- প্রচ্ছদ
- Topic
বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ ভিসা থাকার পরও কোনো ঘটনায় গ্রে প্তার হলে ভিসা বাতিলসহ বিভিন্ন আইনি ও অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতায় পড়তে পারেন বিদেশি নাগরিকেরা। পরিস্থিতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো কিংবা ভবিষ্যতে দেশটির ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখেও পড়তে হতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশি ভিসাধারীদের সতর্ক করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় সম্ভাব্য এসব পরিণতির কথা তুলে ধরা হয়। দূতাবাসের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি গ্রে প্তার হলে তাঁর মার্কিন ভিসা বাতিল করা হতে পারে। পাশাপাশি তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও ভবিষ্যতে প্রবেশের যোগ্যতা নিয়েও পর্যালোচনা হতে পারে। তবে শুধু গ্রে প্তার হওয়ার কারণেই সবার ক্ষেত্রে একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমন নয়। অভিযোগের ধরন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান এবং প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভিসাধারীদের পাশাপাশি দেশটিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন এমন ব্যক্তিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটন, ব্যবসা, পড়াশোনা কিংবা অস্থায়ী কাজের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের নিজ নিজ ভিসার শর্ত মেনে চলতে হয়। দেশটিতে অবস্থানকালে কোনো আইনি অভিযোগের মুখোমুখি হলে তার প্রভাব ফৌজদারি কার্যক্রমের পাশাপাশি ভিসা ও ভবিষ্যৎ ভ্রমণের ওপরও পড়তে পারে। এর আগে ১০ অক্টোবর প্রকাশিত আরেকটি সতর্কবার্তায় শারীরিক হামলা, চুরি, ডাকাতি কিংবা অনুমতি ছাড়া অন্যের স্থানে প্রবেশের মতো ঘটনায় জড়িত হওয়ার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে জানিয়েছিল মার্কিন দূতাবাস। এসব ঘটনায় ভিসা বাতিল এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্যতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের স্থানীয় আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেয় দেশটির কর্তৃপক্ষ। ভ্রমণের অনুমতি পাওয়া মানেই দেশটির সব আইন ও নিয়মের বাইরে থাকার সুযোগ নয়। তাই ভিসাধারীদের নিজ নিজ ভিসার শর্ত, অনুমোদিত কার্যক্রম এবং অবস্থানের মেয়াদ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। মার্কিন ভিসা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাসপোর্টে বৈধ ভিসা থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিশ্চিত হয় না। দেশটির বিমানবন্দর বা স্থলসীমান্তে পৌঁছানোর পর কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের কর্মকর্তারা প্রবেশের অনুমতি ও অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারণ করেন। একইভাবে ভিসার বৈধতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অভিবাসনগত অনুমতি এক বিষয় নয়। এ কারণে ভিসা বাতিল হলেই কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। কোনো ব্যক্তির অবস্থান, আইনি পরিস্থিতি এবং তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করে। ভিসার যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর অতীত আইনি রেকর্ড ও অভিবাসনসংক্রান্ত ইতিহাস বিবেচনায় আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ কিংবা ভিসার আবেদনে প্রতারণার মতো কারণে কেউ ভিসা পাওয়ার অযোগ্য হতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের অযোগ্যতা দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ীও হতে পারে। তবে সব ধরনের অভিযোগ বা গ্রে প্তারের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। অভিযোগের প্রকৃতি, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট আইনের ভিত্তিতে প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়। তাই কোনো আইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে নিজের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নির্দিষ্টভাবে জেনে নেওয়া জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে ভিসার শর্ত ভঙ্গ এবং অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা নিয়েও সতর্ক করেছে মার্কিন দূতাবাস। ভিসায় অনুমোদিত উদ্দেশ্যের বাইরে কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া কিংবা বৈধ অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে ভবিষ্যতে দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ভিজিট ভিসায় যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে যান, তাঁদের অনুমোদিত উদ্দেশ্যের বাইরে কাজ করা থেকে বিরত থাকা এবং স্থানীয় আইন মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো আইনি অভিযোগের মুখোমুখি হলে নিজের ভিসা ও অভিবাসনগত অবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বুঝতে যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। মার্কিন দূতাবাসের সর্বশেষ সতর্কবার্তার মূল বক্তব্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ কিংবা অবস্থানের সময় দেশটির আইন ও ভিসার শর্ত মেনে চলতে হবে। বৈধ ভিসা থাকলেও আইনগত পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে ভ্রমণের সুযোগে প্রভাব পড়তে পারে—তাই ভিসাধারীদের এ বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কানাডায় চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক বাংলাদেশি নারীকে মানব পাচার, শ্রম শোষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দুই বাংলাদেশিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ মাসুমকে (৪৫) মানব পাচার ও তিনটি যৌন নিপীড়নের অপরাধে ১৪ বছর এবং সোহেল হায়দারকে (৫৬) মানব পাচারের দায়ে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কানাডার সাসকাচুয়ান প্রদেশের সাসকাটুন প্রাদেশিক আদালতের বিচারক মিগুয়েল মার্টিনেজ এ সাজা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীকে বকেয়া মজুরি পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সাস্কটুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী বাংলাদেশে প্রায় ১৮ বছর সরকারি চাকরি করেছিলেন। তাঁর উচ্চশিক্ষা, স্থায়ী চাকরি এবং আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল। কিন্তু কানাডায় উন্নত জীবন গড়ার আশায় তিনি দেশটিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রেস্তোরাঁয় চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট এবং ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার আশ্বাসে ২০২২ সালের আগস্টে কানাডায় পৌঁছান তিনি। সেখানে যাওয়ার পরই তাঁর জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। যাঁদের ওপর ভরসা করে তিনি নতুন জীবন শুরুর স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁরাই তাঁকে শোষণের পরিস্থিতিতে ঠেলে দেন বলে আদালতের বিচারে উঠে এসেছে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় পৌঁছানোর পর প্রথমে সাসকাচুয়ানের গাল লেক এলাকায় সোহেল হায়দারের পরিচালিত একটি রেস্তোরাঁয় কাজ শুরু করেন ওই নারী। পরে তাঁকে টিসডেল শহরে মোহাম্মদ মাসুমের পরিচালিত রেস্তোরাঁয় পাঠানো হয়। দুই প্রতিষ্ঠানের কোনোটিতেই তাঁর নামে যথাযথ ওয়ার্ক পারমিট ছিল না। অথচ তাঁকে জানানো হয়েছিল, অনুমতিপত্রের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে তাঁকে সপ্তাহে ছয় দিন দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য করা হতো। কাজের তুলনায় যথাযথ মজুরিও দেওয়া হতো না। একপর্যায়ে তাঁর কর্মসংস্থান, থাকার জায়গা এবং দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো অভিযুক্তদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। মামলার বিচারকালে আরও উঠে আসে, মোহাম্মদ মাসুম ওই নারীর ওপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন চালান। আদালত তিনটি পৃথক যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন। বিচারক মিগুয়েল মার্টিনেজ এসব অপরাধকে সাধারণ ভাষায় ধর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী লেসলি ডানিং আদালতে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ভুক্তভোগীর অসহায় পরিস্থিতি এবং তাঁদের ওপর তাঁর নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়েছিলেন। বিশেষ করে মাসুম নিজের যৌন স্বার্থে ওই নারীকে নির্যাতন করেন এবং কয়েকটি ঘটনায় শারীরিক সহিংসতাও ছিল। অন্যদিকে সোহেল হায়দারকে মানব পাচারের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন শোষণের শিকার হওয়ার পর ওই নারীর নামে সাসকাচুয়ানের এলরোজ শহরের একটি রেস্তোরাঁয় কাজের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁর পরিস্থিতি দেখে স্থানীয় কয়েকজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাঁদের সহযোগিতায় তিনি অভিযুক্তদের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে। ২০২৩ সালের জুনে কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। প্রায় ১৮ মাস ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাত সপ্তাহের শুনানি শেষে চলতি বছরের আগস্টে দুজনকে মানব পাচারের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। এরপর ২২ অক্টোবর তাঁদের সাজা ঘোষণা করা হয়। আদালতে দেওয়া ভিকটিম ইমপ্যাক্ট স্টেটমেন্টে নিজের জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ভুক্তভোগী নারী। তিনি জানান, কানাডায় যাওয়ার আগে তিনি ছিলেন স্বাবলম্বী এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারতেন। কিন্তু এই ঘটনার পর অন্য মানুষকে বিশ্বাস করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর স্বপ্ন, সম্মান, ভবিষ্যৎ, পরিবার এবং পেশাগত জীবন ধ্বংস করে দিয়েছেন। বাংলাদেশে ঘটনাটি নিয়ে নানা গুজব ও নেতিবাচক আলোচনার কারণে তাঁর পরিবারও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিনের চাকরি এবং প্রতিষ্ঠিত জীবন ছেড়ে কানাডায় আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো আক্ষেপ করেন তিনি। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী লেসলি ডানিং মোহাম্মদ মাসুমের জন্য ১৫ বছর এবং সোহেল হায়দারের জন্য সাড়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে মাসুমের আইনজীবী সাত থেকে নয় বছর এবং হায়দারের আইনজীবী আইন অনুযায়ী সর্বনিম্ন চার বছরের সাজা দেওয়ার আবেদন জানান। উভয় পক্ষের যুক্তি ও মামলার তথ্য বিবেচনা করে বিচারক মাসুমকে মোট ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন। সোহেল হায়দারকে দেওয়া হয় চার বছরের কারাদণ্ড। বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ভুক্তভোগীর অসহায়ত্ব ও অভিযুক্তের ওপর নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়ে সংঘটিত অপরাধের বিষয়টি সাজা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। কারাদণ্ডের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর বকেয়া মজুরি বাবদ মোহাম্মদ মাসুমকে ১২ হাজার ২৬৮ কানাডিয়ান ডলার এবং সোহেল হায়দারকে ৫ হাজার ৮৮৫ কানাডিয়ান ডলার ১৬ সেন্ট পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুজনকে কারাগারে থাকা অবস্থায় এবং পরবর্তী জীবনেও ওই নারীর সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাসুমকে ২০ বছরের জন্য কানাডার জাতীয় যৌন অপরাধী নিবন্ধনে নাম অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। কানাডার এই মামলাটি বিদেশে চাকরি ও স্থায়ী বসবাসের আশায় যাওয়া অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে যাঁরা নিয়োগকর্তার ওপর ওয়ার্ক পারমিট, বাসস্থান এবং আয়ের জন্য নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য শোষণের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। কানাডায় মানব পাচার শুধু অবৈধভাবে সীমান্ত পার করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতারণা, ভয়ভীতি কিংবা নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়ে কাউকে শ্রম দিতে বাধ্য করার ঘটনাও মানব পাচারের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বাংলাদেশি এই নারীর মামলায় আদালতের রায় সেই বিষয়টিই স্পষ্ট করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সাংগঠনিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নিউইয়র্কে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৪ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার, জ্যামাইকায় ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের পরিচিতি ও নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রে আসা বাংলাদেশি অভিবাসী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধানে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজে পেতে সহায়তা এবং কারিগরি দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালুর প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরা হয়। তবে এসব কর্মসূচি কবে শুরু হবে, কীভাবে আবেদন করতে হবে কিংবা কতজনকে সেবা দেওয়া হবে—সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট সময়সূচি পাওয়া যায়নি। প্রবাসে নতুন জীবন শুরু করা অনেক বাংলাদেশির জন্য চাকরি খোঁজা, ইংরেজিতে যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া এবং স্থানীয় ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ, আবাসন এবং ভবিষ্যৎ পেশা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকে। এ কারণে কমিউনিটি সংগঠনের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও ব্যবহারিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রবাসীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সভায় পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি ধরে রাখা এবং প্রবীণ প্রবাসীদের জন্য আরও বিস্তৃত কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের মাতৃভাষার সঙ্গে পরিচিত রাখা এবং বয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতিবেদনে সভায় উপস্থিত কমিউনিটি প্রতিনিধিদের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা শরাফ সরকার, জামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা এবিএম ওসমান গণি এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আজহারুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সভায় আরও কয়েকজন সংগঠক ও কমিউনিটি প্রতিনিধি বক্তব্য দেন। বাংলাদেশ সোসাইটির মতো সংগঠনগুলোর নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব বাছাইয়ের বিষয় নয়; প্রবাসীদের সামাজিক সংযোগ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্বাচনী সভায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছে কি না, তা পরবর্তী সময়ে যাচাই করা প্রয়োজন। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—নতুন অভিবাসী ও শিক্ষার্থীদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ নেবে কি না, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের সুযোগ কীভাবে তৈরি হবে এবং প্রবীণদের জন্য কী ধরনের সেবা চালু করা হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা প্রবাসী পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলে কোনো পলাতক বা ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তি দেশে অস্থিরতা তৈরি করে পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সরকার কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করবে না। রোববার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্নভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা হয়েছে। তাঁর দাবি, ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শক্তিগুলো এখনো বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা তাঁর নজরে এসেছে। তবে সরকার ইতিমধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে দেশে ফেরত চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের কাছে একাধিকবার অনুরোধপত্র পাঠিয়েছে। শেখ হাসিনার ফেরার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, পাহাড়ে কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনার পর সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। ওই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নেতা এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। পাহাড়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। সম্প্রতি পুলিশের এক কর্মকর্তার বাসায় অভিযান চালিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, অপরাধের ক্ষেত্রে কারও পদবি বা পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। আইনের চোখে সবাই সমান এবং আইন ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। সদ্য সমাপ্ত শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, একটি চক্র সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করেছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রচেষ্টায় সারা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তির তৎপরতা, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ, পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং আসন্ন নির্বাচনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। তবে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে নির্দিষ্ট কোনো নতুন মামলা, গ্রেপ্তার কিংবা তদন্তের বিস্তারিত তথ্য এই বক্তব্যে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তাঁর অভিযোগগুলোকে সরকারের অবস্থান হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ ত্যুদ ণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে ছয়টি প্রশ্নের জবাব চেয়ে দেশটির সরকারের কাছে কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। দুই নাগরিকের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল, কীভাবে বিচার হয়েছে এবং দ ণ্ড কার্যকরের পর তাঁদের মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে ঢাকা। গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কায় বাংলাদেশের দুই নাগরিক নাজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের মৃ ত্যুদ ণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে দ ণ্ড কার্যকরের আগে এ বিষয়ে বাংলাদেশকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গত ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় চিঠিটি পাঠানো হয়। বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সৌদি মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল-সেহরির কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করেন। চিঠিতে ছয়টি বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। প্রথমত, দুই বাংলাদেশি ঠিক কী অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। দ্বিতীয়ত, অপরাধ সংঘটনের সময় ও স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। তৃতীয়ত, তাঁদের গ্রেপ্তারের তারিখ। চতুর্থত, আদালতের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি। পঞ্চমত, কী পদ্ধতিতে মৃ ত্যুদ ণ্ড কার্যকর করা হয়েছে—তলোয়ার দিয়ে প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ করা হয়েছে, নাকি অন্য কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। ষষ্ঠত, দ ণ্ড কার্যকরের পর তাঁদের মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে বা কী করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি তালিকায় দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে কিছু তথ্য উল্লেখ ছিল। সেখানে একজনের বিরুদ্ধে ব্যভিচার এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের কথা বলা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে ওই তালিকায় তাঁদের জন্য কী ধরনের শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য ছিল না। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে মক্কার একটি মসজিদ কমপ্লেক্সে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং পবিত্র স্থানের মর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। আগের তালিকায় থাকা তথ্যের সঙ্গে পরবর্তী বিবৃতির বিষয়বস্তুর পার্থক্য এবং দ ণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে বিস্তারিত তথ্য না জানানোর বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। দ ণ্ড কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করার সুযোগ ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের কাছে পাঠানো চিঠির জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। দুই নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া এবং দ ণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
মেয়েকে বিপদ থেকে রক্ষা করতে একজন বাবা তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন। শনিবার ২৪ অক্টোবর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা লেখেন। একই পোস্টে শিশুদের ব্যক্তিগত সীমানা সম্পর্কে সচেতনতা, সামাজিক আচরণ, বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা এবং ধর্মীয় অনুশীলনের সঙ্গে সৎকর্মের সম্পর্ক নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন তিনি। মিলন লেখেন, কন্যার সুরক্ষায় একজন বাবা প্রয়োজনে বিচারের অপেক্ষা না করেই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘মেগাটনের থাপ্পড় বা লাথি’ দেওয়ার রূপক ব্যবহার করেন। এমন পরিস্থিতিতে নিজেও একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতেন বলে জানান। তবে পোস্টে তিনি কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার নাম, স্থান কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় উল্লেখ করেননি। শিশুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সিঙ্গাপুর ভ্রমণের একটি অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন সাবেক এই কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য, একবার নির্জন রাস্তার যাত্রীছাউনিতে পাঁচ থেকে ছয় বছরের একটি মেয়েকে একা বসে থাকতে দেখে তিনি ভেবেছিলেন, শিশুটি হয়তো হারিয়ে গেছে বা বিপদে পড়েছে। কথা বলতে এগিয়ে গেলে সিঙ্গাপুরের নাগরিক তাঁর এক আত্মীয় তাঁকে থামান। অপরিচিত শিশুর কাছে যাওয়ায় সন্দেহ তৈরি হতে পারে বলে ওই আত্মীয় তাঁকে সতর্ক করেছিলেন বলে জানান মিলন। পোস্টে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী এক শিশু আত্মীয়ের সঙ্গে নিজের আরেকটি অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি। মিলন জানান, শিশুটি বাংলাদেশে বেড়াতে এলে তিনি স্নেহ করে তার মাথায় চুমু দিয়েছিলেন। এরপর শিশুটি তার মায়ের কাছে জানতে চেয়েছিল, তাকে স্পর্শ করা হলো কেন। ঘটনাটি উল্লেখ করে তিনি শিশুদের নিজের শরীর ও ব্যক্তিগত সীমানা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার বিষয়টি সামনে আনেন। বাংলাদেশে অন্যায়, নির্যাতন ও দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে বিচারব্যবস্থা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মিলন। তাঁর মতে, অপরাধের পর শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে বলে মনে করলে মানুষের মধ্যে অপরাধ করার সাহস বাড়ে। বারবার অপরাধে জড়ানো এবং জামিনে বেরিয়ে আসা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এসব বক্তব্যে তিনি দেশের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন। ধর্মীয় অনুশীলনের পাশাপাশি নৈতিক আচরণ ও সৎকর্মের ওপর গুরুত্ব দেন মিলন। তাঁর বক্তব্য, নামাজসহ ধর্মীয় বিধান পালন করেও অন্যায় ও অপরাধে জড়ানোর প্রবণতা নিয়ে আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। নারীকে ভোগের বস্তু হিসেবে দেখার মানসিকতারও সমালোচনা করেন তিনি। ধর্মীয় অনুশীলনকে সৎকর্ম থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার ধারণার বিরোধিতা করে তিনি লেখেন, সৎকর্মশীল হওয়ার তাগিদ ধর্মেই রয়েছে। সূত্র: জাগো নিউজ
কানাডায় এক বাংলাদেশি নারীকে মানবপাচার ও শ্রম শোষণের দায়ে দুই বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ মালিককে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তাঁদের একজন ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণের দায়েও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সাসকাচুয়ান প্রদেশের সাসকাটুনের আদালতে মোহাম্মদ মাসুমকে (৪৫) ১৪ বছর এবং সোহেল হায়দারকে (৫৫) চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দুজনকে ভুক্তভোগীর বকেয়া মজুরিও পরিশোধ করতে হবে। কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে কানাডায় যাওয়ার পর ওই নারী দুই ব্যক্তির পরিচালিত রেস্তোরাঁয় কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেখানে তাঁকে দীর্ঘ সময় কাজ করিয়ে যথাযথ পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি। ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে দেওয়া এবং পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে নিয়ন্ত্রণে রাখা হতো। আদালতের বিচারে মানবপাচার ও শ্রম শোষণের পাশাপাশি মাসুমের বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণের অপরাধও প্রমাণিত হয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী, মোহাম্মদ মাসুমকে মানবপাচার ও একাধিকবার ধর্ষণের দায়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীকে বকেয়া মজুরি বাবদ ১২ হাজার ২৬৮ কানাডিয়ান ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মানবপাচারে জড়িত থাকার দায়ে সোহেল হায়দারকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁকেও ভুক্তভোগীর বকেয়া মজুরি বাবদ ৫ হাজার ৮৮৫ কানাডিয়ান ডলার পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এই অর্থ কারাদণ্ডের বাইরে ভুক্তভোগীর পাওনা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, সাসকাচুয়ানের গ্যাল লেক, টিসডেল ও এলরোজ এলাকার রেস্তোরাঁগুলোতে ওই নারীকে কাজ করানো হতো। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হলেও তিনি নিয়মিত মজুরি পেতেন না। সপ্তাহের সাত দিনই তাঁকে কাজ করতে হতো বলে আদালতে উঠে এসেছে। থাকার জন্য দেওয়া হয়েছিল একটি অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে বেজমেন্ট। কর্মসংস্থান ও অভিবাসনসংক্রান্ত অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে তাঁর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। মামলার বিচারে উঠে আসে, মাসুম ওই নারীর পাসপোর্ট নিজের কাছে রেখে দেন। পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার শর্ত হিসেবে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের দাবি করা হয়। আদালতে প্রমাণিত হয়, ওই নারী অন্তত আটবার ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। চাকরি হারানো, অভিবাসনসংক্রান্ত সমস্যায় পড়া এবং পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় তাঁর পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। বিচারিক প্রক্রিয়ায় এসব ঘটনাকে মানবপাচার ও যৌন শোষণের গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাজা ঘোষণার সময় ভুক্তভোগী নারীর লিখিত বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে তিনি জানান, কানাডায় তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর মানসিক প্রভাব এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি। অন্য মানুষকে বিশ্বাস করতে তাঁর কষ্ট হয় এবং তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। নিজের জীবন, ভবিষ্যৎ ও পরিবারের ওপর এই অপরাধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, অপরাধীদের কাছ থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া তাঁর জন্য সহজ হয়নি। ভুক্তভোগী নারী আরও জানান, বাংলাদেশে তাঁর এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এতে পরিবারের সামাজিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। বিশেষ করে ভাইবোনদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আদালতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নিজের স্বপ্ন, পেশাগত জীবন এবং পারিবারিক সম্পর্কের ওপর অপরাধের প্রভাব তুলে ধরেন। যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় সুরক্ষার বিধান অনুযায়ী তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি। ২০২৩ সালে স্থানীয় দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও একজন অভিবাসনকর্মীর সহায়তায় ওই নারী শোষণমূলক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে একই বছরের জুলাইয়ে কানাডার পুলিশ মাসুম ও হায়দারকে গ্রেপ্তার করে। এরপর মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলে। সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন এবং বৃহস্পতিবার সাজা ঘোষণা করেন। কানাডায় অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে কাজ করতে যাওয়া বিদেশি কর্মীদের জন্য এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো কর্মীর অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান, পাসপোর্ট কিংবা চাকরি হারানোর ভয়কে ব্যবহার করে তাঁকে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করানো মানবপাচার ও শ্রম শোষণের মতো অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। নিয়োগকর্তার কাছে পাসপোর্ট আটকে রাখা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ করানোর ঘটনাও গুরুতর আইনি প্রশ্ন তৈরি করে। তবে প্রতিটি অভিযোগের আইনি মূল্যায়ন নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ ও পরিস্থিতির ওপর। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছর বহু মানুষ কাজের উদ্দেশ্যে কানাডায় যান। তাঁদের কেউ কেউ নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল ওয়ার্ক পারমিটের আওতায় কাজ করেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কর্মীদের অধিকার, বেতন, কাজের সময় এবং নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। কানাডায় কর্মক্ষেত্রে নির্যাতন বা মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের জন্য সরকারি সহায়তা এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মীদের জন্য ওপেন ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে এসব সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও আবেদনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সাসকাচুয়ানের এই মামলায় দুই বাংলাদেশির কারাদণ্ডের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর বকেয়া মজুরি পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে মানবপাচার, শ্রম শোষণ ও যৌন সহিংসতার অপরাধের বিচারিক পরিণতি সামনে এসেছে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মরত অভিবাসীদের নিরাপত্তা এবং নিয়োগকর্তার ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধের বিষয়টিও নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। SOURCE - সিবিসি নিউজ
বিদেশে যাওয়ার স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশা, ঋণমুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আর একটু ভালো জীবনের প্রত্যাশা। কেউ জমি বন্ধক রাখেন, কেউ ধারদেনা করেন, আবার কেউ পরিবারের শেষ সম্বলটুকু ব্যয় করে পাড়ি জমান দূরদেশে। কিন্তু সবার বিদেশযাত্রার গল্প প্রত্যাশামতো এগোয় না। কখনো পরিস্থিতির চাপে, কখনো অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতায়, আবার কখনো নানা অনিশ্চয়তায় দেশে ফিরতে হয়। ইউরোপের তিন দেশ থেকে ৩৫ বাংলাদেশির প্রত্যাবর্তনের ঘটনা সেই কঠিন বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে।প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ৩৫ বাংলাদেশি। তাঁদের মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন রয়েছেন। দেশে ফেরার পর তাঁদের সহায়তায় কাউন্সেলিং ও আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এই ৩৫ জনের প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা এক নয়। তাঁরা কেন দেশে ফিরেছেন, বিদেশে কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন কিংবা তাঁদের পরিবারের আর্থিক অবস্থায় কী প্রভাব পড়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তাই তাঁদের সবার গল্পকে একই অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু তাঁদের প্রত্যাবর্তন বিদেশে যাওয়ার স্বপ্নের পাশাপাশি নিরাপদ অভিবাসন ও দেশে ফিরে পুনর্বাসনের গুরুত্বও তুলে ধরে। বিদেশে যাওয়ার আগে অনেক পরিবার আশা করে, প্রবাসে উপার্জন শুরু হলে ঋণ পরিশোধ হবে, পরিবারের খরচ চলবে, সন্তানদের পড়াশোনা নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য কিছু সঞ্চয় গড়ে উঠবে। কিন্তু বিদেশে কাজ বা বসবাসের পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে সেই পরিবারকে নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে হতে পারে। দেশে ফিরে কাজ খোঁজা, পরিবারের প্রত্যাশা মোকাবিলা করা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজানোও হয়ে উঠতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে দেশে ফেরা ব্যক্তিদের শুধু প্রত্যাবর্তনের পরিসংখ্যান হিসেবে দেখলে তাঁদের বাস্তব প্রয়োজনগুলো আড়ালে থেকে যায়। তাঁদের দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ, মানসিক সহায়তা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের সহায়তায় ব্র্যাক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের মাধ্যমে কাউন্সেলিং ও আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমন উদ্যোগ প্রত্যাবর্তনকারীদের নতুন করে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার পথে সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য কাজের সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক সহায়তাও প্রয়োজন। এই ঘটনা বিদেশে যেতে আগ্রহীদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বিদেশে যাওয়ার আগে কাজের চুক্তি, নিয়োগকর্তার পরিচয়, ভিসার ধরন, বৈধ কাগজপত্র এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। শুধু দালালের আশ্বাসের ওপর নির্ভর না করে সরকারি অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত। প্রয়োজনে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। ৩৫ জনের দেশে ফেরার এই খবরের পেছনে রয়েছে ৩৫টি আলাদা জীবন, আলাদা অভিজ্ঞতা ও আলাদা ভবিষ্যতের প্রশ্ন। তাঁদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত গল্প জানা না গেলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—বিদেশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং দেশে ফিরে আসা মানুষদের নতুন করে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশের স্বপ্ন পূরণ না হলে জীবন থেমে যায় না। প্রয়োজন হয় নতুন সুযোগ, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং পাশে দাঁড়ানোর মতো সহায়তা। দেশে ফেরা এই বাংলাদেশিরা যেন আবার কর্মসংস্থানের সুযোগ পান, পরিবারকে সহায়তা করতে পারেন এবং মর্যাদার সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে পারেন—সেই সহায়তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়েছে, দেশে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন হাম-সম্পর্কিত মৃত্যুর মোট সংখ্যা ১ হাজার ২১৪-তে পৌঁছেছে। একই দিনে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সাতজনের সন্দেহভাজন মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সিলেটে এ সাতজনের মধ্যে তিনজনের মৃত্যুর খবর এসেছে। তবে সন্দেহভাজন হাম-সম্পর্কিত মৃত্যু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু এক বিষয় নয়—স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী এই সংখ্যাগুলো আলাদা করে দেখতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি থেকে হাম ও হামের মতো উপসর্গ নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের বড় অংশ শিশু। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য হাম গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রোগটি নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা এবং অন্যান্য জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। হামের বিস্তার ঠেকাতে টিকাদান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। তবে কোনো শিশু আগে টিকা না পেয়ে থাকলে বা নির্ধারিত ডোজ অসম্পূর্ণ থাকলে তার সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, টিকাদানের বাইরে থেকে যাওয়া শিশুদের শনাক্ত করা, প্রত্যন্ত এলাকায় টিকা পৌঁছে দেওয়া এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। শিশুর জ্বরের সঙ্গে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অসুস্থ শিশুকে অন্য শিশুদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে সম্ভব হলে স্বাস্থ্যকর্মীদের জানানো সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। অভিভাবকদের নিজে থেকে ওষুধ না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। দেশের চলমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে টিকার ঘাটতি, অসম্পূর্ণ টিকাদান এবং আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করার সীমাবদ্ধতা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তুলতে পারে। তাই টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হামের কারণে মৃত্যুর এই সংখ্যা দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর সতর্কবার্তা। তবে প্রকাশিত মোট সংখ্যার মধ্যে সন্দেহভাজন মৃত্যুও রয়েছে; সব মৃত্যুকে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভিভাবক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচনার পর প্রতীকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এ জন্য গত বৃহস্পতিবার রাতে বইটির ছাপার কাজ আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে যেসব বই মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে, সেগুলো ফিরিয়ে এনে সংশোধনের পর আবার বিতরণের পরিকল্পনাও করছে সংস্থাটি। এনসিটিবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বইয়ে ব্যবহৃত বিতর্কিত প্রতীকটি পরিবর্তন করে সংশোধিত সংস্করণ শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে নতুন করে কোন প্রতীক ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর আবার সরবরাহ করা হবে। শিক্ষার্থীরা যেন পাঠ্যবই থেকে কোনো ভুল তথ্য না পায়, তা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এনসিটিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দাঁড়িপাল্লা একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতীক হওয়ায় বইটিতে এর ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে জ্ঞানের পিরামিডের মাধ্যমে চারটি স্তর তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। প্রতিটি স্তর বোঝাতে আলাদা প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। উপাত্তের স্তরে রয়েছে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো দেখতে একটি বৃত্তাকার চিহ্ন। তথ্যের স্তরে ব্যবহার করা হয়েছে পরমাণু কিংবা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে প্রতীক। জ্ঞানের স্তরে রয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। আর পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞা বোঝাতে রাখা হয়েছিল দাঁড়িপাল্লার ছবি। বইটির ছাপার কাজের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। মুদ্রণমালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহের অধিকাংশ কাজই সম্পন্ন হয়েছে। ফলে বিতরণ করা বইগুলো ফিরিয়ে এনে প্রতীক পরিবর্তন করতে হলে নতুন করে সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হবে। এতে বই সরবরাহের কাজেও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর বেশির ভাগের ছাপার কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সব শ্রেণি মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কার্যক্রম চলছে। ফলে একটি বইয়ের প্রতীক সংশোধনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে ছাপা ও বিতরণের কাজ সমন্বয় করতে হবে। প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহারের ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে গেলে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়েও প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা রাখা হয়েছিল। তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বইয়ে প্রজ্ঞা বোঝাতে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরিয়ে আনা হলে তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই প্রতীক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞা বোঝানোর জন্য বিশ্বজুড়ে সর্বজনস্বীকৃত কোনো একক প্রতীক নেই। ইতিহাস, দর্শন ও বিভিন্ন সংস্কৃতিতে প্যাঁচা কিংবা বইকেও প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। সংশোধিত আইসিটি বইয়ে দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে কোন চিহ্ন রাখা হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। এ বিষয়ে এনসিটিবির পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হবে।
ক্ষুধা ও অপুষ্টি মোকাবিলায় প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় ধারাবাহিক অগ্রগতি বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলোর যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে (গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স—জিএইচআই) এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০০০ সালের পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারত ক্ষুধা নিরসনে উন্নতি করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান উল্টো সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। মূলত নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্যসেবার প্রসার এবং সামাজিক উন্নয়নের ইতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশকে এই এগিয়ে থাকার ক্ষেত্রে মূল শক্তি জুগিয়েছে। জার্মানির ওয়েলথাঙ্গারহিলফে, সুইজারল্যান্ডের হেলভেটাস এবং রুর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ক্ষুধা সূচকের স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ দশমিক ২। এই স্কোর অনুযায়ী বাংলাদেশ 'মাঝারি' মাত্রার ক্ষুধা পরিস্থিতির আওতাভুক্ত। বিপরীতে ২৪ দশমিক ১ স্কোর নিয়ে ভারত এবং ২৫ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে পাকিস্তান 'গুরুতর' ক্ষুধা পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় কেবল শ্রীলঙ্কা ও নেপাল বাংলাদেশের চেয়ে অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, ১২২টি দেশের তালিকায় ১০৬তম স্থানে থাকা পাকিস্তানের অবস্থা ২০১৮ সালের তুলনায় আরও অবনতি হয়েছে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান ও সিরিয়ার মতো পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পে নারীদের ব্যাপক কর্মসংস্থান, কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার, উন্নত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ ক্ষুধা মোকাবিলায় যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে। বিপরীতে পাকিস্তানে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি, স্বাস্থ্য খাতে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং জলবায়ু দুর্যোগ খাদ্য নিরাপত্তাকে ভঙ্গুর করে তুলেছে। জনসংখ্যার অপুষ্টি, শিশুমৃত্যু, শিশুদের উচ্চতা ও ওজনের ঘাটতির মতো চারটি প্রধান মানদণ্ডে পরিমাপকৃত এই সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।
বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো কতটা সুরক্ষিত, সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুতি কেমন এবং এ ধরনের আক্রমণ হলে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি সেবা, আর্থিক লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগের বড় একটি অংশ ইন্টারনেটনির্ভর। ফলে কোনো বড় ধরনের সাইবার হামলা হলে শুধু ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যাওয়াই নয়, গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন সেবা ব্যাহত হওয়া এবং তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। সাইবার হামলার ধরন অনুযায়ী এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। কোনো হামলায় ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়তে পারে। আবার কোনো আক্রমণের লক্ষ্য হতে পারে ব্যক্তিগত তথ্য, প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নথি কিংবা আর্থিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা ভেঙে দেওয়া। এতে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, ব্যাংকিং সেবা, অনলাইন লেনদেন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। এসব ব্যবস্থায় দুর্বলতা থাকলে সাইবার অপরাধীরা তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা জোরদার করা, নিয়মিত দুর্বলতা শনাক্ত করা এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম দ্রুত মোকাবিলা করার সক্ষমতা থাকা জরুরি। সাইবার হামলা প্রতিরোধে শুধু প্রযুক্তিগত সুরক্ষা যথেষ্ট নয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সচেতনতা, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত হালনাগাদ করা, তথ্যের ব্যাকআপ রাখা এবং হামলার পর দ্রুত সেবা পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় থাকলে সম্ভাব্য ক্ষতি কমানো সহজ হতে পারে। তবে বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট বন্ধের আশঙ্কা বা সাইবার হামলার খবর থাকলেই বাংলাদেশের সব অনলাইন সেবা তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। প্রকৃত ঝুঁকি নির্ভর করে হামলার ধরন, লক্ষ্যবস্তু, ব্যবহৃত প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর। বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটা কার্যকর, তা মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সতর্কতা, নিরাপত্তাব্যবস্থার সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য হামলার প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রস্তুতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে নিয়মিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। ডিজিটাল সেবা যত বাড়ছে, সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বও তত বাড়ছে। তাই সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, দ্রুত সতর্কতা এবং কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
মাত্র দেড় তিন মিনিটের বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুকে ২৫ বার ‘স্যার’ সম্বোধন করেছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম। বক্তব্যের এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে শুধু সম্বোধন নয়, বক্তব্যে রাজারহাটে সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি, সরকারি উদ্যোগের প্রশংসা ও চাকরিজীবীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রাজারহাট উপজেলার বৈদ্যের বাজার হরিসভা সংস্কৃতি দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অসচ্ছল হরিজন, রবিদাস ও বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউএনও তানজিলা তাসনিম। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। অনুষ্ঠানে শতাধিক শাড়ি বিতরণ করা হয়। বক্তব্যে রাজারহাটে একটি সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন ইউএনও। তিনি বলেন, সরকার কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে দক্ষ জনবলের প্রয়োজন রয়েছে। এ অবস্থায় রাজারহাটে সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হলে শুধু এ উপজেলা নয়, উত্তরবঙ্গের মানুষও উপকৃত হবেন। বিষয়টি যথাসময়ে মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের জন্য মন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। বক্তব্যের শুরুতে রাজারহাটে প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন এবং হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য উপহার দেওয়ায় মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইউএনও। এ ছাড়া ভিজিএফের চাল বস্তাবন্দী করার উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, আগে চালের বস্তা ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে সমস্যা হতো। নতুন উদ্যোগে সেই সমস্যা কমবে। সরকারি চাকরিজীবীদের পক্ষ থেকে নবম পে-স্কেল নিয়েও মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তানজিলা তাসনিম। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ চাকরিজীবীদের কাজের উদ্দীপনা বাড়াবে। এর আগেও আলোচনায় এসেছিলেন তানজিলা তাসনিম। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কক্সবাজারের ইউএনও থাকাকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে এক পর্যটকের কাছ থেকে তাকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেও আলোচনায় আসেন তিনি। অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জেলা পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বি, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলহাজ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান, সদস্যসচিব সাহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক উদ্যোগের প্রশংসা-বক্তব্যে একাধিক বিষয় উঠে এলেও দেড় মিনিটে মন্ত্রীকে ২৫ বার ‘স্যার’ সম্বোধনের বিষয়টিই তানজিলা তাসনিমকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভের মধ্যে লুটপাট ও ভাঙচুরে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী হাসানের দোকান তছনছ হয়ে গেছে। গত ১৭ অক্টোবর প্লাস দ্য লা রিপাবলিকের কাছের দোকানটিতে হামলা হয়। ইউরোনিউজকে হাসান জানিয়েছেন, তাঁকেও মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালে বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সে যান হাসান। কয়েক বছর হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে কাজ করে সঞ্চয় করেন। পরে ২০১৬ সালে এক সহযোগীর সঙ্গে প্রযুক্তিপণ্য ও কুরিয়ার সেবার দোকান চালু করেন। তিন সন্তানের এই বাবা ধীরে ধীরে ব্যবসাটি গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের পরামর্শে শনিবার বিকেলে দোকান বন্ধ রেখেছিলেন তিনি। পরে মোবাইলে নিরাপত্তা ক্যামেরার দৃশ্য দেখে দোকানে লুটপাটের বিষয়টি জানতে পারেন। ঘটনাস্থলে ফিরে হামলার মুখে তাঁকে সরে যেতে হয়। দোকান থেকে ফোন, প্রযুক্তিপণ্য ও কুরিয়ারের পার্সেল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভাঙা ফোন, খালি বাক্স ও কাচের টুকরা পড়ে রয়েছে মেঝেতে। ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের অপেক্ষায় থাকায় সেগুলো পরিষ্কারও করতে পারছেন না হাসান। অথচ দোকানের রেন্ট, বিল ও কর্মীদের বেতন দেওয়ার দায় রয়ে গেছে। ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসানের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় এক কর্মী অনলাইনে অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। ব্যবসাটি আবার চালু করতে তাঁকে সহযোগিতা করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টন উচ্চমানের গম চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ২ লাখ ২০ হাজার টন গম কেনার চুক্তি হয়েছিল, যার একটি বড় অংশ হিসেবে এই বিপুল পরিমাণ গম ইতোমধ্যে দেশে এসে পৌঁছাল। গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এই আমেরিকান গম বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি, বৃহৎ এই বাণিজ্যিক লেনদেন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করে তুলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করার আশায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন নজরুল ইসলাম। বিদেশে কাজ করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তাঁর। কিন্তু নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রতিশ্রুতিতে রাশিয়ায় যাওয়ার পর তাঁকে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় বলে তদন্তকারী সংস্থার অনুসন্ধান ও পরিবারের বক্তব্যে উঠে এসেছে। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় তাঁর মৃত্যুর খবর পান স্বজনেরা। এখন তাঁর পরিবারের সামনে স্বজন হারানোর শোকের পাশাপাশি রয়েছে ঋণ পরিশোধ, বন্ধক রাখা জমি উদ্ধার এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা। নজরুলের বয়স ছিল প্রায় ৪০ বছর। তাঁর দুই সংসারে রয়েছে চার সন্তান। প্রথম সংসারের দুই ছেলের বয়স ১৫ ও ১০ বছর। দ্বিতীয় সংসারে রয়েছে সোয়া এক বছরের একটি মেয়ে ও ছয় মাস বয়সী একটি ছেলে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হলেও সন্তানদের খোঁজখবর রাখতেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন ছোট দুই সন্তান ও তাঁদের মা। নজরুলের রাশিয়ায় যাওয়ার পেছনে ছিল পরিবারের আর্থিক সংকট কাটানোর চেষ্টা। তাঁর বড় ভাইয়ের সঙ্গে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি তখনো ভাগ হয়নি। সেই যৌথ পরিবারের জমি স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে বন্ধক রেখে বড় ভাই ছোট ভাইকে বিদেশ যাওয়ার জন্য নয় লাখ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু নজরুলের মৃত্যুর খবর আসার পর সেই জমি উদ্ধারের বিষয়টি নতুন সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ধক রাখা ব্যক্তি টাকা ফেরত দিতে না পারলে সমপরিমাণ জমি দিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। নজরুলের বড় ভাইয়ের নিজের আর্থিক অবস্থাও দুর্বল। একসময় ঢাকায় সবজির ব্যবসা করেছেন, এমনকি রিকশাও চালিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর পক্ষে নয় লাখ টাকা জোগাড় করে জমি উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যে বিদেশযাত্রা পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর কথা ছিল, সেটিই এখন তাঁদের জন্য আর্থিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নজরুলের ভাতিজা মোহাম্মদ শিহাবের বক্তব্য অনুযায়ী, চাচার সঙ্গে তাঁদের সর্বশেষ কথা হয়েছিল ২৯ জুলাই। তখন নজরুল জানিয়েছিলেন, তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে। তিনি নিজের মাকে দেখে রাখার পাশাপাশি সন্তানদের যত্ন নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। এরপর রাশিয়ায় তাঁর সঙ্গে যাওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরিবার তাঁর মৃত্যুর খবর পায়। তবে তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সরকারি নিশ্চিতকরণের তথ্য প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। নজরুল একা নন। একই উপজেলার পবিত্র চন্দ্র ও আমিনুর ইসলামও রাশিয়ায় কাজের আশায় গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন বলে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। পবিত্র চন্দ্র পেশায় কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। রাশিয়ায় যাওয়ার খরচ জোগাতে তিনি স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রি করেন এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নেন। তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারকে শোকের পাশাপাশি ঋণদাতাদের চাপও সামলাতে হচ্ছে। গত ১৪ অক্টোবর ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন জানায়, নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। জাবালে নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ নামের তিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের নেওয়া হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে। প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে জানায় সংস্থাটি। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁদের প্রতিশ্রুত চাকরিতে নিয়োগ না দিয়ে পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর ২১ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে বলা হয়, এই ৩০ জনের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের ১৭ জন প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় এবং আরও তিনজন পরবর্তী সময়ে মারা যান। দুজন দেশে ফিরেছেন, দুজন রাশিয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ছয়জন তখনো যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন বলে জানানো হয়। এ ঘটনায় দুই সন্দেহভাজন নিয়োগকারীকে গ্রেপ্তারের কথাও জানায় সংস্থাটি।
বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য অর্জন এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা এই সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে উষ্ণতা কতটা বাড়বে এবং কত দিন ধরে এই সীমার ওপরে থাকবে, তা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ এখনো আছে। এ জন্য দ্রুত গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক কর্মসূচির (ইউএনইপি) নতুন ‘এমিশনস গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৬’-এ এসব সতর্কতা তুলে ধরা হয়েছে। ‘দ্য পয়েন্ট অব রিটার্ন’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্ব যে গতিতে কাজ করছে, তা প্যারিস জলবায়ু চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাপমাত্রার লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। ২০১৫ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জলবায়ু চুক্তিতে সম্মত হয় বিশ্বের দেশগুলো। চুক্তির লক্ষ্য ছিল, শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশ নিচে রাখা এবং সম্ভব হলে তা ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমিত রাখা। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব কমাতে ১.৫ ডিগ্রির সীমাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন যথেষ্ট দ্রুত কমানো সম্ভব না হওয়ায় সেই লক্ষ্য অর্জন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তা আবার কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। অর্থাৎ, এখন লক্ষ্য হবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সর্বোচ্চ মাত্রা যতটা সম্ভব সীমিত রাখা এবং ২১০০ সালের মধ্যে আবার ১.৫ ডিগ্রির নিচে ফিরিয়ে আনা। তবে এই পথ সহজ নয়। এর জন্য বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানোর পাশাপাশি বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণের প্রয়োজন হবে। প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে আশাবাদী পরিস্থিতিতেও চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৭ থেকে ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া গেলে ২১০০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা আবার ১.৫ ডিগ্রির নিচে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ, লক্ষ্য অর্জনের নিশ্চয়তা নেই। বর্তমান নীতিমালা অব্যাহত থাকলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। দেশগুলো তাদের ঘোষিত জলবায়ু প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলেও উষ্ণতা প্রায় ২.৬ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এতে বোঝা যায়, দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে ২০২৫ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন ১৮ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। ২০৪০ সালের মধ্যে নির্গমন কমাতে হবে ৬৯ শতাংশ। এ জন্য কয়লা, তেল ও গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে সৌর ও বায়ুশক্তির মতো পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, বন উজাড় বন্ধ করা এবং শিল্প ও পরিবহন খাতে নির্গমন কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তাপমাত্রা যত বেশি বাড়বে এবং ১.৫ ডিগ্রির সীমার ওপরে যত বেশি সময় থাকবে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিও তত বাড়বে। তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। কিছু প্রাকৃতিক ব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা পরে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগের। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি এবং তীব্র গরমের প্রভাব মোকাবিলায় আরও প্রস্তুতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি সামলাতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের প্রতিবেদনের মূল বার্তা হলো, ১.৫ ডিগ্রির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়লেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার চেষ্টা থামানো যাবে না। এখন নির্গমন কমানোর গতি বাড়াতে পারলে তাপমাত্রা কতটা বাড়বে, সেই বৃদ্ধি কত দিন স্থায়ী হবে এবং ভবিষ্যতে পৃথিবীকে আবার নিরাপদ সীমায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না—তার ওপর বড় প্রভাব ফেলা যাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফজরের নামাজের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমান। সোমবার ১৯ অক্টোবর দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। কালবেলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনমন্ত্রী দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশ গড়তে সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার কাজ করছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, ভালো নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার আশাবাদী। অতীতের নির্বাচনগুলোর তুলনায় ভালো নির্বাচন করতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনার বিস্তারিত যথাসময়ে জানা যাবে বলে জানান তিনি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী কাজ করলে প্রধানমন্ত্রী সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সরকারের ঘনিষ্ঠ হলেও কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। বিসিআইসির সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অনিয়মের কোনো খবর তাঁর জানা নেই। ডিলার নিয়োগ ও সার বরাদ্দে সরকার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে বলে দাবি করেন তিনি। একই দিন ঝিনাইদহে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নতুন ভবন উদ্বোধন করেন আসাদুজ্জামান। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি। সভায় চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, জনবলসংকট নিরসন ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একসঙ্গে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে এক অনন্য গৌরবের অধিকারী হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন সহোদর। মুসআব মোহাম্মদ আজাদ, সাদ মোহাম্মদ আজাদ ও মুআজ মোহাম্মদ আজাদ নামের এই তিন ভাইয়ের অসামান্য অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশি ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। সিডনির ব্যাংকসটাউনে অবস্থিত 'দারুল নাসিহাহ অস্ট্রেলিয়া' নামের একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাঁরা এই কোরআন হিফজের শিক্ষা সম্পন্ন করেন। প্রবাসের মাটিতে জন্ম নিয়ে এবং পশ্চিমা আবহে বেড়ে ওঠার পরও তাঁদের এই অর্জন পরিবার ও কমিউনিটির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত ১৭ অক্টোবর, শনিবার ব্যাংকসটাউনে মাগরিবের নামাজের পর দারুল নাসিহাহ অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে এক বিশেষ হিফজ সমাপনী ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আড়ম্বরপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে কোরআনের হাফেজ হওয়া তিন ভাইয়ের পাশাপাশি ইব্রাহিম খান নামের আরেক নবীন হাফেজকেও বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়। স্থানীয় আলেম-ওলামা, শিক্ষক, অভিভাবক ও মুসলিম সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বক্তারা প্রবাসে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রসার ও মূল্যবোধ চর্চার ওপর জোর দেন। পশ্চিমা সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠার পরও নিজেদের ধর্ম ও শেকড়ের প্রতি অবিচল থেকে তিন ভাইয়ের এই অসামান্য অর্জনকে প্রবাসীদের জন্য এক দারুণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পরিবারের সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিচর্যা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। তাঁদের এই সাফল্য অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোকে কোরআন শিক্ষার প্রতি আরও বেশি আগ্রহী করে তুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
আগামী বছর দেশে বিদ্যুৎ রাখার জায়গা থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। একই সঙ্গে বর্তমানে বিদ্যুতের বিল কমানোর সুযোগ সরকারের হাতে নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। রোববার, ১৮ অক্টোবর দুপুরে বরগুনার বেতাগী উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে তাঁর এ বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সমালোচনা করেন নুরুল ইসলাম মনি। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলেও সেগুলোর ভেতরে যন্ত্রপাতি নেই এবং অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এসব প্রকল্প করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে বিদ্যুতের বিল কমাতে না পারার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তবে কোন বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। আগামী বছর বিদ্যুতের প্রাপ্যতা নিয়ে তাঁর মন্তব্যের সমর্থনে উৎপাদন বা চাহিদার কোনো পরিসংখ্যানও ওই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। সভায় নাগরিকদের সমান অধিকারের কথাও বলেন চিফ হুইপ। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশে সবাই এ দেশের নাগরিক এবং সবার অধিকার সমান। এ সময় বেতাগীর ৩৭টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোতে নগদ অর্থ ও জিআর চাল বিতরণ করেন তিনি। সূত্র: আরটিভি
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেডে কাজের সময় লুটিয়ে পড়ার পর সুমি আক্তার ওরফে মিশু নামে এক নারী পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর বিকেলের এ ঘটনায় প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে তাঁর পড়ে যাওয়ার আগে এক কর্মকর্তাকে মেশিনে আঘাত করতে ও তাঁর দিকে তেড়ে যেতে দেখা গেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অসুস্থ অবস্থায় ছুটি না দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে। সুমি ডেকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠানটির সুইং অপারেটর ছিলেন। স্বামী সাজ্জাদ হোসেন ও দুই ছেলেকে নিয়ে আশুলিয়ার কাঠগড়া নয়াপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে সিসিটিভি ফুটেজের বর্ণনা অনুযায়ী, বিকেল ৫টা ১ মিনিটের দিকে সুমি নিজের মেশিনে কাজ করছিলেন। এ সময় এক কর্মকর্তা তাঁর দিকে এগিয়ে এসে মেশিনে চাপড় দেন এবং কয়েক দফা উত্তেজিত আচরণ করেন। একপর্যায়ে তাঁর কাজের কাপড়টি নিয়ে ফেলে দেন। এর কিছুক্ষণ পর সুমি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। সহকর্মীরা এগিয়ে আসেন এবং প্রায় তিন মিনিট পর তাঁকে স্ট্রেচারে তোলা হয়। বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু স্বজন ও সহকর্মীদের বরাত দিয়ে অভিযোগ করেন, সুমি অসুস্থ বোধ করলেও ছুটি পাননি। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও তাঁকে কাজ করতে হয়েছিল। ঘটনার তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তবে কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের এক্সিকিউটিভ অফিসার হাসান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, সুমি অসুস্থতার কথা জানিয়ে ছুটি চাননি। মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার পর তাঁকে প্রথমে কারখানার মেডিকেল সেন্টারে এবং পরে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালটির সিনিয়র ম্যানেজার (অপারেশন) হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, সুমিকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আনা হয়েছিল। পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সুমির স্বামী সাজ্জাদ হোসেন ডেইলি স্টারকে অভিযোগ করেন, মৃত্যুর আগে কারখানার এক কর্মকর্তা তাঁর স্ত্রীকে ভর্ৎসনা ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। প্রথমে ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার কথা ভাবলেও পরে পরিবার ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়। মরদেহ ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদিকে ডেকো গ্রুপের মানবসম্পদ ও কমপ্লায়েন্স বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে শনিবার তিনি কারখানায় না আসায় চিঠি হস্তান্তর করা যায়নি। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পরিবারের অভিযোগ তদন্ত করছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে এক কর্মকর্তার খারাপ আচরণের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন তিনি। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।