স্বামীর অ্যাসিড হামলায় বিকৃত মুখ, মৃত্যুর অনুমতি চেয়ে নারীর আকুতি
একসময় যে মুখে ছিল স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন, স্বামীর অ্যাসিড হামলার পর সেই মুখই এখন বয়ে বেড়াচ্ছে ভয়াবহ ক্ষতচিহ্ন। চিকিৎসা চলছে, কিন্তু এখনো শেষ হয়নি লড়াই। প্রয়োজন মুখের জটিল পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার। অথচ শারীরিক ও আর্থিক সংকটে সেই চিকিৎসার পথও হয়ে উঠেছে কঠিন।
স্বামীর অ্যাসিড হামলায় গুরুতরভাবে মুখমণ্ডল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছেন ওই নারী। হামলার ক্ষত শুধু তাঁর মুখের স্বাভাবিক গঠনই বদলে দেয়নি, থমকে দিয়েছে তাঁর স্বাভাবিক জীবনও।
চিকিৎসকদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত মুখের গঠন ও কার্যকারিতা যতটা সম্ভব ফিরিয়ে আনতে তাঁর বিশেষায়িত ফেসিয়াল রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি প্রয়োজন। তবে দীর্ঘ চিকিৎসাপ্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এই ধাপ এখনো সম্পন্ন হয়নি।
ফলে আয়-রোজগারের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। শারীরিক অবস্থার কারণে কাজে ফিরতে পারছেন না তিনি। একদিকে নিয়মিত চিকিৎসার ব্যয়, অন্যদিকে সংসার ও দৈনন্দিন জীবনের খরচ—সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁর।
অ্যাসিড হামলার ক্ষত অনেক সময় শুধু ত্বকেই সীমাবদ্ধ থাকে না; মুখের গঠন, চোখ, নাক, ঠোঁটসহ বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতাতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের গুরুতর আঘাতের পর স্বাভাবিক গঠন ও কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনতে একাধিক ধাপে পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতে পারে।
এই নারীও এখন সেই দীর্ঘ পথের যাত্রী। প্রতিদিন আয়নার সামনে নিজের বদলে যাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে তাঁকে মনে করতে হয় সেই ভয়াবহ দিনের কথা। শারীরিক যন্ত্রণা, মানুষের দৃষ্টি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সবকিছু মিলিয়ে মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন তিনি।
পরিস্থিতি এতটাই অসহনীয় হয়ে উঠেছে যে, জীবনের প্রতি তাঁর গভীর হতাশা ও মৃত্যুর আকুতির কথাও সামনে এসেছে। তবে তাঁর প্রয়োজন এখন সবচেয়ে বেশি নিরাপদ চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার এবং আর্থিক ও মানসিক সহায়তা।
একটি অ্যাসিড হামলা একজন মানুষের মুখের চেহারা বদলে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর কর্মজীবন, সামাজিক জীবন ও মানসিক সুস্থতার ওপরও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি ভুক্তভোগীর পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আজ তাঁর একটাই প্রত্যাশা—একদিন যেন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। মুখের ক্ষত হয়তো পুরোপুরি মুছে যাবে না, কিন্তু সঠিক চিকিৎসা ও সহায়তা পেলে নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ হয়তো এখনো আছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
অপরাধ
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লং বিচে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটকের সময় এক মার্কিন নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি উঠেছে। স্থানীয় মেয়র রেক্স রিচার্ডসন ঘটনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের তদন্ত চলাকালে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) নর্থ লং বিচে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তির নাম রিকার্ডো গনজালেস। তিনি শহরটির সাবেক কর্মী। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি বাড়িতে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১১। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে গনজালেসকে হাতকড়া পরা অবস্থায় রাস্তার পাশে উপুড় করে চেপে রাখতে দেখা যায়। এ সময় তাঁকে সাহায্য চাইতে এবং নিজের হাত ভেঙে যাওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। তাঁর স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, কর্মকর্তারা তাঁকে টেজার দিয়ে বৈদ্যুতিক শকও দেন। তবে আঘাতের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাগত বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, ঘটনার সময় গনজালেস একটি ই-বাইক চালাচ্ছিলেন। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে একটি চিহ্নবিহীন এসইউভিকে একমুখী সড়কে উল্টো দিক দিয়ে চলতে দেখা যায়। তবে ক্যামেরার অবস্থানের কারণে গাড়িটির সঙ্গে ই-বাইকের সংঘর্ষ হয়েছিল কি না, তা ওই ফুটেজ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লং বিচ পুলিশের ভাষ্য, গাড়ি ভাঙচুর এবং একজনের চিকিৎসাসহায়তার প্রয়োজন হওয়ার কথা জানিয়ে আইসিই স্থানীয় জরুরি সেবা চেয়েছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ কর্মকর্তারা গনজালেসকে হাতকড়া পরা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পান। তাঁকে কাছের একটি ফায়ার স্টেশনে নেওয়ার পর হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়। পরে দমকল বিভাগের কর্মীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তারা অভিবাসন অভিযানটিতে অংশ নেয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তারও করেনি। সোমবার মেয়র রিচার্ডসন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মহাপরিদর্শকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ পাঠান। কেন গনজালেসকে আটক করা হয়েছিল, তাঁর ক্ষেত্রে বর্ণগত পরিচয়ের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না এবং কেন তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, এসব প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন তিনি। তদন্তের প্রমাণ সংরক্ষণ এবং প্রতিবেদন প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন মেয়র। কংগ্রেস সদস্য রবার্ট গার্সিয়াও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছেন। অন্যদিকে আইসিই দাবি করেছে, সরকারি গাড়ির আয়না ভাঙার পর ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। সংস্থাটি ই-বাইকে থাকা কাউকে গাড়ি দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বলপ্রয়োগ করেছেন। সরকারি গাড়ির ক্ষতিসাধনের ঘটনায় সম্ভাব্য অভিযোগ আনার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইসিই। এসব দাবি এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
নিউইয়র্কের একাধিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এফবিআইয়ের তল্লাশি, তদন্তের কেন্দ্রে মেডিকেইড জালিয়াতি
যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরকে গুলি করে হত্যা, দুই শহরে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ৩
আইসিইর হাতে ভুলভাবে আটক হলে ৫ লাখ ডলার, প্রতিদিন অতিরিক্ত ১ লাখ ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় টেসলার সেল্ফ-ড্রাইভিং প্রযুক্তির ওপর ভরসা করে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন এক চালক। শেষ পর্যন্ত তাঁর গাড়ির সঙ্গে পুলিশের গাড়ির সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। গত ১৩ অক্টোবর রাতে ফেয়ারফিল্ড এলাকার কাছে ইন্টারস্টেট ৮০ মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর চালকের অসতর্কতা এবং গাড়ির চালনা-সহায়ক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোলের কর্মকর্তারা তখন মহাসড়কে এর আগে ঘটে যাওয়া আরেকটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার তদন্ত করছিলেন। এ কারণে সড়কের কয়েকটি লেন বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঘটনাস্থলে পুলিশের গাড়ির জরুরি বাতি জ্বলছিল এবং যানবাহনকে সতর্ক করতে ট্রাফিক কোন বসানো ছিল। এমন পরিস্থিতিতে টেসলাটি বন্ধ লেনের দিকে এগিয়ে এসে পুলিশের গাড়িতে ধাক্কা দেয়। সিবিএস স্যাক্রামেন্টো ও এবিসি৭ সান ফ্রান্সিসকোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেসলার চালক ২২ বছর বয়সী স্যাক্রামেন্টোর বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর তিনি পুলিশকে জানান, গাড়ি চালানোর সময় তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। গাড়ির চালনা-সহায়ক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে উঠে এসেছে। তবে দুর্ঘটনার ঠিক মুহূর্তে গাড়িটির সেল্ফ-ড্রাইভিং ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে পুরোপুরি একরকম তথ্য পাওয়া যায়নি। সংঘর্ষে পুলিশের গাড়িতে থাকা দুই কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল চালকদের সতর্ক করেছে। তবে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রযুক্তিকেই দুর্ঘটনার একমাত্র কারণ বলা যাচ্ছে না। দুর্ঘটনার পরিস্থিতি ও চালকের ভূমিকা বিবেচনা করেই বিষয়টি মূল্যায়ন করা জরুরি। টেসলার ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ নামের প্রযুক্তি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নামের মধ্যে ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ থাকলেও এটি চালকবিহীন গাড়ি চালানোর নিশ্চয়তা দেয় না। চালককে রাস্তার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হয় এবং যেকোনো সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। অর্থাৎ, চালনা-সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও চালকের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। মহাসড়কে আগের দুর্ঘটনার পর পুলিশ যখন তদন্ত ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত, তখন একই স্থানে আরেকটি সংঘর্ষের ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের সতর্কবার্তাও এখানে প্রাসঙ্গিক: গাড়িতে উন্নত প্রযুক্তি থাকলেও চালকের মনোযোগের বিকল্প নেই। সেল্ফ-ড্রাইভিংয়ের ওপর ভরসা করে ঘুমিয়ে পড়া যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, ক্যালিফোর্নিয়ার এই দুর্ঘটনা তারই একটি উদাহরণ।
মাদক দেওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগ, নিউইয়র্কে কলেজছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য
সাবেক সঙ্গীর ধাক্কায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত নারী, ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড
ম্যানহাটনের পাতালরেল স্টেশনে গুলিতে নিহত একজন, তদন্তে নিউইয়র্ক পুলিশ
অধিকৃত পশ্চিম তীরের আবু ফালাহ গ্রামে ফিলিস্তিনি কৃষকদের জলপাই সংগ্রহের ঘটনা কাভার করতে গিয়ে মুখোশধারী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হা মলার শিকার হয়েছেন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের অভিজ্ঞ আলোকচিত্রী হেইডি লেভিন। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, হা মলায় তিনি গুরুতর আ হ ত হন। তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হা মলার সময় তাঁর পোশাকে সাংবাদিক পরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও ভিডিওতে দেখা যায়, হা মলাকারীরা তাঁকে মাটিতে ফেলে মা রধর করে এবং তাঁর ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। হেইডি লেভিনের ভাষ্য অনুযায়ী, মুখোশধারী কয়েক ডজন ব্যক্তি তাঁদের ওপর হা মলা চালায়। তাঁকে মাটিতে ফেলে বারবার লাথি মারা হয়। হা মলায় তাঁর পাঁজরের একটি হাড় ও মেরুদণ্ডের চারটি কশেরুকা ভেঙে যায় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তিনি কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন সং ঘা তপূর্ণ অঞ্চলে সাংবাদিকতা ও আলোকচিত্রের কাজ করছেন। এ ঘটনায় ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি হা মলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি হা মলাকে নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে দায়ীদের গ্রে প্তা র, বিচার এবং কারাদণ্ডের আহ্বান জানান। ওয়াশিংটন পোস্ট কর্তৃপক্ষও হা মলার নিন্দা জানিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এখনো তদন্তাধীন। ইসরায়েলি পুলিশ ও সামরিক কর্তৃপক্ষও তদন্তের কথা জানিয়েছে। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে হা মলাকারীদের কাউকে গ্রে প্তা রের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ফিলিস্তিনি কৃষক ও তাঁদের সহায়তায় আসা ব্যক্তিদের ওপর হা মলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হা মলায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবিও জোরালো হচ্ছে।
৭৮ মাসের সাজা, তবু কারাগারের ফোনে ফাঁস ৯৩ বছরের নারীর ৪৫ হাজার ডলারের চেকের রহস্য
ফ্লোরিডায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ভারতীয় শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার, শনাক্তে গাড়ির ক্যামেরার তথ্য