রামের আশপাশে ভালো স্কুল-কলেজেরও তেমন সুযোগ ছিল না। পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে পড়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তাঁর এক পুরোনো বন্ধুকে ফোন করে তিনি বলেছিলেন, বড় ছেলেকে হয়তো আর পড়াতে পারবেন না। সংসারের দায়ে তাকে রাজমিস্ত্রির কাজ শিখিয়ে দিতে হতে পারে। আর ছোট ছেলেকে অন্তত কোনো মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর চেষ্টা করবেন। একজন শিক্ষক, যিনি সারা জীবন অন্যের সন্তানদের শিক্ষিত মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তাকেই একদিন নিজের সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবতে হয়েছিল। ক্রমাগত আর্থিক সংকট, স্ত্রীর দীর্ঘ চিকিৎসা, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা এবং অসহায়ত্ব ধীরে ধীরে তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত সোমবার সকালে কাউকে কিছু না বলে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন খবর আসে, কুমিল্লার লাকসাম রেলস্টেশন এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ছেলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, দীর্ঘদিন মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভোগার পর তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরে লাকসাম রেলস্টেশন এলাকায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই পোস্টে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। রফিকুল ইসলামের জীবন কেবল একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির গল্প নয়; এটি এমন এক মানুষের গল্প, যিনি সম্মানিত পেশাজীবন থেকে ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক বিপর্যয়, পারিবারিক দুর্ভোগ ও মানসিক সংকটের অতল গহ্বরে তলিয়ে গেছেন। একসময় যিনি কলেজের প্রিন্সিপালের কক্ষে বসে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁকেই ভাবতে হয়েছে—নিজের সন্তানদের পড়াশোনা কীভাবে চালাবেন। আর সেই দীর্ঘ সংগ্রামের পথ শেষ হয়েছে লাকসামের রেললাইনে। রফিকুল ইসলামের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোক নয়; এটি সমাজের কাছেও একটি নীরব প্রশ্ন—জীবনের কঠিনতম সময়ে একজন শিক্ষক, একজন মধ্যবিত্ত মানুষ এবং একটি অসহায় পরিবারের পাশে আমরা কতটা দাঁড়াতে পেরেছি?
বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সহায়তা করা একটি আন্তঃদেশীয় মানবপাচার চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ব্রাজিলে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নাগরিক সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের পর টেক্সাসে তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ৮ জুলাই ব্রাজিল থেকে প্রত্যর্পণের পর তিনি লারেডো, টেক্সাসের একটি ফেডারেল আদালতে প্রথমবার হাজির হন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ৩৯ বছর বয়সী আল-মামুনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সংশোধিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশ থেকে অভিবাসীদের দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করানোর ষড়যন্ত্রে অংশ নেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি ব্রাজিলের সাও পাওলোতে অবস্থানকারী অভিবাসীদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং তাদের পরবর্তী যাত্রার সমন্বয় করতেন। মামলার নথি অনুযায়ী, আল-মামুনের সঙ্গে আরও দুই বাংলাদেশি—মোহাম্মদ মিলন হোসেন (৪৬) ও মোক্তার হোসেন (৩৮)—এই চক্রে জড়িত ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মিলন হোসেন মেক্সিকোর তাপাচুলায় অভিবাসীদের রাখতেন এবং তাদের মনতেরের দিকে পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন। অন্যদিকে মোক্তার হোসেন মনতেরেতে তাদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি রিও গ্র্যান্ডে নদী পার হয়ে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিতেন। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অনেক অভিবাসীকে অর্থের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, এই নেটওয়ার্ক দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের জন্য একাধিক দেশের রুট ব্যবহার করত। দোষী সাব্যস্ত হলে আল-মামুনের বিরুদ্ধে মানবপাচারের ষড়যন্ত্র এবং অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সহায়তার অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে মানবপাচারের অভিযোগে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। একই মামলায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেন এর আগে দোষ স্বীকার করেছেন এবং তারা কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। মামলাটি তদন্ত করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (HSI), যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা (JTFA) এবং ব্রাজিলসহ একাধিক দেশের আইনশৃঙ্খলা সংস্থা। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সাইফুল্লাহ আল-মামুন আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
বাংলাদেশি নাগরিক সাইফুল্লাহ আল-মামুন (৩৯)কে ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের পর টেক্সাসের লারেডোতে ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকা ও মেক্সিকো হয়ে বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করানোর একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৮ জুলাই ব্রাজিল থেকে প্রত্যর্পণের পর আল-মামুনকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয় এবং তিনি লারেডোতে প্রথমবারের মতো আদালতে হাজির হন। তার বিরুদ্ধে দাখিল করা দ্বিতীয় সংশোধিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসীদের ব্রাজিলের সাও পাওলোতে আশ্রয় দেওয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, এই চক্রে আরও দুজন বাংলাদেশি—মোহাম্মদ মিলন হোসেন (৪৬) ও মোক্তার হোসেন (৩৮)—জড়িত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মিলন হোসেন মেক্সিকোর তাপাচুলায় অভিবাসীদের রাখতেন এবং তাদের মন্টেরে শহরে পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন। অন্যদিকে মোক্তার হোসেন মন্টেরেতে তাদের আশ্রয় দিয়ে রিও গ্র্যান্ডে নদী পেরিয়ে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিতেন। নদী পার হওয়ার সময় অনেক অভিবাসী গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশের এই যাত্রার জন্য অনেক বাংলাদেশি দালালদের মাধ্যমে কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ পরিশোধ করেছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, আল-মামুনকে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাজিলে গ্রেপ্তার করা হয়। একই মামলায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেন আগে দোষ স্বীকার করেন এবং প্রত্যেককে ৪৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাইফুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে অবৈধ অভিবাসী আনা, অবৈধভাবে অভিবাসী প্রবেশে ষড়যন্ত্র এবং অভিবাসীদের অবৈধ প্রবেশে উৎসাহ ও সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে অভিবাসী আনার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার ন্যূনতম পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া ষড়যন্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই মামলার তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই), যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন, ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ, কলম্বিয়ার জাতীয় পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিস এবং ব্রাজিলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসসহ একাধিক সংস্থা যৌথভাবে কাজ করেছে। ব্রাজিল থেকে অভিযুক্তকে প্রত্যর্পণে বিচার বিভাগের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এই মামলাটি তাদের যৌথ টাস্কফোর্স ‘জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা (জেটিএফএ)’-এর আওতায় পরিচালিত হয়েছে। এই টাস্কফোর্স আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করছে। তবে বিচার বিভাগ স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, অভিযোগপত্র কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণ করে না। আদালতে সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সাইফুল্লাহ আল-মামুন আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবার পুনর্মিলনের অপেক্ষায় থাকা হাজারো বাংলাদেশি নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী (ইমিগ্র্যান্ট) ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার বিষয়ে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের সাম্প্রতিক ব্যাখ্যার পর চলমান আবেদনগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিগত ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যেসব দেশের নতুন অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি জনকল্যাণমূলক সুবিধার (Public Benefits) ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারেন বলে বিবেচিত, সেসব দেশের আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা এখন আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। এ কারণে আবেদনকারীর আয়, সম্পদ, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা, স্পনসরের আর্থিক সামর্থ্য এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্য আগের তুলনায় আরও গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হবে। এই সিদ্ধান্ত কেবল অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষার্থী বা অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এই নীতির আওতায় পড়ছে না। নতুন এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি, যাদের পরিবারের সদস্যদের অভিবাসী ভিসার আবেদন দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়াধীন। মিশিগানের বাসিন্দা সেলিম খান আমেরিকা বাংলাকে জানান, তার বাবা-মায়ের অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকারের তারিখ আগের ভিসা স্থগিতাদেশের আগেই নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু ভিসা স্থগিত হওয়ার পর থেকে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। তিনি বলেন, “আমার বাবা-মায়ের ইন্টারভিউ ডেট হয়ে গিয়েছিল। এরপর ভিসা স্থগিত হওয়ার পর থেকে আর কোনো আপডেট পাইনি। এখন আবার নতুন ঘোষণা এসেছে। এরপর কী হবে, সেটাও জানি না।” জর্জিয়ার আটলান্টার বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, তার শ্বশুর-শাশুড়ির অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। দূতাবাস থেকে সর্বশেষ একটি অতিরিক্ত নথি চাওয়া হয়। সেটিও জমা দেওয়ার পর থেকে আর কোনো অগ্রগতির তথ্য পাননি। রুহুল আমিন বলেন, “সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও কোনো আপডেট নেই। ভিসা স্থগিত থাকায় বুঝতে পারছি না কবে আবার প্রক্রিয়া শুরু হবে কিংবা আমরা কোনো খবর পাব।” একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন ওকলাহোমার বাসিন্দা কিশোর রায়। তিনি আমেরিকা বাংলাকে বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য অপেক্ষা করছেন। এরই মধ্যে সাক্ষাৎকারের তারিখ পাওয়ার আশা করলেও এখনো কোনো নোটিশ পাননি। “অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছি। মনে হচ্ছিল এবার হয়তো ইন্টারভিউর তারিখ চলে আসবে। কিন্তু নতুন পরিস্থিতিতে সবকিছু আরও অনিশ্চিত হয়ে গেছে। এখন কী হবে, সত্যিই জানি না,” বলেন তিনি। অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সেলিম খান, রুহুল আমিন ও কিশোর রায়ের মতো আরও অসংখ্য বাংলাদেশি পরিবার একই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। অনেকেই বছরের পর বছর অপেক্ষা করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু নতুন নীতির কারণে তাদের আবেদন কখন আবার স্বাভাবিকভাবে এগোবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সময়সূচি নেই। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নীতির উদ্দেশ্য হলো এমন আবেদনকারীদের আরও নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা, যারা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন। এজন্য আবেদনকারীদের আর্থিক স্বনির্ভরতার প্রমাণ এবং স্পনসরের আর্থিক সক্ষমতার নথি আগের তুলনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের আবেদন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তাদের আতঙ্কিত না হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় আর্থিক নথিপত্র হালনাগাদ রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। নতুন নীতির কারণে অভিবাসী ভিসা স্থগিতাদেশ কতদিন বহাল থাকবে বা কবে পূর্ণাঙ্গভাবে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্র সরকার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেনি। ফলে পরিবার পুনর্মিলনের অপেক্ষায় থাকা হাজারো বাংলাদেশি এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন গুনছেন।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে এই দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি ও সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক শোকবার্তায় বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংবাদ তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। পাকিস্তানের জনগণের পক্ষ থেকে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে পাকিস্তান বাংলাদেশের জনগণের পাশে রয়েছে এবং তাদের প্রতি অবিচল সংহতি প্রকাশ করছে। পৃথক এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা জানান। একই সঙ্গে তিনি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার সফলতা কামনা করেন। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও বাংলাদেশের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনী, জরুরি সেবা সংস্থা, চিকিৎসাকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের নিরাপত্তা, দ্রুত পুনরুদ্ধার এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাফল্য কামনা করেন। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা এবং পাহাড়ধসের কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাণহানি, ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন এবং দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে সংঘটিত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাও শোক ও সংহতি প্রকাশ করছে। পাকিস্তানের এই বার্তা দুই দেশের জনগণের প্রতি মানবিক সহমর্মিতা এবং দুর্যোগের সময় পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্বকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
ঢাকা, ৮ জুলাই: বিশ্বের বিভিন্ন শহরের জীবনযাত্রার মান নিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬’-এ আবারও বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম, অর্থাৎ বিশ্বের তৃতীয় কম বাসযোগ্য শহর হিসেবে স্থান পেয়েছে রাজধানী। গত ৭ জুলাই প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঢাকার চেয়ে নিচে অবস্থান করছে শুধু লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। তালিকার সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে দামেস্ক। প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্বের বিভিন্ন শহরকে পাঁচটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেছে ইআইইউ। এগুলো হলো—স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো। এসব সূচকের অধীনে ৩০টিরও বেশি বিষয় বিশ্লেষণ করে প্রতিটি শহরের বাসযোগ্যতার স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে। ইআইইউর মূল্যায়নে ঢাকার নিম্ন অবস্থানের পেছনে দুর্বল অবকাঠামো, দীর্ঘস্থায়ী যানজট, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং নগর ব্যবস্থাপনার নানা চ্যালেঞ্জকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবার ওপর বাড়তি চাপও রাজধানীর জীবনযাত্রার মানকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের করাচির অবস্থান ১৭০তম, যা ঢাকার এক ধাপ ওপরে। অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা এবং তৃতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স আন্তর্জাতিকভাবে নগর জীবনের মান মূল্যায়নের অন্যতম গ্রহণযোগ্য সূচক হিসেবে পরিচিত। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের সরকার বিদেশে কর্মী নিয়োগ, ঝুঁকি মূল্যায়ন, নগর পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ বিশ্লেষণে এই সূচকের তথ্য ব্যবহার করে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ এবং পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাসযোগ্যতা সূচকে ঢাকার অবস্থানের উন্নতি সম্ভব হতে পারে। যদিও জনমনে এ সূচকটি প্রায়ই ‘বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকা’ হিসেবে পরিচিত, ইআইইউর এই মূল্যায়ন মূলত বিভিন্ন শহরের তুলনামূলক বাসযোগ্যতার মান নির্ধারণ করে। অর্থাৎ এটি কোনো শহরকে সম্পূর্ণভাবে বসবাসের অযোগ্য ঘোষণা করে না; বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে জীবনযাত্রার সামগ্রিক পরিবেশের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশ পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ভিয়েতনাম প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির জননিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লং। বৈঠকের শুরুতে সালাহউদ্দিন আহমদ গত জানুয়ারিতে ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির ১৪তম জাতীয় কংগ্রেস সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ায় দেশটির সরকারকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভিয়েতনামের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে আগ্রহী। ১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ভিয়েতনামের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও বহুমুখী অংশীদারিত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধিতে অগ্রগতি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বৈঠকে ভিয়েতনামে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা জটিলতা এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রকৃত পর্যটক, ব্যবসায়ী, বৈধ কর্মজীবী ও পারিবারিক ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও শিথিল করার অনুরোধ জানান তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মানবপাচার, মাদক চোরাচালান এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ইতোমধ্যে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। শিগগিরই প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষরিত হলে এ বাণিজ্য আরও দ্রুত বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির অনুমতি দেওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক মানের বাংলাদেশি ওষুধ আমদানিরও আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ কাজে লাগিয়ে ভিয়েতনামের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান তিনি। এছাড়া, আসিয়ান জোটে বাংলাদেশের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়া এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট আরসিইপি-তে সদস্যপদ পেতে ভিয়েতনামের সমর্থন কামনা করেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জবাবে ভিয়েতনাম পক্ষ বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয় এবং দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে।
আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষার প্রতিযোগিতা হিপ্পো ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ অলিম্পিয়াড-এ এশিয়া পর্বে প্রথম স্থান অর্জন করে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে গাজীপুরের ক্ষুদে শিক্ষার্থী সামিনা নূর তাজ। দ্বিতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থী এ সাফল্যের মাধ্যমে বিশ্বপর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। সামিনার এই অর্জনে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং এলাকাজুড়ে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের আফজাউদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর জেলার মেস্তা গ্রামের সানোয়ার হোসেনের মেয়ে সামিনা নূর তাজ ২০২৩ সালের ১ জুন আফজাউদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক-প্রাথমিক শাখার নার্সারিতে ভর্তি হয়। শুরু থেকেই সে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হিপ্পো ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে সামিনাকে কয়েকটি বাছাই পর্ব অতিক্রম করতে হয়েছে। গত ২৫ এপ্রিল ঢাকার স্মার্ট ইনোভেশন স্কুল-এ অনুষ্ঠিত প্রথম বাছাই পর্বে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয় সে। এরপর ২৩ মে নারায়ণগঞ্জের হেরিটেজ স্কুল-এ অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় বাছাই পর্বে সারা দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সামিনা। এই সাফল্যের সুবাদে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এশিয়া মহাদেশীয় পর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায় সে। এশিয়া পর্বে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে সামিনা নূর তাজ। এর মাধ্যমে সে ইতালিতে অনুষ্ঠিতব্য হিপ্পো ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ অলিম্পিয়াডের বিশ্বপর্যায়ের ইউনিভার্সাল রাউন্ড-এ অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করেছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর ইতালিতে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজয়ী প্রতিযোগীদের সঙ্গে অংশ নেবে বাংলাদেশের এই ক্ষুদে শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান মো. জালিল উদ্দিন বলেন, সামিনা নূর তাজের এই অর্জন শুধু তাদের প্রতিষ্ঠানের নয়, গাজীপুরসহ পুরো বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশ্বপর্যায়েও সামিনা দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে। শিক্ষাবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক এ ধরনের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্য দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিবাচক অগ্রগতির প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি নতুন প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও উৎসাহিত করবে।
ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশি এক ব্যক্তিকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে দেশটির পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনার আগের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার করা দুটি পোস্টও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, পোস্টগুলোর বিষয়বস্তু এবং হত্যাকাণ্ডের সময়ের মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং ইতালীয় কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রোমের পশ্চিমাঞ্চলের অরেলিও জেলার কাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্টিলিওর একটি ফ্ল্যাট থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন ৩৯ বছর বয়সী কামাল উদ্দিন, তার ৩৮ বছর বয়সী স্ত্রী আরজু এবং তাদের ছয় বছর বয়সী মেয়ে আলিসিয়া। হামলায় গুরুতর আহত হন দম্পতির ১৮ বছর বয়সী ছেলে ওনিয়ন। তাকে দ্রুত রোমের পলিক্লিনিকো জেমেলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকলেও বর্তমানে তার জীবন আশঙ্কামুক্ত। ইতালীয় পুলিশ এ ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তিনি ১৯৮৩ সালের ১০ মে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার একদিন আগে, ২৫ জুন রাত ৯টা ৩৩ মিনিটে সন্দেহভাজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুটি বার্তা পোস্ট করেন। একটি পোস্টে লেখা ছিল, "একজন মানুষ একা মারা যায় না।" অন্যটিতে লেখা ছিল, "মৃত্যুর সময় প্রিয়জনদের সঙ্গেই মারা যাওয়া উচিত, যাতে কাউকে আর কারও জন্য কষ্ট পেতে না হয়।" হত্যাকাণ্ডের পর ওই পোস্টের নিচে একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, "তুমি একজন খারাপ মানুষ। তুমি ফেরাউন।" তদন্তকারীরা পোস্টগুলোকে মামলার আলামত হিসেবে বিশ্লেষণ করছেন। তবে এগুলো হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। সন্দেহভাজনকে ধরতে রোমজুড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে ইতালির পুলিশ ও কারাবিনিয়েরি বাহিনী। তার ছবি প্রকাশ করে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৪০টির বেশি তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। রোমের বিভিন্ন সড়ক, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল এবং বিমানবন্দরে অতিরিক্ত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি শহরের উপকণ্ঠের পরিত্যক্ত ভবন ও গ্রামীণ এলাকায়ও তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকারীরা সন্দেহভাজনের সাম্প্রতিক গতিবিধি, পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মোবাইল ফোনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের রাতে তার মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান কাসালোত্তি এলাকায় শনাক্ত হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো কুড়ালসদৃশ অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, হামলায় সেটি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। অস্ত্রটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ইতালীয় পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান। সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় তথ্য রয়েছে এমন ব্যক্তিদের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ. বিন আবিয়াহ আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়। বিশেষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনশক্তি খাতে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনশক্তি খাতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার এবং দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণেও সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সৌজন্য সাক্ষাতে উভয় পক্ষ দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।